জয়ন্ত দে
এই কাহিনির শুরুতেই আপনাদের বলেছিলাম, এই কাহিনি আমার নয়, মুনিয়ার। তবু এতক্ষণ ধরে আপনারা আমার কথাই শুনে যাচ্ছেন। মুনিয়া আর কতটুকু এল।
আসলে আমার কথা প্রথমে না বলে রাখলে আপনার মুনিয়াকে ঠিক ধরতে পারবেন না। হজম করা তো দূরের কথা। মুনিয়া খুব জটিল। এত জটিল আমি বাপের জম্মে দেখিনি। তবে বেশ ইন্টারেস্টিং।
ইন্টারেস্টিং বলতে, আপনি কী বুঝলেন জানি না। আমি কিন্তু দুটোই বলতে চাই? যেমন মগজে, তেমনই শরীরে।
প্রথম দিনের সকালেই ও আমাকে মগজের খেলায় বাজিমাত করে দিয়েছিল। বিশেষত, দুজন কাঠের মিস্ত্রি, একজন রঙের মিস্ত্রি ও তিনজন ব্রোকারকে খুনের একদিন আগে কেন ডেকেছিলাম, ও খুব সহজেই বুঝে গেছে। অথচ আমাদের ডিপার্টমেন্টের লোকজন সহজ কথাটা সহজে বুঝতে পারেনি।
আমি আসলে সবকিছু ঘেঁটে দিতে চেয়েছিলাম। নাহলে সারা ফ্ল্যাটে আমার আর কমলা, এবং ঠিকে কাজের মাসির হাতের ছাপই শুধু পাওয়া যেত। তাতে আমার দিকে খুনের তত্ত্ব বেশি স্ট্রং হত। সবকিছু গুলিয়ে দিতে আমি আরও ছ-জনকে বাড়ির ভিতর হাজির করেছিলাম। এই ছ-জন সম্পূর্ণই বাইরের।
আমি আমার দেখানো পথে পুলিশকে পরিচালনা করেছি। পুলিশ ওদের নিয়ে সপ্তাহ খানিক ধরে ভেবেছে। ওদের পিছনেই চক্কর কেটেছে। ছুটেছে। আমার নাম এসেছে অনেক পরে। প্রাথমিকভাবে আমি কোনও সন্দেহের তালিকায় ছিলাম না।
কিন্তু আমার সেই চাল আমাদের ডিপার্টমেন্ট বুঝেছে অনেক পরে, কিন্তু মুনিয়া বুঝে গেল সহজে!
সহজে কী?
না কি কেউ ওকে বুঝিয়ে পাঠাল? কে ওকে এটা ধরিয়ে দিল? কে আছে ওর পিছনে? নাকি সবটাই ওর রিডিং? ইমপসিবল।
আমি সারা সকালটা ভাবলাম। খবরের কাগজ পড়তে পড়তে মুনিয়া কি হিসেব কষেছে, না ওর পিছনে বড় মাথা? পাকা কোনও প্ল্যান! তাহলে বলতে হতে ও খুব দক্ষ অভিনেত্রী। এই কথাগুলো ও এমনভাবে বলল, যেন সবটাই ওর কথা। কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও বেশ চমকে দিল। ইন্টারেস্টিং! আর? চুমুটাও তেমন।
অনেকদিন পরে কেউ আমাকে চুমু খেল। আমি কমলাকে চুমু খেতাম। কখনো কমলা আমাকে চুমু খেয়েছে কি? না, মনে করতে পারলাম না। বরং, যখন আমি কমলাকে চুমু খেয়েছি, কমলার দু-চোখ বন্ধ দেখেছি। আমার প্রথম প্রথম মনে হত হয়তো আবেশে দু'চোখ বন্ধ করেছে। পরে বুঝলাম, কারণটা অন্য। ওর সুন্দর ঠোঁটের ওপর আমার কালো ঠোঁটগুলো বড্ড বিচ্ছিরি ব্যাপার। তাই নিভিয়ে দাও আলো। ওই যে বললাম, কলেজ লাইফে সেই ছড়া— খেঁদি পেঁচি নূরজাহান, অন্ধকারে সব সমান। স্কুলের গণ্ডি না পেরিয়েও ছড়াটা ঠিক ঠিক ব্যবহার করেছিল কমলা। অন্ধকার করে দিয়ে রাজপুত্রের সঙ্গে আমাকে সমান করে দিত। অন্ধকার করে দিলে কমলার মনে কোনও দুঃখ থাকল না। তবে কমলা আমাকে ঘেন্না করত না। ভালোবাসতো। এ ব্যাপারে আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট নিশ্চিত।
আবার দেখুন, আমি মুনিয়ার কাহিনি শোনাতে এসে নিজের কথা বলছি। হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম, মুনিয়া ইন্টারেস্টিং। সেটা যেমন মগজে, তেমনই শরীরে। মগজের কথা আগেই বলেছি। এবার শরীরের কথা আগে বলি। মুনিয়া সকালে আমাকে চুমু খেল। সত্যি বলতে কি, ও যখন চুমু খাচ্ছিল, সেটা আগে বলেছিল বটে, কিন্তু সেটা যে সত্যি সত্যি ঘটবে ভাবতে পারিনি। আচমকাই।
তখন আমার সারা শরীর সিরসির করছিল। আমি কাঠ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। হতবাক হয়ে দেখছিলাম ওর স্পর্ধা, ঠিক তেমনই নিজেকে সংযত করছিলাম। মুনিয়া চলে গেল। সারাক্ষণ একটা কথাই আমি ভাবছি ও কেন এল? ও খুন করতে চায়, খুন করার প্ল্যান চায়, এগুলো তো কথার কথা। এসব কথা যত ভাবছি ততই আমার মাথার ভিতর একটা দৃশ্যই ঘুরে ফিরে আসছে সেটা ওই আমার শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠোঁটের ওপর ঠোঁট চেপে ধরা। ওফ মেয়েটা যেন আমাকে পাগল করে দিল।
কমলা মারা যাওয়ার পর থেকে এ বাড়িতে কোনও নিয়মিত কাজের লোক নেই। একটা ছেলে আসে গোবিন্দ। আমার ছুটির দিনে বলা আছে, সেটা দশটা নাগাদ এসে সিঁড়ি থেকে ঘর বারান্দা সব পরিষ্কার করে যায়। সপ্তাহে ওই একদিন এ বাড়িতে বাইরের লোক ঢোকে। বাদবাকি দিন, দরকার মনে হলে আমি করে নিই।
আজও দশটা বাজতে গোবিন্দ এল। আমি সোফায় চুপ করে বসে। গোবিন্দ এসেই দোতলা ঝাঁট দিয়ে মুছে দিল। একতলার ঘর দোর বন্ধ। তারপর ছাদে চলে গেল। ছাদ ঝাঁট দিয়ে সিঁড়ি পরিষ্কার করে, ধুয়ে মুছে যখন এসে আমার সামনে দাঁড়াল তখন সাড়ে এগারোটা। আমি তখনও সোফায় বসে। সাধারণভাবে গোবিন্দ চলে গেলে আমি রান্না বসাই। সাড়ে বারোটায় রান্না শেষ। ছুটির দিনে আমার ভাতে-ভাত। সারা সপ্তাহ প্রচুর মাছ মাংস খাই। তাই ছুটির দিনে সংযম।
একটার মধ্যে খাওয়া হয়ে যায়। দেড়টার সময় আমি গভীর ঘুমে চলে যাই। ঘুম থেকে উঠি পাঁচটা সাড়ে পাঁচটা।
আমার ঘুম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। শুলেই ঘুমাতে পারি। টেনশনহীন জীবন। কিন্তু আজ ঘুম এল না। আর ঠিক দুটোর সময় নীচের ডোরবেল বাজতে শুরু করল। একবার, দুবার, আমি না শোনার চেষ্টা করে বিছানায় চুপচাপ পড়ে থাকলাম। আবার বেল বাজছে। আবারও। যেন নাছোড় বাজিয়েই চলেছে। বাধ্য হয়ে উঠলাম। কোন শালা, এই ভরদুপুরে!
দোতলা থেকে নীচে গেলাম। দরজা খুলেই দেখি মুনিয়া।
তুমি!
কেন? আমি তো সকালে চলে গেলাম। আবার এলাম। সরো, ভিতর ঢুকতে দাও।
ভিতরে ঢুকতে দাও মানে?
আমি ভিতরে যাব, সরো। কথা শেষ করে মুনিয়া আমাকে পাশ কাটিয়ে সত্যি সত্যি ভিতরে ঢুকে পড়ল। তারপর সিঁড়ি বয়ে দ্রুত ওপরে।
সকালে পরনে ছিল জগার, এখন ছেঁড়া ফাটা জিনস, আর টিশার্ট।
আমি ওপরে উঠে দেখলাম আমার বোতল উঁচিয়ে জল খাচ্ছে। বলল, 'তুমি তো ছুটির দিন সেদ্ধ ভাত খেয়ে দুপুরে ঘুমাও।'
আমি ঠান্ডা গলায় বললাম, 'বাড়াবাড়ি করো না, চুপ করে বসো।'
'তোমার এখন ঘুমানোর টাইম, আমি চুপ করে বসব কেন? আশ্চর্য! চলো ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।'
'তুমি কী চাও? কে তোমাকে পাঠিয়েছে?'
মুনিয়া ঘাড় কাত করল, 'আমি কী চাই আগেই বলেছি একটা মার্ডার করব। তার প্ল্যান চাই। পারফেক্ট প্ল্যান। আমার আগেরগুলোর কোনও ঝামেলা হয়নি। এটাও নির্বিঘ্নে করতে চাই। তোমাকে সেই খুনের প্ল্যানটা করে দিতে হবে।'
'বাজে বকোয়াস বন্ধ করো। তোমাকে কে পাঠিয়েছে?'
'আমি নিজে তোমাকে খুঁজে বের করেছি। সব ক্রেডিট আমার।'
'আমি তোমাকে ব্যালকনি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারি, জানো।'
'সে তুমি করবে না। ছুটির দিনে রান্না করার পরিশ্রমের ভয়ে তুমি সেদ্ধ ভাত খাও। আমাকে নিয়ে ছোড়াছুড়ি করতে তোমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।'
'তুমি কেন এসেছ? এক্ষুনি চলে যাও।'
'তাড়িয়ে দেবে? আমি তোমাকে বলেছি, আমার আত্মসম্মান বড্ড বেশি। আঘাত করো না, সামলাতে পারবে না। তাই যা বলছি, চুপচাপ মেনে নাও। আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নাও। তোমার বয়েস এক বছর পরে ষাট হবে। আমার বয়েস পুরো ত্রিশ। তোমার হাফ। এই বয়েসে এসে অত কম বয়েসি মেয়ে তুমি পাবে না। আমি তোমার সবটা জানি। আমাদের জুটি কিন্তু দারুণ হবে।'
'কী?'
'জুটি!'
'কীসের জুটি?'
'খুনের জুটি। আমার তিন থেকে চার হবে। তোমার চার কমপ্লিট করা।'
'বাজে কথা বন্ধ করো।'
'কার বাজে কথা? তোমারটা? ঠিক আছে আমি মেনে নিলাম। কিন্তু আমারটা বাজে নয়।'
'ওফফ! তোমার কি মাথার গন্ডগোল আছে?' আমি নিজের অজান্তে দু-হাত ছুঁড়লাম। পরক্ষণে নিজেকে বললাম, কুল, কুল!
'কোথাও কোনও গন্ডগোল নেই। শুয়ে দেখে নাও। আমি একদম টাটকা। সতেজ। চলো বিছানায় চলো, আমি নিজে তোমাকে চেক করিয়ে দেব।'
'দেখো, আমার হারানোর কিছু নেই। আমার সাতকুলে কেউ ছিল না, এখনও কোনও পিছুটান নেই। আর আমি মরতে ভয় পাই না।'
'হঠাৎ এসব কথা বলছ কেন? মরতে ভয় পাও না, অথচ আনন্দ করতে ভয় পাও। চলো বিছানায় চলো।'
'তোমার কি এইডস আছে? আমার সঙ্গে শুয়ে অসুখ দান করে যাবে।'
'এইডস! না, আমার কোনও অসুখ নেই। তোমাদের গুরুজি অসীমানন্দেরও এইডস ছিল না, কিন্তু প্রচার ছিল। মালটা প্রচুর মেয়ের সর্বনাশ করেছিল। শেষে তো শুনলাম সুইসাইড করেছিল। সরি, সুইসাইড করেনি, করানো হয়েছিল। বাধ্য হয়েছিল। আর সেটা তুমি করিয়েছিলে। একা থাকত, ভয় পেত। ভয় পেয়ে মরে গেল। ভালো করেছ, একটা পাপ সরিয়ে দিয়েছ।'
'ওসব আমি জানি না।'
'তুমি সব জানো। ন্যাকামো করো না। আমি জানি আর তুমি জানবে না, তা হতে পারে? এটা তোমার স্কিম। গুড প্ল্যান। আর ওই রেকর্ড কোম্পানির দুজন কার অ্যাক্সিডেন্টে মরেছিল। এই প্ল্যানে বহুত খেলা হয়েছে। মাস্টার টাচ কিছু নেই। যাক কাজ সেরেছ, এটাই বড় কথা। চারটে কেসই সাকসেসফুল। একশোয় একশো! গুড বয়। গুড বয় এবার বিছানায় চলো তো দেখি, সব জেগে আছে না, ঘুমিয়ে পড়েছে? ভয় পেও না, আমার কাছে কনডোম আছে। আমি তোমাকে দিচ্ছি। এবার প্রশ্ন করবে তো কেন কনডোম রাখি? আমার বরকে বলতাম তোমার জন্য। তুমি তো কিনবে না, তাই আমি কিনে রাখি। আসলে, আমি দেখেছি, সেক্স হচ্ছে সবচেয়ে কম ইনভেস্টমেন্ট, যেখানে বেশি কাজ গোছানো যায়।'
আমি মেয়েটার দিকে দেখি। ও কথা শেষ করে আমার বেডরুমের দিকে চলেছে। যেতে যেতে টি-শার্ট খুলে ফেলেছে। ওর চকচকে ফরসা পিঠে ব্রায়ের কালো স্ট্র্যাপ আমাকে বিহ্বল করে দিল। যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো আমাকে টেনে নিল। কী আছে আমার? এত ভয় কীসের? আমি প্রথম প্রথম কিছুদিন কমলাকে দেখেছিলাম। কিন্তু কোনওদিন কমলার পিঠে এমন আহ্বান ছিল না। বিছানায় কোমর ঠেকিয়ে মুনিয়া জিনসের প্যান্টটা শরীর থেকে ছাড়িয়ে ফেলল।
আমি এসে দরজার সামনে দাঁড়ালাম।
মুনিয়া প্যান্টি আর ব্রায়ে আমার দিকে সোজা হয়ে দাঁড়াল। দেখলাম, চুলগুলোর বন্ধনও মুক্ত করে দিয়েছে। বলল, 'আমি কমলার মতো সুন্দরী নই। কিন্তু আমি বেশ ভালো, একবার ভরসা করে দেখো।'
আমি হাসলাম, 'তিন তিনটে মানুষ মারা খুনিকে বিশ্বাস? না, পারলাম না।'
মুনিয়া শান্ত মুখে বলল, 'আসলে ওই তিনজন আমাকে আগে মেরেছে। খুব কষ্ট দিয়ে মেরেছে। নাইলে আমি কোনওদিন একটা ইঁদুরও মারিনি। ইঁদুর কত বই কেটে দিয়েছে। কত জামাকাপড় কেটে দিয়েছে। তবু বিষ দিইনি। কল পেতে ধরে, বড় রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ছেড়ে এসেছে। আর ওসব কথা নয়, এসো আনন্দ করি। বহুদিন পরে নিজের পছন্দে সেক্স করব।'
'কেন তোমার বর?'
'হ্যাঁ, করত। মাঝে মাঝে আমাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে সেক্স করত। ওর কথায় হোটেলের ঘর না হলে ফেলে লাগানো যায় না। ওর বাড়িতে আমার ঢোকা নিষেধ। ওর মা বোন আমাকে পছন্দ করে না। আর আমার বাড়িতে আমার মা থাকে। মা আঃ উঃ শুনলে আমার বরের খারাপ লাগবে। তারপর, করতে করতে আমার বর খিস্তি দেয়, পেটেন্ট খিস্তি খানকি মাগি, আমার পাছায় চাপড় মারে। চুলের মুঠি ধরে আমার বিছানায় মাথা ঠুকে চাপড় মেরে চিৎকার করে বিচ! আমি কুত্তি। আমাকে হোটেলের ঘরের বিছানায় ফেলে কুত্তির মতো করে উপভোগ করে। ওর ভাষায় লাগানো। এতে নাকি খুব সুখ! বাদ দাও, আমার বরের কথা। সেক্স করার সময় মৃত মানুষের কথা আলোচনা করতে নেই। মৃত মানুষদের শরীর থাকে না, তাই সেক্স করতে পারে না। আমি বরের কথা ভাবছি না। তুমিও কমলার কথা ভেবো না। আমরা আলাদা মানুষ। দুজন দুজনের জন্য। এই ব্রা আর প্যান্টি তোমাকেই খুলতে হবে।'
'তুমি কী করে নিশ্চিত হলে আমি তোমার কথায় রাজি হয়ে শুয়ে পড়ব?'
'আজ রাজি নাহলে আপত্তি নেই। তোমাকে আমি স্মার্ট এবং ডেয়ার ডেভিল ভেবেছিলাম। কিন্তু তুমি হয়তো ওই কেসটা করে একটু বেশি সাবধানী হয়েছ। ঠিক আছে, আমি ওয়েট করব। আজ নাহোক কাল। কাল এসে তুমি ঝাঁপিয়ে পড়বে।'
মুনিয়া হাসল, 'পড়তেই হবে। তুমি তেমন মানুষ না।'
'তুমি নিশ্চিত?'
'হ্যাঁ।'
'তেমন মানুষ না বলতে? আমি কি রেপিস্ট? মেয়ে দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ি?'
'আমি সেকথা বলিনি। তুমি একজন মানুষের জন্য ওয়েট করে আছো, আদ্যোপান্ত তুমি একজন ভালোবাসার মানুষ, তেমন মানুষ পেলে তুমি সরিয়ে রাখবে না। আমি জানি কমলাকে তুমি কীভাবে উদ্ধার করেছ?'
'ওটা আমার কাজ ছিল।'
'কাজ তো উদ্ধার করা। কিন্তু মেয়েটাকে যে আড়কাঠি তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সে তো দুদিন ধরে ওর দফারফা করে দিয়েছিল। তারপর, এক রাত বেশ্যাবাড়িতে কজন ঢুকেছিল ওর ঘরে?'
'তুমি ফালতু কথা রাখো। এসব কথা কেউ তোমাকে খাইয়েছে— সেই শুয়োরের বাচ্চাটা কে? কার হয়ে তুমি কাজ করতে এসেছ?'
'গড প্রমিস, আমাকে কেউ পাঠায়নি। তোমার মোবাইলটা চেক করো, আমি আমার প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছি। তুমি হোয়াটসঅ্যাপ চেক করেনি, তাহলে দেখতে পেতে।'
আমি অবাক হয়ে মেয়েটার দিকে তাকালাম, কী মেয়ে রে!
মুনিয়া হাসল, 'তুমি সব দেখে নাও, আমি কে? কী আমার পরিচয়? আমার এডুকেশন কোয়ালিফিকেশন পাঠাব? নো প্রবলেম। সব দেখে নিয়ে তুমি আমার সঙ্গে শোয়। শুতে কিন্তু তোমাকে আমার সঙ্গে হবেই। কারণ, আমার মতো কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না। আর তুমি মনে এই অতৃপ্তি নিয়ে মরে যাবে। প্রেত হয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াবে সেটা আমার কষ্ট হবে।'
'সেক্সে আমার কোনও অতৃপ্তি নেই। আমি ইচ্ছে করলেই প্রতি রাতে নতুন মেয়ে জোটাতে পারি।'
'পারো, কিন্তু তারা কেউ তোমাকে ভালোবেসে শরীর দেবে না। বাদ দাও ভালোবাসা, এক ফোঁটা সম্মান করেও তোমাকে শরীর দেবে না। কী পাবে তুমি? তার থেকে একটা কোরিয়ান সেক্স ডল আনিয়ে নাও। তার মন নেই, তাই সেটা পাওয়ার আশাও থাকবে না।'
'আমি কী করব সেটা আমাকে ঠিক করতে দাও।'
মুনিয়া হাসে, 'সেটা তুমি ঠিক করো। কিন্তু আমার একটা কাজ করে দাও।'
'কি ব্রায়ের হুক খুলে দিতে হবে?'
'না, না, আমি নিজের বুদ্ধিতে তিনটেকে হাপিস করে দিয়েছি, আর ব্রায়ের হুক খুলতে পারব না? তুমি আমাকে একটা বিয়ার দাও।'
আমি ঘরের বাইরে গেলাম। ফ্রিজ খুলে একটা বিয়ার নিয়ে এলাম।
'তোমার জন্য আনলে না?'
'আমি খাব না।'
মুনিয়া বিয়ারের ক্যানটা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াল, আর ওর ব্রা খুলে পড়ে গেল। ব্রা খুলে ও বুকের সামনে চাপা দিয়ে রেখেছিল, এখন হাত সরাতেই সেটা খসে পড়ল। ধড়াস করে ভেঙে পড়ার ভাব করে ওর দুটি স্তন আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে থাকল। স্তনবৃন্তে কমলা রং। উফফ কমলা কেন? মুনিয়া স্তনবৃন্তে গোলাপি আভায় টসটসে। কমলার কথা মনে পড়তেই আবার আমার মাথার ভিতর কেমন দপ দপ করে উঠল। আমি এক কদম এগিয়ে এলাম। আমি আমার তর্জনী স্পর্শ করলাম মুনিয়ার স্তনবৃন্তে। ছুঁয়ে থাকলাম। তিরতির করে কাঁপছে। ক্রমশ গোলাপি স্তনবৃন্ত রং পরিবর্তন করছে, গাঢ় রঙে সেজে উঠছে। কঠিন হয়ে সে যেন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে আমার তর্জনীকে। তার কাঁপনে আমার আঙুলে বিদ্যুৎ। চূড়ান্ত তার আহ্বান— তোমার আঙুলে হবে না, জিব দাও, দাঁত দাও। এসো।
মুনিয়া অদ্ভুত সুখে চোখ বন্ধ করছে, পর মুহূর্তে খুলছে। যেন দেখে নিতে চাইছে, ষাট ছুঁই ছুঁই একটা কুপুরুষ কেমন করে গোলাপ বনের এই কাঁটার খোঁচায় কতক্ষণ বাঁচে!
আমি মুনিয়ার স্তনে জিবের ডগা স্পর্শ করতেই সে আমার একটা হাত নিয়ে গিয়ে রাখল তার যোনির ঢেউয়ের ওপর। বলল— মুক্ত করো!
আরে পাগলি আমি কি মুক্ত করার মালিক?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।