মৃত্যুর রং নীল

ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়

হ্যালো, আন্টি?

—হ্যাঁ৷ কে বলছ?

—আমি ডন৷ হ্যারি আছে?

—ধরো৷...ও তো বাথরুমে গেছে৷ ডরোথি আছে৷ কথা বলবে?

—দিন৷

ওধার থেকে ডনের নির্লিপ্ত কণ্ঠ শুনে আপনমনেই হাসলেন হ্যারির মা৷ আজকালকার ছেলেমেয়েরা ভুলে যায়, তাঁদেরও ওই বয়েস ছিল৷ আরে বাবা, আসলে যে বাগদত্তা ডরোথির সঙ্গে কথা বলার জন্যেই এই রাত ন’টার টেলিফোন, তা কি বোঝেন না মিসেস স্মিথ?

ডরোথি দ্রুত এসে ফোন ধরল,—হ্যালো৷

—ডন বলছি৷

—সে তো বুঝতেই পারছি৷ তা এত রাতে কী হল হঠাৎ?

—তোমার ভ্রাতাবাহাদুর শুনলাম বাথরুমে৷ উনি কি বাথটবেই প্র্যাকটিস করছেন নাকি?

—মানে?

—হুঁ:! এমন ভাব দেখাচ্ছ যেন কিছুই জান না! কাল আমাদের কম্পিটিশন, ভুলে গেছ? কাল তোমার দাদাকে দেখে নেব৷ এবারে সিলেক্টেড হয়েছি, জান তো?

—এঃ! কে আমার কেতলামবাহাদুর! দেখে নেবে! আমার দাদার ধারেকাছে পৌঁছতে পারবে তুমি? ওই তো উচ্চিংড়ের মতো চেহারা৷ কী করে ঢুকলে দলে, ভেবে পাই না৷

—অ্যাই, অ্যাই ডরোথি! ভালো হচ্ছে না বলছি৷ তুমি...তুমি লিমিট ছাড়িয়ে যাচ্ছ!

—কীসের লিমিট? যা সত্যি তাই বলছি, একশোবার বলবও৷ আমার দাদার সঙ্গে—

ছাড় ছাড়, আমায় দে৷—এক ঝটকায় বোনের হাত থেকে টেলিফোন কেড়ে নেয় হ্যারি৷ বাথরুম থেকে বেরিয়ে বোনের মধুর বাক্যালাপ শুনে সে তড়িঘড়ি ছুটে এসেছে৷ ফোন কানে লাগায় সে,—হ্যালো, হ্যারি বলছি৷ বল্ রে!

ওপাশ থেকে ডনের ক্ষোভে বুঝে আসা গলা ভেসে আসে,—শোন হ্যারি, আজ আমি শেষবারের মতো প্রতিজ্ঞা করলাম, ডরোথির সঙ্গে জীবনে আর কথা বলব না৷ ও—ও—

—আহা, ছেলেমানুষের কথায় তুই রাগছিস রাগছিস কেন? বল কী ব্যাপার!

—কী আর ব্যাপার! এমনি ফোন করলুম৷ রাত পোহালেই তো প্রতিযোগিতা৷ তো মেয়েটা আমায় খামোকা...কোথায় দুটো ভালো কথা বলবে...তা না....শুধু শুধু....উঃ!

ডনের কথার ধরনে হোঃ-হোঃ করে হেসে ওঠে হ্যারি৷ হাসতে হাসতেই বলে সে,—বাদ দে ওসব৷ রাতটা ভাল করে ঘুমো৷ উইশ ইউ বেস্ট অব লাক্৷

—থ্যাঙ্ক ইউ অ্যান্ড সেম টু ইউ৷ কাল দেখা হচ্ছে জলে৷ আর বিচ্ছুটাকে বলিস, ক্ষমা না চাইলে, এই বান্দা আর কথা বলবে না৷ গুডনাইট৷

—ওকে৷ গুডনাইট৷

ফোন ছেড়ে দিয়ে পাশের ডিভানে এসেই চিৎ হয়ে পড়েছে হ্যারি৷ তার সারা শরীর উত্তেজনায় টানটান৷ কপালের রগটা দপ্দপ্ করছে৷ কী হবে কালকে? কাদের গলায় ঝুলবে জয়মাল্য?

কাল একেবারে মরণবাঁচন লড়াই৷ প্রতিযোগী দুটো বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়—অক্সফোর্ড আর কেম্ব্রিজ৷ টেম্স্ নদীর উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা৷ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে নির্বাচিত আটজন করে ছাত্র অংশগ্রহণ করবে এই প্রতিযোগিতায়৷ দুটো ছিপ নৌকো পাল্লা দেবে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথ৷

দুই প্রতিপক্ষ দলে দুই নিকটতম বন্ধু—ডন আর হ্যারি৷

এ প্রতিযোগিতা কি আজকের? সেই ১৮২৯ সাল থেকে চলে আসছে৷ প্রথমদিকে একটু অনিয়মিত হলেও সাম্প্রতিক কালে এই প্রতিযোগিতা রূপ নিয়েছে বার্ষিক উৎসবের৷ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ টেলিভিশনে এই তরুণদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখে রোমাঞ্চিত হন, টেম্স্ নদীর দু-কুল বেয়ে উপচে পড়ে হাজার হাজার মানুষ৷ কেউ অক্সফোর্ডের, কেউ বা কেম্ব্রিজের সমর্থক৷

হ্যারি পড়ে অক্সফোর্ডে, ডন কেম্ব্রিজে৷ এযাবত যেক’বার লড়াই হয়েছে, তাতে কেম্ব্রিজই এগিয়ে৷ ওরা জিতেছে ৬৮ বার, সেখানে অক্সফোর্ড ৫৬ বার৷

এবছর? অস্থির হ্যারী বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে থাকে৷ জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে তো?

সেই সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি৷ কারা শেষ অবধি শেষ আটজনের মধ্যে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করবে, তার জন্যে প্রাথমিকস্তরে নির্বাচিত আশিজন ছাত্রের মধ্যেই চলেছিল দুরন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা৷

সে মহড়াও কি কম কঠিন? বলতে গেলে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো৷ আশিজন ছাত্রকে দশটা দলে ভাগ করে চলেছিল নিজেদের মধ্যেই বাইচ প্রতিযোগিতা৷ সেইসঙ্গে কনকনে টেম্স্-এ দু-বেলা সাঁতার কাটা, একনাগাড়ে দৌড়োনো, সর্বাঙ্গের ব্যায়াম এসব তো আছেই৷

কালকেই সেই দিন! সুতরাং—

দেয়াল ঘড়িতে তিনটে ঘণ্টা৷ নাঃ, আর কিচ্ছু ভাববে না হ্যারি, এবার ঘুমোতেই হবে৷

লন্ডন শহরকে এফোঁড় ওফোঁড় করে বয়ে গেছে টেম্স্ নদী, মিশেছে গিয়ে সাগরে৷ এই প্রতিযোগিতার রেঞ্জ সাগরের কাছেই৷ সেখানে নদী এমনিতেই সর্বক্ষণ উত্তাল৷

উপরন্তু এখন জোয়ারের সময়৷ টেম্স্ ফুলে ফুঁসে উঠছে৷ বড় বড় জলস্তম্ভ ঘূর্ণির মতো পাক খেতে খেতে উঠছে, পরক্ষণেই আছড়ে পড়ছে৷ সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে মার্চ মাসের তীব্র বাতাস৷

এই বিপজ্জনক নদীর বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছে দুটো ছিপ নৌকো৷ ওরা ঢেউয়ের মাথায় একবার উঠছে, পরমুহূর্তেই আবার হারিয়ে যাচ্ছে৷ মাথার উপর পাক খাচ্ছে হেলিকপ্টার, পাড়ের দুপাশ জনসমুদ্র৷ টি.ভি ক্যামেরার চোখ বসানো কিছুদূর অন্তর অন্তর৷

ছিপ দুটো তীরের বেগে এগিয়ে যাচ্ছে৷ আটটা দাঁড়ের প্রাণপণ শক্তিতে ওরা যেন বেপরোয়া, আজ জিতেই হবে৷

আপাতত অক্সফোর্ডের ছিপ নৌকোটাই এগিয়ে আছে৷ গাঢ় নীল পোশাকের আটজনের মধ্যে আছে হ্যারি৷ একটু পিছিয়ে হালকা নীল পোশাকের কেম্ব্রিজ৷

দুটো ছিপই এগোচ্ছে দুরন্ত গতিতে৷ কেম্ব্রিজ আপ্রাণ চেষ্টা করছে ব্যবধান কমিয়ে আনতে—আটটা দাঁড় যেন পালকের মতো উঠছে নামছে৷

ওই দলেই রয়েছে ডন, হ্যারির পরম বন্ধু৷ হ্যারি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করে ডনকে৷

নাহ্, ঠিক বোঝা যাচ্ছে না! দু-ধারের অক্সফোর্ড সমর্থকদের উল্লাসধ্বনি ওদের দাঁড়গুলোকে আরও সচল করে দেয়—লক্ষ্য আর বেশি দূরে নয়!

এবার অক্সফোর্ড জিতছেই৷

হঠাৎ পিছন থেকে ভেসে এল তীব্র আর্তনাদ!

মিলিয়ে গেল ঢেউয়ের গর্জনেই৷

অস্পষ্ট ধ্বনি কানে আসতেই আটটা দাঁড় থেমে গেল হ্যারিদের—কী হল! দুর্ঘটনা?

তীরের দিকে তাকাতেই ওরা দেখে বিশাল জনসমুদ্র, আলোড়িত, বিক্ষুব্ধ৷ তাদের সম্মিলিত হট্টগোল থেকে এটুকুই শোনা যায়: কেম্ব্রিজ! কেম্ব্রিজ!

তার মানে? কেম্ব্রিজের ছিপ ডুবে গেছে?

সর্বনাশ! ওর মধ্যেই তো রয়েছে ডন, ওর প্রিয়তম বন্ধু, ওর বোন ডরোথির বাগদত্ত৷

একটুও দ্বিধা না করে হ্যারি চিৎকার করে ওঠে,—ফেরাও, এখুনি ফেরাও নৌকো৷

সহযোগীরা দ্বিধাগ্রস্ত৷ জয়লক্ষ্মী মাত্র কয়েকশো গজ দূরে হাতছানি দিচ্ছে, এখন নৌকো ফেরানোর অর্থ তাকে হেলায় প্রত্যাখ্যান করা৷

একজন আমতা আমতা করে বলে,—হ্যারি! ওই তো দড়ি দেখা যাচ্ছে৷ আমরা বরং দড়িটা স্পর্শ করেই ফিরে আসব৷

না—!—গর্জে ওঠে হ্যারি: ওই সামান্য দড়ি ছোঁয়াই তোমাদের কাছে সব হল? যারা ডুবছে, যে অসহায় ছেলেরা আর্তস্বরে তোমাদের কাছে সাহায্য চাইছে, তারা কেউ নয়? তারা তোমাদেরই মতন কারও ছেলে নয়, কারও ভাই নয়? তোমাদের সহপাঠী বন্ধু নয়? বলো?

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তীরের উৎকণ্ঠিত জনতা অবাক হয়ে দেখল, জয়ের একেবারে কাছে এসেও বোঁ করে ঘুরে গেল অক্সফোর্ডের ছিপ৷ একই গতিতে এবার সেটা ছুটে এল, লক্ষ্য—যেখানে কেম্ব্রিজের নৌকোটা উল্টে রয়েছে৷ ইতিমধ্যে উপরের হেলিকপ্টার থেকে দড়ি নেমে এসেছে...একটু দূরের পর্যবেক্ষণরত স্টিমার থেকে পেশাদার ডুবুরিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে জলে...

এখন উত্তাল টেম্স-এর বুকে অসংখ্য মাথা নাচছে!

হ্যারিরা ছিপনৌকো এনে দাঁড় করায় উল্টে যাওয়া নৌকোটির একেবারে কাছ ঘেঁষে৷

ঠিক সেই সময়ই অদূরবর্তী স্টিমার থেকে লাউডস্পিকারে ঘোষিত হল : আটজনের মধ্যে ছয়জনকে উদ্ধার করা গেছে, বাকি দুজনকে এখনও পাওয়া যায়নি৷

কারা এই হতভাগ্য দুজন? হ্যারির মন আশা নিরাশায় পেন্ডুলামের কাঁটা৷ ঘোষক বললেন: অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতে ছয়জনের নাম পড়ছি৷ এক, বিল ব্রাউন, দুই,...

দম বন্ধ করে শুনছে হ্যারি৷ ঘোষক সবশেষে নামটি পড়লেন,—ইয়ান গুডরিক৷

সঙ্গে সঙ্গে অব্যক্ত আর্তনাদ করে উঠল হ্যারি৷ ডন—ডন কোথায়? কোথায়ই বা তার আরেক সঙ্গী?

হ্যারির চোখের সামনে পলকের মধ্যে ভেসে উঠল বোনের মিষ্টি মুখখানা, কানে যেন ভেসে এল তার আর্তচিৎকার,—দাদা, ওকে বাঁচাও৷

হ্যারির লম্বা-চওড়া শরীর জ্যামুক্ত ধনুকের মতো ছিটকে পড়ল উত্তাল জলরাশির মধ্যে৷

পাশেই আরেকটা শব্দ হল, ঝ-প্পাং৷ হ্যারি দেখল, তার অস্ট্রেলিয়ান বন্ধু মাইক ডগলাস৷

দুজনের পাগলের মতো জল তোলপাড় করে চলেছে উল্টে যাওয়া নৌকোটিকে ঘিরে৷ কোথায়—কোথায় বাকি দুজন?

গেল কোথায় ওরা? জলের তলায় হারিয়ে গেল চিরতরে? নাকি ঢেউ নিয়ে গিয়ে আছড়ে ফেলেছে বহু দূরে?

এমন সময় উল্টোনো নৌকোর ওপাশ থেকে মাইক চেঁচিয়ে উঠল,—হ্যারি! হ্যারি! একটা হাত দেখা যাচ্ছে!

মুহূর্তে জলের মধ্যেই যেন লাফ মারল হ্যারি, এক ধাক্কায় চলে গেল ওধারে,—কই কোথায়?...আরে হ্যাঁ, ওই তো!

তারপরই চেঁচিয়ে ওঠে,—ডুব দে! নৌকোর তলায় গিয়ে দেখতে হবে৷

মাথা দুটো তলিয়ে গেল জলের নিচে৷

দম বন্ধ করে ডুব সাঁতার দিয়ে দুজনে চলে নৌকোটার তলায়৷

যা ভেবেছিল, ঠিক তাই৷ নৌকোর খোলের ফাঁকে এমনভাবে আটকে গেছে জেম্স আর ডন, বেরোবার উপায় নেই৷ ফাঁকটুকুতে অক্সিজেনও যৎসামান্য, ফুরিয়ে এসেছে এতক্ষণে৷ হাঁফ টেনে টেনে দুজনেই অচেতনপ্রায়৷

হ্যারি ও মাইক আঁকড়ে ধরল জেমস ও ডনের কাঁধ, সর্বশক্তিতে চাপ দিল নীচের দিকে৷

নাহ্! বেকাদায় আটকে গেছে কোথাও৷

ইশারায় হ্যারিকে নিবৃত্ত হতে বলে মাইক এবার এক এক দুজনের শরীর হাতড়াতে থাকে৷

য্-যাঃ! দাঁড়ের রশির সঙ্গে পেঁচিয়ে গেছে দুটো শরীর৷

এদিকে হ্যারি-মাইকের ফুসফুসও অবসন্ন হয়ে পড়েছে৷ আর অক্সিজেন নেই৷ ওদের ভেসে উঠতেই হবে জলের ওপরে৷

ইতিমধ্যে পেশাদার ডুবুরিরা সাঁতার কেটে চলে এসেছে উল্টোনো নৌকোর চারদিকে৷ খুব সংক্ষেপে পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে বলতে এবার তারাও ডুব দেয় জলের নীচে৷

মিনিট খানেকের মধ্যে অচেতন দুটো শরীরকে বয়ে নিয়ে উদ্ধারকারীরা এগিয়ে চলে অদূরে অপেক্ষমান স্টিমারের দিকে৷ তাদের মধ্যে দুই ব্যক্তির কাঁধ আকড়ে ধরেছে হ্যারি আর মাইকও৷

এতক্ষণে অসহ্য উত্তেজনায়, আশঙ্কা ও পরিশ্রমে ওরাও অচেতনের মতোই৷ পুরোপুরি নির্জীব, শরীর নাড়াবার ক্ষমতাটুকুও নেই৷

স্টিমারের লাউডস্পিকারের তখন শোনা যাচ্ছে ঘোষকের বার্তা: কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে এই বাইচ প্রতিযোগিতায় জয়ী ঘোষণা করেছেন৷ তারা বলেছেন, দড়ি ছোঁয়াটাই কোন প্রতিযোগিতায় একমাত্র বিচার্য নয়৷ অক্সফোর্ডের এ জয় তার চেয়ে অনেক বড়৷ এ জয় মহৎ মানবতার, মানুষের প্রতি মানুষের দরদ, ভালবাসা ও সহানুভূতির৷

স্বর্গীয় হাসিতে ভরে ওঠে হ্যারির বিপর্যস্ত মুখমণ্ডল৷ বারেক সে তাকায় অস্ট্রেলিয়ান সাথী মাইকের দিকে৷ মাইকের মুখেও একই হাসি৷

বার্তার শেষ অংশটুকু তখনও বাকি ছিল৷ ঘোষক এবার সেটাই পাঠ করলেন : কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আরও ঘোষণা করেছেন, যে দুজন তরুণ নিজের জীবন তুচ্ছ করে সহপাঠীদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিল, সেই হ্যারি ও মাইককেও আজ বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হবে৷

নির্জীব হ্যারির চোখ দুটো শুধু জলে ভরে ওঠে৷ দুগাল বেয়ে নেমে আসা সেই আনন্দাশ্রু মিশে যায় টেম্স্-এরই জলে৷

গভীর তৃপ্তিতে হ্যারি চোখ বোজে৷...

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে৷

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%