একাদশ অধ্যায়

জয়ন্ত দে

আমার প্রথম হ্যাসবেন্ডে নাম অংশুমান। খড়গপুর আইটির ছেলে। স্কলার। ওদের বাড়ি নৈহাটি। চাকরি করত ক্যালিফোর্নিয়ায়। বিয়ের সম্বন্ধ আনে, আমার দূরসম্পর্কের এক পিসি। অংশুমান তখন ইন্ডিয়ায় নেই। কিন্তু বাবার সঙ্গে অংশুমানের পরিবারের লোকের কথাবার্তা চলতেই থাকে। বিয়ের এই কথাবার্তার মধ্যে আমার বা মায়ের কোনও ভূমিকা নেই। আমরা নীরব দর্শক।

বাবা শুধু একদিন, সেদিন ছিল শনিবার এসে বলেছিল কাল বিকেল তোর অজন্তাপিসি কয়েকজন লোক নিয়ে আসবে। ওরা তোকে দেখতে আসবে।

দেখতে আসবে, মানে?

বাবা আমার দিকে তাকাল তুমি অসুস্থ নও, যে তোমাকে আপেল নিয়ে কেউ দেখতে আসছে। দেখতে কেন আসছে বুঝতে পারছ না। ওরা তোমার শ্বশুরবাড়ির লোক। যদি তোমাকে পছন্দ করে তোমার কপাল ফিরে যাবে।

মানে তুমি কি আমার বিয়ের কথা ভাবছ, আমি এখন বিয়ে করব না। আর কাল বিকেলে আমি থাকব না।

কাল বিকেলেই ওরা আসছে। তুমি না থাকলে তোমার হয়ে তোমার মা প্রক্সি দেবে। তোমার মাকেই আমি দেখাব।

পরের দিন বিকেলেই ওর দেখতে এল। দেখতে এসে ওদের পছন্দ হয়ে গেল। ছেলের বাবা পাত্রের ছবি দিয়ে গেল। সবাই ছেলের ছবি দেখল, সবারই পছন্দ হয়ে গেল।

মা বলল, 'ওদের যখন পছন্দ হয়েছে, রাজি হয়ে যা। এই নরককুণ্ড থেকে মুক্তি পাবি।'

ভাই বলল, 'ছেলেটা স্কলার। ভালোই হবে, তোকে শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে হবে না, আমেরিকায় থাকবি। খুব ভালো থাকবি।'

আমার বন্ধুরা, আত্মীয়স্বজনরা যারাই জানছে আমাকে ঈর্ষা করছে। তাদের মেয়ে আছে, তারা নিজেদের হতাশা চেপে রাখতে পারছে না। আমি তখন সবে এমএসসিতে ভরতি হয়েছি। আমার না শুনে বাবা ফুঁসছে। একদিন মাকে ধরে আচ্ছা সে পিটিয়ে দিল। আমি রাজি হয়ে গেলাম।

তিন মাস পরে বিয়ে করতে ইন্ডিয়ায় ফিরল অংশুমান, একমাসের ছুটি নিয়ে। আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। তার আগেই বাবা আমার পাসপোর্ট করে ফেলল। বিয়ের পরে দিন পনেরো থেকে অংশুমান চলে গেল। ওই পনেরোদিন আমি শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। বলতে, পারি ওই সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো সময়। আমার শ্বশুর শাশুড়ি অসম্ভব ভালো মানুষ। তাঁদের কাছে আমি সত্যি সত্যি লক্ষ্মী। তাঁরা আমাকে চোখে হারাত, মা ছাড়া কোনওদিন কথা বলেননি। তাঁদের কাছে আমি বউ নই তাঁদের মেয়ে। ওই বাড়ির মেয়ে।

আমার বর বিয়ে করে ফিরতে ফিরতে বলল, আমার বাবা-মা তোমাকে তাদের হারানো মেয়ের জায়গা দিচ্ছে।

আমি অবাক হয়ে বললাম, হারানো মেয়ে মানে? তোমার কি কোনও বোন হারিয়ে গেছে?

অংশুমান বলল, না, না, তুমি খুব বুদ্ধু! তোমাকে ওরা ওদের মেয়ের জায়গায় বসাচ্ছে। এতদিন পরে যখন মেয়ে পেয়েছে, তখন নির্ঘাত সেটা হারানো মেয়ে।

ওর কথায় আমি হাসলাম। অংশুমান বলল, আমি এগ্রি। তুমি ওদের মেয়ে হয়ে যাও। আমার বোন, ভালোই হবে। সামনাসামনি বা লুকিয়ে ভাইফোঁটা দিতে হবে না। কিন্তু তুমি যা চাও আমি তাই গিফট দেব। তুমি ওদের মেয়ে হয়ে আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে থেকে যাও। ওদের দেখাশোনা করো। আমেরিকা ঘুরতে চাইলে এসো। মাস দুয়েক থেকে যাও। যা টাকা লাগে জানাবে, দেব।

আমি ভাবলাম মজা করছে। এটা যে মজা নয় তা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগে গেল। বুঝলাম আমেরিকায় গিয়ে।

ফুলশয্যার রাতে এসে প্রচুর গল্প করল ছোটবেলা থেকে শোনা বিভিন্ন লোকের ফুলশয্যার গল্প। অনেক গল্পের পর শেষে শুয়ে পড়তে পড়তে বলল— আমাদের কোনও গল্প নেই। আজ, তিনদিনের চেনা থেকে যদি কোনও গল্প হয়, নিজেকে রেপিস্ট মনে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই ওর যাওয়ার সময় এগিয়ে এল। বিয়ের তিনদিন বাদ দিলে ও পরে চোদ্দোদিন ছিল। চলে গেল। আমার যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। এই চোদ্দোদিনে রাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়েছিল, বেশ কয়েকবার চুমুও খেয়েছিল। একদিন মনে হয়েছিল, ও খুব চেষ্টা করছে আমার সঙ্গে ফিজিক্যাল রিলেশন করার। কিন্তু ঠিক যেন তালে বাজচ্ছে না। আমিও জোর করিনি। আমি বাবাকে দেখে এসেছি, মাকে নিয়ে যে কীর্তি করত। আমার সামনে ভাইয়ের সামনে টেনে ঘরে নিয়ে যেত। তার থেকে মনে হত ও অনেক ভালো। ব্যস। ও চলে যাওয়ার মাসখানেক পরে আমি ভিসা পেয়ে গেলাম। দেড়মাসের মাথায় চলে গেলাম ওর কাছে। এবার ও আর আমি। অংশু আমাদের জন্য বেশ বড় একটা বাড়ি নিয়েছিল, আগের বাড়িটা ছেড়ে। আমি যাওয়ার পর কিছুদিন বেশ ভালোই কাটল। কিন্তু তারপরেই ওর সঙ্গে আমার অদ্ভুত একটা টানাপোড়েন শুরু হল। আমি ওকে যত জড়িয়ে ধরতে চাই, ও তত দূরে চলে যায়। আমাদের মধ্যে কোনও ফিজিক্যাল সম্পর্ক গড়ে উঠল না। এভাবে কোনও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টেকে না। কিন্তু যেভাবেই হোক এ সম্পর্কটা বাঁচাতে হবে। আমার মনে হল, ও অসুস্থ, ওকে সাহায্য করা দরকার। আমি ওকে একদিন স্পষ্ট করে জানতে চাইলাম ও কেন এমন করছে।

ও জানাল, ইন্টারেস্ট পায় না।

আমি বললাম, তাহলে তুমি ডাক্তারের কাছে চলো।

ও বলল, ও সম্পূর্ণ সুস্থ।

অংশু জানাল, এর আগে এখানকার একটি মেয়ে ওকে অ্যাপ্রোচ করে। ও তাকে না বলে। তখনই মেয়েটা ওকে বলে তুমি ডাক্তারের সঙ্গে কনসাল্ট করে নাও, কেন তোমার এমন হচ্ছে, এই অনীহার কারণ কী।

অংশু তখন ডাক্তারের সঙ্গে কনসাল্ট করে। সেই ডাক্তারবাবুই ওকে জানায়, অংশু সম্পূর্ণভাবে সুস্থ। তাহলে ও এমন করছে কেন? কেন আমার থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

অংশু বলল, ওর ইন্টারেস্টটা অন্য। অংশু সম্পূর্ণভাবে সেদিন আমাকে জানিয়ে দেয় দাম্পত্য সম্পর্কে ও যেতে পারবে না। জোর করলে শুধু জোর করাই হবে, ওর শরীর আমাকে অ্যাকসেপ্ট করবে না। সেক্ষেত্রে সেটাই হবে রেপ।

আমি বললাম সব জেনে শুনে তুমি আমাকে বিয়ে করলে কেন? অংশু মাথা নিচু করে জানাল, আমার মা-বাবা খুব ভালো মানুষ, আমি তাদের দুঃখ দিতে চাইনি। বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা ওর বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল, কিন্তু ও রাজি হয়নি। এবারে দেশে ফেরার আগে ও জানতই না। বাড়ি ফিরে শুনল ওর বিয়ে। সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। নিমন্ত্রণ সম্পূর্ণ। সেক্ষেত্রে ওর কিছু করার ছিল না। ও ভেবেছিল, সব মিটে গেলে ঠান্ডা মাথায় আমাকে বলবে, আর আমি ওর সব কথা বুঝব। ক্ষতিপূরণ হিসেবে, আমি যা চাইব ও দেবে। টাকা চাইলে টাকা। অথবা, ওর সঙ্গে থেকে যেমন খুশি জীবন আমি কাটাতে পারি। ও কোনওভাবেই আমার পথে পড়বে না। বরং আমি ইচ্ছে করলে, আমেরিকা থাকার সব সুযোগ সুবিধা নিতে পারি ওর থেকে। ওর কোনও আপত্তি নেই।

অংশু আমাকে শান্তভাবে বোঝাল একটা গল্প বলে, লন্ডনে ওর এক বোন পড়তে গিয়েছিল। ওর যাওয়া আসার রাস্তায় মাঝেমাঝেই একটা ভিখিরিকে টাকা দিত। একদিন একটু বেশিই টাকা দিল। তখন ভিখিরিটি বলল তুমি এতগুলো ইউরো আমাকে দিলে কেন? মেয়েটি বলল আজ আমার জন্মদিন। বাবা জন্মদিনে বন্ধুদের সঙ্গে হইচই করার জন্য বেশ কিছু বেশি টাকা পাঠিয়েছে। বন্ধুরা জানলে সবটাই খরচ করিয়ে দেবে। তার থেকে তোমাকে আমি দিলাম, তোমার কাজে লাগবে। ভিখিরিটি তখন মেয়েটিকে বলল, তুমি খুব ভালো মেয়ে। আমি তোমাকে হেল্প করতে চাই। তুমি আমাকে বিয়ে করো। আমি তোমাকে কোনও ডিসটার্ব করব না। তুমি ইউকের সিটিজেনশিপ পেয়ে যাবে। পরে আমাকে ডিভোর্স করে দেবে।

অংশুও আমাকে সেই অফার দিল। বলল, আমি এই অফার দিলে অনেক মেয়েই কেরিয়ার গড়তে আমাকে বিয়ে করে চলে আসত। কিন্তু আমি মুখ ফুটে সেটা অ্যারেঞ্জ করতে পারিনি। বাবা-মা অ্যারেঞ্জ করে দিয়েছে। আমরা দুজন আপাতত স্বামী স্ত্রী হিসেবে থাকি, তুমি কেরিয়ার গড়ো। টাকা নিয়ে চিন্তা করো না।

আমার তখন কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। অংশু আমাকে বলল, আমি তোমাকে সব দেব, শুধু ফিজিক্যাল স্যাটিসফাই করতে পারব না। এটা আমার ত্রুটি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো।

আমি একসময় ঠিক করলাম, পড়াশোনা যেখানে থেমে গিয়েছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু করব। ওর কাছে প্রায় দেড় বছর থেকে ফিরে এলাম। এসএসসি কমপ্লিট করলাম। শ্বশুরবাড়িতেই থাকলাম। আর বাপের বাড়ির নরককুণ্ডে ফিরলাম না। ওখানেই পিএইচডি করলাম। প্রাইভেট কলেছে চাকরি পেয়ে ডিভোর্স স্যুট করলাম। অংশু কনটেস্ট করল না, ও টাকা দিতে চেয়েছিল নিইনি। ডিভোর্স পেয়ে গেলাম।

তারপর ভাড়াবাড়িতে থাকতাম। ওই কুত্তার ডাক্তার আমাকে দিয়ে ফ্ল্যাট কেনাল।

এতখানি শুনে এসে আমি বললাম তাহলে তুমি অংশুকে মারবে কেন?

মুনিয়া চুপ করে থাকল।

আমি বললাম, অংশু কী দোষ করেছে? ওকে মারবে কেন? ও তোমার ক্ষতি করেছে। ভুল করেছে, অন্যায় করেছে। তবু কোথাও কি মনে হয় না, শেষপর্যন্ত অংশু তোমার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছে। সব সত্যি কথা বলেছে। ও অসহায় সেটা স্বীকার করেছে। ছেড়ে দাও ওকে।

মুনিয়া আমার গাল চেপে ধরে। 'তুমি আমাকে লোক ঠিক করে দাও আর একটা অ্যাক্সিডেন্ট।'

'আমার পক্ষে সম্ভব নয়।'

'তোমার পক্ষেই ওটা সম্ভব। যা টাকা লাগে আমি দেব। তুমি আমাকে কানেকশন দাও।'

আমি হাসি, 'আমার ক্ষমতা নেই। আমেরিকায় আমার কোনও যোগাযোগ নেই।'

'অংশু কলকাতায় আসছে জানুয়ারিতে। অংশু যেন দমদম এয়ারপোর্ট থেকে না বাড়ি ফিরতে পারে।'

'তুমি কী করে জেনেছ?'

'ওর এক মাসতুত ভাই আমাকে খবরটা দিয়েছে। ছেলেটা আমার প্রতি ইন্টারেস্টেড ছিল। আমি কাটিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ও এখনও আমার পিছন ছাড়েনি। একমাত্র ওই ছেলেটিই আমাদের ডিভোর্সের সঠিক কারণটা জানে। জানে, সেরেফ ফিজিক্যাল স্যাটিসফায়েড না করতে পারার জন্য আমি অংশুর মতো একটা ছেলেকে ছেড়ে দিয়েছি। ওর খুব ইচ্ছে আমাকে ফিজিক্যালি স্যাটিসফায়েড করাবে। আমাকে সারারাত ঘুমাতে দেবে না। আমি কোমর নাড়াতে পারব না। আরও ইত্যাদি ইত্যাদি। সেই আমাকে খবরটা দিয়েছে।'

'আর এই খবর পেয়েই তুমি অংশুকে মারার জন্য প্ল্যান করছ?'

'না।'

'তবে?'

'খবর পেলাম, অংশুর বাবা মা এবার এক গবির ঘরের মেয়েকে নির্বাচন করেছে। পাত্রী অংশুর থেকে প্রায় সতেরো বছরের ছোট। অংশু এবার জেনেশুনে বিয়ে করতে আসছে।'

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকি। বলি, 'অংশু জেনেশুনে বিয়ে করতে আসছে, এটা তোমাকে কে বলল?'

'আমি খবরটা জেনে অংশুকে ফোন করেছিলাম। বললাম, অংশু তুমি দেশে এসো না, তোমার বাবা-মা আবার পাত্রী ঠিক করেছে। তুমি এলেই আবার বিয়ের জন্য চাপ দেবে।' কথাটা বলে মুনিয়া চুপ করে থাকল।

'তারপর, সেটা শুনে অংশু কী বলল?'

'অংশু বলল হ্যাঁ, আমি জানি। আসলে, বাবার পেসমেকার বসেছে। আমি চাই না বাবা-মা কষ্ট পাক। ডিভোর্সের সময় আমি মাকে ছুঁয়ে কথা দিয়ে এসেছিলাম, আমি আবার বিয়ে করব। আমি মাকে কথা দিয়েছি।

আমি বললাম, অংশু আমাকে বিয়ে করার সময় তুমি জানতে না। কিন্তু এবার আগে জেনে তুমি এত বড় অন্যায় করো না।'

কথাটা বলে মুনিয়া চুপ করে থাকল। তারপর কেটে কেটে বলল, 'তখন অংশু আমাকে বলল তোমার সময়ও আমি জানতাম। কিন্তু আমি চাই না বাবা-মা কষ্ট পাক। তাই।'

মুনিয়া দাঁত ঘষল। ওর বাবা মাকে কষ্ট না দেওয়ার জন্য ও আমার জীবন নষ্ট করেছে, আর একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করতে চাইছে। তাই আমি ওর বাবা-মাকে একটু বেশি কষ্ট দিতে চাই। ছেলে লাশ ধরিয়ে দেব কোলে।'

আমি চুপ করে থাকি। তারপর খুব ধীরে বলি, 'ওর বাবা-মা যে কষ্ট পেল এটা তো অংশু জানতে পারবে না, কেননা ও তখন মৃত। বরং ওকে জীবিত রেখে ওর বাবা-মাকে কষ্ট দিতে হবে।'

আমার কথায় মুনিয়া ঠিকরে উঠল, 'ঠিক তো অংশু মরে গেলে ওর বাবা মা কষ্ট পেল কি না ও কী করে জানবে? দারুণ বললে।'

'ওকে মেরে তুমি হাত নোংরা করো না। বরং ওর বাবা-মায়ের কাছে যাও। খুব শান্ত ভাবে যাও। তোমার সঙ্গে আমিও যাব। গিয়ে ওর বাবা-মাকে সব জানাও। প্রয়োজনে ওর বাবা-মায়ের সামনে থেকে অংশুকে ফোন করো, করে কথা বলো। তোমাদের কথোপকথন অংশুর বাবা মা শুনুক।

কথা শেষ হলে তখন তুমি বলো, ফোনের সামনে তোমার বাবা ও মা আছেন। ওনাদের মুখ বন্ধ করে কথা আমি শোনাব। শেষে আমি বলে আসব আপনার ছেলে ইন্ডিয়ায় ফিরলেই লকআপে পুরব। অংশুকে শুনিয়ে শুনিয়ে আমি ওর বাবা-মাকে হুমকি দিয়ে আসব, বলে আসব, আপনার ছেলে গে, আপনার ছেলে হোমো, আপনার ছেলে ধ্বজভঙ্গ, আপনার ছেলে... আশা করি অংশুর কাছে এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কিছু নয়। আমার মনে হয়, অংশু এরপর সুইসাইড করবে। না করলে সারা জীবন জীবন্মৃত হয়ে, হতাশাগ্রস্ত একজন মানুষ হয়ে বেঁচে থাকবে। এর চেয়ে বড় শাস্তি আর হয় না।'

মুনিয়া বলল, 'তুমি গ্রেট! দুর্দান্ত প্ল্যান দিয়েছ কবে যাবে?'

'কালই যাব। আমি চাই পৃথিবীতে ওর শাস্তির মেয়াদ একদিন হলেও বেশি দিতে। তার আগে একটা কাজ করো। এখন তুমি অংশুকে একটা ফোন করো। এখন ওর দিন। ফোন করে বলো, তোমার কিছু কথা আছে। যা আজ বলবে না, কাল সন্ধে সাতটার সময় ফোন করে বলবে। কাল স্যাটার ডে, ওর ছুটি। সন্ধে সাতটা মানে ওর সময় সকাল সাড়ে নটা। অথবা জেনে নেবে কখন ওর সুবিধে।'

মুনিয়া হাত বাড়িয়ে অংশুমানকে ফোন করল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%