অগ্নিঝঞ্ঝা

ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়

কিছুতেই ঘুম আসছে না ক্যাথলিনের৷ স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে এপাশ ওপাশ করছে৷

একবার ঘাড়টা তুলে ও দেখল বাবা প্যাটকে, ভাই কিথকে৷ দুজনেই অঘোর নিদ্রায় অভিভূত৷ শুধু ওদের পোষা কুকুর ‘মিষ্টি’ ওরই মতন জেগে৷

পুরো রাতটাই এরকম যাবে নাকি? তাহলে কাল সকালে তো—

উফ্, কী বিকট ঠান্ডা! ওর হাতটা হঠাৎ স্লিপিং ব্যাগ থেকে বেরিয়ে জমির ওপর পড়তেই শিউরে উঠেছে! আসলে মাটিতে পাতা প্লাস্টিক চাদরটা জায়গায় জায়গায় কুঁচকে গেছিল৷

ক্যালেন্ডারে তারিখটা অবশ্য কুড়ি আগস্ট, উনিশশো অষ্টাশি৷ চরম গরমকাল৷ কিন্তু হলে হবে কী, যুক্তরাষ্ট্রের মণ্টানা প্রদেশের গ্রান্ড ক্যানিয়ন উপত্যকার এই অংশে বছরের দশ মাসই চরম ঠান্ডা৷ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই এলাকা প্রায় ২৭০০ মিটার উঁচুতে৷

তাই পনেরো বছরের ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাথলিন আর ওর বাবা যখন এই ক্রিক নদীর ধারে তাঁবু ফেলেছে, তখন শীতের কামড় থেকে বাঁচতে সবকিছুই মজুত ওদের সঙ্গে৷

রকি মাউন্টেন থেকে বেরিয়ে শেষপর্যন্ত ক্রিক গিয়ে মিশেছে ইয়েলোস্টোন নদীতে৷ ঝকঝকে আয়নার মতো স্বচ্ছ হিমশীতল জল৷ কখনও তিরতির কখনও ঝরঝর ধারায় বয়ে যায়৷ তাতে খেলা করে অতি উপাদেয় ছোটবড় নানান স্বাদু মাছ৷

ওরা তিনজন উইক এন্ড কাটাতে এখানে এসেছে সেই মাছ ধরতে৷ অন্য ভাইবোনেরা এবং মা আছেন অনেক দূরে, ওদের বাড়িতে৷

কিন্তু ক্যাথলিনের ঘুম আসছে না কেন? বারেবারে ওর চোখ কেন চলে যাচ্ছে পূবের ওই দিগন্তের দিকে, যেখানকার আকাশ এই নিকষ অন্ধকারেও লাল হয়ে উঠেছে?

ক্যাথলিনের বাবা প্যাটও ঘুমোবার আগে অবধি ওই আশ্চর্য দৃশ্য দেখেছে৷ দেখেছে—অন্ধকার পূবদিগন্ত লালে লাল৷ আর ওই রক্তাভা কাঁপছে, কখনও ধকধক করে বেড়ে যাচ্ছে, কখনও বা কিছু স্তিমিত হয়ে আসছে৷

প্যাট অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের একজন অভিজ্ঞ কর্মী৷ সে মেয়েকে নিশ্চিন্ত করেছে,—ওতে ভয়ের কিছু নেই৷ পূবের গহীন জঙ্গলে কোথাও শুকনো গাছপালায় আগুন লেগে গেছে৷ সে আগুনই দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বনে৷ যখন শুকনো গাছ আর থাকবে না, আপনিই আগুন নিভে যাবে৷

কিন্তু তা তো হচ্ছে না! বরঞ্চ মনে হচ্ছে ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যে ওই আলোর দীপ্তি যেন আরও বেড়ে গেছে৷ গাঢ় লাল অনেকটা টকটকে হয়ে উঠেছে!

ওই অগ্নি-আভা কি কাছে এগিয়ে আসছে? সেই জন্যেই কি আলোর তেজ এত বেড়ে যাচ্ছে? কথাটা ভাবতেই ক্যাথলিন শিউরে উঠল৷ স্লিপিং ব্যাগ থেকে হাত বের করে ও ঠেলা দিল প্যাটের গায়ে,—বাবা৷ ও বাবা! ওঠো!

কী! কী হয়েছে?—স্লিপিং ব্যাগশুদ্ধ ধড়মড়িয়ে উঠে বসল প্যাট৷ চোখ কচলাতে কচলাতে বলল,—কী রে ক্যাথি? কী হয়েছে?

ওই দেখো!—ক্যাথলিন পূবদিকে দেখায়: আলোর জোর কেমন বেড়েছে দেখেছ? আমার ভীষণ—

ধোৎ! দিলি তো কাঁচা ঘুমটা ভাঙিয়ে৷—প্যাটের গলায় বিরক্তি ঝরে পড়ে: ও তো আগেই দেখেছি৷ বলেছি তো তোকে, ওটা আর কিছুই নয়—স্রেফ দাবানল৷ বনের গাছপালায় আগুন লেগেছে৷ একটু ঘুমোবার চেষ্টা কর তো!

না বাবা! তুমি...তুমি ভালো করে দেখো৷ ক্যাথলিন দৃঢ়কণ্ঠে বলে, ওই লাল আভাটা এখন জোরলো হয়েছে৷

আচ্ছা মেয়ে যা হোক৷ বলতে বলতে বিরক্ত প্যাট এবার ভ্রু কুঁচকে তাকাল পূর্বদিগন্তের দিকে : তোর জ্বালায় তো একটু শান্তিতে—

কথা তার বন্ধ হয়ে গেল!

ক্যাথলিন ঠিক বলেছে৷ আলোর তেজ অনেক বেড়ে গেছে, টকটকে লাল হয়ে উঠেছে আকাশ!

আর...আর প্রতিমুহূর্তেই ধকধক করে বেড়ে যাচ্ছে ওই আভার দীপ্তি!

তবে কী...তবে কি ওটা এদিকেই ছুটে আসছে?

এর জবাব দিতেই একটা দমকা হাওয়া এসে প্যাটকে ঝাপটা মেরে চলে গেল৷ থরথর করে উঠল প্যাটের সর্বাঙ্গ৷

হাওয়াটা একটুও ঠান্ডা নয়, বেশ গরম!

মুহূর্তে স্লিপিং ব্যাগ ছেড়ে তড়াক করে লাফিয়ে উঠল প্যাট,—ক্যাথলিন! শিগ্গির কিথকে টেনে তোল্৷ সময় নেই! একদম সময় নেই!

কাঁচাঘুম থেকে কিথকে টেনে তোলা, দ্রুত স্লিপিং ব্যাগগুলো গুছিয়ে পিঠের হ্যাভারস্যাকে চাপানো এসব হয়ে গেল মিনিট তিনেকের মধ্যেই৷

তারপরেই ওরা তিনজন চোখ ডলতে ডলতে তাঁবুর বাইরে এসে দাঁড়াল৷

প্যাট যা বোঝার, বুঝে গেছে৷ সর্বনাশ আসছে! কীভাবে? কীভাবে এই কালান্তকের কবল থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে?

বাইরের বাতাস আরও গরম হয়ে উঠেছে৷

অর্থাৎ যে গতিতে ওই ঝঞ্ঝা ধেয়ে আসছে, পালিয়ে যাওয়ার সময় নেই!

পরিত্রাণের পথ?

হ্যাঁ—একটাই পথ! তিরতির বয়ে যাওয়া ক্রিক নদীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে প্যাটের মাথায় সহসা ছিটকে এল বাঁচার উপায়৷

একমুহূর্ত দেরি নয়! প্যাট হাত ধরে টানল কিথকে৷ বলে উঠল,—ক্যাথলিন! চল্ ওই—ওই নদীতেই আমাদের গলা ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে৷

বলে কী বাবা? এই হাড় হিম ঠান্ডায় বরফগলা নদীতে নামতে হবে?

ক্যাথলিনের বিমূঢ় চোখের দিকে তাকিয়ে প্যাট এবার ধমকে ওঠে,—হাঁ করে দেখছিস কী? হ্যাঁ, ওখানেই আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে৷ আর কোনও পথ নেই৷ বাতাসে আগুন ধরে গেছে—ছুটে আসছে বিদ্যুৎগতিতে৷ চল্ চল৷

বলতে বলতে দুজনকে জাপটে ধরেই প্যাট ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে ক্রিকের দিকে৷

কিন্তু এর মধ্যেই বেশ দেরি হয়ে গেছে!

ওদের মাথার উপর দিয়ে ধেয়ে যাচ্ছে আতপ্ত বাতাস, ‘ফটাং’ ‘ফটাং’ শব্দে আগুনের ফুলকিলাগা গাছের ডালপালা ছিটকে এসে পড়ছে, এক আধটা এসে পড়ছে ওদের গায়েও, ঝলসে দিচ্ছে৷

ওরা ছুটছে৷ ছুটছে সর্বশক্তি দিয়ে, প্রাণ বাঁচানোর নিরুপায় তাগিদে৷...

উহ্!—কী দুঃসহ ঠান্ডা, যেন শ্বাপদের দাঁত সর্বাঙ্গে কামড় দিল! প্যাট ক্যাথলিন আর কিথ উপুড় হয়ে পড়েছে ক্রিকের জলে!

ওদের উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে অগ্নিঝঞ্ঝা! তবে এখনও মূল ঝড়টা এসে পৌঁছয়নি৷

সর্বাঙ্গ অসাড় প্যাটের, কিন্তু মগজ এখনও সক্রিয়৷ শুধু একটাই চিন্তা, ওই আগুনে বাতাস এই সামান্য জলপ্রবাহ শুষে নেবে না তো? পুরো হাঁটুও ডুবছে না৷

ওই যে—ওই যে একটা বড় গাছের গুঁড়ি৷ আড়াআড়ি নদীর উপর পড়ে একটা সেতুর মতো তৈরি করেছে৷

হ্যাঁ—ঠিক! ওই গুঁড়িটার নীচে গিয়ে উবু হয়ে বসতে হবে৷ ওখানে জলের গভীরতাও বেশি, প্রায় বুক অবধি৷

যেমনি ভাবা, সঙ্গে সঙ্গেই প্যাট আবার টান দিল ছেলেমেয়েকে,—চল্, ওখানে বসব৷

ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে কিশোরী আর বালক উঠে দাঁড়াল৷ টলমলে পায়ে জল ভেঙে দৌড়ল বাবার সঙ্গে—আরও গভীর জলের দিকে৷

নাঃ—আর পারা যাচ্ছে না! ঠান্ডায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে...রক্তমাংসমজ্জা সব জমে বরফ৷

গলা অবধি জলে ডুবিয়ে তিন অসহায় প্রাণী বসে থাকে গভীর রাতের অন্ধকারে৷

কতক্ষণে অবসান ঘটবে এই দুঃসহ অবস্থার, রাত্রি পার হয়ে জাগবে অরুণোদয়ের আভাস?

জলের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি৷

আর কতক্ষণ—আর কতক্ষণ? প্যাট মাথাটুকু তুলে তাকিয়ে থাকে নিষ্পলক চোখে৷ এরপর তো হাইপোথার্মিয়ায় বাকি শরীর পচে যাবে৷

জলে কুমির ডাঙায় বাঘ!

ওদের মাথার উপরে গোটা অরণ্যপর্বতরাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে আগুনের প্রলয় নাচন, মড়-মড় করে পুড়ছে বড় বড় মহীরূহ, বনস্পতি৷ অসহায়ভাবে৷ আগুন-লাল ডালপালাগুলো ফুলকি ছেটাতে ছেটাতে পড়ছে এখানে ওখানে৷

অবিরাম অগ্নিঝঞ্ঝা বয়ে চলেছে!

ক্ষণিক পাশে তাকায় প্যাট—ছেলেমেয়ে দুটো কেমন নিস্তেজ হয়ে পড়েছে৷ কোনও সাড়াশব্দ নেই ওদের৷

—হেই!

—উুঁ...হুঁ...হুঁ..!

কাঁপুনিজড়িত কণ্ঠে জবাব আসে৷

ওদের যে করে হোক, জাগিয়ে রাখতেই হবে৷ নইলে বাঁচবে না৷ প্যাটের দু-চোখ ফেটে জল ঝাঁপিয়ে আসে, হে যীশু, পরিত্রাতা, আমার যা হয় হোক, এদের দুজনকে তুমি রক্ষা করো৷ আমি সারা জীবনে যত ভালো কাজ করেছি, তার সব পুণ্যফল দিয়ে এদের তুমি বাঁচাও প্রভু!

ওঃ, শেষ হয়ে এসেছে৷ প্যাট দেখতে পায়, আগুনের তেজ বেশ কমে আসছে, ঝড় সামনের দিকে এগিয়ে গেছে৷

আর মাত্র কয়েকটা মিনিট!

প্যাটের মনে পড়ে যায়৷ ওর বাড়ির কথা, স্ত্রী সুশানের কথা, আর দুই ছোট ছেলেমেয়ের কথা৷ কিথ আর ক্যাথলিনকে নিয়ে এখানে আসার সময় সুশান পইপই করে নিষেধ করেছিল, ও শোনেনি৷ এখন যদি ওদের কিছু হয়ে যায়, সুশান...সুশান কী করবে? প্যাট নিজেও কি সে আঘাত সহ্য করতে পারবে?

গেছে! গেছে! চলে গেছে কালান্তক! শান্ত হয়ে গেছে অরণ্যভূমি৷ শুধু নদীর দুপাশে পড়ে আছে বড়-ছোট নানান আকারের গুঁড়ি, টকটকে লাল কাঠকয়লা হয়ে৷ উপরেও তাই৷ যেসব গাছ এখনও উপড়ে পড়েনি, তাদের অগ্নিদগ্ধ শব অন্ধকারের বুকে প্রজ্বলন্ত স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে!

আগুনের ফুলকি উড়ছে চতুর্দিকে!

—এই ক্যাথলিন, কিথ, ওঠ্, চেষ্টা কর! পারবি, ঠিক পারবি৷

অমানুষিক শক্তিতে ছেলেমেয়েকে টেনে নদীর পাড়ে নিয়ে আসতেই ক্যাথলিন আর কিথ মুখ থুবড়ে পড়ে গেল৷

প্যাটের সর্বাঙ্গ কাঁপছে৷ তার নিজের সব যন্ত্রণা সে ভুলে গেছে৷ এদেরকে বাঁচাতেই হবে৷ জলে ভেজা এমন অবস্থায় পড়ে থাকলে শুধু হাইপোথার্মিয়া নয়, নিউমোনিয়াও অনিবার্য৷ বাঁচানো যাবে না৷

সামনেই একটা বনস্পতির লাশ সটান পড়ে৷ তার মোটা কাণ্ড এখনও জ্বলছে৷

প্যাট পাগলের মতো টানতে লাগল ওদের,—শোন, আরেকটিবার আমার কথা শোন৷ তোরা...তোরা এই জমিতে না শুয়ে ওই গুঁড়িটাকে জড়িয়ে শুয়ে পড়! প্লিজ, সোনা, লক্ষ্মী আমার৷

নিউমোনিয়াকে রুখতে হলে ওটিই একমাত্র অবলম্বন!

ভোর হতে আর বেশি দেরি নেই৷ নিস্পন্দ অরণ্যরাজ্যে ঊষার আভাস জাগছে৷ একটু একটু করে ফরসা হয়ে আসছে পূবদিগন্ত৷...

নিষ্প্রাণ চরাচরের বুকে তিনটি মানুষকে শুধু দেখা যায়, জ্বলন্ত গাছের গুঁড়ি কখনও আঁকড়ে ধরছে, কখনও সারা শরীর ঘষছে৷...

সুশানের চোখে ঘুম নেই৷ অস্থির উদ্বেগে গত দুদিন দুরাত সে শুধু ঘর-বার করছে৷

তার স্বামী প্যাট এবং কিথ ও ক্যাথলিন ফেরেনি৷

ইতিমধ্যে দূরদর্শন এবং বেতার মারফত সে জেনে গিয়েছে এক ভয়ানক খবর৷

অভূতপূর্ব এক অগ্নিঝঞ্ঝায় ইয়েলোস্টোন নদীর দু-ধারের বিশাল এলাকা জুড়ে অরণ্য খেতখামার, জনবসতি সব পুড়ে খাক হয়ে গেছে৷

যে এলাকার কথা ঘোষক জানিয়েছে, তার মধ্যেই আছে প্যাট ও সন্তানদের গন্তব্যস্থল৷

উদ্বেগে সুশান তাই ছটফট করছে৷ বাকি ছেলেমেয়ে দুটো ছোট, ওদেরকে বুঝতে দেওয়া চলে না৷ তাই মুখ বুজে কাজ করে চলেছে সুশান৷ আর বিনিদ্র প্রতীক্ষায় কাটছে রাত্রি, কাটছে আকুল প্রার্থনায়—ওরা যেন ফিরে আসে! যীশু, ওরা ছাড়া এ পৃথিবীই তো সুশানের কাছে মিথ্যে৷

তৃতীয় দিন বিকেল৷ মেয়ে অ্যাঞ্জি ফিরেছে স্কুল থেকে৷ এসেই বায়না ধরেছে,—মা, মাংস খাব৷

আজ ওদের খাওয়ার জন্যে শুয়োরের মাংসের কিমা ভেজেছে সুশান৷ আর অ্যাঞ্জি হয়েছে তেমনই মাংসাশি, মাংসের গন্ধ পেলেই খালি খাব খাব৷

একেবারে বাপকা বেটি৷ সুশানের মনে পড়ে গেল, প্যাটও দারুণ ভালোবাসে এই কিমা ভাজা খেতে৷

দুচোখ আপনিই ঝাপসা হয়ে এল সুশানের৷ কোনরকমে সামলে নিয়ে সে ধমকে ওঠে,—ও তো রাতের জন্যে৷ এখন ওই স্যান্ডইচগুলো খেয়ে নাও৷

—না মা, প্লিস৷ এখন একটু দাও৷

—উ-হুঁ৷ ভালোভাবে হোমওয়ার্ক কর, তাহলে রাতে একটু বেশি দেব, কেমন?

—আমরাও পাব তো?

মুহূর্তে সুশান স্থাণুবৎ হয়ে গেল৷

বিদ্যুৎবেগে ঘাড় ঘোরাতেই সে দেখল তিনটি আবলুশ কাঠের মতো কৃষ্ণকায় মূর্তি শ্রান্ত পদক্ষেপে দরজা দিয়ে ঢুকছে!

সারারাত কাঠকয়লার আগুনে সেঁকে ওরাও কয়লাই হয়ে গেছে!

পাগলের মতো ওদের দিকে ছুটে গেল সুশান৷ ওর চিনতে ভুল হয় না৷...

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%