শিশির বিশ্বাস
এক দেখায় পছন্দ হবার মতো৷ বাইপাসের কাছে অনেকটা জায়গা নিয়ে হাউজিং৷ তারই কর্নার প্লটে চারতলা বাড়ির দু’তলায় পূব-দক্ষিণ খোলা ফ্ল্যাট৷ বড় পোস্টে চাকরি করতেন ধনঞ্জয়বাবু৷ সারাজীবন কোয়ার্টারেই কেটেছে৷ রিটায়ার করার পরে পছন্দমতো একটা ফ্ল্যাটের সন্ধানে ছিলেন৷ নতুন ফ্ল্যাটটা দেখে তাই পছন্দ হতে সময় লাগেনি৷ এখনো এদিকটা বেশ ফাঁকা৷ বসার ঘরে দক্ষিণ দিকে বড় জানলা৷ খুলে দিলেই হু হু বাতাস৷ খানিক দূরে ডালপালা মেলা বড় এক শিরীষ গাছ৷ প্রথম যেদিন দেখতে আসেন, বসার ঘরে দক্ষিণের ওই জানলা আর গাছটা দারুণ লেগেছিল৷
পুরুলিয়ায় যখন পোস্টিং ছিলেন, কোয়ার্টারের দক্ষিণ দিকের জানলার কাছে এমনই এক ঝাঁকড়া শিরীষ গাছ ছিল৷ দিনভর পাখির ডাক শুনতেন৷ এছাড়া ফুরফুরে বাতাস৷ পুরুলিয়ার সেই গাছটার কথা আজও ভুলতে পারেননি৷ পরের দিনই পাকা করে ফেলেছিলেন৷ স্ত্রী লীলাদেবী অবশ্য বলেছিলেন, হুট করে অ্যাডভান্স করে এলে, একবার জলধরবাবুকে দেখিয়ে নিলে হত না?’
চাকরির শেষ কয়েক বছর কলকাতায়৷ জলধরবাবু ওরফে জলধর ভট্ট সেই অফিসে ধনঞ্জয়বাবুর খাস বেয়ারা ছিলেন৷ কপালে মস্ত সিঁদুরের ফোঁটা, লম্বা ঘাড় ছাপানো চুল মাঝবয়সি মানুষটি নাকি তন্ত্রচর্চা করেন৷ অফিসে অনেকের বাড়িতে ডাকও পড়ে৷ কিন্তু কখনই পাত্তা দেননি তিনি৷ জলধরও এসব নিয়ে কখনো সাড়াশব্দ করেনি৷ শুধু অমাবস্যা এলেই দিন তিনেক ছুটি নিয়ে ডুব লাগাত৷ জলধরের প্রসঙ্গ স্ত্রীর কাছে কখনো না তুললেও ব্যাপারটা জেনে ফেলেছিলেন তিনি৷
একমাত্র মেয়ে অপর্ণার বিয়ে দিয়েছিলেন রিটায়ারের বছর দুই আগে৷ অফিসের সবাইকে নেমতন্ন করেছিলেন৷ বাড়িতে দেখাশুনোর মানুষ কম৷ সেজন্য অফিসের কয়েকজনকে বলতেই হয়েছিল৷ জলধর ভট্টও ছিল তাদের মধ্যে৷ কাজের মানুষ জলধর ওই কয়েক দিনেই স্ত্রীর নজরে পড়ে গিয়েছিলেন৷ জেনে ফেলেছিলেন তার তন্ত্রচর্চার ব্যাপারটাও৷ বলা যায়, কিছু গুণমুগ্ধও হয়ে পড়েছিলেন৷
স্ত্রীর কথা ধনঞ্জয়বাবু উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘কেন? জলধর কী করবে?’
‘তুমি তো মানতেই চাও না এসব৷’ ঘাড় ঝাঁকিয়ে স্ত্রী বলেছিলেন, ‘তবু একবার দেখিয়ে নিলে ক্ষতি কী৷ খবর দিলেই চলে আসবেন৷’
বলা বাহুল্য ধনঞ্জয়বাবু সেদিন স্ত্রীর কথায় একেবারেই পাত্তা দেননি৷ তারপর দিনক্ষণ দেখে গৃহ প্রবেশের অল্প দিনের মধ্যে যা ঘটল নড়ে বসতে বাধ্য হলেন৷ ব্যাপারগুলো এমন ভয়ানক কিছু নয়৷ তবুও৷
মেয়ে অপর্ণার বিয়ে হয়ে যাবার পর বাড়ি প্রায় ফাঁকা৷ ঘরে সময় কাটতে চায় না৷ লীলাদেবী তাই গোটা দুই পুষ্যি জুটিয়েছিলেন৷ প্রথমে মেলা থেকে আনা একটা চন্দনা, নাম বিট্টু৷ তারপর কুড়িয়ে আনা একটা বিড়ালছানা৷ বলতে গেলে এখন সারাদিন এই দুই পুষ্যি নিয়েই তাঁর দিন কাটে৷ বড় জাতের চন্দনা পাখি বিট্টু অবশ্য নিজগুণে ধনঞ্জয়বাবুরও মন কেড়ে নিয়েছিল৷ তালিম ছাড়াই বেশ কথা শিখে ফেলেছিল৷ ব্যাপারটা প্রথম ধরা পড়ে ধনঞ্জয়বাবুর কাছেই৷ সকালে অনেকটা সময় কাগজ পড়া অভ্যাস৷ সেদিনও কাগজ পড়ছিলেন৷ হঠাৎ কাছেই কে বলে উঠল, ‘কাগজ পড়া শেষ হল?’
শুনে প্রায় চমকে উঠেছিলেন তিনি৷ সকালের জলখাবার তৈরি হলে স্ত্রী এইভাবেই তাঁকে জানান দিয়ে থাকেন৷ কিন্তু আজকের এই গলা স্ত্রীর নয়৷ অন্য কেউ৷ চট করে ঘাড় তুলে তাকালেন৷ কাউকেই দেখতে পেলেন না৷ কে ডাকল ভাবছেন৷ তারমধ্যে আবার সেই কটকটে আওয়াজ, ‘কাগজ পড়া শেষ হল?’
বুঝতে এবার আর ভুল হয়নি ধনঞ্জয়বাবুর৷ কাছেই বিট্টুর খাঁচা৷ দাঁড়ে গম্ভীর হয়ে যে বসে কথাগুলো তারই৷ বলা বাহুল্য শুধু তিনিই নয়, অবাক হয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রী লীলাদেবীও৷ চন্দনাটা নিজের থেকেই এমন কথা শিখে ফেলেছে ভাবতেই পারেননি৷ তারপর বাড়িতে থাকলে ধনঞ্জয়বাবুর অনেকটা সময় কাটত এই পাখিটাকে নিয়ে৷ অনেক কথাই শিখে ফেলেছিল৷ দরজার পাশে জানালার কাছে বাঁধা থাকত৷ অপরিচিত কেউ এলেই হেঁকে উঠত, দিদা, দাদু শিগগির এসো৷ কে এসেছে৷
দিদা মানে লীলাদেবী৷ আর দাদু ধনঞ্জয়বাবু৷ আগের বাসায় ঠিকে এক কাজের মেয়ে ছিল৷ ওদের দাদু আর দিদা বলে ডাকত৷ শুনে বিট্টুও শিখে ফেলেছিল৷
সেই বিট্টুর হঠাৎই অপঘাতে মৃত্যু৷ নতুন জায়গায় আসার পর পাখিটা কেমন মনমরা হয়ে পড়েছিল৷ কমে গিয়েছিল খাওয়া৷ বাটি ভরতি কাবলি ছোলা বাটিতেই পড়ে থাকত৷ স্বভাবতই ওদের মনে হয়েছিল, হঠাৎ নতুন পরিবেশের কারণেই এমন৷ অনেক ভেবে ধনঞ্জয়বাবু বিট্টুর খাঁচা দক্ষিণের জানলার কাছে এনে রেখেছিলেন৷ ফ্ল্যাটের সেরা জায়গা৷ জানলার ওধারে অনেকটা ফাঁকা জমি৷ ডালপালা সহ ঝাঁকড়া শিরীষ গাছ৷ ভেবেছিলেন, বিট্টু বদলে যাবে এবার৷ কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি৷ তারপরেই সেই ব্যাপারটা৷
রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে শুয়ে পড়েছিলেন ওরা৷ অনেক রাতে অন্ধকারে বিট্টু হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, ‘দাদু, দিদা শিগগির এসো৷ শিগগির এসো৷ কে এসে—’
বিট্টু আর বলতে পারেনি৷ কণ্ঠস্বর হঠাৎই থেমে গিয়েছিল৷ ধনঞ্জয়বাবুর ঘুম খুব গভীর নয়৷ মুহূর্তে উঠে বসে আলো জ্বেলে একাই ছুটে এসেছিলেন৷ কিন্তু কাউকেই দেখতে পাননি৷ দরজাও বন্ধ৷ শুধু বন্ধ খাঁচার ভিতর বিট্টুর নিথর দেহটা পড়ে রয়েছে৷ গলা মুচড়ে ভাঙা৷
গোটা কয়েক বাড়ি নিয়ে পাঁচিল ঘেরা হাউজিং৷ গেটে সর্বক্ষণের গার্ড৷ কে এমন কাজ করল, ভেবে উঠতে পারলেন না৷ সেই রাতে ব্যাপারটা নিয়ে কিছু হইচই হলেও কোনো সুরাহা হয়নি৷ সদর ফটক বন্ধ৷ ডিউটিতে থাকা গার্ড কাউকেই দেখেনি৷
চন্দনা পাখিটা দু’জনের খুব কাছের হয়ে গিয়েছিল৷ ধনঞ্জয়বাবুর মতো মানুষও মুষড়ে পড়েছিলেন৷ আর লীলাদেবীর তো নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হবার জোগাড়৷ দিন কয়েক পরে একদিন স্বামীকে বললেন, ‘তোমাকে বলা হয়নি৷ জলধরবাবুকে আসতে বলেছিলাম৷ আজ দুপুরে আসবেন উনি৷’
স্বামীর অনুমতির জন্য এবার আর অপেক্ষা করেননি লীলাদেবী৷ এ বাড়িতে এমন সাধারণত হয় না৷ কিন্তু ধনঞ্জয়বাবু কিছু খুশিই হলেন যেন৷ বিট্টুর ওইভাবে মৃত্যুর পর কিছু খোঁজখবর নিয়েছিলেন৷ তাতে যেটুকু জানতে পেরেছেন, তা মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়৷ এখন মনে হচ্ছে, অত তাড়াহুড়ো না করলেই ভালো হত৷ হাউজিংয়ের অন্যান্য ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে গেলেও এই ফ্ল্যাটটাই শুধু খালি পড়ে ছিল৷ দু’দুটো পার্টি ফ্ল্যাট বুক করেও শেষ মুহূর্তে ক্যানসেল করে দিয়েছে৷ রীতিমতো গুনাগার দিয়ে৷ চমৎকার ফ্ল্যাটটা সেই কারণেই ফাঁকা পড়েছিল৷ কিছু কারণ নিশ্চয় ছিল৷ অনেক ভেবেও সুরাহা করে উঠতে পারেননি৷ স্ত্রীকে অবশ্য বলেননি সেকথা৷ শুধু বললেন, ‘দুপুরেই আসতে বললে! শনিবার হলেও ছুটি তো সেই পাঁচটায়৷’
‘সব খুলে বলতে উনি হাফডে সি. এল নিয়েই আসতে রাজি হয়েছেন৷ আর একটা মুহূর্তও আমি সময় নষ্ট করতে চাই না৷’
স্ত্রীর সেই মুখের দিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে উঠল ধনঞ্জয়বাবুর৷ আশঙ্কাভরা গলায় বললেন, ‘কেন? ফের কিছু হয়েছে নাকি?’
‘হয়েছে তো৷’ থমথমে গলা লীলাদেবীর, ‘গতকাল টুনি উপরের এক ফ্ল্যাটে চলে গিয়েছিল৷ এমন কখনো হয়নি৷ খুঁজে আজ সকালেই নিয়ে এসেছিলাম৷ ফের চলে গেছে৷ এবার আগের ফ্ল্যাটে নয়৷ অন্য কোথাও৷’
টুনি স্ত্রীর পোষা বিড়ালের নাম৷ শুধু বিট্টু নয়, নতুন ফ্ল্যাটে এসে টুনিও ভালো করে খাচ্ছিল না৷ সব সময় কেমন যেন সন্ত্রস্ত৷ টুনিকে ধনঞ্জয়বাবু তেমন পছন্দ না করলেও নড়ে উঠলেন৷ ‘সে কী! কোথায় গেল আবার? খোঁজ নিয়েছ?’
ধনঞ্জয়বাবুর কথার উত্তর না দিয়ে লীলাদেবী মাথা ঝাঁকালেন, ‘আমার কিন্তু বাপু একটুও ভালো মনে হচ্ছে না৷ জলধরবাবু আগে আসুন তারপর অন্য কথা৷’
জলধর ভট্ট দুপুরে যথা সময়ে চলে এলেন৷ অফিসের পুরোনো সাহেবকে এখনো যথেষ্টই সমীহ করেন৷ ধনঞ্জয়বাবুর সামনে কিছুতেই বসতে চাইছিলেন না৷ বুঝে ধনঞ্জয়বাবুই বললেন, ‘তোমরা কথা বল বরং৷ আমি অন্য ঘরে যাচ্ছি৷’
সমস্যার ব্যাপারটা ফোনে জলধর ভট্ট আগেই জেনে নিয়েছিলেন৷ ফ্ল্যাটে পা দিয়ে মোটামুটি পর্যবেক্ষণের কাজ ততক্ষণে প্রায় সেরে ফেলেছেন৷ ধনঞ্জয়বাবুর কথায় প্রায় হাঁ-হাঁ করে উঠলেন৷ ‘শুধু ম্যাম নয়, আপনাকেও দরকার সার৷ কয়েকটা প্রশ্ন ছিল৷’
লীলাদেবী এতক্ষণ ঘরের ভিতর জলধর ভট্টর চলাফেরা হাঁ করে দেখছিলেন৷ রুদ্ধশ্বাসে বললেন, ‘কী প্রশ্ন দাদা? কিছু বুঝলেন?’
‘ম্যাম৷’ সামান্য ইতস্তত করে জলধর বললেন, ‘তেমন কিছু তো দেখলাম না৷ শুধু দক্ষিণে জানলার অদূরে ওই শিরীষ গাছটা৷ গাছে কখনো কিছু দেখেছেন?’
‘গাছে?’ ঠোঁট উলটে লীলাদেবী বললেন, ‘না তেমন কিছু দেখিনি তো! তবে অত বড় গাছ৷ কিন্তু তেমন পাখ-পাখালি নেই৷ খুব কম৷’
‘পাখি ছাড়া আর কিছু?’
লীলাদেবী ঘাড় নাড়লেন৷ অন্য কিছু দেখেননি তিনি৷ কিন্তু সামান্য উসখুস করে ধনঞ্জয়বাবু বললেন, ‘গতকাল এক ব্যাপার হয়েছিল জলধর৷ দুপুরে জানলার ধারে আরাম কেদারায় বসে বই পড়ছি৷ হঠাৎ জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, গাছের উপরের দিকে এক ডাল থেকে দুটো পা ঝুলছে৷ বেশ লম্বা৷ বুঝতেই পারছ, ভর দুপুরে ওই দৃশ্য দেখে গোড়ায় একটু থতমত খেয়ে গিয়েছিলাম৷ তারপর বুঝলাম হনুমান৷’
‘হনুমানটাকে দেখতে পেয়েছিলেন সার?’
‘ন না, তা অবশ্য দেখিনি৷’ একটু যেন থতিয়ে গেলেন ধনঞ্জয়বাবু৷ তবে সামলে নিলেন মুহূর্তেই৷ পাশে স্ত্রীর দিকে সামান্য চোখ বুলিয়ে নিয়ে বললেন, ‘তা ছাড়া পাতা ভরতি ঘন ডালপালা৷ খুব কাছেও তো নয়৷ পা দুটো মিনিট দুয়েকের বেশি ছিলও না৷’
জলধর ভট্ট কিছু আর জিজ্ঞাসা করলেন না৷ লীলাদেবীকে বললেন, ‘ম্যাম, ঘরে যদি পেতলের ঘটি থাকে এক ঘটি জল আনুন৷ সারের আপত্তি না থাকলে সামান্য জলপড়া করে দেব৷’
এসবে একেবারেই বিশ্বাস নেই ধনঞ্জয়বাবুর৷ বলা যায়, এই কারণেই অফিসে অনেকেই জলধর ভট্টকে কিছু খাতির করলেও তিনি কখনই পাত্তা দেননি৷ তবে আজ আর কিছু বললেন না৷
লীলাদেবী অবশ্য স্বামীর অনুমতির জন্য অপেক্ষা করেননি৷ পেতলের ঘটি ঘরেই ছিল৷ জল ভরে এনেছেন৷ জলধর ভট্ট কাঁধের ঝোলা ব্যাগ থেকে সামান্য সর্ষে বের করে ঘটির জলে ফেলে মেঝেতে রেখে সামনে বসলেন৷ কড়া গন্ধের গোটা কয়েক ধূপকাঠিও জ্বেলে দেওয়া হল৷ তারপর মিনিট পাঁচেক থম হয়ে থেকে উঠে পড়লেন৷ লীলাদেবীকে বললেন, ‘জলভরা ঘটিটা সরিয়ে রাখুন ম্যাম৷ পরে সারা ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে দেবেন৷’
‘কিছু বুঝলেন দাদা?’ লীলাদেবী সাগ্রহে জিজ্ঞাসা করলেন এবার৷ ‘আমি কিন্তু অনেক ভরসা করে আপনাকে ডেকেছি৷’
জলধর ভট্ট সেকথার উত্তর না দিয়ে সামনে ধনঞ্জয়বাবুকে বললেন, ‘স্যার, একটু নীচে যাব আপনাকে নিয়ে৷ যদি আসেন৷’
উত্তরে ধনঞ্জয়বাবু আপত্তি না করে অল্প ঘাড় নাড়লেন৷ একটু পরে দু’জন সিঁড়ি ভেঙে নামছেন৷ সামান্য গলা ঝেড়ে নিয়ে ধনঞ্জয়বাবু বললেন, ‘জলধর, তুমি তো ভাই খুব ভাবনায় ফেলে দিলে৷’
উত্তরে জলধর ভট্ট কোনো কথাই বললেন না৷ আগের মতোই সিঁড়ি ভেঙে নামতে লাগলেন৷ সামান্য অপেক্ষা করে ধনঞ্জয়বাবু ফের বললেন, ‘স্ত্রীর সামনে তখন সব কথা বলতে পারিনি৷’
ধনঞ্জয়বাবু থামলেন৷ আশা করেছিলেন, জলধর হয়তো জানতে চাইবে৷ কিন্তু তেমন কিছু হল না৷ ততক্ষণে দু’জন সিঁড়ি ভেঙে নীচে নেমে এসেছেন৷ একতলায় দক্ষিণ দিকে পাশাপাশি কয়েকটা গ্যারেজ৷ তারই একটার কাছে এসে জলধর ভট্ট দাঁড়িয়ে গেলেন৷ গ্যারেজটার খোলা দিকে লোহার গ্রিল৷ ভিতরে বড় একটা জেনারেটর৷ ধনঞ্জয়বাবু বললেন, ‘এই জেনারেটরটাও এক জ্বালা হয়েছে৷ রাতবিরেতে লোডশেডিং হলেই সমানে আওয়াজ৷ ফ্ল্যাট কেনার সময় খেয়াল হয়নি৷ এখন ঘুমের বারোটা৷ স্ত্রীর কাছেও কথা শুনতে হচ্ছে৷ হাউজিং কমিটিকে লিখেছি৷ দেখি কিছু ব্যবস্থা করে কিনা৷’
‘একটা কথা বলব স্যার৷’ অল্প থেমে জলধর ভট্ট ফের শুরু করলেন, ‘ম্যাম যা বলে বলতে দিন৷ জেনারেটরটা আপাতত এখানেই থাক বরং৷ সামনেই শীত৷ লোডশেডিং কমে যাবে এরপর৷’
‘জলধর৷’ অনেক দিন পর সেই অফিসের মেজাজে কথা বললেন ধনঞ্জয়বাবু৷ ‘অনেক কথাই তুমি চেপে যাচ্ছ৷ কী ব্যাপার ঠিক করে বলো তো?’
‘বলব বলেই তো আপনাকে নীচে নিয়ে এলাম স্যার৷’ জলধর ভট্ট তার গলা প্রায় খাদে নামিয়ে আনলেন৷ ‘প্রথমেই একটা কথা বলি স্যার, কোনো ভাবেই এসব যেন ম্যামের কানে না যায়৷ উনি এমনিতেই কিছু নার্ভাস হয়ে রয়েছেন৷ বিপদ আরো বাড়বে৷’
‘বিপদ? কীসের বিপদ?’ ধনঞ্জয়বাবু কিছু আর না বললেও মানুষটির চোখের দিকে তাকিয়ে বোঝা যাচ্ছিল, বেশ ঘাবড়ে গেছেন তিনি৷ ‘জলধর, ম্যাম তোমাকে বলেছে নিশ্চয়৷ বাড়ির পোষা বিড়ালটাকেও সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না৷’
‘বলেছেন সার৷ তবে বিড়ালটাকে নিয়ে অযথা চিন্তা করবেন না৷ আশপাশে কোথাও গেছে৷ খোঁজ করলে পেয়ে যাবেন হয়তো৷ তবে ওকে আর ঘরে রাখতে পারবেন না৷ ফের পালাবে৷’
‘ক-কেন?’ ধনঞ্জয়বাবু টের পেলেন তাঁর বুকের ভিতর কোথায় যেন সামান্য হলেও অন্য রকম ব্যাপার শুরু হয়ে গেছে৷
‘পাখি, বিড়াল, কুকুর এরা তো আর মানুষ নয়৷ ওদের থার্ড সেন্স অনেক বেশি৷ অনেক কিছুই বুঝে ফেলতে পারে৷ মানুষের পক্ষে যা সম্ভব নয়৷ মনে হয়, আপনাদের এই ফ্ল্যাটবাড়ির জমিতে বড় কোনো গাছ ছিল৷ খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন৷’
খোঁজ নেবার দরকার ছিল না৷ হাউজিংয়ের পুরোনো এক গার্ডের কাছে সেই খবর আগেই জেনেছেন ধনঞ্জয়বাবু৷ বললেন, ‘ছিল তো৷ বড় একটা পাকুড় গাছ৷ কিন্তু তাই যদি হবে, শুধু আমাদের ফ্ল্যাটে ঝামেলা হচ্ছে কেন? অন্য ফ্ল্যাটে তো সমস্যা নেই!’
‘বলছি সার৷ তবে তার আগে আপনাকে একটা কথা বলে রাখি৷ জলপড়া যেটা দিয়ে এসেছি, শুধুই ম্যামের সান্ত্বনার জন্য৷ আসলে জলধর ভট্টর মতো তান্ত্রিক কলকাতার পথেঘাটে মেলে৷ এসব ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ক্ষমতাও ওদের নেই৷ সবটাই লোক দেখানো৷ বরং পারলে আপনি নিজেই কিছু করতে পারবেন৷’ ‘আমি!’ ধনঞ্জয়বাবু অবাক হয়ে বললেন৷
‘হ্যাঁ সার আপনি৷’ জলধর ভট্ট মাথা নাড়লেন৷ ‘আর কেউ হলে বলতাম, কিছুদিনের জন্য অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে৷ কিন্তু আপনাকে তো জানি৷ যে ধাতের মানুষ আপনি, কোনো অশুভ আত্মা, অপদেবতা সহজে ক্ষতি করতে পারবে না৷’
‘অশুভ আত্মা! অপদেবতা!’ যতটা চমকাবার ততটাই চমকালেন ধনঞ্জয়বাবু৷
‘গাছে তো ওনাদেরই বাস৷ পাকুড় গাছের যে ডালে তিনি বাস করতেন, দুর্ভাগ্য আপনাদের ফ্ল্যাটটা ঠিক সেখানেই পড়েছে৷ হঠাৎ গাছটা কাটা পড়তে তিনি সাময়িক অন্য কোথাও ঠাঁই নিলেও এখন নিজের জায়গায় ফিরে আসতে চাইছেন৷ বেচারা চন্দনা পাখিটা বুঝতে পেরে ঝামেলা শুরু করেছিল, তাই প্রাণ দিতে হয়েছে৷ বিড়ালটাও সরে পড়েছে ওই একই কারণে৷ এখনো যে তিনি বড় ক্ষতি করতে পারেনি, তা ফ্ল্যাটের নীচে এই জেনারেটরের জন্য৷ উঁচু মানের অনেকটা লোহা আর অন্যান্য ধাতু থাকায় এখানে খুব বেশি ক্ষমতা তিনি প্রয়োগ করতে পারেন না৷ তাই তেমন কিছু এখনো করে উঠতে পারেনি৷’
জলধর ভট্ট থামতে ধনঞ্জয়বাবু তার মুখের দিকে তাকালেন৷ অফিসে দোর্দণ্ডপ্রতাপ অফিসার হিসেবে খ্যাতি ছিল৷ কারো মুখের দিকে সামান্য তাকিয়ে অনেক কিছুই বুঝে ফেলতে পারতেন৷ তাছাড়া ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ ছিলেন৷ বলা যায়, এই দুটি কারণে দাপটে কাজ করতে পেরেছেন৷ সবাই সমীহ করত৷ সেই ধনঞ্জয়বাবুর মনে হল, নিজের খাস বেয়ারা নিপাট নিরীহ মানুষ জলধর ভট্টকেই তিনি চিনতে পারেননি৷ আজ নতুন করে আবিষ্কার করছেন যেন৷ সামান্য ঢোঁক গিলে বললেন, ‘এ তো ভয়ানক কথা শোনালে জলধর৷ আমারই হাত-পা কাঁপছে৷ তোমার ম্যাম শুনলে তো অনর্থ হবে৷ তখন বলতে যাচ্ছিলাম, তুমি গা করলে না, সেদিন দুপুরে ওই শিরীষ গাছে—৷’
‘জানি স্যার৷’ মাঝপথে জলধর ভট্ট বললেন, ‘ডালে অন্ধকারের ভিতর ভয়ানক হুটোপুটি হচ্ছিল৷ অথচ দেখা যাচ্ছিল না কিছুই৷ কৌতূহল চাপতে না পেরে বের হয়ে দেখতেও ছুটেছিলেন৷ তারপর গিয়ে দেখলেন, গাছতলায় পড়ে কাতরাচ্ছে এক রক্তমাখা ডানাভাঙা দাঁড়কাক৷ কাছে যেতেই ওই অবস্থায় সেটা খলবলিয়ে গাছের গুঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল৷ ওই অদ্ভুত দৃশ্যও আপনি দিব্যি তাকিয়ে দেখলেন৷ বললাম না, আপনি অন্য ধাতের মানুষ৷ আদত সিংহ রাশি৷ যাই হোক, একটাই অনুরোধ, ওইভাবে আর যাবেন না ওখানে৷’
কথা শেষ করে জলধর ভট্ট কাঁধের ঝুলি হাতড়ে কী একটা বের করে ধনঞ্জয়বাবুর হাতে দিলেন৷ ‘এটা রাখুন সার৷ আগুনে সামান্য পুড়িয়ে নিয়ে ঘরে রাখবেন৷ যেই আসুক, ভিতরে ঢোকাবার আগে সেই পোড়া টুকরোটা তার সামনে ধরবেন৷ এমনকী যদি ম্যাম হয়, তবুও৷ আর আগামী কয়েকটা দিন ফ্ল্যাট ছেড়ে যাবেন না কোথাও৷ আমি এবার যাই স্যার৷’
‘সে কী!’ অবাক হলেন ধনঞ্জয়বাবু৷ ‘এভাবে চলে যাবে! তাই হয় নাকি?’
কিন্তু জলধর ভট্ট কর্ণপাত করলেন না৷ লম্বা পা ফেলে হনহন করে সদর ফটক পার হয়ে বেরিয়ে গেলেন৷
জলধর ভট্টর জন্য গৃহিণী দোকান থেকে কিছু খাবার আনিয়েছে৷ কিন্তু মানুষটা এভাবে চলে যাবে, ধনঞ্জয়বাবু ভাবতে পারেননি৷ পুরোনো পদমর্যাদার কথা ভেবে সেভাবে বলতেও পারলেন না৷
ঘরে ফিরে অগত্যা স্ত্রীর কাছে দু’কথা শুনতেই হল৷ কোনো ক্রমে তাঁকে সামলে সোজা ঢুকে পড়লেন কিচেনে৷ স্ত্রীকে কোনো ক্রমেই এসব বলা চলবে না৷ তাই দরজাটাও ভেজিয়ে দিয়ে সাবধানে জামার পকেট থেকে জলধর ভট্টর দেওয়া জিনিসটা বের করলেন৷ একটু নিরাশই হলেন যেন৷ আগে বুঝতে পারেননি৷ মাটি মাখা ছোট এক টুকরো কাঁচা হলুদ৷ মনে হয়, আজই তোলা৷ ধোওয়াও হয়নি৷ গায়ে আলগা মাটি৷ ধনঞ্জয়বাবু গ্যাস জ্বেলে সেটা সাবধানে তার উপর রাখলেন৷
ধনঞ্জয়বাবু যখন কিচেনে হলুদের টুকরো পোড়াতে ব্যস্ত সেই সময় দরজায় আলতো টোকা পড়ল৷ লীলাদেবী বসার ঘরেই ছিলেন৷ জলধর ভট্ট সদ্য গেছেন৷ আবার কে এল! কিছুটা কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন৷ ম্যাজিক হোলে চোখ রেখে যথেষ্ট অবাকই হয়ে গেলেন৷ দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে জলধর ভট্ট৷ কী কারণে ফিরে এসেছেন৷ তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিয়ে বললেন, ‘ওমা দাদা যে! আসুন আসুন৷’
ভিতরে পা দিতে গিয়েও জলধর ভট্ট হঠাৎ কেমন কুঁকড়ে গেলেন৷ ‘কেমন একটা গন্ধ পাচ্ছি! কী পোড়া দিয়েছেন ম্যাম?’
‘কৈ না তো!’ লীলাদেবী অবাক হয়ে বললেন৷ সত্যিই তিনি কোনো গন্ধ পাচ্ছিলেন না৷ তারপরেই মনে পড়ল স্বামী ঘরে এসেই সোজা কিচেনে ঢুকেছে৷ দরজা হালকা ভেজানো৷ সামান্য গলা চড়িয়ে বললেন, ‘তুমি কিচেনে কিছু পোড়া দিয়েছ?’
কিচেনে স্টোভের উপর কাঁচা হলুদের টুকরোটা তখন ভালোই পুড়তে শুরু করেছে৷ অল্প ধোঁয়া উঠছে৷ কিন্তু তেমন কোনো গন্ধ ধনঞ্জয়বাবুও পাচ্ছিলেন না৷ কাঁচা হলুদ পোড়া দিলে কী গন্ধ হয় না? ভেবেও মনে করতে পারছিলেন না৷ মাথায় সেই চিন্তা ঘুরপাক খাওয়ার কারণে বাইরে ফ্ল্যাটের দরজা খোলার চাপা আওয়াজ কানে এলেও গুরুত্ব দেননি৷ ওই সময় স্ত্রীর ডাকে চমকে উঠলেন৷ মুহূর্তে পা থেকে মাথা পর্যন্ত টানটান হয়ে উঠল৷ চিমটে দিয়ে পোড়া হলুদটা ধরে কিচেন থেকে বেরোতেই দেখলেন ফ্ল্যাটের দরজা হাট করে খোলা৷ ওধারে দাঁড়িয়ে একটু আগের জলধর ভট্ট৷ সেই গরদের পাজামা৷ হালকা লাল রঙের ঢিলে শার্ট৷ কাঁধে ঝোলা৷ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মানুষটির দিকে একবার তাকিয়ে দ্রুত এগিয়ে এলেন তিনি৷ সেই রিটায়ারের আগে অফিসে যে মেজাজে কথা বলতেন, সেই ভারি গলায় বললেন, ‘জলধর, তোর বাঁ হাতের ডানায় কী হয়েছে রে? ওভাবে ঝুলে রয়েছে কেন?’
‘অ্যা-আজ্ঞে স্যার৷’ প্রায় চমকে উঠে জলধর ভট্ট সামান্য পিছিয়ে গেলেন৷ ‘সেই জন্যই তো ফিরে এলাম স্যার৷ হঠাৎ পা হড়কে পড়ে গিয়ে বেজায় চোট লেগেছে৷ নাড়াতেই পারছি না৷ ম্যামের কাছে যদি কোনো ওষুধ থাকে একটু মালিশ করে—’
‘থাম বাপু৷’ কড়া ধমকে থামিয়ে দিয়ে ধনঞ্জয়বাবু বললেন, ‘তোর হাতের এই চোট আজকের নয়৷ হতভাগা দাঁড়কাক, গতকাল কার সঙ্গে মারামারি করে গাছের তলায় ছিটকে পড়েছিলি রে? তারপর আমাকে দেখে ওই অবস্থায় ফের গাছে উঠে—’
ধনঞ্জয়বাবু কথা শেষ না করে হাতে চিমটেয় ধরা সেই পোড়া হলুদ দরজার ওধারে জলধর ভট্টর গায়ের উপর ধরলেন৷ মুহূর্তে কয়েক পা পিছিয়ে গেল মানুষটি৷ তারপর আঁ, আঁ করে অমানুষিক চিৎকারে ছুটল সিঁড়ির দিকে৷
ভয়ানক সেই চিৎকারে কয়েকজন ছুটে এসেছিলেন৷ জনা দুই গার্ডও ছিল৷ সব শুনে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও লাভ হয় না৷ জলধর ভট্টকে তারা আগের দফায় বের হতে দেখেছে৷ কিন্তু পরে তাকে ফের ঢুকতে বা বের হতে দেখেনি৷
খানিক বাদে তাদের একজন এসে খবর দিল গেটের কাছে একটা ডানাভাঙা দাঁড়কাক মরে পড়ে আছে৷ মরা দাঁড়কাকটা হঠাৎ কোত্থেকে এল, কেউ বুঝে উঠতে পারছে না৷ একটু ঘাবড়েই গেছে তারা৷ হাজার হোক আজ শনিবার৷ বারবেলা৷
ধনঞ্জয়বাবু সাহস দিয়ে জানালেন, ভয় পাবার কিছু নেই৷ তবে বারবেলা বলেই কাকটার উপযুক্ত সৎকার হওয়া দরকার৷ বাজার থেকে বেলকাঠ, আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র এনে কাকটাকে দাহ করার জন্য খরচ বাবদ পাঁচশো টাকাও বের করে দিলেন৷
ফটকের গার্ডরা সেই কাজে ফাঁক রাখেনি৷ ধনঞ্জয়বাবু নিজেও দাঁড়িয়ে থেকে তদারক করলেন৷ কাজ সারা হতে ঘরে ফিরেছেন, স্ত্রী লীলাদেবী ছুটে এলেন, ‘কী ভয়ানক কাণ্ড গো! এইমাত্র জলধরবাবু বাড়ি থেকে ফোন করেছিলেন৷ হঠাৎ শরীর খারাপ হওয়ায় উনি আজ আমাদের এখানে আসতে পারেননি৷ তাহলে যে এসেছিল সে কে?’
‘যে নয় গো৷’ ধনঞ্জয়বাবু মৃদু হাসলেন৷ ‘বল যারা৷’
‘মানে?’ লীলাদেবী প্রায় আকাশ থেকে পড়লেন৷
‘প্রথমে যিনি এসেছিলেন, তিনি উপকার করতেই এসেছিলেন৷ পোড়াবার জন্য ওই হলুদের টুকরোটা তিনিই দিয়ে গিয়েছিলেন৷ ওটা না থাকলে কী যে হত, ভাবতেই বুক কাঁপছে৷ আর পরে যিনি এসেছিলেন এই ফ্ল্যাটে নানা ঝামেলার মূলে তিনিই৷ তবে আর ভাবনা নেই৷ বিদেয় হয়েছেন৷ আর ঝামেলা করতে আসবে না৷’
‘আমারও তাই মনে হয় গো৷ টুনিও একটু আগে কোথা থেকে ফিরে এসেছে আবার৷ পোড়া হলুদটা আমি কিন্তু যত্ন করে রেখে দিয়েছি৷’
‘ভালো করেছ৷’ তবে আমাকে না জানিয়ে হলুদটা নিয়ে কোথাও যেও না যেন৷’ কথা শেষ করে ধনঞ্জয়বাবু আলতো করে জানলা দিয়ে তাকালেন৷ ইতিমধ্যে সন্ধে নেমে এসেছে৷ অদূরে মস্ত শিরীষ গাছের ঝাঁকড়া ডালপালার ভিতর অন্ধকার কিছু জমাট৷ সেই অন্ধকারেও বেশ দেখতে পেলেন, উঁচুতে এক ডাল থেকে ঝুলছে দুটো লম্বা সরু পা৷
—
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন