অভীক মুখোপাধ্যায়
চৌধুরী চরণ সিং যত বড় কৃষক নেতা ছিলেন, তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষাও ছিল তত বেশি। তিনি মোরারজি দেশাইকে জনতা পার্টির সরকারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। অনেক টানাপোড়েনের পরে চরণ সিং-এর মাথায় মুকুট উঠল। তবে উঠল শুধু মুকুটটুকুই, রাজা হওয়া আর হল না। প্রধানমন্ত্রী হলেন চরণ সিং, ক্ষমতার রাশ ধরলেন স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধী। সেই ইন্দিরা গান্ধী, যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল সম্পূর্ণ ক্রান্তির সৈন্যদল; সেই ইন্দিরা গান্ধী, যার হারের পরিকল্পনা করার জন্যে তিহাড় জেলের মধ্যে যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন চরণ সিং। ইন্দিরাজির সমর্থন নিয়ে চরণ সিং গদিতে বসলেন। কিন্তু তেল আর জলে মিশ খায় না। চরণ সিং-এর মসনদে বসার কয়েকদিন পরেই ইন্দিরা গান্ধী সমর্থন ফিরিয়ে নিলেন। ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে ভোট হল। চরণ সিং নেই। মোরারজি দেশাইকে পাওয়া গেল না। জনতা পার্টির মধ্যে তখন হিন্দুত্ববাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী রূপে জগজীবন রামকে তুলে ধরা হল। ভোটের জন্যে প্রচার চলছিল। সেই সময়েই চলে গেলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। বেঁচে থাকলে হয়তো বেশি কষ্ট পেতেন। কারণ এক কঠিন বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে তাঁর মানসপুত্র জন্ম নিয়েছিল। জনতা পার্টির গভর্নমেন্টের ভাঙনে প্রথমে সে অন্ধ হল, এবং তারপরে সরকারের পতনে তার মৃত্যু ঘটল। কোন পিতা নিজের সন্তানের শবভার কাঁধে নিতে চায় বলুন তো? শ্রীমতি গান্ধী ফিরে এলেন ভোট জয় করে। লেখা উচিত, বিপুল ভোটে জিতে। কংগ্রেসের ফল ছিল ৩৬২ / ৫২০। আর জনতা পার্টি? মাত্র ৩২ টি আসন। জনসঙ্ঘের জয়মালার ৯৩টি ফুল শুকিয়ে নেমে এল ১৬তে। জনতা পরীক্ষণ ভেস্তে গেল। ফির সে বনি ইন্দিরা-সরকার।
আরএসএস-এর দুই যোগ্য ছাত্র জনতা সরকারের মধ্যে থেকে এই ভাঙনকে দেখলেন। পর্যবেক্ষণ করলেন। তাঁদের তখন মনে পড়ে যাচ্ছিল সঙ্ঘের সেই শিক্ষা— কোনও ব্যক্তি কখনও কোনও প্রতিষ্ঠানের ঊর্দ্ধে হতে পারে না। সঙ্ঘ তাঁদের শিখিয়েছিল পানিপতের তৃতীয় যুদ্ধে মরাঠাদের পরাজয়ের গল্প থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা। সেদিন হিন্দু ঐক্যে চিড় না-থাকলে ভারতে মরাঠাদের শাসন হতো। ভারতকে বিদেশি শক্তির পদদলিত হয়ে থাকতে হতো না। আর জনতা পার্টির মুরুব্বিদের এই অনৈক্য থেকে তাঁদের দুজনের মনে জন্ম নিচ্ছিল এক অনন্য সংকল্প। এক থাকার ফর্মুলা। হাজার মতানৈক্যের ভিড়ে এক থাকার ফেভিকল বাঁধন খুঁজে নিতে হবে। মতের অমিল থাকলেও মনের মিল রাখতে হবে।
যে দুজনের কথা লিখেছি, তাঁরা হলেন শ্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং শ্রী লালকৃষ্ণ আডবানি। আডবানিজি এবং বাজপেয়ীজি যতদিন জনতা পার্টির সরকারে থেকেছেন, ততদিন আরএসএস -এর সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র, তাঁদেরকে তাড়া করে বেরিয়েছে। নিজেদের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মতাদর্শের মধ্যে সেতু স্থাপনের জন্যে তাঁদের মনে মন্থন আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল। হিন্দু ফেভিকলের কথাটা যেমন আডবানি-বাজপেয়ী জুটির মাথায় এসেছিল, তেমনি তাঁরা একটা বিষয় বুঝতে শিখেছিলেন, গান্ধী-হত্যার সঙ্গে আরএসএস -এর নাম জড়িয়ে যাওয়ার কারণেই হোক বা অন্য কোনও অজ্ঞাত কারণের ফলে তাঁদের সঙ্ঘ পরিবারের যোগটার জন্যে তাঁরা রাজনৈতিক সমাজে প্রায়-অচ্ছুৎ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বাজপেয়ী একটি কালজয়ী নিবন্ধে লিখলেন। বললেন, সঙ্ঘ পরিবারকে এবার হিন্দু রাষ্ট্রের মতাদর্শ থেকে সরে এসে ভারতীয় রাষ্ট্রের আইডিয়ার ওপরে জোর দিতে হবে।
এই কথা লিখছেন স্বয়ং বাজপেয়ীজি। যে বাজপেয়ী একদা সঙ্ঘের আদর্শে এমনতর অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে বাউনের পৈতে শিখা ত্যাগ করে জাতপাতের ভেদাভেদ ছাড়ার প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হয়েছিলেন। এ হলেন সেই বাজপেয়ী, যিনি শত বাধা আসা সত্ত্বেও সঙ্ঘের সূত্রকে কখনও বিচ্ছিন্ন করেননি। এ হলেন সেই বাজপেয়ী, যিনি সঙ্ঘের নার্সারি থেকে বেরিয়ে এসে স্বয়ং মহীরুহে পরিণত হচ্ছিলেন। বাজপেয়ীজির জীবনের এই পর্ব ছিল দেখার মতো। এই অধ্যায় অটল ২.০ -এর জন্ম দিচ্ছিল। যে অটলবিহারী কালপর্বে আরএসএস -এর প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবেন। সঙ্ঘ পরিবার নামক মহা প্রতিষ্ঠানও জ্ঞাতসারে- অজ্ঞাতসারে তাঁর বিরোধ করবে। মুখ নাকি মুখোশ— এই প্রশ্ন আর তার উত্তর খোঁজা চলবে। প্রতিস্থানকে সদা ব্যক্তিত্বের ওপরে জায়গা দেওয়া বাজপেয়ীকে কখনও কখনও প্রতিষ্ঠানের থেকেও বড় বলে মনে হবে। শুধু একটা জায়গাতেই তিনি মাত খেয়ে যাবেন, ব্যক্তি আয়ু সীমিত হলেও প্রতিষ্ঠান চিরঞ্জীবী হয়ে যেতে পারে। তিনি চলে গেলেও সঙ্ঘ রয়ে যাবে।
জনতা পার্টির এহেন পরাজয়ের পর জনসঙ্ঘের সদস্যদের দিকে তির দাগল অন্যরা। জগজীবন রাম একখানা চিঠিও লিখে ফেললেন তাঁদের দায়ী করে। আবার প্রশ্ন উঠল সঙ্ঘের সঙ্গে জনসঙ্ঘবাদীদের যোগসূত্র নিয়ে। মিটিং ডাকা হল। তারিখটা ছিল ১৯৮০ সালের ৪ঠা এপ্রিল। ৫ই এবং ৬ই এপ্রিল জনসঙ্ঘ বিশাল র্যালির আয়োজন করল।
মিটিং –এর ফলাফল আগেই আন্দাজ করে নিয়েছিলেন দুদে রাজনীতিক বাজপেয়ী। ৩১ জন সদস্য ভোট দিলেন। ১৭ জন বললেন— না, সঙ্ঘের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যাবে না। জনসঙ্ঘের পক্ষ থেকে এবার একলা চলো নীতি নেওয়া হল। লক্ষ্য এক হলেও পথ আলাদা।
যেমনটা এইমাত্র লিখলাম যে, দিনক্ষণ ঠিক করাই ছিল জনসঙ্ঘের পক্ষ থেকে। ৫ই এপ্রিল, ১৯৮০। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলাতে জমায়েত হতে লাগলেন জনসঙ্ঘের কর্মকর্তারা। হিসেব ছিল ১৫০০ সদস্য আসবেন। এসে উপস্থিত হলেন ৩৬৮৩ জন। ছোট্ট একটা মঞ্চ। জাঁকজমক চোখে পড়ে না। মঞ্চের ওপরে তিনজনের ছবি— মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং জয়প্রকাশ নারায়ণ। মঞ্চে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আরএসএস থেকে কেউ ছিলেন না সেদিন। শান্তি ভূষণ বসে ছিলেন। বিখ্যাত উকিল। তাঁর কথা আগেও এসেছে। আর ছিলেন দুই উকিল— রাম জেঠমালানি এবং সিকন্দর বখত। মঞ্চ থেকে লালকৃষ্ণ আডবানি ঘোষণা করলেন, এবার একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্ম নেবে।
*****
‘দ্বৈত সদস্যতা পদ’ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জনতা পার্টি দিনক্ষণ ঠিক করল। তারিখ? ৪ঠা এপ্রিল, ১৯৮০। বাজপেয়ীজি, আডবানিজি এপ্রিলের ৫-৬ তারিখে জন সঙ্ঘের র্যালি ডাকলেন।
জনতা পার্টির মিটিং-এ কী হতে চলেছে তা সকলের জানাই ছিল। ৩১ জনের ভোট পড়ল। ১৭ জনের রায় ছিল দ্বৈত সদস্যতা চলবে না। ১৪টি ভোট পক্ষে নিয়ে জন সঙ্ঘের নেতারা ঠিক করলেন নিজেদের শেকড়কে না ভুলে জনতা পার্টির ছাতা থেকে বেরিয়ে আসাই মঙ্গল।
৫ই এপ্রিল, ১৯৮০। দিল্লির ফিরোজশাহ কোটলা। জন সঙ্ঘের ডাকা সমাবেশে হাজার দেড়েক লোক হবে বলে মনে করা হয়েছিল। উপস্থিত মানুষের সংখ্যাটা দাঁড়াল ৩৬৮৩। মঞ্চে গান্ধীজি, দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং জয়প্রকাশ নারায়ণ এই তিনজন রাজনেতার ছবিতে মালা পড়েছে। ভাষণ দিলেন এমন বেশ কয়েকজন, যাদের কেউই সঙ্ঘের পৃষ্ঠভূমি থেকে আসেননি— (বিখ্যাত আইনজীবী) শান্তি ভূষণ, রাম জেঠমলানি, সিকান্দার বখত। আডবানিজি নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করলেন।
৬ই এপ্রিল আডবানিজি বললেন অটলবিহারী বাজপেয়ী হচ্ছেন দলের নতুন প্রেসিডেন্ট। জনতা পার্টির নীতি নিয়ে কোনও প্রশ্ন না-তুললেও আডবানিজি সেদিন দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ছেড়ে আসা দলের অনেক নেতার আচরণ নিয়ে। নব্যগঠিত দলটির রাজনৈতিক প্রতীক ও উদ্দেশ্য কী হবে তা পরে ঘোষণা করা হবে বলা হলেও ৬ তারিখ সমাবেশের অন্তিম লগ্নে নামটা সবার পাতে পড়েই গেল— ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’, সংক্ষেপে ভাজপা বা বিজেপি। জয়প্রকাশ নারায়ণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ এবং সঙ্ঘের হিন্দুত্বের ঘরানার রাজনীতিতে নতুন জুটির যুগলবন্দি জন্য মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গেল।
*****
২৮শে ডিসেম্বর, ১৯৮০। বোম্বের বান্দ্রাতে একটা এলাকায় অস্থায়ী একটা আবাসনই তৈরি করে ফেলা হয়েছে। ভাজপার উদ্বোধনী অধিবেশন বলে কথা। দলীয় কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারে-হাজারে এসে উপস্থিত হয়েছেন। চারিদিকে দলের নতুন পতাকা শোভা পাচ্ছে। অনেকটাই জনতা পার্টির ধাঁচের, এক তৃতীয়াংশ সবুজ, দুয়ের তিন ভাগ গেরুয়া, মধ্যিখানে একটি প্রস্ফুটিত পদ্ম। দিল্লিউর ফিরোজশাহ কোটলাতে পদ্মের প্রথম আত্মপ্রকাশের পরে সর্বসম্মতিক্রমে একেই দলীয় প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সন্ধের মুখে শোভাযাত্রা বেরোলো। হুডখোলা জীপে অটলবিহারীজি, অনেকের মনে তিনি হিন্দুত্বের নবজাগরণের অন্যতম নায়ক— তাই অনুগামীদের একাংশ মরাঠা যোদ্ধার বেশ ধরে ঘোড়ায় উঠে আগুয়ান হয়ে অটলবিহারীর জিপকে পথ দেখাচ্ছে। গাড়িতে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং জয়প্রকাশ নারায়ণের বড় বড় কাট আউট। অনেকের চোখের হিন্দু-হৃদয়-সম্রাট জন সঙ্ঘের অটলবিহারীজির মনের মূল মন্ত্র একটা বড় ডিসপ্লে-তে জ্বলজ্বল করছে, ‘গান্ধীবাদী সমাজবাদ’।
এই শব্দ যুগলই পরের বেশ কিছুটা সময় জুড়ে ভাজপার পথের কাঁটা ও চোখের বালি হয়ে দাঁড়াবে। সঙ্ঘ এই মন্ত্র মানেনি। মানেননি ভাজপার দিগগজেরাও। এমনই একজন ছিলেন বিজয়ারাজে সিন্ধিয়া। না-মানতে চাওয়ার স্বাভাবিক কিছু কারণও ছিল। ইন্দিরা গান্ধী যে সমাজবাদের দোহাই দিয়ে রাজতন্ত্রকে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই সমাজবাদকে রাজরক্ত কীভাবে মান্যতা দেবে?
ভাজপার জন্ম ১৯৮০ সালে। জন সঙ্ঘ ১৯৫১ তে। এবং আরএসএস জন্ম নিয়েছে ১৯২৫ -এ। প্রত্যেকটি পৃথক অধ্যায়। আবার পৃথক হয়েও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। নবগঠিত ভাজপার পক্ষ থেকে আডবানিজি ঘোষণা করলেন যে, সঙ্ঘের সঙ্গে ভাজপার কোনও আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না-থাকলেও ভাজপার কেউ সঙ্ঘের সদস্যতা রাখতেই পারেন। সঙ্ঘের বাইরে থেকেও ভাজপাতে কেউ আসতে পারে। রাম জেঠমলানিকে পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হল। জসবন্ত সিং হলেন দলের ন্যাশন্যাল সেক্রেটারি। ভাজপার মুসলিম মুখ করা হল সিকান্দার বখত-কে। এসব পরিবর্তন যেমন সেদিন বোম্বের বুকে করতালির ঝড় তুলল, তেমনি গুঞ্জন তুলল নাগপুরের হেগডেবার ভবনে। সঙ্ঘ নারাজ হল।
অটলবিহারী বাজপেয়ী বিখ্যাত ছিলেন তাঁর বক্তব্যের কারণে। দলের প্রথম রাষ্ট্রীয় অধিবেশনে তিনি যখন বলতে উঠলেন, তখন মঞ্চে তাঁর পিছনেই বাবু হয়ে বসে আছেন দলের অন্যান্য নেতানেত্রীরা। ঈশ্বরের কাছে নিজের কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব পালনের শক্তি এবং বিবেক চেয়ে তিনি যখন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বিরতি দিয়েছেন, তখন হাততালির শব্দে কান পাতা দায়। বললেন, …ভারতীয় জনতা পার্টির অধ্যক্ষের এই পদ আসলে পদ নয় দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠা নয় পরীক্ষা। সম্মান নয় চ্যালেঞ্জ। …জনতা পার্টি ভেঙে গেলে আমরা জয়প্রকাশের স্বপ্নগুলোকে নষ্ট হতে দেব না। জয়প্রকাশ কোনও ব্যক্তির নাম নয়, জয়প্রকাশ হল কিছু আদর্শের নাম, কিছু মূল্যবোধের নাম।’ গান্ধীবাদী সমাজবাদ নিয়ে দলে যে অন্তরদ্বন্দ্ব চলছিল, তা নিয়ে বেশ ক’দিন ধরে কাগজে লেখালিখি হয়। অটলজি তাই নিয়ে বললেন, গান্ধীবাদী সমাজবাদ পুঁজিবাদকে যেমন অস্বীকার করে, মার্ক্সবাদকেও অস্বীকার করে। পুঁজিবাদ আর মার্ক্সবাদ হল যমজ ভাই। এক ভাই সাম্যকে নষ্ট করে, অন্য ভাই স্বাধীনতাকে। গান্ধীবাদী সমাজবাদের ওপরে ভিত্তি করেই নতুন ভারতের নির্মাণ হবে। ‘ভারত কে পশ্চিমি ঘাট কো মণ্ডিত করনেওয়ালে মহাসাগর কে কিনারে খড়ে হোকর ম্যায় ইয়ে ভবিষ্যবাণী করনে কা সাহস করতা হুঁ কি, অন্ধেরা ছুঁটেগা, সুরজ নিকলেগা, কমল খিলেগা…!’
অটলজি যখন গান্ধীবাদী সমাজবাদ নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন, তখন বালাসাহেব দেওরস ভাজপাকে নিজের পথে এগোতে দিয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছিল ভাজপা পথ হারিয়ে ফেলেছে, হোঁচট খেয়ে আবার ফিরে আসবে সঠিক পথে।
ভাজপার অধিবেশনের জন্য অর্থ জুগিয়েছিলেন নুসলি ওয়াডিয়া। নুসলির পরিচয় আগেই দিয়েছি। বোম্বে ডাইং-এর মালিক নুসলি ততদিনে ধীরুভাই অম্বানির সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি বারবার কংগ্রেস সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলছিলেন যে, কংগ্রেস রিলায়েন্স গোষ্ঠীকে বিভিন্ন অন্যায় সুযোগ সুবিধের বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। অম্বানিদের সঙ্গে লড়ার জন্যে দিল্লিতে চেনাশোনা থাকাটা দরকার, এই হিসেব মাথায় নিয়েই সম্ভবত নুসলি ভাজপার ফান্ডিং করে চলেছিলেন।
পাকা ব্যবসাদারেরা বুঝেই বিনিয়োগ করেন। নুসলির বিনিয়োগেও বিশেষ ভুল ছিল না। ভবিষ্যতে পাওয়ার করিডোরে তাঁর আনাগোণাই এই প্ৰমাণ দেয়।
দিনের শেষে এটা যেমন সত্য যে, গান্ধীবাদী সমাজবাদের ধমনীতে রক্তের জোগানের জন্য পুঁজিবাদীরই প্রয়োজন পড়েছিল, তেমনি এটাও সত্যি যে, অটল- আডবানির দল হিন্দু থেকে অনেক বেশি ভারতীয় হয়ে উঠছিল।
.
কিন্তু দল আর দেশের স্পন্দন একই কথা বলবে এমন কোথাও বলা নেই। বিংশ শতাব্দীর আটের দশক সেটাই জানান দিচ্ছিল। দেশের মানুষ অন্য অভিমুখে তাকাচ্ছিল। জন্ম নিচ্ছিল ‘হিন্দু পরিচয়’। এর বেশ কয়েকটা কারণ ছিল-
১. বোম্বের টেক্সটাইল মিলগুলোতে লাগাতার স্ট্রাইক চলছিল। এক্ষেত্রে শিব সৈনিকদের একটা বড় ভূমিকা ছিল। শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক চেতনায় পরিবর্তন আসছিল।
২. গুজরাতের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কলেজে সিট রিজার্ভেশনের বিরোধে সবর্ণ ছাত্ররা বিক্ষোভ করতে শুরু করে। পুলিশ গুলি চালালে ষোল জনের মৃত্যু হয়। ছাত্ররা প্রতীকি বিরোধ অব্যাহত রাখতে গান্ধীজির মূর্তির কপালে রক্তের তিলক আঁকে। কিছুক্ষণ পরে দলিত প্রতিনিধিরা (যারা সিট সংরক্ষণের পক্ষে ছিল) আবার সেই মূর্তিকে ধোয়। হিন্দু ধর্মের ভিতরেই বৈষম্য প্রকট হচ্ছিল।
৩. পঞ্জাব জ্বলছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাল্লায় পড়ে শিখেরা হিন্দুদের মারছিল। জার্নাল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে ড্রাগস ও নীল ছবির বিরুদ্ধে যে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন, তা অন্য দিকে মোড় নিয়েছিল। বিচ্ছিন্নতাকামীরা ‘খালিস্তান’ নামক পৃথক রাষ্ট্র দাবি করছিল।
৪. অসমে দেখা দিয়েছিল অশান্তির ছায়া। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের আবহে এবং তার পরেও অবৈধভাবে অসমে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ঘটেছিল।
অসমিয়া ছাত্র সংগঠনগুলি প্রমাদ গণল। ১৯৭৯ সাল থেকে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হল।
স্বাধীনতার আগে ভারতে হিন্দুদের নরমপন্থী নেতা রূপে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীজি সুবিদিত ছিলেন। হিন্দু স্বার্থ রক্ষায় তিনি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলতেন। ভয় প্রশমিত করে হিন্দুদের সহজ করে তুলতেন। গান্ধীজির অবর্তমানে কংগ্রেস এ ব্যাপারে দিশাহীন। এবং ইন্দিরা ‘গান্ধী’ হলেও গান্ধীজি হতে পারেননি।
ভাজপা তখন আপন বেগে পাগলপারা। হিন্দু স্বার্থের কথা শুনতে যেহেতু কোনও জাতীয় দলই সেভাবে আগ্রহী ছিল না, তাই সৃষ্টি হচ্ছিল এক রাজনৈতিক শূন্যতা। জায়গা করে নিচ্ছিল ধর্মীয় শক্তিরা। ভারতের ইতিহাসের এই পর্ব আগামী পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসকে বদলে দেওয়ার মতো ঝড় তুলতে চলেছিল।
প্রথম ঘটনাটা ঘটল তামিলনাড়ুর মীনাক্ষীপুরমে। দলিতদের এই গ্রামের ৫৫৮ জন দলিত ব্যক্তি সবর্ণ হিন্দু ভূস্বামী ‘থেবর’দের অত্যাচারে তিতিবিরক্ত হয়ে ইসলামে দীক্ষিত হলেন। অভিযোগ ছিল যে, সবর্ণদের অত্যচারের মাত্রা এতটাই বেশি যে পায়ে চপ্পল, গায়ে জামা প’রে তাদের সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে না। দলিতদের চায়ের দোকান ভেঙে দেওয়া হতো। দলিত নাপিতকে কাজ করতে দেওয়া হতো না।
.
খবরটা অনেক দূর পর্যন্ত গড়াল। ইন্দিরা গান্ধী অবধি। প্রশ্ন উঠল, যে দলিতরা হিন্দু থাকাকালীন শিডিউলড কাস্টস-এর মর্যাদা পাচ্ছেন, সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন, তাঁরা কোন শর্তে ইসলাম গ্রহণ করছেন? কারণ ইসলামে এ ধরণের কোনও বিশেষ জাতিভুক্ত হওয়ার অবকাশ নেই। সমীক্ষা বলছে, সম্মানের জন্য তাঁরা সকল সুযোগ সুবিধা ছেড়ে ইসলামের পথ বেছে নিয়েছেন। সেখানে বর্ণভেদ নেই।
গুরুজি গোলওয়ালকরের অন্ত্যেষ্টি পর্বের সময়ে লিখেছিলাম যে এরপর সঙ্ঘে প্রণেতার যুগ আরম্ভ হতে চলেছিল। বালাসাহেব দেওরসের কথা বলেছি। যখন মীনাক্ষীপুরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, তখন তিনিই সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক। দেওরসজি দেশের প্রত্যেক জেলার প্রচারকদের ব্যাঙ্গালোরের সম্মেলনে ডাকলেন। পাঁচদিন ব্যাপী সম্মেলনে ঠিক হল নতুন ‘দলিত নীতি’। নতুন একটি সংগঠন জন্ম নিল ‘বিরাট হিন্দু সমাজ’। দায়িত্বে রইলেন কাশ্মীরের শেষ হিন্দু রাজা হরি সিং -এর সুপুত্র করণ সিং। করণ সিং তখন কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। অবশ্য পরে আবার ফিরেছেন ওই দলেই। বিরাট হিন্দু সমাজের দিল্লির সমাবেশে এক লক্ষের বেশি লোকের সমাগম হয়েছিল। এই সমাবেশের সঞ্চালনের গুরুভার দেওয়া হয়েছিল প্রান্ত প্রচারক অশোক সিঙ্ঘলকে। দেওরসজি এর পাশাপাশি বিহিপ-কেও পুনরুজ্জীবিত করতে লাগলেন। তিনি বিহিপকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ আগে থেকেই আরম্ভ করে দিয়েছিলেন। গুরুজির সময়ে সরসঙ্ঘচালক ট্রাস্টি মেম্বার হতেন। পরিষদে তখন দেড়শোরও বেশি প্রচারক। বালাসাহেব দেওরসের স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। তিনি মোরেপত্ত পিঙলে-কে ট্রাস্টি মেম্বার করে দিয়েছিলেন। অশোক সিঙ্ঘল হলেন বিহিপ-এর নতুন মুখ। পেশায় তিনি ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। এলাহাবাদের ধনী পরিবারের ছেলে অশোকের সঙ্ঘে আগমন অটল-আডবানির সমসাময়িক। প্রায় দু-দশক সময় ধরে বাণপ্রস্থী সন্ন্যাসীদের আশ্রমে পরিণত হওয়া বিহিপ হিন্দু জাগরণের কাজ শুরু করে দিল পুরোদমে।
ভাজপা যেহেতু হিন্দু স্বার্থ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছিল, তাই সঙ্ঘ বিহিপ-কে পুনরুজ্জীবিত করে তুলে হিন্দুত্বের আন্দোলন সৃষ্টি করতে চাইছিল। সঙ্ঘের কাজের পদ্ধতি বড় বড় মাল্টি ন্যাশন্যাল কোম্পানির মাথাদেরও গোল দিয়ে দেবে। কেমনভাবে? সঙ্ঘের সবথেকে বড় সম্পদ হল তার সদস্যরা। সেখান থেকে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বেছে নেওয়া হয় প্রচারকদের। প্রচারকদের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন ফোরফ্রন্টে সঙ্ঘের নানা শাখা তৈরি হতে লাগল। বিহিপ, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, বিরাট হিন্দু সমাজ ইত্যাদি হল একেকটা উদাহরণ। এদের মিলিয়ে তৈরি হল অলিখিত সঙ্ঘ পরিবার, যে পরিবারের মাথা কিচ্ছু না বলে দিলেও প্রত্যেক সদস্য জানে তাকে কী করতে হবে।
বিহিপ মীনাক্ষিপুরমেই একটি সম্মেলন করে দলিতদের আপন করে নিতে চাইল। বোঝানো হতে লাগলজে, হিন্দু ধর্মের কোনও বেদ, শাস্ত্রে অস্পৃশ্যতার উল্লেখ নেই।
এক-দেড় বছরের মধ্যে কর্ণাটকায় ‘হিন্দু সমাজোৎসব’, ব্যাঙ্গালোরে ‘হিন্দু সমাগম’, কেরালায় ‘বিরাট সম্মেলন’ আয়োজিত হল। তামিলনাড়ুতে তৈরি হল ‘হিন্দু মুন্নানি সংগঠন’। এসবের পাশাপাশি দাঙ্গার সংখ্যাও বাড়ছিল। সেটা নতুনদের আগমনকে প্রশস্ত করতে নাকি পুরাতনিদের নিষ্ক্রমণকে রোধ করতে, তার উত্তর রাজ্যের প্রশাসনের জানা ছিল।
তবে শুধু যে দক্ষিণে এসব চলছিল এমনটা নয়। অন্যান্য রাজ্যেও প্রভাব পড়ছিল। গুজরাতের কথাই ধরা যাক। জাতির সংরক্ষণ নিয়ে লাঠালাঠির শেষে হিন্দুরা যখন দ্বিধাবিভক্ত, তখন হিন্দু-মুসলিম প্রচ্ছন্নতাকে সরিয়ে প্রকট করে তোলা হচ্ছিল নানা মাত্রা। সেখানে তখন কংগ্রেসের বাবুভাই পটেলের রমরমা। ‘বাবুভাই’কে চিনলেন না? আচ্ছা, আরেকটা নাম বলি, চিনে যাবেন। আহমেদ পটেল। ইয়েস। সোনিয়া গান্ধীর ‘পলিটিক্যাল ম্যান ফ্রাই ডে’। তো ব্যাপারটা কী, বিহিপ-এর পুনঃজাগরণের আগে পর্যন্ত দেওয়াল লিখনে ‘বাবুভাই পটেল’ই লেখা হতো। বিহিপ-সঙ্ঘ কী করল, দেওয়াল লেখার সময় লিখতে লাগল ‘বাবুভাই আহমেদ পটেল’। স্পষ্ট করে বার্তা দিয়ে দেওয়া হল।
গুজরাতের দায়িত্বে যেসব সঙ্ঘ প্রচারকেরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। হিন্দুদের জাতিবিন্যাস অনুসারে একজোট করতে বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে তিনি তখন সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন শাখায় গিয়ে পৌঁছচ্ছেন। ঠিক সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ হল বছর আঠারোর তরুণের। সেই ছেলে তখন সদ্য অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে যোগ দিয়েছেন। সেদিনের সেই ছেলেটির নাম অমিত অনিলচন্দ্ৰ শাহ।
আডবানিজির পরিবারের মতোই তাঁর পরিবারও ধনী। উত্তর গুজরাটের মানসায় বাবার পিভিসি পাইপের ব্যবসা। মা গান্ধীবাদী, খদ্দর ছাড়া কিছুই পরেন না। সেই ছেলে উত্তরাধিকারে বাবার ব্যবসা ছাড়াও পাবে একটি সুবিশাল পারিবারিক লাইব্রেরি। কে এম মুন্সি আর ধূমকেতুর লেখা ইতিহাসিক উপন্যাসের পোকা। তাঁর আগে অটল, আডবানি যেমন সোমনাথ মন্দিরে আক্রমণ নিয়ে পড়েছেন, তিনিও পড়বেন। মুন্সির লেখা পাটান ট্রিলজি পড়তে-পড়তে গুজরাটের শেষ হিন্দু রাজা সিদ্ধরাজ জয়সিংহের ছবি তাঁর মনে ভেসে উঠবে। তিনি মানসচক্ষে দেখতে পাবেন জয়সিং-এর প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন মন্ত্রী মুঞ্জল মেহতাকেও। অদ্ভুত এই জুটির ছাপ তাঁর মনে পড়বে। হিন্দু হৃদয়ের আসনে বসানো সেরা এই জুটির অনুকরণেই তিনি নিজের মধ্যবয়েসে এসে জুড়িদার হবেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর।
আডবানি সঙ্ঘে এসেছিলেন দেশভাগের ত্রাসের আবহে। মরাঠিভাষী খালিয়রে ব্রাহ্মণ পরিবারের পৃষ্ঠভূমি অটলের সঙ্ঘে আগমনের কারণ ছিল। নরেন্দ্র মোদী এসেছিলেন সামাজিক বোধের আকর্ষণে। আর অমিত শাহের সঙ্ঘে আসার পিছনে ছিল আদর্শবোধ।
মোদী-শাহের সাক্ষাৎ নেহাত কাকতালীয় মনে হলেও হয়তো তা পূর্ব নির্ধারিত। দেওরস চাইছিলেন ভাজপাতে বাজপেয়ীর ওজন কমুক। অটল- আডবানি জুটিকে প্রতিস্থাপিত করার জন্য হয়তো সঙ্ঘ সেই সেদিন থেকেই জুটি তৈরি করছিল।
.
জন সঙ্ঘের ভোট অভিযানে সঙ্ঘের প্রচারকদের বিরাট ভূমিকা থাকত। কিন্তু ভাজপার গতিপ্রকৃতি দেখে সঙ্ঘ ক্রমশ দূরে সরে আসছিল। কোথাও একটা অলিখিত বোঝাপড়া চলছিল কংগ্রেস আর সঙ্ঘের মধ্যে। দিল্লির মেট্রোপলিটান কাউন্সিল এবং মেট্রোপলিটান কর্পোরেশনের ভোটে ভাজপা হেরে গেল। জন সঙ্ঘের সেফ ডিপোজিট পঞ্জাবি হিন্দুরা কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছিল
বাজপেয়ীজি পদত্যাগ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগপত্র স্বীকৃত হল না বটে, তবে অটল-আডবানি এবারে নড়েচড়ে বসলেন। সঙ্ঘকে আর হালকাভাবে নেওয়া চলে না যে।
অক্টোবর, ১৯৮৩। জন্ম ও কাশ্মীরের বিধান্সভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। সঙ্ঘের হাত ভাজপার মাথায় ছিল না। ইন্দিরা গান্ধী ড্যাংড্যাং করে জম্মুর হিন্দুদের ভোট কুড়োলেন, ফারুক আবদুল্লার দল ন্যাশন্যাল কনফারেন্স কাশ্মীরের মুসলিম ভোট ঝুলিতে ভরল। পরাজয়ের খবর আসছিল উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্ৰদেশ থেকেও। আসলে দেশের মেজাজ বদলাচ্ছিল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন