ষষ্ঠ অধ্যায়

জয়ন্ত দে

আমি মুনিয়ার ঠিকুজি কুষ্ঠি সব জোগাড় করে ফেলেছি। সত্যি বলতে কী, তখনও পর্যন্ত আমি মুনিয়াকে বিশ্বাস করতে পারিনি।

এখনও কি পারি? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। মুনিয়া ছুটির দিন সকালে থেকেই আমাদের বাড়িতে এসে ওঠে। মুনিয়া একদিন 'আমাদের বাড়ি' কথাটা সোচ্চারে আপত্তি করল। বলল, 'তোমাদের বাড়িতে আমি আসি না। আমি তোমার বাড়িতে আসি। তুমি কি এখন এই বাড়িটার সঙ্গে কমলার নামটা জড়িয়ে রাখতে চাও?'

খুব তীক্ষ্ন আর তীব্র প্রশ্ন। হ্যাঁ, কমলা যতদিন বেঁচে ছিল এই বাড়ি তারও ছিল। তখন এটা আমাদের বাড়ি ছিল। কিন্তু কমলা মারা যাওয়ার পর সত্যিই কি আমার বলা উচিত, এটা আমার বাড়ি।

এই বাড়ির দোতলার ঘরে আমি কমলাকে জাস্ট মেরে রেখে এসেছি। মাথায় একটা মার। কমলা লুটিয়ে পড়েছিল মেঝেতে। আমি চুপ দাঁড়িয়েছিলাম। একদম চুপ করে। কমলা স্তব্ধ হলে নিশ্চিত হলাম। তার আগে আমি পরিকল্পনা মাফিক আলমারির লক ভেঙে ছিলাম। টান মেরে ওর গলা থেকে হারটা ছিঁড়ে নিলাম। খুব সন্তর্পণে কানের দুল, হাতের বালাটা খুলে নিলাম। ও বার বার জিজ্ঞেস করছিল, কেন আমি এমন করছি? আমি ওকে বললাম ইনসিউরেন্স ক্লেম করব, বলব ডাকাতি হয়েছে। ও শান্তভাবে দাঁড়িয়েছিল। আগে লুটপাট, ভাঙাভাঙি, পরে খুন। আমি জানি কোথায় কোথায় আমার হাতের ছাপ, বা জুতোর সোলের ছাপ থাকতে পারে। আমি বুট পরি। কিন্তু এই কাজটা করার জন্য স্নিকার কিনেছিলাম। আমার পায়ের সাইজ নয়। নিয়েছিলাম দশ। খুব কায়দা করে স্নিকারের সোলের এক দিক ভেঙে রেখেছিলাম। আমার সহকর্মীরা, আমার জুতোর পুরো র‌্যাক তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আমি হাসছিলাম। সে জুতো আমি ঘণ্টা দুয়েকের জন্য পরেছিলাম। কাজ শেষ তো দুপাটি জুতো দু দিকে চলে গেছে। যা আমি নিজে চেষ্টা করলেও পাব না। তারপর ঘর লন্ডভন্ড করে চলে গিয়েছি। আমার মোবাইল ছিল অন্য জায়গায়, বহাল তবিয়তে চালু। টাওয়ার লোকেশন ওরা চেক করেছিল। দুর্গাপুরই পেয়েছে। তবে হ্যাঁ, গয়নাগুলো নিয়ে আমার খুব সমস্যা ছিল। কিন্তু তার দায়িত্ব এমন একজন নিয়েছিল, যে নিজেই পাঁচটা খুনের আসামি। এখন ডাকাতি ছেড়ে ব্যবসা করে। পরিচয় গোপন করে বাঁচে। আমি তাকে বাঁচিয়ে রেখেছি। আমি কলকাতায় ফেরার আগেই সে গয়না গলিয়ে ফেলেছে।

তারপরও কি এই বাড়ি আমাদের হতে পারে?

কিন্তু আমি খুব সচেতনভাবেই এখনও আমার সঙ্গে কমলার নাম ও সম্পর্কটা জুড়ে রাখতে চাই। কখনো যেন ছেড়ে না যায়। বিশ্বাস নেই এই ছেড়ে যাওয়া থেকে কেসটা রি-ওপেন হতে পারে। যারা রি-ওপেন করবে তারা চায় আমার সর্বনাশ!

মুনিয়া আমাকে দিয়ে স্বীকার করাতে পারেনি কমলার মৃত্যু বিষয়ক কোনও তথ্য। আমি জানি, কান টানলে মাথা আসে। একবার ওরা আমার কানে হাত দিলে মাথাটা হাতের নাগালে পেয়ে যাবে। একটা নয়, শুধু কমলা নয়। রত্নেশ্বর-উৎপল-অসীমানন্দ। কমলা সহ আরও তিন তিনটে খুন আমার নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে।

কমলার বাড়িতে আছে বলতে অতি বৃদ্ধ বাবা। তাঁকে আমি প্রতি মাসেই টাকা পাঠিয়ে দিই। উনি বিশ্বাস করেন না, আমি কমলাকে মেরেছি। তাঁর সাধ্য এবং ইচ্ছে নেই এই কেসটা নিয়ে আর কোনও নাড়াচাড়া করার। কিন্তু অসীমানন্দের অনেক ভক্ত। তারা এখনও তাদের সংগীতাচার্যের মৃত্যুর মধ্যে অনেক অনেক রহস্য দেখে। তারা বিশ্বাস করে না, অসীমানন্দ আত্মহত্যা করেছে। তারা মনে করে, অসীমানন্দকে ভয় দেখিয়ে প্রথমে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সুকৌশলে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। অসীমানন্দ আত্মহত্যা করতে পারেন না, ওটা হত্যা। আর তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কমলা রাহা খুনের কোনও না কোনও যোগসূত্র আছে।

মানুষ চিন্তাশীল প্রাণী অনেক কিছু ভাবতে পারে। ভাবনাচিন্তা তো কেউ আটকে রাখতে পারে না। ভাবুক, ভাবুক, যার যা মনে আসে ভাবুক। আদালত প্রমাণ চায়।

রত্নেশ্বর-উৎপলের বাড়ির লোকজন এখনও সেই ট্রাকের সন্ধানে আছে, যার সঙ্গে গাড়ির ধাক্কা লেগেছিল। ট্রাকটা যে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। ওরাও একটা সূত্র পেলে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ওদের মৃত্যুর কথায় সেই কমলা রাহা খুনের কথা উল্লেখ হয়েছিল। কোনও একটা খোঁচা ছিল? সত্যিই কি অ্যাক্সিডেন্ট, না কি অ্যাক্সিডেন্টটা করানো হয়েছিল?

আমি এসব প্রশ্ন উত্তরের খেলা থেকে শতহস্ত দূরে থাকি। পাবলিক, খবরের কাগজওয়ালারা যা মনে আসে লিখুক, দুদিন বই তো নয়।

তবে আমি বিশ্বাস করি, ওদের মৃত্যুর সঙ্গে কমলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে রিপোর্টাররা ভালোই করেছে। ওরা মরেও শান্তি পাবে না একটা মেয়েলি কেসের সঙ্গে ওরা জড়িত। ওদের পরিবার, আত্মীয়স্বজনের কাছে ওরা সবাই এক একটা জিজ্ঞাসা চিহ্ন।

এই জিজ্ঞাসা চিহ্নকে আমি কখনও খড়গ বানাব না। আদর করে ডেকে বলব না, এসো খড়গ, বসো আমার মাথায়! আমি কারও মৃত্যু নিয়ে একটা কথাও বলিনি। বলবও না। বরং আমি বিশ্বাস করি, আপনারা আমার থেকে অনেক অনেক বেশি জানেন। খবরের কাগজ পড়ে, টিভি দেখে।

আপনারা কমলাকে জানেন, অসীমানন্দ, রত্নেশ্বর, উৎপলকে জানেন। আমার কথাও জানেন। যা আমি জানি না, তেমনও অনেক কিছু জানেন। এবার মুনিয়ার কথা জানুন। আমি জেনেছি। আপনিও জানুন। আমি বার বার মুনিয়ার কথা বলতে গিয়ে নিজের কথা বলছি।

ওই দেখুন মুনিয়া আমার রান্নাঘরে মোবাইলে ইউটিউব চালিয়ে কিছু একটা রান্না চেষ্টা করছে। আমি জানি সে রান্নাটা জঘন্য খেতে হবে, মুখে দেওয়া যাবে না, কিন্তু আমাকে সোনামুখ করে খেতে হবে। হেসে হেসে বলতে হবে— টেস্টি। নট ব্যাড। ততক্ষণে সে কিন্তু মুখে দিয়ে তিড়িংবিড়িং করে লাফাচ্ছে। আমার ওপর হম্বিতম্বি করছে, আমি কী করে এত বাজে রান্না এমন পরমানন্দে খাচ্ছি।

মুনিয়া যখন আমাকে বারণ করছে, তখন আমি ওকে শান্ত গলায় বললাম, এত আপত্তি করছে কেন? তুমি কি বিষ দিয়েছ? বিষ দিলেও আমি খাব।

'আমি কেন তোমাকে বিষ দেব?'

'দিতেই পারো? আমি তোমার অপকার ছাড়া উপকার করিনি।'

'অপকার কী আমার বাবার পিছনে কাঠি করেছ?'

'ঠিক তাই। তোমার আর কোনও ক্ষতি করার চান্স এখনও আমি পাইনি। আমার কাছে তুমি যখন এসেছ, তখন তুমি কুমারী ছিলে না, যে আমি তোমাকে ফুসলিয়ে নিয়ে এসে সতীত্ব নাশ করব।'

'সতীত্ব!' হা হা করে হেসে উঠল মুনিয়া। হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল, বলল, 'একসময় আমার সতীত্ব নিয়ে খুব ভয় ছিল। আমার বন্ধু তরুর এক দাদা আমাকে খুব পছন্দ করত। খুব পছন্দ মানে, আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখত। তাদের বাড়ি গেলে সে ধারে-কাছে ঘুরঘুর করত। আর তখনই তার কত কত দরকার পড়ত তরুর ঘরে। কেননা আমি তখন হয়তো ঘরে বসে। একদিন কী হল, সে সুযোগ বুঝে আমাকে একটা প্রেমপত্র দিল। ছোট্ট চিঠি— কলেজের সামনে আসবে দুটোর সময়। সে চিঠি পড়ে আমার সারা শরীর কেমন থর থর করে কাঁপছে। ভাবছি, তরু জানলে কী ভাববে? আবার ভাবছি, আমার বাবা জানলে এখুনি গিয়ে ওর পিঠে লাঠি ভাঙবে। কিন্তু দুটোর সময় আমার খুব মায়া হল, দুপুর দুটো, বাইরে শেষ এপ্রিলের ঠা ঠা রোদ্দুর। যদি বেচারার সান স্ট্রোক হয়। অগত্যা আমি ঠিক দুটো সময় কলেজ থেকে বেরিয়ে গেলাম তার কাছে। তাকে বলতে গেলাম, তুমি চলে যাও। কথাটা বলেই আমি দৌড়ে দৌড়ে চলে এলাম। কিন্তু তরুর দাদা খুব খুশি। এরমধ্যে তরুর বিয়ের ঠিক হল। বিয়ের দিন রাতে আমি থাকব। শীতকাল। বাসরঘরে আছি, কিন্তু শীতে আমি কাঁপছিলাম। তরুর দাদা একটা শাল নিয়ে যাবার জন্য আমাকে ডাকল। আমি বাসর ঘর ছেড়ে ওর সঙ্গে গেলাম। ও হঠাৎ, সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে আমাকে চেপে ধরল। আমাকে চুমু খেল। বুকে হাত দিল। বলল, আমি যাব তোমার মায়ের কাছে। তরুর হল, এবার আমাদের বিয়ে।

মাস ঘুরতে না ঘুরতে তরুর মা এল সম্বন্ধ নিয়ে। কিন্তু আমি রাজি হলাম না। মাকে স্পষ্ট বলে দিলাম, ও ছেলে সুযোগসন্ধানী, নোংরা, আমি মরে গেলেও ওই ছেলেকে বিয়ে করব না।'

তার কিছুদিন পরে আমার বিয়ে হয়ে গেল। ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। কত রাত বরের পাশে শুয়ে থাকতে থাকতে ভেবেছি, 'ইশ যদি তরুর দাদা এখন থাকত, আমাকে চুমু খেত, আদর করত, আমার বুকে হাত দিত। তরুর দাদা যদি থাকত।'

মুনিয়ার কথা শুনে আমি হাসি, বলি, 'বর যখন অফিস যেত তখন তরুর দাদাকে ডেকে নিলে না কেন?'

'না, তখন সাহস পাইনি। ওই যে সতীত্ব টতীত্ব মাথায় ঘুরছে। বুঝতে পারছি না, মানুষটা কেন মুখ ঘুরিয়ে আছে। কোনও খারাপ ব্যবহার নেই। কোনও অশান্তি নেই। শুধু যেন মানুষটা নেই বাদবাকি সব আছে। কিছুদিন কাটার পর খুব সন্দেহ হচ্ছে, শুনে এসেছি, এমন পুরুষদের বউদির সঙ্গে সম্পর্ক থাকে। ওর বউদি খুব ফরসা আর মোটা। ভাবতে শুরু করলাম, তাহলে কী ও রোজ রাতে ময়দা মাখতে যায়। আমার লুচির মতো ফিগার ওর পছন্দ নয়।'

আমি মুনিয়ার প্রথম বিয়ের ময়দা আর লুচির গল্প শুনতে শুনতে হাসছি। মুনিয়া কিন্তু নির্বিকার।

মুনিয়া বলল, 'জানো তখন আমার মনে কী দুঃখ এই পুরুষ ময়দা মাখছে। একবার আঙুল বাড়িয়ে লুচিকে ফুটো করে দেখল না তার কী স্বাদ!'

মুনিয়া যে কোনও কষ্টের বিষয়কে নিয়ে মজা করত। নিজেকে নিয়ে মজা করত। কখনো কখনো সে মজা হত নির্মম।

একদিন হঠাৎ বলল, 'আচ্ছা তুমি ওই গল্পটা জানো?'

'কোন গল্প?'

'ওই যে এক প্রেমিক তার প্রেমিকাকে বলল আমি তোমার জন্য সব পারি। তখন প্রেমিকা বলল, তুমি আমার জন্য তোমার মায়ের হৃৎপিণ্ড উপড়ে নিয়ে আসতে পারবে? প্রেমিক তখন তাই করল। মায়ের হৃৎপিণ্ড উপড়ে নিয়ে চলেছে প্রেমিকাকে উপহার দেওয়ার জন্য। যেতে যেতে পথে প্রেমিকটি একটা পাথরে ঠোক্কর খেল। তখন হৃৎপিণ্ড থেকে মা বলে উঠল— আহা বাছা তোর লাগেনি তো?'

আমি চুপ করে মুনিয়ার গল্প শুনছি। বললাম, 'না, এ গল্প আমি শুনিনি।'

'এ কী এই গল্প তুমি শোনোনি?'

'আমি সাহিত্য টাহিত্য কিছু পড়িনি।'

'তাহলে আমার কাছ থেকে শুনলে। এবার বলো তো, তুমি যখন কমলাকে মেরে এই ঘরের মধ্যে রেখে চলে যাচ্ছিল, সে যদি হঠাৎ বলে উঠত, 'এই যে ডার্লিং ভুল করে কোনও প্রমাণ ফেলে যাচ্ছো না তো। এটা শুনে তুমি কী করতে?'

মুনিয়া গল্প শুনে আমার ঝটিতি ঘরের মেঝের দিকে নজর পড়ল, ঠিক ওইখানে কমলা লুটিয়ে পড়েছিল। আমার মাথার ভিতর দপদপ করছে। কিন্তু নিমেষে নিজেকে লুকিয়ে ফেলার ক্ষমতা আমার আছে। আমি লুকিয়ে ফেলে অত্যন্ত স্বাভাবিক হলাম। ওকে কাছে ডাকলাম। তারপর, আমার মধ্যমা ওর উন্মুক্ত নাভির চারপাশে ঘোরাতে ঘোরাতে, তলপেটের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললাম 'আমি কী করে কমলার কথা শুনব, আমি তখন দুর্গাপুরে।'

'এই ঘরের মধ্যে তুমি ছিলে না?'

'না?'

'তাহলে তুমি কোনও কথা শোনোনি।'

'শোনার প্রশ্নই ওঠে না।' আমি শান্ত গলায় জবাব দিই।

'তুমি না শুনলেও কমলা কিছু বলেছিল?' মুনিয়া তীক্ষ্ন গলায় বলল।

'বলতেই পারি। কিন্তু আমি কী করে জানব সে কথা?'

মুনিয়া আমার থেকে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল, বলল, 'আমি জানি না কমলা কী বলেছে?'

আমি চুপ করে আছি, মুনিয়ার নিজের কথায় নিজেই উত্তর দিল। উত্তর দিতে দিতে বলল, 'যদি তুমি থাকো, তাহলে আমি জানি কমলা কী বলেছে।'

মুনিয়া থামল, একটু শ্বাস নিল, বলল, 'আর যদি তুমি না থাকো তাহলে কমলা কী বলেছে?'

'কী বলেছে?' আমি উৎকণ্ঠার সঙ্গে জিজ্ঞাসা করি। এখানে তো আমি নেই। তাইজন্যে আমার শোনার আগ্রহ আছে। মুনিয়া তাহলে একটু হলেও ভাবতে শুরু করেছে আমি খুনের সময় এই বাড়িতে, এই ঘরে ছিলাম না।

মুনিয়া বলল, 'মাটিতে শুয়ে কাতরাতে কাতরাতে কমলা বলেছে আমার বর আসছে শয়তান। তুই যে গর্তেই ঢুকে থাকিস, ঠিক তোকে ও খুঁজে বের করবে, তারপর খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তোকে মারবে।'

আমি চুপ করে থাকি।

মুনিয়া হাসে। 'আমিও কমলার মতো বিশ্বাস করি, এ পৃথিবীতে সে শয়তান কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারবে না। তাকে তুমি ঠিক খুঁজে বের করবে। বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে? চমৎকার! ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার।'

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%