শান্তনু বসু

রঘু নন্দীর গোটা জীবনটাই খুব চাপের। এ চাপের অনেক অভিমুখ। কখন কোন দিক থেকে ঠেসে ধরবে তার ঠিক নেই। ছাত্রাবস্থায় ছিল ভালো রেজাল্ট করার চাপ, তারপরে এল ভালো চাকরি জোটানোর চাপ, চাকরিতে এসে কলিগদের ঠেলে-গুঁতিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চাপ—এসব সামলাতে সামলাতে রঘু নন্দী জেরবার। মনে শান্তি নেই। ছ'টা আংটি ধারণ করেছেন। গ্রহনক্ষত্রকে অনুকূলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবুও সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকছে না, কোলেস্টেরল বেড়েই চলেছে।
রঘু নন্দীর জীবনে বহুমুখী চাপের বড় একটা কারণ হল, বাল্যবন্ধু সুহৃদ সেন। দু-জনেই এখন পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই। ছেলেবেলায় স্কুলের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া নিয়ে রঘু নন্দীর সঙ্গে সুহৃদ সেনের লড়াইটা শুরু হয়েছিল। সে লড়াই এখনও জারি আছে। সামাজিক প্রতিপত্তিতে, মানমর্যাদায় একে অপরকে হারিয়ে দেওয়ার জন্য দু-জনে সমান তালে ছুটে চলেছে।
বর্তমানে সুহৃদ সেন ও রঘু নন্দী একই কোম্পানিতে চাকরি করে। পদ উঁচু। মাইনে মোটা। একটা দেশি সাবান কোম্পানির চাকরি। সুহৃদ সেন, জেনারেল ম্যানেজার—মার্কেটিং। রঘু নন্দী, জেনারেল ম্যানেজার—ফিনান্স। ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদটা লক্ষ্য করে দু-জনে এগোচ্ছে। এই যুদ্ধে যুযুধান দুই পক্ষ কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নয়।
রঘু নন্দী ও সুহৃদ সেনকে যারা উপর-উপর চেনে, তারা এই লড়াইয়ের ব্যাপারটা আন্দাজই করতে পারবে না। এমনিতে দু-জনের গলাগলি সম্পর্ক। শহরতলিতে মনোরম পরিবেশে একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের চারতলায় মুখোমুখি ফ্ল্যাট নিয়েছে দুই বন্ধু। মাঝে কমন প্যাসেজ। ছুটির দিনে সুহৃদ সেনের ড্রয়িং রুমে রঘু নন্দী অথবা রঘু নন্দীর ড্রয়িং রুমে সুহৃদ সেন আড্ডা জমায়।
রোজ সকালে ঠিক সাড়ে ছ'টায় দুই বাড়িতেই নিয়ম করে অ্যালার্ম বাজে। হাফ প্যান্ট, গেঞ্জি ও স্নিকার-মোজা পরে রঘু নন্দী ও সুহৃদ সেন শরীর চর্চায় বেরিয়ে পড়ে। ঘড়ি ধরে প্রায় আধ ঘণ্টা হাউসিং এস্টেটের ভিতরে বড় দিঘিটার চারপাশে পেভার ব্লকে বাঁধানো পথ দিয়ে পাশাপাশি দু-জনে হনহন করে হেঁটে বেড়ায়। এসময় হালকা চালে দু-জনের মধ্যে কিছু কথাবার্তা হয়। হাঁটা শেষ হলে লাফিং ক্লাবে গিয়ে হাত-পাছড়িয়ে দু-জনে হ্যা-হ্যা করে হেসে হার্ট তাজা রাখার ব্যায়ামটা সেরে নেয়। এরপর বাড়ি ফিরে চা খেয়ে, স্নান ও ব্রেকফাস্ট সেরে দু-জনে দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি হাঁকিয়ে অফিসে চলে যায়। এই হল দু-জনের নিত্য দিনের রুটিন।
দুই বাড়ির দুই গিন্নির মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্ক ভালোই। কর্তারা অফিসে চলে যাওয়ার পর ঘরকন্নার ফাঁকে দুই বাড়ির দুই গিন্নি মাঝে মধ্যে ফ্ল্যাটের দরজায় দাঁড়িয়ে খানিক গল্পগুজব সেরে নেয়। সেদিন কথায় কথায় সেনগিন্নি বলল, 'বুঝলে কাল ওকে চেয়ারম্যান ডেকে পাঠিয়েছিল।'
কথাটা শুনেই নন্দীগিন্নি ফ্যাকাশে মেরে গেল। এই অভিব্যক্তিটা সেনগিন্নির নজর এড়াল না। তার চোখে-মুখে ঝলকে উঠল খুশি।
নন্দীগিন্নি স্বাভাবিক থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে মুখে শুকনো হাসি এনে বলল, 'এ তো খুব ভালো খবর। সুহৃদদা তাহলে এমডি হচ্ছেন।'
কথাটা শুনতে খুব ভালো লাগল সেনগিন্নির। কিন্তু এমন স্নায়ুযুদ্ধে মনের পুলক প্রকাশ করা চলে না। সে ঠোঁট উলটে বলল, 'কী যে বলো, তোমার দাদা যা হাবাগঙ্গারাম লোক, অমন লোককে এমডি করলে হয়েছে আর কী? কোম্পানি লাটে উঠবে। এমডি রঘুদাই হবে। দেখে নিয়ো।'
সেদিন সন্ধেবেলা রঘু নন্দী বাড়িতে ফিরতেই গিন্নি উৎকণ্ঠার সঙ্গে প্রশ্ন করল, 'সুহৃদদাকে নাকি চেয়ারম্যান ডেকে পাঠিয়েছিল? প্রমোশনের ব্যাপারে কোনো কথা হয়েছে নাকি?'
গলার টাই খুলতে-খুলতে রঘু নন্দী বললেন, 'ওর বউ বলেছে বুঝি? সুহৃদটা দেখছি মহাগুলবাজ হয়েছে আজকাল। বউকেও গুল মারছে। ছ্যাঃ!'
'তাই বলো। আমি তো ভাবলাম সুহৃদদা বুঝি এমডি হয়েই গেল।'
'দূর! দূর! অত সোজা নাকি? তার ওপর শুনছি এবার সেল ফল করবে। মার্কেটিং ম্যানেজারকে জবাবদিহি করতে না হয়।'
মোবাইল ফোন নিয়ে খুটখাট করতে-করতে গিন্নি বলে উঠল, 'মাত্র সতেরো?'
ঘাড় ঘুরিয়ে রঘু নন্দী বলল, 'কী?'
'দুপুরে যে পোস্টটা করেছিলে তাতে মাত্র সতেরোটা লাইক পড়েছে।'
'হু! এটা ভাববার বিষয় বটে! সুহৃদটা কয়েকদিন থেকেই বেশি লাইক পাচ্ছে। ও অ্যাডাল্ট জোকসগুলো এদিক ওদিক থেকে ভালো কালেকশন করে।'
'সুহৃদদার পোস্টে একান্নটা লাইক। তোমাদের চেয়ারম্যানও লাইক করেছে।'
রঘু নন্দী চমকে উঠে বলে, 'অ্যাঁ?'
'তোমার বোধহয় আরেকটা আংটি দরকার।'
ফের চাপে পড়ে গেল রঘু নন্দী। এবারে চাপের কারণ ফেসবুক। রঘু নন্দী ও সুহৃদ সেন দু-জনেই ফেসবুকে খুব অ্যাকটিভ। মহাপুরুষের বাণী, সেলফি, ক্যাপশন-সহ রকমারি ছবি, ব্রেকিং নিউজ, অ্যাডাল্ট জোকস—এসব মিলিয়ে দু-জনেই বেশ কয়েকটা পোস্ট করে ফেসবুকে। তারপরে তারা বসে বসে লাইকের সংখ্যা গোনে। এই সংখ্যার নিরিখে নিজেদের জনপ্রিয়তা মাপার চেষ্টা করে।
দু-জনেরই আশি শতাংশ ফেসবুক বন্ধু হল কমনফ্রেন্ড। তার মধ্যে বেশিরভাগই আবার অফিস কলিগ। ইদানীং দেখা যাচ্ছে সুহৃদ সেন লাইকের সংখ্যায় রঘু নন্দীকে মেরে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাহলে কি গুজবটা সত্যি? সুহৃদ সেনই কোম্পানির পরবর্তী এমডি হচ্ছে? কলিগরা তাই তার পোস্টে বেশি লাইক দিয়ে আগে থেকেই তৈলমর্দন শুরু করেছে? সুহৃদ সেনের ফেসবুক পোস্ট লাইক করেছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান। তিনি রঘু নন্দীর ক্ষেত্রে নিশ্চুপ কেন? রঘু নন্দীর চাপ বেড়ে গেল।
কয়েকদিন পর আড্ডায় বসে সুহৃদ সেন বলল, 'বুঝলি রঘু, সামনের মাসে কাশী যাচ্ছি। মা খুব করে ধরেছেন। মায়ের বয়স হয়েছে। কবে আছেন, কবে নেই। শেষে হয়তো একটা আপশোস থেকে যাবে। তাই ঠিক করলাম ঘুরেই আসি। সেই সঙ্গে বাবার বাৎসরিকটাও কাশীতে সেরে নেব ভাবছি। ছেলে হয়ে এটুকু কর্তব্য তো করতেই হবে।'
রঘু নন্দী বুঝল, শেষ কথাটার মধ্যে একটা খোঁচা আছে। মাস ছ'য়েক আগে বাপের সঙ্গে রঘু নন্দীর একপ্রস্থ মন কষাকষি হয়ে গিয়েছে। সেই থেকে রঘু নন্দী বুড়ো বাপের খোঁজ নেওয়া ছেড়ে দিয়েছে। কারণটা বৈষয়িক।
অনেকটা জমি সমেত পৈতৃক বাড়িটা প্রোমোটারের হাতে দিতে চেয়েছিলেন রঘু নন্দী। এতে বেশ কিছু নগদ টাকা তার হাতে আসত। ফ্ল্যাট কেনার টাকাটা এক ধাক্কায় অনেকটা শোধ করে দেওয়া যেত। মাসে মাসে আর মোটা টাকার ইএমআই গুনতে হতো না।
এই প্রস্তাব শুনে বাঘা নন্দী রেগেমেগে বললেন, 'বাড়ি প্রোমোটারের হাতে দিতে চাও? বুড়ো বয়সে আমাকে বাড়ি ছাড়া করার মতলব করেছ? ওসব হবে-টবে না।'
ইএমআই বড় দায়। রঘু নন্দী মরিয়া হয়ে বলে, 'আমার ইএমআই-এর কথাটা একবার ভেবে দেখো। এত বড় বাড়িটা খামাখা রেখে কী হবে? ফ্ল্যাট তো একটা পাবেই। তোমার একার পক্ষে যথেষ্ট।'
বাঘা নন্দী সবেগে মাথা নেড়ে বলেন, 'না, না, ওসব হবে না। ভিটেমাটি আমি ছাড়তে পারব না।'
'ওঃ নব্বই বছরেও ভিটেমাটির মায়া! সত্যিই তুমি কঠিন জিনিস বাবা। সাধে কি পাড়ার লোকে তোমাকে বাঘা তেঁতুল বলে?' এ কথা বলে রাগের মাথায় বাড়ি ছেড়ে চলে আসে রঘু নন্দী। এরপর থেকে বাপের সঙ্গে তার কোনো বাতচিত নেই। সুহৃদ সেন এ কাহিনি জানে। একদিন পানীয়ের গেলাস হাতে আড্ডায় বসে অসতর্ক মুহূর্তে নিজের মুখেই এসব কবুল করেছিল রঘু নন্দী। এজন্য গিন্নির কাছে তাকে কম গালাগাল খেতে হয়নি।
রঘু নন্দী বলল, 'মাকে তীর্থ করাতে কাশী যাচ্ছিস? এ তো বেশ ভালো ব্যাপার!'
মাছের চপের শেষ টুকরোটা মুখে ফেলে সুহৃদ সেন বলে, 'বাবা বিশ্বনাথের কাছে তোর নামেও একটা পুজো দিয়ে আসব। গতকাল বড়সাহেবকে ছুটির কথাটা বলেছি। উনি বললেন, কাশীর পেড়া নিয়ে আসতে।'
সুহৃদ সেনের কাশীযাত্রা রঘু নন্দীর কাছে বিষম হয়ে দাঁড়াল। কাশী থেকে সকালে বিকেলে ফেসবুকে নানারকম ছবি পোস্ট করতে লাগল সুহৃদ সেন। সঙ্গে আবেগঘন সব ক্যাপশন। 'মায়ে-ছেলেতে কাশীতে', 'মায়ের ইচ্ছেপূরণ', 'বেঁচে থাকো মা'...এই সব।
দশাশ্বমেধ ঘাটে ছাতার নীচে বসে বাবার বাৎসরিক উপলক্ষ্যে মাথা মোড়ানোর ক্লিপিং ফেসবুকে আপলোড করে লিখল, 'এক বছর হল, বাবা নেই। বাবার কথা মনে পড়ছে খুব।' এসব পোস্টে একেবারে লাইকের বন্যা বয়ে গেল। ভালো ভালো কমেন্টও আসতে লাগল। 'এই না হলে ছেলে?', 'ভগবান তোমাকে আশীর্বাদ করুক', 'গ্রেট!' ইত্যাদি।
ভদ্রতার খাতিরে ভিডিও ক্লিপিংটা লাইক করল রঘু নন্দী। গিন্নিকে বলল, 'যত সব আদিখ্যেতা। বেঁচে থাকতে বাপকে কতটা দেখত জানা আছে।'
সুহৃদ সেনের ভিডিয়ো ক্লিপিং দেখে কারা কমেন্ট করল, লাইক দিল খুটিয়ে দেখতে গিয়ে রঘু নন্দীর মাথাটা বাঁই করে ঘুরে গেল। কোম্পানির চেয়ারম্যান কমেন্ট করেছেন, 'প্রাউড অফ ইউ।' ঘেমে উঠল রঘু নন্দী। তার পোস্টে চেয়ারম্যান আজ পর্যন্ত একটা লাইকও দেননি। কমেন্ট তো দূরের কথা।
সেদিন বিকেলেই গিন্নিকে সঙ্গে নিয়ে প্রখ্যাত জ্যোতিষী বরাহমিহিরের কাছে ছুটল রঘু নন্দী। ফেসবুক বশীকরণ নিমিত্ত আরও একটা বড়সড় সাইজের পাথর ধরিয়ে দিলেন বরাহমিহির। রঘু নন্দীর দশ আঙুলের মধ্যে মাত্র তিনটে আঙুল আংটি বিহীন রইল।
দিন কয়েক বাদে রঘু নন্দী খবর পেল, বাবা ঘোরতর অসুস্থ। একেবারে যায় যায় অবস্থা। মানাভিমান সরিয়ে রেখে গাড়ি নিয়ে সস্ত্রীক গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল রঘু নন্দী। গাড়িতে বসে নিজের একটা সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে লিখল, 'অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি চললাম।' খানিকবাদে ফোন হাতে খুটখাট করতে করতে গিন্নি বলে উঠল, 'বাঃ! তোমাদের চেয়ারম্যান লাইক দিয়েছেন দেখছি।'
রঘু নন্দী যখন গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলেন, তার আধ ঘন্টা আগে বাঘা নন্দী দেহ রেখেছেন। ডাক্তার এসে ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিয়ে গিয়েছে। শবদেহ শায়িত রয়েছে খাটে। বাঘা নন্দীর সদ্য খাঁচাছাড়া হওয়া আত্মাটা তখনও মর্তলোকের পিছুটান কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অমৃতলোকের পথে পাড়ি না দিয়ে ঘরের মধ্যেই চক্কর কাটছে। ওদিকে মুশকো দুটো যমদূত সমানে হুড়ো দিয়ে যাচ্ছে। 'একটু তাড়াতাড়ি করুন কাকাবাবু, আমাদের লেট হয়ে যাবে।'
বাঘা নন্দীর আত্মা বলল, 'যাচ্ছি বাবা যাচ্ছি। মর্তের মায়া কাটানো কি সহজ কথা রে বাপু?'
এক যমদূত বলল, 'ঠিক আছে আমরা দশ মিনিট ঘুরে আসছি এর মধ্যে মায়াটায়া সব ঝেড়ে ফেলুন।'
যমদূত দুটো আড়াল হতেই বাঘা নন্দীর মনে হল, আহারে এতদিনের খাঁচাটা কেমন নিঃসাড় হয়ে পড়ে রয়েছে। যাই শেষবারের মতো খাঁচার ভিতরে মিনিট দশেক থেকে আসি। মর্ত্য জীবনটা আর খানিকক্ষণ উপভোগ করা যাবে। যেমন ভাবা, অমনি বাঘা নন্দীর আত্মা সুড়ুৎ করে খাঁচার মধ্যে সেঁধিয়ে গেল।
ঠিক তখনই রঘু নন্দী সস্ত্রীক বাবার খাটের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ছেলে দেহটা স্পর্শ করতেই বাঘা নন্দী সটান উঠে বসলেন বিছানায়। তারপরে একেবারে হুলুস্থুল বেঁধে গেল। 'ভূত! ভূত!' বলে চেঁচিয়ে উঠে অনেকে ছুটে পালাল। হুড়ুমদুড়ুম করে পালাতে গিয়ে জখম হল কয়েকজন। রঘু নন্দী ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে 'বাবা গো!' বলে জাপটে ধরল বাপকে। তবে এইসব গোলমালের মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখে কাজের কাজটি সেরে নিল রঘুগিন্নি। মোবাইল ক্যামেরায় এই অবিশ্বাস্য, অদ্ভুতুড়ে ঘটনার কয়েকখানা ছবি তুলে ফেলল।
বাঘা নন্দী উঠে বসেই ছেলেকে দেখে চোখ পাকিয়ে বললেন, 'এমনিতে তো খোঁজ নাও না, ভেবেছিলে কি মরে গিয়েছি? বাড়িটা প্রোমোটারকে দেবে বলে ছুটে এসেছ? ওটি হচ্ছে না।' কথাটা বলেই গায়ের চাদর ছুঁড়ে ফেলে খাট থেকে নেমে বাগানে গিয়ে ফুলগাছের গোড়া নিড়োতে শুরু করলেন তিনি।
দশ মিনিট পর ফিরে এসে এই দৃশ্য দেখে যমদূত দুটোর খাবি খাওয়ার জোগাড়। তাদের একজন বলল, 'কী কাণ্ড! কেস যে একেবারে ঘুরিয়ে দিলেন কাকাবাবু!'
বাঘা নন্দী তাদের দিকে কটমট করে চেয়ে বললেন, 'দূর হ মুখপোড়ার দল।'
ফেরার পথে মৃত শ্বশুরের বেঁচে ওঠার অলৌকিক ছবিটা রঘু নন্দীর প্রোফাইল থেকে ফেসবুকে পোস্ট করে দিল নন্দীগিন্নি। ক্যাপশন লিখল, 'ছেলের ছোঁয়ায় বেঁচে উঠলেন মৃত বাবা'। এবারে একেবারে লাইকের ঝড় বইতে লাগল। পঞ্চাশ, একশো, দেড়শো, আড়াইশো দেখতে দেখতে তিনশো ছাড়িয়ে গেল। ফোনটা চোখের সামনে ধরে লাইকগুলো উপভোগ করতে লাগল রঘু নন্দী। সুহৃদ সেনের পোস্টে লাইক কোনোদিনও দুশো ছাড়ায়নি। খানিকবাদে গিন্নির দিকে চেয়ে উচ্ছ্বসিত গলায় রঘু নন্দী বলল, 'কমেন্ট করেছে।'
'কে তোমাদের চেয়ারম্যান?'
গিন্নির থুঁতনি নেড়ে দিয়ে রঘু নন্দী বলল, 'ঠিক ধরেছ।'
'কী লিখলেন?'
'অ্যা-মে-জিং।'
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন