বিশ্বরূপ মজুমদার

আইহোলে চোখ রেখেই চমকে উঠলেন সুমন্তবাবু। অজানা আশঙ্কায় ধড়াস করে উঠল বুকের নীচটা। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে দাঁড়ানো স্ত্রীকে চাপা গলায় বললেন, “পুলিশ!”
চকিতে স্ত্রী গীতার চোখেও ভয়ের ছায়া, “নিশ্চয়ই সজলটা কোনও গণ্ডগোল পাকিয়েছে! কলিংবেলটা তো বেজেই চলেছে। খোলো খোলো শিগগির খোলো।”
দরজা খুলে মুখটাকে কাঁচুমাচু করে ফেললেন সুমন্তবাবু, “আপনারা...ইয়ে মানে...কী ব্যাপার স্যার?”
দু’জন উর্দিধারী। তাদের মধ্যে সামনে দাঁড়ানো বছর তিরিশ-বত্রিশের সুঠাম চেহারার ছেলেটি বলল, “আমরা বাগুইআটি থানা থেকে আসছি। আমি এস. আই. সঞ্জয় বোস। আর ইনি এ. এস. আই. প্রদীপ ঘোষ। আপনি নিশ্চয়ই স্নেহা মিত্রের বাবা?”
স্নেহার এখন অফিসে পৌঁছে যাওয়ার কথা। তবে কি রাস্তায় কোনও দুর্ঘটনা...! চিন্তাটা মাথায় স্পার্ক করতেই ভয়ার্ত চোখে তাকালেন সুমন্তবাবু, “স্নেহার কি কিছু...?”
—“না, সেসব কিছু নয়।” টুপিটাকে মাথা থেকে খুলে গলাটাকে ভারী করল সঞ্জয় বোস, “একটা খুনের তদন্তে আপনাদের এখানে আসা। কিছু প্রশ্ন আছে। বসে কথা বললে ভালো হয়।”
খুনের সঙ্গে স্নেহার কী সম্পর্ক! ফ্যালফ্যালে দৃষ্টি মেলে স্ত্রী’র দিকে একঝলক তাকালেন সুমন্তবাবু। পরক্ষণেই অবশ্য দরজা খুলে শশব্যস্তভাবে সরে দাঁড়ালেন, “আসুন, ভেতরে আসুন।”
সামনেই ড্রয়িং রুম। সোফায় আসীন হয়ে ফ্ল্যাটের চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে কথা শুরু করল সঞ্জয়, “এই ফ্ল্যাটে আপনারা কে কে থাকেন?”
—“আমরা স্বামী-স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়ে।”
—“আচ্ছা রাকেশ সামন্ত ঠিক কবে এবং কখন আপনার মেয়ে স্নেহাকে দেখতে এসেছিল বলুন তো?”
অফিসারের আলটপকা প্রশ্নে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন সুমন্তবাবু। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, “কিন্তু তার সঙ্গে খুনের তদন্তের সম্পর্ক কী!”
—“আছে আছে, ভালোই সম্পর্ক আছে। কারণ রাকেশ সামন্ত খুন হয়েছেন! আমাদের কাছে খবর আছে খুনের সাত-আট ঘণ্টা আগে আপনাদের এই ফ্ল্যাটে উনি পাত্রী দেখতে এসেছিলেন!”
—“খুন...রাকেশ!” চাপা আর্তনাদ করে উত্তেজনায় চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন সুমন্তবাবু। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গীতা দেবীও আঁতকে উঠলেন। ধাক্কাটা সামলানোর পর কপালে ভাঁজ ফেলে সুমন্তবাবু বলে উঠলেন, “রাকেশ এসেছিল গত পরশু অর্থাৎ শনিবার। বিকেল চারটে নাগাদ। কিন্তু পাত্রী দেখতে এসেছিল বলে আমাদের সন্দেহের তালিকায় রাখবেন এ কেমন কথা!”
—“তার কারণ আপনার ছেলে!” ভুরু নাচাল সঞ্জয়, “কী যেন ওর নাম?” গীতা দেবী হড়বড় করে বলে উঠলেন, “সজল। সজল মিত্র।”
—“হ্যাঁ, সজল মিত্র। রাকেশের বাবা-মায়ের অভিযোগ পাত্রী দেখাকালীন সজলের সঙ্গে রাকেশের বচসা এবং অল্পবিস্তর হাতাহাতি হয়েছিল। সেইসময় রাকেশকে খুনের হুমকি দিয়েছিল সজল!”
বাড়িতে পুলিশ আসার বিষয়টা এতক্ষণে পরিষ্কার হল সুমন্তবাবুর কাছে। তিনি দ্রুত নিজেকে গুছিয়ে নিলেন। ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, “দেখুন বচসাটা হয়েছিল রাকেশের লোভের কারণেই। সজল শুধু একা নয়, আমরা সকলেই কমবেশি জড়িয়ে পড়েছিলাম ওই তর্কাতর্কিতে। আমার মেয়ে স্নেহাও রাকেশের উদ্ভট দাবি শুনে খেপে গিয়েছিল। কিন্তু তার জন্য হঠাৎ খুন করতে যাবে কেন সজল! হুমকির পরিপ্রেক্ষিতটা আগে জানা দরকার স্যার। কেন সজল হঠাৎ হুমকি দিতে গেল সেটা না শুনলে আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না।”
—“সবটা শুনব বলেই তো এখানে আসা।” নড়েচড়ে বসল সঞ্জয়, “একদম প্রথম থেকে শুরু করুন তো দেখি।”
দোটানায় পড়লেন সুমন্তবাবু। কোথা থেকে শুরু করবেন। স্নেহার প্রেমপর্বের সূচনা থেকে, না কি রাকেশের পাত্রী দেখতে আসার সময় থেকে। সজলের উপর রাগটা মনের অন্দরে ধিকিধিকি করে জ্বলছে। আহাম্মক আর কাকে বলে! কী দরকার ছিল দুম করে কথাটা বলার! ধনুকের তির আর মুখের কথা একবার বেরিয়ে গেলে আর ফেরে না। হুমকিটা দিয়ে নিজে তো ফাঁসলই সেইসঙ্গে বাড়ির সবাইকেও ফাঁসিয়ে দিল! তবে এটা ঠিক রাকেশ যে টাকার দাবিটা করেছিল তা সত্যিই গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দেবার মতো। স্নেহাও উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। ও বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে এমন অদ্ভুত একটা দাবি রাকেশ করতে পারে। দু’বছর প্রেম করার পর পণের দাবি! তাও এক-দু’ লাখ নয়, লাফ দিয়ে একেবারে পনেরো লাখ!
ভাবনার গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে এসে গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলেন সুমন্তবাবু, “দেখুন স্যার, স্নেহার সঙ্গে রাকেশের ছিল প্রেমের সম্পর্ক। দু’বছরের সম্পর্ক ওদের। স্নেহার চাপাচাপিতে ও ওর মা-বাবা আর মামাকে নিয়ে বিয়ের কথা বলতে আসে আমাদের ফ্ল্যাটে। গত শনিবারই প্রথম সরাসরি রাকেশকে দেখি আমরা। খবরটা আগাম জানা থাকায় আমরা সবাই বাড়িতেই ছিলাম। আধঘণ্টা যাবৎ নানান বিষয়ে আলোচনার পর আমি যখন পঞ্জিকা বার করে বিয়ের ডেট ঠিক করবার উদ্যোগ নিচ্ছি, ঠিক তখনই বোমাটা ফাটাল রাকেশ। পনেরো লাখের দাবিটা পেশ করে বসল! ওর বক্তব্য, ব্যবসায় কিছু ধার দেনা হয়েছে। সেসব শোধ করতেই টাকাটা ওর প্রয়োজন।
রাকেশ আচমকা টাকার দাবি তোলায় আমরা তো হতভম্ব। আমি রিটায়ার্ড সরকারি কর্মচারী। মাত্র দু’বছর হল এক প্রাইভেট ব্যাঙ্কের চাকরিতে জয়েন করেছে স্নেহা। সজল তো কাঠ বেকার। এই অবস্থায় পনেরো লাখ টাকা পণ দেওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নাকি! স্বাভাবিকভাবেই শুরু হল বাদানুবাদ। তখনই রাগের মাথায় মুখ ফসকে কথাটা বলে ফেলল সজল। আসলে রাকেশের শেষের কথাটাই খেপিয়ে তুলেছিল ওকে। রাকেশ বলেছিল, টাকাটা না পেলে ওর পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়! বুঝুন স্যার কাণ্ডটা। দু’বছর প্রেম করল। গাড়ি কিনবে বলে মাস ছয়েক আগে প্রেমিকার কাছ থেকে দু’লাখ টাকা ইনিয়ে বিনিয়ে চেয়ে নিল। তারপর বিয়ের সময় পনেরো লাখ টাকা ওঁর পণ চাই। কীসের এত লোভ!”
দীর্ঘ কথার পর দম নেওয়ার জন্য সুমন্তবাবু থামলে চোখ তুলে ফ্ল্যাটের এদিক-ওদিক তাকাল সঞ্জয়। দেওয়ালে মা-বাবার সঙ্গে স্নেহা আর সজলের বাঁধানো ফোটো। সেখান থেকে চোখ সরিয়ে এনে বলল, “আপনার ছেলেমেয়েরা এখন কোথায়?”
সুমন্তবাবু বললেন, “স্নেহা অফিসে। আর সজল গেছে একটা ইন্টারভিউ দিতে।” সঞ্জয় বোস কী যেন ভাবল একটু, “এখানে আসার আগে আপনার ছেলের সম্পর্কে কিছু খোঁজখবর আমরা নিয়েছি। শুনলাম পাড়ার ক্লাব নিয়ে সর্বক্ষণ মেতে থাকে। ঝড়ের বেগে বাইক চালায়। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গও তেমন ভালো নয়। মাঝেমধ্যে নেশাভাঙও করে। সবচেয়ে বড় কথা মাথাটা বেশ গরম আপনার ছেলের। গতবছর পুজোর বিসর্জনের সময় অন্য ক্লাবের একটা ছেলেকে এমন মেরেছিল যে বেচারা ছেলেটিকে হসপিটালে ভর্তি করতে হয়েছিল। তা এমন গুণধর ছেলে রাকেশকে খুন করলে আশ্চর্যের কিছু ঘটবে কী?”
সুমন্তবাবু কাঁদো কাঁদো হয়ে পড়লেন, “বিশ্বাস করুন স্যার, মাথা যতই গরম হোক না কেন, এমন নীচ কাজ সজল করবে না। রাকেশ ডিমান্ড করেছিল, আমরা রাজি হইনি। হয়তো দু’দিন পরে সব ঠিক হয়ে যেত। রাকেশ এসে ক্ষমা চাইত। সেখানে সজল কেন এমন হঠকারী কাজ করবে! তাছাড়া ঘটনার দিন ক্লাবে ক্যারাম খেলে রাত ন’টা নাগাদ সজল বাড়িতে ঢুকেছিল। তারপর সারাক্ষণ বাড়িতেই ছিল।”
—“আপনি বললেন রাকেশের সঙ্গে স্নেহার দু’ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তা এরমধ্যে স্নেহার মুখ থেকে রাকেশের সম্পর্কে কিছু শোনেননি?”
—“ও ওর মাকে বলেছে। কী গো, বলো না কী বলেছিল।” ব্যাকুল হয়ে স্ত্রী’র মুখের দিকে তাকালেন সুমন্তবাবু।
স্বামীর কথায় আমতা আমতা করে উঠলেন গীতা দেবী, “বলেছিল ভালো ছেলে। সুন্দর কথা বলে। অনেকটা ফিল্মস্টার শাহিদ কাপুরের মতো দেখতে। মোবাইলে তোলা ছবিও দেখিয়েছিল রাকেশের। আরও বলেছিল, ছেলেটির গারমেন্টের বিজনেস। বাংলাদেশ নেপালে ট্রাকে করে মাল সাপ্লাই দেয়।”
—“তা রাকেশ যে গাড়ি কেনার জন্য আপনার মেয়ের কাছ থেকে দু’লাখ টাকা নিয়েছিল সেটাও কি আপনি আগেই জানতেন?” ঘাড় নাড়লেন গীতা দেবী, “না, জানতাম না। শনিবার দিন তর্কাতর্কির সময় স্নেহার মুখ থেকে প্রথম ও-কথা শুনতে পাই! শুনে আমি তো থ!”
সঞ্জয় এবার সুমন্তবাবুর দিকে ফিরল, “আপনার মেয়ের অফিসের ঠিকানা আর ওর ফোন নম্বরটা দিন। ওর সঙ্গেও আমাদের কথা বলতে হবে।”
সুমন্তবাবু স্নেহার ব্যাঙ্কের ঠিকানা আর ওর ফোন নম্বরটা বললে সেটা ছোট্ট একটা ডায়েরিতে টুকে নিল সঞ্জয়। তারপর চোখ তুলে বলল, “রাকেশের সঙ্গে আপনার মেয়ের পরিচয়টা হল কীভাবে? একজনের বাড়ি ব্যারাকপুরে আর অন্যজনের বাগুইআটিতে!”
সুমন্তবাবু সামান্য ইতস্তত করলেন, “যদ্দুর জানি ফেসবুকের মাধ্যমেই!”
—“আপনি বললেন সজল ইন্টারভিউ দিতে গেছে। তা কোন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেছে ও?”
—“এক প্রাইভেট কোম্পানির কম্পিউটার অপারেটরের চাকরি। ওর স্যার কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি আছে।”
‘হুম’ বলে চুপ করে গেল সঞ্জয়। ডায়েরিতে কিছু নোট নেওয়ার পর এ. এস. আই. প্রদীপ ঘোষের সঙ্গে নিচু গলায় কিছু কথা সেরে গীতা দেবীকে বলল, “আচ্ছা, আপনার মেয়ের মুখে তো রাকেশের সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছেন। তাছাড়া সেদিন নিজের চোখে ওকে দেখেছেনও। ছেলেটিকে আপনার কেমন মনে হয়েছিল?”
অফিসারের কথায় বিরক্ত বোধ করলেন গীতা দেবী। ঠোঁট বাঁকিয়ে বললেন, “এমনিতে বাইরে থেকে দেখতে শুনতে তো খারাপ নয়। গুছিয়ে কথা বলতে ওস্তাদ, হাসিটাও বেশ সুন্দর। তবে ও যা করেছে তাতে ওর স্বরূপ প্রকাশ পেয়ে গেছে। আমার মেয়ের মনটা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে...!” দলা পাকানো কান্না গলায় এসে আটকে যাওয়ায় থেমে গেলেন গীতা দেবী। স্ত্রীকে ভেঙে পড়তে দেখে সুমন্তবাবু এবার কথার মধ্যে ঢুকে পড়লেন। বললেন, “একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে পড়েছে স্যার। আমাদের এখান থেকে সেদিন ফেরার সময় রাস্তার উলটো দিকের মুদিখানার দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিল রাকেশ। গতকাল সকালে বিস্কুট কিনতে গিয়ে দোকানদারের মুখে শুনলাম, সিগারেটের দাম মেটাতে গিয়ে পাঁচশো টাকার যে নোটটা রাকেশ দিয়েছিল সেটা নাকি জাল! একটা স্করপিও গাড়ি করে এসেছিল রাকেশরা। দোকানদার ক্রেতা ছাড়াও গাড়ির যে বর্ণনা দিয়েছিল তাতে স্পষ্ট বুঝেছিলাম ওটা রাকেশ ছাড়া অন্য কেউ হতেই পারে না! গাড়ির আরোহীরা যে আমাদের ফ্ল্যাটেই এসেছিল দোকানদার তা জানে না। লোকটা তো এন্তার গালাগাল দিচ্ছিল রাকেশকে। আমার কাছে জানতে চাইছিল, গাড়ির লোকগুলো কোন ফ্ল্যাটে এসেছিল আমি তা জানি কি না। আমি লজ্জায় কিছু বলতে পারিনি। শুধু বলেছিলাম, আমি জানি না! আপনিও ইচ্ছে করলে গোপাল স্টোর্সের মালিকের সঙ্গে এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে পারেন।”
সুমন্তবাবুর কথায় কিছুক্ষণের জন্য অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল সঞ্জয়। খানিকবাদে চোখের ইশারায় সহকারিকে উঠে পড়তে বলে নিজেও উঠে দাঁড়াল। দরজার কাছে গিয়ে সুমন্তবাবুকে বলল, “আপাতত চলি আমরা। আপনার ছেলে সজলকে বলবেন বাগুইআটি থানায় গিয়ে কাল আমার সঙ্গে যেন দেখা করে।”
উর্দিধারীরা বিদায় নিতেই দরজা বন্ধ করে মুখটাকে কাঁদো কাঁদো করে ফেললেন গীতা। স্বামীকে বললেন, “পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা! থানায় গেলে ওরা যদি সজলকে আটকে রাখে। যদি লকআপে ভরে দেয়। হতচ্ছাড়া ছেলেটা কেন যে...!”
স্ত্রী’র পিঠে হাত রাখলেন সুমন্তবাবু, “ওভাবে দুমদাম কাউকে লকআপে ভরে দেওয়া যায় নাকি! অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বেশ করেছে সজল। দেশে আইন আদালত বলে একটা জিনিস আছে। উলটো-পালটা কিছু করলে আমরা ছাড়ব নাকি!”
সহসা কিছু একটা যেন মনে পড়ল গীতাদেবীর। দুর্ভাবনা ছেড়ে দাঁতে জিভ কাটলেন তিনি, “ইস, ওই কথাটা তো পুলিশ দুটোকে বলা হল না!”
হাঁ করে তাকালেন সুমন্তবাবু, “কোন কথা?”
—“ওই যে স্নেহার সঙ্গে একবার রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে বিল মেটানোর সময় দু’হাজার টাকার একটা জাল নোট দিয়েছিল রাকেশ!”
হতাশায় কাঁধ ঝাঁকালেন সুমন্তবাবু, “আমরা বলিনি তো কী আছে, স্নেহা বলবে। অফিসার তো বলল স্নেহার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তখন ও নিশ্চয়ই আগাপাশতলা সব বলবে!”
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন