তৃতীয় অধ্যায়

জয়ন্ত দে

টোস্ট, অমলেট এবং চা করে নিয়ে এসে দেখলাম মুনিয়া সোফার ওপর কাত হয়ে ঘুমাচ্ছে। প্রথম ঝলকেই ওকে কেমন পুশি বেড়ালের মতো লাগল। তখনই দেখলাম, ও যখন এখানে ঢুকেছিল, পরনে ছিল জগার আর একটা ধূসর রঙের জ্যাকেট। তার ভিতর দিয়ে সাদা রঙের টিশার্ট বা ইনার উঁকি মারছিল। এখন সোফার ওপর কাত হয়ে থাকা মুনিয়াকে দেখলাম, ছোট্ট প্যান্ট আর সাদা রঙের টিউব। পা দুটো সোফার ওপর তুলে, গুটিশুটি মেরে।

আমি টি টেবিলের ওপর খাবারগুলো রাখলাম। আর সেটা বেশ শব্দ করেই। ভেবেছিলাম, এটুকু আওয়াজে উঠবে না, চা খাবার ঠান্ডা হওয়ার আগে ডাকতে হবে। কিন্তু সামান্য আওয়াজেই দু-চোখ খুলেই সোজা হয়ে বসল। বলল, 'ব্রেকফাস্ট রেডি! নাও খাওয়া শুরু করো।'

আমি ওর খাবারটা এগিয়ে দিলাম। নিজের খাবারটা টেনে নিলাম, ওর দিকে না তাকিয়েই খাওয়া শুরু করলাম। মুনিয়া চায়ের কাপে প্রথমে লম্বা একটা চুমুক দিল। বুঝলাম, এটাতে গলা ভেজাল। তারপর দুটো টোস্ট ও অমলেট দ্রুত খেয়ে নিল। খিদে পেয়েছিল। রাতে কি কিছু জোটেনি নিশ্চয়ই? তাহলে কি আমার অমলেটটা এগিয়ে দেব? আমি দুটো টোস্টই চিবাচ্ছিলাম। আগে খুব হুটপাট করে খেতাম। কমলা এই তাড়াহুড়ো করে খাওয়া একদম পছন্দ করত না। বলত, উত্তমকুমারের খাওয়া দেখেছ, কী সুন্দর করে খায়। আমি হাসতাম, আমি তো উত্তমকুমার নই। কমলা মুখ ঝামটা দিত, তুমি উত্তমকুমার নও সেটা আমি জানি। আর তোমাকে উত্তমকুমার হতেও বলিনি। শুধু বলেছি, খাওয়াটা আস্তে আস্তে খাও, একটু গুছিয়ে ভদ্রভাবে। সেই থেকে আস্তে আস্তে খাই, ভদ্রভাবে। আমার ভাগের অমলেটটা এখনও আছে। আঙুলের টোকায় ওটা এগিয়ে দিলাম। চায়ের কাপটা টেনে নিলাম।

মুনিয়া আমার দিকে তাকাল। বলল, 'কী গো আমাকে কি তুমি রাক্ষস পেয়েছ? দুটো টোস্ট অমলেট খেলাম, আবার অমলেট?'

আমি ঘাড় নাড়লাম, 'খেয়ে নাও। খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই। কাল রাতে তো খাওনি।'

'কাল রাতে খাইনি! কেন? কাল রাতে তো দিব্যি খেয়েছি। চিলি চিকেন, রুটি।'

'ওহ আচ্ছা।'

'দাও, ভালোবেসে দিচ্ছ যখন, খেয়েই নিই।' প্লেটটা টেনে নিয়ে খেতে শুরু করল। বলল, 'আজ প্রচুর হেঁটেছি। মর্নিংওয়াক। যেটুকু ক্যালরি ঝরালাম, তা আবার।' কথাটা শেষ করল না, হি হি করে হাসল। বলল, 'শোনো, ভালোবেসে যা দেবে, সব খেয়ে নেব।'

আমি একটা সিগারেট ধরালাম। বলতে হল না, মুনিয়া আমার প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরিয়ে নিয়ে গুছিয়ে বসল। পারলে আমার মুখের ওপর সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ে।

আমি ভাবলাম, জিজ্ঞাসা করি, আমার কাছে আসার কারণ কী?

কিন্তু এটা নার্ভের খেলা, ও একটা ঘুঁটি চাললে, আমি চাল দেব। আমি জিজ্ঞাসা করলে ও উত্তর দেবে। কিন্তু আমি না জিজ্ঞাসা করলে ও কোথা থেকে শুরু করে দেখি। তাহলে চাল ও আগে দিক।

মুনিয়া বলল, 'নিজে নিজে অনেক চেষ্টা করলাম, হল না। পারলাম না। তাই ভাবছি তোমার হেল্প নেব।'

আমি ওপর দিকে ধোঁয়া ছাড়লাম। আচ্ছা, হেল্প, মানে সাহায্য নিতে এসেছে। এটা একটা স্কিম। বাচ্চা মেয়ে!

মুনিয়া বলল, 'কদিন ধরেই আসব আসব করছি। কিন্তু তোমার কাছে এলে আমার কেসটা কেঁচে যেতে পারে। তুমি বহুত বুদ্ধিমান, তাই গোছাতে একটু সময় লাগল। তিন নম্বরটা হয়ে যেতেই এলাম। এখন আমি নিশ্চিন্ত। চার নম্বরটা হল আমার বোনাস। নাহলে ওক্কে।'

আমি ওর দিকে তাকালাম, যেন যা বলার তাড়াতাড়ি বলে ফেল। ঝেড়ে কাশ মা!

মুনিয়া বলল, 'ওরম করে তাকিয়ে থেকে লাভ হবে না, আমি খবর নিয়েছি, আজ তোমার ছুটি। তাড়াহুড়ো করে কিছু বলতেও চাই না, করতেও চাই না। আমি যেখানে যেখানে জলদিবাজি করেছি, হুটপাট করেছি, সেখানেই ঠকেছি। তাই পরের সব কাজ আমি খুব ধীরে সুস্থে করি, তা বলে স্লো নয়। ভুল করলে সংশোধন করে নিতে পারি। এই যেমন, তোমার কাছে আসব বলে ভাবছি, প্রায় ছ-মাস। তার মধ্যে ফার্স্ট লোকটা টপকে গেল। থার্ড লোকটার খবর যে কোনও দিন এসে যাবে। সেকেন্ড হয়ে গেছে। তারপর থার্ড লোকটা হয়ে গেল, তাই এলাম। আমার এখন সব চিন্তা ফোর্থটাকে নিয়ে। বড্ড চিন্তা। আসলে, পাখি হাতের বাইরে, আকাশে। আমি আকাশের পাখির দিকে টিপ করেছি।'

আমার সিগারেট শেষ। অ্যাসট্রেতে রাখলাম। বললাম, 'শোনো, আমার ছুটি বলে কিছু নেই, যে কোনও সময় বেরিয়ে যেতে হবে।'

'সে চলে যাবে। আমি তোমাকে আটকাব না। আমার আসা-যাওয়া চলতেই থাকবে। আমি বললাম না, তাড়াহুড়োর কিছু নেই। সব ধীরে সুস্থে হবে। রোজ একটু একটু করে।' কথাটা বলে মুনিয়া ঘাড় ঘোরাল। 'তোমার ফ্ল্যাটটা বেশ ভালো। বড়ও। কিন্তু এমন সবকিছু বন্ধ কেন? তুমি কি ভূতের ভয় পাও, নাকি চোর ডাকাতের ভয় পাও?'

অবান্তর কথার উত্তর হয় না।

মুনিয়া উঠল, বলল, 'ব্যালকনির দরজাটা খুলে দিলে পুরো ফ্ল্যাটটা আলো চমকাবে, হাওয়া খেলবে, অথচ তুমি বন্ধ করে রেখে দিয়েছে! আমি খুলে দিলাম।' মুনিয়া আমার দিকে ঘাড় ঘোরাল, 'তোমার বউ নিশ্চয়ই ভূত হয়ে তোমার ঘাড় মটকাতে আসবে না?'

আমি দাঁতে দাঁত চিপলাম। আগেই দেখেছি, মেয়েটা বড্ড বেড়ে খেলছে, কিন্তু এখন যেন একটু বেশি রকম।

মুনিয়া বলল, 'তুমি ডাকাতের ভয় করো না, যতই ডাকাতের গল্প দাও। সবাই জানে ডাকাতিটা বাজে কথা, ডাকাতটা তুমি। খুনিও তুমি, ডাকাতও তুমি।' মুনিয়া কথাটা থান ইটের মতো চার্জ করল।

আমি আড়মোড়া ভাঙলাম, 'তোমার কথা শেষ হয়েছে? আমি এবার উঠব?'

মুনিয়া শান্ত মুখে বলল, 'আমার কথা তোমার পছন্দ হল না, রেগে গেলে তাই তো? ঠিক আছে আর বলব না। ভাবিনি এটায় তোমাকে আঘাত করতে পারে। ভেবেছিলাম তুমি স্ট্রং ম্যান। নাহ আমি তোমার থেকে স্ট্রং। ঠিক আছে, এখন আমি চলে যাচ্ছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আমি আবার আসব। বেশি দূরে আমার বাড়ি নয়। তোমার পাটুলি, আমার অভিষিক্তা। আসা-যাওয়া চলতেই থাকবে।'

আমি উঠে দাঁড়ালাম। মেয়েটা ওর পায়ের কাছে গুটি মেরে ফেলে রাখা জগারটা তুলে আবার পরে নিল। জ্যাকেটটা চাপিয়ে নিল গায়ে।

উঠে দাঁড়াল।

আমি বললাম, 'তোমাকে কে পাঠিয়েছে? কেন এসেছ এখানে?'

মুনিয়া আবার বসে পড়ল সোফায়, 'আমি নিজের ইচ্ছেয় এসেছি। কেন এসেছি শুনতে চাও? আমি একটা খুন করতে চাই। মানে একজনকে মারতে চাই, কিন্তু কিছুতেই প্ল্যান করতে পারছি না। তোমার হেল্প চাই।'

'খুনি ধরা আমার কাজ। খুন করা নয়।' আমি শান্ত গলায় বললাম।

'খুনি ধরা তোমার প্রফেশন। কিন্তু আবেগে পড়ে তুমি খুন করতে পারো, সেটা আমি জানি। আর খুন করা আমারও প্রফেশন নয়। আমি আবেগে পড়ে করেছি। এখন লাস্ট একটায় এসে আটকে গেছি।'

'তুমি আগে খুন করেছ?'

মুনিয়া চুল ঝাঁকিয়ে বলল, 'পাগল আমি স্বীকার করি, আর তুমি আমাকে ধরে লক আপ করে দাও। আমি তোমার মতো, মজা নেব, স্বীকার করব না।'

'তুমি আমার মতো হতে পারবে না।'

'তুমিও আমার মতো হতে পারবে না।'

মুনিয়া চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ফিসফিস করে, 'আমি জানি তুমি খুব ভালোমানুষ। কিন্তু যতটা ভালোমানুষ, ততটাই ডেঞ্জারাস। আর তুমি যেটা দেখছ, আমি ততটাই সুন্দর, কিন্তু যা দেখতে পাচ্ছ না, আমি ততটাই হিংস্র। আমাদের দুজনের মিল হবে ভালো।'

'মিল!' আমি হাসলাম। 'তুমি কি আমাকে তোমার বিজনেস পার্টনার বানাতে চাও?'

'একদম নয়, ভালোবাসতে চাই।'

'বাচ্চা মেয়ে, বাড়ি বয়ে এসে বকবক করছে। যাও, কেটে পড়ো।'

'চলে যাব, তাড়িয়ে দিচ্ছ, আচ্ছা চলে যাচ্ছি। আমার আত্মসম্মান বড্ড বেশি। কেউ অপমান করলে তার ত্রিসীমানায় যাই না। তার সর্বনাশ করে ছাড়ি। কিন্তু তোমার জন্য সব মাফ। তোমার কথা আমি গায়ে মাখব না। কারণ, তুমি আমার কিছু জানো না। অথচ আমি কিন্তু পুরো হোমওয়ার্ক করে এসেছি। তোমার ডে টু ডে আমি জানি।'

আমি হাসি, 'আমাকে নিয়ে হোমওয়ার্ক করেছ!'

'আলবাত করেছি। যতটা আমার পক্ষে করা সম্ভব। তুমি যদি এখন বলো বলো, আমি কীভাবে আমার বউকে মেরেছি? না, আমি বলতে পারব না। ওসব কথা তুমি নিজেই একদিন আমাকে বলব। না বললেও আমার কিছু আসে যায় না। আই লাভ মার্ডারার।'

আমি হাসলাম, হেসে বললাম, 'তুমি আচ্ছা পাগল তো, তুমি আমাকে খুনি বানাচ্ছ, আবার তুমিই আমাকে ভালো মানুষ বলছ? দুটো একসঙ্গে কী করে হয়?'

মুনিয়া আমার দিকে স্থির চোখে তাকাল। কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াল। বলল, 'তুমি তোমার বউকে খুব ভালোবাসতে। তাই তার মৃত্যুর দায়িত্বটা অন্যের হাতে দাওনি। আমি জানি, তুমি চেষ্টা করলে হাজার একটা খুনে ডাকাতকে ফিট করে কাজ শেষ করতে পারতে। তা করোনি। কারণ, দুটো। প্রথম কারণ, তারা কতটা কষ্ট দিয়ে মারবে তা তুমি জানো না। তুমি এক ঘায়েই শেষ করে দিয়েছ। এভাবে তুমি এর আগে একজন মাওবাদীকে মেরেছিলে পুরুলিয়ার জঙ্গলে। ছেলেটার নাম রাজেন। তোমার ফাইলেই আছে। খুব গোপন কিছু নয়, তবু হুট করে তোমাকে জিজ্ঞাসা করলে তুমি নাম বলতে পারবে না। আমি কিন্তু মনে রেখেছি। দ্বিতীয় কারণ, যে মারবে, সে অত সুন্দর শরীরটা হাতের মুঠোয় পেয়ে ছেড়ে দেবে না। ভোগ করবে। যাকে বলে রেপ। একজন দুজন যারাই খুন করতে আসবে তারাই আগে কমলাকে ফেলে লাগাবে। ইয়ার তোমার কমলা বহুত সেক্সি। এমন শরীর পেলে কোনও পুরুষ মাথা ঠিক রাখতে পারে? আর ওদের কাছে তো খুন করার ছাড়পত্র রয়েছে। ওরা কি একবারও ভাবত না, মারার আগে একটা রেপ হয়ে যাক।'

'স্টপ!' আমি ঠান্ডা গলায় বলি।

'ওক্কে।' মুনিয়া দু-হাত মাথার ওপর তুলল। 'আমি থেমে গেলাম। আমি ওই সময়কার সব কাগজগুলো খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি। তোমার ডিপার্টমেন্টের লোকজনের থেকেও জেনেছি। এগুলো আমার মনগড়া নয়। আমি শুধু ভেবেছি। আর একটা কথা বলব।'

আমি ওর দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে থাকি। মনে হচ্ছিল, ওর গালে একটা চড় কষাই। মাথাটা ধরে দেওয়ালে ঠুকে দিই। কিন্তু মাথার ভিতর যতই দপ দপ করুক নিজেকে ঠান্ডা রাখি। 'তোমার প্রলাপ শোনার সময় আমার নেই। তুমি এবার কেটে পড়ো।'

'তাহলে কী পরে বলব? ছোট্ট একটা পয়েন্ট, বলেই যাই। নাহলে পেটের ভিতর গুড়গুড় করবে। তাছাড়া আবার পরে কেন এসব তেতো কথা তুলব, যা হচ্ছে হয়ে যাক। তেতো দিয়ে শুরু হলে শেষে মিঠে হবে। বলি তাহলে, তুমি আগের দুটো দিন মোট ছজন বাইরের লোক ঢুকিয়েছ তোমার ফ্ল্যাটে। কাঠের মিস্ত্রি এসেছিল দুজন। রঙের মিস্ত্রি একজন। তিনজন ব্রোকারকে ডেকে ডেকে এ-ঘরে ও-ঘরে ঘুরিয়েছিলে। বলেছিল, ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেবে। ওদের হাতের ছাপ তোমার ঘরের সর্বত্র পাওয়া গেছে। ওদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও চলেছে বিস্তর। তুমি কিন্তু ওদের সম্পর্কে ভালো সার্টিফিকেটই দিয়েছে। ওরা দু-চারদিন ফালতু হ্যারাসমেন্ট সহ্য করেছে তোমার জন্য। পরে তুমি ওদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছ। কাঠের মিস্ত্রি ও রঙের মিস্ত্রিদের কিছু করে টাকাও দিয়েছ। ব্রোকারদের কী দিয়েছে খোঁজ পাইনি। ব্যস আমার কথা আপাতত শেষ, আমি চলে যাব। আমি তোমার কোনও ক্ষতি করব না, তুমিও আমার পথে পড়বে না। শুধু আমাকে একটা প্ল্যান করে দেবে।

আসলে আমি যাকে মারতে চাইছি, আমার কেন জানি না তার প্রতি একটা সফট কর্নার আছে। তাই আমার মাথায় ঠিক প্ল্যানটা খেলছে না। তুমি পারবে। কেন না, সে তোমার কাছে একটা সাবজেক্ট ছাড়া আর কিছু নয়। তাহলে এখন আমি আসি। নাও, আমাকে একটা চুমু খাও।'

আমি কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি।

'কী হল খাও। দাঁড়িয়ে থাকলে কেন? পরে কিন্তু এই একটা চুমু খাওয়ার জন্য সবসময় তোমার ঠোঁট সুড়সুড় করবে। নাও, চলে এসো।'

আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমি ইচ্ছে করলে ওকে দু-হাতে তুলে ছুঁড়ে ফেলতে পারি।

'ও হো তুমি আসবে না। লজ্জা নয়। এটা তোমার ভালোমানুষি। এই করেই তুমি মরলে। নাও, আমিই শুরু করলাম, প্রথম চুমুটা আমিই তোমাকে খাচ্ছি।'

মুনিয়া এগিয়ে এসে সত্যি সত্যি আমার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু খেল। তারপর চলে যেতে যেতে বলল, 'আমি কিন্তু চোখ বন্ধ করে তোমাকে চুমু খাইনি। তোমাকে কমলা চোখ বন্ধ করে, কিংবা অন্ধকার ঘরে চুমু খেত। তুমি আগের থেকে অনেক বুড়ো হয়ে গেছ। দেখতে আরও খারাপ হয়েছ। স্বাভাবিক, তুমি যতই লুকানোর চেষ্টা করো, তুমি কমলাকে ভালোবাসতে। নিজে হাতে তাকে মারার চাপ আছে বস। সেটা তুমি নিয়েছ। তার ওপর তোমার গান্ডু কলিগগুলো কেস দিল, সেটাও সামলালে, চাপ তো থাকবেই। সেই চাপের ছাপ আছে তোমার শরীরে। কিন্তু আমি চোখ খোলা রেখে তোমাকে চুমু খেলাম। মন থেকেই খেয়েছি। সে তুমি আমার প্ল্যান না করে দিলেও লাভ ইউ বেবি।'

শালার মাগি আমাকে বেবি বলছে, মুনিয়া ঝড়ের মতো চলে গেল। খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম। মুনিয়া কি সত্যি সত্যি নিজের নাম বলছে? মুনিয়া কে?

আমি ঝটফট ফেসবুকে ঢুকে ওকে খুঁজতে শুরু করলাম।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%