ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়

সূর্য ডুবে গেছে৷ ছড়ানো ছিটানো গাঢ় লালের ছিটেগুলো ডুবে যাচ্ছে অন্ধকারে৷
বহু বহুদূর বিস্তৃত নিস্তব্ধ বনানী৷ পাতায় পাতায় কেবল একটানা বেজে চলেছে কনকনে হাওয়ার শন্শন্ শব্দ৷ আলাস্কার দক্ষিণের এই অরণ্যে তমিস্রা গ্রাস করছে চরাচর৷
এই সময়ে এ অরণ্য দ্বিপদদের পক্ষে একটুও নিরাপদ নয়৷ বিশালকায় এক ভয়াল শ্বাপদকূল এখানেই অবাধে বিচরণ করে থাকে৷ আলাস্কার ভল্লুকের নাম শোনেনি, এমন ব্যক্তি সত্যিই বিরল৷
তবে সব মানুষ এক ধাতুতে গড়া নয়৷ কিছু মানুষ আছে যারা নিজেরাই রোমাঞ্চ খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে, বিপদের সঙ্গে পাঞ্জা কষতে চায়৷
আমাদের কাহিনীর প্রধান চরিত্র ব্রাডেল ও তার সঙ্গী ড্যারেল রোসিন ওই জাতের মানুষ৷ সদলবলে তারা এখানে এসে উপস্থিত হয়েছে শিকারের খোঁজে৷ এই বনেই যত্রতত্র বিচরণ করে তৃণভোজী ‘মূস্’, চমরী গাইয়ের সমগ্রোত্রীয়৷ অত্যন্ত মূল্যবান তাদের চামড়া৷ সেইসঙ্গে রাইফেলের নিশানায় যদি দু-একটি ভালুক পাওয়া যায়, সেটা হবে উপরি পাওনা৷
খ্রিস্টাব্দ ১৯৮৪, সময়টা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি৷ দীর্ঘ শীতের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে৷ এসময় মাংসাশী শ্বাপদরা আরও হিংস্র হয়ে ওঠে খাবারের সন্ধানে৷
তাঁবু এখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে৷ রোলিন বলল,—ড্যারেল, টর্চটা বের করো৷ একটু তাড়াতাড়ি পা চালানো দরকার৷
হুম। হঠাৎ অন্ধকার ‘ঝুপ্’ করে নেমে এল৷ ড্যারেল টর্চ জ্বালাল,—অথচ মাত্র আধঘণ্টা আগেও...
এ অঞ্চলের এটাই রোজনামচা। রোলিন তাড়া লাগায় : একটু জোরে হাঁটো৷
পাঁচ সেলের টর্চের তীব্র আলোর বৃত্তে সামনের অন্ধকার বনপথ কিছুটা আলোকিত৷ কাঁধে রাইফেল, পিঠে হ্যাভারস্যাক—দুজন হেঁটে চলেছে তাদের তাঁবুর দিকে৷
ওদের দেশও এই আলাস্কায়৷ এই অরণ্যরাজ্যের প্রায় আশি কিলোমিটার উত্তরে এক ছোট্ট শহর সল্ডোৎনায়৷ সেখানে রোলিনদের মাঝারিগোছের একটা গাড়ির যন্ত্রপাতির দোকান আছে৷ আপাতত দোকান কর্মীদের জিম্মায় রেখে রোলিন, তার বাবা ওয়েস, ভাই ওয়েন সবাই এসেছেন এখানে৷ স্রেফ শিকারের নেশায়৷ সঙ্গে হরিহর আত্মা ড্যারেল রোসিন তো আছেই৷
নিস্তব্ধতা ভাঙল ড্যারেলই,—আচ্ছা, তুমি যে বলেছিলে, আকছার ভালুক মিলবে, একটার টিকিও তো চোখে পড়ল না!
তাই তো দেখছি আজ।—ড্যারেলের কথাটা খচ করে বিঁধে গেল রোলিনের বুকে৷
—আমাদের কপালটাই ফাটা৷ একটা মূসও জোটেনি৷
কথাটা সত্যি৷ ওর বাবা, ভাই এমনকী ড্যারেলও একটা করে মূস শিকার করেছে, বেচারি রোলিন! সে আবার দলের অলিখিত পান্ডা৷ না—না, যে করে হোক, ফেরার আগে অন্তত একটা মূস ঝুলিতে ভরতেই হবে৷
হঠাৎ রোলিনের পা থেমে গেল৷ বেশ কিছুদূরে খস্খস্ শব্দ! হাওয়ার শনশনানির মাঝেও স্পষ্ট৷ উৎকর্ণ হল রোলিন৷
ড্যারেল কানের গোড়ায় ফিসফিস করে বলল,—ইয়েস! তোমার মূস!
ঠিক বলেছ!—মুহূর্তে শিকারের উত্তেজনায় রোলিনের চোখ-মুখ লাল হয়ে ওঠে : আমি তাঁবুতে ফিরছি না৷ তুমি চলে যাও৷
বলতে বলতে ঘুরে দাঁড়াল রোলিন এবং হনহন করে হাঁটা লাগাল উল্টোদিকে, বনের গভীরে৷
অনুচ্চ কণ্ঠে ড্যারেল বলল,—তোমার আওয়াজ পেলেই আমি ছুটে আসব৷ বুঝব, তুমি সফল হয়েছ৷
ততক্ষণে রোলিন ব্রাডেলের ছ’ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা শরীর মিশে গেছে নিবিড় অন্ধকারে৷
মাত্র মিনিট দুয়েকের মধ্যেই রোলিন বনের অনেক গভীরে ঢুকে পড়েছে৷ চারপাশে ভূতের মতো কালো ঝোপঝাড়, লতাপাতা, গাছ৷ তার মধ্য দিয়ে পথ করে সে এগিয়ে চলেছে৷ হাতেই রাইফেল ধরা রয়েছে৷ শুধু কিছু একটা চোখে পড়ার ওয়াস্তা৷
জঙ্গলের ভিতরে প্রায় চারশো মিটার ঢুকে পড়েছে রোলিন৷ মূস! মূস আজ তার চাই-ই৷
হঠাৎ রোলিনের শিরদাঁড়া বেয়ে বরফ নেমে এল৷ ওর ষষ্ঠেন্দ্রিয় ওকে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল : কেউ একজন তোমার খুব কাছেই৷ সে তোমার ওপর লক্ষ্য রাখছে!
কে?—কে? কালির স্রোতের মতো অন্ধকার৷ যতই চোখ সরু করুক, দৃষ্টির দৌড় বড়জোর দু-চার মিটার দূরে৷ কিন্তু রোলিন বেশ বুঝতে পারছে। ‘সে’ ওর আশেপাশেই৷
কে সে? মূস? নাঃ৷
রোলিন থমকেছে! কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আচমকা রোলিনের ডানদিকে কিছু দূরে কয়েকটা ডাল প্রচণ্ডবেগে নড়ে উঠল৷
ঘুরেই রোলিন শিউরে উঠল। অন্ধকার মাখা দুই বিশালাকার মূর্তি! ডালাপালা সরাতে সরাতে তারা প্রায় এসে পড়েছে!
আলাস্কার বাদামি ভালুক! সাক্ষাৎ যমদূত!
দূরত্ব মাত্র বারো মিটার৷
অসমসাহসী রোলিনের রাইফেলধরা হাতদুটোও কেঁপে ওঠে ক্ষণিকের জন্যে৷ মুহূর্তে সব ভয় ঝেড়ে ফেলে সে রাইফেল বাগিয়ে ধরে ওদের দিকে৷
ভালুক দুটো আরো কাছে চলে এসেছে৷ ওদের কালো মুখমণ্ডলে সাদা দাঁতের সারি স্পষ্ট৷ প্রবল আক্রোশে ওরা গরগর করছে, অন্ধকারে ঝিকমিকিয়ে উঠছে দাঁত৷
রোলিনের রাইফেল অগ্নিবর্ষণ করে ওঠে—দ্রা-ম-দ্রা-ম! খানখান হয়ে যায় নৈঃশব্দ্য!
এ কী! এ কী! ও দুটো যে একই গতিতে ধেয়ে আসছে৷ সর্বনাশ! রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে! শমন একেবারে ঘাড়ের কাছে! রাইফেল তোলার উপায় নেই৷
আর রেহাই নেই! খৃস্টনাম জপ করতে করতে রোলিন দু-হাতে মুখ ঢাকে৷ পরক্ষণেই ওর কানের কাছে গরম নিঃশ্বাস, নাকে বিশ্রী গন্ধ এবং ঘাড়ে আছড়ে পড়ে তীক্ষ্ণ নখরের থাবা৷
রোলিন উপুড় হয়ে পড়ে ঘাসের ওপর৷ যাঃ, আজ শেষ! একটা দানবদেহ তার পিঠের উপর চেপে বসেছে৷ প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় রোলিনের দুই হাত চেষ্টা করে নিজেকে মুক্ত করতে৷
ওহ্, না! দ্বিগুণ আক্রোশে একটা দানব তার মাথার খুলির চামড়া টেনে টেনে ছাড়াচ্ছে৷ পাশেরটা চিবোচ্ছে ওর কান!
রোলিনের মনে পড়ল, ভালুকের হাত থেকে বাঁচার উপায় হল, মৃতের অভিনয় করা৷ মরা প্রাণীর প্রতি ভালুকের রাগ কমে যায়৷ তাকে ছেড়ে চলে যায়৷
সেই মৃতের অভিনয়ই রোলিনকে এখন করতে হবে! ও নড়বে না! কিছুতেই নড়বে না।
কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব? হিংস্র শ্বাপদদুটো তাকে নিয়ে খেলা করছে৷ মা গো! ওরা ওর ঘাড়ের মাংস খুবলোচ্ছে৷ দাঁতে দাঁত এঁটে, রোলিন নিজেকে শক্ত করে চেপে ধরে জমির সঙ্গে৷
যত অসহ্যই হোক, সে মুখ দিয়ে আওয়াজ করবে না৷
বাদামি দানব দুটো নির্বিচারে ওর কোমর ও পিছনদিকের নরম মাংস ছিঁড়েখুড়ে দিচ্ছে, শিরদাঁড়ায় থাবড়াচ্ছে...হায় যীশু! মৃত্যু এত যন্ত্রণাময়!
একটু যেন থামল ওরা৷ রোলিনের বাঁচার এই অভিনয় কি তাহলে সফল হয়েছে?
তবে ওরা এখনও রয়েছে৷ ফোঁস ফোঁস গরম নিঃশ্বাস ঘাড়ের কাছে পড়ছে৷ এখনও অভিনয় করে যেতে হবে৷ আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতে থাকে রোলিন, কিছুতেই জ্ঞান হারাবে না৷ রোলিন জানে, যে মুহূর্তে ওর সামনে সব অন্ধকার হয়ে যাবে, শরীরের পেশিগুলো আপনা হতেই মোচড়াতে শুরু করবে৷
ফোঁস ফোঁস শব্দ আর তপ্ত নিশ্বাস একটু-একটু সরে যাচ্ছে৷ যাক্, শয়তান দুটো তাহলে চলে গেছে! ভালুকদের এটাই রীতি৷
এই সুযোগ! এখনই—এখনই পালাতে হবে৷
সর্বশক্তি দিয়ে দেহটাকে অতি কষ্টে ডাইনে ঘোরায় রোলিন৷ শরীর অসাড়৷ চোখ খুলে চাইল৷
সঙ্গে সঙ্গে ওর অন্তরাত্মা শিউরে উঠল৷
ভালুক দুটো মোটেও ওকে ছেড়ে যায়নি৷ কিছুদূরে ঝোপের ফাঁকে অপেক্ষা করছে৷ আচ্ছন্ন চোখে রোলিন দেখল, চারজোড়া রক্তচক্ষু ওর দিকে তাকিয়ে আছে৷ কুতকুতে চোখগুলোয় জিঘাংসা ধকধক করছে!
না—না—না! আর পারবে না রোলিন বেঁচে থাকতে৷ দানবদুটো মুহূর্তে এগিয়ে এসেছে রোলিনের কাছে৷
আবার শুরু হয়ে গেল ওদের পৈশাচিক তাণ্ডব৷ ওর রক্তাক্ত দেহটাকে ফের তছনছ করতে লাগল ভল্লুক দুটো৷
আহ্—ও-ক্—উঃ! পারছে না—রোলিন আর পারছে না!
একসময় এই অধ্যায় শেষ হয়৷ কোথাও কোনও শব্দ নেই৷ বনভূমি আবার চুপ৷
রোলিন মরেনি৷ এখনও জ্ঞান আছে৷ ওর শরীরের প্রত্যঙ্গগুলো আদৌ কি ঠিক আছে? ও কি পালাতে পারবে?
শায়িত অবস্থাতেই পা দুটো নাড়াতে চেষ্টা করল রোলিন৷ হ্যাঁ—হ্যাঁ—, ও পারছে৷ হাত দুটোকে নাড়িয়ে ও মাথার কাছে নিয়ে এল৷ এ কী, টুপি এল কোত্থেকে? না—না, এ তো ওর নিজেরই মাথার খুলির ঢাকনা! আলগা হয়ে গেছে৷
হামাগুড়ি দিয়ে উঠে বসল রোলিন৷ ছিন্নভিন্ন জামাটাকে দিয়ে মাথায় ফেট্টি বাঁধল৷ তারপর টলমল করতে করতে উঠে দাঁড়াল৷
নিকষ কালো অন্ধকার চতুদিক৷ কোন দিকে তাদের তাঁবু? দূরত্ব তো বেশি নয়! ও কি একবার ডাকবে? কিন্তু যদি ভল্লুক দুটো সেই শব্দ শুনে ফিরে আসে?
আর কোনও পথ নেই৷ যদি আসে, আসবে! রোলিন ওর স্ত্রী ছেলেমেয়ের কাছে ফটো হয়ে ঝুলবে—!
যীশুকে স্মরণ করে প্রাণপণ চিৎকার করে রোলিন,—বাঁ-চা-ও! ড্যা-রে-ল! বাঁ-চা-ও!
পরক্ষণেই দুঃসহ যন্ত্রণায়, প্রচুর রক্তক্ষরণের দুর্বলতায় মাথাটা চক্কর মেরে উঠল রোলিনের৷ শরীরে আর বিন্দুমাত্র ক্ষমতা নেই৷ হুমড়ি খেয়ে ও পড়ে গেল ঘাসজমিতে৷
কয়েক মুহূর্ত পরেই দূর থেকে ডালপাতা সরাবার খচমচ শব্দ৷ কোনও প্রাণী এদিকেই ছুটে আসছে৷
আবার ভালুক ফিরে এল? নাঃ! আর রক্ষে নেই৷ শব্দটা ক্রমেই জোরাল হচ্ছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে রোলিনের কর্ণকুহরে প্রবেশ করল চেনা গলা,—আসছি! আমি আসছি!
ড্যারেল! বন্ধু ড্যারেল!
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ড্যারেলের শরীর আত্মপ্রকাশ করল ঝোপ-জঙ্গলের ফাঁক দিয়ে৷ বিস্ময়ে, আতঙ্কে ওর চোখের মণিদুটো যে বড়বড় হয়ে উঠেছে, আচ্ছন্ন দৃষ্টিতেও দেখতে পেল রোলিন৷
কিন্তু তার কথায় সেটা প্রকাশ পেল না,—ভালুক ধরেছিল? ও কিছু না, চলো, চলো৷ ঠিক হয়ে যাবে৷
বলতে বলতে সে তার পেশিবহুল ডানহাত বাড়িয়ে দিল রোলিনের দিকে৷ বাঁ হাতে রক্তাক্ত দেহটাকে আঁকড়ে একার শক্তিতে নিয়ে চলল তাঁবুর দিকে৷
রোলিনের প্রৌঢ় বাবা ভয়েস কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেললেন! ছেলের এই বীভৎস শরীর দেখামাত্র থরথর করে কাঁপতে লাগলেন৷ রোলিন এরই মধ্যে জেগে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ কেবল ওর ভাষাহীন চোখদুটো দিয়ে টপটপ জল ঝরতে লাগল৷ পৃথিবীটা এত সুন্দর৷ কত মধুর এই বন্ধুত্ব, বাবা-ছেলের নিবিড় সম্পর্ক...কিছুই সে আগে এমন করে উপলব্ধি করেনি৷
এখন ওর আর যন্ত্রণার অনুভূতি নেই৷ যদি মৃত্যুও ঘটে, দুঃখ নেই৷
এর পরের ঘটনা বিস্তারিত বলা বাহুল্য৷ কারণ, জীবন যেখানে হার মানতে নারাজ, মৃত্যুই সেখানে পরাজিত হয়৷ তাতে যদি সেই ব্যক্তির শরীর ছিন্নভিন্ন হয়, তবুও! এর মধ্যে বিস্ময় আছে, অলৌকিকত্ব নেই৷ অদম্য বাঁচার ইচ্ছে আর অফুরন্ত জীবনীশক্তিই সেই মানুষকে ফিরিয়ে আনে মৃত্যুর দরজা থেকে৷
রোলিন ব্রাডেলের ক্ষেত্রেও তাই-ই ঘটেছিল৷
কান বলে কিছু ছিল না, মাথার স্ক্যাল্প বা খুলির ঢাকনা পুরোটাই খুলে এসেছিল, মাংস উপড়ে এসে পিঠ এবং পশ্চাদদেশের হাড় বেরিয়ে পড়েছিল, রক্তক্ষরণও হয়েছিল প্রচুর৷ সর্বোপরি রোলিনের সঠিক চিকিৎসা শুরু হয়েছিল কম করেও আট ঘণ্টা পর৷ ২০০ কিলোমিটার দূরের রাজধানী অ্যানকরেজের হাসপাতালে ওকে নিয়ে যাবার যানবাহনই পাওয়া যাচ্ছিল না৷
ডাক্তাররা ভাবতেই পারেননি, এরপরেও কেউ বেঁচে যেতে পারে৷ তাই হল৷ আটদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে ছিল রোলিন ব্রাডেল৷
তবে হ্যাঁ, শিকারে যাবার আগে আর পরের রোলিনের জীবনযাপনে আমূল ফারাক হয়ে গেছিল৷
রোলিন উপলব্ধি করেছিল, জীবন কত সুন্দর! বিনা কারণে, শুধু হিংসার উল্লাসে আনন্দে কারোরই অধিকার নেই, অন্য কারও প্রাণ নেবার৷ সে দ্বিপদই হোক, কী চতুষ্পদ!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন