বিশ্বরূপ মজুমদার

“ও কিন্তু টাকাটা ফেরত দিয়ে দেবে জানিয়েছিল,” গ্লাসের জলটা এক চুমুকে শেষ করে স্নেহা বলল।
“রাকেশ, তোকে এ কথা বলেছিল! সেদিন তোর ভাইয়ের সঙ্গে হাতাহাতি হবার পরও তুই ওর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলি?” মায়ের চোখে অবিশ্বাসের সঙ্গে একটু ঘৃণাও কি মিশে আছে? স্নেহা, মায়ের অগ্নিদৃষ্টির সামনে এবার ভেঙে পড়ল। দু’জন দুঁদে অফিসারের সামনেও সে মেরুদণ্ড খাড়া করে বসেছিল, কিন্তু নিজের নিরাপদ গৃহকোণে বড্ড বিপন্ন মনে হল। টেবিলের উপর মাথা রেখে ফুঁপিয়ে উঠল। একদিনে এতকিছু সে আর নিতে পারছে না। রাকেশ নেই, বিদ্যুৎকে নিয়ে রহস্য ঘন হচ্ছে, জাল নোট, মাদক দ্রব্য আর সেই বিভীষিকা বুনে দেওয়া তীব্র আলোর মধ্যে বসে থাকা দু’জন কড়া অফিসারের জিজ্ঞাসাবাদ।
“আহ গীতা, এখন এসব কথা বলার সময় না, ওকে সামলে উঠতে দাও। আমার মেয়ে কোনও অন্যায় করতে পারে না।” সুমন্তবাবু, মেয়ের মাথায় হাত রাখতেই স্নেহা মুখ তুলে বাবাকে জড়িয়ে ধরল। কাঁদতে কাঁদতেই বলল, “বিশ্বাস করো বাবা, আমি এসব কিছুই টের পাইনি, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে।”
সুমন্তবাবু জানেন, ছেলেটা বখে গেলেও স্নেহা এখনও ফুলের মতো নিষ্পাপ। গীতাদেবীকে চোখের ইশারা করলেন মেয়েকে ঘরে নিয়ে যাবার জন্য।
স্নান করার পর একটু বেটার ফিল করছে স্নেহা। মেয়ের ভেঙে পড়া বিধ্বস্ত রূপ দেখে গীতাদেবীর রাগ পড়ে গেছে, নিজের হাতে মেয়েকে খাইয়ে দিচ্ছেন তিনি, স্নেহার আপত্তি না শুনে। স্নেহা একবার দেওয়ালের কাঠের ঘড়িটার দিকে তাকাল, এগারোটা পনেরো বাজে। এই ঘড়িটা একটা হ্যান্ডিক্রাফট মেলা থেকে রাকেশই কিনে দিয়েছিল। সূর্যের মতো দেখতে, উজ্জ্বল কমলা রংটার দিকে তাকালে মনের অবসাদ দূর হয়ে যায়। রাকেশ বলত ম্যাজিক ওয়াচ। আবার রাকেশের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। জোর করে মন থেকে রাকেশকে সরিয়ে স্নেহা প্রশ্ন করল, “ভাই, দুপুরে বাড়ি এসেছিল? এত রাত হল এখনও ফিরল না তো!”
ছেলের কথা উঠতেই সুমন্তবাবুর ঠোঁটটা তাচ্ছিল্যে বেঁকে গেল, গীতাদেবী তড়িঘড়ি জবাব দিলেন, “না মানে, ওর একটা কাজ পড়েছে, ক’দিনের জন্য বাইরে যেতে হবে বলেছিল।” স্নেহা একটা বিপদের গন্ধ পেল, তার সিক্সথ সেন্স বলছে, খুব বড় বিপদ আসছে। আর খাবে না জানিয়ে সে উঠে পড়ল।
শোবার আয়োজন করছিল। মা তার সঙ্গে শুতে চেয়েছিল। কিন্তু স্নেহার একটু স্পেস চাই, সারাদিন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রথম থেকে ভাববে তারপর সবকিছুর মধ্যে যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করবে। আর সেজন্য চাই নির্জনতা। অনেক কষ্টে মাকে ঠেকিয়েছে।
দরজায় ঠুকঠুক আওয়াজ উঠতেই স্নেহার হাত থেমে গেল, মা বুঝি মানা করা সত্ত্বেও বালিশ নিয়ে চলে এল, উফ ডিসগাস্টিং।
“দরজাটা খোল মা, একটু কথা আছে”, বাবার গলা পেয়ে দ্রুত হাতে চাদরটা ঠিক করে দরজা খুলল স্নেহা। বাবা হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকে এল, “তোর মা এখন ফোনে ব্যস্ত। কয়েকটা কথা জানতে এলাম, নাহলে শান্তি পাচ্ছি না।” বাবা স্থির চোখে স্নেহার দিকে তাকিয়ে থাকে। স্নেহা, টেবিলের উপর থেকে ফোনটা তুলে প্যাটার্ন লক খুলে মেসেজ বক্সে যায়, তারপর ফোনটা এগিয়ে দেয় বাবার দিকে। সুমন্তবাবু, মেসেজটা একবার না তিনবার খুঁটিয়ে পড়েন। তারপর জিজ্ঞাসু চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। স্নেহা ধীরে ধীরে বলে, “আমিও অবাক হয়েছিলাম বাবা, পনেরো লাখ টাকা পণ চেয়েছিল যে, সে-ই রাত্রি বারোটার সময় মেসেজ করে বলছে, টাকাটা যা হোক করে দাও, কথা দিচ্ছি এক মাসের মধ্যে রিটার্ন করব। বাবা, পণের টাকা কেউ রিটার্ন করে!”
“তার মানে ওর টাকার দরকার পড়েছিল, মরিয়া হয়ে উঠেছিল টাকাটা পেতে। হয়তো টাকাটা যোগাড় করতে পারল না বলেই ওকে পৃথিবী থেকে সরে যেতে হল।” আপনমনে কথাগুলো বলে চলে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন সুমন্তবাবু।
“বাবা” স্নেহা ডেকে উঠতেই থেমে গেলেন তিনি। “বাবা, ওই ঘটনার পর আমি আর কথা বলিনি ওর সঙ্গে, ফোন রিসিভ করিনি বলে মেসেজ করেছিল, সেটা পাবার পর ওর দুটো নাম্বারই ব্লক করে দিয়েছিলাম। আমি কি ভুল করেছিলাম বাবা? হয়তো ওর কিছু বলার ছিল আমাকে!”
সুমন্তবাবু অপলক চেয়ে থাকেন আত্মজার দিকে। এই স্নেহাকে তাঁর অচেনা মনে হয়। ধীরে ধীরে তিনি মেয়ের ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
শুরু থেকে এক এক করে ভাবছিল স্নেহা। জাল নোটের ব্যাপারটা তাকে ভাবাচ্ছে। আচ্ছা রাকেশের মৃত্যুর এত ঘণ্টার মধ্যেও তো ওর বাড়ি থেকে কেউ যোগাযোগ করল না! ব্যাপারটা কেমন অস্বাভাবিক লাগছে না? বিদ্যুৎ এত নির্লিপ্ত থাকতে পারত কীভাবে, নিজের এক্সকে বন্ধুর পাশে দেখেও? রাকেশ যদি বেঁচে থাকত আর তার সামনেই অন্য মেয়ের সঙ্গে মেলামেশা করত, তার বুকে কি ঈর্ষার আগুন জ্বলত না? হ্যাঁ এই তো মাথাটা খুলে গেছে। উত্তেজনার বশে বিছানার উপর উঠে বসে স্নেহা। ইস এত সহজ অঙ্কটা সে মিলিয়ে ফেলতে পারল, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট পারছে না? ঈর্ষার আগুন! হ্যাঁ এই ঈর্ষার আগুনেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে রাকেশ। বিদ্যুৎ ঠান্ডা মাথায় অলক্ষ্যে থেকে ঘুঁটি সাজিয়ে গেছে। আর তারা ওর নিরুদ্দেশের কথা ভেবে কতই না হা-হুতাশ করেছে!
সাইড টেবিলে জলের বোতল রাখাই ছিল। ঢকঢক করে অনেকটা জল খেয়ে শুয়ে পড়ল স্নেহা। এবার তার নার্ভগুলো শান্ত হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠালে সে জোর গলায় বলবে, ‘কালপ্রিটকে খুঁজে বার করুন, ওর নাম বিদ্যুৎ।’
ঘুমের মধ্যেই শুনতে পায় ওর নাম ধরে কে যেন ডাকছে। স্বপ্ন দেখছে হয়তো। কিন্তু কাচের জানলায় টোকা পড়তেই চোখদুটো খুলে যায় স্নেহার। একটা ছায়া না? তিনতলার জানলায় রিস্ক নিয়ে কে এল? ভয়ে হাত-পা জমে গেল স্নেহার।
“স্নেহা, আমি রাকেশ, জানলাটা খোলো। রেনপাইপ জড়িয়ে এভাবে বেশিক্ষণ থাকতে পারব না, একটা জিনিস দিয়েই চলে যাব।”
রাকেশ! যে কিনা দিন কয়েক আগেই মার্ডার হয়েছে? এসব কী হচ্ছে তার সঙ্গে? কিন্তু গলার স্বরটা তো...
“প্লিজ স্নেহা একবার সামনে এসো।” হ্যাঁ এই কণ্ঠস্বর তার চেনা। মন্ত্রমুগ্ধের মতো সে জানলার কাছে এগিয়ে যায়, দু’হাতে জানালার পাল্লা দুটো খুলে ফেলে। আর তারপরেই অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে।
**********
আজ আর ব্যাঙ্ক যায়নি স্নেহা, খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে ছিল। রাকেশের মার্ডার প্রসঙ্গে বারবার খবর দেখাচ্ছিল। চলন্ত বাইক থেকে খুব কাছে এসে খুন করার পরও মুখটা এমন বিকৃত করে দেওয়ার কারণ কী! খুনি কি তাহলে সাইকিক? এখন তো পুলিশ মহলেই প্রশ্ন উঠছে বডিটা আদৌ জাল নোটের কারবারী, বর্ডারে গরু পাচারকারী রাকেশ ওরফে রকির তো? অপরাধ জগতে রাকেশ, রকি নামেই পরিচিত। পুলিশ অনেকদিন ধরেই দলের পান্ডাটিকে ধরার জন্য জাল পেতেছিল কিন্তু সে যে সাধারণ জীবনযাপনকারী একজন, আমজনতার ভিড়ে মিশে থাকা মানুষ এটা বুঝতে পারেনি।
রাকেশের নাম উচ্চারণ হতেই গীতাদেবী রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসেন, টিভির পর্দার দিকে যত না মনোযোগ তার থেকে বেশি ব্যস্ত মেয়েকে খুঁটিয়ে দেখতে। ছেলেটা তাঁর মাথামোটা, রগচটা, নেশাভাঙ করলেও মেরুদণ্ডহীন। খারাপ কিছু করার দুঃসাহস তার হবে না। তিনিই গোলমালের আঁচ পেয়ে ছেলেকে হাতে কিছু টাকা দিয়ে মুর্শিদাবাদের গ্রামে দূরসম্পর্কের এক বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে বড্ড ভয় করে। মেয়েটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী, নিজেকে ‘টপ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ দেখতে চায় আর সেজন্য যে কোনও মূল্য চোকাতে পারে। চোখ সরু করে মেয়েকে জরিপ করে দেখে নিচ্ছিলেন, এই ছেলের সঙ্গে মেয়েটা কতটা ইনভলভড ছিল! এমন নয়তো জাল নোটগুলো স্নেহার মাধ্যমেই ব্যাঙ্কে পালটে যেত! সম্ভাবনার কথা মাথায় আসতেই আপাদমস্তক কেঁপে ওঠেন। খুব বিপদ আসতে চলেছে। মেয়ের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলার চেষ্টা করতে হবে, যদিও স্নেহা একটি কথাও ভাঙবে না। একজন ভালো ল’ ইয়ারের সঙ্গে কথা বলতে হবে, যেটা সবথেকে দরকারি। এ ব্যাপারে দিদির জামাই অমিত হেল্প করতে পারবে। বাবা মেয়ের চোখ এড়িয়ে ফোনটা নিয়ে শোবার ঘরে ঢুকে গেলেন গীতাদেবী।
তোশকের তলা থেকে চিরকুটটা বার করল স্নেহা। হ্যাঁ রাকেশেরই হাতের লেখা। ‘চিরকুটটা না পেলে বিশ্বাস করতে না, তাই রিস্ক নিয়েই সামনে এলাম। আমাদের দু’জনের খুব বিপদ। যদি বাঁচতে চাও, আর আমায় বিশ্বাস করো, কাল রাত্রি দুটোয় বেরিয়ে আসবে। একটা কালো স্করপিও তোমার অপেক্ষায় থাকবে। কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দিতে হবে, সব স্বভাবিক হলে ফিরে আসব। ব্যাপারটা গোপন রাখবে। আর সেই এটিএম কার্ডটা নিয়ে আসবে।’
কাল সেন্সলেস হয়ে লুটিয়ে পড়ার পর ঘরের মধ্যে ফেলে রেখে গিয়েছিল রাকেশ। অশরীরী আতঙ্ক যে নয় সেটাই প্রমাণ হয়ে গেছে। চিরকুটটা বুকের মধ্যে চেপে ধরল, রাকেশ বেঁচে আছে, টিভির সাংবাদিকরা বিভ্রান্ত কিন্তু সে জানে বেঁচে আছে রাকেশ। ছোট্ট একটা ব্যাগে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড আর কিছু ক্যাশ ঢুকিয়ে নিল। ক্যাশ আরেকটু বেশি হলে ভালো হত, কিন্তু মাসের শেষে হাত খালি। সেই বিশেষ এটিএম কার্ডটা নেবার সময় চোখের পাতা একটু কেঁপে গেল, এটার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেও রাকেশের কাছে কিছু জানতে পারেনি। স্নেহাকে বিশ্বাস করে রাখতে দিয়েছিল শুধু। মুকেশ পাটানিয়া নামের কারুর কার্ড। আর কিছু নেবার মতো মাথায় এল না, তবুও দু’ সেট পোশাক নিয়ে নিল। কালো জিন্স আর কালো একটা টপ পরার জন্য বেছে রাখল। মা কিছু একটা আঁচ করেছে, হাতের কাজ সেরে আসবে ঠিক। স্নেহা জিনিসগুলো আলমারির মধ্যে রেখে দিয়ে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকল।
রাত দুটোয় পাড়াটা নিঝুম হয়ে আছে। জানালার কাছে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে স্নেহা। অদ্ভুত ব্যাপার, আজ একটা কুকুরও ডাকছে না, এমনকী লাইটপোস্টের আলোগুলোও জ্বলছে না, যেন নিঃশব্দে তার চলে যাবার আয়োজন করতেই এই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তার চিন্তাজাল ছিন্ন হল, নিঃশব্দে কালো গাড়িটা রাস্তায় এসে দাঁড়াল। স্নেহা ছোট ব্যাগটা তুলে নিয়ে বেরিয়ে এল। ইচ্ছা করেই লিফট ব্যবহার করল না। পা টিপে টিপে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বিদ্যুৎ আর রাকেশের সঙ্গে পরিচয়ের মুহূর্তগুলো ভাবছিল। সে অর্থে ওদের দু’জনকে খুব ভালোভাবে জানে না। বিদ্যুতের সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে আলাপ। ওর হাত ধরেই রাকেশ এল। রাকেশ আর ও বিয়ে করবে ঠিক হলেও রাকেশ কিন্তু মেদিনীপুরের গ্রামে থাকা ওর পরিবারের সঙ্গে কোনওদিন পরিচয় করায়নি, মাঝে মাঝে বাড়ি গেলে ওর মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিত। যদিও সামনাসামনি ওর বাবা-মা যেদিন বিয়ের কথা বলতে এল, মায়ের গলার স্বরের মধ্যে চেনা ছাপ খুঁজে পায়নি। সবটাই কেমন ধোঁয়াশা না! তবু কীসের টানে সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল? বাঁচার টানে না কি রাকেশকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে ওইসব মারাত্মক অভিযোগগুলো শুনেও? না কি সত্যিই সে নিষিদ্ধ জগতের হাতছানি উপেক্ষা করতে পারছে না? তার অবচেতন মন কি এভাবেই ‘টপ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ পৌঁছাতে চায়?
কখন যেন গাড়ির সামনে চলে এসেছে। খুব কাছ থেকে কে যেন তিনবার তীব্র জোরে সিটি বাজাল। গাড়ির দরজা খুলে তিনজন সবল পুরুষ এসে তার সামনে দাঁড়াল। এরা কেউ তার রাকেশ না। স্নেহা কঠিন গলায় বলে উঠল, “রাকেশ কোথায়? ও ছাড়া এক পাও আমি এগোব না।” কথাটা শেষ করার আগেই একজন মিষ্টি গন্ধমাখা একটা রুমাল তার নাকের মধ্যে চেপে ধরল, বাকি দু’জন তার শরীরটা খেলনার মতো লুফে নিয়ে গাড়ির মধ্যে আছড়ে ফেলল। চেতনা হারাতে হারাতে স্নেহা বুঝতে পারল, সে ট্র্যাপে পড়েছে।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন