সপ্তম পর্ব : দেবদুলাল কুণ্ডু

বিশ্বরূপ মজুমদার

7

মহানগরীতে সন্ধে নেমেছে অনেকক্ষণ; তবে এখানে সন্ধে মানে রাত ন’টা কী সাড়ে ন’টা। কিন্তু বসন্তের এই সন্ধে আজ যেন একটু অন্যরকম। থেকে থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছে। রোডের পাশে ফ্লুওরেসেন্ট ল্যাম্পগুলো জ্বলে গেছে অনেকক্ষণ। বাগুইআটির এই রাস্তাটা একটু নির্জন। মাঝে মাঝে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলে যাচ্ছে কিছু বাস, প্রাইভেট কার আর কয়েকটা উবের।

প্রমিত উবের থেকে নেমে দাঁড়াল রাস্তার ধারে একটা কৃষ্ণচূড়ার নীচে। উলটো দিকে বনলতা আপার্টমেণ্ট। সেলফোন বের করে দ্রুত টাইম দেখে নিল। ন’টা ছাপ্পান্ন। লোকটা তাকে এই জায়গাতেই দাঁড়াতে বলেছিল। কিন্তু তাকে তো এখান থেকে বাড়ি ফিরতে হবে। দাদা নিশ্চয়ই খুব চিন্তা করছে। কী যে করি? হোয়াটসঅ্যাপ-এর মেসেজটা আরেকবার পড়ল সে। ‘রয়্যাল সাইজ—নিউ ব্র্যান্ড—স্টে বাই দ্য রোড অপজিট অফ বনলতা অ্যাপার্টমেণ্ট। ডট টেন পি এম।’

ঘড়ির কাঁটা দশের ঘরে ঠেকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটা চেরি কালারের বি এম ডব্লুউ এসে থামল পাশে।

—“প্রমিত?” গাড়ির জানলা দিয়ে একজন মুখ বাড়িয়ে দিল।

—“ইয়েস—?”

—“রাকেশ সামন্ত; কাম অন কুইক।”

কিছু বোঝার আগেই গাড়িটা তাকে তুলে নিয়ে স্পিড বাড়িয়ে দিল।

**********

মাস দুয়েক আগে

প্রমিত রায়। ছিপছিপে চেহারার হ্যান্ডসাম যুবক। মেধাবী স্টুডেন্ট। রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে ফিজিক্সে মাস্টার্স করছে। ওর বাড়ি যাদবপুরে। বাড়িতে শয্যাশায়ী বৃদ্ধ বাবা; ব্রেন-স্ট্রোকের ফলে বাঁ দিকটা প্যারালিসিস। মা মারা গিয়েছে বছর পাঁচেক আগে। দাদা প্রতীক একটা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে চাকরি করে। দাদারই স্নেহ-শাসনে বড় হচ্ছে প্রমিত। দাদা তার সমস্ত নিড ফুলফিল করার চেষ্টা করে।

ফিফথ সেমিস্টার ক্লিয়ার করেই প্রমিত বায়না ধরেছে কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে পুরীতে ঘুরতে যাবে; আসলে এর আগে এভাবে একা একা সে খুব একটা বাইরে বেরোয়নি। জেনারেলি কোনওদিন তার বাড়ি ফিরতে দেরি হলেও দাদা তাকে একাধিকবার ফোন করে। প্রতীক বুঝেছে ভাইকে এখন থেকে একটু একটু করে ছাড়তে হবে। তাই পুরীভ্রমণের পারমিশন দিয়ে দেয় আর পইপই করে বারণ করে দেয় সমুদ্রে বেশিক্ষণ স্নান করতে। সেইসঙ্গে আরও নানা বিধিনিষেধ; প্রমিতকে প্রমিস করিয়ে নেয়, দিনে অন্তত বার পাঁচেক ফোন করতে হবে কুশল-অবস্থা জানিয়ে। প্রমিত নিজেও অবশ্য দাদার ভীষণ বাধ্য।

প্যাকিং করে নির্দিষ্ট দিনে হাওড়া থেকে জগন্নাথ এক্সপ্রেসে চেপে বসল প্রমিত আর ওর বন্ধুরা; মোট ছয়জনের ছোট্ট একটা দল। এখন চৈত্রের প্রথম পক্ষ; দিনের বেলা গরম থাকলেও রাতে একটু ঠান্ডার আমেজ থাকে। তাই রাতের ট্রেনে খুব একটা কষ্ট হচ্ছিল না তাদের। বাইচান্স নন-এ.সি থ্রি-টায়ার কামরার ছ’টা সিটই তারা পেয়ে গিয়েছিল। তাই হইহই করেই রাতটা কাটল তাদের। ভোরবেলা তারা পুরী ষ্টেশনে পৌঁছাল। হোটেল ঠিক করাই ছিল। হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়ল তারা; দুপুরে সমুদ্রস্নান।

অনেক রাতে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেটে সুখটান দিতে দিতে গল্প করছিল প্রমিত আর বাবান। বাকিরা যে যার রুমে অঘোরে ঘুমোচ্ছে। মোট তিনটে রুম নিয়েছে তারা।

—“এক্সকিউজ মি—তোমাদের কাছে ফায়ার বক্স হবে?” বারমুন্ডা আর টি-শার্ট পরা এক অপরিচিত লোক প্রশ্ন করল।

—“এই নিন।” বাবান দেশলাই এগিয়ে দিল।

—“আমি রাকেশ সামন্ত; একটা এম এন সি’র ডেপুটি ম্যানেজার। ওই তো ১৩ নম্বর রুমেই থাকি; তোমাদের পাশেরটা। তোমরা—?”

—“আমরা য়ুনিভার্সিটির বন্ধু; আমি প্রমিত আর ও আমার বন্ধু বাবান।”

—“এসো আমার ঘরে বসবে; একাই আছি। ঘুম আসছে না। চলো গল্প করি তোমাদের সঙ্গে। রুমে ঢুকে ভালো করে তারা দেখল রাকেশ সামন্তকে; বয়স পঁয়ত্রিশের আশেপাশে। ফরসা মুখ। উজ্জ্বল চোখ; চোখে সোনালি ফ্রেমের রিমলেস চশমা।

—“তোমরা মাস্টার্স কমপ্লিট করে কী করবে?” ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন।

—“দেখি নেট-স্লেট নিয়ে খাটতে পারি।” প্রমিত বলল।

—“সবই ঠিক আছে; কিন্তু দেখছ তো এই বাজারে চাকরির কী হাল! জব করবে আমাদের কোম্পানিতে?”

—“জব?!” দু’জনেই একসঙ্গে বলল।

লোকটা সিগারেট ধরিয়ে দীর্ঘটান দিল। তারপর প্যাকেটটা এগিয়ে দিল ওদের দিকে। “নাও লজ্জা নেই। বাইরের ব্র্যান্ড; সিঙ্গাপুর থেকে আনা। মাথা একেবারে হালকা হয়ে যাবে।”

ওরা একটু ইতস্ততঃ করে নিল।

“দ্যাখো আমাদের কোম্পানির নেটওয়ার্ক সারা বিশ্বে ছড়ানো। মান্থলি একটা ট্যুর করতে পারবে। দামি গাড়ি দেবে কোম্পানি; ব্র্যান্ডেড জিনিস ব্যবহার করতে পারবে।” বাতাসে একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে বলল রাকেশ।

সিগারেটে টান দেবার মিনিট খানেক পরেই মাথা হালকা হয়ে গেল দু’জনের। শেষের দিকের কথাগুলো মাথায় ঢুকছিল না। কিন্তু অদ্ভুত একটা ফিলিং অনুভব করল, সঙ্গে নতুন আমেজ। “আচ্ছা, আমরা কাল আপনাকে জানাব। ঘুম পাচ্ছে খুব।”

“ঠিক আছে তাড়া নেই।” দরজা অবধি ওদের এগিয়ে দিল রাকেশ। তারপর ঘরে এসে হোয়াটসঅ্যাপ-এর মেসেজ চেক করল। টুকটাক কিছু ক্লাইন্টের উয়িশিং মেসেজ আর দরকারি কথা। তারই মধ্যে স্নেহার মেসেজ, ‘কবে ফিরছ? কবে আসবে আমাদের বাড়ি?’ স্নেহা এখন অফলাইন। তবুও রাকেশ টেক্সট করল, ‘পরশু ফিরব সোনা। ফিরেই দেখা করছি। শুভরাত্রি।’

পরের দিন বেশ বেলা করেই ঘুম ভেঙেছে প্রমিত আর বাবানের। সেলফোনে দেখল দশটা বেজে আঠেরো। যা! বন্ধুরা এতক্ষণে নিশ্চয় বিচে চলে গেছে। অন্তত পাঁচটা মিসড কল; রুকু-অভীক-তাতানের। ওদের ঘুম ভাঙেনি দেখে এস এম এস করেছে, ‘বিচে আয় দেখা হবে’। দু’জনে ফ্রেশ হয়ে নিল। আজ দু’জনের শরীর বেশ ঝরঝরে লাগছে। কিন্তু একটা ঘোর যেন রয়ে গেছে। বিচে এসে বন্ধুদের খুঁজতে লাগল। নাহ, কোথাও নেই ওরা। শেষপর্যন্ত রাকেশ সামন্তর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। ভদ্রলোক কালো গগলস পরে বিচে বসে ডাব খাচ্ছে। ওরা ভেবেছিল এড়িয়ে যাবে। কিন্তু রাকেশই প্রথম ডাকল, “এই যে, এসো; বসো।

—“না। বন্ধুদের খুঁজছি।” বাবান বলল।

—“আরে বসোই না। জানো তো পৃথিবী গোলাকার। ঠিক দেখা হয়ে যাবে।”

শেষমেশ ওরা বসল। রাকেশ ওদের ডাব অফার করল। ওরা মাথা নাড়ল। রাকেশ সিগারেট ধরাল। কাল রাতের আশ্চর্য সেই গন্ধটা নাকে এসে ধাক্কা মারল প্রমিতের।

“এই নাও।” রাকেশ প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিল ওদের দিকে। বাবান নিল না। প্রমিত ‘খাব না খাব না’ করেও শেষপর্যন্ত একটা সিগারেট নিয়ে ধরাল। কালকের মতোই মাথাটা হালকা হয়ে গেল ওর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নিল সে। অনেক ব্র্যান্ড সে খেয়েছে; কিন্তু এটা যেন আশ্চর্য এক অনুভূতির সঞ্চার করল তার সারা দেহে। এক আশ্চর্য নেশা।

রাতে পায়ে পায়ে রাকেশের ঘরে ঢুকল প্রমিত। সে দেখল রাকেশ লাগেজ নিয়ে বেরোনোর জন্যে রেডি।

“আমি ভেবেছিলাম তুমি অন্তত একবার আসবে। আচ্ছা চলি। আমার নম্বর তো তোমার কাছে আছে; ফোন কোরো। চাকরির দরোজা খোলা তোমার জন্য। আর হ্যাঁ, এই প্যাকেটটা তোমার জন্য।” রাকেশ একটা সিগারেটের প্যাকেট তুলে দিল প্রমিতের হাতে। প্রমিত কিছুতেই নেবে না। কিন্তু রাকেশ জোর করে ওর হাতে গুঁজে দিল।

“দ্যাখো, তুমি স্মোকিং করো বলেই দিলাম। না-করলে তো দিতাম না। আচ্ছা চলি। আবার দেখা হবে।”

**********

দিন যত এগিয়েছে প্রমিত ততই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সে বুঝতে পেরেছে সিগারেটের তামাকের ভেতরে কিছু একটা কারসাজি আছে, কিন্তু কী সেই নেশাবস্তু—সেটা এখনও তার অজানা। কলকাতায় এসেই সে রাকেশকে ফোন করেছে; এই প্যাকেট তার আরও চাই।

—“সে পাওয়া যাবে, কিন্তু কম্পানিতে জয়েন করার কী করলে? রাকেশ মৃদু হাসল।

—“ফাইনাল সেমিস্টারটা হয়ে যাক। তারপর দেখছি।”

—“একটা ছোট্ট কাজ করে দিতে পারবে?”

—“কী কাজ?”

—“একটা প্যাকেট এয়ারপোর্টের কাছে একজনের হাতে পৌঁছে দিতে হবে।”

কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকে প্রমিত। তারপর রাজি হয়ে যায়। একটা আয়তাকার প্যাকেট দু’দিন সে পৌঁছে দিয়েছে এয়ারপোর্টে। পরিবর্তে সে দু’-দুটো দামি সিগারেটের প্যাকেট উপহার পেয়েছে; সঙ্গে কিছু টাকা। নেশা এমন চরমে পৌঁছেছে যে, এই সিগারেট ছাড়া সে আর বাঁচবে না।

প্রমিতের এই দুর্বলতার সুযোগে অন্য এক খেলায় মেতেছে রাকেশ সামন্ত। বি এম ডব্লিউ-তে প্রমিতকে তুলে নিয়ে আসল কথাটা পাড়ল।

—“তুমি এখন আমাদের দলের সদস্য।” রাকেশ বলল।

—“দল?!” প্রমিত জিজ্ঞেস করে।

—“হেরোইন, ব্রাউন সুগার, জাল নোটের ব্যবসা আমাদের।” হাসিতে ফেটে পড়ে রাকেশ।

—“এর মানে কী?” প্রমিতের ডানহাতের আঙুল তখন হোয়াটসঅ্যাপ-এ মেসেজ টেক্সট করছে প্রতীককে।

—“তুমি নিজে হাতে দু’-দুবার এয়ারপোর্টের কাছে পাচার করেছ।”

—“কী বলছেন? গাড়ি থামান। আমি নেমে যাব। আপনি—আপনি আমাকে নেশাগ্রস্ত করে—”

কথা শেষ হয় না প্রমিতের। তার আগেই রাকেশের ইশারায় কঠিন দুটো হাত তাকে শ্বাসরোধ করে…কিছুক্ষণের মধ্যে নরম সিটের উপরে এলিয়ে পড়ল প্রমিতের প্রাণহীন দেহ।

**********

“আমি সত্যিই এত সব ঘটনা জানতাম না।” প্রমিতের ডায়েরিটা প্রতীকের হাতে ফেরত দিতে দিতে বলল স্নেহা। প্রতীকের দু’চোখের কোণ চিক্ চিক্ করে উঠল, “শেষবারের মতো প্রমিত মেসেজ করেছিল রাত দশটা পাঁচে—‘দাদা, বড় বিপদ—একটা র্যাকেটে জড়িয়ে পড়েছি।’”

—“এফ আই আর করেছিলেন?”

—“হ্যাঁ। মিসিং ডায়েরি করেছিলাম। লাভ হয়নি।”

—“ওর বডি…”

—“যে বডিটা পাওয়া গিয়েছিল বাইপাসের ধারে; সেটা রাকেশ সামন্তের। কারণ ভিক্টিমের প্যান্টের পকেটে যে পার্স পাওয়া গেছে, তাতে রাকেশের আই ডি ছিল। কিন্তু একমাত্র আমি জানি ওই বডি রাকেশের নয়, আমার ভাই প্রমিতের—”

—“এটা কী করে সম্ভব?”

—“এটা সম্ভব মিস মিত্র। কারণ ভিক্টিমের মুখটা এমন ভাবে থেতলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে তাকে চেনার কোনও উপায় না থাকে। আমি বডি দেখেছি; বডির হাত-পা-নখ এমনকী মাথার চুল পর্যন্ত আমার ভীষণ পরিচিত।” একটু থেমে আবার বলল, “আমার বাবাকে এখনও জানানো হয়নি…একবার স্ট্রোক হয়ে গেছে।” প্রতীকের দু’চোখ ছাপিয়ে জলধারা নামে।

**********

ভাগীরথীর তীর। বহরমপুর শহরের উপকন্ঠে গঙ্গার একটা বাঁধানো ঘাটে বসে জলের শোভা দেখছে সজল। পশ্চিম আকাশে সূর্যের রং টকটকে লাল; আর নদীর জলেও কে যেন লাল সূর্যকে গলিয়ে ঢেলে দিয়েছে। পাশের রাস্তা দিয়ে অনবরত গাড়িঘোড়া চলছে। ঘাটে কেউ কেউ স্নান করছে; যদিও তাদের সংখ্যাটা কম। কয়েকজন তারই মতো বসে আছে নদীর কূলে।

সে ভাবছিল মাসখানেক ধরে তাদের পরিবারে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা। রাকেশ নামে একটা কুগ্রহ তার দিদির জীবনে প্রবেশ করে শুধু দিদি নয়, তাদের পুরো পরিবারকে ছারখার করে দিয়েছে। নাহলে আজ তাকেও কি এভাবে পালিয়ে মুর্শিদাবাদে চলে আসতে হয়? বাগুইআটি থানার পুলিশ তাকে খুঁজছে। কিচ্ছু ভালো লাগছে না।

এইসব সাত-পাঁচ যখন ভাবছে, ঠিক তখন নারীকন্ঠের ‘চোর চোর’ চিৎকার শুনে রাস্তার দিকে তাকাল। দেখল একটা ঢ্যাঙা মতো লোক রাস্তা দিয়ে ছুটে আসছে। আর তার পেছনে একটা যুবতী চিৎকার করতে করতে ধেয়ে আসছে। লোকটা নাগালের মধ্যে এলেই সজল তাকে জাপটে ধরে হাতের সেলফোন কেড়ে নিল; কিন্তু লোকটাকে ধরে রাখা গেল না। সে সজলের হাত ছাড়িয়ে মুহূর্তে পালিয়ে চলে গেল দৃষ্টিপথের বাইরে। কয়েক মুহূর্ত পরে মেয়েটা হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এল তার কাছে।

—“এই নিন। এটা আপনার সেলফোন?” সজল ফোনটা তুলে দিল মেয়েটার হাতে।

—“কী বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেব! আপনি না থাকলে—” মেয়েটা বলল।

—“এ আর এমন কী ব্যাপার? আপনি হাঁপাচ্ছেন দেখছি—”

—“হ্যাঁ; একটু কষ্ট হয়ে গেছে।”

—“জল খাবেন?”

—“হ্যাঁ। একটু বসব।”

সজল নিজের ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করল। একটু আগে রাস্তার কয়েকজন উৎসাহী মানুষের যে ছোট্ট ভিড়টা জমেছিল, সেটা ফাঁকা হয়ে গেল। এতক্ষণে সজল ভালো করে দেখল মেয়েটাকে। ফরসা, গোল মুখাকৃতি। বাঁশপাতা ঠোঁট। চোখদুটো টানাটানা। চুল কাঁধের নীচে। পরনে লাল-হলুদ সালোয়ার কামিজ।

—“আমি তৃণা বসু। আপনি—?”

—“আমার নাম সজল মিত্র। লালগোলাতে আমাদের দেশের বাড়ি। এদিকটা ঘুরতে এসেছিলাম। আপনি এখানে কোথায় থাকেন?”

—“আমাদের বাড়ি রাঙামাটিতে। কে এন কলেজে বটানিতে অনার্স করছি; ফাইনাল সেমিস্টার। সেই সূত্রেই এখানে লজিং থাকি।”

—“চা খাবেন? রোডের ওই পাশে দোকান—”

—“চা আমিই খাওয়াব আপনাকে। দাঁড়ান—”

—“না না। আপনি অন্যদিন খাওয়াবেন। একটু বসুন। আমি আসছি।” সজল উঠে গেল চা আনতে। এখন নিজেকে হিরো হিরো মনে হচ্ছে। দেখা যাক মেয়েটাকে তোলা যায় কিনা!

ঠিক তখন তৃণার ফোন ভাইব্রেট করে ওঠে। তৃণা দেখল—বিদ্যুৎ কলিং…। ও কলটা কেটে দিয়ে বিদ্যুৎকে মেসেজ টেক্সক্ট করল, ‘মাছে টোপ গিলছে; এখন খেলিয়ে তোলার অপেক্ষায়। রাতে কল করব, বাই।’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%