জয়ন্ত দে
'ওই কুত্তার ডাক্তার লিটন সেন আমাকে ঠকিয়েছিল। আমি ওকে ভালোবেসেছিলাম। সত্যিকারের ভালোবেসেছিলাম।'
আমি মুনিয়ার দিকে তাকিয়ে আছি।
সারা দিনে মুনিয়া আমাকে তিন-চারবার ফোন করে। সন্ধের পর, আটটা নাগাত যে ফোনটা আসে তাতে ও জানতে চায় আমি কোথায় আছি কখন আসব?
আমি সৈকতদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে লোকাল থানায় গিয়েছিলাম। আমাকে কটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। সেখানকার কাজ সেরে আজ আমিই ওকে ফোন করলাম। বললাম, বাড়ি ফিরছি।
এসে দেখলাম, ও এক গাদা খাবার অর্ডার দিয়ে আনিয়েছে। টেবিল সাজিয়ে বসে আছে। সেলার থেকে বের করে রেড লেবেলের বোতলও রাখা। পাশে গ্লাস।
আমি দোতলায় উঠে দেখলাম ও সোফার পাশে, মেঝেতে বসে। আমার দিকে একবার তাকাল। ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলছে। আমি হাত মুখ ধুয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে এসে বসলাম। আমি সোফায় বসতে ও উঠে এসে আমার গায়ের মধ্যে ঢুকে বসল। আমি গ্লাসে বরফ নিয়ে তার ওপর মদ ঢাললাম। দেখলাম, ওর দু-চোখ বন্ধ। আমি বললাম, 'কী হল?'
'তোমার বুকের আওয়াজ শুনছি। শুনেছি, তোমার নারকো টেস্ট হওয়ার কথা উঠেছিল। হলে কিন্তু তুমি ধরা পড়ে যেতে।'
'কেন?' মদের গ্লাসে লম্বা চুমুক দিয়ে আমি বললাম।
'কেন না তোমার বুকের ভিতর আজ কেমন যেন একটা অস্বাভাবিক আওয়াজ হচ্ছে। মনে হচ্ছে তোমার বুকে কোনও গোপন খবর চাপা আছে।'
মুনিয়া গ্লাসের দিকে হাত বাড়াল।
আমি হাসলাম, 'এটা তুমি বুকের আওয়াজ শুনে বলছ না। এটা তুমি বলছ, যেহেতু আজ তোমাকে ফোন করেছি আমি। আজ আমিই তোমাকে ডেকেছি। তুমি বুঝেছ সামথিং ইজ রং!'
কথাটা বলে আমি একটা হাত ওর টি-শার্টের ভিতর ঢুকিয়ে দিলাম। নরম পায়রার মতো ওর বুক, আমার হাতের ভিতর। হাতের তালুতে নিয়ে খেলছি। ওর বুকদুটো যেন আমার হাতের মাপেই তৈরি।
'দুটোই সত্যিই, তোমার বুকের ভিতর কেমন একটা আওয়াজ হচ্ছে। আর আজ হঠাৎ কী হল তোমার?'
মুনিয়া ভণিতাহীন ভাবে উত্তর দিল।
'বয়েস হচ্ছে তো, কলকবজা ঢিলে হয়ে যাচ্ছে, তাই আওয়াজ শুনেছ।' আমি ওর স্তনবৃন্তে আঙুল রেখেছি। ক্রমশ ওর স্তনবৃন্ত শক্ত হচ্ছে। ও অপাঙ্গে আমার দিকে তাকাল। বলল, 'খুব মুডে আছো মনে হচ্ছে! বয়েস হচ্ছে! কই বেডে তো মনে হয় না। এখনও ফুরফুরে, চাবুক!'
'সত্যি বলছ?' আমি হাতের হাতের থাবায় ওর বুকটা নিপেষিত হচ্ছে।
'মিথ্যে বলে কী লাভ! আমি যে কজন পুরুষের সঙ্গে শুয়েছি, সত্যি বলছি, তুমিই বেস্ট। সেরা! সেরা!' মুনিয়া দু-হাত তুলে তালি দিল।
'তুমি আমাকে পুরোটা ঠিক বলছ না।'
'দেখো, আমি আগে সবার মন জয় করার জন্য কথা বলতাম। এখন যা আমার মন চায় তাই বলি।'
আমি প্রথম গ্লাসটা মুনিয়াকে ধরিয়ে দিলাম। ও ছোট্ট ছোট্ট পর পর বেশ কয়েকটা চুমুক দিল। আমি আমার গ্লাসে দ্বিতীয় লম্বা চুমুকটা দিয়ে বললাম— ডাক্তার লিটন সেন কে?'
'ওটা একটা শুয়োরের বাচ্চা। প্রফেশনে কুত্তার ডাক্তার।' কথাটা বলে মুনিয়া মাথা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। 'তুমি তাহলে আর একটা ঘুঁটি চিনে ফেলেছ। গুড! গুড! আমি ঠিক গুরু চয়েস করেছি। আজ ফুল মস্তি হবে। সেলিব্রেট করতে হবে। আমি বুঝেছিলাম তাই ভালো ড্রিঙ্কটাই সেলার থেকে নামালাম।'
আমার হঠাৎ মনে হল মুনিয়া যেন কথা ঘোরাতে চাইছে। বললাম, 'মারলে কেন?'
'এটা কোনও প্রশ্ন হল বস! জানতে চাও কীভাবে মারলাম? যাই হোক, তোমার প্রশ্নের উত্তরে বলি ওর বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তাই মারলাম।'
'তোমার সঙ্গে লিটন সেনের সম্পর্ক কেমন ছিল?'
'আমার দিক থেকে গ্যাদগ্যাদে প্রেম। ওর দিক থেকে ফুর্তি করার মেয়েমানুষ। ওরা না প্রেমের চক্কর ছাড়া শুতে পারে না। সারা জীবনে যে যে মেয়ের সঙ্গে শুয়েছে, আগে সবার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেছে। সেক্স নয়, ওরা প্রেম চায়, ভালোবাসার কাঙাল এই সব ভাব করে। পুরোটাই ফলস। আসলে কিন্তু সব রাস্তাই বিছানায় এসে মেশে।'
'মারলে কেন?'
'ফালতু প্রশ্ন করছ মারলে কেন? কেউ আমাকে সুপারি দেয়নি। মেরেছি, ও একটা নর্দমার কীট। আমার গায়ে উঠেছিল, তাই।'
'মারতেই হল? কেন?' আমি গ্লাসে মুখ ডুবিয়ে প্রশ্ন করলাম।
'বড্ড ঘেন্না ছিল। ওই কুত্তার ডাক্তার লিটন সেন আমাকে ঠকিয়েছিল। আমি ওকে ভালোবেসেছিলাম। সত্যিকারের ভালোবেসেছিলাম।'
'আলাপ কি বিয়ের পর?'
ওর কানের লতিতে জিব দিলাম। দাঁত দিয়ে ছুঁলাম। কানের ভিতর জিব ঢুকিয়ে দিলাম, ও কুঁকড়ে আমার শরীরের ভিতর ঠেসে এল।
বলল, 'এমন করলে বলব কী করে? কোথা থেকে শুরু করি আচ্ছা, আমার চাকরি পাওয়ার পর থেকে বলি। তখন একটা প্রাইভেট কলেজে চাকরি করতাম। কলেজের কাছাকাছি একটা জায়গায় ভাড়া থাকি। সেখানেই আলাপ হল লিটন সেনের সঙ্গে। আলাপটা হয়েছিল হঠাৎই। আমি যে বাড়িতে থাকতাম, সেই মাসিমার দুটো কুকুর ছিল সান্টা আর বান্টা। ওদের সঙ্গে আমার খুব ভাব ছিল। সান্টা বান্টাকে আমার জিম্মায় রেখে বাড়িওয়ালি মাসিমা বোনপোর বিয়েতে গিয়েছিলেন চার-পাঁচদিনের জন্য। আমার দায়িত্ব ছিল ওদেরকে দেখাশোনার। আমি যেচে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। হঠাৎই একদিন কলেজে বেরুনোর সময় দেখলাম, বান্টার খুব শরীর খারাপ, মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। আমি ডাক্তার ডাকলাম। লিটনই ওদের ডাক্তার। সেই তখন থেকে আমার সঙ্গে আলাপ হল লিটন সেনের। এরপর এ-বাড়িতে ও এলেই আমার সঙ্গে দেখা হত।
একদিন হঠাৎ বলল ম্যাডাম, কতদিন আর ভাড়া থাকবেন, আমাদের এদিকে একটা ফ্ল্যাট কিনে নিন।
আমি বললাম, টাকা নেই।
ও বলল, ব্যাংক থেকে লোন নিন।
আমি বললাম, প্রাইভেট কলেজের চাকরি, কোন ব্যাংক লোন দেবে?
ও বলল, আমি ব্যবস্থা করে দেব। আমার স্ত্রী ব্যাংকে চাকরি করে।
কিন্তু যে ব্যাংক থেকে লোন করিয়ে দিল, সেখানে ওর স্ত্রী চাকরি করে না। শুনলাম, আগে এই ব্রাঞ্চে ছিল, এখন ট্রান্সফার হয়ে অন্য জায়গায় চলে গেছে।
তারপর লোনের সময় বেশ কয়েকদিন পর পর ব্যাংকে যাওয়া আসা করেছি দুজনে। এরকমই সময় একদিন জানাল, লিটন ডিভোর্স কেস ফাইল করেছে। ওর স্ত্রীই ডিভোর্স চায়। লিটন দিয়ে দেবে।
আমি আকাশ থেকে পড়লাম। জানতে চাইলাম কেন?
আমাকে বলল, বিয়ের পর থেকেই মেয়েটি লিটনকে ঘেন্না পায়। মেয়েটি নাকি লিটনের গায়ে কুকুর বেড়ালের গন্ধ পায়। স্ত্রীর কথা শুনে লিটন বাড়ি ঢুকে জামাকাপড় ছেড়ে স্নান করত। গায়ে পারফিউম মাখত। তবু ওর স্ত্রী ওকে বিছানায় ওর পাশে শুতে দিত না। তারপর মেয়েটি ট্রান্সফার নিয়ে অন্য জায়গায় ওর বাপের বাড়ির কাছাকাছি ব্রাঞ্চে চলে গেছে। লিটন আর শ্বশুরবাড়িমুখো হয় না। নিজের ডাক্তারি নিয়েই ডুবে থাকে।
লিটন আমাকে প্রায় রোজ ফোন করত।
ক্রমশ দুজন দুজনের প্রেমে পড়লাম। আমি ওকে বলেছিলাম, আমি ডিভোর্সি। হাজবেন্ডের সঙ্গে বিদেশে থাকতাম। ছেড়ে চলে এসেছি। আমার হাজবেন্ড ছিল গে। কিন্তু সে বাড়ির কথায় আমাকে বিয়ে করেছিল। শুনলাম, লিটনও খুব তাড়াতাড়ি ডিভোর্স পেয়ে যাবে। আমি আবার স্বপ্ন দেখলাম, সংসার করব, ভালোভাবে বাঁচব। লিটন আমার ফ্ল্যাটে আসত, দিন রাত থাকত। বিয়ে হয়নি ঠিক কথা, আমি আমরা বিবাহিতই জীবনই ভোগ করছিলাম। দিন যায়, মাস যায়, লিটনের আর ডিভোর্স হয় না। আমি একদিন লোন অ্যাকাউন্টের একটা কাগজ নেওয়ার জন্য ব্যাংকে গিয়েছিলাম। গিয়ে একজনের কাছ থেকে লিটন সম্পর্কে তীর্যক কিছু মন্তব্য শুনলাম। তখন তাকে ডেকে দুটো মিষ্টি কথা বলতেই গড়গড় করে সে যা বলল, তার মোদ্দা কথা হল,
লিটন ওর বউদির সঙ্গেই থাকে। দাদাটা আধ পাগলা। এটা নিয়ে ওর স্ত্রী আপত্তি জানিয়েছিল, তার ফলশ্রুতি হল, লিটন ওর স্ত্রীকে উলঙ্গ করে ছবি তোলে। এবং এতটাই ও পারভার্টেড, হাফ পাগল দাদাকে উলঙ্গ করে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলায়, বলে এই ছবি তোমার ব্যাঙ্কে সেঁটে দেব।
এই ঘটনার পরে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে মধ্যরাতে পালিয়ে যায়। লিটন ওদের বাড়ির কাজের মেয়েটিকে প্রেগনেন্ট করে, লোকাল হাসপাতালে খালাস করিয়েছে। এ খবরও সবাই জানে। আমি সব শুনি। লিটনকে জিজ্ঞাসা করি।
লিটন বলে মিথ্যে কথা। তোমার মতো একটা মেয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেউ মেনে নিতে পারছে না। সবাই ওকে আওয়াজ দেয় বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা। মানে, হল জেলাসি।
আমি ওর কথায় এবার ভুললাম না। খোঁজ নিলাম।
একদিন লিটনের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করি। সব ঘটনা শুনি। লিটন মাসে মাসে ওর থেকে টাকা নেয়। মেয়েটি ডিভোর্স চেয়েছে, লিটন ১০ লক্ষ টাকা চেয়েছে, তবে ডিভোর্স দেবে। শুনে চুপচাপ ফিরে আসি।
আরও খোঁজ নিই। সত্যিই ওর দাদা আধপাগল। বউদির সঙ্গে ওর সম্পর্ক। কাজের মেয়েটিকেও খুঁজে বের করি। হাজার পাঁচেক টাকা দিই। সেই সঙ্গে বুঝতে পারি, খুব ভুল কাজ করেছি। লিটনকে আর আমার ফ্ল্যাটে ঢুকতে বারণ করে দিই। কদিন লিটন ফোন করে, হোয়াটসঅ্যাপে আমার কটা নগ্ন ছবি পাঠায়। আমার ঘুমন্ত অবস্থার ছবি। বলে, আমাকে ও ব্ল্যাকমেল করতে চায় না। শুধু ওর কিছু টাকার দরকার, স্ট্রিট ডগদের জন্য একটা হাসপাতাল করবে, যদি ওকে সাহায্য করি। আমি চাকরি ছাড়ি, ফ্ল্যাট বিক্রি করে চলে আসি। হ্যাঁ, ওর চাহিদা মতো পুরোটা নয়, ৫ লক্ষ টাকাও দিয়েছিলাম। আমি জানি ও মিথ্যে কথা বলছে। বলেছিলাম, আর দেব না। এটাই ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট। আমার বাবা পুলিশ, আমি বাবাকে জানালাম না। ও আর আমাকে ডিসটার্ব করেনি। হয়তো পুলিশের ভয়ে।
কিন্তু আমি ঠিক করেছিলাম ওকে ছাড়ব না। সৈকত আমার কাছে ওর কুকুর নিয়ে আসত। বিশেষত কিংকে। আমি সেই কিংকে কাছে পেয়েই আবার ওর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করি। নানা পরামর্শ নিই। ওকে বলি, আমার হাজবেন্ডের দিদির কুকুর। একদিন কিংয়ের শরীর খারাপ হয়। আমি এই সুযোগে ওকে ডেকে পাঠাই। আবার পুরোনো প্রেম দিয়ে ওকে খোঁচা মারি। হ্যাঁ, সেদিন দুপুরে ওর সঙ্গে আমাকে শুতে হয়েছিল। আমি জানতাম, আজই ওর কোনও মেয়ের সঙ্গে শেষ শোয়া। ও আমার বাড়ি থেকেই সৈকতদের বাড়ি যাবে কিংকে দেখতে। আমি ওর জামার কলারে একটা স্পেশাল গন্ধ স্প্রে করে দিয়েছিলাম। জানতাম, ও যখন কিংয়ের মুখের সামনে ঝুঁকে বসবে ওই গন্ধে কিং ওকে অ্যাটাক করবেই। ওর গলার নলি ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করবেই।
আসলে কিং যখনই আমার ফ্ল্যাটে আসত, আমি ওকে ওই গন্ধের ট্রেনিং ওকে দিতাম। মাঝে কিং দীর্ঘদিন আমার ফ্ল্যাটে ছিল। আমি ট্রেনিং দিয়েছিলাম, ওই বিশেষ গন্ধ। ওই গন্ধ পেলেই ও মানুষের আকারের সফট টয়েজের গলা ছিঁড়ে ফালাফালা করত।
বেচারা লিটন সেন ওর জামার কলারে আমি স্প্রে করে দিয়েছিলাম সেই মৃত্যুবাণ!
কথা শেষ করে মদের বোতলটা টেনে নিয়ে গ্লাসে ঢালে। বেশ কিছুটা বরফ দিয়ে বলল, 'তাহলে তুমি দুটো পেয়ে গেলে। বাকি থাকল এক।'
আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
গ্লাসে দীর্ঘ চুমুক দিয়ে মুনিয়া বলল, 'আমার খুব জ্বালা এসো আমার জ্বালা জুড়িয়ে দাও।'
আমি গ্লাসে মদ ঢালি, বরফ নিয়ে মৃদু নাড়াই, 'দু দুটো খুন করেছ তুমি সত্যি বলছ!'
'দুটো নয়, তিনটে। আর একটা তোমাকে খুঁজতে হবে।' মুনিয়া হাসে, 'তোমার চার, আমার তিন।'
আমি গ্লাসের মদ মুখের ভিতর নিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকি। আস্তে আস্তে গলায় চালান করি। বলি, 'বাজে কথা, রটনা। আমি একটাও খুন করিনি। আমি খুনি ধরি।'
মুনিয়া হাসে, 'মিথ্যে বলতে বলতে তোমার কী অবস্থা পুরুলিয়ার জঙ্গলে যে ছেলেটাকে মেরেছিলে, ওটা খুন ছিল না?'
'আত্মরক্ষার জন্য। ওকে না মারলে ও আমাদের মারত। কতজনকে মারত জানো? কিচ্ছু জানো না তোমরা, সব খবরের কাগজ আর টিভির গল্প শোনো। আমরা প্রাণ হাতে নিয়ে লড়েছি।'
'ওই ছেলেটাকে তুমি ভুল করে মেরেছ ও টেররিস্ট ছিল না।'
'বাজে কথা, ওই ছেলেটা যদি আমাদের মারতে পারত তবে তো টেররিস্ট হতো। আগে আমরা ওকে মেরেছি, তাই ও নিরীহ। আমাদের দেশের শান্তিপ্রিয় নাগরিক!'
'এটা সবাই জানে। এটা ওপেন টু অল। এছাড়া, তোমার স্ত্রী, অসীমানন্দ, রত্নেশ্বর, উৎপল...।'
'হয়তো এর পরে কোনওদিন তোমার নামটাও জুড়ে যাবে।' আমি হাসি। 'অথবা।'
মুনিয়া নিজের গ্লাসটা ওপর দিকে তুলে মুখের ভিতর সরু সুতো মতো ধারায় মদ ঢালে 'বলো অথবা কী?'
আমি হাসি, 'অথবা, তোমার নিজে গুনতিতে আছে তিনটে। আমি মারা গেলে হবে চারটে আমি চতুর্থ!'
'উঁহু, তুমি কী করে চতুর্থ হবে, তুমি আমার কোনও ক্ষতিই এখন করে উঠতে পারোনি। পারবেও না কোনওদিন। তুমি হারামি চেহারায় এতগুলো খুন করেও বড্ড মানুষ মানুষ! আদপেই তুমি ভালোমানুষ। পাশাপাশি আমি, কখনো ছেড়ে দিই না, বদলা নিতে চাই।'
'আমি কোনও খুন করিনি। আমার নামে খুনের অভিযোগ চাপিও না। আমার স্ত্রীকে আমি ভালোবাসতাম। এটাই প্রথম, এটাই শেষ কথা। ওখানে ভালোবাসার কথাই আছে। কোনও খুনের কথা নেই। এখানে আর কিছু নেই অসীমানন্দ সুইসাইড, রত্নেশ্বর-উৎপল অ্যাক্সিডেন্ট। এখন তোমার যদি অস্বাভাবিক কোনও মৃত্যু হয়, সবাই আমার দিকে আঙুল তুলবে। খুব সাবধানে থাকবে মুনিয়া। আমার জন্যে সাবধানে থাকবে। আমাকে আর কোনও বদনামের ভাগী করো না।'
'তুমি তিন নম্বরটার খোঁজে বেরিয়ে পড়ো। তুমি তিন নম্বরের নামটা আবিষ্কার করতে পারলে, আমি একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচি। তখন তোমাকে চার নম্বরে নাম ধাম বলব। প্ল্যান কী হবে, কী হতে পারে, সাজেশন চাইব।'
'তোমার প্রথম স্বামী বেঁচে আছে মুনিয়া?'
'হ্যাঁ, দিব্যি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছে।' মুনিয়া গলা থমকে যায়। ঢোক গেলে।
আমার তিন পেগের কোটা কমপ্লিট। বড়জোর আর একটা। মুনিয়ার চার শেষ। ও আবার ঢালছে। খাক খাক অনেক অনেক মদ খেয়ে এই ঘরের সোফায় লুটিয়ে পড়ে থাক।
আমি ফিসফিস করি, 'আমি তোমার কথা বিশ্বাস করছি।'
'এতদিনে তাহলে করলে।'
'আমি বিশ্বাস করছি তুমি তিনটি খুন করেছ। তিনজনের ভিতর আমি দুজনকে খুঁজে বের করেছি। দুটো খুনই নিখুঁত, কোনও প্রমাণ নেই। প্রমাণ কি সত্যিই নেই? প্রমাণ ছিল, কিন্তু তখন কেউ সন্দেহ করেনি। সন্দেহটাই আসল কথা। কেউ একটা কোনও কিছু নিয়ে সন্দেহ করলেই, তখনই খেলটা শুরু হয়। আর সন্দেহ না করলে সব প্রমাণ মুছে যায়। সে ভাবেই দুটো খুনের কোনও হদিশ আর নেই। মৃতদেহও পুড়ে গেছে তুমি যে দিনের পর দিন সৈকতকে পয়জন দিয়েছ, কেউই তা খতিয়ে দেখেনি। ডাক্তাররা ভাবতে পারেনি।
তারপর কুকুরে কামড়ানোটা যে নিছক দুর্ঘটনা নয়, সেটাও কেউ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেনি। তুমি নিশ্চয়ই কারও কাছে পরামর্শ নিয়েছিল। ইন্টারনেট দেখেছিলে। তোমাকে সন্দেহ করলে সার্চিং হত। আসলে কেউ ভাবতেই পারেনি, কুকুরটা খুনি নয়, সেরেফ খুনের অস্ত্র। তাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
তুমি যা দেখিয়েছো, যা দেখাতে চেয়েছ পুলিশ তাই দেখেছে। এটা ডিপার্টমেন্টের দুর্ভাগ্য! এর পর তৃতীয়জন। এই তৃতীয়জনকে আমি জানি না। কিন্তু চতুর্থজন কাকে খুন করার প্ল্যান করতে আমার কাছে এসেছ, সেটা আমি মনে হয় আবিষ্কার করে ফেলেছি। চতুর্থজন হল তোমার প্রথম স্বামী।'
আমার কথা শেষ হবার আগেই মুনিয়া নিজের পরনের টি-শার্টটা খুলে ছুঁড়ে দিল। হট প্যান্টটা টেনে শরীর থেকে নামিয়ে দিয়ে আমার ওপর উঠে শুলো। আমার কান কামড়ে ফিসফিস করল, 'তৃতীয়জন কে খোঁজ পেয়েছ?'
আমি ওর দু-স্তনের মাঝে মুখ গুঁজে দিয়ে বলি, 'চতুর্থজন যাকে খুন করার স্কিম করতে আমার কাছে এসেছ, তার কথা বলতে পারি তোমার প্রথম হাসবেন্ড। ঠিক তো।'
মুনিয়া আমার কান কামড়ায়, 'ঠিক! এবার বলো তৃতীয়জন কে? যে আমার হাতে খুন হল।'
'তৃতীয়জনের খোঁজ আমি ঠিক পেয়ে যাব। আর ওই তৃতীয়জনই শেষ। আমি তোমাকে আর খুন করতে দেব না। আর নয়। তোমার হাতে আমি আর রক্ত লাগতে দেব না। এবার তোমাকে থামাব। যীশু কতবার ক্ষমা করার কথা বলেছেন'
মুনিয়া হাসে।
'আর নয়, এবার থামো।'
'তোমাকে যদি কেউ বলত, ধূমকেতু রাহা তোমার স্ত্রী গিয়েছে, রত্নেশ্বর উৎপল গিয়েছে, এবার থামো। অসীমানন্দকে ছেড়ে দাও, তুমি ছাড়তে?'
'অসীমানন্দ পাপী। সবচেয়ে বড় পাপী। তার কাছে পুরোটাই লালসা। একবার ভাবো, তোমার প্রথম স্বামীর কথা ভাবো, তার কি মৃত্যু পাওনা? সে কতখানি অন্যায় করেছে, যে তাকে মরতে হবে?'
মুনিয়া চুপ করে থাকে।
'তুমি খুনের নেশায় আর খুন করো না। এবার থামো।'
'থামব!'
'আগে বরং একটা কাঠগড়া প্রস্তুত করো, সেখানে একদিকে তুমি দাঁড়াও, আর একদিকে তোমার প্রথম স্বামী। বিচারক আমি এই বিচারই শেষ বিচার।'
মুনিয়া আমার শরীরটা নিজের গায়ে মাখতে মাখতে বলে, 'বিচার পরে করবে? তৃতীয় খুনের হদিশ পেলে?'
'চিন্তা করো না। ঠিক খুঁজে বের করব। তবে তার আগে চতুর্থজনের বিচারটা করে ফেলতে চাই। আমাকে তার কথা বলো দেখি, সত্যিই সে কতটা অন্যায় করেছে। বলো আমাকে, তার কথা বলো, এখন তার বিচার হবে।'
বিচার শুরু—
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইনএই বইয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
পড়া চালিয়ে যেতে নিশ্চিত করুন যে আপনার বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি।