জয়ন্ত দে
আমি ধূমকেতু রাহা। আমার গায়ের রং ঠিক কালো নয়, কেমন যেন পোড়া পোড়া, কেউ বলে ময়লা, কেউ বলে জং ধরা। আমার গায়ের রঙের মানুষ হঠাৎ পাবেন না। লাখে একটা। কী জানি, হয়তো আমার গায়ের রং এমন বলেই আমার নাম রাখা হয়েছিল ধূমকেতু।
দেখুন, গায়ের রং নিয়ে আমার কোনও হেলদোল নেই। আমার ঠাকুমা বলত, ব্যাটাছেলে সোনার আংটি! তার আবার বাঁকা টেরা! আমার দিকে ভালো করে তাকান। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারবেন না। আমার মুখের গড়ন লম্বা। ঘোড়ার মতো। কিন্তু সেটাই শেষ নয়। বয়েস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার গালের চামড়া কেমন যেন কুঁকড়ে গিয়েছিল। একে মুখের ভিতর ঢোকা গাল, তারওপর ন্যাপকিনের মতো গুটিয়ে যাওয়া গালের চামড়া, এই সব মিলিয়ে আমি কিন্তু একটা বেশ ভয় ধরানো প্যাকেজ।
কিন্তু আমার শরীরে এক ফোঁটা মেদ নেই। আমার সারা শরীরে হাড় আর মাংসের এমন সুষম বণ্টন মাঝে মাঝে আমি এ কারণেই আমার জন্মদাতা পিতা মাতাকে কুর্নিশ করি।

আমার চেহারা, মুখ দেখেই অনেক আসামী ভয়ে প্যান্টে পেচ্ছাপ করে ফেলত। ভাবত আমি কী না কী? তবে সত্যি আমি কী একটা যেন ছিলাম! কোনও আসামিকে মারার সময় আমার হুঁস থাকত না। এক একসময় মনে হত, মেরে দিই শালাকে, টিপে মেরে দিই। এত সুন্দর চেহারা নিয়ে এমন জঘন্য অপরাধ কেন করে?
পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিতাম। মনে হত, একটা অসুন্দর চেহারা নিয়ে আমি কি কোনও মানসিক সমস্যায় ভুগছি? নিজেকে নিজেই বোঝাতাম। আরে আমি যদি আফ্রিকায় জন্মাতাম, তবে আমি সুন্দর পুরুষ। সুন্দরের সংজ্ঞা কী? কেউ স্পষ্ট করে বলুক আমায়। কেউ বলেনি আমাকে সবাই এড়িয়ে গেছে।
কমলাকে নিয়ে যখন ওর বাবা গোলমালে পড়েছিল। মাতৃহীন গরিব কমলাকে পাড়ার একজন আড়কাঠি তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তখন ওকে আমি উদ্ধার করি। সে রাতে একটাকে ঠ্যাঙে গুলি করে, একটাকে মেরে হাড়গোড় ভেঙে আমি কমলার হদিশ পেয়েছিলাম।
কমলা জলপাইগুড়ির মেয়ে। ওর বাবা মেয়ে নিয়ে আতান্তরে পড়েছিল। দু-রাত্রিতে, পাচার হওয়ার আগেই ওর অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। যারা পাচার করবে, তারাই ওকে ভোগ করে লাট করে দিয়েছিল। ধস্ত, মৃতপ্রায় মেয়েকে হাতে পেয়ে ওর বাবা ভাবছিল ওকে নিয়ে কী করবে। সমাজ সংসার। তখনই আমি দুম করে বলে বসি, আমি বিয়ে করব। দেবেন?
পুলিশে চাকরি করি, সরকারি চাকরি। ওর বাবা এক পায়ে রাজি।
কমলা তখন রোগা ছিপছিপে একরত্তি মেয়ে। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিল আমার দিকে। কৃতজ্ঞতায় ওর মাথা নুয়ে, ওর চোখে মুখে অপার খুশি। ওর চোখে আমি ঠিক অসুন্দর ছিলাম না। আমার একটা হিরো হিরো ইমেজ ছিল। ও খুব খুশি হয়েছিল। বরং ও যেন বেঁচে গিয়েছিল। তখনও কমলা সুন্দরী ছিল। কিন্তু এমন ডানাকাটা নয়, পরে বিয়ের জল, মদনজল, সেই জল পড়তেই কমলা অদ্ভুতভাবে ডানা মেলল। খোলতাই হল। যত দিন গেল ওকে দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। কী রূপ! আহা! এই কমলাকে কি আমি বিয়ে করেছিলাম। এ তো সে নয়, সেই রোগা রোগা হাঁসের মতো ফ্যাক ফ্যাকে ফরসা, ভাঙা গাল, শুধু দু-চোখ ভাসা ভাসা। এক মাথা এলোমেলো চুল, যেখান সেখান দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। তবে আগাগোড়াই ওর টানটান চেহারা। যেমন মাই, তেমন পাছা! যেন পুরো শরীরের ভিতর বিদ্রোহ ঘোষণা করে জেগে আছে। একবার এক পার্টিতে ওকে বিউটিপার্লার থেকে সাজিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওকে দেখে চোখ ঠিকরে গিয়েছিল আমার সিনিয়ার সাহেবদের। তারা কাতর গলায় চিঁ চিঁ করছিল। যে কোনও সুন্দর মেয়ে দেখলেই ওরা এমন করে। যেন ওদের ভোগে লাগার কথা ছিল, ফসকে গেছে। যেন ওদের বিছানা গরম করার কথা ছিল, অন্য জায়গায় পোস্টিং হয়ে গেছে।
কমলা যত সুন্দরী হল তত পালটে গেল। ওকে দেখি আর অবাক হই। সেই সঙ্গে কমলা বুঝল, সে সুন্দরী, ডানা কাটা সুন্দরী। আর আমি কুৎসিত।
কেন না তারপর থেকেই ও রাতে শুয়ে আগে আলো নিভিয়ে দিত। হয়তো তার এমন সুবর্ণ শরীরের পাশে পোড়া কাঠের মতো আমাকে দেখে তার নিজের জন্য কষ্ট হত। সেই কষ্টে আলো বন্ধ করা। আমি সব বুঝতাম, কিন্তু কোনওদিন কিছু বলিনি। বিষয়টা তো সত্যি। আর আমি জোর করে এই সত্যিকে চাপা দেব কী করে?
তবে প্রশ্রয়ও দিতাম না। বিছানায় পেলেই ওকে নগ্ন করে দিতাম। যাকে বাংলা ভাষায় বলে ল্যাংটো। সেই উদোম শরীরটা নিয়ে আমি যেমন খুশি তেমন খেলতাম। নিজে সুন্দরী বুঝে ওঠার পর ও ঠিক যেন সায় দিত না। কেমন একটু আড়ষ্ট হয়ে থাকত। হয়তো ওর মনে হত, ও একটা সুন্দর শরীরের মালকিন, অথচ শুয়ে আছে একটা কালো নেকড়ে বাঘের সঙ্গে।
এই কালো নেকড়ে বাঘের সঙ্গে আমাকে তুলনা করেছে মুনিয়া। একদিন আমার নীচে শুয়ে শুয়ে বলেছিল, 'তোমাকে কালো নেকড়ে বাঘের মতো লাগছে!'
কালো নেকড়ে বাঘ!
কমলাও অন্ধকারে না দেখতে পেলেও কি তাই ভাবত?
তবে শরীর তো সুখ চায়, শরীরী-সুখ, সেটা আমার মতো কে ওকে ভালো দেবে। ও বুঝল, অন্ধকারের অতলে যেটা হচ্ছে, সেটার জন্য ওর শরীর উন্মুখ হয়ে থাকে। আমি টানলেই ও পিচ্ছিল হয়ে যেত। আমি টানলেই ও সব আলগা করে দিত। আমি শুধু মুক্ত করে দিতাম। দুর্দান্ত তালমিল। শরীর যেন শরীরের সঙ্গে বাজত। ঝমঝম করত।
কলেজে পড়ার সময় বন্ধুরা একটা কথা বলত— কানা খোঁড়া নূরজাহান/ অন্ধকারে সব সমান।
এটা সম্পূর্ণ ছেলেদের ভাবনা। হয়তো ছেলেদের মতো করে কমলাও এই ভাবনাটা ভাবত। তাই ও কোনওভাবেই আলো জ্বালাতে দিত না। আমিও তাল কেটে যাওয়ার ভয়ে আলো জ্বালাতাম না। মাঝে মাঝে মনে হত, আমাদের বুঝি ভালোবাসা নেই, যা আছে সব বিছানা। নিজেকে প্রবোধ দিতাম, ভালোবাসা নাই থাক, এটুকু তো পেলাম।
কমলা শরীর নিয়ে, মানে শরীর দিতে কোনও কৃপণতা করে না, সাজিয়ে দেয়। চেটেপুটে ভোগ করে, নিংড়ে নেয়। আর একটা কথা, ওকে কোনওদিনই অন্য পুরুষের দিকে আকৃষ্ট হতে দেখিনি। দেখিনি বললে আবার ভুল হবে, প্রথম দেখেছিলাম গুরুজি অসীমানন্দের দিকে অদ্ভুত চোখ করে তাকাতে।
আমাদের নিঃসন্তান জীবনে আলো বাতাস হয়ে ঢুকে পড়েছিল সুর, গান। ও সারাদিন গান নিয়ে মেতে থাকত। কিন্তু কোনওদিনই বেচাল দেখিনি। হয়তো ওর আশপাশে যারা আসত, তারা আমার ভয়ে ওকে খুব সন্তর্পণে এড়িয়ে চলত। নাহলে আগলে রেখে আমার মন জয় করত।
আমি বেশ রিলাক্স ছিলাম।
কিন্তু গোলমাল হল যেদিন অসীমানন্দ একটা অনুষ্ঠানে ওর গান শুনে বললেন, 'আপনি পরিশ্রম করুন। আপনার কণ্ঠে সরস্বতী আছেন, তিনি চাপা পড়ে আছেন, তাঁকে উদ্ধার করে আনুন।'
সেদিন থেকেই কমলা বিভ্রমে পড়ে গেল। সত্যি বলতে কি শুধু কমলা কেন আমিও এই বিভ্রমের শিকার। সারা রাত এক অনির্বচনীয় আনন্দে ঘুম হল না। মনে হল, উনি যখন বলছেন, তখন মিথ্যে কেন হবে? আহা! সেটাই কাল হল। গুরুজি কাউকে 'আপনি' ছাড়া কথা বলেন না। কমলাকেও 'আপনি' 'আজ্ঞে' করেন। বিভ্রম তো হবেই!
সেই বিভ্রম কাটল মৃত্যুতে। আমাকে খুন করতে হল কমলাকে।
কমলা বুঝেছিল, গান নয়, কণ্ঠ নয়, ওর শরীরেই আসল ম্যাজিক। এই শরীরেই সরস্বতী খুঁজছেন অসীমানন্দ, এই শরীরেই রেকর্ড কোম্পানির রত্নেশ্বরবাবু, উৎপলবাবুরা ডুবে মরছেন।
হয়তো আরও আরও বাবুরাও আছেন ,খবরের কাগজের প্রসাদ পাওয়া এক কর্তার নাম পেয়েছিলেন। কাদা আমি ঘুলিয়ে তুলিনি। সামান্য ইটও ছুঁড়িনি নোংরা কাদার দিকে। আমি জানতাম, নোংরা কমলার গায়েই বেশি লাগবে। তাই ডাকাতির কেস সাজিয়েছিলাম। ডাকাত এল লুঠ করল, লুঠ করতে গিয়ে মালকিনকে খুন করল।
প্ল্যান পাক্কা ছিল।
তাই জন্যেই আজ বেকসুর খালাস। কিন্তু আমার কয়েকজন হারামি কলিগ কিছু প্রশ্ন তুলল, সেই প্রশ্নের জুতসই উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই তিন মাস জেল খাটতে হল, চার বছর সাসপেন্ড হলাম।
যাই হোক, সব ভালোয় ভালোয় মিটে গেছে। কমলা গেল। তার পাঁচ বছর পরে রত্নেশ্বর-উৎপলবাবু। তার একবছরের মাথায় গুরুজিকেও পাঠিয়ে দিলাম। চ্যাপটার ক্লোজড।
এখন নিয়ম করে অফিস করি। আগে ঘুষ খেতাম না। যা ভাগ পেতাম সেটুকুই নিতাম। আলাদা কোনও চাহিদা ছিল না। এখন বড্ড ঘুষ খাই। রটে গেছে, আমার টাকার খুব খাঁই। ঠিকমতো কেস পেলে গলায় আঙুল দিয়ে টাকা আদায় করি। তাই ওপর মহল আমাকে খুব পছন্দ করে। যত দামি কেস, সব আমার দিকে পাঠিয়ে দেয়। সেই হারামি কলিগরা এখন আমাকে আরও ঈর্ষা করে। আড়ালে নাকি বলে ভাগ্যবানের বউ মরে।
কেন না বউ মরতে আমি ডাইরেক্ট ঘুষখোর হলাম। এখন ঘুষখোর নই, টাকা তৈরির মেশিন হয়ে গেছি। আগে ওরা, আমার কলিগরা আমাকে নিয়ে হাসত। সে গল্প তো বলাই হয়নি। সে গল্পটা পরে বলব। দুর্দান্ত একটা গল্প আছে। এখন হাসে না। ওরা সত্যিটা জানে। এখন আমার অফিস আর বাড়ি। বাড়িতে দামি দামি মদ থাকে। সব ভেট পাই। নাহলে কিনি। কাউকে ডাকি না। এক পেগ মদ খাওয়াই না। সবার প্রশ্ন আমার কামানো টাকা নিয়ে আমি কী করব? জুয়া খেলি না, খানকিবাড়ি যাই না। নেশা বলতে মদ। আমার সাতকুলে কেউ নেই। ওদের খুব চিন্তা আমার টাকা নিয়ে। কেউ কেউ টাকার হদিশ পেতে আমার কাছে রামকৃষ্ণ মিশন সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছিল, ভারত সেবাশ্রম সম্পর্কে জানতে চাইছিল। তার মনে করে, আমি অনুতপ্ত। অনুশোচনায় আমি টাকাপয়সা সব ওখানে দানধ্যান করি। যদি দানধ্যান করি, তাহলে আমার কাছে ওখানকার খোঁজখবর থাকবেই। কেউ কেউ বলেছিল, আবার বিয়ে করুন ধূমকেতুবাবু। আমি বলেছি, করব, রিটেয়ার করে, যখন ঘরে থেকে বউ সামলাতে পারব। আমার কথা শুনে তারা চুক চুক করে। ঘাড় নেড়ে বলে সত্যি আমরা চোর-ডাকাত-অপরাধীর পিছনে দৌড়ে বেড়াই। অথচ আমাদের ঘর সুরক্ষিত থাকে না। তারা এসে আমাদের ঘরে ঢুকে বাড়ির বউকে মেরে যায়। কী সাহস! এত সাহস ওরা কোথা থেকে পায়? ম্যাডামের কেসটার কোনও ফয়সলা হল না, এটাও কেমন? আমাদের ব্যর্থতা। আমি হাসি, ভালো কলিগ থাকলে কী করে হবে?
আমার কথায় তাদের মুখ গম্ভীর হয়ে যায়। তারা মনে করে, আমার কলিগরা যারা আমার দিকে আঙুল তুলেছিল, যাদের সব সন্দেহর তির ছিল আমার দিকে। আমি সে দিকেই ইঙ্গিত করছি। কিন্তু, আমি অন্য কথা বলছি, যেটা ওদের বোঝার ক্ষমতাই নেই। আমি সত্যি কথাই বলছি।
সেটা হল, আমার পিছনে যেমন হারামি কলিগরা লেগেছিল, তেমন এতদিনের সার্ভিসে কিছু ভালো বন্ধু তৈরি করেছিলাম। তারা আড়ালে থেকে আমাকে রক্ষা করছিল। ভিতরকার খবর দিচ্ছিল, কী কী এভিডেন্স আছে জানাচ্ছিল। প্রয়োজনে সেটাও হয় পালটে দিচ্ছিল, নয় পাশাপাশি এমন কিছু রাখছিল যা গুলিয়ে যায়। তদন্ত কোন পথে যাচ্ছে সেটাও আমি আগে ভাগে জেনে যাচ্ছিলাম। সবসময় আমি তদন্তকারীর থেকে আগে যেতামা। আর এটা সম্ভব হত আমার বন্ধু-কলিগদের জন্য। আসলে ওরা সবাই জানত, আমিই মেরেছি। হ্যাঁ, খুনি আমি। কিন্তু কেন? সেটাও জানত। তাই, মেল ইগোর সাপোর্ট পাচ্ছিলাম আমি। তাইজন্যেই আমি বেকসুর খালাস।
একা থাকি। কোনও নিঃসঙ্গতায় ভুগি না। না, গান শুনি না। জানালা খুলে আকাশ দেখি না। তবে হ্যাঁ, সারাদিনই আমার ঘরে স্পোর্টস চ্যানেল চলছে। এটাই আমার বিনোদন। কিন্তু এর মাঝেই মেয়েটা এসে ঢুকে পড়ল। ওর নাম মুনিয়া। মারাত্মক সেক্সি!
খুব লম্বা নয়। আবার বেঁটেও নয়। কিন্তু চেহারায় একটা চাবুক ভাব আছে। টান টান। যেন এক্ষুনি ছিলা থেকে বেরিয়ে এল। ওর চোখের দিকে তাকালেও আগুনের তেজ পাওয়া যাবে।
মুনিয়া প্রথম সাক্ষাতেই আমাকে 'তুমি' বলেছে। বলুক। ওর মতো অনেক মেয়ে আমি সারা জীবনে দেখেছি।
ও ঘরে ঢুকে সোফায় এসে ঝটকা মেরে বসল। আমাকে বলল, 'কী হল আমাকে দেখতে পাচ্ছ না? আমি একটা জলজ্যান্ত মেয়ে!'
আমি বললাম, 'আমি মেয়ে দেখেছি, নারী দেখেছি, মহিলা দেখেছি।'
মুনিয়া হাসল, 'এত্ত দেখেছ, আচ্ছা, মেয়েছেলে দেখোনি? মাগি দেখোনি? কী পুলিশ সার্ভিসে আছো? যাও, আমার বাপের কাছে যাও, কত কিছু দেখাবে ঢলানি মাগি, চুদনি মাগি, খানকি মাগি কতরকম মাগির ক্ল্যাসিফিকেশন আছে, সব দেখিয়ে দেবে।'
আমি চুপ করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। এখন সকাল আটটা। মেয়েটার কি কাল রাতের নেশা কাটেনি? বললাম, 'কে তোমার বাপ?'
'তোমার মতোই একজন পুরুষ।'
মুখে এসে গিয়েছিল, বাপ যখন সে তো আমার মতোই একজন ডান্ডাওয়ালা পুরুষই হবে, হিজড়ে হবে না। কিন্তু সক্কাল সক্কাল এত পুলিশি কায়দায় খিস্তিখাস্তা করতে ইচ্ছে করল না।
বললাম, 'কী খাবে, চা না কফি?'
আমি আগে সবাইকে তুই তোকারি করতাম, তুমি আপনিও বলতাম, সেটা সামাজিক নানা জায়গা থেকে যেমন সবাই বলে। কিন্তু গুরুজিকে দেখে 'আপনি' বলা শিখেছিলাম। সেটা বেশ কাজে লাগে। কিন্তু অনেকদিন পরে উটকো কাউকে 'তুমি' বললাম।
'এখন সকালবেলা। দুপুর বা সন্ধে হলে অন্য কিছু বলতাম। তোমার ঘরে তো হেব্বি হেব্বি মালের স্টক আছে। ঠিক আছে রাতে খাব। এখন চা-ই দাও। আর কী খাবার আছে?'
'কী খাবে বলো?'
'ইশ! আজ এমনভাবে বলেছ বলে নাও, ফার্স্ট টাইম ছেড়ে দিলাম, পরের দিন বললে, বলব চুমু খাব। তারপরের দিন বললে, বলব পেনিস খাব। তার পরের দিন বললে, বলব তোমাকে গোটা খাব, চিবিয়ে।'
এটা মেয়ে নয়, মাগিও নয়, পাগল না। শেয়ানা! স্পাই। অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এসেছে। এখন খেলছে।
আমি স্থির চোখে ওকে মাপলাম। খুব বেড়ে খেলছে। ঠাঁটিয়ে গালে একটা ঝাপটা দিলে সব ঝটকা ঝরে যাবে। নইলে উলটে ফেলে চুদে দিলে চিৎপাত হয়ে যাবে। বললাম, 'টোস্ট আর ওমলেট করে দিচ্ছি।'
'থ্যাঙ্ক ইউই মম্ম।' মুনিয়া আমার দিয়ে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিল। বলল, 'তোমার বাড়িতে তো কোনও কাজের লোক নেই। তুমি পারবে? না, আমি যাব হেল্প করতে?'
আমি হাত তুললাম, 'ওক্কে! তুমি বোসো। ফাইভ মিনিটস!'
'ঠিক আছে প্রথম দিন তুমিই করো। পরে আমি করে খাওয়াব। যা খেতে চাইবে তাই খাওয়াব। না পারলে ইউটিউব দেখে দেখে করে দেব। খারাপ হলেও সোনামুখ করে খেয়ে নেবে। আমার বাপের মতো খাবারের থালা ছুঁড়ে ফেলবে না। আমার মায়ের মতো বলবে— খুব ভালো হয়েছে। কী সুন্দর, সামান্য একটু নুন চড়া, ভাতে মাখলে টের পাওয়া যাবে না। মশলাটা কাঁচা, আর একটু কষতে হত, কিন্তু কী করে করবি, আসলে তোর আভেনের আঁচটা ঠিকমতো হয় না। আঁচ ঠিকমতো না হলে কষবি কী করে? যাও, তুমি যেমন খুশি টোস্ট করে নিয়ে এসো, অমলেট যেমন হোক, কম বেশি যাই হোক, আমি সোনামুখ করে খেয়ে নেব।'
আমি মুনিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসলাম। তুমি জননী জায়া কী না জানি না। তবে পাগল নও। পুরো হোমওয়ার্ক করে এসেছে। আমার বাড়িতে কাজের লোক নেই জানে। কিন্তু একটু জলদিবাজি করছে। অন্যলোক হলে এতক্ষণে বিছানায় ফেলে রগড়ে দিত।
আমি বিপত্নীক একা মানুষ। নারী সঙ্গহীন। এমন টাটকা একটা মেয়ে হাতের মুঠোয়। না, আমি টোস্ট, অমলেট করতে যাই। মাথা এবং শরীর দুটোই ঠান্ডা ও সতর্ক রাখতে হবে। তবে যাওয়ার আগে বলে যাই, এই কাহিনি আমার নয়, এই কাহিনি এই মেয়েটার, মুনিয়ার। আমি নিমিত্ত মাত্র।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।