কায়দাপুরের কায়দা

দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী

Logo

মামা বলল— “এত তাড়াতাড়ি কলকাতা যেতে হলে একটাই ট্রেন আছে সন্ধ্যেবেলা। ওটাতে আগে থেকে টিকিট কাটতে হয়না। শনিবার শনিবার যায়। কিন্তু ওই ট্রেনে সুবিধের লোকজন ওঠে না। ভেবে দ্যাখ অপু।”

বললাম— “অসুবিধের লোকজন কীরকম শুনি?”

মামী হঠাৎ ওপাশের ঘর থেকে চেঁচিয়ে বলল— “আক্কেল কী গো তোমার? অপুকে ওই ট্রেনটায় যেতে বলছ?” বলে কাকীমা বারদুয়েক কপালে হাত ঠেকিয়ে বলল, “বাসে চলে গেলেই হয়।”

আমার মাথায় তখন পোকা নড়ে উঠেছে। “কীসের অসুবিধে শুনি? আমি কুংফু জানি, কিক বক্সিং জানি।”

তাই শুনে মামা চোখ কপালে তুলে বলল— "দ্যাখো কাণ্ড! আমিও তো একসময় কুস্তি লড়েছি। কিন্তু তাতেও বিশেষ সুবিধে করতে পারিনি। তবে কিনা তুই লগন চাঁদা। দাদু তোর মাথায় কী ফুঁকে দিয়েছিলো না। তাই হয়তো তুই রক্ষে পেয়ে যাবি। কিন্তু খুব সাবধান। কারোর সঙ্গে বেশি কথাবার্তা নয়।

মামার যথেষ্ট বয়স, তাই হাঁটুব্যথা। একাই গেলাম স্টেশনে। সঙ্গে জাম্বো সাইজের বাক্স। আমার জামাকাপড়ে বাক্সের এত ওজন হতেই পারে না। এসব মামীর হাতের লৌহচুর থাম্বিট্টু দক্ষিণী লাড্ডুর প্রভাব। সেই লাড্ডু খেয়েই মামার দুখানা দাঁত সেই যে নড়ে গেল, এখনও হারমোনিয়ামের রিডের মতো ওপরে নিচে ওঠানামা করে। আমি সেই ভয়ে একটাও মুখে তুলিনি। ভাবছি বাড়ি গিয়ে হাড়জ্বালানো ছোড়দাভাইকে দেব।

মামা বলেছে ট্রেনের ওপরে লেখা থাকবে ইউ বি টি জে। উত্তরবঙ্গ দিয়ে কোনো নাম হবে। ছোটকু শুনে বলল— “ওটাকে আমরা বলি উঠে বসে টেঁসে যান!”

মামী একটা থাপ্পড় দেখিয়ে বলল— “ও কী অসভ্য ভাষা ছোটকু, টেঁসে যাওয়া?”

ছোটকু নির্বিকার মুখে বলল— “টেঁসে যাওয়া মানে.. ওই তো, টপকে যাওয়া!”

“ছি ছি ছোটকু! জানিনা তুমি কাদের সঙ্গে মিশছ আজকাল!” বলে মামী গজগজ করতে করতে অন্যঘরে চলে গেল।

বাক্সটাকে টেনে টেনে ওভারব্রিজের ওপর তুলছি। বহু কষ্টে একটা একটা করে সিঁড়ি তুলি আর হাঁপাই। এই বয়সেই এই অবস্থা হয়েছে দেখলে আমার জ্ঞানদা ছোড়দা নির্ঘাত বলত— "এত পড়াশোনা করে কী করলি! বাকি জীবনটা তো হসপিটালের বেডেই কাটবে। যক্ষ্মা, টিবি, নিউমোনিয়া সব।”

আমি একটু কাশলেই ছোড়দা আমাকে ‘যক্ষ্মা টিবি’ বলে ডাকে।

— “এই যে যক্ষ্মা টিবি, অমুক জিনিসটা করে দিস।”

কী যে গা জ্বালা হয় তখন! এসব কথা ভাবছিলাম অমনি গুড়গুড়ে মতো একটা ছেলে না লোক এসে আমার অমন ভারি বাক্সখানা সুড়সুড় করে তুলে নিয়ে ওপরে উঠতে লাগল।

আমার হাত থেকে কখন যে বাক্সখানা তার হাতে চলে গেল টেরই পেলাম না!

ভোম্বলের মতো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার পেছন পেছন দৌড়লাম। সেও বাক্সটা মাথার ওপরে নিয়ে ছুটতে শুরু করল। তারপর অন্ধকারে তাকে আর দেখা গেল না। সে যেন হাওয়ার মধ্যে মিশে গেল।

সর্বনাশ হয়ে গেল ভেবে আমি মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অমনি সে টুক করে যেন অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে উঁকি দিল। তারপর চিকন সুরে বলল, “ভয় পেও না, আমার কায়দাপুরে বাড়ি। তোমার বাক্সটা খুব ভারি কিন্তু কেমন কায়দা করে নিয়ে এলাম দেখলে?”

আমি তার চেহারাটা ঠিকঠাক ঠাহর করতে না পেরে বললাম— “তুমি কি কুলি?”

— “কেন? গায়ে এমন কালিঝুলি তাই মনে হলো বুঝি?”

— “না না তা নয়। অন্যের বোঝা কেউ কী এমনি এমনি বয়?”

— “তা প্রাণে দয়ামায়া থাকলেই বয়।” বলে সে শাঁকালুর মতো সাদা সাদা দাঁত বের করে হাসল।

অমনি আমার ট্রেন চলে এল কালো একটা অজগর সাপের মতো এঁকেবেঁকে। চারদিক থেকে হঠাৎ ছায়ার মতো সব লোক এসে জড়ো হলো কোথা থেকে। তাদের গা থেকে কেরোসিন তেলের মতো, ভিজে মাটির মতো সোঁদা সোঁদা গন্ধ। আমিও কোনোরকমে তাদের ফাঁকফোঁকর গলে ওঠবার চেষ্টা করলাম। মনে হলো যেন হাওয়ার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। তারপর ধপ করে একজায়গায় বসে পড়েছি জানলার ধারে। খেয়াল হলো বাক্সটা কই? দেখি সেই কায়দাপুরের কায়দাবাজ এসে হাজির। বাক্সটা যে কী করে ওপরে তুলে দিলো কে জানে! তিন ইঞ্চি উচ্চতা তার এমনি বেড়ে গেল, যেন ইলাস্টিকের শরীর স্বচক্ষে দেখলাম। রাত তো এখনও অনেক বাকি।

কায়দাপুরের কায়দাবাজ আমার উল্টোদিকে আধশোয়া হয়ে বসল। আধো অন্ধকারে তাকে অল্প অল্পই দেখা যেতে লাগল। আমি বারদুয়েক আলো জ্বালানোর চেষ্টা করে ক্ষান্ত দিলাম। এখানে কিছুই কাজ করে না। হাত ধুতে গিয়ে দেখলাম জলের কল থেকেও জল পড়ে না। বেসিনে আরশোলার আণ্ডাবাচ্চারা ঘোরাফেরা করছে। এ কী ট্রেন রে বাবা! এত শীতেও এই ট্রেনের যাত্রীদের গায়ে প্রায় কিছুই নেই। পায়ে মোজা নেই, গায়ে সোয়েটার নেই, চাদর নেই। এক পায়ের পাতা দিয়ে আরেক পায়ের পাতা ঢেকে, দুই হাতে নিজেদের জড়িয়ে, হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে তারা যেন বাদুড়ের মতো ঝিমোচ্ছে। নিজেদের মধ্যে তারা অস্পষ্ট স্বরে কীসব কথা বলছিল, আমি যেতেই তা থেমে গেল। স্পষ্ট টের পেলাম, সবার চোখ আমারই দিকে। আমার গায়ে ডবল সোয়েটার, ডবল প্যান্ট, একটা জ্যাকেট, গলায় মাফলার। এসব কী আর আমি নিজের ইচ্ছেয় পরেছি?

সেই যে আগের বছর শুধু একখানা জ্যাকেট গায়ে দিয়ে ফিরেছিলাম বলে বছরে যতবারই জ্বর হয়েছে মা আমাকে দাগী আসামীর মতো ঐদিনটার কথা মনে করিয়েছে।

“সেই যে এগারো নভেম্বর শুক্রবার দিন শুধু একটা জ্যাকেট গায়ে দিয়ে ড্যাং ড্যাং করে চলে এলি অপু, সেই ঠাণ্ডাটাই তোর কাল হলো।”

ব্যাপারটা এমন হলো যে পুলু পিসি, ছোটো কাকী, হাড়জ্বালানো ছোড়দা এমনকী বড়োঠাকুমা অব্দি— “সেই যে এগারো নভেম্বর শুক্রবার” এর কথাটা ভুলতে দিত না।

নিজের সিটে ফিরে এসেছি। আসলে খুব খিদে পেয়ে গেছিল। আমাকে অবশ্য মামা মামী পইপই করে বারণ করেছিল ট্রেনে কিছু না খেতে। যা খাওয়ার বাড়িতেই খেয়ে যেতে, কিন্তু মামী যে আবার একটা দক্ষিণী রাগির পরোটা করেছিল তাকে রেগে রেগে কামড়ে কামড়েও ছেঁড়া গেল না। যদি বা একটুকরো ছিঁড়লাম তাকে জল দিয়ে কোঁৎ করে গিলে নিচের দিকে পাঠাতে হলো। সে যেন এখনও আমার গলায় আটকে আছে।

তাই বাইরে বেরিয়েই কেষ্টদার দোকান থেকে ছ’টা গরম ডালপুরী আর কাশ্মীরি আলুর দম নিয়েছি কাগজের মোড়কে। সেসব উপাদেয় জিনিস নাকের সামনে ধরলেই আমার জিভে এমনিতেই সুরুৎ করে জল চলে আসে। মামা বলে জিভে জল আসা খুব ভালো ওটাই খাবার অর্ধেক হজম করিয়ে দেয়। আর দ্বিতীয় পর্বের জলখাবার সারতে মামাও কেষ্টদার দোকানে যেত, আমিও। একদিন দেখা হয়ে গিয়ে দুজনেই বেঞ্চির তলায় ঢুকতে যাচ্ছি। মামী জানতে পারলে যে কী হবে!

ডালপুরীর ওপরের পাতলা খোসাটা সবে ছিঁড়ে আলুর ঝোলে মাখিয়েছি। ওদিকে কোঁয়াক করে একটা আওয়াজ হলো। তারপর আওয়াজটা ক্রমশ বেড়েই যেতে লাগল।

আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজের মনেই জিজ্ঞেস করলাম “কীসের ডাক?”

— “আমার পেট ডাকছে। কিছু খাইনি তো।” কায়দাপুরের কায়দাবাজ বলল।

ভাবলাম আমার ডালপুরী থেকে একটু অন্তত ওকে আমার দেওয়া উচিত, এত ভারি বাক্সটা যখন বয়ে দিল। অমনি আমার ডালপুরীর ঠোঙাটা কী করে জানি তার হাতেই চলে গেল। আর সে খুবই গদগদ হয়ে ঘাড় নুইয়ে খেতে শুরু করল। এক নিমেষে সবটুকু সাবাড় করে সে আবার চিকন সুরে বলল— “আঃ! কতদিন ডালপুরী খাই না। কেষ্টর দোকানের ডালপুরী তো? খেয়েই বুঝেছি।”

আমি আর আলুর দমটা রেখে কী করবো! ডালপুরী ছাড়া ওর আর কোনো মূল্য নেই। মনে মনে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে তাকেই দিয়ে দিলাম।

সে বাধা দিয়ে বলল— “না না আমি সব খেয়ে নিলে তুমি কী খাবে? কচি বয়স তোমার। তবে এতো আলু খেলে পেট গরম হবে তাই আলুগুলো আমি..” কথাটা শেষ না করেই সে আশ্চর্য কায়দায় আলুগুলো তার আঙুলে গেঁথে তুলে নিল।

এত রাগ হলো, কিন্তু কী আর করা! পেটে কিল মেরে শুয়ে পড়লাম।

কিছুক্ষণ পরে সেই কায়দাবাজ তার মুখটা আমার কানের প্রায় কাছে এনে ফিসফিসিয়ে বলল— “তোমার ওই বড় বাক্সটাতে কী আছে বলো তো?”

আমি রাগ রাগ গলায় বললাম— “কী আছে তা জেনে তোমার কী হবে?”

সে হেঁ হেঁ হেঁ খিক খিক করে হেসে বলল— “আরে কিছুই না, চারিদিকে সব হাড়-হাভাতে লোকজন উঠেছে। আমি তো এদের ভালো করে চিনি। তাই বললাম।”

— “তাতে কী? আমার বাক্সে তালা দেওয়া আছে!”

— “ও তালায় কিছুই হবে না, ওরকম তালা আমি খালি হাতেই খোলার কায়দা জানি।”

— “কী করে?” আমার গলার স্বর কেঁপে গেল।

— “আমার কড়ে আঙুলের নখটা দেখেছ? ওটা দিয়েই খোলা যায়, কায়দা করে.. ” বলে লোকটা চোখ মটকাল।

“কিন্তু তুমি কিচ্ছুটি ভেবো না বুঝলে, নিশ্চিন্তে ঘুমোও। আমি তো পাহারা দিচ্ছি।"

আমার তো রাতের ঘুম গেল। এমনিতেই বাড়িতে আমার ভোম্বলপনার জন্য আমি বিখ্যাত। তবে এই বাক্সে টাকাপয়সা কিছুই নেই কিন্তু দার্জিলিং থেকে ভালো ভালো সোয়েটার জামাকাপড় নিয়ে যাচ্ছি সবার জন্য। বড়োঠাকুমার তিনজোড়া উলের মোজা, পুলু পিসির বাহারী মাফলার, ছোটো কাকীর পশমী সোয়েটার, ছোড়দার নেপালী জ্যাকেট, বড়জেঠির দু’জোড়া উলের ব্লাউজ, বাবার কাশ্মীরি শাল, মায়ের উলের পঞ্চু। সবাই নাকি শুনেছে দার্জিলিংয়ে সবই সস্তা আর তাই কেনার জন্য এক লম্বা ফিরিস্তি বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই আমার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে।

আমি শুয়ে শুয়ে মোবাইলটা হাতে নিতে গিয়ে দেখি তাতে চার্জ নেই। এখন আমার সত্যিই ভয় করতে শুরু করল। রাতের অন্ধকার যতই ঘন হতে শুরু করল, চারদিকে গুজগুজ ফিসফিস থেমে গিয়ে এক হিম হিম নিস্তব্ধতা। থেকে থেকে কায়দাপুরের কায়দাবাজের জান্তব নাসিকা গর্জন। ঘ্রাও ঘ্রাও, ফোঁৎ ফোঁৎ।

ছোটোকাকুকে আমরা এই ডিপার্টমেন্টে শ্রেষ্ঠ বলে ভাবতাম এতদিন। কিন্তু এ যে দেখছি তাকে দশ গোল দেবে। খানিক পরে তখন আমার চোখে একটু ঘুম জড়িয়ে এসেছে। ঘুমের ঘোরে ভুল দেখছি, শুনছি কিনা জানিনা মনে হলো হাজার হাজার কিলবিলে সব শরীর আমার চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে। আমি গায়ে ঢাকা দেওয়া চাদরটা মাথা অব্দি তুলে ধরলাম। এবারে বাক্সটার শব্দ শুনতে পাচ্ছি। বাক্সটার যেন ঠ্যাং গজিয়েছে। ওপর থেকে নেমে সেটা নাচতে নাচতে একবার ডানদিকে যায় একবার বাঁ-দিকে যায়। আর চারদিকের নিস্তব্ধতা এবারে ভেঙে গেছে। শুধু হাহাহিহি, খিক খিক শব্দ। এ সব আমার দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছু না। আর কিছু না।

হঠাৎ একটা ঝাঁকুনিতে ঘুমটা ভাঙল। সবে ভোর হয়েছে। তড়িঘড়ি উঠে আগে বাক্সটার দিকে হাত বাড়ালাম। কায়দাপুরের কায়দাবাজকে দেখলাম না। বাক্সটাও নেই। এদিকে আমার স্টেশন এসে গেছে। হতবুদ্ধির মতো লাফ দিয়ে নিচে নামলাম। অমনি দেখি সে দরজায় দাঁড়িয়ে কান পরিষ্কার করছে, তার এক হাতে আমার বাক্স। সেটা আমায় ধরিয়ে দিয়ে বলল— “ছেলেমানুষ তুমি, একা একা এসব পারো? তাই আগেভাগে বাক্সটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। রাতবিরেতে এই ট্রেনে বেশি যেও না বুঝলে? লোকজন ভালো নয়। ভাগ্যিস আমি ছিলাম। তোমার বাক্সটা ঠিক বাঁচিয়েছি।"

কিন্তু না, কিছুই বাঁচেনি। বাড়িতে গিয়ে বাক্সটা খুলে দেখি সব হাওয়া। বড়োঠাকুমার তিনজোড়া উলের মোজা, পুলু পিসির বাহারী মাফলার, ছোটো কাকীর পশমী সোয়েটার, ছোড়দার নেপালী জ্যাকেট, বড়জেঠির দু জোড়া উলের ব্লাউজ, বাবার কাশ্মীরি শাল, মায়ের উলের পঞ্চু। এসব যে কিনে ফেলেছি তা আমি আর কাউকে বলিনি। না কেনার থেকে হারানো, বা চুরি হওয়ার মতো ঘটনা শুনলে আবার এই তারিখের কথা আমাকে কেউই ভুলতে দেবে না। মাঝে মাঝে অবশ্য এই মাফলার, সোয়েটার, জ্যাকেট পরে কাদের যেন রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখি। দেখে ঠিকই চিনতে পারি কিন্তু কিছু বলিনা আর, বলে কীই বা হবে?

অবশ্য মাঝে মাঝে মনে হয় ভালোই হয়েছে, বাড়ির সবারই তো শীতে পরার অনেক জিনিস আছে। ওই কালো কালো ছায়া ছায়া লোকগুলো নয় একটু আহ্লাদ করেই নিয়েছে।

ওরা শুধু একটা জিনিসই নেয়নি।

মামীর হাতের লৌহচুর থাম্বিট্টু দক্ষিণী লাড্ডু।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%