ষষ্ঠ পর্ব : অনন্যা দাশ

বিশ্বরূপ মজুমদার

6

স্নেহা চার দিন ধরে বাড়ি ফেরেনি। সুমন্তবাবু আর গীতাদেবী চিন্তায় চিন্তায় শরীর খারাপ করে ফেলেছেন। গীতাদেবী তো বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারছেন না প্রায়। সুমন্তবাবু পুলিশে খবর দেবার পর থেকে উদ্বিগ্ন ভাবে এ-ঘর ও-ঘর করছেন কিন্তু কোনও খবর আসেনি। চতুর্থ দিন আর থাকতে না পেরে পুলিশ স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলেন সুমন্তবাবু, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। সঞ্জয় বোস আর প্রদীপ ঘোষ দু’জনে মিলে বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেছে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে স্নেহাকে খুঁজে বার করার। ওর ফোন ট্রেস করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু সেটা মনে হয় ভেঙেচুরে অন্য কোথাও ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সবের মধ্যে উনি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে বসে থাকলে বাড়তি কোনও লাভ হবে না।

—“বুঝতেই তো পারছেন আমি বাবা। এদিকে আমার স্ত্রী কেঁদে কেঁদে শরীর খারাপ করে ফেলেছে। কী আছে আমাদের ভাগ্যে কে জানে!” প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে বললেন সুমন্তবাবু।

—“আমি বুঝতে পারছি, কিন্তু আপনি এখানে বসে থাকলে সত্যিই কোনও লাভ হবে না। আপনি বাড়ি যান, স্ত্রীকে সামলান। নিজেদের সুস্থ রাখুন। আপনারা অসুস্থ হয় পড়লে কারও লাভ হবে না। কোনও কিছু খবর পেলেই আমি আপনাকে জানাব। আপনার ফোন নম্বর তো আছে আমার কাছে,” সঞ্জয় বোস যথাসম্ভব নরম ভাবে বলল।

সেই কথাতেই কাজ হল। সুমন্তবাবু ধীর পায়ে পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেলেন। একটা ট্যাক্সি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। মাথার ঠিক নেই এই অবস্থায় ট্রেনে-বাসে ফেরাটা ঠিক হবে না সেটা নিজেই বুঝতে পারছিলেন। সজলটা সঙ্গে থাকলে না-হয় হত। গীতা ওকে তড়িঘড়ি গ্রামে না পাঠিয়ে দিলেই ভালো করত মনে হয়। তাতে ছেলে হয়তো ভালো থাকবে কিন্তু সুমন্তবাবুর কোনও অবলম্বনই থাকছে না যেন।

ট্যাক্সি থেকে নেমে ভাড়া চুকিয়ে বাড়ির দিকে এগোতে যাবেন এমন সময় একজন লোককে ওঁর দিকে এগিয়ে আসতে দেখলেন। সুমন্তবাবু জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দিয়ে তার দিকে তাকাতে সে বলল, “আপনিই কি সুমন্ত মিত্র? মানে স্নেহার বাবা?”

সুমন্তবাবু হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়তে লোকটা বলল, “আমার নাম প্রতীক। প্রতীক রায়। আমি স্নেহাদের ব্যাঙ্কে কাজ করি। স্নেহা গত কয়েকদিন অফিসে আসেনি তাই আমিই এলাম। আমার আন্দাজ আপনি ম্যানেজারকে ফোন করে বলেছেন, কিন্তু তিনি আমাদের কিছুই জানাননি। তাই আমি খোঁজ নিতে চলে এলাম।”

সুমন্তবাবু একবার কী একটু ভাবলেন তারপর বললেন, “আসুন, ভিতরে আসুন। সব বলছি। পুলিশ স্টেশন থেকেই ফিরছি আমি।”

প্রতীককে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ঢুকে সোফায় বসে সব কিছু বললেন। প্রতীক কে কী সেসব কিছু যাচাই না করেই সব বলে দিলেন। নিজেকে একটু হালকা করতে চাইছিলেন সুমন্তবাবু। মেয়েরই যখন অপহরণ হয়ে গেছে তখন আর কে জানল না জানল তাতে কী যায় আসে? সত্যি বলতে কী স্নেহা কেন যে ওই লম্পট রাকেশটার কথা বিশ্বাস করল সেটা ভাবলেই সুমন্তবাবুর খুব রাগ হচ্ছে।

সব শুনে প্রতীক বলল, “সেইজন্যেই আমি এতদূর এলাম, জানেন। আমি ওই রাকেশ আর তার সাঙ্গোপাঙ্গদের হাড়ে হাড়ে চিনি! আমি স্নেহাকে ওয়ার্ন করার চেষ্টাও করেছিলাম কিন্তু ও আমার কথায় কান দেয়নি। ভীষণ ধূর্ত ওরা। আন্তর্জালের সাহায্যে জাল ফেলে। কম বয়সের ছেলে-মেয়ে যুবক-যুবতী হল এদের টার্গেট। ফেসবুক এবং আরও কিছু সাইট থেকে ফেক প্রোফাইল বানিয়ে অপারেট করে এরা। একবার কেউ তাদের জালে আটকা পড়লে তাদের মাদকাসক্ত করে তাদের দিয়ে যা ইচ্ছে করায়। তার মধ্যে, ড্রাগস বিক্রি, জাল নোটের কারবার কিছুই বাদ যায় না।”

সুমন্তবাবুর মুখ শুকিয়ে গেল, “ওরা তো স্নেহার ভয়ানক ক্ষতি করবে তাহলে! আমার মেয়েটা...আচ্ছা আপনি...”

—“আমাকে তুমি বলতে পারেন!”

—“তুমি একবার পুলিশের সঙ্গে কথা বলবে, বাবা? আমাকে যা বললে সব ওদের বলবে?” সুমন্তবাবু কাতরভাবে অনুরোধ করলেন।

—“হ্যাঁ, বলব,” প্রতীক রায়ের স্বরে ইস্পাতের কাঠিন্য।

—“আচ্ছা দাঁড়াও, আমি সঞ্জয় বোসকে ফোনটা লাগাই,” ফোনটা করতে গিয়ে হঠাৎ কী মনে হতে সুমন্তবাবু জিজ্ঞেস করলেন, “কিন্তু তুমি এত কিছু জানলে কী করে?”

—“জানলাম কারণ আমার ভাইটার জীবন নষ্ট করেছে ওই শয়তানগুলো! আমার ভাই প্রমিতের মৃত্যুর জন্যে দায়ী ওই নরকের কীটগুলো!”

**********

বিদ্যুতের গলা শুনে স্নেহার মাথায় নানান চিন্তা খেলতে লাগল। কী করছে ওই লোকটা এখানে? রাকেশ তো বলেছিল সুনীলরা থাকবে শুধু আর সুনীলরা ওর কোনও ক্ষতি হতে দেবে না, তাহলে বিদ্যুৎ এখানে এল কী করে? বিদ্যুতের কথা তো রাকেশ বলেনি!

বেশিক্ষণ ভাবতে হল না তাকে। দরজা খুলে গেল আর বিদ্যুৎ এসে ঢুকল ঘরটায়। ঘরে ঢুকে সে দরজাটা বন্ধ করে দিল। স্নেহা প্রথমে ভয়ে কেঁপে উঠছিল তারপর দেখে মনে হল আরে এ তো সেই পুরনো বিদ্যুৎ, যে এক কালে তার বয়ফ্রেন্ড ছিল। এত বছরে খুব একটা বদলায়নি সে। একটু রোগা হয়েছে শুধু আর মাথার চুলে কয়েকটা রুপালি রেখা।

—“হ্যালো স্নেহা, কেমন আছো? অনেকদিন পর তোমার সঙ্গে দেখা হল!”

—“বিদ্যুৎ!” এবার আর উত্তেজনা সামলাতে না পেরে স্নেহা প্রায় চিৎকার করে উঠল, “কী করছ তুমি এখানে? রাকেশ কোথায়? আমাকে কেন ধরে রাখা হয়েছে এখানে?”

—“আরে সুইটহার্ট, অত প্রশ্ন একসঙ্গে করলে আমার বোকা মাথা সামলাতে পারবে না। আমি কেন এখানে এসেছি সেটার উত্তর সোজা। তোমার জন্যে। তোমাকে বাঁচাতে।”

—“মানে? আমাকে বাঁচাতে মানে? রাকেশ কোথায়?”

—“রাকেশ যেখানেই থাকুক তুমি প্রার্থনা করো সে যেন এখানে না এসে পড়ে। ওর ওই ভাড়া করা গুন্ডা সুনীল আর তার চ্যালাদের আমি আমার সৃষ্ট বাদামী তরলে ডুবিয়ে রেখে এসেছি। এখন ঘণ্টাখানেক নিশ্চিন্ত। সেই সুযোগে তুমি পালিয়ে যাও। আমাকে এখানেই অপেক্ষা করতে হবে রাকেশের জন্য।”

—“আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। রাকেশের জন্যে কেন অপেক্ষা করবে তুমি?” স্নেহা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে জিজ্ঞেস করল, “রাকেশ তো মনে হয় পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।”

—“পুলিশের ভয়ে নয় সুইটহার্ট, আমার ভয়ে! পুলিশের জন্যে গল্প তৈরি করেই রেখেছে সে। আর বলির পাঁঠাও তুমি!”

—“কী বলছ বিদ্যুৎ, আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না!”

—“আরে বাবা আমি তো স্যাবাটিকালে গিয়েছিলাম। মানে আয়াহুয়াস্কার খোঁজে। আমার অবর্তমানে মুকেশ ছিল সব কিছুর দায়িত্বে। মুকেশ, মানে আমার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, মুকেশ পাটানিয়া। আমি যখন রাকেশকে আমার টিমে নিয়েছিলাম তখন ভেবেছিলাম ও কাজের ছেলে, ওর বুদ্ধি আছে কিন্তু রাকেশ অন্য রকম হয়ে গেল আমি গায়েব হওয়ার পরই। টাকা সরাতে লাগল এদিক ওদিক থেকে। মুকেশ যখন বুঝতে পারল কার কাজ ততক্ষণে প্রচুর দেরি হয়ে গেছে। পনেরো লাখ, মুকেশের ক্রেডিট কার্ড, একগাদা জাল নোট আর অনেকটা পাউডার মাল সরিয়ে ফেলেছে রাকেশ। মুকেশ ওকে টাকা আর মাল ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে চাপ দিতে লাগল। সেখান থেকেই রাকেশ একেবারে মরিয়া হয়ে গেল। তোমাকেও জড়িয়ে ফেলল ফাঁদে। তোমাকে যারা দেখতে গিয়েছিল তারা ওর মা-বাবা নয়, অভিনেতা মাত্র। ওর আসল উদ্দেশ্য ছিল পনেরো লাখ। সেখানে কিছু লাভ হল না দেখে ও নিজের মৃত্যু সাজিয়ে ফেলল। মৃতদেহের মুখ থেঁতলে দিয়ে ওই রকম করাটা আমাদের লাইনে ডালভাত। তুমি ওর তুরুপের তাস। তোমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে এখানে রেখেছে। সব দোষের বোঝা তোমার ঘাড়ে ফেলার মতলব। জাল টাকা, মাদক দ্রব্য সব কিছু তোমার কাছে পৌঁছে দিয়ে তারপর ভালো মানুষটি সেজে তোমাকে টোপ দেখিয়ে এখানে এনে ফেলেছে। আমি বাজে লোক হতে পারি কিন্তু আমার কিছু প্রিন্সিপাল আছে। যে নির্দোষ তাকে শুধু শুধু জড়িয়ে সব দোষের বোঝা তার ওপর চাপাতে আমি রাজি নই। তাছাড়া তুমি এককালে আমার গার্লফ্রেন্ডও ছিলে। আমাদের সম্পর্ক আর নেই তো কী হয়েছে, এক সময় তো ছিল, তাই আমি তোমাকে বাঁচাতে এসেছি। রাকেশ জানতে পারলে ছুটে আসবে, তা আসুক। আমার সঙ্গে ওর টক্কর হবে তখন। আর আমার কিন্তু ওর মতন কারও আড়ালে লুকাবার দরকার নেই। আমার এও ভয় নেই যে তুমি বাড়ি ফিরে পুলিশকে কী বলবে। তার কারণ হল আমি যে জিনিস তৈরি করতে পেরেছি সেই জিনিসই আমার জন্যে ইমিউনিটি এনে দেবে। সে জিনিস যাদের পছন্দ হয়েছে তারাই আমার জন্যে খরচ করে আমাকে সব কিছুর থেকে বাঁচাতে রাজি। তারা হাই প্রোফাইল লোক, যে কোন সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারে তারা। শোনো, আর কথা নয়। এতক্ষণে দাওয়াই কাজ করে গেছে নিশ্চয়ই। তুমি এবার পালাও।”

—“কিন্তু, কিন্তু...আমি কোথায় যাব? কিছুই তো চিনি না,” স্নেহা ভয়ার্ত গলায় বলল।

—“এই বাড়িটা একটা জঙ্গলের মধ্যে। সে জঙ্গল তোমার কাছে যা আমার কাছেও তাই। জঙ্গলটা পেরোতে পারলেই তুমি মেইন রাস্তায় গিয়ে পড়বে। সেখানে পৌঁছতে পারলেই সাহায্য পেয়ে যাবে। কেউ না কেউ তোমাকে ফোন দিয়ে দেবে বাড়িতে ফোন করার জন্যে। ওই কাজটা আমি করতে পারব না। আমার ফোন নম্বরটা আমি জানাজানি হতে দিতে পারি না সুইটহার্ট। আর তোমার ফোনটা তো মনে হয় এরা ফেলে দিয়েছে ট্র্যাক হওয়ার ভয়ে। আগে কত ঘন ঘন কল করতাম তোমাকে আর এখন...যাক ওসব কথা থাক। ওই বাইরের লোকগুলোর কাছে হয়তো ফোন আছে কিন্তু যতক্ষণে পুলিশের লোকজন আসবে তোমাকে বাঁচাতে তার আগেই হয়তো রাকেশ এসে পড়বে। তাই তোমার বেরিয়ে পড়াই ভালো। বিদায় স্নেহা, আর হয়তো আমাদের দেখা হবে না কোনওদিন। ভালো থেকো।” বলে ঘরের দরজাটা খুলে দাঁড়াল বিদ্যুৎ।

চারদিনের অভুক্ত স্নেহা শুধুমাত্র অ্যাড্রেনালিনের জোরে ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে গেল। বাইরের ঘরে দেখতে পেল তিন চারজন ষণ্ডামার্কা লোক মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। টেবিলে এক জগ পানীয়, লিকার চায়ের মতন দেখতে। এক ছুটে ওই ঘরটা পেরিয়ে যেতে যেতে স্নেহা ভাবল, ‘বাপ রে! ওই চায়ের মতন দেখতে পানীয়র এত তেজ! যাতে ওই বিশাল বিশাল লোক সব কুপোকাৎ!’

বাইরে যাওয়ার দরজাটা খোলাই ছিল। স্নেহা ছুটে বেরিয়ে যাওয়ার আগে একটিবার পিছনে তাকিয়ে দেখল। বিদ্যুৎ দাঁড়িয়ে রয়েছে। মুখে ফুটে উঠেছে এক অদ্ভুত অভিব্যক্তি। আর কিছু না ভেবে ছুটে বেরিয়ে গেল বাড়িটা থেকে সে।

বেরিয়েই বুঝতে পারল কী বলতে চেয়েছিল বিদ্যুৎ। বাইরে একেবারেই ঘন একটা জঙ্গল। সবুজে সবুজে ভরপুর। এমনি সময় এই রকম জঙ্গল দেখলে স্নেহার রোমাঞ্চ হত কিন্তু এখন ভয় করছে। লোকগুলো কী করে ওকে এনেছিল স্নেহার জানা নেই কারণ তখন সে অজ্ঞান। কিন্তু এখন এই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে বড়ো রাস্তায় পড়াটা একটা কঠিন কাজ সেটা বুঝতে অসুবিধা হল না স্নেহার। তাও পুরস্কার যখন তার নিজের প্রাণ তখন চেষ্টা তো করতেই হবে ভেবে স্নেহা ঢুকে পড়ল জঙ্গলের মধ্যে আর ছুটে চলল। গাছের ডালের খোঁচা লেগে স্নেহার জামা কাপড় ছিঁড়ে যেতে লাগল। দুয়েকবার পড়ে গিয়ে কপালে, হাতে, পায়ে চোট পেল তাও থামল না সে। কিন্তু হঠাৎ কানফাটা বন্দুকের শব্দে থমকে দাঁড়াতে হল স্নেহাকে। কে গুলি করছে? গুলিটা যেন একেবারে ওর কান ঘেঁষে চলে গেল। এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়িয়ে আবার এগোতে যাবে এমন সময় দেখতে পেল গাছের আড়াল থেকে বন্দুক হাতে বেরিয়ে এল রাকেশ!

—“স্নেহা, স্নেহা! কোথায় চললে? আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছ তুমি? আমাদের না বিয়ে করার কথা?”

—“রাকেশ আমাকে যেতে দাও। আমি কাউকে কিছু বলব না। তুমি যেমন আছ তেমনই থাকবে। আমাকে আমার মা-বাবার কাছে যেতে দাও। ওই ভাবে বন্দি হয়ে আমি থাকতে পারব না প্লিজ!” স্নেহা পীড়াপীড়ি করে বলল।

—“না, তা হয় না স্নেহা। তোমাকে আমি যেতে দিতে পারব না!”

বন্দুক হাতে রাকেশ এগিয়ে আসছে আস্তে আস্তে ওর দিকে। স্নেহা পিছিয়ে যেতে যেতে একটা গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা খেয়ে থেমে গেল। ভয়ে কান্না পাচ্ছে ওর। শেষে কী তীরে এসে তরী ডুববে। রাকেশ এক পা এক পা করে বন্দুক নিয়ে এগিয়ে আসছে ওর দিকে। ওর খুব কাছে চলে এসেছে সে, স্নেহা চোখ বন্ধ করে ফেলল ভয়ে! আর উপায় নেই। হঠাৎ দুম করে একটা শব্দ হল আর রাকেশ লুটিয়ে পড়ল ওর পায়ের কাছে! রক্ত, ফিনকি দিয়ে রক্ত...কাউকে দেখতে পেল না স্নেহা কিন্তু বুঝল কার কাজ। আর থেমে না থেকে, পিছনে না তাকিয়ে ছুটতে লাগল সে।

কতক্ষণ ছুটেছিল জানে না স্নেহা। জঙ্গল পার করতে ওর কত সময় লেগেছিল কে জানে, আধ ঘণ্টাও হতে পারে আবার দু’ঘণ্টাও হতে পারে। ওর হাতের ঘড়ি কখন ছিঁড়ে পড়ে গেছে স্নেহা জানে না। বড়ো রাস্তার ধারে একটা ছোট গুমটি মতন দোকান দেখতে পেল স্নেহা। সে তখন হাপরের মতন হাঁপাচ্ছে, জামাকাপড় ছিন্ন ভিন্ন। দোকানদারের কাছে ফোন চাইতেই সে এক কথায় দিয়ে দিল। নম্বরটা টাইপ করে কল করতেই ওপাশ থেকে সুমন্তবাবু ধরে বললেন, ‘হ্যালো? কে?’

‘বাবা, আমি স্নেহা! আমি পালাতে পেরেছি ওর হাত থেকে! তুমি আমাকে এসে নিয়ে যাও। আমি একজনকে ফোনটা দিচ্ছি। তিনি বলে দেবেন এই জায়গাটা কোথায়। তাড়াতাড়ি এসো। আর বাবা, মাকে বলো চিন্তা না করতে। আমি ঠিক আছি!’

**********

স্নেহার কথা শুনে পুলিশ ব্যাকআপ নিয়ে সঞ্জয় বোস আর প্রদীপ ঘোষ ওই জঙ্গলের বাড়িটাতে গিয়েছিল। সেখানে শুধু একটা সদ্য পুড়ে যাওয়া বাড়ি দেখতে পেয়েছিল তারা, আর ভিতরে ছিল বেশ কয়েকটা পুড়ে প্রায় ছাই হয়ে যাওয়া মৃতদেহ!

61
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%