ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়

হা: হাঃ হাঃ, লোকটার মাথা একদম গেছে!
—দ্যুৎ দ্যুৎ, রাবার দিয়ে আবার রেনকোট হয় নাকি?
—সত্যিই, কী বুদ্ধি! ওই গলা রাবারগুলোই ওকে এখন গেলাও৷ ব্যাটা বুঝুক মজা৷
চার্লস গুডইয়ারের চোখের সামনে এখনও বড্ড টাটকা সেদিনের দৃশ্যটা৷ ছিঃ ছিঃ, কী লজ্জা, কী অপমান! সমবেত দর্শকরা ম্যাকিন্টশের উদ্দেশে যা মুখে আসছে, তাই বলে দিচ্ছে৷ শেষ অবধি বেচারির সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল, গায়ের সেই বিচিত্র বর্ষাতি একটানে ছিঁড়ে পালালেন তিনি৷
উপস্থিত দর্শকরা মজা পেয়ে আরও হাততালি দিতে শুরু করল৷ একমাত্র গুডইয়ারের বুকটাই বোধহয় মুচড়ে উঠেছিল সেদিন৷
আর আজ? আজ তো তাঁর নিজের দশা ওর চেয়েও মর্মান্তিক৷ একটা লোকও বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না যে তার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলবে৷
সামনের কড়াইয়ের রাবার ফুটছে টগবগ করে৷ চতুর্দিকে ছড়ানো ছিটোনো কাচের, লোহার সব পাত্র, এটা সেটা৷ দু-হাতে মাথা চেপে বসে আছেন গুডইয়ার৷ সামনের ভবিষ্যৎ? জানেন না৷ স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে একটার পর একটা ছবি৷...
১৭৭০ সাল৷ কিছুদিন আগেই অক্সিজেন গ্যাস আবিষ্কার করে জোসেফ প্রিস্টলির খ্যাতি বিশ্বজোড়া৷ দেশ-বিদেশ থেকে আসছে অভিনন্দন প্রশংসার আর উপহারের স্রোত৷
সেদিন সকালে এমনই একটি উপহারের প্যাকেট খুলে প্রিস্টলি পেলেন তাঁর বাল্যবন্ধুর চিঠি, সঙ্গে লালচে এক পদার্থের মণ্ড৷ প্যাকেটটা এসেছে সুদূর আমেরিকা থেকে৷
‘ভাই জোসেফ, তোমার মহান আবিষ্কারের জন্যে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা৷ প্রার্থনা করি, তোমার নব-নব আবিষ্কারে ধন্য হোক্ পৃথিবী৷ আর সেজন্যেই সঙ্গের ওই বস্তুটি পাঠিয়েছি৷ এদেশে একরকম গাছ জন্মায়, রেড ইন্ডিয়ানরা বলে ‘কচাও’৷ সেই গাছেরই রস জমাট বেধে এরকম মণ্ড হয়ে যায়৷ আমাদের কোনও কাজে কি এই অদ্ভুত জিনিসটাকে লাগানো যায়? একটু দেখো তো!
‘তবে শুনেছি, আড়াইশো বছর আগে মেক্সিকোর সম্রাট মন্টেগুমা তাঁদের অতিথি স্পেনের হারানডো ও তাঁর সেনাবাহিনীকে এক বিশেষ খেলায় আপ্যায়িত করেন৷ সে খেলায় এই ‘কচাও’ রস শুকিয়ে গোল বল করে নেওয়া হয়েছিল৷...’
প্রিস্টলি হাসলেন৷ সবাই তাঁকে অতিমানব ভাবতে শুরু করছে৷ যে যা পাচ্ছে তাই পাঠাচ্ছে৷
কচাও-এর তালটা বের করে টেবিলের পাশে রাখলেন৷ বাঃ! বেশ নরম নরম তো! অনেকটা স্পঞ্জের মতো৷ আঙুল বসালে ঢুকে যাচ্ছে, তুলে নিলেই আবার যে কে সেই৷
থাকগে, পরে দেখা যাবে৷ প্রিস্টলি অনেকক্ষণ ধরে কিছুতেই একটা জটিল অঙ্ক মেলাতে পারছিলেন না৷ তার মধ্যেই ডুবে গেলেন৷ উড পেন্সিল দিয়ে লিখছেন আবার মুছে ফেলছেন পাউরুটির গুঁড়ো দিয়ে৷ সেসময় ওই গুঁড়ো দিয়েই পেন্সিলের দাগ মোছা হত৷
য্-যা, আবার ভুল হয়ে গেল! অনমনা প্রিস্টলি বাঁ-হাত বাড়িয়ে গুঁড়োর পুঁটলির বদলে টেনে নিলেন কচাওয়ের তালটাই৷ খেয়ালে ঘষে দিলেন কাগজের ওপর৷
আরে! এ কী, এ কি কাণ্ড! মুহূর্তে তিনি চমৎকৃত৷ একবার ঘষতেই পেন্সিলের দাগ বেমালুম অদৃশ্য৷ কচাও রসের তো দারুণ গুণ!
সঙ্গে সঙ্গে প্রিস্টলির মগজে এসে গেল ‘কচাও’-এর নতুন নাম—রাবার৷ হ্যাঁ, রাব করা বা মুছে ফেলা এর আশ্চর্য গুণ! অতএব নতুন নাম হোক রাবার৷
সুতরাং ‘কচাও’ নয়, এই নতুন নামই এবার ছড়িয়ে পড়ল সারা ইউরোপ আমেরিকায়—রাবার৷
কিন্তু এখানেই কি শেষ? এই বস্তুটির কি আর কোনও গুণ নেই? আর কোনওভাবে কি একে লাগানো যায় না মানুষের কল্যাণকর্মে?
ঠিক এই প্রশ্নটাই টেনে আনল চার্লস গুডইয়ারকে৷
আদতে ছিলেন লোহা-লক্কড়ের ব্যাপারি৷ ছোটখাটো সব যন্ত্রাংশ তৈরি হত চার্লস গুডইয়ারের কারখানায়৷ সেসব ডকে উঠল৷ চার্লস মেতে উঠলেন রাবার নিয়ে৷
কিন্তু এই বস্তুটি যে খুবই অদ্ভুত৷ সামান্য গরম বা ঠান্ডাতেই এর চেহারা পাল্টে যায়৷ গরম লাগলে তরল, ঠান্ডায় আবার গুঁড়ো গুঁড়ো৷ মোটেই স্থিতিশীলতা নেই!
হঠাৎ একদিন প্রতিবেশী বন্ধু এসে জানাল, চার্লস ম্যাকিনটশ নামে এক ভদ্রলোক শহরের বড় মাঠে নতুন এক আবিষ্কার দেখাবেন সবাইকে৷
ওই কচাও বা রাবার দিয়ে তৈরি রেনকোট৷ ম্যাকিনটশ দাবি করেছেন—এই বর্ষাতি চাপিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে হাঁটলেও একফোঁটা জল ঢুকবে না শরীরে৷ শুধু তাই না, সাবেক চামড়ার রেনকোটের চেয়ে এটি হবে হাল্কা, দামেও সস্তা৷
চমৎকার! গুডইয়ারের মনটা খুশি হয়ে উঠল৷ উনি ছাড়া অন্যরাও তাহলে গবেষণা করছেন একই বস্তু নিয়ে৷
নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠে পৌঁছে গেলেন চার্লস গুডইয়ার৷ লোকজন কম হয়নি৷ এসে গেলেন ম্যাকিনটশ৷
ঘোর বর্ষাকাল৷ আধঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আকাশ আঁধার হয়ে এল৷ দর্শকরা ছাতা মেলে ধরলেন৷
ম্যাকিনটশের ছাতা নেই৷ ঢাউস এক বিচিত্রদর্শন বর্ষাতিতে শরীর ঢেকে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি৷
ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলেন গুডইয়ার, সাধারণ কাপড়ের ওপর রাবারের রস ঢেলে শুকিয়ে বানানো হয়েছে রেনকোটটা৷
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে৷ গর্বের হাসিতে মুখ ভরিয়ে হাঁটছেন ম্যাকিনটশ৷ মাঝে মাঝে রেনকোট তুলে দেখাচ্ছেন, ভেতর একদম শুকনো৷
এদেশের বৃষ্টি, এই আছে তো এই নেই! একনাগাড়ে আধঘণ্টাটাক হওয়ার পরেই আকাশ পরিষ্কার৷ দ্বিপ্রহরের প্রখর সূর্য এসে দাঁড়াল মধ্যগগনে৷
তখনই কেলেংকারি ঘটল৷ গা থেকে রেনকোট খোলারও সময় পেলেন না ম্যাকিনটশ৷ গরম বাড়তেই রেনকোট বেয়ে ঝরঝর করে গলে পড়তে লাগল রাবারের স্রোত৷
ব্যস্! যে দর্শকমণ্ডলী এতক্ষণ অভিনন্দন জানাচ্ছিল, তারাই শুরু করে দিল গালিগালাজ, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ!
এর পরের ঘটনা আমরা গোড়াতেই জেনেছি৷...
এ ঘটনায় দুঃখ যেমন পেলেন গুডইয়ার, পেলেন শিক্ষাও৷ বুঝলেন, রাবারকে স্থিতিশীল করতে হলে এর সঙ্গে একটা রাসায়নিক পদার্থ মেশাতেই হবে৷
নতুন উদ্যমে পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়ে গেল৷ বাড়িতে ফেরার সময় নেই গুডইয়ায়ের৷ সর্বক্ষণ তিনি গবেষণাগারে, নাওয়া খাওয়া সব ওখানেই৷
টাকার জন্যে বন্ধক দিতে হল পৈতৃক কারখানা৷ কুছ পরোয়া নেই৷ ওই টাকা দিয়েই চার্লস কিনলেন গবেষণার আরও যন্ত্রপাতি, কেমিক্যাল্স্৷
আরও বেশ কিছুদিন কেটে যায়৷ যার কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন, সে এসে জানাল, কারখানাটি তার৷ কারণ সময় পেরিয়ে গেছে৷
ভ্রূক্ষেপ করলেন না গুডইয়ার৷ শেষ সম্পত্তি পৈতৃক বাড়ি৷ বন্ধক নয়, এবার বাড়িটা বেচেই দিলেন৷
গবেষণা চলেছে৷ জলস্রোতের মতো অর্থব্যয় হচ্ছে৷ নানাভাবে চার্লস চেষ্টা করছেন রাবারকে স্থিতিশীল করতে৷ হচ্ছে না! কিছুতেই হচ্ছে না!
দিনরাত নিদ্রাহীন৷ বাড়ি বিক্রির টাকা শেষ৷ সুতরাং এবার ধার—এর ওর কাছ থেকে৷
পারতেই হবে, রাবারকে স্থিতিশীল করতেই হবে!...
সেদিন সন্ধ্যা পার হয়ে গেছে৷ একমনে কাজ করে চলেছেন গুডইয়ার, বহির্জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন৷
ঠক্-ঠক-ঠক্!
ধেত্তেরি! এ সময় কে আবার জ্বালাতে এল? বিরক্তি হয়ে গুডইয়ার দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন৷
এ—এ কী! চমকে উঠেছেন গুডইয়ার! পুলিশ বাহিনী৷
অফিসার এগিয়ে এলেন,—আপনিই তো চার্লস গুডইয়ার?
—আজ্ঞে হ্যাঁ৷
—আপনার নামে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আছে৷
—ওয়ারেন্ট!
—হ্যাঁ৷ আপনার পাওনাদাররা মামলা করেছে৷ কোর্ট থেকে আপনার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে৷...চলুন৷
পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকেন চার্লস গুডইয়ার৷ সর্বাঙ্গে সাপ কামড়াচ্ছে৷ শেষ অবধি জেলে যেতে হচ্ছে!
যাক, এ বোধহয় একদিকে ভালোই হল৷ দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন গুডইয়ার৷ জেলের নিরিবিলিতে বসে বরং রাবার নিয়ে আরো পড়াশোনা করতে পারবেন৷
দেউলিয়া ঘোষণা করা হল গুডইয়ারকে৷ কারাগারের মেয়াদ একদিন শেষ হয়৷ সর্বস্বান্ত মানুষটা এসে দাঁড়ালেন মুক্ত আকাশের নীচে৷
ধুলোবালি সাফ করে আবার বসে পড়লেন গুডইয়ার৷ নাঃ—কিছুতেই হার মানবেন না তিনি৷ জেলের মধ্যে রাবার সম্পর্কে বেশ কিছু লেখাও পড়ে ফেলেছেন৷ প্রত্যেক লেখকের এক কথা—রাবারকে স্থিতিশীল করতে হলে কিছু একটা মেশাতেই হবে৷ কিন্তু কী সেই পদার্থ?
এবার সেই চেষ্টাতে লেগে পড়লেন গুডইয়ার৷
ইতিমধ্যে প্রতিবেশী আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব সকলেই জেনে গেছেন তাঁর অবস্থার কথা৷ কেউ একটি পয়সাও ধার দিতে রাজি নন৷ অনেকে তো দেখা করতে গেলে মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেন৷
শেষ সম্বল বাবার একমাত্র স্মৃতিচিহ্ণ সোনার হাতঘড়িটা৷ সেটাও বিক্রি করতে হল৷ সেই টাকায় যৎসামান্য কিছু খাবার আর নানারকম রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে এসে গুডইয়ার ল্যাবরেটরির দরজা বন্ধ করলেন৷
দিন শেষ হয়..., রাত নামে৷ রাতও পার হয় একসময় ফোটে দিনের আলো৷ কিন্তু গবেষণায় সামান্য আলোর রেখাটুকুও দেখা দেয় না৷
মানুষটির দু-চোখ কোটরাগত, সর্বাঙ্গ ধুঁকছে অনিদ্রায় অনাহারে৷ সারা মুখে দাড়ি গোঁফের জঙ্গল৷ রাস্তায় বেরুলে যে কেউ ওঁকে পাগল বলবে!
সত্যি বলতে চার্লস গুডইয়ারের মানসিক অবস্থাও তাই৷ চরম হতাশার গ্লানি অহর্নিশ অজগরের মতো পাক মারছে মগজে৷ মানসিক ভারসাম্য হারাতে আর বেশি দেরি নেই৷
জীর্ণ কোটের পকেট হাতড়ে বেরুল শেষ কয়েকটা পেনি৷ টলতে টলতে গবেষণাগার থেকে বেরুলেন গুডইয়ার৷
পাড়া প্রতিবেশীদের কণ্ঠে ভেসে আসে: ‘...দ্যাখ্ দ্যাখ্ পাগলটা বেরিয়েছে...’, ‘আহা, পাগলখানায় ভর্তি করে দিলেই তো হয়৷ কোনদিন মরে যাবে...’, ‘যায় তো যাক্ না! তোর কীসের মাথাব্যথা? আমার চল্লিশ পাউন্ড আর ফেরত পেলাম না...’৷
নির্বিকার চার্লস গুডইয়ার! তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন!
আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি এই নিষ্ঠুর নির্মম পৃথিবীকে কলা দেখাবেন—বিদায় নেবেন চিরতরে৷
কী মাস্টার বিজ্ঞানী, আবার কী চাই?—পরিচিত দোকানের সামনে দাঁড়াতেই মুখ বেঁকিয়ে হাসল লোকটা : ট্যাঁকে মালকড়ি আছে তো? বাকি-ফাকি হবে না, সাফ বলে দিলুম৷
—এক কেজি গন্ধক চাই৷ কত দাম?
—পাঁচ পেন্স্৷ তা গন্ধক দিয়ে করবেটা কী? ও তো বিষ৷ মরবে নাকি? কতবার বললুম, এসব ঘোড়ারোগ ছাড়, শুনলে না!
নিঃশব্দে পাঁচ পেনি গুডইয়ার রাখলেন কাউন্টারে৷...
সমস্ত জানলা দরজা ফটাফট বন্ধ হল ল্যাবরেটরির৷ গুডইয়ার কড়াতে ঢাললেন একতাল রাবার৷ ফুটতে লাগল বার্নারের তাপে৷
এবার তিনি উপুড় করে দিলেন গন্ধকের প্যাকেট৷ পাগলের মতো স্টিক দিয়ে নাড়তে লাগলেন৷
এই বিষাক্ত পদার্থ দিয়েই উনি উপবাস ভঙ্গ করবেন৷ তারপর...তারপর...হাঃ হাঃ...কী মজা...সবাইকে কাঁচকলা দেখিয়ে এই পৃথিবী থেকে...
হঠাৎ স্থির হয়ে গেল গুডইয়ারের দুচোখ৷ পরক্ষণে বিস্ফারিত! উনি ঠিক দেখছেন?
গন্ধক মিশতেই রাবার জমাট বেঁধে গেল? তবে কি...তবে কী....?
একটানে কড়াইটাকে বার্নার থেকে নামিয়ে আনলেন৷ আশ্চর্য! সঙ্গে সঙ্গে একদম জমে গেল রাবারের তালটা!
দুহাত দিয়ে টিপতে লাগলেন৷ হ্যাঁ, সেই নরম নরম, সেরকমই ইলাস্টিক, ওর প্রকৃতি একই আছে!
তার মানে?...উঃ, আর ভাবতে পারছেন না গুডইয়ার৷ এবার তিনি সত্যিই পাগল হয়ে যাচ্ছেন৷ একলাফে কড়াই হাতে গুডইয়ার বেরিয়ে এলেন বাইরে রোদের তাতে৷
কড়াই রাখলেন রোদে৷
না—না! আর রাবার গলছে না!
মুহূর্তে সব বাঁধ ভেঙে গেল চার্লস গুডইয়ারের৷ আত্মহননের পূর্বমুহূর্তে এতদিনের সাধনায় সিদ্ধিলাভ! চরম হতাশার পর বাঁধভাঙা আনন্দের বন্যায় গুডইয়ার দিশেহারা৷
পরক্ষণে গোটা তল্লাট শিহরিত হয়ে উঠল চার্লস গুডইয়ারের তীক্ষ্ম চিল চিৎকারে,—পে রে ছি—পে রে ছি—! শো নো সবাই! আমি পেরেছি!
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথ বেয়েই এসে গেল, সভ্যতার এক নতুন অধ্যায়—রাবার যুগ৷
পরবর্তীকালে যানবাহানের চাকা থেকে শুরু করে বর্ষাতি, চপ্পল, যন্ত্রাংশ সবেতেই শুধু রাবার আর রাবার৷
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন