পোকা

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

পোকাটাকে মেরে ফেলার পর ভারী অস্বস্তি হচ্ছিল বদ্যিনাথের। অস্বস্তির কারণ পোকাটা তার কোনো ক্ষতি করেনি, হুল দেয়নি, কামড়ায়নি। এমনকী সেটা বিষাক্ত পোকা কিনা তাও জানে না বদ্যিনাথ। পোকামাকড় সে তেমন চেনেও না। ভীমরুল, বোলতা, মৌমাছি বা এ—জাতীয় পোকাদের সম্পর্কে একটা আবছা ধারণা আছে মাত্র, ঠিকঠাক তফাত ধরার ক্ষমতা নেই। এই পোকাটা দেখতে অনেকটা হয়তো ভীমরুলের মতোই, তবে রোগা, ছোট এবং দুর্বল। গত কয়েকদিন ধরেই বারবার জানালা দিয়ে উড়ে এসে তার ঘরের নানা জায়গায় বসছিল। হাবভাব দেখে মনে হয়েছিল এই ঘরে একটা বাসাটাসা কিছু করার মতলব। যদি তাই হয় তো চিন্তার কথা। ঘরে একটা পোকার চাক হলে সেটা নিরাপদ হওয়ার কথা নয়, তা বোলতা, ভীমরুল বা মৌমাছি, যার চাকই হোক।

আজ বদ্যিনাথ সকালবেলায় তার লেখাপড়া করার টেবিলে বসে একটা হিসেব কষার চেষ্টা করছিল। তখনই সেই কালচে এবং হলদে পোকাটা উড়ে এসে টেবিল ল্যাম্পের ওপর বসে কিছুক্ষণ এদিক—ওদিক ঘুরে বেড়াল। তারপর উড়ে বিপজ্জনকভাবে বদ্যিনাথের সামনে দিয়েই প্রায় তার গোঁফ ছুঁয়ে শূন্যে চক্কর মেরে জলের বোতলটার ওপর গিয়ে বসল। তার পরের স্টেশন ছিল বদ্যিনাথের নোকিয়া মোবাইল ফোনটা। সেটা ছেড়ে টেবিলে বইপত্রের ফাঁকে ঢুকে এবং বেরিয়ে কী যে খুঁজতে লাগল তা বলা মুশকিল। পোকাটা কতটা বিপজ্জনক, হুল দেয় কিনা, দিলেও তা কতটা বিষাক্ত এসব ভেবে হিসেবটা আর এগোল না বদ্যিনাথের। কলকাতা শহরে পোকামাকড়গুলো যে কোথা থেকে আসে কে জানে!

বদ্যিনাথ হৃদয়হীন বা নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক নয়। বরং সে বেশ কিছুটা দয়ালু, প্রচণ্ড ভিতু এবং কাপুরুষ। এ পর্যন্ত যে ক—টা অন্যায় কাজ সে করেছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই করেছে ভয় পেয়ে এবং বুদ্ধির দোষে। আজকেও করল। পোকা মারার স্প্রেটা সিঁড়ির তলা থেকে নিয়ে এসে ওত পেতে রইল। বইয়ের খাঁজ থেকে পোকাটা বেরিয়ে সবে উড়েছে, ঠিক সেই সময়ে স্প্রেটা চেপে দিল সে। খুব বেশি নয়, মারার ইচ্ছেও ছিল না, তাড়ানোর জন্যই খুব সামান্য একটা হালকা ঝাঁক। কিন্তু তাতেই পোকাটা লাট খেয়ে পড়ল। বার দুই ওড়ার চেষ্টা করে খানিক উড়ে উড়ে শেষ অবধি আর পারল না। পড়ে বার কয়েক কুঁকড়ে হামাগুড়ি দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে করতে, বিনা আর্তনাদে, বিনা প্রতিবাদে এবং পালটা আক্রমণের কোনো চেষ্টা না করেই, মরে গেল।

বদ্যিনাথের ভাবনা—সূত্রটা, অর্থাৎ কিনা অনুশোচনার পরম্পরাটা শুরু হল পোকাটা মরার পর থেকেই। এতে কি তার পাপ হল? যদি হয়েই থাকে, তাহলে এ পাপের জন্য অন্তরীক্ষে তার জন্য কোনো দণ্ডাজ্ঞা অলক্ষ্যে বহাল হল কি? আর সেই শাস্তির অর্থ কি ভবিষ্যতে তার জন্যও এরকম ক্লেশদায়ক অতর্কিত মৃত্যু? বা অন্যরকম কিছু?

সে নাস্তিক বটে, কিন্তু দুর্বল নাস্তিকের নানা সমস্যা আছে। তার কররেখা দেখে কোনো জ্যোতিষী যদি বলে যে, আপনার মশাই খুব বড় ফাঁড়া আছে, তাহলে সে ভয় পেয়ে যায়। জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস না করেও ভয়টা হতেই থাকে। এই পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের চিন্তাও তার দুর্বল নাস্তিকতারই ফল।

এটা একটা অভাবে—পীড়িত বাড়ি। কিন্তু বাড়িটা বিরাট এবং শরিকি ঝগড়াও আছে। বদ্যিনাথ আর তার বিধবা মা এর মধ্যে গোঁজ হয়ে আছে মাত্র। শোনা যায়, এটা তার মামাবাড়ি হলেও এখানে তার মায়ের ন্যায্য অধিকার এবং বখরা আছে। কিন্তু সেটা হল আইনের কথা। বাস্তব চিত্র হল, মামারা তাদের যে কোনো সুযোগে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। দু—টি মাত্র খুপরি ঘরে নিজেদের কায়েম রাখার জন্য সে আর তার মা ভয়ে একসঙ্গে কোথাও বেরোয় না। বেরোলেই পাছে বেদখল হয়ে যায়। পাঁচজন দজ্জাল মামি এবং মামাতো ভাইবোনদের দাপটে, ঝগড়ায় এবং শাসানিতে তারা সর্বদাই কোণঠাসা। কলঘর নিয়ে সমস্যা আছে, রান্নাঘর নিয়ে সমস্যা আছে, কাপড় শুকোতে দেওয়ার সমস্যা আছে। মানসম্মানের সমস্যা তো আছেই। বদ্যিনাথ নিজেই এক মূর্তিমান সমস্যা। বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান বলে সে মানুষ হয়েছে মায়ের আঁচলের আড়ালে। গায়ে আঁচটি পর্যন্ত লাগেনি। ফলে তার বাস্তববোধ হল না, সে ডাকাবুকো রোখাচোখা হল না, বলিয়ে কইয়ে হল না। হয়ে রইল মিনমিনে, ভিতু। তার লেখাপড়াটাও ঘেঁটে গিয়েছিল। এলইই পাশ করে চাকরির সুবিধে হল না বলে ফের তেড়েফুড়ে বিএ পাশ করে। তারপর বিস্তর হাঁটাহাঁটি ধরকরা করে গড়িয়া থেকে ত্রিশ মাইল দূরে একটা স্কুলে পার্শ্বশিক্ষক। দু—বার বাস বদল করে গিয়ে দু—মাইল হাঁটাপথ। গাড়িভাড়াতেই বেতন প্রায় লোপাট হয়ে যায়।

আজ বাসের জানালার ধারেই বসার জায়গা পেয়ে গিয়েছিল বদ্যিনাথ। জানালার ধার পেলে মনটা বড় খুশি হয়। কিন্তু আজ মনটা খুশি নেই। সকালেই আজ তার হাত দিয়ে একটা পাপ হয়ে গেল। একটা অচেনা পোকা মরে গেল বিনা দোষে। হুল দিলে বা কামড়ালেও না হয় কথা ছিল। মনে কোনো অজুহাত খুঁজে পাচ্ছে না সে।

এই স্কুলে মিড—ডে মিল চালু আছে। আর এইটেই একটা ভারী খুশির ব্যাপার বদ্যিনাথের কাছে। তারাও বেজায় গরিব বটে, কিন্তু তবু তো মা রোজ পেট ভরে ভাত খাইয়ে দেয়। আজও উচ্ছেভাজা, ডাল আর আলুসেদ্ধ দিয়ে খেয়ে এসেছে। সঙ্গে এনেছে রুটি—তরকারির টিফিন। কিন্তু এই বাচ্চাদের তো জেটে কই? চুড়ানির মা বড় কড়াইতে রেঁধে দেয়। যখন খাওয়ার ডাক পড়ে তখন যেন বাচ্চাদের মধ্যে উৎসব। বদ্যিনাথ রোজ গিয়ে ওদের খাওয়া দেখে আসে।

আজও দেখছিল। খোলা মাঠে যেন ভোজবাড়ি। আয়োজন অবশ্যই যৎসামান্যই। বড্ড মোটা চাল, আর একটা পাতলা ডালের মতো। তাতে ছিটেফোঁটা সবজি আছে কি নেই। তাতে কী! খাচ্ছে তো নোহেন মুখ করে। ওইটেই আসল। ওই আনন্দটা। যারা রোজ মাংস—বিরিয়ানি খায় তারা কি এই আনন্দের সন্ধান জানে?

শিক্ষক হিসেবে এই স্কুলে তার তেমন কদর নেই। মুখচোরা বলে তেমন পাত্তাও পায় না কারও কাছে। সে টিচার্স রুমে একপাশটিতে বসে থাকে। বই পড়ে।

উমাকান্তবাবু হঠাৎ আজ তাকে ডেকে বললেন, ওহে বদ্যিনাথ!

যে আজ্ঞে।

তুমি না শুনেছিলুম ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং না কি একটা পড়েছিলে।

ভারী সংকুচিত হয়ে বদ্যিনাথ বলে, ও একটা ডিপ্লোমা কোর্স।

আহা, তার মানে ইলেকট্রিকের কাজ তো খানিকটা জানো।

সামান্যই জানি।

ওতেই হবে। হেডস্যারের বাড়িতে একটা টেবিলপাখা আছে, সেটাতে হাত দিলেই শক দেয়। এখানে তো মিস্তিরি—টিস্তিরি পাওয়া যায় না। দেখবে নাকি একটু?

ও তো সামান্য ব্যাপার।

আমি বলে রাখছি। ছুটির পর ওঁর সঙ্গে একটু ওঁর বাড়ি যেও।

যে আজ্ঞে।

তা গেল বদ্যিনাথ। পাখাটা খুলে টার্মিনালগুলো ভালো করে জুড়ে মেশিনের তেল দিয়ে চালু করে দিল। বলল, আমার সঙ্গে টেস্টার নেই, তবে হাত দিয়ে দেখবেন আর শক দেবে না।

হেডস্যার ভারী খুশি। বললেন, একটা ঘষটানির আওয়াজও ছিল, সেটাও তো নেই দেখছি।

আজ্ঞে না।

মেয়েকে ডেকে হেডস্যার বললেন, ওরে চুনি, এই যে তোর পাখা ঠিক হয়ে গেছে। বোসো বদ্যিনাথ, চা খেয়ে যাও।

চা হল, সঙ্গে মুড়ি বেগুনি। দিব্যি কেটে গেল বিকেলটা।

ফেরার সময়েও জানালার ধারে সিট। বদ্যিনাথ বাইরের দৃশ্য আনমনে দেখতে দেখতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল। গড়িয়ায় এসে ঘুম ভাঙতেই তড়বড় করে নেমে পড়ল।

সন্ধেবেলা পোকা মারার শোকটা আর তেমন রইল না বদ্যিনাথের।

মানুষের সভ্যতার অগ্রগমন মানেই তো জীবজন্তু, পোকামাকড় আর বৃক্ষের নিধন। সুতরাং খুব বড় একটা পাপ সে হয়তো করে ফেলেনি।

বাড়িতে ফিরে টেবিলের তলা থেকে নিজের বিস্মৃতপ্রায় টুল বক্সটা বের করল বদ্যিনাথ। সে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সম্মানজনক একটা চাকরি চেয়েছিল, মিস্তিরি হতে চায়নি। কিন্তু আজ টুল বক্সটা খুলে নানা সাইজের প্লায়ার্স, স্ক্রু ড্রাইভার, অ্যামিটার, ভোল্টমিটার সব দেখে তার মনটা কেমন করে উঠল। বেশ কষ্ট করে শেখা একটা বিদ্যে ইচ্ছে করে ভুলে যাওয়া কি ভালো? অনেকক্ষণ যন্ত্রপাতিগুলো নাড়াচাড়া করল বদ্যিনাথ।

দিন তিনেক বাদে শশাঙ্কবাবু একটা টোস্টার ঝোলা নিয়ে স্কুলে এসেই বদ্যিনাথকে ধরলেন, এটা সারিয়ে দাও তো ভাই, তুমি নাকি ওস্তাদ লোক।

বদ্যিনাথ অমায়িক হাসল! তারপর জিনিসটা উলটেপালটে দেখে বলল, কয়েল কিনতে হবে যে। কয়েল পুড়ে গেছে।

তাহলেও তুমি সঙ্গে নিয়ে যাও, কালপরশু সারিয়ে নিয়ে এসো। এখানে ওসব কয়েল—টয়েল পাওয়া যায় না।

আবদারটা রাখতে হল তাকে। গড়িয়ার বাজারে নেমে কয়েল কিনে রাতে বসে বসে সারিয়ে দিল। পরদিন শশাঙ্কবাবু যন্ত্র পেয়ে খুব খুশি!

কত দেব তোমাকে ভায়া?

কিছু দিতে হবে না।

তা বললে কি হয়, কয়েল কিনতে তো পয়সা লেগেছে।

একদিন চা খাইয়ে দেবেন তাহলেই হবে।

এইরকম ছোটখাটো আবদার প্রায়ই আসতে লাগল। সে যে একজন ইলেকট্রিক মিস্তিরিই, সেটাই কি প্রচার হয়ে গেল নাকি?

মাসখানেকের মাথায় হেডস্যার তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে এক ছোকরার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, এ আমার ভাগনে। প্রোমোটারি করে। তোমার সাহায্য চায়।

আমার সাহায্য! বদ্যিনাথ তো অবাক।

ছোকরা বলল, আসলে আমি একটা প্রজেক্টে হাত দিয়েছি, কিন্তু ইলেকট্রিশিয়ান নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। কনসিলড ওয়্যারিং—এর কাজ, সব ফ্ল্যাটেই হেভি ডিউটি এসি বসবে। প্ল্যানে গন্ডগোল থাকলে মুশকিল। আপনি যদি একটু সুপারভাইজ করেন—দিনে দু—তিন ঘণ্টা হলেই হবে—আমি আপনাকে ফি দেব। এরা কেউ পাস করা ইলেকট্রিশিয়ান তো নয়, দেখে দেখে শিখেছে। আগের প্রোজেক্টে সার্কিট ব্রেকার নিয়ে প্রবলেম হয়েছিল।

হেডস্যারের ভাগনে বলে কথা, বদ্যিনাথকে রাজি হতে হল।

শুধু সুপারভাইজ নয়, নিজের হাতে অনেকটা করেও দিল বদ্যিনাথ। নতুন করে প্ল্যানও করতে হল।

হেডস্যারের ভাগনে লোক খারাপ নয়। কাজের শেষে পাঁচ হাজার টাকা পকেটে গুঁজে দিয়ে বলল, আমার সঙ্গেই থাকুন স্যার। আরও প্রজেক্ট হাতে আছে আমার। আমি ঠকাব না।

টাকাটা নিতে একটু বাধো বাধো ঠেকছিল তার। মিস্তিরিগিরির মজুরি পেল নাকি?

দু—বছর পরের বদ্যিনাথকে বদ্যিনাথই আর চিনতে পারে না। গড়িয়ার বড় রাস্তায় তার অফিস—কাম—দোকান। বারো—তেরো জন কর্মচারী। এবং রকরম করছে তার দোকান মানুষের গমনাগমনে। বিয়েবাড়ি, পুজো প্যান্ডেল, লেজার শো সবেতেই তার প্রচুর চাহিদা। বদ্যিনাথের এখন সময় নেই। খালের ওপাশেই তার দোতলা বাড়ি। মামাবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ঘুচে গেছে। সে আর গাঁয়ের স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক নয়। গত অঘ্রানেই তার বিয়ে হয়েছে। নতুন বউ বেশ মিষ্টি দেখতে।

সকালবেলা নিজের টেবিলে বসে কম্পিউটারে ইন্টারনেট করছিল বদ্যিনাথ। ঠিক এই সময়ে পোকাটা এল। রোগা, দুর্বল, হলুদ আর কালোতে মেশানো রং। জানালা দিয়ে এসে প্রথমেই ঘরে খানিক চক্কর কাটল। আর কট করে একটা শব্দ তুলে এসে বসল তার কম্পিউটারের মনিটরটার পরদায়। দিব্যি ঘুরে বেড়াতে লাগল।

কাজের সময় ব্যাপারটা ভারী বিরক্তিকর। তার ওপর হুল দেবে কিনা, কামড়াবে কিনা সেসব প্রশ্নও আছে। বদ্যিনাথ উঠে গিয়ে স্প্রেটা নিয়ে এল। তারপর বিনা দ্বিধায় এক ঝাঁক বিষ স্প্রে করে দিল পোকার ওপর।

পোকাটা সভয়ে শূন্যে উঠল। কিন্তু পারল না। একটা লাট খেয়ে পড়ল টেবিলের ওপর। ফের ওড়ার একটা অক্ষম চেষ্টা। তারপর কুঁকড়ে গিয়ে টেবিলের কাচেই কয়েকবার ঘুরপাক খেয়ে স্থির হয়ে গেল। বদ্যিনাথ একটুকরো কাগজে মৃত পোকাটাকে তুলে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিল। তারপর ঝুঁকে অখণ্ড মনোযোগে সে ইন্টারনেট অপারেশনের মধ্যে ডুবে গেল।

পোকাটার কথা তার আর মনেই রইল না।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%