গভীর রাতের গাড়ি

শিশির বিশ্বাস

অল্পের জন্য ট্রেন ফেল হয়ে গেল৷ বাগানের ম্যানেজার নিজের গাড়ি দিয়ে পাঠালেও রওনা হতে মানা করেছিলেন অনেকবার৷ ‘এই অবেলায় না গেলেই ভালো হয় স্যার৷ হাজার হোক পথ তো কম নয়৷’

কিন্তু একেবারেই কান দেইনি৷ ভেবেছিলাম, সময় যা আছে, স্টেশনে ঠিক পৌঁছে যেতে পারব৷ হয়তো যেতামও৷ কিন্তু গ্রামের দিকে বিকেলের পথে যে এমন ঝামেলা থাকতে পারে, জানা ছিল না৷ মাঠে গরু, মোষের পাল চরিয়ে রাখালের দলের খামারে ফেরার সময় তখন৷ আর সে এক-আধটা গোরু-মোষ নয়৷ এক এক পালে কয়েকশো করে৷ তাদের পাশ কাটিয়ে বের হতে ড্রাইভার বেচারার প্রাণান্ত অবস্থা নিজের চোখেই দেখতে পারছিলাম৷ কিছু বলার উপায় ছিল না৷ অগত্যা যা হবার তাই হল৷ গাড়ি তখন স্টেশনের কাছে৷ মিনিট পাঁচেকের পথ৷ গাড়িতে বসেই দেখলাম, ট্রেন স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে৷

পরের ট্রেন সেই শেষ রাতের দিকে৷ ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ৷ সারা রাতের ধাক্কা৷ ছোট স্টেশন হলেও দেখলাম ওয়েটিং রুম একটা আছে৷ তালাবন্ধ থাকায় স্টেশন মাস্টারকে বললাম, খুলে দিতে৷

গোড়ায় ভদ্রলোক তো মাথা ঝাঁকিয়ে সাফ না করে দিয়েছিলেন, রাতে নাকি ওয়েটিং রুম খোলা হয় না৷

কিন্তু আমিও ছাড়ার পাত্র নই৷ অডিট অফিসে চাকরি৷ নামি চা-বাগানের জাঁদরেল ম্যানেজারও সমীহ করেন৷ অগত্যা সেই রেফারেন্স টানতে হল৷ তাতেই কার্যোদ্ধার হল৷ ভদ্রলোক সামান্য ইতস্তত করে বললেন, ‘আপনি সার আমার অফিসঘরে বসে কাটিয়ে দিন বরং৷ ছোট স্টেশন৷ লোকজন কম৷ আজ সন্ধের পর হেড গ্যাংম্যান কী দরকারে বাড়ি গেছে৷ রাতে স্টেশনের দায়িত্ব সেই সামলায়৷ আজ আমাকেই থাকতে হবে৷ গল্প করে সময় কাটবে তবু৷

কিন্তু গল্প করে রাত কাটাতে সায় ছিল না আমার৷ চা বাগানে অডিটে এসেছিলাম৷ কিছু পেপার ওয়ার্ক বাকি রয়েছে৷ অফিসে ফিরে শেষ করব ভেবেছিলাম৷ ভাবলাম, ট্রেন ফেল হবার কারণে সময় যখন কিছু পাওয়াই গেল, স্টেশনে বসেই সেরে ফেলা যায়৷ নিরিবিলিতে কাজটা হবেও ভালো৷ সেকথা জানাবার পরেও স্টেশন মাস্টার কিন্তু গড়িমসি করতে লাগলেন৷

তাতে মনে হল ওয়েটিং রুম হয়তো পরিষ্কার নেই৷ এমন ছোট স্টেশনে সেটাই সম্ভব৷ সেই কথা বলতে স্টেশন মাস্টার বললেন, ‘না তেমন নয় স্যার৷ দু’বেলাই সাফ করা হয়৷ দেখতেই পারছেন, নেহাৎ ছোট স্টেশন৷ তেমন কাজ কোথায়? সারাদিন এসব তদারক করেই সময় কাটে৷’

