শিশির বিশ্বাস
চায়ের পেয়ালায় তুফান আর বাস্তবের মধ্যে বরাবরই বিস্তর ফারাক৷ আদিত্যদাও যে বিশেষ ব্যতিক্রম নয়, বোঝা গিয়েছিল সেবার৷ অফিসের কাজে আদিত্যদা মানে আদিত্য বোস আর আমি বীরভূমের ছোট এক টাউনে গিয়েছিলাম৷ আগেও দু’-একবার গেছি৷ কিন্তু এমন চমকপ্রদ খবর সেই প্রথম৷ মাইল বিশেক দূরে এক গ্রামের প্রান্তে পুরোনো দিনের এক ভাঙা নীলকুঠি আছে৷ বেশিটাই পুরোনো ভাঙা ইটের ধ্বংসস্তূপ৷ সম্প্রতি পঞ্চায়েত থেকে রাস্তা তৈরির জন্য সেই ইট সংগ্রহের কাজে মজুর লাগানো হয়েছিল৷ কিন্তু প্রথম দিন কাজ করার পর তাদের কেউ আর কাজ করতে চাইছে না৷ ঠিকেদার এরপর নতুন মজুরের জন্য চেষ্টা করেছিল৷ কিন্তু লোক মেলেনি৷ মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে, পোড়ো ওই নীলকুঠি নাকি হানাবাড়ি৷
অফিসে এসব ব্যাপারে আদিত্যদা বরাবরই নাক উঁচু মানুষ৷ তারপর যে কোনো ব্যাপারে তর্ক চালিয়ে যেতে জুড়ি নেই৷ সবাই সমীহ করে৷ সেদিক দিয়ে আমি একেবারেই ছেলেমানুষ৷ সবে চাকরিতে ঢুকেছি৷ অফিসে সিনিয়রদের তাল দিয়ে চলতেই হয়৷ তাই আদিত্যদা যখন প্রস্তাব করল, আপত্তি করিনি৷ হাতে সময় আছে৷ জায়গাটাও খুব দূরে নয়, কলকাতায় ফেরার আগে একদিন ঘুরে আসাই যায়৷ তা ছাড়া তখন বয়স কম৷ এসব ব্যাপারে কৌতূহলও বেজায়৷
তবে কাজটা যে একেবারেই ঠিক হয়নি, বিশেষত আদিত্যদার মতো মানুষের কথায়, টের পেতে দেরি হয়নি৷ সেদিন শনিবার৷ অফিসের কিছু কাজ সেরে দুপুর নাগাদ দুটো সাইকেলের ব্যবস্থা করে বেরিয়ে পড়েছিলাম৷
পি. ডব্লিউ. ডি-র পাকা রাস্তা৷ ঘণ্টাখানেক প্যাডেল করে দু’জন যখন ছোট এক বাজারে এসে পৌঁছুলাম, সূর্য তখন পশ্চিম দিকে ঢলে পড়েছে৷ রোদে সাইকেল চালিয়ে হাঁসফাঁস অবস্থা৷ তারপর খোঁজ করতে গিয়ে যা খবর মিলল, তাতে কপালের ভাঁজ ঘন হল আরো৷ তখনো নাকি অনেকটাই পথ৷ বের হবার আগে আদিত্যদা যে খবর এনেছিল, একেবারেই সঠিক নয়৷
এদিকে খিদেও পেয়েছে৷ আরো কতক্ষণ সাইকেল ঠেলতে হবে ঠিক নেই৷ পথের ধারে এক ভদ্রস্থ খাবারের দোকান দেখে ঢুকে পড়েছিলাম৷ ইচ্ছে, খাবারের সঙ্গে মালিকের কাছ থেকে কিছু সঠিক খবর যদি পাওয়া যায়৷ কিন্তু নিরাশ হতে হল৷ দোকানে বেজায় ভিড় তখন৷ দু’জন কর্মচারীর একজন নাকি আসেনি৷ অগত্যা বাকি কর্মচারীকে নিয়ে মালিক একাই ভিড় সামলাচ্ছেন৷ দম ফেলার ফুরসুত নেই৷ তারই মধ্যে আদিত্যদা অবশ্য চেষ্টা করেছিল৷ কিন্তু নিরাশ হতে হয়েছে৷ অগত্যা খাওয়া শেষ করে দোকান থেকে বেরিয়ে দু’জন ফের সাইকেলে উঠতে যাচ্ছি, পাশ থেকে কেউ বললেন, ‘সারেরা কি নীলকুঠির দিকে যাবেন?’
তাকিয়ে দেখি পাশে দাঁড়িয়ে বছর পঞ্চাশ বয়সের এক ভদ্রলোক৷ দোকানে বসে যখন খাওয়া সারছিলাম, ভদ্রলোক অদূরে বাঁধানো গাছতলায় বসে হাতের গামছা ঘুরিয়ে বাতাস খাওয়ার ফাঁকে মাঝে মাঝেই দোকানের ভিড়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন৷ ইতিমধ্যে উঠে এসেছেন৷ পরনের ধুতি আর হাফশার্ট মোটামুটি পরিষ্কার হলেও হাতের তেলচিটে গামছাটাই শুধু নয়, কদিনের না কামানো খোঁচা দাড়ি ভরতি তোবড়ানো গালের দু-পাটি দাঁতও বেশ বেমানান৷ আদিত্যদা তাড়াতাড়ি বলল, ‘সেই জন্যই তো বের হয়েছিলাম৷ কিন্তু নানা জনের কাছে নানা কথা শুনে সব গুলিয়ে যাচ্ছে এখন৷ এদিকে নতুন মানুষ৷ মনে হচ্ছে, ফিরেই যেতে হবে৷’
‘সেটা ভালো৷’ হাতের গামছায় মুখের ঘাম মুছে মন্তব্য করলেন উনি৷
‘কেন?’ ভুরু কুঁচকে উঠল আমাদের৷
‘কারণ, আপনাদের ওই নীলকুঠি আর যাই হোক হানাবাড়ি নয়৷ ভূতটুতও নেই৷’
‘তাই নাকি!’ দু’জনের চোখ ততক্ষণে প্রায় ছানাবড়া হবার জোগাড়৷ আদিত্যদা বলল, ‘তবে যে এসে পর্যন্ত সমানে অন্য কথা শুনছি!’
‘সব কাগজওয়ালাদের মগজ থেকে বেরুনো৷ আর গুজব একবার ছড়াতে পারলে ডালপালা গজাতে সময় লাগে না৷ তাই বলছিলাম, নীলকুঠির দিকে যাওয়া মানে অকারণ সময় নষ্ট৷ বরং—’
বলতে গিয়েও হঠাৎ থেমে গেলেন উনি৷ তারপর সামান্য দম নিয়ে বললেন, ‘বরং সত্যিই যদি ওনাদের কিছু খোঁজ-খবর চান কঙ্কালীটাঁড়ের দিকে যেতে পারেন৷ এখান থেকে বেশি দূরেও নয়৷ বহু দিনের পুরোনো এক শ্মশান পাবেন৷ সাইকেল যখন আছে, দেখে সোজা এগিয়ে গেলে টাঁড়ের ওদিকে কঙ্কালীবাজার৷ সন্ধের আগেই পৌছে যেতে পারবেন৷ ওখানে বাস পেয়ে যাবেন৷ ফিরতে সমস্যা হবে না৷ বাসের ছাদে সাইকেল রাখার ব্যবস্থাও আছে৷ আপনারা হানাবাড়ি দর্শনে যাচ্ছিলেন, তাই বললাম৷’ কথা শেষ করে ভদ্রলোক আর দেরি করলেন না৷ গামছাটা মাথায় ফেলে হনহন করে চলতে শুরু করলেন৷
এদিকে টাঁড় মানে রুক্ষ ঊষর অঞ্চল৷ মাইলের পর মাইল শুধু লালমাটির উঁচুনিচু ঢেউ খেলানো রুক্ষ প্রান্তর৷ অনেক স্থানে সামান্য ঘাসও নেই৷ সব মিলিয়ে বড় জোর গরু-ছাগলের চারণভূমি৷ জনবসতি না থাকায় নির্জন জনমানব শূন্য৷ তবে অফিসের কাজে এদিকে আগেও এসেছি৷ কঙ্কালীটাঁড় তেমন ভয়ানক নয় বলেই শুনেছি৷ ছোট এক নদী আছে৷ সারা বছর শুকনো খটখটে থাকলেও বর্ষায় সামান্য জল হয়৷ বছর কয়েক হল, নদীর মাটি কেটে কয়েক জায়গায় জল ধরে রাখার ব্যবস্থা হয়েছে৷ সেই জলে চাষবাসের কারণে নতুন কিছু জনবসতিও আছে৷ তবে সে নদীর দিকে৷ সেই কারণে কঙ্কালীটাঁড় একেবারে জনমানব শূন্য নয়৷ ভদ্রলোক অবশ্য তেমন কিছুই ভেঙে বলেননি৷ আমরাও জিজ্ঞাসা করার সুযোগ পাইনি৷ কী করব ভাবছি, আদিত্যদা বলল, ‘এতটা পথ যখন এলাম, চল ওই কঙ্কালীটাঁড়ের দিকেই যাই৷ বেশি দূরও নয়৷ কী বলিস?’
আজ এই দুপুরে সাইকেল নিয়ে বেরনো আদিত্যদার ইচ্ছেতেই৷ প্রস্তাবটা মন্দও নয়৷ তার উপর বর্তমান বাজার ছাড়িয়ে কিছু এগোলেই কঙ্কালীটাঁড়ের প্রান্তর৷ এই হুজুগে অন্তত ঘুরে আসা যায়৷ রাজি হয়ে গেলাম৷
প্রায় ঘণ্টা খানেক পার হয়ে গেছে তারপর৷ চলেছি কঙ্কালীটাঁড়ের পথ ধরে৷ পথ মানে উঁচু-নিচু মাঠ৷ এই নেমে যাচ্ছি তো ফের চড়াই৷ সাইকেলে চলা একেবারেই সহজ নয়৷ তার উপর নুড়ি পাথর আর কাঁকুরে জমি৷ পথ বলতেও তেমন কিছু নেই৷ কোথাও অতি হালকা একটা পায়ে চলা রেখা মাত্র৷ খানিক চলতেই মালুম পাওয়া গেল, এসব পথে সাইকেল চালানো আমাদের শহুরে মানুষের পক্ষে সহজ নয়৷ তবু হয়তো মেনে নেওয়া যেত৷ কিন্তু আরো ভয়ানক হল, এতটা পথ এলাম, একটা মানুষের দেখাও মেলেনি৷ শুনশান প্রান্তর৷
ইতিমধ্যে বিকেল অনেকটাই পড়ে এসেছে৷ পশ্চিম আকাশে লাল রঙের আভাস৷ শোঁ শোঁ শব্দে দমকা বাতাস ক্রমশ কেমন ঝিম ধরে আসছে৷ হাঁসফাঁস করে সাইকেল চালাতে চালাতে আদিত্যদা বলল, ‘কী ভয়ানক জায়গা রে বসন্ত! এতটা পথ এলাম, একটা মানুষ নেই!’
বলা বাহুল্য, আদিত্যদার মুখে এমন কথা একেবারেই আশা করিনি৷ কোনো মতে একটা দম নিয়ে হেসে ফেললাম৷ ‘ভয়ানক কিছুর খোঁজেই তো আসা আদিত্যদা৷ ভদ্রলোক মিথ্যে বলেননি মনে হচ্ছে৷ দিনের বেলাতেই এই! এরপর সন্ধে—’
‘থাম দেখি বাপু৷’ মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে আদিত্যদা বলল, ‘যত বাজে কথা! চল ফিরেই যাই বরং৷ লক্ষণ সুবিধের নয়৷’
আগেই বলেছি, অফিসে আদিত্যদা প্রায় কেউকেটা মানুষ৷ সবাই সমীহ করে৷ এমন কী সাহেবরা পর্যন্ত৷ আজ এই রোদে পথে নামা ওই আদিত্যদার ইচ্ছেতেই৷ সেই মানুষের এমন ভোল বদলে ভিতরে অন্য এক ব্যাপার হঠাৎ চাগাড় দিয়ে উঠল৷ উত্তর না দিয়ে দ্বিগুণ জোরে প্যাডেল শুরু করলাম৷ অগত্যা তাল রাখতে আদিত্যদাকেও সেদিকে মন দিতে হল৷
মিনিট দশেক জোরে প্যাডেল মেরে দু’জন তখন কিছু নাবালে চলে এসেছি৷ চড়াই ভেঙে উঠতে হবে এবার৷ সামান্য দম নিতে সাইকেলের গতি কিছু কমিয়ে এনেছি, চারপাশে চোখ পড়তে থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম৷ নাবাল জমিটাই সম্ভবত নদী খাত৷ জল শুকিয়ে এখন শুকনো খটখটে৷ কয়েক জায়গায় পোড়া কাঠের অবশেষ৷ ভাঙা কলসি৷ পুরোনো ফুটিফাটা ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো৷ আদিত্যদা বলল, ‘মনে হচ্ছে এটাই সেই শ্মশান! ভদ্রলোক এর কথাই বলেছিল৷’
প্রান্তরের মাঝে শুনশান শ্মশান প্রায় ঝিম মেরে পড়ে আছে৷ অদূরে কোনো কালে শ্মশান যাত্রীদের জন্য একটা ছাউনি ছিল৷ অনেক দিন আগেই ভেঙে পড়েছে৷ একদিকে দুটো আধভাঙা খুঁটি কার অপেক্ষায় যেন আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে রয়েছে৷ সেদিকে নজর পড়তে মুহূর্তে চোখ সরিয়ে নিয়ে বললাম, ‘তাই তো মনে হচ্ছে৷ কিন্তু কী জন্য বলো দেখি?’
আমার ওই কথায় আদিত্যদা হঠাৎ যেন সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল৷ সাইকেলে ফের প্যাডেল দিয়ে বলল, ‘বেশি ভাবার দরকার নেই৷ এবার চল দেখি৷ জায়গাটা মোটেই সুবিধের মনে হচ্ছে না৷ এতক্ষণ এলাম, পথে একটা মানুষ নেই৷ দেখে মনে হচ্ছে এখানে বহু দিন কেউ শবদাহ করতেও আসে না!’
বলতে বলতে আদিত্যদা তখন খানিক এগিয়ে গেছে৷ অগত্যা আমিও ছুটলাম৷ বোধ হয় মিনিট খানেকও যাইনি তারপর৷ এক ব্যাপার ঘটল৷ পাশেই ছোট এক ঝোপ৷ ভিতর থেকে হঠাৎ এক মিশকালো বিড়াল ছুটে বের হয়ে সামনে রাস্তা পার হয়ে পালাতে যাচ্ছিল বোধ হয়৷ কিন্তু যথাসম্ভব ব্রেক কষেও আমরা তখন তার হাত কয়েকের মধ্যে৷ ওই অবস্থায় বিড়ালটা একটুও ভয় না পেয়ে ‘ফ্যাঁস’ করে চাপা আওয়াজে ঘাড় ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল৷ চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে রইল আমাদের দিকে৷
ইতিমধ্যে সাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছি দু’জন৷ ভেবেছিলাম, বিড়ালটা ছুটে পালিয়ে যাবে এবার৷ কিন্তু তার কোনো লক্ষণই দেখা গেল না৷ বরং চোখ দুটো ক্রমশ আরো বড় হতে লাগল৷ প্রায় মিনিট খানেক সাইকেল থামিয়ে অপেক্ষা করার পর আদিত্যদা ধরা গলায় বলল, ‘ব-বসন্ত, চল ফিরে যাই৷ এ বড় ভয়ানক জায়গা! ভদ্রলোক মিথ্যে বলেনি৷’
কালো বিড়াল নিয়ে নানা ভয়ানক গল্পের অভাব নেই৷ ভয় পায় না, এমন মানুষ কমই আছে৷ তার উপর এই নির্জন প্রান্তরের মাঝে! তা ছাড়া একটুও ভয় না পেয়ে বিড়ালটা যেভাবে ঘাড় ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, একেবারেই স্বাভাবিক নয়৷ ভয় আমিও যে পাইনি, তা নয়৷ কিন্তু আদিত্যদার ওই কথায় মাথার ভিতর এক অন্য মতলব খেলে গেল৷ শুধু পাড়ায় নয়, স্কুল বা কলেজে বড় একটা সুবোধ বালক ছিলাম না৷ এই চাকরিতে ঢুকেই অবস্থার বিপাকে অন্য রকম৷ সিনিয়রদের দাপটে প্রায় কেঁচো হয়ে থাকতে হয়৷ বিশেষ করে এই আদিত্যদা৷ উত্তর না দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, আদিত্যদা ফের ধরা গলায় বলল, ‘ঘাবড়াসনি ভাই৷ দু’জন তো রয়েছি৷’
‘আমি ঘাবড়ে গেছি, কে বলল আদিত্যদা!’ প্রায় জোর করে মুখে হাসি ফুটিয়ে উত্তর দিলাম৷ ‘এসব নিয়ে তেমন দুর্বলতা নেই আমার৷’
‘সে আমারও নেই৷’ ঢোঁক গিলে আদিত্যদা ব্যক্ত করল, ‘কিন্তু পথের উপর যেভাবে থাবা গেড়ে রয়েছে, এগোতে গেলে কামড়ে দিতে পারে!’
‘তা ঠিক৷ তবে আমার কিন্তু মনে হয়, খিদে পেয়েছে বেচারার৷ খাবার পেলেই সরে পড়বে৷ পথে খাবার জন্য দুটো প্যাটিস তো সঙ্গে রয়েছে৷ বলো তো তার একটা দিয়ে দিই৷’
প্যাটিসের প্যাকেট আমার সঙ্গেই ছিল৷ উত্তরের অপেক্ষা না করেই তার একটা বের করে ছুঁড়ে দিলাম৷ প্রায় ছোঁ মেরে সেটা মুখে নিয়ে বিড়ালটা অদূরে এক ঝোপের দিকে ছুটে পালাল৷
সত্যি কথা বলতে কী, এমন ঘটবে, আমি নিজেও আশা করিনি৷ আদিত্যদা কিন্তু তেমন ভরসা পেল না৷ গলা ঝেড়ে নিয়ে বলল, ‘চল বসন্ত ফিরে যাই৷ আমার একেবারেই ভালো মনে হচ্ছে না৷ হাজার হোক, সামনে কালো বিড়াল পড়ে গেল৷ তাও এই অচেনা জায়গায় পোড়ো শ্মশানের মাঝে! আর এগোনো ঠিক হবে না৷’
কঙ্কালীটাঁড় নামটাতেই কেমন অন্য রকম গন্ধ৷ তার উপর হঠাৎ এই ব্যাপার৷ আদিত্যদার প্রস্তাবে আপত্তি হত না৷ কিন্তু অন্য ব্যাপারটাও ছিল৷ অফিসে আদিত্যদার খবরদারি দেখে আসছি সেই প্রথম থেকে৷ মানুষটার এই রূপ কখনো দেখিনি৷ মজা পেয়ে বললাম, ‘সে যেতে হয় তুমি ফিরে যাও৷ আমি রাজি নই৷ বেরিয়েছি যখন, কঙ্কালীবাজার পর্যন্ত যাচ্ছিই৷ মনে হয়, খুব দূরেও নয়৷’
‘অ্যাঁ, বলিস কী! শেষে বিপদে পড়বি যে!’ রীতিমতো করুণ গলা আদিত্যদার৷
‘সে পড়ি পড়ব৷ তুমি ফিয়ে যাও বরং৷’ সাফ জানিয়ে দিলাম৷
‘তাই হয় রে!’ আদিত্যদা প্রায় কাউমাউ করে উঠল, ‘তোকে একা ফেলে এভাবে যেতে পারি? চল তাহলে৷’
বুঝতে বাকি রইল না, আদিত্যদা একা ফিরে যেতেও ভয় পাচ্ছে এখন৷ চায়ের পেয়ালায় তুফান তুলে হানাবাড়ি দেখার শখ, যাবতীয় জারিজুরি, সব উধাও৷ সময় নষ্ট না করে সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখে বললাম, ‘তাহলে তাই চলো৷ জোরে চালিয়ে চললে মনে হয় সন্ধের অনেক আগেই ওদিকে কঙ্কালীবাজারে পৌঁছে যেতে পারব৷’
উত্তরে আদিত্যদা গুম হয়ে থেকে মাথা নেড়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল৷ কিন্তু এদিকে আমি ততক্ষণে প্যাডেল শুরু করে দিয়েছি৷ অগত্যা পড়ি কী মরি করে আমাকে অনুসরণ করা ছাড়া উপায় ছিল না৷
বের হয়েছিলাম হানাবাড়ি দেখার ইচ্ছে নিয়ে৷ তারপর মাঝপথে মত বদলে এই নতুন পথে৷ কঙ্কালীটাঁড় নাকি আরো ভয়ানক৷ কেন ভয়ানক, ভদ্রলোক অবশ্য ভাঙেনি তখন৷ আমরাও জিজ্ঞাসা করার সুযোগ পাইনি৷ কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, একটু আগে যা ঘটল, কিছুই নয় হয়তো৷ তবু বেশ জানি আদিত্যদা তাই নিয়েই এক গল্প ফেঁদে ফেলবে৷ কিন্তু আমার মাথায় তখন একটাই ভাবনা, সন্ধের আগে টাঁড় পার হয়ে কঙ্কালীবাজারে পৌঁছোতে পারব কিনা৷ আসলে তখন যা অনুমান করেছিলাম, কিছুমাত্র মেলেনি৷ শ্মশানের পরেও কঙ্কালীবাজার অনেকটাই পথ৷
যথা সম্ভব দ্রুত প্যাডেল করেও তখনও কঙ্কালীবাজারের হদিস নেই৷ এদিকে দিনের আলো মরে আসতে শুরু করেছে৷ পশ্চিম আকাশে সূর্য অনেকক্ষণ হল অদৃশ্য৷ একসময় মনে হচ্ছিল বোধ হয় কোনো গোলকধাঁধার ভিতর আটকে পড়েছি৷ কঙ্কালীবাজারে আর হয়তো পৌঁছোতে পারব না৷ ভিতরে আতঙ্ক যখন ক্রমশ চেপে আসতে শুরু করেছে, মনে হচ্ছে, এভাবে হঠকারিতা না করে আদিত্যদার কথামতো ফিরে গেলেই ঠিক হত৷ সেই সময় হঠাৎই হালকা অন্ধকারের ভিতর দূরে দু’একটা আলো নজরে পড়ল৷ দেখে প্রায় যেন প্রাণ ফিরে এল৷ সন্দেহ নেই, কঙ্কালীবাজারে আলো জ্বলতে শুরু করেছে৷ অনেকটাই দূর যদিও তবু তো হদিস পাওয়া গেল!
আদিত্যদা এর মধ্যে আর একটি কথাও বলেনি৷ গুম হয়ে রয়েছে৷ কথা এযাবৎ আমিও বলিনি৷ দূরে আলো দেখে এবার সেই কথা বলতে যাচ্ছিলাম৷ আদিত্যদা হঠাৎ বলল, ‘বসন্ত, তোর বোতলে জল আছে?’
বাজার থেকে দুই বোতল জল নেওয়া হয়েছিল৷ আমার বোতল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে৷ তাই বললাম৷ আদিত্যদা হতাশ গলায় বলল, ‘একটু জল না পেলে আর যে চলছে না ভাই!’
আদিত্যদার সেই মুখের দিকে তাকিয়ে এবার প্রমাদ গনলাম৷ কালো বিড়াল কাণ্ডের পর একেই বেজায় ঘাবড়ে রয়েছে মানুষটা৷ তার উপর এভাবে সাইকেলে পথ চলা৷ গাছপালা শূন্য টাঁড়ে বিকেলের রোদের তেজও কিছু কম নয়৷ হঠাৎ ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হলে ভয়ানক বিপদে পড়তে হবে৷ বলা বাহুল্য, দু’জনেই দাঁড়িয়ে পড়েছি তখন৷ ভরসা দিতে বললাম, ‘আলো দেখা যাচ্ছে যখন কঙ্কালীবাজার আর সামান্যই পথ আদিত্যদা৷’
কিন্তু আমার কথা যেন কানেই গেল না আদিত্যদার৷ দূরে চোখ রেখে সে তখন হাঁ করে তাকিয়ে আছে৷ খানিক বাদে বলল, ‘বসন্ত, একটা ঘর দেখা যাচ্ছে না?’
আলো তখন বেশ কম৷ তবু খানিক নজর করে উৎসাহে লাফিয়ে উঠলাম আমিও৷ সত্যি, খানিক দূরে একটা ঘরই দেখা যাচ্ছে৷ তবে টাঁড়ের মাঝে যে পায়ে চলা পথ ধরে চলেছি, সম্ভবত বাড়িটা সেই পথের উপর নয়৷ খানিক দূরে৷ সেই কথাই ব্যক্ত করলাম৷ আদিত্যদা কিন্তু একেবারেই পাত্তা দিল না৷ প্রায় হাঁফাতে হাঁফাতে বলল ‘থাম দেখি, ভারি তো পায়ে চলা পথ৷ সেই থেকে একটা মানুষের দেখা নেই!’
আদিত্যদার ওই কথায় আমি আর আপত্তি করলাম না৷ আবছা আলোয় খানিক দূরে মনে হলেও সাইকেলে তেমন সময় লাগল না৷ একটু পরেই পৌঁছে গেলাম৷
বাড়ি মানে একটেরে মাটির ঘর৷ খড়ের ছাউনি৷ অনেক দিন মেরামত হয়নি৷ সামনে উঁচু দাওয়ার এক কোণে ঢাকনা দেওয়া মেটে কলসি৷ দরজা ভেজানো থাকলেও বারান্দার কোনে পুরোনো ঝুল, মেঝেয় পুরু ধুলো দেখে কেউ থাকে বলে মনে হল না৷ ভেবেছিলাম, আশপাশে আরো ঘরবাড়ি আছে৷ কিন্তু নজরে পড়ল না৷ শুধু অদূরে সদ্য কাটা মাটির উঁচু এক ঢিপি৷ থমকে দাঁড়িয়ে আছি৷ আদিত্যদা বলল, ‘কলসিতে জল আছে বোধহয়৷ দেখব নাকি?’
জলের কলসি ঠিকই৷ কিন্তু এই অবস্থায় ওতে জল পাওয়া যাবে, ভাবাটাই পাগলামি৷ তবু আদিত্যদার অবস্থা অনুমান করে বললাম, ‘দাঁড়াও আদিত্যদা৷ ভিতরে কেউ থাকতেও পারে হয়তো৷ একবার বলে নেওয়া ভালো৷’
আমার কথায় সামান্য ঘাড় নাড়ল আদিত্যদা৷ তারপর গলা ঝেড়ে নিয়ে বলল, ‘ভিতরে কেউ আছেন?’
সন্ধ্যার আধো অন্ধকারে নির্জন প্রান্তর প্রায় নিস্তব্ধ৷ দমকা বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ৷ হঠাৎই ঘরের ভিতর মচমচ আওয়াজে নড়ে উঠল কিছু৷ সম্ভবত নড়বড়ে তক্তপোষ৷ তারপরেই মিনমিনে সরু গলায় উত্তর এলো, ‘কে?’
ঘরের ভিতরে হঠাৎ ওই আওয়াজ৷ তারপর মানুষের গলা শুনে প্রায় চমকে উঠলাম বলা যায়৷ এই প্রায় পোড়ো একটেরে ঘরে মানুষের বাস, ভাবতেই পারিনি৷ থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি৷ আদিত্যদা তাড়াতাড়ি বলল, ‘আমরা সাইকেলে যাচ্ছিলাম৷ বেজায় তেষ্টা পেয়েছে৷ বলেন তো দাওয়ার কলসি থেকে জল খেয়ে তেষ্টা মেটাই৷’
‘জল?’ সেই মিনমিনে গলায় ভিতর থেকে উত্তর এলো, ‘ও কলসিতে জল নেই বাপু৷ ফুরিয়ে গেছে, আনা হয়নি তারপর৷’
শুধু আদিত্যদা নয়, ওই কথায় কোনো উত্তর আমার মুখেও যোগাল না৷ হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছি, ভিতর থেকে ফের মচমচ আওয়াজ৷ তারপরেই দরজা ফাঁক করে যিনি বের হয়ে এলেন তাঁকে দেখে প্রায় চমকে উঠলাম বলা যায়৷ বাজারে খাবারের দোকানের কাছে দেখা সেই মানুষটি৷ যার পরামর্শে আমাদের ধাওয়া এই কঙ্কালীটাঁড়ের দিকে৷ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি৷ আদিত্যদা বলল, ‘আরে দাদা আপনি! এখানে! কখন এলেন?’
‘সে অনেকক্ষণ ভাই৷’ গলা ঝেড়ে নিয়ে উনি বললেন, ‘আমি তো আর সাইকেলে আসিনি৷ বাস ধরে কঙ্কালীবাজারে এসেছি৷ তারপর সামান্যই হাঁটা পথ৷ তা দেখতে পেলেন কিছু?’
প্রায় মিইয়ে যাওয়া আদিত্যদা ইতিমধ্যে কিছু চাঙ্গা হয়ে উঠেছে৷ পাশে আমার দিকে একবার চোখ ঘুরিয়ে নিয়ে ঠোঁট উলটে বলল, ‘নাহ, বেকার পরিশ্রম৷’
‘সে কী!’ মুখে বললেও লোকটার চোখ দুটো হঠাৎ কেমন চকচক করে উঠল৷ ‘কিছুই দেখতে পাননি? শ্মশানে?’
কথা শেষ করে লোকটা আমার দিকে চোখ ফেরালেও আদিত্যদার ওই কথার পর অন্য কিছু বলা সম্ভব নয়৷ কালো বিড়ালের কথা তাই চেপেই যেতে হল৷ মাথা নেড়ে বললাম, ‘কিন্তু, কিন্তু এখানে এই নির্জনে একা থাকেন আপনি?’
‘পেটের দায় রে ভাই৷’ বেখাপ্পা দুই সারি দাঁত বের করে হাসলেন উনি৷ অদূরে সদ্য কাটা মাটির স্তূপের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, ‘পেটের দায়৷ পঞ্চায়েত থেকে সেচের জন্য নতুন কুয়ো কাটার কাজ চলছে৷ অধমের উপর তারই দেখভালের দায়িত্ব৷ থাকতেই হয়৷ সঙ্গে কয়েকজন মজুরও থাকে অবশ্য৷ আজ কী এক পরব আছে ওদের৷ আমি আসার আগেই চলে গেছে সবাই৷ কিন্তু, কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি আপনারা? ওই শ্মশানের কিন্তু এখন অনেক বদনাম৷ কেউ মড়া পোড়াতেও যায় না৷’ ফের একরাশ আপসোস ঝরে পড়ল লোকটার মুখে, ‘হায় হায়, দেখুন দেখি বেকার পরিশ্রম করালাম৷’
‘তাতে কী৷’ সান্ত্বনা দিল আদিত্যদা, ‘তবু তো নতুন জায়গায় কিছু অভিজ্ঞতা হল৷ এবার তাহলে যাই৷ কঙ্কালীবাজার আর বেশি পথ নয় যখন৷ অন্ধকার ঘন হবার আগেই পৌঁছে যেতে পারব৷’
‘আরে, সে কী কথা! এলেন জল খেতে৷ তাই দেখাটা অন্তত হল৷ জল না খেয়েই ফিরে যাবেন! তাই হয়! পুরোনো চেনা মানুষ৷’
‘সে হলে তো ভালোই হত৷’ আদিত্যদা সামান্য ঠোঁট চাটল৷ ‘কিন্তু কলসি খালি বললেন যে৷’
‘কলসি খালি তো কী হয়েছে! চলুন আমার সঙ্গে৷ কাছেই অন্য এক কুয়ো আছে৷ তেষ্টা পেয়েছে আমারও৷ তারপর রাতের জন্যও তো—’
বলতে বলতে হঠাৎ থেমে গেলেন উনি৷ সামান্য নীরব খেকে বললেন, ‘আমি ফিরে আসার আগেই কুলিরা চলে গেছে ঠিকই৷ কিন্তু এমন হলে ওরা অনেকদিন কলসি ভরে দিয়ে যায়৷ দেখুন তো৷’
এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে আদিত্যদা কলসির কাছে এগিয়ে গেল৷ তারপর প্রায় ছোঁ মেরে কলসির ঢাকনা তুলেই চেঁচিয়ে উঠল, ‘আরে কলসি জলে ভরতি দেখছি! এদিকে শুকনো গলায় শুধু কথাই বলে যাচ্ছি!’
দেরি না করে আদিত্যদা এরপর ব্যাগ থেকে খালি জলের বোতলটা বের করে কলসি থেকে জল ঢেলে ভরে ফেলল৷ ঢকঢক করে বোতলের অর্ধেকটা শেষ করে বাড়িয়ে দিল আমার দিকে৷ হাত বাড়িয়ে বোতলটা নিয়ে সবে মুখের সামনে ধরেছি, পা থেকে মাথা পর্যন্ত কেঁপে উঠল হঠাৎ৷
দু’জনেই তখন দাওয়ার নীচে দাঁড়িয়ে৷ সাইকেল দাওয়ার গায়ে ঠেস দিয়ে রাখা৷ আদিত্যদা আমার হাতে জলের বোতলটা দিয়ে সবে সাইকেলে হাত দিয়েছে, মাতালের মতো টলে উঠে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল৷ লোকটা দাওয়ায় বসে কথা বলছিলেন এতক্ষণ৷ হালকা অন্ধকারে চোখদুটো জ্বলে উঠল হঠাৎ৷ দু’পাটি অবিন্যস্ত দাঁত ঝিলিক দিয়ে উঠতেই দু’ধারে তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত দুটো চোখে পড়ল৷ অস্বাভাবিক লম্বা এখন৷ হিংস্র শ্বাপদ৷ লোকটা এক লাফে দাওয়া থেকে নেমে ঝুঁকে পড়ল আদিত্যদার গলার উপর৷
জনমানবহীন প্রান্তরে সন্ধের আধো অন্ধকারে ওই দৃশ্য দেখে আতঙ্কে প্রায় কাঠ হয়ে গেছি তখন৷ চিৎকার করতে গিয়েও গলা দিয়ে স্বর বের হল না৷ শুধু হাত থেকে জলের বোতলটা সশব্দে নীচে পড়ে গেল৷ আদিত্যদার উপর ঝুঁকে পড়েছিল লোকটা৷ ফের মাথা তুলে ঘাড় ফেরাল৷ জ্বলন্ত দুই চোখের দৃষ্টি আমার উপর ছুঁড়ে দিয়ে একরাশ দাঁত বের করে ফ্যাসফেসে গলায় বলল, ‘জলটা খাসনি দেখছি! তবে তো তোর ব্যবস্থাই করতে হয় আগে৷ কদিন ধরে বেজায় শুকিয়ে রয়েছে গলা৷’
লোকটার সেই জ্বলন্ত দৃষ্টি, তীক্ষ্ণ দাঁতের দিকে তাকিয়ে তখন অন্তরাত্মা কেঁপে উঠছে৷ দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতাও যেন অবশিষ্ট নেই৷ মাথা ঘুরে পড়েই যেতাম৷ হঠাৎ এক ব্যাপার ঘটল৷ আধো অন্ধকার ফুঁড়ে কোত্থেকে শ্মশানের সেই কালো বিড়ালটা লোকটার উপর ফ্যাঁস করে ঝাঁপিয়ে পড়ল৷
‘আঁ-আঁ-আ-আঁ—’
গগনবিদারী আর্তনাদে লোকটা বাধা দেবার জন্য হাত বাড়িয়েছিল৷ কিন্তু তারপরেই তার সারা শরীর জলের উপর ঢেউয়ের মতো দুলতে শুরু করল৷ দেখতে দেখতে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে মিলিয়ে গেল বাতাসে৷ অদ্ভুত ব্যাপার, বিড়ালটাকেও আর দেখতে পেলাম না৷ অন্ধকারে যেমন উদয় হয়েছিল, তেমন ভোজবাজির মতোই মিলিয়ে গেছে৷
সেই রাতে ভয়ানক ওই অবস্থার পর কীভাবে উদ্ধার পেয়ে দু’জন ঘরে ফিরে এসেছিলাম, সেও এক রুদ্ধশ্বাস কাহিনি৷ তবে মূল গল্পের তুলনায় একেবারেই সামান্য৷ পাঠকেরও পছন্দ হবে না৷ তাই বিরত রইলাম৷
—
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন