পঞ্চম অধ্যায়

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

বসে থাকতে থাকতে অধৈর্য বোধ করছিল অহনা। ধুতি-পাঞ্জাবি পরা বুড়ো মতো লোকটা ম্যানেজারের ঘরে ঢুকেছে তো ঢুকেইছে, বেরোনোর নাম করছে না। কে এমন কেষ্টবিষ্টু কে জানে, ট্রে সাজিয়ে চা-বিস্কুট-মিষ্টি গেল অন্দরে। তুৎ, এভাবে পুরো সকালটা ব্যাঙ্কে নষ্ট করার কোনও মানে হয়?

জরুরি দরকার না পড়লে অহনা বড় একটা আসে না জেলা সমবায় ব্যাঙ্কের এই শাখায়। ভাল লাগে না পরিবেশটা। ভিড় যথেষ্টই থাকে, কিন্তু কর্মচারীরা কেমন গা-ছাড়া। দেখে মনে হয় এইমাত্র ঘুম থেকে উঠল, এখনও খোঁয়াড়ি কাটেনি। টাকা জমা নিতে অনীহা, পেমেন্ট করতে বিরক্তি...। নেহাত সুদ এরা হাফ পারসেন্ট কম নেয়, নইলে কবেই অহনা এখান থেকে অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নিত।

অহনা ঘড়ি দেখল। বারোটা পঁয়ত্রিশ। কৃষ্ণা বড়জোর একটা, সওয়া একটা অবধি থাকবে। চলে গেলে আর কিছু নয়, নিজেকেই ভাত বাড়তে হবে, খাবার-দাবার নিয়ে বসতে হবে টেবিলে। অজস্র গাঁইগুই সত্ত্বেও মাকে গতকাল বেহালা পৌঁছে দিয়ে এসেছে অহনা, এ ক’দিন কৃষ্ণাই তো ভরসা। বিশেষ করে এই দুপুরবেলাতে। কৃষ্ণা থাকতে থাকতেই অর্ঘ্য যদি সকালের চক্করটা সেরে ফিরে আসে তাও খানিকটা বাঁচোয়া, নইলে দামড়া খোকাটিকে খাওয়ানো দাওয়ানোর দায়িত্ব তো অহনার ঘাড়েই চাপবে।

হ্যাঁ, খোকাই তো। অর্ঘ্যর ডাকনাম তো খোকাই। কাজেকম্মেও খোকা রয়ে গেছে এখনও। কাল রাত্রে বাড়ি ফিরে শরীর আর চলছিল না, অর্ঘ্যকে একটু চা বানিয়ে দিতে বলল, সে সরসুদ্ধ দুধটুধ দিয়ে যে দ্রব্যটি করে আনল, মুখে দেয় কার সাধ্যি! চুমুক দিয়ে নিজে পর্যন্ত বলছে, খুব অখাদ্য হয়েছে, না অণুদি! এদিকে কত না বারফাট্টাই কথা। অহনার বাড়ির সব কাজ নাকি করে দেবে! মাকে বাগানের কাজে সাহায্য তো দূরস্থান, নিজের ঘরটি পর্যন্ত এখনও সেই দশাতেই আছে। কৃষ্ণা হাত লাগাতে গেলেও হাঁ হাঁ করে ওঠে। ছেলেটার বোধশক্তি বলে বোধহয় কিস্যু নেই, না হলে ওই ঘরে কেউ বাস করতে পারে!

ম্যানেজারের দরজা খুলেছে। অহনা টানটান। বেরোচ্ছে ধুতি-পাঞ্জাবি, সঙ্গে বিনয়ে গদগদ ম্যানেজার। প্রায় ব্যাঙ্কের গেট অবধি ভদ্রলোককে এগিয়ে দিয়ে ফিরছে। অহনার ওপর চোখ পড়ামাত্র হাসিহাসি মুখে বলল, “সরি। আপনাকে অনেকক্ষণ ওয়েট করতে হল। আসুন।”

ভেতরে ঢুকে চেয়ারে বসতে বসতে অহনা জিজ্ঞেস করল, “ভদ্রলোকটি কে? আমাদের মতো হেঁজিপেঁজি নয়, নিশ্চয়ই কোনও বড় বিজনেসম্যান?”

“দূর, টিয়াডাঙায় আবার ব্যবসায়ী কোথায়! সব তো সবজিওয়ালা। বড়জোর সার-সিমেন্টের ডিলার।” বছর পঞ্চাশের ম্যানেজারটি মুচকি হেসে চোখে একটা অর্থপূর্ণ মুদ্রা ফোটাল, “উনি আমাদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা।”

“মানে?”

“যে বোর্ড এই সমবায় ব্যাঙ্ক চালায়, উনি তার প্রেসিডেন্ট। সরকার বদলের পর আগের সভাপতিকে সরিয়ে এঁকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আজই প্রথম পা রাখলেন আমাদের ব্রাঞ্চে। একটু খাতির না করলে চলে!”

এতক্ষণে অহনার বোধগম্য হল ব্যাপারটা। নতুন সরকার আসার পর থেকেই চারদিকে পরিবর্তনের ঢেউ। স্কুল কলেজ ইউনির্ভাসিটি সমবায়, সর্বত্রই এখন পুরনো কমিটি ভেঙে যাচ্ছে, আসছে নতুন লোক। সাধারণ মানুষের তাতে কত লাভ হচ্ছে কে জানে, তবে নয়া দেবতাদের তুষ্ট রাখা তো ম্যানেজারবাবুদের পরম কর্তব্য। আগের জমানার মতোই ইনিও নিশ্চয়ই স্থানীয় রাজনীতির ওজনদার লোক, সেটাও তো ম্যানেজারবাবুকে মাথায় রাখতে হয়।

যাক গে, আদার ব্যাপারী অহনার জাহাজের খবরে কী দরকার! অহনা নিস্পৃহ স্বরে বলল, “তা আমাকে আবার ফোন করে ডাকলেন কেন? বললেন জরুরি কাজ আছে...”

“হ্যাঁ, আছে তো।” ম্যানেজার সোজা হয়ে বসল। টেবিলে হাত দুটো রেখে বলল, “আমাদের ব্যাঙ্কের তরফ থেকে একটা প্রস্তাব দিতে চাই।”

“কীরকম?”

“আপনার আশাবরীর ওভারড্রাফ্ট লিমিট আছে দশ লাখ। ওটা বাড়িয়ে বিশ লাখ অবধি করতে পারেন। অ্যাট লিস্ট মেক ইট ফিফটিন।”

“হঠাৎ এমন উদারতার কারণ? আমি তো অ্যাপ্লাই করিনি?”

“আমরা দেখছি আপনার অ্যাকাউন্টটা চমৎকার রান করছে। লোনের অ্যামাউন্ট বাড়ছে ক্রমশ, রিপেমেন্ট ইজ অলসো ভেরি রেগুলার। দ্যাট মিন্স আপনার ব্যাবসা ভালই চলছে। অ্যান্ড এক্সপ্যান্ডিং। সে জন্যই বলছি, আপনি আরও বেশি পরিমাণ ওভারড্রাফ্ট তো পেতেই পারেন...”

“কিন্তু আমার তো দশ লাখ টাকার জন্যই সিকিউরিটি দেওয়া আছে। আমার বাড়ি জমি ধরে ওরকমই তো একটা হিসেব করেছিলেন তখন। আমি তো নতুন করে আর কিছু...”

“প্রয়োজন নেই।” ম্যানেজার হাসছে, “ক্লায়েন্ট বুঝে সিকিউরিটির হেরফের করাই যায়। আপনি তো অলরেডি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। জ়াস্ট একটা ফরমাল প্রেয়ার দিন, আমরা অ্যাপ্রুভ করে দেব। আপনারও ব্যাবসা বাড়ুক, সমবায় ব্যাঙ্কের ঘরেও দু’-চার পয়সা আসুক। চাইলে আপনার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটটাকে আরও বড় করতে পারেন। নতুন মেশিনারি কিনুন, হ্যান্ড আরও বাড়ান...”

শুনতে তো অহনার ভালই লাগছে। কারখানার শ্রীবৃদ্ধি ঘটলে মন্দ হয় না। ওই বাড়িটা আধাখ্যাঁচড়া অবস্থায় পড়ে আছে, বাকিটুকু নির্মাণ করে নিলে অনেকটা জায়গা বাড়ে। এখন স্টোররুমটা বড্ড ছোট, ও দিকের বাড়তি ঢালাইয়ের নীচে স্বচ্ছন্দে একটা বড় ঘর উঠে যাবে। অফিসটারও কোনও সৌষ্ঠব নেই, লোকজন এলে বসতে দেওয়া যায় না, সাজিয়ে গুছিয়ে চেকনাই বাড়ালে আশাবরীরই ইজ্জত চড়বে। মাত্র সাতজনে অনেক দিন আটকে আছে সোলার ইউনিট, আশিটা ল্যাম্প ডেলিভারি দেওয়ার পর এবার তো প্রোডাকশন বাড়ানোর ব্যাপারটা ভাবাই উচিত। স্যার না বলেন, উঁহু, শুধু বলেই থেমে থাকেননি, হিসেব কষেও দেখিয়েছেন, ব্যাবসা ক্রমাগত না বাড়ার অর্থ আস্তে আস্তে কমে যাওয়া, যার অবশ্যম্ভাবী পরিণাম মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলা। সুতরাং আরও স্টাফ নিয়ে আশাবরীর কলেবর যদি হৃষ্টপুষ্ট হয়, তো সেটা নিশ্চয় খারাপ কিছু নয়।

কিন্তু কেন এসব করবে অহনা? ব্যাবসা বাড়ল, না কমল, তাতে সত্যিই কি অহনার কিছু যায় আসে? সে কি এক পা এক পা করে বিজনেস টাইকুন হওয়ার জন্য গড়েছিল আশাবরী? মোটেই না। বরং তার উদ্দেশ্যটাই তো ব্যর্থ। উদ্যম দূরে থাক, কাজেকর্মে আগ্রহই তো সে হারিয়ে ফেলেছে। আশাবরী এখন এমনই এক জেলখানা, যার পরিধি বাড়লে অহনার হয়তো আরও শ্বাস রোধ হয়ে যাবে। এখন তো আফশোস হয়, একটু মুক্ত বাতাস খুঁজতে এসে কেন যে সে এক বাঁধাধরা নিষ্প্রাণ গণ্ডিতে নিজেকে বেঁধে ফেলল? না, আর নয়, কোনও প্রলোভনের ফাঁদেই আর পড়বে না অহনা।

শুকনো হেসে অহনা বলল, “আপনাদের অফারের জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু আমার কোনও এক্সপ্যানশান প্রোগ্রাম নেই, আমি বাড়তি কোনও ঝুঁকি নিতেও চাই না।”

“কেন ম্যাডাম? আপনি একজন সাকসেসফুল এন্টারপ্রেনার। আমরা আপনার উদ্যোগের কত প্রশংসা করি...”

সফলতা আর ব্যর্থতা কি এত সহজে মাপা যায়? অহনা হাসল মনে মনে। আরও শুকনো গলায় বলল, “না ম্যানেজার সাহেব। এই মুহূর্তে ব্যাবসা বাড়ানোর আমার কোনও প্ল্যান নেই।”

“নো প্রবলেম। তবে অফারটা মাথায় রাখুন। ইউ আর অলওয়েজ় ওয়েলকাম।”

অহনা ব্যাঙ্ক থেকে বেরিয়ে এল। আকাশে আজ ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের ঢাকনা। ফাঁকফোকর দিয়ে গলে আসা রোদ্দুরের তেজও যেন অনেকটা কম। গ্রীষ্মকালের এই সময়টায় পথেঘাটে বড় একটা ভিড় থাকে না। গতি বাড়িয়ে মোপেড চালাচ্ছিল অহনা। বেশি স্পিড ওঠে না অবশ্য। তিরিশ কিলোমিটার পেরোলেই থরথর কাঁপতে থাকে ইঞ্জিন। তবু এই বাহনটি অহনার বড় সাধের। বেশি জোরে ছুটতে পারে না বলেই কি? হয়তো। জোরে ছোটা যে কী ভয়ংকর নেশা, অহনা তা হাড়ে হাড়ে জানে।

ফিরে আজ আর অফিস নয়, সোজা বাড়ি। এবং যা ভয় পেয়েছিল তাই, কৃষ্ণা ভেগে গেছে। অর্ঘ্য বাইরের ঘরের সোফায় বসে দেরিতে আসা খবরের কাগজ পড়ছিল, সুসমাচারটি সেই দিল।

অহনা জিজ্ঞেস করল, “তুই কখন এলি?”

“এই তো দশ-পনেরো মিনিট হবে। তোমার ইলাদেবীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে ঢুকলাম।”

“অর্থাৎ খাওয়া হয়নি?”

“তোমার জন্যই ওয়েট করছি।”

“আমি এখন না ফিরলে? খেতিস না?”

“তা নয়...তবু...দুটো মানুষ বাড়িতে আছি...”

“বুঝেছি।...আয়, থালা লাগাচ্ছি।”

“তুমি স্নান করে এসো। আমার তেমন তাড়া নেই।”

“কেন রে? খিদে পায়নি?”

“সে এক কাণ্ড। এক বাড়িতে জল চাইলাম, মুড়ি বাতাসা নারকোল ধরিয়ে দিল। ঘরের ঢেকি ছাঁটা চালের মুড়ি... কী অপরূপ স্বাদ...”

“কোথায় এত আপ্যায়ন করল তোকে?”

“এই তো, ঈশ্বরপুরে।”

অহনা বিস্মিত স্বরে বলল, “তুই লাস্ট উইকেও ঈশ্বরপুর গেছিলি না?”

“হ্যাঁ...মানে....” অর্ঘ্য যেন সামান্য থতমত। তারপরই আলগা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, “অনেক সময়েই এক গাঁয়ে একাধিক বার যেতে হয়।”

পালটা আর প্রশ্ন জুড়ল না অহনা। তবে মনে যেন একটা খচখচানি রয়েই গেল। স্নান সেরে এসে যখন খেতে বসল, তখনও খটকাটা যায়নি।

হঠাৎই অহনা জিজ্ঞেস করে ফেলল, “তোর কোশ্চেনেয়ারটা আমায় দেখাস তো।”

“কেন? কী করবে?”

“এমনি। কৌতূহল। কী ধরনের ডাটা কালেকশন করিস সেটাই একটু বুঝতে চাইছি।”

“আমরা সোশিও ইকনমিক ইনফর্মেশনই বেশি জোগাড় করি। সামাজিক নানান নিয়ম-কানুন সম্পর্কে কার কীরকম ভিউ তাও জানার চেষ্টা করি। যেমন ধরো, অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়া... ছেলে মেয়ে দু’জনকেই লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া নিয়ে কে কী ভাবছে... সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের পাস্ট হিস্ট্রিটাও জানার চেষ্টা...।” বলতে বলতে একটু থামল অর্ঘ্য, “আজ একটা বেশ ইন্টারেস্টিং তথ্য পেলাম। তুমি তো অনেক দিন এখানে আছ, নিশ্চয়ই তোমার নলেজে আছে...”

“কী বল তো?”

“পাশের ওই গ্রামটার নাম ঈশ্বরপুর কেন? কেনই বা এই গ্রামের নাম আলাইপুর?”

এমন কথা কোনও দিন মাথাতেই আসেনি অহনার। তাচ্ছিল্যের সুরে অহনা বলল, “ধুস, ওসব খবর আমি রাখি না।”

“রাখা উচিত। তুমি যাদের সঙ্গে আছ... যাদের নিয়ে কাজ করছ... তাদের তুমি ভাল করে চিনবে না?”

“জ্ঞান মারিস না। কী শুনলি সেটা বল।”

“তুমি কি জানো এক সময়ে এই গ্রামটার নাম আগে ছিল শিবনগর? আর ঈশ্বরপুর তখন মামুদপুর?”

“তা হবে। তো?”

“শিবনগরে তখন এক ঘরও মুসলমান ছিল না। আর মামুদপুর ছিল হান্ড্রেড পারসেন্ট মুসলিম ভিলেজ। এই শিবনগরে একটা বিখ্যাত শিবমন্দির ছিল। প্রত্যেক চৈত্র সংক্রান্তিতে সেখানে মেলা বসত।”

“মন্দির তো এখনও আছে। বাইরের চত্বরটায় চড়কের মেলাও বসে।”

“এটা সেই মন্দির নয়। আমার কথা শোনোই না।” অর্ঘ্য গলা ঝাড়ল, “দুই গাঁয়ে তখন একটা চাপা রেষারেষি ছিল। সেই সময়ে শিবনগরের এক ছেলে মামুদপুরের একটি মেয়ের প্রেমে পড়ে। মেয়েটিকে নিয়ে সে পগার পার হয়ে যাবে ভেবেছিল। কিন্তু পালানোর দিন মেয়ের বাবা সব জেনে যায়। অমনি মামুদপুরের সমস্ত জোয়ান-মদ্দ লাঠিসোঁটা নিয়ে হানা দেয় শিবনগরে। ওই শিবমন্দিরে মেয়েটাকে নিয়ে লুকিয়েছিল সেই তরুণ, টের পেয়ে মামুদপুরের লোকেরা মন্দিরটাই অ্যাটাক করে। মন্দিরের দরজা ভেঙে মেয়েটাকে উদ্ধার করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। ছেলেটাকে তারা মেরে ফেলে, সঙ্গে সঙ্গে শিবের মন্দিরটাকেও চুরমার করে দিয়ে যায়। শিবনগর প্রথমে খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিল, তারপর তারাও দল বেঁধে চড়াও হল মামুদপুর। ব্যস, বেধে গেল লাঠালাঠি। মেয়েটিও খুন হল, মামুদপুরের মসজিদও গুঁড়িয়ে দেওয়া হল মাটিতে। তারপর থেকে দুই গাঁয়ের ভয়ংকর শত্রুতা। পরস্পরের আকচাআকচি এমন একটা আকার ধারণ করল, এ গ্রামের লোক ও গ্রামের লোককে একা পেলে জানে মেরে দিচ্ছে। রাতের অন্ধকারে গিয়ে এ ওর খেত জ্বালিয়ে দিচ্ছে, পুকুরে বিষ ঢেলে আসছে...। খুনোখুনি লাঠালাঠির ঠেলায় দু’ গাঁয়েই চাষবাস লাটে ওঠার দশা, সদাই কাজিয়া বাধার আতঙ্কে দু’পক্ষই সিঁটিয়ে থাকে। এমনই এক সময়ে সিরাজ সাঁইয়ের এক চেলা এসে হাজির হয়। কেউ বলে সে হিন্দু, কেউ বলে সে মুসলমান...”

অহনা বলল, “সিরাজ সাঁইয়ের নামটা তো খুব শোনা শোনা! লালন ফকিরের গুরু না?”

“হতে পারে, জিজ্ঞেস করিনি। তোমাদের এখানে কাছেই যেন কোথায় সতীমায়ের মেলা হয়, সেখানেই যাচ্ছিল সেই চ্যালাটি। দু’গাঁয়ের কোন্দলের কথা শুনে চলে আসে এখানে। গাঁয়ের মাথাদের ডেকে সে জিজ্ঞেস করে, এই লড়াই ঝগড়ায় কার কী লাভ হয়েছে এখনও পর্যন্ত। কারও মুখে বাক্যি নেই। অবশেষে সে মিটমাটের এক রাস্তা বাতলায়। বলে, দু’পক্ষকেই সাজা ভুগতে হবে, নইলে নাকি মনে জমে থাকা রাগ যাবে না। মুসলমানরা নিজের হাতে মন্দিরটা গড়ে দেবে আর মসজিদখানা বানাতে হবে হিন্দুদের। শুধু তাই নয়, আল্লার নামে শিবনগরের নাম হবে আলাইপুর, আর মামুদপুর হবে এখন থেকে ঈশ্বরপুর। নতমস্তকে সেই দরবেশের কথা সেদিন মেনে নিয়েছিল সবাই। আশ্চর্য ব্যাপার কী জানো, তারপর থেকে দুই গ্রামে একটি বারের তরেও আর বিবাদ বাধেনি।”

অর্ঘ্যর মুখে গাঁয়ের উপাখ্যান শুনতে বেশ আজব লাগছিল অহনার। কাহিনি শেষ হওয়ার পর বলল, “এসব গপ্পোও তোর সমীক্ষার কাজে লাগে নাকি?”

“তা একটু লাগে বই কী।” অর্ঘ্যকে যেন সামান্য আনমনা দেখাল, “এইসব গল্পকথা দিয়েই তো দেশের মানুষকে ভাল করে চেনা যায়।”

“বটে? তা আলাইপুর-ঈশ্বরপুর এপিসোড থেকে কী চিনলি?”

“মানুষ শান্তি চায়।” বিড়বিড় করে আবার বলল অর্ঘ্য, “মানুষ শান্তি চায়।”

একটু যেন থমথমে হয়ে গেছে অর্ঘ্যর মুখ। ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছে আঙুলগুলো। আপন মনে দোলাচ্ছে মাথা। অহনা যে সামনে বসে ড্যাবড্যাব চোখে দেখছে তাকে, তা যেন খেয়ালই নেই।

হঠাৎ অর্ঘ্য এত ভাবিত হয়ে পড়ল কেন? অহনার মাথায় ঢুকছিল না। তবে আর কৌতূহলও দেখাল না। চুপচাপ খাওয়া শেষ করে থালা নিয়ে উঠে গেল রান্নাঘরে। আঁচিয়ে এসে বাড়তি খাবার তুলছে ফ্রিজে। নজরে পড়ল এখনও নিথর বসে আছে অর্ঘ্য।

এই অর্ঘ্য যেন অহনার একেবারেই অচেনা। হাসিখুশি রগুড়ে ছেলেটার সঙ্গে এই চিন্তামগ্ন যুবকের যেন আকাশ-পাতাল ফারাক। যেন কচি কচি নেই আর, দুম করে বেড়ে গেছে বয়সটা।

অহনা মৃদু স্বরে বলল, “এই, শেষ কর।”

যেন ঈষৎ চমকাল অর্ঘ্য। তারপর ঘাড় নামিয়ে মন দিয়েছে থালায়।

অহনা ঘরে যাচ্ছিল, কী ভেবে ঘুরে এল, “আবার বেরোবি নাকি?”

“উঁ?...হুঁ।”

“এবেলা বেশি দূরে যাস না। আকাশে মেঘ করছে। গুমোটও আছে। বিকেলের দিকে ঝড়বৃষ্টি নামতে পারে।”

অর্ঘ্য চোখ তুলে তাকাল। স্বর ফুটেছে। চিলতে হেসে বলল, “নয় একটু ভিজলামই।”

“থাক। ওই সব শখ বাড়ি গিয়ে মেটাস। হঠাৎ জ্বরটর বাধালে এখানে কে দেখবে, অ্যাঁ?”

“কেন, তুমি তো আছ।”

“আমার বুঝি কাজ নেই? ঘরে বসে তোর সেবা করলে চলবে?” অহনার স্বরে ছদ্ম কোপ, “সাফ বলে দিচ্ছি, পাকামি করে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি কিন্তু স্রেফ ঘেটি ধরে বের করে দেব। তারপর রাস্তায় পড়ে থাকো, জাহান্নমে যাও, আই অ্যাম নট ইন্টারেস্টেড।”

মজারু ভাবটা ফিরে এসেছে অর্ঘ্যর, “তুমি এত নিষ্ঠুর হতে পারবে অণুদি? আমার ওপর?”

“আমি তো নিষ্ঠুরই।” আচমকা কোত্থেকে এক দলা ক্ষোভ ঠিকরে এল অহনার গলা থেকে, “সব্বাই তো আমাকে তাই বলে।”

অর্ঘ্য অপ্রস্তুত মুখে বলল, “আরে তুমি সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছ কেন? আমি তো মজা করছি।... ঠিক আছে, বৃষ্টির জল গায়েই লাগাব না। ফোঁটা পড়ার আগেই লক্ষ্মী ছেলের মতো প্যাভিলিয়ানে ফিরে আসব। খুশি?”

হাসতে চেষ্টা করল অহনা। সেভাবে ফুটল না হাসিটা। মন্থর পায়ে এল নিজের ঘরে। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। দেখছে বিম্বিত অহনাকে। মনে মনে নিজেকে ধমকাচ্ছে কড়া গলায়। কেন যে হঠাৎ হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায় স্নায়ু? তাই কি রুক্ষ কর্কশ ছাপ পড়ে যাচ্ছে মুখে? দেখতে সে কোনও কালেই রূপসি নয়, মেরেকেটে সুশ্রী বলা চলে, একফালি স্নিগ্ধ লাবণ্যও হয়তো ছিল একসময়। কিন্তু এখন তার লেশমাত্র আছে কি? চোয়াড়ে মার্কা রং জ্বলে যাওয়া মুখখানায় রাগ বিরক্তি নিষ্ঠুরতা ছাড়া আর কোনও অনুভূতিই যেন ফোটে না আজকাল। একটা মানুষকে ঘেন্না করে নিজেকেই কি আমূল বদলে ফেলল অহনা? অথচ সেই মানুষটা দিব্যি মজাসে আছে! থাকবেও। লাফাতে লাফাতে সিঁড়ি চড়ছে। আর প্রেমের সুধায় অবগাহন করছে নিত্যদিন। হায় রে অহনা, তুই শুধু আশাবরীই কর আর দিনকে দিন কুত্সিত হ। ভেতরে বাইরে, সর্বাঙ্গে। অর্ঘ্যর মতো কচি সরল ছেলেটাও নিশ্চয়ই তোর চালচলন দেখে মনে মনে হাসছে।

নিজেকে খানিক গাল পেড়ে অহনা শুয়ে পড়ল বিছানায়। চোখ জড়িয়ে আসছিল, উঠল জোর করে। আজ বুধবার, মাইক্রো-ফিনান্সের মেয়েগুলোকে নিয়ে সপ্তাহের এই দিনটাতে বসে অহনা। গত সাত দিনের কাজের হিসেব নেয়, বানিয়ে দেয় আগামী সাত দিনের কর্মসূচি। সুতরাং ঘুমকে বিদায়, নেমে পড়ো পার্থিব লেনাদেনায়।

তার আগে সুশোভন স্যারকে একটা ফোন। ব্যাঙ্কের প্রস্তাবটা জানিয়ে রাখা উচিত। যাহ, আজও সুইচড অফ। হল কী স্যারের, সেই অর্ডার মেলার দিন থেকেই নিরুদ্দেশ। কোথাও গেছেন নাকি! খোঁজ নিতে হবে তো।

ঘর থেকে বেরোতেই চোখ পড়েছে অর্ঘ্যর কামরায়। দরজা আধখোলা, শয্যায় অর্ঘ্য উদাস শুয়ে, বুকের ওপর ল্যাপটপ। কী ভাবছে? হিসেব করছে কিছু?

নিঃশব্দে সরে যেতে গিয়েও অহনা ফিরে এসেছে। গলা খাকারি দিয়ে বলল, “শুনছিস?”

ল্যাপটপ সামলে অর্ঘ্য ঘুরে তাকিয়েছে, “বলছ কিছু?”

“হ্যাঁ।...বেরোনোর সময়ে চাবিটা আর অফিসে দিয়ে যাওয়ার দরকার নেই।”

“তা হলে তুমি...? কৃষ্ণা...?”

“আমাদের কাছে এক সেট করে আছে। তুই কখন ঢুকিস, কখন বেরোস... ওটা তোর কাছেই থাক এখন।”

গ্রিলগেট খুলে ছোট্ট মাঠটুকু পেরিয়ে অহনা এল অফিসে। মায়া শান্তা দেবিকা, আশাবরী মাইক্রো-ফিনান্সের তিন সৈনিকই উপস্থিত। গল্প করছে নিজেদের মধ্যে। কে কেমন আছে, জানারও আগ্রহ নেই অহনার, চেয়ারে বসেই টাকা সংগ্রহের হিসেব নিতে শুরু করেছে।

পাঁচটা মিনিটও কাটেনি, মোবাইল সরব। মনিটরে মাতৃদেবী।

সেলফোন কানে চেপে অহনা উঠে অফিসের বাইরেটায় গেল, “হ্যাঁ, বলো।”

“ঝুমারা তো এইমাত্র রওনা দিল। হাওড়া থেকে ট্রেন। সাড়ে পাঁচটায়।”

“বাহ, তুমি তো তা হলে এখন পুরোপুরি স্বাধীন। ফ্ল্যাটময় ঘুরে ঘুরে নাচো।”

“ধ্যাৎ! সারাটা দিন একা একা কী করে যে কাটবে!”

“এখানে কীভাবে কাটে? টিভি দেখা, কাগজ পড়া, গড়াগড়ি খাওয়া, বাগান করা... ওখানেও তো সবই মজুত। শুধু বাগানের বদলে টব। বাড়তি কাজও তো আছে একটা। ছেলের জন্য রোজ ভাল ভাল খাবার বানানো। ছেলের পছন্দসই মালাইকারি, চিতল মাছের মুইঠ্যা...।”

“লাল্টুর তেলমশলা খাওয়া বারণ হয়ে গেছে রে।”

“কেন, প্রেশার-টেশার ধরা পড়ল নাকি?”

“শুধু কি প্রেশার, কোলেস্টেরলও নাকি বেশ হাই। ঝুমা পইপই করে বলে দিয়েছে, আমি যেন ওকে রিচ কিছু না খাওয়াই।”

“তা হলে তো তোমার হাতে বেড়ি। মন দিয়ে স্টু-ই রাঁধো।”

“তোদের ও দিকের কী খবর? অর্ঘ্য এখন কোথায়?”

“ঘরে।”

“আর তুই?”

হয়তো নিছকই সরল জিজ্ঞাসা। তবু ঝাং করে চটে গেল অহনা। মুখ দিয়ে প্রায় বেরিয়ে যাচ্ছিল, অর্ঘ্যর সঙ্গে লীলাখেলায় মেতে আছি। কোনওক্রমে সামলে নিয়ে বলল, “রোজ এই সময়ে যেখানে থাকি, ঠিক সেখানেই আছি।”

বাক্যের চোরা ঝাঁঝ বুঝি টের পেল না শেফালি। সহজ ভঙ্গিতে বলল, “আশাবরীতে? তা ভাল। আজ কৃষ্ণা কী রাঁধল?”

শেফালির প্রশ্নের শেষ নেই। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাইছে ঘরদোরে ঠিকঠাক ঝাঁট পড়েছে কি না, কৃষ্ণা কখন এল, কতক্ষণ ছিল, ফিনাইল দিয়ে ঘর মুছেছে না স্রেফ ভিজে ন্যাতা বুলিয়েছে, বাগানে জল পড়েছে কি না, কে জল দিল, আকাশে রোদ না মেঘ, বৃষ্টি নামার আগে যেন মনে করে জানলা বন্ধ করা হয়...। অহনা ফোন যখন ছাড়ল, কান রীতিমতো গরম হয়ে গেছে।

অফিসে ফিরে ফের কাজ। শুনতে হচ্ছে নানান সমস্যার কথা। কোন স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে সদস্যদের মধ্যে মতের অমিল হচ্ছে, কারা টাকা দিতে টালবাহানা করছে, কী কী ব্যাবসার জন্য ঋণ দেওয়া এখন উচিত হবে না, এরকম অজস্র সাতসতেরো। তারই মাঝে হঠাৎ এক আবদার জুড়ল মায়া। ঝালকাঠি গ্রামের গামছার খুব সুনাম। যারা গামছা বোনে তাদের বাড়ির মেয়ে-বউরা একটি নতুন গোষ্ঠী গড়তে ইচ্ছুক, সবাই মিলে ধার নিয়ে একটা পাওয়ারলুম বসাতে চায়। মায়ার প্রবল বাসনা, তার ওপর যেন ছেড়ে দেওয়া হয় নয়া সেল্ফহেল্প গড়ার ভার। প্রস্তাবটা অহনা এক কথায় নাকচ করল না বটে, তবে এক্ষুনি অনুমতিও দিল না। কাঁধে বাড়তি জোয়াল নেওয়ার আগে অনেক কিছু খতিয়ে দেখার ব্যাপার আছে। সে নিজে আগে সরেজমিন করবে, সবাইকে নিয়ে মিটিং ডাকবে, শেখাবে নিয়মকানুন। সময়ে টাকা ফেরত না দিলে কী হতে পারে তাই নিয়ে ভয় দেখানোটাও খুব জরুরি। তার পরেও যদি মেয়েগুলোর ইচ্ছে থাকে, তখন না হয়...। কোনওক্রমে কাটাতে পারলে অহনা তো বেঁচে যায়। তা বলে নিজের অনিচ্ছের ব্যাপারটা মেয়েগুলোকে টের না পেতে দেওয়াই ভাল। তাতে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের বড় ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

বিকেল থেকেই বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। সূর্য ডুবতেই ঝাঁপিয়ে এসেছে বৃষ্টি। অর্ঘ্য বেআক্কেলেপনা করেনি, আলো থাকতে থাকতেই সেঁধিয়ে গেছে কুলায়।

সন্ধে থেকে টিভি গিলছে অর্ঘ্য। কৃষ্ণা রুটি করে চলে গেছে, অহনা একটু চাউমিন বানাচ্ছিল। রান্নায় তার মোটেই স্পৃহা নেই, অর্ঘ্যর জন্যই ঢুকেছে হেঁশেলে। একবার হালকা ভাবে মুখ ফুটে বলতেই যেভাবে হ্যাংলার মতো রাজি হয়ে গেল!

দু’হাতে দু’খানা প্লেট নিয়ে অহনা হাজির। স্বভাববিরুদ্ধ তরল স্বরে হাঁকছে, “খানা তৈয়ার, জলদি খাও। আওর লাগেগা তো নেহি মিলেগা।”

অর্ঘ্যর ভ্রূক্ষেপ নেই, টিভিতে একটা খবর দেখছে গভীর মনোযোগে। কোরাপুটের কাছে একদল সশস্ত্র পুলিশের সঙ্গে উগ্রপন্থী বাহিনীর লড়াই হয়েছে জোর। অতর্কিতে হানা দিয়েছিল উগ্রপন্থীরা, মারা গেছে বারোজন পুলিশ, আহতও হয়েছে উনিশজন। উগ্রপন্থীদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম, তাদের মাত্র চারজন কমরেডের মৃত্যু ঘটেছে, তিনজন ধরা পড়েছে অকুস্থলে।

দু’-দু’বার ডাকার পরেও সাড়া না পেয়ে অহনা বিরক্ত। গোমড়া গলায় বলল, “একই নিউজ কেন চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছিস। এইসব মারামারি তোর ভাল লাগে?”

“এটা তো মারামারি নয়। এরা একটা আদর্শের জন্য লড়ছে?”

“কী জানি বাবা। মানুষ খুন কি কখনও আদর্শ হতে পারে?”

“যুদ্ধে মানুষ মরে না? যুদ্ধ কি খুন? ভাল কারণে যুদ্ধ কি হয় না? কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকে তোমরা তো ধর্মযুদ্ধই বলো?”

“অত বুঝি না। তবে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পরিণামে কি শান্তি এসেছিল? খারাপরা হয়তো মরল, কিন্তু তাদের বাড়ির লোকরা? বউ-ছেলে-মেয়েরা? তাদের কী হাল হয়েছিল? এ ছাড়া আরও যে লাখো সৈনিক মরেছিল, তাদের প্রাণের দাম নেই? নাকি আদর্শ ধর্মযুদ্ধ এইসব ভারী ভারী কথার আড়ালে তাদের অস্তিত্বই মূল্যহীন হয়ে গেছে। তা ছাড়া যারা জিতেছিল, তারাই কি ভাল? অন্যায়যুদ্ধে একের পর এক যোদ্ধাকে মেরেছে...”

আচমকা ঝুপ করে টিভি বন্ধ করে দিল অর্ঘ্য। চাউমিনের প্লেট ছুঁলই না। উঠে ঢুকে গেল নিজের গলতায়।

অহনা থ। হঠাৎ হলটা কী অর্ঘ্যর? সে কি ভুলভাল কিছু বলল?

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%