চোর না গোয়েন্দা

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

আমার একবার খুব গোয়েন্দা হবার শখ হয়েছিল। হব তো হব একেবারে শার্লক হোমস। বড়ো বড়ো কেস ধরব। আমরা সহকারী সেই সব কেসের বিবরণ লিখবে। দেশে-বিদেশে আমার নাম ছড়িয়ে পড়বে। যখন আমি বড়ো হব তখন আমার ঠোঁটে পাইপ, চোখে গোল চশমা, কপালে তিনটে ভাঁজ। কাগজে, কাগজে আমরা ছবি। আমার একটা ল্যাবরেটরি থাকবে। দামি একটা মাইক্রোসকোপ। সেখানে নানারকম পরীক্ষা হবে, জুতোর তলার মাটি, জামার রক্তের দাগ, সিগারেটের পোড়া টুকরো, গেলাসে আঙুলের ছাপ। আমার নামটা তেমন ভাল নয়, পঞ্চানন। এই নামে গোয়েন্দা হওয়া যায় না। নামটা পালটে ফেলব। কী নাম নেব এখনো ভেবে উঠতে পারিনি।

আমাদের বাড়িতে বিশাল একটা বিস্কুটের কৌটো ছিল। তাইতে ভরতি বিস্কুট থাকত। চায়ের টেবিলে ছিল তার স্থান। রোজ সকালে বড়োরা ওই টেবিলে গোল হয়ে বসে বিস্কুট খেতেন আর গল্প করতেন। পায়ের কাছে বসে থাকত আমাদের লোমওলা কুকুর রাজা। ভীষণ লক্ষ্মী। এতটুকু হ্যাংলা নয়। বড়োরা ভালোবেসে তাকে বিস্কুট দিতেন। সেও কুপকুপ করে খেয়ে নিত। আমাদের চা দেওয়া হত না। এক কাপ দুধ, দুখানা করে বিস্কুট। খুব বায়না করলে মা এক চামচ লিকার দিয়ে একটু রঙ করে দিতেন। ভীষণ কড়া শাসন ছিল আমাদের। মা খুব রাগী ছিলেন। মায়ের ব্যবস্থার ওপর কারো কোনো কথা চলত না। আমার বোন, সুমিতা ছিল খুব লক্ষ্মী মেয়ে। একটু ভীতু ধরনের। আমার মতো ডাকাবুকো ছিল না। আমি রেগে গেলে খুব চিৎকার করে গান গাইতুম, কুপুত্র যদি বা হয় কুমাতা কখনো নয়। সেই চিৎকারে মায়ের মুখে হাসি ফুটত। তখন যা আব্দার করতুম তাই দিয়ে দিতেন।

একদিন সকালে মা বিস্কুটের টিনের ঢাকনা খুলে বললেন, ‘কি আশ্চর্য! কাল রাত্তিরে শুতে যাওয়ার আগে টিন ভরতি করলুম, এখন দেখছি প্রায় খালি। কে খেলে!’

মা সন্দেহের চোখে আমার দিকে তাকালেন। বাড়িতে আমার একটু সুনাম ছিল। ঢাকনা- টাকনা খুলে সুটসাট মেরে দেওয়ার ব্যাপারে আমার বেশ প্রতিভা ছিল। মা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোর কাজ?’

—‘আমার কাজ কী করে হবে মা। কাল তুমি শুতে আসার ঢের আগে আমি শুয়ে পড়েছি।’

—‘মাঝরাত্তিরে?’

—‘মাঝরাতে আমি দোতলা থেকে একতলায় নেমে আসব বিস্কুট খাওয়ার জন্যে! আমার ভূতের ভয় নেই?

—‘তাহলে কে খেলে!’

মায়ের ভুরু কুঁচকে গেল। ‘কে খেয়েছে বিস্কুট! ভূতে?’

আমি সন্দেহ প্রকাশ করলুম, ‘তুমি ভুল করে খেয়ে ফেলোনি তো!’

—‘ভরপেট ভাত খাওয়ার পর আমি আধ টিন বিস্কুট খেয়ে ফেলব? আমার পেটে রাক্ষস আছে না কি?’

পরপর তিন দিন এই একই ঘটনা ঘটার পর কেসটা আমাকে হাতে নিতে হল। আমার সহকারী সুমিতা। গোয়েন্দাদের সবচেয়ে বড়ো কাজ হল, সন্দেহভাজনদের একটা লিস্ট তৈরি করে সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করা। তালিকার প্রথমেই এল মায়ের নাম। গোয়েন্দারা যখন সন্দেহ করবে তখন আত্মীয়স্বজন মানবে না। যে কেউ কোনো অপরাধ করতে পারে।

সুমিতা বললে, ‘তুই মাকে কেন সন্দেহ করছিস?’

—‘প্রধান কারণ, মায়ের হাতেই যত বিস্কুটের স্টক। মা রোজ রাতে টিন ভর্তি করে। সেই সময় মায়ের কাছে কেউ থাকে না। সেই সময় মা যত ইচ্ছে মনের সুখে খেয়ে নিতে পারে।’

—‘মায়ের হাতেই বিস্কুট। মা যত খুশি খেয়ে আবার যত খুশি ভরে রাখতে পারে। তা নিয়ে শোরগোল করবে কেন? মা কি বোকা?’

—‘মা বোকা নয়, মা ভীষণ ভুলো। মনে নেই, মা ছাতের পাঁচিলে একটা একশো টাকার নোট ইট চাপা দিয়ে রেখে এসেছিল। কেউ ভাবতে পারে!’

—‘সেটা ভুল। তার সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার তুলনা চলে না। মায়ের বিস্কুট মা যেকোনো সময়েই খেতেই পারে। রাত এগারোটার সময় খেতে যাবে কেন? আর যদি খায়ও পরক্ষণেই টিন ভরে ফেলবে। তা নিয়ে সকলের সামনে হইচই করবে কেন?’

—‘তাহলে সন্দেহের তালিকা থেকে মা বাদ।’

—‘একেবারেই বাদ। নিজের জিনিস নিজে কেউ চুরি করে না।’

—‘তাহলে দ্বিতীয় কে?’

—‘তুইও হতে পারিস। তোর চুরি করা স্বভাব আছে।’

—‘যে গোয়েন্দা হয় সে কখনো চুরি করে না। সহকারী হয়ে তুই এইরকম একটা কথা বলতে পারলি?’

—‘তুই তো নিজের থেকেই গোয়েন্দা হয়েছিস। মনে নেই তুই চুরি করে একবার আমার সব লজেনস খেয়ে ফেলেছিলিস!’

—‘সে তখন আমি চোর ছিলুম, এখন আমি গোয়েন্দা। আচ্ছা, মাকে বাদ দিলুম। বাবা?’

—‘অসম্ভব! বাবার বয়ে গেছে রাত বারোটার সময় নীচে নেমে এসে বিস্কুট খেতে!’

—‘জ্যাঠামশাই সম্পর্কে তোর কী মত?’

—‘শুনে হাসি পাচ্ছে। অফিস থেকে এসেই সরোদ বাজাতে বসেন। তারপর খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়েন। এর মাঝে টিন খুলে বিস্কুট খাওয়ার সময়টা কোথায়!’

—‘তাহলে রোজ রাতে বিস্কুটের কৌটো ফাঁক করছে কে? তুই?’

—‘আমার বয়ে গেছে। আমি অত হ্যাংলা নই। গোয়েন্দার সহকারী কখনো চুরি করে শুনেছিস?’

—‘তাহলে কেসটা কী দাঁড়াচ্ছে! চোর এই বাড়ির ভেতরেই আছে।’

—‘বাইরে থাকাও সম্ভব।’

—‘তাহলে তো তাকে দরজা-জানলা ভেঙে আসতে হবে।’

—‘সে অশরীরী। ভূত। রোজ মাঝরাতে জানলার ফুটো দিয়ে বাতাস হয়ে ঢোকে। তারপর ছায়া শরীর নিয়ে টিনের সামনে এসে দাঁড়ায়। ঢাকনা খুলে খেয়ে আবার চলে যায়।’

—‘ভূতে তো মাছ খায়! ফ্রিজ খুলে মাছও তো খেতে পারে!’

—‘এ হল সায়েব ভূত। সায়েব ভূত বিস্কুট, টোস্ট, স্যাণ্ডউইচ এইসব খায়। আমি ভূতবিজ্ঞানে পড়েছি।’

—‘ভূত বিজ্ঞান না ভৌত বিজ্ঞান?’

‘ভৌত বিজ্ঞান আলাদা, ভূত বিজ্ঞান আলাদা। ভূত বিজ্ঞানে ভূত আর তাদের অলৌকিক কান্ডকারখানার কথা লেখা থাকে।’

—‘মানুষ মরলে তবেই তো ভূত হয়, এ পাড়ায় তো কেউ মরেনি।’

—‘মরলে যেমন ভূত হয়, অনেকে আবার ভূত হয়ে জন্মায়। সকালে মানুষ, রাত্তিরে ভূত। তুই মনে করছিস মানুষ, আসলে সে ভূত।’

—‘এমন কথা জীবনে শুনিনি।’

—‘কেমন করে শুনবি! এসব কথা ভূত বিজ্ঞানে লেখা আছে। অনেক সময় বিস্কুটেও ভূত থাকে, রসগোল্লায় থাকে।’

—‘তোর সেই বইটা আমাকে দে না।’

—‘সেই বইটা আমার বন্ধু প্রতিভার বাবার লাইব্রেরিতে আছে।’

একটা ম্যাগনিফাইং গ্লাস এনে শার্লক হোমসের কায়দায় কৌটোটার আগাপাশতলা ভালোভাবে পরীক্ষা করলুম। পুরোনো একটা দুধের কৌটো। ঢাকনাটা চেপে বন্ধ করলে আর সহজে খোলা যায় না। চামচের পেছন দিয়ে চাড় মারতে হয়। লেনসে মরচের দাগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। অনেক আঁচড়ের দাগ। অপরাধী কোনো ফিঙ্গার-প্রিন্ট রেখে যায়নি। মনে হয় গ্লাভস পরে ঢাকনা খোলে। তাহলে এই একটা ক্লু পাওয়া গেল। এ বাড়িতে যার গ্লাভস আছে সে-ই চোর।

দুপুরবেলা সবাই যখন ভাতঘুমে মজে আছে, সেই সময় দেরাজটা খুললুম। নীচের ড্রয়ারটা হাঁটকাতেই এক জোড়া গ্লাভস পাওয়া গেল। অপরাধী কী বোকা! প্রমাণ গায়েব করতে পারেনি। জানে না বাঘা ডিটেকটিভ কাজে নেমে পড়েছে। খুব বোকার মতো মুখ করে মাকে জিজ্ঞেস করলুম, ‘মা, এই গ্লাভস দুটো কার?’

মা দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বললেন, ‘ওটা আবার কোত্থেকে টেনেটুনে বের করলি! তোর জ্বালায় কি কিছুই গুছিয়ে রাখার উপায় নেই। ওরে ওটা একটা মস্ত স্মৃতি। আমরা তখন শীতকালে শিমুলতলায় যেতুম। বেজায় শীত। তোর ঠাকুরদা সকালে ওই গ্লাভস পরে বেড়াতে যেতেন। যা, যেখানে ছিল সেখানে গুছিয়ে রেখে আয়।’

‘এখন এটা কে পরে মা? যবে থেকে তোমার বিস্কুট কম পড়ছে, তার মধ্যে কেউ পরেছিল?’

‘এ বাড়ির কেউ এখনো পাগল হয়ে যায়নি যে ভাদ্র মাসে গ্লাভস পরবে! নিজে পাগলামি না করে যেখানে ছিল সেইখানে দয়া করে রেখে এসো। হ্যাঁরে! তোর লেখাপড়া কি ডকে তুলে দিয়েছিস! দাঁড়া, বাবা আসুক বলছি।’

বাবাকে ভীষণ ভয় পাই। মায়ের সামনে থেকে পালিয়ে এলুম। জ্যাঠামশাইকে জিজ্ঞেস করলুম, ‘গ্লাভস পরে সরোদ বাজালে কেমন হয়!’

‘ভালোই হয়। সরোদ আর হবে না, হবে তুলোধোনা যন্ত্র।’

‘আপনি কি রাতের দিকে গ্লাভস পরেন?

‘আমার মাথা এখনো অতটা খারাপ হয়নি।’

সুমিতা বললে, ‘ওইরকম বোকার মতো এগোলে কোনোদিন ধরতে পারবি না। বড়োরা সব সময় ধমকে তোকে থামিয়ে দেবে। আমাদের হাতেনাতে ধরতে হবে। আজ রাতে আমরা আড়াল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখব। ব্যাপারটা কী হয়!’

আলোটালো সব নিবে গেল। মা শুয়ে পড়ল। বাড়ি নিস্তব্ধ। আমাদের আগে থেকেই বলা ছিল, সংকেত কথা হবে। সুমিতা তিনবার আঙুল মটকাল। আমিও তিনবার করে উত্তর দিলুম, জেগে আছি, উঠে পড়ো। খুব সাবধানে। কেউ যেন জানতে না পারে।

পা টিপে টিপে, সাবধানে, কোনোরকম শব্দ না করে, অন্ধকারে হাতড়াতে হাতড়াতে আমরা দুজনে নীচে নেমে এলুম। চেনা বাড়িটাকেই কেমন যেন অচেনা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, অন্ধকার কোণে কোণে কারা যেন ওঁত পেতে বসে আছে। সুমিতা ভয় পেয়েছে। আমার গায়ের সঙ্গে লেপটে আছে। আমার পকেটে একটা ছোট টর্চ আছে। সেটাকে জ্বালানো যাবে না, অন্ধকার চমকে উঠবে। ছোটো একটা ছুরিও রেখেছি পকেটে। বলা যায় না, আত্মরক্ষায় প্রয়োজন হতে পারে। গোটা বাড়ি ঘুমে আচ্ছন্ন। সিঁড়ির কাছের ঘড়িটা খ্যাটাস খ্যাটাস করছে। আমরা অন্ধকারে পা ঘষে ঘষে এগোচ্ছি। সোফা, সেন্টার টেবিল, চেয়ারের পাশ দিয়ে দিয়ে। যেখানে বসে সকলে চা খায়, সেই ঘরে এসে হাজির হলুম। বড়ো বড়ো কাচের জানলা। বাইরেটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আকাশ, গোটা গোটা তারা। দূরে রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট। আলোর রেখা ঘরে এসে ফ্রিজটার ওপর পড়েছে। সেটা থেকে হালকা একটা ঘড়ঘড় শব্দ বেরোচ্ছে। বড়ো চায়ের টেবিল, তার মাঝখানে বিস্কুটের টিনটা। চারপাশে চারটে চেয়ার। আমি আর সুমিতা গুঁড়ি মেরে টেবিলটার তলায় ঢুকে গেলুম। অন্ধকারে কেউ আমাদের দেখতে পাবে না। যে-ই আসুক, সে এই বাড়িরই লোক হবে। বাইরে থেকে কেউ বিস্কুট চুরি করার জন্য আসবে না।

ঘড়িতে ঠং করে একটা বাজল। আমরা দুজনে বসে আছি টেবিলের তলায় জড়াজড়ি করে। বাইরে ঝোড়ো বাতাস হুসহাস শব্দ করছে। সুমিতা বললে, ‘দাদা, ভীষণ ভয় করছে।’

আমারও ভয় করছে। সে কথা বলি কী করে! আমি যে গোয়েন্দা।

সুমিতা বললে, ‘চল দাদা, গিয়ে শুয়ে পড়ি। এ তো হিরে মানিক নয়-সামান্য কটা বিস্কুট!’

‘কথা বলছিস কেন?’

‘কতক্ষণ চুপ করে থাকা যায়!’

‘এসব কাজে ভীষণ ধৈর্য চাই সুমি।’

মাথার ওপর টেবিল, টেবিলের ওপর কৌটো। হঠাৎ খুটুস খুটুস শব্দ। ভয়ে শরীর হিম হয়ে গেল। ঘরে কেউ ঢুকল না, অথচ কৌটোর ঢাকনা খোলার শব্দ। নিশ্চয় ভূত এসেছে। শরীরটা থ্যাসথ্যাসে হয়ে গেল। কোনো জোর নেই। সুমিতা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। বেশ বুঝতে পারছি, এত ভয় থাকলে গোয়েন্দা হওয়া যায় না। কৌটোর ঢাকনাটা ধরে কে জোরে জোরে টানছে। কটাস কটাস শব্দ হচ্ছে। কামড়টা হচ্ছে একেবারে আমাদের মাথার ওপর। ভূত ঢাকনা খুলছে।

মনে মনে সেই মন্ত্রটা তিনবার বললুম :

ভূত আমার পুত শাঁকচুন্নি আমার ঝি

বুকে আছে রামলক্ষ্মণ ভয়টা আমার কি!

বিস্কুট খাওয়ার কুড়কুড় শব্দ হচ্ছে। কে বলেছে, ভূতের দাঁত নেই! যা থাকে বরাতে, দুজনে এতটুকু শব্দ না করে বেরিয়ে এলুম টেবিলের তলা থেকে। ছোট্ট টর্চটা জ্বালাতেই টেবিলের ওপর আলপিনের মতো ছোট্ট দু-কুচি আগুন যেন ঝলসে উঠল। ইয়া বড়ো এক ধেড়ে ইঁদুর কুড়কুড় করে বিস্কুট খাচ্ছে। ভূতের চেয়ে ইঁদুর আরও সাংঘাতিক। সুমিতা আমাকে দু-হাত, ‘দাদা’, বলে জড়িয়ে ধরল। দুজনেই চেয়ার-ফেয়ার উলটে দে ছুট। অন্ধকারে জড়াজড়ি। আমাদের অনেক দিনের কাজের লোক সুবলদা, নীচেই শোন। তিনি চোর, চোর, করে লাফিয়ে উঠলেন। সবাই উঠে পড়েছেন। ফটাফট আলো জ্বলে উঠল। বাবা খিল হাতে তেড়ে এসেছেন। আমি আর সুমিতা টেবিলের ল্যাং খেয়ে মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছি।

অতি কষ্টে বললুম, ‘চোর নয়, গেছো ইঁদুরে বিস্কুটের টিনের ঢাকনা খুলে বিস্কুট খাচ্ছিল।’

কেউ বিশ্বাস করল না আমাদের কথা। মা বললেন, ‘ছি ছি, তোদের আমি এত খাওয়াই তাও মাঝরাতে উঠে চুরি করে বিস্কুট খাচ্ছিস, আর আমার কিছু বলার নেই। তোমরাই দেখো।’

মাঝরাত। সারা বাড়ি আলোয় আলো। সবাই একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘আরে ছি ছি।’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%