অনন্যা পাল

কথায় বলে সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, তা সঙ্গগুণে অতদূর না হলেও আফ্রিকার মাসাইমারা জঙ্গলে বাস করার সুযোগ আমার হয়েছিল। জঙ্গলে বেড়াতে যায় সাধারণতঃ ছবি শিকারির দল (আসল শিকার তো সেই কবেই বন্ধ হয়েছে), আর যায় প্রকৃতি প্রেমীরা; আমাকে এই দুটোর কোনও দলেই ফেলা চলে না, আমি হলাম হুজুগে বাঙালী, আমার মাসাই যাত্রাও সেই হুজুগেই। কেনিয়ার জঙ্গলে (মাসাইমারা, কেনিয়াতে) জিপে করে জঙ্গল সাফারি এক দারুন অভিজ্ঞতা, আমার কাছে অবশ্য তা নিদারুণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেকথা আগেই লিখেছি। এখন বলব সাফারি বাদে আমার নিজের মত করে উপভোগ করা জঙ্গুলে অভিজ্ঞতার কথা।
মাসাইমারায় যে লজটায় আমরা ছিলাম, সেটি আসলে জঙ্গলের মাঝে একটি বড় জায়গা জুড়ে তৈরী ছোট ছোট কটেজের সারি, এছাড়াও খাওয়ার জায়গা ও অন্যান্য সুবিধেও ওখানেই কিছু দূরে দূরে তৈরী কাঠের বাংলোতে। মোটকথা, এ যেন একরকম জঙ্গলেই বাস, কোনো কাঁটা তারের বেড়া পর্যন্ত নেই লজের চারপাশে। বেড়া নেই বটে, তবে যা ছিল তা হোল ইয়া ইয়া লম্বা চেহারার মাসাই গার্ড, হাতে তাদের টর্চ আর এসেগাই (বল্লম); চেহারা ও হাবে ভাবে তারাও রীতিমত ভীতিপ্রদ, তাই ভরসা হোল যে আমারই মত জন্তু জানোয়ারেরাও তাদের ভয় পাবে। আমাদের কটেজটা ছিল একটা বড় আকাসিয়া গাছের পাশে, কিছুটা একটেরে। মাসাই গার্ড লাগেজ সমেত আমাদের ঘরে পৌঁছতে এসে হাসিমুখে জানালো, আমরা খুব ভালো ঘর পেয়েছি, আগের সপ্তাহে পাশের গাছটায় পুরো তিনদিন একটা লেপার্ড ডেরা নিয়েছিল; কপাল ভালো হলে, আমরাও এমনটা দেখতে পাবো। সারাজীবন নিজের মন্দভাগ্যের জন্য আফশোষ করেছি, শুধু সেবার মনে মনে বললাম, ‘আমার পোড়াকপাল অক্ষয় হোক’।
পরদিন সকালে, আমাকে প্রায় ঘেঁটি ধরে বন্ধু ছবি শিকারীর দল জীপে চড়ে সাফারিতে নিয়ে গেলো, পূর্ব অভিজ্ঞতার দরুন আমি মোটেও ইচ্ছুক ছিলাম না; কিন্তু না চাইলে কি হয়, জোর করে পরের উপকার করার লোকের অভাব অন্তত আমাদের বঙ্গদেশে নেই। ঘন্টা চারেক যুদ্ধযাত্রার পর লজে ফিরে আমি তো বেতো ঘোড়া, শুনলাম দুপুরের খাবার খেয়ে নাকি আবার সাফারি। এরপর আমাকে আর ঠেকিয়ে রাখা দায়, ফাঁক পেয়ে সেঁধোলাম গিয়ে লজের সবচেয়ে নির্জন কোণে একটা ওয়াচ টাওয়ারের টঙে। এক জাপানী সাহেব (আমার চেয়ে ফর্সা সবাই আমার কাছে সাহেব) ভিন্ন সেখানে আর কেউ নেই; পাশেই একটা ডোবায় কতগুলো গোদা জলহস্তি ঘাঁই মারছে, চিড়িয়াখানায় ঢের দেখেছি এদের, তাই দেখে বেশ স্বস্তি বোধ করলাম। পাশেই বিশাল চারণভূমিতে চড়ে বেড়াচ্ছে একপাল বনমহিষ, নোংরামাখা চেহারায় বেশ একটা খাটাল খাটাল ব্যাপার আছে এটা মানতেই হোল। সাহেব দেখি ক্যামেরা বাগিয়ে সেই খাটাল মার্কা মোষের ছবি তুলতে ব্যস্ত; পরিচ্ছন্নতার প্রতিভূ জাপানী জাত, এই মাছি ভন ভন কাদামাখা মোষের মধ্যে কি সৌন্দর্য্য খুঁজে পেলো তা সেই জানে।
যাইহোক, খানিক পরে সাফারি বাহিনী বিদেয় হয়েছে আন্দাজ করে গুটি গুটি লাউঞ্জের দিকে এগোলাম, খাওয়ার ঘরের মুখে হোটেল ম্যানেজারের সাথে দেখা; বলে রাখি ম্যানেজার ভদ্রলোক এক ভারতীয় যুবক, আমাদের দেখে ভারি খুশী হয়ে আগের দিন যেচে আলাপ করেছিলেন। ভদ্রলোককে দেখে আজ মনে হোল কেমন কাছাখোলা দশা, কারণ জিজ্ঞাসা করায় এক নিঃশ্বাসে যা বলে গেলেন তাতে আমার রক্ত হিম। সেদিন সকালে তিনি ডিউটিতে আসবেন বলে নাকি সবে ঘরের কবাট খুলেছেন, সামনের রোয়াকে গুড মর্নিং করতে দাড়িয়ে ছিল একটা গোদা সিংহ! ম্যানেজার সাহেব কোনক্রমে দরজা বন্ধ করে তখনকার মত রেহাই পেয়েছিলেন, এর আগে নাকি চিতাবাঘের সাথে মোলাকাৎ হয়েছিল এইভাবে।
‘কাউকে বলবেন না, আমি এখান থেকে না বলেই পালাবো সামনের মাসে, ঠিক করে রেখেছি’, ফিসফিসিয়ে জানালেন ভদ্রলোক। সাথে আরো জানালেন, দু দু বার বিয়ে ভেঙ্গে গেছে, মাসাইমারার জঙ্গলে চাকরী করেন জেনে।
‘সত্যি, না পালালে আর ওঁর গতি কি!’ মনে মনে আমিও দীর্ঘশ্বাস ফেললাম।
নিজের দুঃখের কাহিনী কবুল করে হালকা হয়ে ম্যানেজার আমাকে নিয়ে পড়লেন, মানে আমি অমন হারা উদ্দেশ্যে ঘুরছি দেখে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
‘হাতে কাজ নেই যখন আপনি বরং নেচার ওয়াকে যান, দারুণ অভিজ্ঞতা হবে’; কিছু করার নেই বুঝে পরামর্শ দিলেন তিনি।
তারপর আমার মতামতের তোয়াক্কা না করে একরকম ধরেই নিয়ে গেলেন, রিসেপশনে কর্মরত এক দৈত্যাকার মাসাইয়ের কাছে।
‘কাটাকাশি, ফ্রি হয়ে এঁকে নেচার ওয়াকে নিয়ে যাও, উনি জঙ্গল ভালোবাসেন’, কথা শুনে হাসবো না কাঁদবো ভেবে পাচ্ছি না কাটাকাশি গম্ভীর ভাবে সঙ্গে যাবার ইশারা করে বাইরের দিকে এগোল।
লজের গেটের কাছে পৌঁছতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পরে সে আর একটি মাসাইয়ের সাথে নিজস্ব ভাষায় কিছু জল্পনা শুরু করল, মানে না বুঝলেও বার কয়েক সিম্বা শুনে বুঝলাম সিংহের অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে।
আমি মনে মনে উত্তেজিত, ‘এ নিশ্চই সকালের সেই গোদাটা, নির্ঘাত ওঁৎ পেতে আছে কোথাও।
‘কাছে পিঠেই আছে বুঝি? তাহলে নাহয় নাই গেলাম আজ’, আলোচনা থামতে আমি বলি।
‘আরে না না, একটা সিংহ পরিবার কাছেই থাকে, কোথায় গেলে দেখা পাওয়া যাবে তারই খোঁজ নিচ্ছিলাম’।
শুনে আমার বুক ধরফর, কান কটকট; এর থেকে তো সাফারিতে গদার গুঁতোও ভাল ছিল। লজের বাইরে বেরিয়ে, কাটাকাশি তার হাতের অস্ত্র নিয়ে বীরদর্পে এগোয়, আমি ঘেয়ো কুকুরের ন্যাতানো লেজের মত পিছু নিই। তবে খানিকদূর গিয়ে তাকে একটু দ্বিধান্বিত দেখায়।
‘তুমি গাছে উঠতে পারো?’ কাটাকাশির প্রশ্ন শুনে আঁতকে উঠি।
‘কই নাতো?’
‘হুমম...দেখে তো মনে হচ্ছে দৌড়েও তেমন সুবিধে করতে পারবে না’, আমাকে একবার আপাদ-মস্তক দেখে নিয়ে মন্তব্য করে সে।
‘হ্যাঁ সেইজন্যেই বলছিলাম, সিংহ, না হয় বাদ থাক’ আমি সুযোগ বুঝে চাল দিই।
‘আরে, সিংহ না, আমি ভাবছি বনমহিষের কথা’।
‘মোষ’! আমার বিস্ময় মাত্রা ছাড়ায়, খাটাল মার্কা মোষগুলোকে নিয়ে ভাবার কি আছে আমি ভেবে পাইনা।
‘আরে, মাসাইয়ের জঙ্গলে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ওই বনমহিষ; একবার তাড়া করলে তোমাকে গুঁতিয়ে পেটফুটো না করে ছাড়বে না।
‘সেকি! তাহলে উপায়!!’
‘উপায় একলাফে গাছে উঠে পড়া, তা তুমি তো সেসব পারবে না; সেক্ষেত্রে মোষ তেড়ে এলে উপুড় হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়তে হবে। তাহলে সে শিং নিয়ে তোমাকে খানিক খোঁচা খুঁচি করলেও পেটের নাগাল না পেয়ে ফিরে যাবে’।
‘ও আচ্ছা’ আমি ততক্ষণে মিয়োনো মুড়ি।
‘আর হ্যাঁ, শোন, জলহস্তিও তাড়া করতে পারে, ওদের থেকে বাঁচতে অন্য ব্যবস্থা’।
‘কিন্তু, জলহস্তি তো শান্ত জীব, চিড়িয়াখানায় দেখেছি সারাদিন জলে ডুবে ঘুম দেয়, সাত চড়ে রা নেই’।
‘সেটা চিড়িয়াখানায়, এখানে নয়।‘ দেখলাম কাটাকাশি আমার অর্বাচিনতায় রীতিমত বিরক্ত।
‘এখানে ওরাও তাড়া করে নাকি?’
‘জলহস্তী রেগে গেলে জঙ্গলের সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী; ওর যদি মনে হয় তুমি ওর জলযাত্রায় বাধা দিচ্ছ তবে তেড়ে এসে কুটিকুটি করবে তোমায়। দাঁত দেখেছ ওদের?’
হ্যাঁ, আজ ডোবার জলে হাই তোলা হিপোর দাঁত দেখেছি বটে, দাঁত তো নয়, যেন একেকটা বল্লমের ফলা!
মিনমিনিয়ে জানতে চাইলাম ‘তাহলে কি এবারেও উপুড় হয়ে শুতে হবে?’
‘না উপুড় হয়ে শুলে জলহস্তি দাঁত দিয়ে কামড়ে প্রথমে সোজা করে নেবে, তারপর তোমায় কুটিকুটি করে জলে চলে যাবে’।
‘কিন্তু ওরা তো বৈষ্ণব, মানে ভেজেটেরিয়ান!’
‘তোমাকে কি ওরা খাবে নাকি? শুধু দাঁতে কেটে চলে যাবে মাত্র।‘
‘তাহলে ঊপায়?’
‘উপায়টা খুবই সহজ, অত ঘাবড়াচ্ছো কেন? হিপো যখন দৌড়ে আসবে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তুমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, আর যেই খুব কাছে এসে পড়বে, অমনি লাফ দিয়ে ডান বা বাঁ দিকে দৌড়বে। হিপো তার গোদা শরীর নিয়ে আর তখন বেঁকতে পারবে না, সোজা বেরিয়ে যাবে’।
কাটাকাশির সহজ উপায় শুনে আমি ততক্ষণে বাক্যহারা; তেড়ে আসা দূরন্ত হিপোর সামনে স্থির থাকতেই যদি পারব, তাহলে কি আর এই ভেতো জীবন কাটাই! এরপর সে জানালো বুনো হাতির পাল থেকে বাঁচার উপায়, বলল হাওয়ার গতি বুঝে সে নিজেই সরিয়ে নিয়ে যাবে আমায়। সাথে অবশ্য এটাও জানালো যে, লেপার্ড সামনে পড়ে গেলে ঈশ্বরই ভরসা, লাল পোশাক পরা মাসাইদের ওরা ঘাঁটায়না, তবে আমার কপালে কি আছে বলা মুশকিল।
‘প্রার্থনা কর, যেন লেপার্ডের মুখোমুখি না হতে হয়’।
কাটাকাশির স্পষ্ট জবাবে আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এসেছে প্রায়। বেঁচে ফেরার আসা একপ্রকার নেই জেনেই, জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সিংহ এলে কি করতে হবে?’
‘সিংহ এলে মোবাইলে ছবি তুলবে, চাওতো সেলফিও নিতে পারো’!
‘অ্যাঁ!!’
‘হ্যাঁ, সিংহকে তুমি ঘাঁটিও না, সেও তোমায় ঘাঁটাবে না’ কাটাকাশির মুখে অনাবিল হাসি।
এরপর নানান গাছ, মাটির গর্তে জন্তুর বাসা সেসব চেনাতে চেনাতে এগিয়ে চলল আমার রক্ষাকর্তা, জঙ্গলের রাজত্বে তার বিক্রমের কাছে নিজেকে বড্ড ফালতু মনে হচ্ছিল। তাই একফাঁকে বড়াই করে বললাম, তোমার দেশে যেমন সিংহ, আমার দেশে বাঘ, রয়াল বেঙ্গল টাইগার। শুনে সে বলল, তার বাঘ দেখার ভারি ইচ্ছে। বাঘ দেখতে হলে, এসো আমার দেশে জানালাম। এক সময় কাটাকাশি বলল, হোটেলে কাজ করে বেশী রোজগারের তাগিদে, না হলে গ্রামেই ফিরে যেত।
‘তা, আমরা যে যা করি সে তো রোজগারের তাগিদেই’ আমি দার্শনিক মন্তব্য করি।
‘তুমি বুঝতে পারোনি, বয়স তো হয়েছে, তবু এখনও বৌ জোগাড় করতে পারিনি, তাই পয়সা জমাচ্ছি’, কাটাকাশি আমাকে বোঝায়।
অবিবাহিত লোকের পয়সার এত কিসের দরকার আমি বুঝতে নারাজ, যতদূর জানি, বিয়ে করেই লোকে দয়ে পড়ে, পয়সার তখনই প্রয়োজন। আমার ভ্যাবলামো দেখে রীতিমত বিরক্ত কাটাকাশি।
‘পয়সা না জমালে, পণ দেবো কি করে শুনি? আর পণ না দিলে বৌ জুটবে আমার?’ খিঁচিয়ে ওঠে সে।
লোকটা বলে কি! সিংহের সাথে সেলফির প্রস্তাবেও তত অবাক হইনি, যতটা এখন হলাম। না পেরে, বলেই ফেললাম আমার কাছে এ তো উল্টো পুরাণ!
‘তোমাদের দেশে পণ না দিলেও মেয়ে পাওয়া যায়?’ কাটাকাশিও আমার মতই হতভম্ব। ‘তোমার দেশের মেয়েরা বিদেশীদের বিয়ে করতে রাজী হয়?’ খানিক চুপ করে থেকে জানতে চাইল সে।
বিদেশীদের বিয়ে করতে চাইলেও, মাসাই বিয়ে করে, এমন ভয়াবহ জঙ্গলে থাকতে রাজি হবে কেউ সে আশা তাকে দিতে পারিনি সেদিন।
‘যাবো তোমার দেশে, শিগগিরি’, বিদায় নেবার সময় বলল কাটাকাশি।
সেটা বাঘ দেখার আশায়, না পাত্রী জোটাতে, ঠিক পরিষ্কার হোল না আমার কাছে।
***
সন্ধ্যের মুখে ছবি শিকারী বন্ধুরা মহা দর্পে ঘরে ফিরলেন, একটা গোটা সিংহ পরিবারের ছবি তুলতে পেরে আমাদের দলপতির তখন কি দাপট!
‘তুমি তো কোনই কম্মের না, সঙ্গে গেলে সিংহ গুলো দেখতে পেতে কাছ থেকে অন্ততঃ’, দলপতি বন্ধু হুঙ্কার ছাড়লেন।
এরপর যাওয়া হোল বুশ ডিনারে, অর্থাৎ হোটেলের খোলা জায়গায় আমাদের ছজনের গ্রুপের প্রাইভেট রাতভোজন; হোটেল ম্যানেজারের দাক্ষিণ্যেই এই ব্যবস্থা সম্ভব হয়েছিল, বলা বাহুল্য। বেশ গা ছমছমে পরিবেশ, মাঝখানে জ্বলছে বড় অগ্নিকুন্ড, চারপাশে কয়েকজন মাসাইগার্ড, তাদের হাতে রাইফেল, খাওয়া দাওয়া এলাহি। এরিমধ্যে গল্প জুড়লেন ম্যানেজার, তাঁর কাছেই জানলাম মাসাইরা কাউকে পছন্দ করলে তার প্রতি ভীষণ অনুগত থাকে আজীবন। আরো শুনলাম, হোটেলের কোনও অফিসারকে পছন্দ না হলে, রাতের বেলা ঘরে ঢুকে বামাল সমেত অফিসারটিকে জীপে করে ছেড়ে দিয়ে আসে নাইরোবির দু কিলোমিটার দূরে গভীর জঙ্গলে।
‘একটু সাবধানে এদের সাথে কথা বলবেন’, জানালেন ম্যানেজার।
আমাদের দলপতি দেখলাম বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেছেন, সকাল বেলা সাফারিতে মাসাই ড্রাইভারকে জঙ্গল নিয়ে জ্ঞান দিতে গিয়ে বেশ চটিয়েছিলেন তিনি।
ঠিক এই সময় হঠাৎ, দশদিক কাঁপিয়ে হৈ হৈ করতে করতে আমাদের আসরে ঢুকে পড়ল একদল মাসাই; যুদ্ধপোশাক আর হাতের বল্লমে যেন সাক্ষাৎ একেকটা যমদূত। আমাদের ভ্যাবাচ্যাকা ভাব লক্ষ্য করে হাসিতে ফেটে পড়ল তারা, আর সেই সাথে শুরু করল মাসাই নৃত্য; বুঝলাম এটাও রাতভোজনের একটা অঙ্গ। মাসাই নাচ, মানে কে কত উপর অবধি লাফাতে পারে; তাদের দেখে উৎসাহ পেয়ে আমিও যোগ দিলাম লম্ফনাচে (নিজের দেশে তো এ সাহস হবে না কোনোদিন তাই)। গোলমাল থামতে দলপতি বন্ধুর খোঁজ করতে গিয়ে দেখি, বীরপুঙ্গব জঙ্গলবিশারদ চেয়ার উল্টে মাটিতে পরে আছেন; শেষে জল বাতাস করে জ্ঞান ফেরাতে হল তাঁর।
এরপর দলপতি মশাই মাস ছয়েক কোনও যোগাযোগ রাখেননি বাকিদের সাথে, একথাও জানিয়ে রাখি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন