নিশুতি রাতে আসে

শিশির বিশ্বাস

সে অনেক দিন আগের কথা৷ রঙ্কিণী গ্রামে বাস করত কয়েক ঘর কাঠুরিয়া তথা বাজারে জ্বালানি কাঠের জোগানদার৷ তাদের মধ্যে মহানন্দ ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী মানুষ৷ বাজারে জ্বালানি কাঠ বেচে দিন চলে তারও৷ কিন্তু অন্যরা কাঠ কাটতে যায় দল বেধে, কাঠ নিয়ে ফিরেও আসে একসাথে৷ আসলে কাঠ কাটতে যেতে হয় গভীর জঙ্গলে৷ হিংস্র জীবজন্তুর অভাব নেই সেখানে৷ একসাথে যাওয়াই নিরাপদ৷ কিন্তু মহানন্দর ভয়ডর নেই৷ প্রতিদিন একাই যায় কাঠ কাটতে৷ তাও অন্য এক জঙ্গলে৷ ওর বউ যখন মারা যায় কোলের ছেলে মহীনের বয়স তখন মাত্রই কয়েক মাস৷ সবাই তাকে ফের বিয়ে করতে বলেছিল৷ মহানন্দর ইচ্ছেও ছিল৷ কিন্তু তারপরেই পালটে যায় মন৷ আর বিয়ে করেনি৷ ছেলে মহীনকে নিজেই কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে৷

মহানন্দ সত্যিই কিছু ব্যতিক্রমী গোছের মানুষ৷ ওদের গ্রামের সবাই সেই কথা বলে৷ ছোটখাটো চেহারা৷ কিন্তু ভীষণ সাহস আর বুকের পাটা৷ গ্রামের কাছেই নদী৷ ওপারে রঙ্কিণীর জঙ্গল৷ অমন ঘন জঙ্গল এদিকে আর নেই৷ পার হবার জন্য খেয়া নৌকোর ব্যবস্থা আছে৷ তবু কাঠুরিয়াদের কেউ সেখানে কাঠ কাটতে যায় না৷ গ্রামের সবাই জানে, রঙ্কিণীর জঙ্গল ভালো নয়৷ কিন্তু কী কারণে, সঠিকভাবে কেউই বলতে পারে না৷ কেউ বলে জঙ্গলে ডাইনিদের বাস৷ কেউ বলে অন্য কিছু৷ এড়িয়ে চলে সবাই৷ রঙ্কিণী জঙ্গলের পাশ দিয়ে অন্য গ্রামে যাবার রাস্তা৷ খেয়া পার হবার পর মানুষ দল বেঁধে ছাড়া কখনো সেই পথে চলে না৷ তাও দিনের বেলায়৷ সন্ধের পরে খেয়াও বন্ধ হয়ে যায়৷

ব্যতিক্রম শুধু মহানন্দ৷ গ্রামের একমাত্র সে-ই কাঠ কাটতে যায় রঙ্কিণীর জঙ্গলে৷ বোঝা ভরতি কাঠ নিয়ে আসে৷ কাঠুরে পাড়ার অনেকে এসে বলে, ‘অত সাহস ভালো নয় রে মহানন্দ৷ রঙ্কিণীর জঙ্গলে আর যাস না৷ কবে কী হয়ে যায়৷’

মহানন্দ হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলে, ‘সে তো বুঝলাম রে ভাই৷ কিন্তু এই রোগা শরীরে দূরের জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে আনার তাকত নেই আমার৷ তা ছাড়া বউ নেই৷ বাড়িতে নাবালক ছেলেটা একা থাকে৷ তার উপর দিন দিন খরচ যেভাবে বেড়ে চলেছে, অন্তত দুই বোঝা কাঠ আনতে না পারলে দিন চালানো মুশকিল৷ ওই দূরের জঙ্গল থেকে দুই বোঝা কাঠ বয়ে আনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়৷ কেউ যদি এক বোঝা কাঠ নিয়ে দুই বোঝার দাম দিতে রাজি থাকে তো জানিয়ে দিও৷ রঙ্কিণীর জঙ্গলে আর যাব না৷’

পরের দিকে কেউ আর তাই ঘাঁটাত না৷ কিন্তু ছেলে মহীন বড় হতে গোলটা বাধল৷ বয়স্ক মানুষ বাবার কষ্ট দেখে মহীন একদিন এসে জানাল, এবার থেকে সেও বাবার সঙ্গে জঙ্গলে কাঠ কাটতে যাবে৷

মহানন্দ খুশিই হল শুনে৷ মহীনের বয়স হয়েছে৷ এ বছর আঠারোয় পড়ল৷ উৎসাহ দিয়ে বলল, ‘সে তো ভালো কথা রে৷ তবে আমার সঙ্গে রঙ্কিণীর জঙ্গলে নয়৷ তুই গাঁয়ের অন্যদের সঙ্গে যা৷ সঙ্গে থেকে বুঝে নে কাজ৷’

শুনে মহীন তো হেসেই খুন৷ বাবার মতো সে রোগাপটকা মানুষ নয়৷ ঋজু দীর্ঘ শরীর৷ উপচে পড়া স্বাস্থ্য৷ গরীব কাঠুরে বাড়ির ছেলে হলেও ঝকঝকে ধারালো চেহারা৷ মনেও দুর্জয় সাহস৷ বাবার কথায় কিছুমাত্র কান না দিয়ে বলল, ‘সে হয় না বাবা৷ দূরের জঙ্গলে কাঠ কাটতে যাওয়ার কোনো মানে হয় না৷ রঙ্কিণীর জঙ্গলে তুমি যদি কাঠ কাটতে যেতে পারো, আমিও পারব৷’

মহানন্দ অনেক বোঝাল তাকে৷ কিন্তু ছেলের সেই একই কথা৷ অগত্যা বাপ-ছেলে দু’জনেই যেতে শুরু করল রঙ্কিণীর জঙ্গলে৷ মাস কয়েক বেশ কাটল৷ মহীন একাই চার বোঝা কাঠ বয়ে আনতে পারে৷ তাই বাড়ির অবস্থাও কিছু ফিরেছে৷ মহানন্দ ছেলের বিয়ে দেবে ঠিক করে ফেলল৷ কয়েক গ্রাম খুঁজে মেয়ে দেখার কাজ চলছে৷ একটি মেয়ে মোটামুটি ঠিকও হয়ে গেছে৷ শুধু পাকা কথাটাই হয়নি৷ মহানন্দ অবশ্য এখনো মাঝে-মধ্যেই ছেলেকে রঙ্কিণীর জঙ্গলে যেতে মানা করে৷ যথারীতি মহীনও হেসে উড়িয়ে দেয়৷ এর মধ্যে ঘটে গেল সেই ঘটনা৷

সেদিন বাপ-ছেলে দু’জন রঙ্কিণীর জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়েছে৷ ভালো একটা শিরীষ গাছ পেয়ে মহীন সবে কুড়ুল চালাতে শুরু করেছে৷ মহানন্দ হঠাৎ চমকে উঠে বলল, ‘বাবা মহীন, আজ আর কাঠ কেটে কাজ নেই৷ চল ঘরে ফিরে যাই৷’

‘কেন বাবা?’

‘দিনটা ভালো নয় রে৷’ মহানন্দর চোখ মুখের অবস্থা হঠাৎ কেমন পালটে গেছে তখন৷

দেখে কিছু অবাকই হল মহীন৷ চারপাশে তাকিয়ে তেমন খারাপ কিছুই নজরে পড়ল না৷ দিব্যি ঝকঝকে দিন৷ নীল আকাশ৷ তবে পাখির ডাক তেমন শোনা যাচ্ছে না৷ এই জঙ্গলে পাখি কম নেই৷ সারাদিন ডাকাডাকি করে বেড়ায়৷ আজ কেমন নিস্তব্ধ৷ মহীন অবশ্য তেমন গ্রাহ্য না করে বলল, ‘কিন্তু তেমন তো মনে হচ্ছে না বাবা! চারপাশ বেশ পরিষ্কার৷ ঝকঝকে আকাশ৷’

‘তা ঠিক৷’ মহানন্দ ঢোঁক গিলে বলল, ‘তবু আমার কথা শোন৷ হাজার হোক, তুই আমার ছেলে৷ সব কথা তোকে বলতে পারব না৷ শুধু বলি, এই রঙ্কিণীর জঙ্গলের নানা কথা তো শুনেছিস৷ কেউ ভুলেও আসে না৷ তবু যে আমি আসতে সাহস পাই, তা অন্য কারণে৷ তোর তখন মাত্রই কয়েক মাস বয়স৷ হঠাৎই মারা গেছে তোর মা৷ একা মানুষ৷ বাড়িতে দেখার কেউ নেই৷ তাই সময় বাঁচাতে রঙ্কিণীর জঙ্গলে আসতে শুরু করেছি৷ সেই সময় একদিন এখানে এক ঘটনা ঘটেছিল৷’

‘কী, কী ঘটনা বাবা?’ মহানন্দ হঠাৎ থেমে যেতে প্রায় রুদ্ধশ্বাসে প্রশ্ন করল মহীন৷

‘সে বলা যাবে না তোকে৷ শুধু বলি, এই রঙ্কিণীর জঙ্গলে একা এলেও আমার বিপদের সম্ভাবনা নেই৷ কিন্তু তুই সঙ্গে থাকলে অন্যরকম হয়ে যেতে পারে৷ তোকে যে সঙ্গে আনতে চাই না, সে ওই কারণেই৷ কথা শোন৷’

বাবার ওই কথার পর মহীন আর কিছু বলতে পারল না৷ কাঠ কাটা বন্ধ করে বাবার সঙ্গে ফিরে চলল৷

কী অদ্ভুত কাণ্ড! মহানন্দর কথাই সত্যি হল শেষ পর্যন্ত৷ একটু আগেই পরিষ্কার ঝকঝকে আকাশ ছিল৷ ওরা তখনও নদীর খেয়াঘাটে পৌঁছোতে পারেনি৷ দেখতে দেখতে ঝোড়ো বাতাসে কোথা থেকে ধেয়ে এলো কালো মেঘ৷ বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল৷ সেই সাথে বিপুল বেগে ঝড়ো বাতাস৷ মড়মড় শব্দে গাছপালা ভেঙে পড়তে লাগল৷ ভাগ্যিস, ততক্ষণে ওরা অনেকটাই জঙ্গলের বাইরে আসতে পেরেছে৷ তাই বড় বিপদে পড়তে হল না৷

ঝড়বৃষ্টি কিন্তু বেড়েই চলল৷ ওরা তার মধ্যেই কোনোমতে ছুটতে ছুটতে যখন খেয়াঘাটে পৌঁছল, নদী প্রায় উথালপাথাল৷ খেয়া বন্ধ হয়ে গেছে৷ মাঝি ওপারের ঘাটে নৌকো বেঁধে চলে গেছে অনেকক্ষণ৷

দেখে দু’জনের মাথায় প্রায় আকাশ ভেঙে পড়ল৷ আজ আর ঘরে ফেরার উপায় নেই৷ নদীর এদিকেও যাত্রীদের জন্য ছোট এক বিশ্রাম ঘর আছে৷ ওরা সেই ঘরে আশ্রয় নিল৷ দেখতে দেখতে অন্ধকার ঘনিয়ে সন্ধ্যা নামল৷ বৃষ্টির বিরাম নেই তখনও৷ ইতিমধ্যে ভিজে কাপড় নিংড়ে নেওয়া হয়েছে৷ শুকনো গায়ে কিছু আরামও বোধ হচ্ছিল৷ মহীন বলল, ‘সারারাত যখন এখানেই থাকতে হবে, তুমি শুয়ে পড় বাবা৷’

যাত্রীদের বসার জন্য কাঠের বড় এক চৌকি৷ সহজেই শোওয়া যায়৷ ক্লান্ত শরীরে মহানন্দরও ঘুম পাচ্ছিল৷ ছেলের কথায় চমকে উঠে বলল, ‘না রে মহীন৷ শুয়ে কাজ নেই৷ আজ রাতটা জেগেই কাটাব ভেবেছি৷ পারলে, তুইও জেগে থাকিস৷’

‘কেন বাবা?’

‘না এমনি৷’ মহানন্দ আনমনে উত্তর দিল৷

মহীন আর কথা না বললেও অন্ধকার ঘরে বসে ঘুম পাচ্ছিল তারও৷ সেই থেকে জলে ভেজা ক্লান্ত শরীর৷ অন্ধকারের ভিতর এভাবে কতক্ষণ জেগে থাকা যায়৷ বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি৷ ঘরের চালে সেই ঝমঝম শব্দ৷ কেমন নেশার মতো৷ শুনতে শুনতে কখন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছে, টের পায়নি৷

অনেক রাতে গালের উপর অদ্ভুত একটা স্পর্শে মহীনের সেই ঘুম হঠাৎই ভেঙে গেল৷ বাইরে ঝড়-বৃষ্টি তখন একেবারে থেমে গেছে৷ ফুটফুটে চাঁদের আলো৷ ঘরে ঢুকেই ওরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল৷ সেই দরজা এখন হাট করে খোলা৷ সেই খোলা দরজা দিয়ে ঝকঝকে চাঁদের আলোয় ঘর প্রায় ভেসে যাচ্ছে৷ চোখ মেলে ও তাড়াতাড়ি উঠে বসতে যাবে, ভয়ানক চমকে উঠল৷ ওধারে বাবাও কখন ঘুমিয়ে পড়েছে৷ কিন্তু দু’জনের মাঝে কে ও!

মাথা ঘোমটায় ঢাকা সাদা কাপড় পরা একটি মেয়ে ওদের দু’জনের মাঝে হাঁটু গেড়ে বসে আছে৷ মুখ দেখা যাচ্ছে না৷ কিন্তু বোঝা যায় তাকিয়ে আছে ওর দিকেই৷ থম হয়ে দেখছে৷ একটু পরেই মেয়েটি ধপধপে সাদা একটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে ওর গলার উপর রাখল৷ সরু আঙুলগুলো বিলি কেটে চলেছে৷ কেমন শিরশির অনুভূতি৷

মহীন সাহসী মানুষ৷ তবু মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করতে পারল না৷ জীবনে এত ভয় আগে কখনো পায়নি৷ চোখের পলক ফেলার শক্তিও অবশিষ্ট নেই৷ তাহলে হয়তো বুজেই ফেলত চোখ৷ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল শুধু৷

ওইভাবে কতক্ষণ কেটেছে হুঁশ নেই মহীনের৷ হঠাৎই ঘোমটার কাপড় ফাঁক হল সামান্য৷ অপূর্ব সুন্দরী এক অষ্টাদশী তরুণী৷ সেই আগের মতোই তাকিয়ে আছে মহীন৷ অমন রূপ দেখে কিছুটা যেন ভরসা পেতে শুরু করেছে৷ ওই সময় তরুণীর পাতলা ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হল৷ মুহূর্তে ঠোঁটের দুই কোনা দিয়ে বের হয়ে এলো তীক্ষ্ণ লম্বা দুটো কশের দাঁত৷ ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়তে লাগল ওর গলার উপর৷ সন্দেহ নেই, পরমা সুন্দরীর রূপ ধরা কোনো রক্ত পিশাচ৷ ক্রমে ঝুঁকে পড়ছে ওর গলার দিকে৷

মৃত্যু যে সময়ের অপেক্ষা, মহীনের বুঝতে বাকি নেই তখন৷ অপলক চোখে তাকিয়ে আছে শুধু৷ চোখের পাতা বন্ধ করার সামান্য ক্ষমতাও অবশিষ্ট নেই৷ কিন্তু প্রায় গলার কাছে মুখ নামিয়ে এনেও মেয়েটি থেমে গেল হঠাৎ৷ খানিক তাকিয়ে থেকে খনখনে চাপা গলায় বলল, ‘বাহ, দারুণ দেখতে হয়েছিস তো! বাপের থেকে একদম আলাদা৷ সত্যিকারের পুরুষের মতো৷ মহীন, বরং বেঁচেই থাক তুই৷’

চোখ নামিয়ে মেয়েটি খানিক চুপ হয়ে রইল এরপর৷ কী ভাবল৷ তারপর ফের চোখ তুলে বলল, ‘কিন্তু খবরদার৷ আজ রাতের এই ঘটনার কথা ভুলেও কাউকে বলিসনি৷ যদি কখনো বলিস৷ সেই দিনই মরণ হবে তোর৷ মনে রাখিস৷’

কথা শেষ করে মেয়েটি উঠে দাঁড়াল এবার৷ পাশে মহানন্দ তখনও আগের মতোই ঘুমোচ্ছে৷ হিংস্র দৃষ্টিতে সেদিকে এক পলক তাকিয়ে এক দলা থুতু ফেলল মাটিতে৷ তারপর হালকা পায়ে খোলা দরজা দিয়ে প্রায় যেন উড়ে বেরিয়ে গেল৷ মহীনের দুই চোখ ভেঙে এরপর ঘুম নেমে এলো৷ দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ল সে৷

মহীনের ঘুম ফের যখন ভাঙল তখন ভোর হয়ে গেছে৷ বাবা ঘুম থেকে উঠে প্রায় পাগলের মতো ঝাঁকাচ্ছে তাকে৷ ‘কী সর্বনাশ! আমি, আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম নাকি! এদিকে দরজা খোলা! মহীন, তুই রাতে বাইরে বের হয়েছিলি?’

উত্তরে মহীন বাবার দিকে সামান্য তাকাল৷ তারপর অল্প মাথা নাড়ল মাত্র৷ কোনো কথাই বলতে পারল না৷

মহানন্দও কিছু আর জিজ্ঞাসা করল না৷ একটু বেলায় খেয়া চালু হতে দু’জন নদী পার হয়ে ঘরে ফিরে এলো৷ সারাটা সময় কেউ আর একটি কথাও বলেনি৷ আতঙ্ক মহীনের ভিতর থেকে তখনও কাটেনি৷ কিন্তু মহানন্দও যেন কেমন বদলে গেছে৷ বাড়িতে ফিরেও একটি কথাও সে বলল না৷ সন্ধের দিকে জ্বর এলো তার৷ তারপর বাড়তেই থাকল৷

গ্রামের কাঠুরিয়া মানুষ৷ সামান্য অসুখে কেউ ডাক্তারের কাছে যায় না৷ কিন্তু বাবার হঠাৎ ওই জ্বর মহীনের মোটেই ভালো মনে হল না৷ ইতিমধ্যে গত রাতের আতঙ্ক কিছুটা যেন কেটে এসেছে৷ বাবাকে বলল, ‘আমি ডাক্তার নিয়ে আসি বাবা৷ তোমার জ্বরটা ভালো মনে হচ্ছে না৷’

জ্বরের গতি-প্রকৃতি যে ভালো নয়, মহানন্দ নিজেও বুঝতে পারছিল৷ ও ছেলের দিকে খানিক তাকিয়ে থেকে বলল, ‘সে আনিস৷ কিন্তু তার আগে একবার বল দেখি, রাতে দরজা খুলে তুই বাইরে গিয়েছিলি কিনা? ওই ভাবে আমার ঘুমিয়ে পড়াটা একেবারেই ঠিক হয়নি রে৷’

উত্তরে মহীন বলতে গিয়েও কিছু বলতে পারল না৷ কথার পিঠে আরো কথা চলে আসবে৷ কী জবাব দেবে তখন? ওর সেই মুখের দিকে তাকিয়ে মহানন্দ কিন্তু বলল, ‘থাক৷ তোকে আর বলতে হবে না৷ বুঝেছি আমি৷ অযথা ডাক্তার ডাকার দরকার নেই৷’

মহীন অবশ্য বাবার কথা শোনেনি৷ সেই রাতেই ডাক্তার ডেকে এনেছিল৷ ওষুধে কিছু কাজও হয়েছিল৷ অনেক রাতে বাবাকে কিছু সুস্থ দেখে পাশেই শুয়ে পড়েছিল সে৷ ভেরে উঠে বাবার দিকে তাকিয়ে তো হতভম্ব৷ বিছানায় মরে কাঠ হয়ে পড়ে আছে মানুষটা৷ শুকনো চামড়া জড়ানো একটা কঙ্কাল যেন৷ এই অল্প সময়ের মধ্যে মানুষটার কী করে এমন অবস্থা হল শুধু মহীন কেন, অন্যরাও ভেবে পায়নি৷

বাবা হঠাৎ মারা যেতে মহীন কিছু বিপাকেই পড়ে গেল৷ ফের অবশ্য সে কাঠ কাটতে যাওয়া শুরু করেছে৷ তবে রঙ্কিণীর জঙ্গলে আর যায়নি৷ পাড়ার অন্যদের সঙ্গে দূরের অন্য জঙ্গলে যায় এখন৷ গায়ে শক্তি আছে৷ সহজেই চার-পাঁচ বোঝা কাঠ কেটে আনে৷ রোজগারও ভালো৷ কিন্তু বেচারার দিন কাটে চিঁড়ে-মুড়ি চিবিয়ে৷ বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ আগে বাবাই করত৷ খুব শক্ত নয় হয়তো৷ কিন্তু কাজ থেকে ফিরে পরিশ্রান্ত শরীরে আর ইচ্ছে করে না৷ সামান্য চিঁড়ে-মুড়ি চিবিয়ে শুয়ে পড়ে৷ বড় জোর কোনো দিন ভাতে ভাত৷

এভাবে মাস কয়েক কাটার পর প্রতিবেশী কয়েকজনের টনক নড়ল৷ হাজার হোক এক পাড়ার মানুষ৷ চোখের সামনে জন্ম, বড় হতে দেখেছে৷ কদিন আর মুখ ফিরিয়ে থাকা যায়৷ গ্রামের শ্যামখুড়ো আবার ঘটকালির কাজও করে৷ একদিন এসে বলল, ‘বাবা মহীন, এভাবে কদিন আর থাকবি৷ বলিস তো একটা পাত্রী দেখে দেই৷ বিয়ে করে সংসারী হ এবার৷’

ব্যাপারটা কিছুদিন ধরে মহীনের মাথাতেও পাক খাচ্ছিল৷ কিন্তু নিজের বলতে কেউ নেই৷ কীভাবে কথাটা পাড়বে বুঝে উঠতে পারছিল না৷ শ্যামখুড়োর কথায় বলল, ‘কাকা, বেঁচে থাকতে বাবা আমার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছিল৷ যতদূর জানি, এক পাত্রী ঠিক করেও ফেলেছিল৷ বাবা মারা গেছে, বিয়ে যদি করতে হয়, তাঁর ঠিক করে যাওয়া পাত্রীকেই করব৷’

শ্যামখুড়ো বললেন, ‘সে তো খুব ভালো কথা বাপু৷ তা মহানন্দ কোন গ্রামে, কোথায় মেয়ে পছন্দ করেছিল বল আমাকে৷ আজই কথা বলে সব ঠিক করে আসি৷’

উত্তরে মহীন হাত নাড়ল, ‘সে তো জানি না কাকা৷ বাবা বলেনি৷ আমিও জিজ্ঞাসা করিনি৷ তবে কাছেই কোনো গ্রামে৷’

শ্যামখুড়ো না দমে বললেন, ‘তুই ভাবিসনি বাপু৷ আমি খোঁজ নিচ্ছি৷’

ঘটকালির ব্যাপারে শ্যামখুড়ো করিৎকর্মা মানুষ৷ ভেবেছিলেন, সহজেই সমাধা করতে পারবেন৷ কিন্তু তেমন হল না৷ মহানন্দ মেয়ে দেখতে এসেছিল এমন অনেক বাড়ির খোঁজ পেয়েছে সে৷ তাদের মধ্যে একমাত্র বিষ্টু দাসের কাছেই যেতে পারেনি৷ মাস কয়েক আগে সে কী দরকারে বাড়ির সবাইকে নিয়ে সদরে গেছে৷ এখনো ফেরেনি৷ এছাড়া অন্য সব জায়গায় খবর নেওয়া হয়েছে৷ তাদের কারো সঙ্গেই মহানন্দর পাকা কথা হয়নি৷

এদিকে মহীনের সেই এক কথা, বাবার পছন্দ করে যাওয়া মেয়ে ছাড়া অন্য কোথাও বিয়ে করবে না৷

শ্যামখুড়ো অবশ্য হাল ছাড়লেন না৷ জানিয়ে দিলেন, তিনি লেগে রয়েছেন৷ বিষ্টু দাস গ্রামে ফিরে এলেই দেখা করতে যাবেন৷ এছাড়াও মহানন্দ অন্য কোথাও মেয়ে দেখতে গিয়েছিল কিনা সেই খোঁজও নেবেন৷

তারপর কেটে গেছে প্রায় দেড়টা বছর৷ হঠাৎ একদিন শ্যামখুড়ো হন্তদন্ত হয়ে এসে বললেন, ‘পেয়েছি রে মহীন৷ তোর পাত্রীর খোঁজ পেয়েছি৷’

‘কোথায় পেলে কাকা? কোন গ্রামের?’

‘আরে ওই বিষ্টু দাসের মেয়ে ঊর্মিই৷ সেই তিন বছর আগে দেখেছিলাম৷ এখন আরো সুশ্রী হয়েছে রে৷ মহানন্দর নজর ছিল৷’ শ্যামখুড়োর কাছেই মহীন সব খবর পেল এরপর৷ বিষ্টু দাস কিছু বাউণ্ডুলে গোছের মানুষ৷ সেই যে বউ-মেয়ে নিয়ে সদরে চলে গিয়েছিল, তারপর সেখানেই এক কাজ জুটিয়ে থেকে যায়৷ গ্রামে ফেরেনি আর৷ মাস কয়েক আগে বিষ্টু দাস সেখানেই মারা গেছে৷ ওর বউ তারপরেও মেয়ে নিয়ে পড়ে ছিল৷ সম্প্রতি সেও মারা যেতে ঊর্মি দিন কয়েক আগে একাই গ্রামে ফিরে এসেছে৷ জিজ্ঞাসা করতে সম্বন্ধর সব কথা ঊর্মি নিজেই বলেছে৷

শ্যামখুড়ো খুব বাড়িয়ে বলেনি৷ বিষ্টু দাসের মেয়ে ঊর্মিকে দেখে শুধু মহীন নয়, পাড়ার সবাই তো অবাক৷ অমন সুন্দরী, অমন লক্ষ্মীশ্রী মেয়ে কমই দেখা যায়৷ পরের মাসেই মহীন তাকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে এলো৷ ঘটকালি বাবদ শ্যামখুড়োর ভালোই আদায় হল৷

নতুন বউ দেখে মহীনের প্রতিবেশীরাও ভারী খুশি৷ ঊর্মি শুধু দেখতেই সুন্দরী নয়, অমন সুগৃহিণীও বেশি দেখা যায় না৷ দিন কয়েকের মধ্যেই মহীনের ঘরবাড়ি গুছিয়ে ফেলল সে৷ দেখে মহীন তো অবাক৷ মার কথা মনে নেই তেমন৷ বেঁচে থাকতে বাবাই ঘরের কাজ যথাসাধ্য সামলাত৷ মারা যাবার পর গত কয়েক বছর বাড়ি প্রায় ভাগাড় হয়ে উঠেছিল৷ দেখে নিজেরই রাগ হত মহীনের৷ সেই অগোছালো ঘরবাড়ি বউ ঊর্মি অল্প দিনের মধ্যেই গুছিয়ে ফেলল৷ শুধু তাই নয়, আগে খাওয়া শোয়ার কিছু মাত্র ঠিক ছিল না মহীনের৷ এখন সব কিছু ঘড়ি ধরে৷

আগেই বলেছি, সেই ঘটনার পর মহীন আর রঙ্কিণীর জঙ্গলে যেত না৷ পাড়ার অন্যদের সঙ্গে দল বেঁধে দূরের জঙ্গলে যায় কাঠ কাটতে৷ খুব ভোরে বেরোতে হয় বলে বাড়িতে আর খাওয়া হয় না৷ পথেই সামান্য কিছু পেটে দিয়ে প্রাণ রক্ষা৷ কিন্তু বিয়ের পর মহীনকে তার বউ না খেয়ে বেরোতে দেয় না৷ ঊর্মি সেই শেষ রাতে উঠে উনুন জ্বেলে ভাত রেঁধে খাইয়ে দেয়৷ এমনকী সঙ্গেও বেঁধেও দেয় কিছু৷

বন থেকে কাঠ কেটে যেতে হয় বাজারে৷ বেচে ফিরতে কখনো সন্ধে হয়ে যায়৷ বউ ঊর্মি নানা পদ রান্না করে বসে থাকে৷ ঘরে ফিরতেই স্নানের জল এনে দেয়৷ মহীন স্নান সেরে খেতে বসলে পাশে বসে বাতাস করে৷

মহীনের জীবনে এমন কখনো হয়নি৷ সেও খুব খুশি৷ আরো মন দিয়ে কাজ করে৷ পুরনো ঘর মেরামত করে নতুন আর একটা ঘর তুলে ফেলে৷ বাড়িতে নতুন অতিথি আসছে৷ মহীন এখন সত্যিকারের সুখী মানুষ৷

দেখতে দেখতে কেটে যায় বেশ কয়েকটা বছর৷ ইতিমধ্যে চারটি ছেলেমেয়ে হয়েছে৷ তাদের কলতানে মহীনের নিস্তব্ধ বাড়ি এখন মুখর৷ গ্রামে সবার মুখে ঊর্মির প্রশংসা৷ অমন বউ গ্রামে দুটি নেই৷ যেমন ব্যবহার, তেমন কাজের মানুষ৷ নিজের ঘরের কাজ সামলে প্রতিবেশীদের খবর নিয়ে যায়৷ দরকারে হাতের কাজ কেড়ে নিয়ে করে দেয়৷ আর অদ্ভুত ব্যাপার৷ বয়স বাড়লেও ঊর্মির রূপ এখনো সেই আগের মতো৷ অথচ প্রায় দশ বছর কেটে গেছে৷ চারটি ছেলেমেয়েও হয়েছে৷ তাই নিয়ে গ্রামে মাঝেমধ্যে আলোচনাও হয়৷ মহীন সত্যিই ভাগ্যবান৷

ঊর্মির মতো বউ পেয়ে মহীনের দিনগুলো তখন একেবারেই অন্য রকম৷ রঙিন স্বপ্নে বিভোর৷ ছেলেমেয়েরা ক্রমে বড় হচ্ছে৷ আর একটা ঘর দেওয়া দরকার৷ হাতে টাকাও জোগাড় হয়েছে৷ দিন কয়েকের মধ্যেই হয়তো শুরু করে দেবে৷ সেদিন নিশুতি রাত৷ বিকেল থেকেই তুমুল ঝড়-বৃষ্টি৷ রাতের খাওয়া সেরে মহীন বিছানায় শুয়ে আছে৷ বড় তিনটি ছেলেমেয়ে পাশের ঘরে৷ বোধ হয় ঘুমিয়ে পড়েছে৷ কোনো সাড়া নেই তাদের৷ ছোট বাচ্চাটি পাশে শুয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছে৷ বউ ঊর্মির অবশ্য কাজের শেষ নেই৷ রান্নাঘর গুছিয়ে এসেই ছোট বাচ্চার জন্য রঙিন কাপড়ের জামা সেলাই করতে বসেছে৷ তাকিয়ে দেখছিল মহীন৷ সত্যিই ঊর্মির মতো এমন ভালো মেয়ে হয় না৷ কত কাজই না জানে! এমন চমৎকার জামা বাজারের দর্জিও বানাতে পারে না৷ ছেলেমেয়েদের জামা-প্যান্ট ঊর্মি নিজেই তৈরি করে৷ যে দেখে সেই জিজ্ঞাসা করে, কোথা থেকে তৈরি৷ উত্তর দিতে গর্বে বুক ফুলে ওঠে মহীনের৷

বউয়ের হাতের কাজ দেখতে দেখতে মহীনের চোখ গিয়ে পড়ল তার মুখের উপর৷ লক্ষ্মী প্রতিমা যেন৷ সেদিকে খানিক তাকিয়ে হঠাৎই বহুদিন আগে দেখা একটা মুখ মনে পড়ে গেল৷ এমনই এক নিশুতি ঝড়-বৃষ্টির রাতের ঘটনা৷ প্রায় ভুলেই গিয়েছিল৷ ফস করে বলে ফেলল, ‘বউ, তোমায় দেখে আজ হঠাৎ বহুদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল৷ তোমার মতো এমন সুন্দর মুখ আর ওই একবারই দেখেছিলাম৷ তোমার মতোই বয়স ছিল তার৷’

‘কবে গো? কোথায়?’ সেলাই থেকে মুখ না তুলে ঊর্মি বলল৷’

‘সে প্রায় পনেরো বছর আগের কথা বউ৷’ মহীন বলতে শুরু করল, ‘বাবার সঙ্গে রঙ্কিণীর জঙ্গলে কাঠ কাটতে গেছিলাম৷’ একে একে সেই ঝড়জলের রাতের সব কথাই মহীন খুলে বলল এরপর৷ ‘বুঝলি বউ, সুন্দরী হলেও মেয়েটা নিশ্চয় মানুষ ছিল না৷ কী যে ভয় পেয়েছিলাম! ইচ্ছে করলে সেই রাতেই আমাকে সে মেরে ফেলতে পারত’

মহীনের কথা শেষ হতে পেল না৷ হাতের আধসেলাই জামাটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে প্রায় লাফিয়ে উঠল ঊর্মি৷ ঝুঁকে পড়ল মহীনের উপর৷ ঊর্মি তখন আর ঊর্মি নেই৷ রাক্ষসী ডাইনি যেন৷ ফুলে উঠেছে নাকের পাটা৷ দুই চোখে আগুন ছুঁড়ে দিয়ে হিংস্র কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল, ‘আমি! আমি! আমি! সেই রাতে আমিই এসেছিলাম তোর কাছে৷ মনে নেই, রাতের সেই ঘটনার কথা কাউকে বলতে মানা করেছিলাম তখন? তোর বাবাও কথা রাখেনি৷ মানুষটা কিন্তু ভালো ছিল৷ বউ মরতে ফের বিয়ে পর্যন্ত করেনি৷ আমিও মাথায় করে রেখেছিলাম৷ শুধু রঙ্কিণীর জঙ্গলে কাউকে সঙ্গে আনতে বারণ করেছিলাম৷ শোনেনি৷ দোষ অবশ্য তার একার নয়৷ আসলে ছেলেকে বেজায় ভালোবাসত৷ তাই তোর কথা ফেলতে পারেনি৷ আসল কথাও বলতে পারেনি৷ সেই মানুষটাকেই রেয়াত করিনি, আর তুই তো কোন ছার! এবার তাই তোর পালা৷’

হতভম্ব মহীন দেখতে পেল হিংস্র ঊর্মির মুখটা ক্রমশ এগিয়ে আসছে ওর গলা লক্ষ্য করে৷ ঠোঁটের কোনায় কশের তীক্ষ্ণ দাঁত দুটো বেরিয়ে এসেছে বাইরে৷ ক্রমশ লম্বা হচ্ছে৷

ভয়ানক ঝড়বৃষ্টি সেই রাতেই থেমে গিয়েছিল অবশ্য৷ কাঠুরে পাড়ার পুরুষেরা খুব ভোরেই কাজে বেরিয়ে পড়ে৷ বাড়িতে শুধু মেয়েরাই থাকে৷ এছাড়া ছোটদের চিৎকার চ্যাঁচামেচি৷ সেদিনও ব্যতিক্রম হয়নি৷ কিন্তু বেলা বেড়ে উঠলেও মহীনের বাড়িতে কোনো সাড়াশব্দই নেই৷ নিঝুম, নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে আছে দেখে কয়েকজন খোঁজ নিতে গিয়েছিল৷ ঘরের দরজা বাইরে থেকে আলগা করে ভেজানো৷ কৌতূহলে ভিতরে ঢুকে সবাই তো হতভম্ব৷ বিছানায় মরে পড়ে আছে মহীন৷ শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে রয়েছে৷ শুকনো চামড়ায় জড়ানো আস্ত এক নরকঙ্কাল যেন৷ ওর বাবা মহানন্দর মৃতদেহরও এমন অবস্থা হয়েছিল৷

কিন্তু মহীনের বউ ঊর্মি আর বাচ্চারা কোথায়? অনেক খুঁজেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া গেল না৷

আশ্চর্য, মহীনের বউ ছেলেমেয়ের খোঁজ কেউ আর পায়নি তারপর৷ হঠাৎ যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে তারা! একমাত্র শ্যামখুড়োই কিছু অতিরিক্ত খবর জানতে পেরেছিল৷ মহীনের মৃত্যুর পর একদিন সে সদরে গিয়েছিল৷ কৌতূহলে বিষ্টু দাসের খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারে বহুদিন আগে এক নিশুতি ঝড়ের রাতে ভয়ানক বাজ পড়েছিল তার ঘরে৷ শুধু বিষ্টু দাসই নয়, মারা গিয়েছিল তার বউ-মেয়েও৷ কেউ বাঁচেনি৷ ফিরে এসে শ্যামখুড়ো অবশ্য সেই কথা কাউকেই বলতে পারেনি৷ ছেড়ে দিয়েছিল ঘটকালির কাজও৷*

সমাপ্ত

*Lafcadio Hearn সংকলিত জাপানি লোককথা Yuki Onna গল্পের ছায়া অবলম্বনে৷

অধ্যায় ১৬ / ১৬
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%