চতুর্থ অধ্যায়

শৈলেন ঘোষ

এতক্ষণ রাজজ্যোতিষীর নাম শুনে মনে হচ্ছিল যতটা তিনি লম্বা-চওড়া, এখন দেখছি ঠিক ততটাই তিনি বেঁটেখাটো।

যতটা মনে হচ্ছিল গুরুগম্ভীর, ঠিক ততটাই তিনি খ্যানখেনে।

যতটা মনে হচ্ছিল তিনি বিদ্যেধর, দেখেশুনে এখন মনে হচ্ছে। ঠিক ততটাই তিনি বুদ্ধির বৃহস্পতি।

এটা এমন নয় যে, এসব কথা উজ্জু জানে না। জানে, খুবই জানে। কিন্তু রাজামশাই যে অন্ধের মতো ভক্তি করেন রাজজ্যোতিষীকে। কাজেই রাজজ্যোতিষীর ঘরের দোরের কাছে দাঁড়িয়ে উজ্জু হাঁক পাড়ল:

জ্যোতিষমশাই, জ্যোতিষমশাই ঘরে আছেন কি?

এই কে দেখুন দাঁড়িয়ে দোরে, উজ্জু এসেছি।

অমনই ঘরের ভেতর থেকে একটা খ্যানখেনে গলায় জ্যোতিষমশাই সাড়া দিলেন:

কে বটে হে উজ্জু তুমি, দেখি তোমার মুখখানা,

কেন শুনি সাঁঝের বেলায় আমার ঘরে দাও হানা?

বলতে-বলতেই জ্যোতিষমশাই ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন। বেরিয়েই চোখের ওপর থেকে চশমা সরালেন। তারপর উজ্জুর মুখের ওপর চোখ রাখলেন। পিটির-পিটির তাকিয়ে দেখে হেসে উঠলেন। বললেন, “আরে আরে, এ কী আশ্চর্য! তুমি?”

উজ্জু বলল, “আজ্ঞে, তা হলে চিনতে পেরেছেন?”

জ্যোতিষমশাই বৃদ্ধ উজ্জুর হাত ধরে বললেন, “কী বলছ তুমি! তোমাকে চিনতে পারব না! আরে এসো! এসো! কী খবর বলো?”

বৃদ্ধ উজ্জু ঘরে ঢুকে, জ্যোতিষমশাইয়ের ঘরখানা একবার ভাল করে চোখ বুলিয়ে দেখে নিয়ে বলল, “আমার খবর, আমি আর রাখি না। আপনার খবরটা জানতে পারলে, বড়ই খুশি হই।”

জ্যোতিষমশাই উত্তর দিলেন, “আমার খবর অবশ্য আমি রাখি। মানে, রাখতেই হয়। না রাখলে রাজামশাই ভীষণ রাগ করেন!”

বৃদ্ধ উজ্জু একটুও অবাক না-হয়ে বলল, “তা তো বটেই, রাগ তো করবেনই। আপনার মতো এমন একজন বন্ধু রাজামশাই কোথায় পাবেন বলুন!”

জ্যোতিষমশাই উত্তর দিলেন, “তা যা বলেছ! বন্ধু যদি পাতাতে হয় তো রাজা-বাদশা ছাড়া আর কার সঙ্গে পাতাব! মাছ যদি খেতে হয় তো রুই-কাতলা ছেড়ে কার আর চুনো-পুঁটি মুখে রোচে!”

বৃদ্ধ উজ্জু জ্যোতিষমশাইয়ের কথা শুনে “বাঃ বাঃ” করে তারিফ করে উঠল। তারিফ করে বলল, “বটেই তো! এই না হলে রাজজ্যোতিষী! আরে মশাই, আপনারা আছেন বলেই না আমরা নির্ঝঞ্ঝাটে দিন কাটাচ্ছি!” বলে একটু হাসল উজ্জু। যতটুকু হাসল, তার চেয়ে আরও একটু গলা চড়িয়ে রাজজ্যোতিষীও হেসে উঠলেন। আর সেই হাসির ওপরই উজ্জু বলে বসল, “কিন্তু জ্যোতিষমশাই, রাজকন্যা যে এমন করে হারিয়ে যেতে পারে, এটা যে কেন আপনার মতো একজন মহা-জ্যোতিষীর গণনায় ধরা পড়ল না, এইটা আমায় বিলক্ষণ আশ্চর্য করেছে।”

রাজজ্যোতিষী বৃদ্ধ উজ্জুর কথা শুনে হো-হো করে হেসে উঠলেন। হাসতে-হাসতে বললেন, “অ্যাই, অ্যাই, এইজন্যই মানুষ বৃদ্ধ হয়! এইজন্যই মানুষ বৃদ্ধ হলে তাদের বুদ্ধির ঘট ফুটো হয়ে যায়! আরে মশাই, রাজকন্যার গণনায় ধরা পড়েছে তার একটা সাঙ্ঘাতিক ব্যামো হবে। তার মানে এই নয়, রাজকন্যা হারিয়ে যেতে পারে না। ব্যামো মানে কি শুধু গায়ে জ্বর, না, পেটে ব্যথা! আরে মশাই, হারিয়ে যাওয়াটাও তো ব্যামোর মধ্যে পড়তে পারে।” বলে ভারী মুরুব্বির চালে তিনি তাকিয়ে রইলেন।

বৃদ্ধ উজ্জু রাজজ্যোতিষীর কথা শুনে খুব যে মজা পেল, সেটা অবশ্য একফোঁটাও বুঝতে দিল না। নিজে বোকা সেজে, মুখখানা কচি খোকার মতো কচি-কচি করে বলল, “ও, ব্যামো মানে যে হারিয়ে যাওয়াও হয়, এটা তো আমি জানতুম না। অবশ্য আমরা মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, এসব আমাদের জানার কথাও নয়! তবে, আমার ধারণা ছিল, ব্যামো মানে ব্যারাম।”

জ্যোতিষমশাই এবার একটু গলা চড়ালেন। বোঝা গেল, তিনি একটু প্যাঁচে পড়েছেন। তাই চড়া গলাতেই তিনি বললেন, “হারিয়ে যাওয়াটাও যে একটা ব্যারাম, এটাও আমার কাছে শিখে যাও তুমি! কতরকমের ব্যারাম আছে তা তোমার জানা আছে কি?”

“আজ্ঞে না।” উত্তর দিল উজ্জু, “আর সেসব আমাদের জানার কথাও নয়।”

“তবে, তুমি আমার কাছে জেনে যাও!” প্রায় যেন ধমক দিয়ে উঠলেন রাজজ্যোতিষী। তারপর মুখস্থের মতো গড়গড় করে বলে গেলেন, “হাঁটা-চলা, কথা বলা, ঠোঁট নাড়া, চোখ চাওয়া, খিদে পাওয়া, গিলে খাওয়া, জিব চাটা, দাঁতে কাটা, চুল ছাঁটা, ট্যাঁকে টাকা, ছোটাছুটি, লাফালাফি, শীতে কাঁপা, গায়ে জামা, রাতে শোয়া, ভোরে ওঠা ইত্যাদি, ইত্যাদি হরেক রকমের ব্যারাম নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। কাজেই হারিয়ে যাওয়াটাও যে ব্যারামের একটা সাঙ্ঘাতিক লক্ষণ, এটা আমার কাছে শিখে রাখো! বুঝলে কিছু

“আজ্ঞে হ্যাঁ, এবার বুঝতে পেরেছি।” বলে বৃদ্ধ উজ্জু হাত কচলাতে লাগল। তারপর বলল, “আজ্ঞে, যদি কিছু মনে না-করেন তবে আর-একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি কি?”

“পারো বইকী! আমি আছি কিসের জন্য? তোমাদের ভাল-মন্দ বিচার করার জন্যই না আমি রাজজ্যোতিষী হয়েছি।”

উজ্জু বলল, “সে তো বটেই। আপনার মতো এমন একজন গুণধর মানুষ না-থাকলে আমাদের কপালে কবেই গুন ধরে যেত!”

রাজজ্যোতিষী উজ্জুর মুখে তাঁর তারিফ শুনে ফিক করে একবারই হাসলেন, তারপর বললেন, “তোমাদের জন্যই তো আমি বেঁচে থাকতে চাই। আমাকে দিয়ে তোমাদের যদি কোনও কাজ হয়, তবে তার জন্য আমার দরজা খোলাই আছে। আর খোলা থাকবেও চিরদিন। থাক ওসব কথা। বলল, তুমি যেন কী জিজ্ঞেস করবে বলছিলে?”

উজ্জু আমতা-আমতা করে বলল, “আজ্ঞে জ্যোতিষমশাই, একটা কথা আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না।”

রাজজ্যোতিষী বললেন, “আরে, অত কিন্তু-কিন্তু করার কী আছে! বলো, আমি ঢুকিয়ে দিচ্ছি।”

উজ্জু তেমনই বোকা-বোকা মুখখানা আরও বোকা-বোকা করে বলল, “জ্যোতিষমশাই, জানেন বয়েসের সঙ্গে-সঙ্গে আমার বুদ্ধিটাও এমন ভোঁতা হয়ে গেছে যে, আপনাকে কী বলব! আমি জানেন, কেবলই ভাবছি, হারিয়ে যাওয়াটা যদি ব্যামোই হয়, তবে সেই ব্যামো সারাবার জন্য একটা বাচ্চা হরিণের প্রাণ নেওয়ার কী কারণ থাকতে পারে? এই কথাটা আপনার কাছে জানবার জন্যই ছুটে আসা।”

উজ্জুর কথা শুনে এবার জ্যোতিষমশাই আর যেন থাকতে পারলেন না। হো-হো করে হেসে উঠলেন। হাসতে-হাসতে বললেন, “এখন বুঝতে পারছি, সত্যিই তোমার বয়েস হয়েছে। বুঝতে পারছি, বয়েসের সঙ্গে-সঙ্গে তোমার বুদ্ধিটাও ভোঁতা মেরে গেছে! এমন সহজ কথাটা তুমি যে জিজ্ঞেস করতে পারো, এ আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। দ্যাখো উজ্জু, এই দুনিয়ায় অমনই-অমনই কিছু কি পাওয়া যায়? ধরো, তোমার লাড্ডু খাবার ইচ্ছে হল। তুমি হাত পাতলে আর সঙ্গে-সঙ্গে লাড্ডু গড়াতে-গড়াতে এসে তোমার মুখের মধ্যে ঢুকে পড়ল, এ তো আর হয় না! ফেলো কড়ি, খাও লাড্ডু! তেমনই মারো হরিণ, হটাও ব্যামো!”

এবার আর উজ্জু না-হেসে থাকতে পারল না। হাসতে-হাসতেই বলল, “জ্যোতিষমশাই, আপনি তো দারুণ এলেমদার লোক দেখছি! আমি যে লাড্ডু খেতে ভালবাসি, এটা পর্যন্ত আপনি জানেন! কেমন করে জানলেন, ভেবে আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি!”

“উঁহুঃ বাব্বা! আমায় কি-আর এমনই-এমনই রাজজ্যোতিষী করা হয়েছে! আমি দিনকে রাত করতে পারি। কে না-জানে, খিদে পাবে। খিদে পেলেই খেতে হবে।” বলতে-বলতে জ্যোতিষমশাই চোখের পাতা উলটে-পালটে এমন একখানা ভাব দেখালেন, যেন মাটিতে তাঁর পা নেই। তিনি হাওয়ায় উড়ছেন!

কিন্তু ওই বৃদ্ধ মানুষ উজ্জুও তো আর যেমন-তেমন মানুষ নয়। তারই বা তোয়াক্কা করার কী আছে! বয়েস বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গে তার চুল পেকেছে। চুল পাকার সঙ্গে-সঙ্গে গায়ের চামড়া ঝুলতে শুরু করেছে। মুখে বলিরেখা দেখা দিয়েছে। বয়েস যত বেড়েছে, তত কতরকমের যে মানুষ দেখেছে সে, তার হিসেব কে করে! তাই এখন ওই জ্যোতিষমশাই যে ডাহা মিথ্যে বলছেন, সেটা বুঝতে তার একটুও অসুবিধে হল না। উজ্জু মনে-মনে হাসল। আর ভাবল, এবার একটু জ্যোতিষমশাইকে প্যাঁচে ফেলা যেতে পারে। তাই উজ্জু জ্যোতিষমশাই-এর বাহাদুরির তারিফ করে ফট করে জিজ্ঞেস করে বসল, “এতই যখন আপনি বলতে পারেন, তা হলে এখন রাজকন্যা কোথায় আছে, সেটাও নিশ্চয়ই আপনি জানেন?”

“জানি বইকী!” বুকটা একটু উঁচিয়েই উত্তর দিলেন রাজজ্যোতিষী।

“তা হলে, এত হইহল্লা করে খোঁজাখুঁজির কী দরকার? রাজামশাইকে খবরটা বলে দিলেই তো সব ল্যাঠা চুকে যায়।” বলে, উজ্জু একটু আড়চোখে তাকাল রাজজ্যোতিষীর দিকে।

রাজজ্যোতিষী উজ্জুর কথা শুনে এমন তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে উঠল যে, শুনে উজ্জু নিজেই গেল ঘাবড়ে। উজ্জু ভয় পেল। কেননা, হাসির রকম দেখে মনে হতেই পারে রাজজ্যোতিষী রাজকন্যা আলা-ইজা কোথায় আছে, সেটা জানেন। তার ওপর যখন উজ্জুর মুখের দিকে একটা অদ্ভুত চোখ পাকিয়ে তাকালেন, তখন উজ্জুর মনে হল, তার শিরদাঁড়ার ভেতরে কে যেন নখসুদ্ধু হাত ঢুকিয়ে খিমচি কাটছে। মনে হল, তক্ষুনি সে পালায়। উঠতেও গেল। কিন্তু রাজজ্যোতিষী তার হাতটা খপ করে ধরে ফেলে বলে উঠলেন, “আরে যাচ্ছ কোথায়? আমার কথাটা না-শুনলে তোমার ছাড়ান-ছোড়ন নেই।”

উজ্জু ভয়েময়ে বলে ফেলল, “আমার কোনও দোষ নেই।”

জ্যোতিষমশাই উত্তর দিলেন, “জানি তোমার দোষ নেই, কাছে এসো!” বলে রাজজ্যোতিষী নিজের মুখখানা উজ্জুর কানের কাছে এনে ফিসফিস করে করে বললেন, “তোমার বুদ্ধি কবে হবে?”

“কেন? এ-কথা বলছেন?” ভয়ে-ভয়েই জিজ্ঞেস করল উজ্জু।

“তুমি কি জানো না, আমি এ-কথা কেন বলছি?”

রাজজ্যোতিষীর কথা শুনে মুখখানা চুপসে গেল উজ্জুর। শুধু ভয় পেলে মানুষে মাথা নেড়ে যেমন করে ‘না’ জানায়, তেমনই করে মাথা নাড়ল উজ্জু।

রাজজ্যোতিষী ফিসফিস করেই ধমক দিলেন বৃদ্ধ উজ্জুকে। তারপর বললেন, “সব কথা রাজাকে যদি আগেই বলে দিই, তা হলে আমার কী লাভ! রয়েসয়ে না বললে, খাতির করবে কেন! আলুবখরার চাটনি যেমন একটু-একটু চেটে রসিয়ে রসিয়ে খেতে হয়, আমিও তেমনই রাজাকে একটু-একটু চেটে”—বলতে বলতে হঠাৎ কী মনে হল, রাজজ্যোতিষী থমকে গেলেন। তারপর বললেন, “ইস, তোমাকে সব কথা বলে ফেললুম! তুমি যেন আবার কাউকে বলে দিয়ো না!”

“না, মানে, আপনি,” উজ্জুও থমকে-থমকে কথাগুলো বলতে-বলতে থামল।

রাজজ্যোতিষী বললেন, “আরে, ‘আপনি’ বলেই থামলে কেন? কী বলতে চাইছ? বলে ফেলো! অর্ধেক পেটে আর অর্ধেক মুখে রাখলে আমারও ঘুম হবে না, তোমারও খুঁতখুঁতুনি যাবে না।”

উজ্জু উত্তর দিল, “আজ্ঞে, আপনি কি রাজামশাইকে আলুবখরার চাটনি—”

এবার কিন্তু খুব জোরেই খ্যানখেনে গলায় রাজজ্যোতিষী চিৎকার করে ধমক দিলেন উজ্জুকে, “চুপ।”

উজ্জু থতমত খেয়ে চুপ করে গেল। কিন্তু বুঝতে তার বাকি রইল না, রাজজ্যোতিষী ছল-চাতুরি করে রাজাকে ঠকাতে চাইছেন। তাই, উজ্জু আর কথা বাড়াল না। কথা বলতে-বলতে এরই মধ্যে আকাশে দু-একটি তারা ফুটেছে। সুতরাং উজ্জু এখন রাজার সঙ্গেই দেখা করবার জন্য অস্থির হয়ে উঠল। তার ওপর রাজকন্যা আলা-ইজা এখন তার ঘরে একা আছে। ঘুমোচ্ছে। তার ঘুম ভাঙার আগেই রাজামশাইকে খবরটা পৌঁছে দিতে হবে। না-পারলে, তার যদি ঘুম ভেঙে যায়, তবে মেয়েটা ঘরে তাকে দেখতে না পেলে হয়তো কান্না জুড়ে দেবে! সুতরাং রাজজ্যোতিষীর সঙ্গে আর কথা বাড়িয়ে সময় নষ্ট না করাই ভাল। এই কথা ভেবেই উজ্জু বলল, “তা হলে এই পর্যন্তই থাক জ্যোতিষমশাই। পরে আবার আসব। আপনাদের মতো মানুষের সঙ্গে দু’ দণ্ড কথা বলতে পারাটা কি কম ভাগ্যের কথা!”

জ্যোতিষমশাই বললেন, “অ, তা হলে আজ উঠছ!”

“আজ্ঞে হ্যাঁ।” উত্তর দিল উজ্জু।

“ঠিক আছে, উঠবেই যখন, তখন আর তোমাকে আটকাব না। তবে দেখো, তোমার সঙ্গে আমার এই যে সব কথাবার্তা হল, এ যেন আবার বাইরের কেউ জানতে না-পারে। তোমাকে তো আমি কোনওদিন, আমার আপনজন ছাড়া আর কিচ্ছু ভাবিনি। নিজের মনের কথা আপনার লোক ছাড়া আর কাকে বলা যায় বলো? আবার এসো! বিপদে-আপদে দরকার পড়লেই এসো! না, না, আমার কাছে বুদ্ধি চাইলেই যে আমি তোমার কাছে হাত পাতব, এমন ছোঁচা আমি নই। এসো কিন্তু।”

রাজজ্যোতিষীর কথা শেষ হতেই পা বাড়াল উজ্জু। পা বাড়াবার আগে অবশ্য বলতে ভুলল না, “আপনার মতো মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমার যে এমন করে চোখ খুলে যাবে, আমি তা একেবারেই ভাবিনি।”

রাজজ্যোতিষী কী বুঝলেন কে জানে! শুধু হেসে উঠলেন হে-হে করে। ঠিক একজন ধড়িবাজ লোকের মতো।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%