বজ্রাহত!

ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়

হাফটাইম হয়ে গেছে৷ খেলা এখন তুঙ্গে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দু-দলের মধ্যে৷ তবে একক কৃতিত্ব মাপতে গেলে নিকি স্নিডারকে মাথায় রাখতেই হবে৷ হ্যাঁ, আজকের এই ফুটবল খেলার সে-ই নায়ক৷ তার পায়ে বল পড়লেই সে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে, মাঝমাঠ থেকে উঠে আসছে বিদ্যুৎগতিতে, দু-পায়ের নিপুণ কাজে বিপক্ষ খেলোয়াড়দের টলিয়ে দিয়ে৷ তারপরেই বাড়িয়ে দিচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ডদের নির্ভুল পাস৷ কিন্তু সহ খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় দু-দুটো গোল একচুলের জন্যে ফস্কে গেছে৷

টেক্সাসের আরলিংটন শহরে জুনিয়র ফুটবল লিগ প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ পরের কয়েকটা খেলার ওপরেই নির্ভর করছে কোন দলের গলায় ঝুলবে বরমাল্য, চ্যাম্পিয়নের খেতাব৷ তাই লিগ পয়েন্ট উপরের দিকের প্রত্যেকটা দলই এখন মরিয়া! পয়েন্টের দাম সোনার চেয়েও বেশি৷

আজকের খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে তেরো নম্বর মাঠে৷ ক্যালেন্ডারের পাতায় ৭ এপ্রিল, ১৯৮৪৷

রকেট দলের নিকির পায়েই এবার বল৷ তীব্র গতিতে নিকি ছুটে চলেছে বল নিয়ে৷ দর্শকরা সকলেই উত্তেজিত৷ বেশির ভাগই খেলোয়াড়দের অভিভাবক, বাবা-মা৷ নিকির মা বোনি স্নিডার তো উত্তেজনায় উঠে দাঁড়ালেন! এবার পারবে তো ছেলে?

আকাশটা এমন মেঘ করে এসেছে, এই বিকেলেই ঘন অন্ধকারে ঢেকে গেছে চতুর্দিক৷ ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেছে৷ তবু দর্শকরা সব অগ্রাহ্য করে এখনও বসে আছেন৷

নিকি ছুটে চলেছে এঁকেবেঁকে—দুপায়ের ফাঁকে বল চুম্বকের মতো, মাঝমাঠও অতিক্রম করে গেছে সে...

বৃষ্টি এবার বড় বড় ফোঁটায় পড়তে শুরু করেছে৷ সবকিছু ঝাপসা, অস্পষ্ট৷

নিকি বিপক্ষের গোলের কাছে, বল বাড়িয়ে দিয়েছে সহ খেলোয়াড়কে, ওর গলাও যেন শুনতে পেলেন ওর মা,—দে-দে—এইদিকে—!

আকাশের অবস্থা দেখে পাশের মাঠের রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজিয়ে দিয়েছেন৷ ওই মাঠে মেয়েদের লিগের খেলা চলছিল৷ অভিভাবকরা ছুটছেন কিশোরী কন্যাদের সঙ্গে নিয়ে৷

বৃষ্টি এবার মুষলধারায়৷ সঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি৷

বোনি স্নিডার কপালের উপর হাত রেখে তবু ছেলেকে দেখতে চেষ্টা করেনঃ ও—ওই তো নিকি, বিপক্ষের খেলোড়য়াদের সঙ্গে বল নিয়ে নাছোড়বান্দা, কাটিয়ে নিয়েছে প্রতিপক্ষকে, এবার—এবার...

হঠাৎ—অকস্মাৎ কাটা তালগাছের মতো নিকি পড়ে গেল৷

মুহূর্তের জন্যে মস্তিষ্কের কোষে বুঝি ওর ধ্বনিত হল, শরীর বেয়ে নেমে যাচ্ছে জ্বলন্ত আগুনের গোলা!

ব্যস! তারপর সব অন্ধকার!

রেফারি বাঁশি বাজানোর পর এভ্রিল আর একমুহূর্তও দেরি করেননি৷ মাথার উপর সমানে আকাশ ভেঙে পড়ছে, ঘোর অন্ধকারে মাঠে কাউকেই চেনা যাচ্ছে না৷ তার মধ্যেই হাতড়ে হাতড়ে নিজের মেয়ে ও তার এক বান্ধবীকে দু-হাতে পাকড়ে ধরে ঊর্ধ্বশ্বাসে বাড়ির দিকে দৌড় লাগালেন৷

পাশে তেরো নম্বর মাঠ৷ ওখানে ছেলেদের ফুটবল চলছিল৷ তার পাশ দিয়েই প্রাণপণে ছুটে চলেন ওরা তিনজন৷ অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে চুপচুপে হয়ে, আবছা অন্ধকার আর বিদ্যুৎচমকের মাঝে অন্ধের মতো, বিভ্রান্তের মতো৷

সহসা আবার চোখধাঁধানো বিদ্যুতের আলো! এবার বুঝি একেবারে গায়ের কাছে৷ প্রচণ্ড উত্তাপে আর ঝটকায় শিউরে উঠে তিনজন ছিটকে গিয়ে পড়লেন ঘাসের জমিতে৷ তারপরেই দিকবিদিক কাঁপানো বজ্রনির্ঘোষ!

আতঙ্কে পাথর এভ্রিল ও মেয়েদুটি!

কয়েকমুহূর্ত পরেই তাদের কানে ভেসে আসে কয়েকটি কণ্ঠের হই-হল্লা ও মহিলার কান্না৷ আর সবকিছুকে ছাপিয়ে শোনা গেল আরেক মহিলার তীক্ষ্ম চিৎকার, আকুল আবেদন: কেউ কি আছেন? কেউ কি আছেন, যিনি একটু চেষ্টা করবেন প্রাণটা বাঁচাতে?

প্রাণ! তবে কি কেউ বজ্রাহত? সঙ্গে সঙ্গে এক ঝটকায় ভূমিশয্যা ত্যাগ করে এভ্রিল ছুটে গেলেন চিৎকার লক্ষ্য করে৷ চিৎকারটা এসেছে তেরো নম্বর মাঠের মধ্যে থেকেই৷ নিজের মেয়েরা যে পড়ে রইল, সেদিকে খেয়ালও করলেন না৷

জলকাদা ঠেলে একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এভ্রিল৷ পরক্ষণেই চমকে উঠলেন ভীষণভাবে৷

এ কী—এ তো নিকি স্নিডার! রকেট দলের উদীয়মান তারকা, উজ্জ্বল কিশোর৷ কাটা কলাগাছের মতো শায়িত, চোখ বন্ধ৷ বজ্রাহত!

এই প্রচণ্ড বৃষ্টিতেও ওর সর্বাঙ্গ দিয়ে যেন ধোঁয়া বেরুচ্ছে৷ সামনে উবু হয়ে বসে এক মহিলা, পাগলের মতো তিনি নাড়ি দেখছেন আর বুকে মালিশ করছেন৷

আরেকজন মহিলাও নিকির এপাশে বসে, দু-হাতে মুখ ঢাকা৷ শরীরটা শুধু তাঁর কেঁপে কেঁপে উঠছে৷ ক্ষণেক্ষণে ফুঁপিয়ে উঠছেন তিনি,—আমার ছেলেটা, একটাই ছেলে...হা ঈশ্বর ও ঈশ্বর...!

এভ্রিল বসে পড়লেন ওদের সামনে,—দিন দিন আমাকে! আমি চিকিৎসা জানি কিছুটা৷

সঙ্গে সঙ্গে কিশোরের ক্রন্দসী মা বন্যার মাঝে বুঝি কুটো দেখতে পেলেন৷ দু-হাতে তিনি জড়িয়ে ধরলেন এভ্রিলের হাত, আর্তস্বরে বলে উঠলেন,—ডাক্তার, ডাক্তার! আপনিই ভগবান! প্লিস, প্লিস বাঁচান নিকিকে৷ ও আমার একটাই নাড়িছেঁড়া ধন, একমাত্র অবলম্বন৷ ও যেভাবেই বাঁচুক, আমি ওকে কোলে তুলে নেবো!

বাঁ-হাতে মা-কে একটু অভয় দিয়েই এভ্রিল ঝুঁকে পড়লেন নিকির মুখের উপর৷ হাতের ইশারায় সামনের মহিলাকে বললেন,—আপনি বুকে ম্যাসাজ চালিয়ে যান৷ আমি ওর শ্বাসপ্রশ্বাস চালু করার চেষ্টা করছি৷

বলতে বলতে এভ্রিল নির্দ্বিধায় নিজের মুখ জুড়ে দিলেন নিকির আধখোলা মুখের সঙ্গে৷ তারপর প্রাণপণ শক্তিতে বাতাস পাম্প করতে লাগলেন ওর মুখের মধ্যে দিয়ে, পরক্ষণেই আবার টানতে লাগলেন৷

ছাড়ছেন আর টানছেন...এক...দুই...তিন....চার...পাঁচ...

এভ্রিলের শরীরে এখন শতহস্তীর শক্তি! একটানা চালাচ্ছেন কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস নিকির মুখ দিয়ে৷

একশো....একশো এক...দুই...তিন...

সময় পার হয়ে যাচ্ছে৷ দুরন্ত পরিশ্রমে এভ্রিলের দু-চোখ যেন ঠেলে বের হয়ে আসছে, তবু ক্ষান্ত নেই৷

ম্যাসেজ করতে থাকা মহিলা লিন্ডা বিস্ময়-বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে আছেন এভ্রিলের দিকে! ও কি মানুষ?

দুশো এক...দুই...তিন...

বৃষ্টি ধরে এসেছে৷ বিদ্যুতের ঝলকও কমেছে৷ খবর ছড়িয়ে পড়েছে—নিকির খবর! আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে আসছে৷

এভ্রিলের কোনদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই৷ এ যেন ধনুর্ভাঙা পণ৷ নিকিকে বাঁচাতেই হবে!

সমানে তিনি বাতাস পাম্প করছেন নিকির ফুসফুসে, আবার টেনে নিচ্ছেন মুখ দিয়েই৷ এখন পাঁচশো চলছে৷

সহসা নিথর নিকির দেহ সামান্য নড়ে উঠল৷ ঘিরে থাকা জনতা উল্লসিত জয়ধ্বনি দিয়ে ওঠে—সাড় এসেছে!

পরক্ষণেই হড়হড় করে বমি উগড়ে আসে নিকির নাক দিয়ে৷ নির্বিকারভাবে মুখটা মুছে মুখ সরিয়ে নেন এভ্রিল৷

ওঁয়া—আঁ—আঁ—!

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন! যাক্, ওরা খবর পেয়ে গেছে!

ততক্ষণে বিস্ময়করভাবে সামান্য ‘ধুকপুক’ শুরু হয়ে গেছে নিকির নিষ্পন্দ শরীরে৷

অ্যাম্বুলেন্স নিকিকে তুলে নিল৷ তুলে নিল এভ্রিলকেও, অপরিমেয় পরিশ্রমে তিনিও মূর্ছিতপ্রায়৷ সঙ্গে গেলেন নিকির মা এবং লিন্ডা৷

ও কি বাঁচবে?—হাসপাতালের করিডরে প্রধান ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গলা বুঁজে আসে বোনি স্নিডারের৷

নিশ্চয়ই বাঁচবে৷ মৃত্যু পয়লা রাউন্ডেই হেরে গেছে ওর কাছে৷—ডাক্তার বললেন : অবশ্য আশঙ্কা এখনও যায়নি৷

তবে স্যার, ও এখনও বেঁচে আছে কিন্তু আমাদের এভ্রিলের জন্যেই৷ এভ্রিল যা করেছে, ভাবা যায় না৷—সঙ্গের মহিলা ডাক্তার মন্তব্য করে ওঠেন৷

ডক্টর এভ্রিল? উনিই তো ওর ভগবান!—থরথর কণ্ঠে মা স্নিডার বলেন : ওর জ্ঞান এলে আমি ওকে একটা কথাই শুধু বারবার বলব, ‘এভ্রিল তোমার ভগবান৷ তাঁকেই তুমি সারাজীবন পুজো করবে৷’

ছিঃ ছিঃ, এসব কি বলছেন ম্যাডাম?—পাশেই দাঁড়ানো এভ্রিল লজ্জারক্তমুখে বাধা দিয়ে ওঠে: মানুষ তো মানুষের জন্যেই! আর নিকির মতন এমন ঝকঝকে কিশোর! কিন্তু স্যার, আমি সত্যিই ভাবিনি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দিয়ে ওর ফুসফুস চালু করতে পারব৷

হ্যাঁ স্যার, ওটা আমার কাছেও বিস্ময়!—পাশের মহিলা ডাক্তার বলেন: বিশেষতঃ যেখানে দুশো অ্যামপিয়ার শক্তিশালী বিদ্যুৎ আর অন্ততঃ চারহাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ ওর শরীরে ঢুকেছিল, তাতে তো সবকিছু পুড়ে খাক্ হয়ে যাবার কথা৷

আসলে কি জান,—প্রবীণ ডাক্তার স্মিতকণ্ঠে বলেন: বৃষ্টিতে ওর শরীর ছিল ভিজে চুপচুপে, ভিজে ছিল মাটিও৷ সেটাই হয়েছে শাপে বর৷ ভিজে মাটিই দ্রুত টেনে নিয়েছে ওর শরীরে বেয়ে নেমে আসা বিদ্যুৎকে৷

চলুন স্যার৷—মহিলা ডাক্তার এবার তাড়া দেন: আমাদের এখন সর্বক্ষণ ওর পাশে থাকা দরকার৷ আপাততঃ যা দেখেছি, শরীরের মধ্যে একমাত্র ব্রেনটাই ওর পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে৷

চলো৷—যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়ালেন ডাক্তার: মিসেস স্নিডার, আপনাকে কিন্তু আজ রাত থেকেই ছেলের পাশে সর্বক্ষণ থাকতে হবে৷ অনর্গল কথা বলে যেতে হবে ওর কানের পাশে, যাতে চেতনাটা লুপ্ত না হতে পারে৷ আর আমরাও দেখছি—বড় হাসপাতালে ওকে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে পারি কিনা৷

মা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকেন৷ তাঁর দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে জলের ধারা—টপ্ টপ্৷

এভ্রিল এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রাখেন,—কোন চিন্তা নেই বোন৷ নিকি বাঁচবেই৷

এর পরের ঘটনাবলী সময়ের মাপে দীর্ঘ হয়েও আলোড়ন বিবর্জিত৷ হ্যাঁ, নিকি স্নিডার বেঁচে উঠল৷

শুধু বেঁচে গেল বললে কম বলা হবে, অদম্য মানসিক শক্তির জোরে নিকি আবার উঠে দাঁড়াল নিজের পায়ে, মৃত্যুকে অনায়াসে জয় করে কাঁধ মেলাল জীবনের লড়াইয়ে৷

কিন্তু কীভাবে?

বড় হাসপাতালে ভর্তির সাতদিনের দিন নিকি চোখ মেলল৷ ডানহাতের আঙুল নাড়ল৷ আলতোভাবে৷

আরও পাঁচদিন পরে তার চেতনা পুরোপুরি ফিরে আসে৷ সে কথা বলার চেষ্টা করে৷ কথা জড়িয়ে যায়৷

এর কয়েকদিন পর—!

মা ও হাসপাতালের ডাক্তার নার্সরা সবাই মিলে নিকিকে স্বরবর্ণ উচ্চারণ করাবার চেষ্টা শুরু করলেন৷ সেইসঙ্গে আরম্ভ হল নিকির হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করিয়ে তার শরীরে জোর আনার চেষ্টা৷ কিন্তু ওর শরীরের বাঁ-দিক একেবারেই অসাড়, অচল৷

মায়ের পুনঃপুনঃ জিজ্ঞাসার উত্তরে অভয় দিলেও ডাক্তাররা মনে মনে কিন্তু শঙ্কিত—নিকি কি সুস্থ হয়ে আদৌ কোনদিন চলে ফিরে বেড়াতে পারবে? ওর বাঁ-কানটাও তো নষ্ট!

দুর্ঘটনার তিন সপ্তাহ পর হাসপাতাল থেকে নিকি ভর্তি হল পুনর্বাসন কেন্দ্রে৷ সঙ্গে সর্বক্ষণের সাথী মা তো আছেনই৷

সেখানে নিকিকে নিয়মিত নানাধরনের ব্যায়াম করানো শুরু হল৷ হাত ও পায়ের ব্যায়াম৷

নিকি এখন পরিষ্কার কথা বলতে পারে, ডান হাতে লিখতেও পারে৷ তবে হিয়ারিং এড্ ছাড়া কানে ভালো শুনতে পায় না৷ হাঁটতে গেলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে৷

এরও এক সপ্তাহ পর নিকি বাড়ি ফিরল৷ হাতে ওর লাঠি, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অতিকষ্টে হাঁটতে পারে৷ কানে যন্ত্র৷

বাড়িতেও চলল নিয়মিত ব্যায়াম, একেবারে চার্ট অনুযায়ী, দৈনিক বেশ ক’ঘণ্টা৷ নিকি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সুস্থ ও হবেই৷

সেপ্টেম্বর মাসের স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা৷ পইপই করে বারণ করলেন মা,—এবছর পরীক্ষাটা বাদ থাক৷ একবছর নষ্ট হলে এমনকিছু ক্ষতি হবে না৷

নিকি মাথা নাড়ল, উঁহু৷ পরীক্ষা সে দেবেই৷

ওই অবস্থাতেই নিকি যোগ দিল স্কুলে৷ একদা রকেট দলের তারকা ফুটবলারের হাতে এখন লাঠি, কানে যন্ত্র৷

বন্ধুরা, সান্ত্বনা দিতে আসে৷ সান্ত্বনা দিলে নিকি ভারি বিরক্ত হয়৷ কারও করুণা ও সহ্য করতে পারে না৷ তবু ও হাসে আর হাত নেড়ে মাঠকে দেখায়,—আবার তোদের সঙ্গে খেলতে নামব৷ তোরা দেখে নিস৷

বার্ষিক পরীক্ষাতে যথারীতি বসল নিকি৷ কোনওরকমে পাশও করল সিক্স থেকে সেভেনে৷

পরীক্ষার পর নিকির দৈনিক ব্যায়াম ছাড়াও প্রধান কাজ হল ফুটবল মাঠে যাওয়া৷

প্রতিদিন সে একটু একটু করে চেষ্টা করতে থাকল, ডান পা দিয়ে বল মারার৷ লাঠি ছাড়া হাঁটার৷ তারপর বাঁ-পা বলে ছোঁয়ানো৷ একটু দৌড়বার চেষ্টা, কিন্তু হোঁচট খায় সে৷

এইভাবে করতে করতে জানুয়ারি মাসে সবাই অবাক হয়ে দেখল, নিকি দিব্যি হাঁটছে৷ শুধু হাঁটছে না, নিকি—নিকি দৌড়চ্ছেও৷

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে সবারই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল৷

তারা অবাকবিস্ময়ে দেখল, বজ্রাহত কিশোর নিকি স্নিডারের গায়ে আবার উঠে এসেছে রকেট দলের ডোরাকাটা জার্সি৷ দু-পায়ের ফাঁকে খেলা করছে ফুটবল৷ মুখে অমলিন হাসি৷

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%