‘তাহলে খুলেই দিন বরং৷ ওয়েটিং রুমেই রাত কাটাব৷’ তৎক্ষণাৎ উত্তর দিলাম৷

স্টেশন মাস্টার কেন যে ঘর খুলে দিতে গড়িমসি করছিলেন, বুঝতে পারলাম না৷ ছোট হলেও চমৎকার সাজানো গোছানো ঘর৷ মেঝেয় ধুলো বা দেয়ালে ঝুলকালির চিহ্ন মাত্র নেই৷ দেখেই বোঝা যায়, নিয়মিত ঝাড়পোঁছ হয়৷ ভদ্রলোক মিথ্যে বলেননি৷ ঘরের দু’দিকে দুটো লম্বা আরামদায়ক ঝকঝকে বেঞ্চ৷ মাঝে ছোট এক টেবিল৷ কাগজপত্র রেখে কাজ করার পক্ষে চমৎকার৷ মাসের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাজ৷ স্টেশনে এমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ওয়েটিংরুম, এমন ঝকঝকে ফার্নিচার শেষ কবে দেখেছি, মনে করতে পারলাম না৷ আসলে রেল দপ্তর অনেক ব্যবস্থাই করেন৷ কিন্তু মেন্টেনেন্সের অভাবে কিছুই আর ঠিক থাকে না৷ স্টেশন মাস্টার কিছু ব্যতিক্রম, বলতেই হবে৷ নিজে দরজা খুলে দেওয়াই নয়, একটু পরে জগ ভরতি জলও পৌঁছে দিয়ে গেলেন৷ মুখ কাঁচুমাচু করে বললেন, ‘রাতের খাবার এদিকে তেমন পাবেন না স্যার৷ আসলে পাণ্ডববর্জিত জায়গা৷ তায় ছোট স্টেশন৷’

রাতের খাবার নিয়ে ভাবনা ছিল না৷ বাগানের ম্যানেজার রওনা হবার সময় সেটা ড্রাইভারের হাত দিয়ে গাড়িতে তুলে দিয়েছিলেন৷ সেই প্যাকেটের আকার দেখে বুঝতে বাকি নেই, রাতে সব শেষ করা যাবে না৷ সামান্য চিন্তা ছিল খাবার জল নিয়ে৷ ইতিমধ্যে অ্যাটাচি থেকে কাগজপত্র বের করে টেবিলে পেতে ফেলেছি৷ ছোট টেবিলের কোনের দিকে জলের জগের জায়গা করে বললাম, ‘রাতের খাবার সঙ্গে রয়েছে৷ ওটা নিয়ে চিন্তা নেই৷ খাবার জলটারই দরকার ছিল৷ এবার ট্রেনটা সময়মত এলেই হয়৷’

উত্তর না দিয়ে চলে গিয়েছিলেন উনি৷ আমিও সময় নষ্ট না করে কাগজপত্র নিয়ে পড়েছিলাম৷ একেবারে কম কাজ নয়৷ তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতে পারলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়৷ হাতে কলম আর ক্যালকুলেটর নিয়ে সেই কাজই শুরু করেছিলাম৷ স্টেশন মাস্টার ভদ্রলোক ফিরে এলেন মিনিট কয়েকের মধ্যে৷ হাতে কাগজে মোড়া ছোটমতো কী একটা জিনিস৷ সেটা টেবিলের উপর রেখে বললেন, ‘কাগজপত্র নিয়ে কাজে বসেছেন দেখে এটা নিয়ে এলাম স্যার৷ পেপারওয়েটের কাজে লাগতে পারে৷’

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ৷ এই গ্রামের দিকে রাতে ভালোই ঠান্ডা৷ ফ্যান চালাবার দরকার হয় না৷ ঘরের একমাত্র ফ্যানটা ইতিমধ্যে বন্ধও করে দিয়েছি৷ তবু এসব কাজে পেপার ওয়েট একটা দরকার৷ ভদ্রলোকের আন্তরিকতায় কিছু মুগ্ধই হলাম৷ হাতের কাগজ নামিয়ে বললাম, ‘ধন্যবাদ জানিয়ে ছোট করব না আপনাকে৷ বলি কী, আজ রাতে যখন ঘরে ফিরতে পারছেন না, আপত্তি না থাকলে রাতের খাওয়াটা দু’জন এক সাথে করতে পারি৷ আসলে বাগানের ম্যানেজার সঙ্গে যা খাবার পাঠিয়েছেন, দু’জনের পক্ষেও শেষ করা মুশকিল৷’

উনি কিন্তু রাজি হলেন না৷ হাত কচলে বললেন, ‘বাসা থেকে রাতের খাবার চলে এসেছে আমার জন্য৷ রাতে এমন মাঝে মধ্যেই হয়৷ তাছাড়া পেটের কিছু সমস্যা থাকায় খাবারেও কিছু রেসট্রিকশন রয়েছে৷ ভাববেন না৷ আর একটা কথা৷ দরজাটা আমি ভেজিয়ে দিয়ে যাচ্ছি৷ অবশ্যই ভিতর থেকে লক করে দেবেন৷’

ভদ্রলোকের কথার ধরনে কিছু অবাক হয়ে তাকিয়েছি৷ উনি তাড়াতাড়ি বললেন, ‘তেমন কিছু নয় স্যার৷ আসলে ফাঁকা জায়গা তো৷ রাত নামলে জনমানুষ পাওয়া ভার৷ তায় আজ আবার অমাবস্যা৷ দরজাটা লক করেই রাখবেন৷’

কথা শেষ করে চলে গেলেন ভদ্রলোক৷ পিছনে আমিও উঠলাম৷ শুধু দরজা লক করা নয়, একবার টয়লেটেও যাওয়া দরকার৷ ঘরের বাইরে বের হয়ে বুঝলাম, স্টেশন মাস্টার কিছুমাত্র বাড়িয়ে বলেননি৷ এমন কিছু রাত নয়, তবু স্টেশনের পিছনে দোকানগুলো ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে৷ গোটা কয়েক টিমটিমে বাতির আলোয় নির্জন প্ল্যাটফর্ম থমথম করছে৷ শহরের মানুষ৷ এমন দৃশ্যর সঙ্গে খুব একটা পরিচয় নেই৷ সারা শরীর হঠাৎ কেমন ছমছম করে উঠল৷ তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে দরজা লক করে দিলাম৷

নিরিবিলি পরিবেশে কাজ শেষ করতে বেশি সময় লাগল না৷ তিন ঘণ্টার কাজ দেড় ঘণ্টার মধ্যেই করে ফেলা গেল৷ এরপর রাতের খাওয়া সেরে যখন উঠলাম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি মাত্রই সাড়ে এগারোটা৷ আমার ট্রেন সেই সাড়ে চারটেয়৷ ঘণ্টা কয়েক আরামে ঘুমিয়ে নেওয়া যায়৷ ট্রেনটা মিস করে যে দুর্ভোগে পড়েছিলাম, ফাঁকতালে কাজটা শেষ করে ফেলতে পারায় ভিতরে তখন অনেকটাই স্বস্তি৷ বন্ধ ঘরে তেমন ঠান্ডা না থাকলেও পুলওভারটা চাপিয়ে নিয়ে বেঞ্চে ছোট চাদরটা বিছিয়ে শুয়ে পড়ার আয়োজন করছি, হঠাৎ নজর পড়ল টেবিলে পেপারওয়েটের দিকে৷ জিনিসটা ব্যবহার করতে হয়েছে প্রায় সারাটা সময়৷ অথচ কাজের চাপে একবারও সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি৷ হলে ভিতরে কৌতূহল কিছু জাগতই৷ পেপারওয়েটটা এভাবে কাগজে মোড়ার কী কারণ?

গায়ে চাদর টেনে শুয়ে পড়েছি তখন৷ কৌতূহলে উঠে বসলাম৷ হাত বাড়িয়ে পেপারওয়েটটা নিয়ে খুলে ফেললাম মোড়কটা৷ আর তাতেই মালুম হল, জিনিসটা আদৌ পেপারওয়েট নয়৷ পোড়ামাটির একটা দেহাতি পুতুল৷ ঢাউস ভুঁড়ির নাদুসনুদুস এক বামন মানুষ৷ মাথা দেহের প্রায় দ্বিগুণ৷ গ্রামের মেলায় এধরনের পুতুল হামেশাই দেখা যায়৷ কিন্তু তার মাথা এমন ভয়ানক হয় না৷ হিংস্র মাথাটা সম্ভবত কোনো মানুষের নয়৷ বরং রাক্ষস বলা যায়৷ পুরু ঠোঁট৷ কষের দুই পাশে বেরিয়ে রয়েছে তীক্ষ্ণ দুটো দাঁত৷ অমানুষিক বড় দুই চোখের দিকে তাকালে ভিতরে আতঙ্ক জাগা স্বাভাবিক৷ সম্ভবত সেই কারণেই স্টেশন মাস্টার পুতুলটা কাগজে মুড়ে দিয়েছিলেন৷ ব্যাপারটা মনে হতে হাসিই পেল৷ আসলে এসব ব্যাপারে তেমন দুর্বলতা নেই আমার৷ খানিক নেড়েচেড়ে দেখার পর পুতুলটা ফের টেবিলে রেখে শুয়ে পড়লাম৷

তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম খেয়াল নেই৷ হঠাৎ খট খট আওয়াজে ভেঙে গেল৷ ভীষণ জোরে কেউ দরজা ধাক্কাচ্ছে৷ সন্ধে রাতের সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে ছিল৷ গোড়ায় তাই কিছু ঘাবড়েই গিয়েছিলাম৷ কিন্তু তারপরেই বুঝলাম, অন্য কেউ নয়, দরজা ধাক্কাচ্ছে খোদ স্টেশন মাস্টার৷ বাইরে তাঁরই কণ্ঠস্বর৷ ‘আপনার ট্রেন এসে গেছে স্যার৷ এসে গেছে ট্রেন৷’

মুহূর্তে শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠে ছুটে গিয়ে খুলে দিলাম দরজা৷ বাইরে ঘন অন্ধকার স্টেশনে সত্যই একটা ট্রেন দাঁড়িয়ে৷ সামনের কম্পার্টমেন্টের দরজা যদিও বন্ধ, কাচের জানলাগুলো দিয়ে মৃদু আলোর রেখা৷ স্টেশন মাস্টার তখনো সামনে দাঁড়িয়ে৷ হাতে রেল কোম্পানির লাল, সবুজ বাতি৷ দরজা খুলে দাঁড়াতেই বললেন, ‘আপনার ট্রেন এসে গেছে স্যার৷ তখন থেকে দরজা ধাক্কাচ্ছি, উঠে পড়ুন৷’

বলা বাহুল্য, এরপর এক মুহূর্ত দেরি করা সম্ভব ছিল না৷ ব্যাগ গোছানই ছিল৷ বেঞ্চের চাদরটা গুছিয়ে নিয়ে মুহূর্তে ছুটে গেলাম ট্রেনের কামরার দিকে৷ পিছনে দাঁড়িয়ে স্টেশন মাস্টার ততক্ষণে হাতের সবুজ বাতি নাড়তে শুরু করেছেন৷

প্ল্যাটফর্মের বাতিগুলো ইতিমধ্যে কখন নিবে গেছে৷ গাঢ় অন্ধকারের ভিতর শুধু ট্রেনের সামনের কামরাটাই নজরে পড়ছিল৷ হঠাৎ কেমন থতমত খেয়ে গেলাম৷ ট্রেনের বাকি কামরাগুলো কোথায়? বন্ধ দরজার সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছি৷ ঘটাং করে দরজা খুলে গেল৷ খুলে গেল পাশে কামরার গোটা কয়েক জানলাও৷ কয়েকটা হাত বাইরে বেরিয়ে এল : দরজা খুলে দিয়েছি স্যার৷ তাড়াতাড়ি উঠে আসুন৷

পিছনে অন্ধকারের ভিতর স্টেশন মাস্টারের হাতে সবুজ বাতিটাও ওই সময় ফের দুলে উঠল৷ সঙ্গে বাঁশির আওয়াজ : ফুর-র-র-র-র—

ঘট-ঘটাং, ঘট-ঘটাং শব্দে ট্রেনটাও নড়ে উঠল৷ দরজা আগেই খুলে গিয়েছিল৷ মুহূর্ত লাফিয়ে উঠে পড়তেই সারা শরীরে যেন আগুনের ছ্যাঁকা লাগল! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ৷ এই অজ গ্রামাঞ্চলে যথেষ্টই ঠান্ডা৷ বন্ধ ওয়েটিংরুমেও ফ্যান চালাবার দরকার হয়নি৷ এমন কী শোবার আগে গায়ে পুলওভার চাপাতে হয়েছে৷ অথচ ট্রেনের কামরার ভিতর এমন ভয়ানক গরম কেমন করে, ভেবে উঠতে পারলাম না৷

অসহ্য গরমে গায়ের পুলওভারটা খুলে সামনে মানুষগুলোর দিকে তাকালাম৷ যে জানলাগুলো খুলে কয়েকজন আমাকে হাত বাড়িয়ে ডাকছিল, সেগুলো ইতিমধ্যে ফের বন্ধ হয়ে গেছে৷ নিঃশব্দে বসে আছে মানুষগুলো৷ তাড়াতাড়ি বললাম, ‘এত গরম, জানলাগুলো খুলে দিন বরং৷’

কিন্তু আমার কথায় কেউ সাড়া দিল না৷ গম্ভীর মুখে থম হয়ে বসে রইল৷ মানুষগুলো কি কালা অথবা বোবা? কিন্তু তাই বা কী করে সম্ভব? একটু আগে এদের কয়েকজনই তো জানলা খুলে ডাকছিল! অদূরে জানলার ধারে কেতাদুরস্ত পোশাক পরা এক ভদ্রলোক থম হয়ে বসে ছিলেন৷ একটু আগে জানলার শার্সি খুলে সুটপরা এই হাতটাও দেখেছিলাম৷ ডাকছিলেন আমাকে৷ এগিয়ে গিয়ে ঈষৎ ঠেলা দিয়ে বললাম, ‘কথা বলছেন না কেন স্যার! গাড়ির ভিতর এত গরম৷ অথচ জানলা এভাবে বন্ধ!’

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার৷ ঠেলা খেয়ে ভদ্রলোকের শরীর দুলে উঠলেও মুখ দিয়ে শব্দ বের হল না৷ ওই সময় এক ব্যাপার ঘটল৷ দরজার পাশেই কোট-প্যান্ট পরা বেঁটেখাটো বেঢপ চেহারার এক টিকিট চেকার যে বসে রয়েছেন, একেবারেই খেয়াল করিনি৷ হঠাৎই উঠে দাঁড়ালেন তিনি৷ কামরার স্বল্প আলোয় লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলাম৷ কোথায় যেন ভদ্রলোককে দেখেছি৷ কিন্তু অনেক ভেবেও মনে করতে পারলাম না৷ বেঢপ চেহারার টিকিট চেকার ভদ্রলোক ততক্ষণে সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন৷ কড়া চোখে তাকিয়ে বললেন, ‘তখন থেকে সমানে চেঁচিয়ে চলেছেন! জানেন না, এই কামরায় কথা বলা নিষেধ?’

ভদ্রলোকের ওই অদ্ভুত কথার পরেও আমার মুখে উত্তর জোগাল না৷ আসলে ততক্ষণে মানুষটাকে চিনে ফেলেছি৷ ওই ভয়ানক গরমের মধ্যেও ঘাড়ের উপর থেকে একটা হিমেল স্রোত নীচের দিকে শিরশির করে নামতে শুরু করেছে৷ পেপারওয়েট হিসেবে স্টেশন মাস্টার কাগজে মোড়া যে পুতুলটা দিয়ে গিয়েছিলেন, টিকিট চেকার মানুষটা হুবহু সেই পুতুলের মতো৷ সেই পুরু ঠোঁট, হিংস্র চোখের দৃষ্টি৷ কথা বলার সময় গালের দুই পাশে লম্বা ছুঁচলো দাঁত দুটো বের হয়ে আসছে৷ শুধু থলথলে ভুঁড়িটা কালো কোটের আড়ালে৷

হাঁ করে তাকিয়ে আছি, লোকটা খরখরে গলায় বললেন, ‘ট্রেনে উঠেছেন, টিকিট আছে?’

টিকিট জামার বুক পকেটে ছিল৷ বের করে দেখালাম৷ উনি সামান্য চোখ বুলিয়েই ফিরিয়ে দিলেন সেটা৷ ‘এ টিকিট এই ট্রেনের নয়৷ নেমে যান৷’

ট্রেন তখন দ্রুত চলতে শুরু করেছে৷ কোনো মতে বললাম, ‘স্টেশন মাস্টারবাবুই তো উঠিয়ে দিলেন৷’

‘স্টেশন মাস্টার উঠিয়ে দিয়েছেন!’ একটু যেন অবাক হলেন ভদ্রলোক৷ ‘বেজায় ভুল করেছেন উনি৷ বোধ হয় মাথার ঠিক ছিল না৷ ভুল ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছেন আপনাকে৷ নেমে যান৷ নেমে যান এখুনি৷’

ট্রেন তখন ফুল স্পীডে চলতে শুরু করেছে৷ লোকটা যেভাবে আচমকা দরজার দিকে হাত বাড়ালেন, মনে হল, চলন্ত ট্রেন থেকে ঠেলেই নামিয়ে দেবেন হয়তো৷’

আতঙ্কে সারা শরীর হিম হয়ে গেলেও মাথাটা ঠান্ডাই ছিল বোধ হয়৷ চোখ তুলে ততক্ষণে দেখে নিয়েছি, ট্রেন থামাবার চেনটা পাশেই রয়েছে৷ নিমেষে সেদিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে কিছুটা সময় নেবার জন্যই বললাম, ‘এ ট্রেন কোথায় যাচ্ছে সার?’

‘নরক, নরকে যাবার গাড়ি এটা৷ ট্রেনে উঠেও বুঝতে পারছেন না!’ সশব্দে দরজা খুলে প্রায় খেঁকিয়ে উঠলেন উনি৷

অনুমান মিথ্যে হয়নি৷ তবু রক্ষা, চেন টানতে ট্রেনের গতি অনেকটাই কমে এসেছিল৷ লোকটা খোলা দরজা দিয়ে নিমেষে ঠেলে নামিয়ে দিলেও তেমন চোট লাগেনি৷ অন্ধকারে প্রায় হাতড়ে হাতড়ে কীভাবে তারপর স্টেশনে ফিরে এসেছিলাম, এ গল্পের জন্য সেটা তেমন প্রয়োজনীয় নয়৷ ভয়ানক অন্ধকার হলেও লাইন ধরে হেঁটে অল্প সময়ের মধ্যেই স্টেশনে ফিরে আসতে পেরেছিলাম৷ বরং অন্য ব্যাপারগুলো ছিল আরো অদ্ভুত রকমের৷

আমার ট্রেনের সময় রাত সাড়ে চারটে নাগাদ৷ কিন্তু চারপাশের ভয়ানক অন্ধকার দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাকিয়েছিলাম হাতের ঘড়ির দিকে৷ রাত সোয়া বারোটা৷ কী সর্বনাশ! তাহলে সত্যিই ভুল ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম৷ ভয়ানক চেহারার টিকিট চেকার লোকটা তাহলে ভুল বলেনি! কিন্তু ট্রেন থেকে ঠেলে ফেলে দেবার সময় লোকটার ওই শেষ কথার অর্থ অনেক ভেবেও বুঝে উঠতে পারলাম না৷

যখন স্টেশনে এসে পৌঁছোলাম নির্জন স্টেশন ঝিম মেরে পড়ে আছে৷ সামান্য গোটা কয়েক আলোয় আরো যেন ভয়ানক৷ জনপ্রাণীর চিহ্ন মাত্র নেই৷ স্টেশন মাস্টার কেন এমন করল, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না৷ ভদ্রলোকের ঘর ভিতর থেকে বন্ধ৷ এই রাতে ব্যাপারটা নিয়ে চ্যাঁচামেচি করে লাভ নেই৷ অগত্যা সেই ওয়েটিং রুম৷

ভেবেছিলাম, বাকি রাতটা জেগেই কাটাব৷ কিন্তু ক্লান্ত শরীরে কখন ফের ঘুমিয়ে পড়েছি টের পাইনি৷ সেই ঘুম যখন ভাঙল, দেখি ঘরের দরজা হাট করে খোলা৷ স্টেশন মাস্টার আমাকে দু’হাতে ধরে সমানে ঝাঁকাচ্ছেন৷ ‘ও স্যার, আপনাকে দরজা বন্ধ করে শুতে বলেছিলাম, অথচ সাড়ে চারটের ট্রেনের আগে বাইরে বের হয়েছি, দেখি ওয়েটিং রুমের দরজা হাট করে খোলা! রাতে কিছু হয়নি তো?’

ভদ্রলোক ভালো কথা বলছেন বটে! হ্যাঁ, এটা অবশ্য ঠিক, রাতে স্টেশনে ফিরে ফের ওয়েটিং রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করার কথা আর খেয়াল হয়নি হয়তো৷ কিন্তু তার আগে দরজা বন্ধ করেও যা ঘটল! কড়া গলায় উত্তর দিতে গিয়েও ভদ্রলোকের আতঙ্কিত মুখের দিকে তাকিয়ে থেমে গেলাম৷ সামান্য ইতস্তত করে শুধু বললাম, ‘গোড়ায় দরজা তো লক করেই শুয়েছিলাম৷ আপনি নিজেই তো দরজা ধাক্কিয়ে অন্য এক ট্রেনে তুলে দিলেন৷’

‘আ-আমি তুলে দিয়েছি! অন্য এক ট্রেনে!’ প্রায় আকাশ থেকে পড়লেন উনি৷

‘হ্যাঁ, নরকের ট্রেন নাকি সেটা৷ ভুঁড়িওয়ালা চেকার লোকটা—’

ব্যাপারটা খেয়াল হতেই কথা শেষ না করে সামনে টেবিলের দিকে তাকিয়েছিলাম৷ পোড়া মাটির পুতুলটার মোড়ক খুলে শোবার আগে যেভাবে রেখেছিলাম, সেই ভাবেই রয়েছে সেখানে৷ তবে চোখ দুটো এখন যেন আরো বড়৷ তীব্র দৃষ্টিতে কটমট করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে৷ মুহূর্তে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম৷

কিন্তু আমি থেমে গেলেও স্টেশন মাস্টার থামলেন না৷ কপাল চাপড়ে বললেন, ‘হায় ভগবান৷ গত রাতে ওই সময় সম্ভবত মাথার ঠিক ছিল না আমার৷ কিন্তু, কিন্তু ভুঁড়িওয়ালা উনিই রক্ষা করেছেন আপনাকে৷ সত্যিই স্যার, ওটা নরকে যাবারই গাড়ি৷ আর পুতুলটা ওই গাড়ির প্রহরী৷ এমনটা হতে পারে ভেবেই আপনাকে ওয়েটিং রুম দিতে চাইনি৷ আমার কাছেই রাখতে চেয়েছিলাম৷ কিন্তু রাজি হলেন না যখন, পুতুলটা রেখে গিয়েছিলাম আপনার টেবিলে৷ উনিই বাঁচিয়ে দিয়েছেন আপনাকে৷’ বলতে বলতে উনি টেবিল থেকে প্রায় ছোঁ মেরে তুলে নিলেন পুতুলটা৷ অপলক চোখে খানিক তাকিয়ে থেকে মুখ খুললেন ফের, ‘পুতুলটা সামান্য নয় স্যার৷ আর কিছু না হোক নিছক প্রত্নতত্ত্বের বিচারেও মহা মূল্যবান৷ বয়স দু’হাজার বছরেরও বেশি৷ এর কয়েকটি জুড়ি কলকাতার ন্যাশনাল মিউজিয়াম বা ব্যক্তিগত সংগ্রহেও দেখতে পাবেন৷ তবে এটির মতো কোনোটাই নয়৷’

এবার কিছু নড়ে বসলাম আমি৷ প্রত্নতত্ত্বের ব্যাপারে কিছু আগ্রহ আছে৷ মনে পড়ল, বেহালা রাজ্য সরকারের সংগ্রহশালায় এমন একটি পুতুল আমিও দেখেছি৷ কিন্তু তার চাইতেও বর্তমান ব্যাপারটা তখন বেশি জরুরি৷ তাড়াতাড়ি বললাম, ‘মনে হচ্ছে, এই স্টেশনে কিছু একটা রহস্য আছে! খুব ভয়ানক কিছু৷’

‘আছে তো স্যার৷ ভয়ানক এক ব্যাপার৷ ওই জন্যই তো আপনাকে ওয়েটিং রুমে একা ছাড়তে চাইনি৷ তবে সেই কথার আগে এই পুতুলের কথাই আগে বলি৷ আমার পৈতৃক বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির দিকে৷ ওদিকে অনেক জায়গায় সামান্য খোঁড়াখুঁড়ি হলেই কখনো উঠে আসে নানা রকমের পোড়া মাটির জিনিস আর পুতুল৷ আগে কেউ বুঝত না কিছু৷ তাই ছোট ছেলেমেয়েদের খেলার সামগ্রী হত৷ তারপর হারিয়ে যেত কোথায়৷ কিন্তু পরে প্রত্ন-বিশেষজ্ঞদের দৌলতে যখন জানা গেল, জিনিসগুলো অন্তত দু’হাজার বছরের পুরনো, ওই সব অঞ্চল তখন বৌদ্ধ তান্ত্রিক সাধনার কেন্দ্র ছিল, তখনই টনক নড়ল অনেকের৷

‘তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুঁকের কদর ওখানে তখনো যথেষ্ট৷ এই পুতুলটা পেয়েছিলেন আমার দাদু৷ আগে থেকেই গ্রামে ঝাড়ফুঁকের কাজ করতেন উনি৷ পরে আরো নামডাক হয়েছিল৷ দূরের গ্রাম থেকেও ডাক পড়ত৷ এমন কী কলকাতা থেকেও ডাক আসত কখনো৷ তারপর বয়স হতে কমিয়ে দিয়েছিলেন কাজ৷ ওই সময় রেল দপ্তরে চাকরিটা পাই৷ বাড়ির বেকার ছেলে৷ তার উপর খোদ সরকারি চাকরি, বাড়িতে আনন্দ ধরে না৷ কিন্তু কলকাতার হেড অফিসে জয়েন করতে এসে মাথায় বজ্রাঘাত হল৷ পোস্টিং সুদূর নর্থ বেঙ্গলের এই স্টেশনে৷ সেটা বড় কথা নয়, স্টেশনের তখন ভয়ানক বদনাম৷ হেড অফিসে একজন পরিচিত মানুষ ছিলেন৷ তাঁর কাছেই শোনা গিয়েছিল সব কথা৷

‘সে বছর কুড়ি আগের কথা৷ বেশি রাতের দিকে তখন আসাম থেকে নর্থ ইন্ডিয়া যাবার এক ট্রেন এই স্টেশনে দাঁড়াত৷ সেদিন যথাসময়ে ট্রেনটা দাঁড়িয়েছিল স্টেশনে৷ তারপর ছেড়েও গিয়েছিল৷ তার অল্প পরেই ট্রেনের এক কামরায় আগুন ধরে যায়৷ রাতের ট্রেন৷ সবাই ঘুমে অচেতন৷ বোধ হয় কামরায় কেউ কেরোসিন বা ওই জাতীয় কিছু নিয়ে যাচ্ছিল৷ আগুন এত তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে, পুরো কোচটাই জ্বলে ছাই হয়ে যায়৷ একটি মানুষও রেহাই পায়নি৷ সারা দেশে তাই নিয়ে হইচই কম হয়নি৷ অনেক লেখালিখি৷

‘তারপর থেকেই শুরু হল এক অদ্ভুত ব্যাপার৷ গভীর রাতে বারোটার আশপাশে এক ভৌতিক ট্রেন হঠাৎই স্টেশনে এসে থামে৷ কামরার জানালা দিয়ে ভিতর থেকে হাতছানি দিয়ে কারা যেন ডাকে৷ সেই ট্রেনে যারা উঠেছে, কেউ আর সুস্থ অবস্থায় ফিরতে পারেনি৷ বদ্ধ উন্মাদ৷ মুখে শুধু এক কথা, বড্ড গরম, বড্ড গরম৷ জ্বলে গেলাম৷

‘মুশকিল হল, রাতে ট্রেনটা যখন দেখা যায়, উপস্থিত কারো মাথা ঠিক থাকে না৷ সব জানা সত্ত্বেও তিন, তিনজন স্টেশন মাস্টার সেই ট্রেনে সওয়ার হয়ে তখনো মেন্টাল হসপিটালে৷ আমার পোস্টিং হয়েছে সেই স্টেশনে৷ বলা বাহুল্য, সব শুনে সাহস হয়নি৷ জয়েন না করে পরামর্শের জন্য বাড়িতে ফিরে এলাম৷ সব শুনে বাড়ির অন্যরাও মত দিলেন না৷ মন খারাপ৷ খবরটা মামাদের বাড়িতে পৌঁছোতে দাদু একদিন ডেকে পাঠালেন আমাকে৷

‘খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলাম৷ উনি আমার হাতে পুতুলটা ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ভয় নেই বাবু৷ নিশ্চিন্তে কাজে জয়েন করগে যা৷ কেউ তোর কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না৷ শুধু এই পুতুলটা যত্ন করে ঘরে রেখে দিস৷

‘বয়সের কারণে ঝাড়ফুঁকের কাজ তখন প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি৷ সেদিন নিজেই বলেছিলেন, শোন তাহলে, ঝাড়ফুঁকের কাজ বহুদিন থেকে করলেও, আমার নামডাক বছর চল্লিশ আগে যেদিন এই পুতুলটা খেতের কাজ করতে গিয়ে মাটির তলায় পেয়েছিলাম৷ গোড়ায় সেভাবে বুঝিনি৷ কিন্তু বেশি দেরিও হয়নি৷ ওই পুতুলটা ঘরে রাখার অল্পদিন পর থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম, লোক দেখানো ছাইভস্ম যে মন্ত্র পড়েই ঝাড়ফুঁক করি না কেন, তাতেই কাজ হয়ে যায়৷ পরে অনেক লেগে থেকে উদ্ধার করেছিলাম পুতুলটার ইতিহাস৷ সেই দূর অতীতে আমাদের গ্রামেই এক বৌদ্ধ মঠ ছিল৷ সেই মঠের প্রধান তান্ত্রিক ওই মন্ত্রপূত পুতুলটা তৈরি করেছিলেন৷ সব সময় কাছে রাখলেও ব্যাপারটা বলেননি কাউকে৷ তাঁর হঠাৎ মৃত্যুর পরে পুতুলটা তাই অনাদরেই পড়ে ছিল৷ তারপর তো মুসলমান আক্রমণে মঠ ধ্বংসই হয়ে গেল৷ অবশ্য পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মঠের সেই রমরমা দিনও আর ছিল না তখন৷

‘সন্দেহ নেই, দাদু পুতুলটা আমাকে দিয়েছিলেন, অশক্ত শরীরে তিনি তখন ঘরে বসা৷ ঝাড়ফুঁকের কাজ ছেড়েই দিয়েছেন৷ বাড়ির অন্যদেরও এই ব্যাপারে আগ্রহ নেই৷ সেই কারণেই দিয়েছিলেন আমাকে৷ আমিও চাকরিতে জয়েন করে চলে এসেছিলাম এই স্টেশনে৷ তা সেও হয়ে গেল আজ বছর পনেরোর বেশি৷ রাতে নরকে যাবার সেই ভৌতিক গাড়ি এখন কালেভদ্রেই দেখা যায়৷ রাতে যাঁরা সেই গাড়ি তারপর দেখেছেন, তাঁরাই বলেন, ট্রেন এসে দাঁড়ালেই মোটাসোটা এক বামন হঠাৎ কোথা থেকে এসে প্ল্যাটফর্মে হাজির হয়৷ আর তিনি হাজির হলেই জানলা দিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হাতগুলো ঝটপট ঢুকে যায় ভিতরে৷ দরজাও বন্ধ হয়ে যায়৷ গত রাতে যে কিছু ব্যতিক্রম হয়ে গেল, সম্ভবত পুতুলটা নিজের কাছ থেকে আপনার কাছে রেখে যাবার জন্যই৷ আমি কিন্তু ভালোর জন্যই পুতুলটা আপনার কাছে রেখে গিয়েছিলাম স্যার৷ আসল কথা বলিনি অবশ্য৷’

কথা শেষ করে থামলেন উনি৷ আমার মুখেও কথা নেই৷ নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে রইলাম শুধু৷ গমগম শব্দে ওই সময় আমার ট্রেনও প্ল্যাটফর্মে ঢুকল৷

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%