অপরিচিতা

অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী

পুষ্পেন দু-দিন হল মুম্বইতে অফিসের কাজে এসেছে। একটা অফিসিয়াল ট্রেনিং-এ। এই প্রথম ওর কলকাতার বাইরে আসা। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ও। ছোটোবেলা থেকেই টানাটানির সংসার। ছোটো ব্যাবসা থেকে যেটুকু পারিবারিক রোজগার ছিল, কয়েক বছর আগে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে সেটাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার পরের কয়েক বছরে পারিবারিক সব সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গিয়েছিল বাবার চিকিৎসায়।

সেই সময়ে পড়ার পাশাপাশি প্রাইভেট টিউশনি করেই ওকে সংসার টানতে হয়েছে। সেই ঝড়ঝাপটার দিনগুলোর রেশ এখনও ওর উপরে থেকে গেছে। সেজন্যে ও অন্য অনেকের থেকে বেশি বিনয়ী। অন্যদের কথা সব সময় খেয়াল রাখে। জানে এ জীবন উত্থান-পতনের, যেকোনো সময় সবকিছু বদলে যেতে পারে।

পড়াশোনায় ও খুব ভালোই ছিল। সেজন্য জয়েন্টে একটা সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রথমবারেই চান্স পায়। সেখান থেকে পাশ করে প্রথম চাকরি পেয়েছে কয়েক মাস আগে। সে চাকরি কলকাতায়। সেজন্য ওকে গত চার মাসে কখনো কলকাতার বাইরে যেতে হয়নি।

এই প্রথম একটা বিশেষ ট্টেনিং-এর জন্য কলকাতার বাইরে আসা। মুম্বইতে। জুহুর কাছে একটা ভালো হোটেলে আছে ও। এরকম হোটেলে আগে কখনো থাকেনি ও। ফোর স্টার হোটেল। এর কাছাকাছি মানেরও কোন হোটেলে ওর কোনোদিন থাকার সুযোগ হয়নি। একদিকে সেজন্য যেমন আনন্দ লাগছিল, ঠিক তেমন একটা অস্বস্তি।

রাত বাড়তেই হোটেলের পাবে কোলাহল—চিৎকার বাড়তে শুরু করল। এ ধরনের পরিবেশে পুষ্পেন অভ্যস্ত নয়। অস্বস্তিটা আরও বাড়ল। ও শুনেছে হোটেলের খুব কাছেই জুহুর বিচ। সমুদ্র ওর খুব ভালো লাগে। সেখানে শান্ত পরিবেশ পাবে আশা করে সেদিকে এগোল ও।

বিচের খোঁজ পেতে সময় লাগল না। তবে তখন রাত হয়ে এসেছে। দিনের আলো প্রায় উধাও। এক কালো চাদরে সবকিছু যেন ঢেকে ফেলেছে।

ফোনে সময়টা দেখে নিল। রাত দশটা। বিচে লোক আছে, তবে কম। কিছু ছোটো ছোটো স্টল আছে। সেখানে পাওভাজি, পাপড়ি চাট, পানিপুরি—এসব বিক্রি হচ্ছে।

ও সমুদ্র তেমন দেখেনি। একবার বেশ কয়েক বছর আগে দিঘা গিয়েছিল। সেই বেড়ানোর কথা এখনও ওর মনে আছে। শেষ কয়েক বছর বাবার অসুস্থতা, চিকিৎসা—এসব নিয়ে ওরা সবাই এত ব্যস্ত যে কোথাও যাওয়ার কথা কখনো মনে হয়নি।

সমুদ্রের ধার দিয়ে ও আনমনে হাঁটতে লাগল। জলের দিকে বেশ খানিকটা এগিয়ে এল। এখন ও যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, চারদিকে পড়ে-থাকা ঝিনুক, শ্যাওলা-মাখা পাথরগুলো বলে দিচ্ছে যে সেখানে নিয়মিত জল আসে। সামান্য দূরে ঢেউয়ের পরে ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে বালুচরে। রাতের আলোয় জলের মধ্যে একসঙ্গে যেন লক্ষ হিরে চিকচিক করে জ্বলে উঠছে।

এই ঢেউয়ের যেন এক নিজস্ব ভাষা আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বালির উপরে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের সে কথা শুনতে শুনতে সবকিছু ভুলে থাকা যায়।

—হোয়াট আ লাভলি নাইট, ইজন্ট ইট?

পুষ্পেন চমকে উঠল প্রশ্নটা শুনে।

পাশে একজন মহিলা এসে দাঁড়িয়েছে। তারই প্রশ্ন। কালো জিন্সের উপরে একটা ছোটো টপ পরেছে। খুব লম্বা। মেয়েটার মুখ এই আলো-আঁধারিতে ভালো দেখা যাচ্ছে না। মিষ্টি সম্ভ্রান্ত কণ্ঠস্বর।

কে এই মেয়েটা? প্রায় ওরই বয়সি। হঠাৎ ওর খেয়াল হয় আজ যে ট্রেনিং শুরু হল, সেই ট্রেনিং-এ বেশ কয়েকজন মেয়েও ছিল। তাদের মধ্যেই হয়তো কোনো একজন হবে। প্রথম দিন বলে তেমনভাবে কারো সঙ্গে কথা হয়নি। পুষ্পেন নিজে লাজুক টাইপের। আগ বাড়িয়ে আলাপ করতে পারে না। তেমনভাবে লক্ষও করেনি ওদের।

ও বলে উঠল, হ্যাঁ, সত্যি রাতের আলোয় সমুদ্র যেন অন্যভাবে ধরা দেয়। যেন হিরের অজস্র টুকরো কেউ জলের উপরে চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছে।

মেয়েটা এবারে হিন্দিতে বলে উঠল—ঠিক বলেছ। কিন্তু কাছে গেলে আবার হিরের টুকরোগুলো হারিয়ে যায়। ঠিক আমাদের মতোই। দূর থেকে যাকে হিরে বলে মনে হয়, কাছে গেলে মনে হয় সাধারণ।

পুষ্পেন হিন্দি বেশ ভালো বলতে পারে। ইউনিভার্সিটিতে থাকার সময় ওর এক বন্ধু ছিল ইউ.পি.-র। লখনউ ঘরানার বিশুদ্ধ হিন্দিতে কথা বলত। তার কাছ থেকেই হিন্দিটা শিখেছে।

হিন্দি-ইংরেজি মিশিয়ে ওরা কথা বলতে থাকে।

মেয়েটা ওর সঙ্গে সঙ্গে হাঁটতে শুরু করেছে। নিশ্চয়ই ওকে চেনে। তা না হলে কি আর আগ বাড়িয়ে কথা বলত?

কিন্তু পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধা হয় পুষ্পেনের। নির্ঘাত সকালে অফিসে দেখা হয়েছে। এখন প্রশ্ন করলে চিনতে না-পারার জন্য কাল বন্ধুদের মধ্যে হাসাহাসি হবে।

—এরকম নির্মেঘ আকাশ খুব কমই থাকে। আজ পূর্ণিমার আলোয় চারদিক আরও সুন্দর লাগছে, তা-ই না? যেন কে এক আলোর চাদর ছড়িয়ে দিয়েছে চারদিকে। এরকম আকাশের নীচে দাঁড়ালে মনের সব মেঘ সরে যায়।

ওরা দুজনে মিহি বালুর উপর দিয়ে হাঁটতে শুরু করে।

—আমার এই বালির উপরে হাঁটতে খুব ভালো লাগে। তোমার?— মেয়েটা ফের বলে ওঠে।

—হ্যাঁ, আমারও।

—আমাদের জীবন যদি এরকম হত— যে পথ ধরে হেঁটেছি, সে পথের কোনো চিহ্ন না থাকত, সব হারিয়ে যেত, কী ভালো হত তা-ই না! আবার করে শুরু করতাম। মাঝেমধ্যে মনে হয়, কোথা থেকে এসেছি, কোথায় যাচ্ছি সবই মিথ্যে, শুধু মাঝের এই হেঁটে চলার নামই জীবন। যেমন এখন তোমার সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছি।

—তুমি খুব সুন্দর কথা বলো। তুমি কি কবিতা লিখতে?— পুষ্পেন বলে ওঠে।

—হ্যাঁ, এখনও লিখি। হিন্দিতে। আসলে খুব ভালো যে লিখি তা নয়। কারণ যে কথাগুলো ভাবি, সেগুলো লিখতে ঠিক পারি না। কিন্তু এখানে সমুদ্রের ধারে এসে সে কথাগুলো বলতে ভয় পাই না, কারণ সবাই এখানে শুধু সমুদ্রের কথাই শুনতে আসে। আমার কথা তখন শুধু আমার কাছেই থেকে যায়। সাহস বেড়ে যায়।

—আবার কবিতার মতো কথা!

—এখানে সমুদ্রের হাওয়া যা কথা বলে, তার কাছে আমি আর কোথায়! তুমি তো বাঙালি। বাংলায় খুব ভালো ভালো কবিতা পড়েছি আমি।

এবারে পুষ্পেন নিশ্চিন্ত হয় যে মেয়েটাকে নির্ঘাত অফিসেই দেখেছে। তা না হলে এটা ওর সম্বন্ধে এত নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হত না।

মেয়েটা একটা ঝিনুক বালি থেকে কুড়িয়ে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলতে থাকে — আমি যখন ছোটো ছিলাম, তখন মা-র-দিদিমার সঙ্গে এখানে এসে ঝিনুক, নুড়িপাথর কুড়োতাম। কত রকমের রঙের, কতরকম আকারের। দু-বছর আগে একদিন ব্যাগ ভরে এনে আবার এখানে সব ছড়িয়ে ফেলে দিয়েছিলাম। সমুদ্র ওদের টেনে নিয়েছিল। আর খোঁজ পাইনি।

—কেন? সমুদ্রে সব ছুড়ে ফেললে কেন?

—আসলে আমারই তো ঘরসংসার নেই, তো ওদের কীভাবে যত্নে রাখব, তা-ই না?

মেয়েটা মিষ্টি হেসে ফের বলে ওঠে, দূরে ওই যে সমুদ্রের ধার দিয়ে অত বাড়ি দেখছ, আলো-অন্ধকারে অস্পষ্ট ছায়ার শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কত উঁচু উঁচু সব বাড়ি, তা-ই না! তিরিশ-চল্লিশতলার। কিন্ত বেশির ভাগ বাড়ি কিন্তু এখনও ঘর হয়ে উঠতে পারেনি। মানুষকেও ঠিকভাবে আশ্রয় দিতে পারে না। আমি একটা ঘর খুঁজেছিলাম। পাইনি। শুধু চারদিকে ইট আর মার্বেলের দেওয়াল পেয়েছিলাম। শেষে কিছুই না পেয়ে ফের সমুদ্রের কাছে এসেছি।

মেয়েটার চোখ যেন ছলছল করে উঠল।

বিচের উপরে বেশ কিছু ডিঙিনৌকো পরপর রাখা আছে। সেটা দেখিয়ে পুষ্পেন বলে উঠল, জেলেদের নৌকো। তুমি গেছ কখনো ওদের সঙ্গে মাছ ধরা দেখতে?

—না, আমি আসলে ভালো সাঁতার জানি না। সেজন্য ভয় পাই। তবে যাওয়াই যায়, জীবনের সাঁতারেরও আমি কী-ই বা জানি! তবু সেখানে ডুবে যাবার ভয়ে তো চুপ করে বসে থাকি না। হয়তো সমুদ্রে যখন ডুবে যাব, তখন সমুদ্র আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলে উঠবে, তোমাকে আর নতুন করে কী ডোবাব! তুমি তো আগেই ডুবে গেছ।

মেয়েটার রহস্য ও কাব্যময় কথা পুষ্পেনকে আবাক করছিল। কী করছে মেয়েটা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে? ওর তো কবিতা-গল্প লেখা উচিত ছিল! আসলে এখনকার দিনে পড়াশোনায় ভালো হলেই একটা বড়ো অংশ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চলে আসে। নিশ্চিত রোজগারের সম্ভাবনায়।

মেয়েটা আরও অনেক গল্প করতে থাকে পুষ্পেনের সঙ্গে। ওর বাড়ির কথা, ওর বাবা-মা-র কথা। ওর বাড়ি এখান থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা দূরে মহারাষ্ট্র ও কেরলের বর্ডারের এক গ্রামে। ও বলছিল ওর নানান শখের কথা, যা এখনও ও করে উঠতে পারেনি। মডেলিং করার খুব ইচ্ছে ছিল একসময়। কিন্তু তেমন সফল হতে পারেনি।

পুষ্পেনও অনেক কথা বলতে থাকে। ওর কলেজের কথা। বন্ধুদের কথা। বাবা-মা-র কথা।

আরও প্রায় এক ঘণ্টা বিচের ধার দিয়ে হাঁটার পরে পুষ্পেনকে মেয়েটা বলে উঠল, চলো, এবারে বালির উপরে বসা যাক।

এই অন্ধকারে এক প্রায় অপরিচিত মেয়ের সঙ্গে বসতে একটু লজ্জাই পেল পুষ্পেন। বলে উঠল, না, আমার হাঁটতে বেশ ভালো লাগছে। তুমি কি ক্লান্ত হয়ে পড়েছ?

বলেই চমকে উঠল মেয়েটার দিকে তাকিয়ে। এতক্ষণ সেভাবে তাকায়নি মেয়েটার মুখের দিকে। সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে হেঁটে গেছে। আলোও তেমন ছিল না। একটা রাস্তার ল্যাম্পের আলো এসে পড়েছে মেয়েটার মুখে। কী অপূর্ব দেখতে। চোখ যেন শ্রাবণের মেঘের মতো গভীর। কী যেন সারল্য মিশে আছে মেয়েটার চোখে-মুখে।

ওর বিভোর দৃষ্টিটা মেয়েটা বুঝতে পেরেছিল।

আস্তে আস্তে বলে উঠল, অনেকক্ষণ হয়েছে। এবারে বসাই যাক। আমার রেট কত জানো তো? দিতে পারবে তো?

চমকে উঠল পুষ্পেন।—কী, কীসের রেট?

মেয়েটা ওর অবাক হয়ে-যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, আমি কে, তুমি বুঝতে পারোনি? আমি তো দেহব্যাবসা করি। টাকা নেই তোমার কাছে?

প্রায় কথা বলা বন্ধ হয়ে গেছে পুষ্পেনের।

ওর আরক্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মেয়েটা বলে ওঠে। — ও তুমি এখানে একেবারে নতুন বুঝি? জানতে না?

একটু থেমে ফের বলে ওঠে, আসলে সমুদ্রের বিচের এদিকে যারা আসে, তারা সব জেনেবুঝেই আসে। এদিকে এরকম শরীর নিয়ে ব্যাবসা চলে, যদিও সবকিছু এখানে একটু বেশি সফিসটিকেটেড। বুঝতেই পারছ বড়োলোকদের এলাকা। আমি ভেবেছিলাম তুমি বোধহয় সেরকম কোনো খদ্দের। চলো, তোমাকে তোমার হোটেলে পৌঁছে দিয়ে আসি।

—না না, আমি নিজে খুঁজে নেব। আসলে আমি তোমাকে, মানে আপনাকে অন্যরকম ভেবে ভুল করেছিলাম। ভেবেছিলাম, আপনি আমার অফিসের বন্ধু। এখানে সবে এসেছি। ভেবেছিলাম, অফিসে হয়তো দেখা হয়েছে। আমি অনেক সময় মুখ ঠিক মনে রাখতে পারি না। আমি আপনাকে আপনার প্রাপ্য টাকাটা দিয়ে দিই।

জোরে হেসে বলে ওঠে মেয়েটা, না, না, টাকা লাগবে না। তবে আমাকে তুমি করে বলো।

—আমার কাছে কিন্তু টাকা আছে। কত লাগবে?

মেয়েটা আবার হেসে ওঠে—না, টাকা দিতে হবে না। যাক, কিছুক্ষণের জন্য তো আমাকে বন্ধু ভেবেছিলে! সেই সময়ের দাম কি আর তুমি টাকায় মেটাতে পারবে? আমারও মনে হচ্ছিল তুমি অন্যরকম। আমি মাত্র এক মাস হল বাধ্য হয়ে এ পেশায় এসেছি, সেজন্য বুঝতে ভুল হয়েছিল। সবাই এতক্ষণে আমার শরীর নিয়ে খেলা শুরু করে দিত, মনের খোঁজ না করে।

বলে মিনিটখানেক চুপ করে থাকে। ভারী গলায় বলে ওঠে, আমিও তো তোমার মতো বন্ধুই খুঁজেছিলাম সব সময়। পাইনি। সেজন্য এই সমুদ্রের কাছে বার বার আসি। না হয়, এ সমুদ্রতীরে শুধু কিছুক্ষণের জন্য তোমাকে সঙ্গে পেলাম। এখানে বালির উপরে অবশ্য সব পথই হারিয়ে যায়, সব অতীত হারিয়ে যায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের কান্নাও এই শুকনো বালি বেশিক্ষণ মনে রাখে না। তুমি হয়তো তার থেকে বেশিক্ষণ আমাকে মনে রাখবে। মনে রাখবে এই রাতের কথা।

পুষ্পেনের হাত একবার ধরে মেয়েটা। কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে। তারপরে আস্তে আস্তে সে হাত ছেড়ে দেয় মেয়েটা। বলে ওঠে, আসলে আমি অনেক দূর চলে এসেছি। আজ যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে তুমি আর আমি এক মাটিতে দাঁড়াতে পারব না। চাইলেও পারব না। সমুদ্র সবকিছু নাকি ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু জীবন কখনো হারিয়ে-যাওয়া সময় আর মেয়েদের সম্মান ফিরিয়ে দেয় না।

জেনে নেয়, পুষ্পেন কোথায় উঠেছে। এদিকটা তেমন ভালো নয়। ওকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেয়। তারপর বলে ওঠে, এবারে এই পথ ধরে এগিয়ে যাও। তোমার হোটেলে পৌঁছে যাবে। যাক, আজকের পরে আমিও বলতে পারব যে আমি কাউকে ঠিক পথ দেখিয়েছিলাম।

পুষ্পেন বলে ওঠে, তোমার নাম কী?

মেয়েটা বলে ওঠে, ঢেউ।

—আবার হয়তো কোনোদিন দেখা হবে।

মেয়েটা উত্তর দেয় না। কিছুক্ষণ চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখ ছলছল করে ওঠে।

তারপরে মুখ নিচু করে আবার উলটোদিকে হাঁটতে শুরু করে।

৩ জুন ২০২২

কেনিলওয়ার্থ, ইংল্যান্ড

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%