সুচিত্রা ভট্টাচার্য
আজকেও দার্জিলিংয়ের মনমেজাজ ভাল নেই। চাপ চাপ মেঘে ছেয়ে আছে চারদিক, পাঁশুটে ধোঁয়া ঢেকে রেখেছে শহরটাকে। বিষাদের প্রলেপ মেখে ঝিমোচ্ছে পাহাড়ের রানি।
অথচ এমনটা হওয়ার কথা নয়। কোথায় এই শেষ হেমন্তে দার্জিলিংয়ের আকাশ ঝকঝকে নীল থাকবে, পেতলরঙা রোদ্দুর নেচে বেড়াবে পাহাড়ে পাহাড়ে, তা নয়, সারাক্ষণ শুধু ধূসর বাষ্পের মিছিল। শরণার কপালটাই খারাপ, পৌঁছে ইস্তক এখনও একবারও কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে দেখা হল না। পরশু যখন দার্জিলিংয়ে পা রাখল, তখনই বৃষ্টি চলছিল। বিনবিনে কান্নার মতো। একটানা। একঘেয়ে। কাল একটুক্ষণের জন্য সূর্যের মুখ দেখা গিয়েছিল বটে, কিন্তু কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফচূড়াগুলো ছিল মেঘের আড়ালে। আর আজ তো সকাল থেকেই এই হাল।
চমৎকার একটা হোটেলে উঠেছে শরণ্যারা। ম্যালের ঠিক ওপরে, উত্তর দিকটা পুরো খোলা। কিন্তু লাভ কী! হিমালয় তো দূরস্থান, বিশ-পঞ্চাশ হাত দূরের গাছপালারাও কেমন ঝাপসা ঝাপসা। বন্ধ কাচের জানলা দিয়ে মেঘ দেখে দেখে শরণার চোখ ব্যথা হয়ে গেল। এতক্ষণ তাও একটু দিন দিন মতো ছিল। এখন পাহাড়ে আঁধার। সন্ধে নামছে।
শরণ্যা সরে এল জানলা থেকে। দুপুর থেকেই লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে অনিন্দ্য, এখনও তার ওঠার নামটি নেই। গোমড়া মুখে তাকে টুকুন দেখল শরণ্যা। কী বিটকেল ছেলে রে বাবা! হানিমুনে এসে কোনও বর এমন পড়ে পড়ে নাক ডাকায় কেউ জন্মে শুনেছে! হঠাৎ হঠাৎ ইচ্ছে হল তো বউকে পাগলের মতো খানিক ঘেঁটে নিল, তার পরই ভোঁস ভোঁস ঘুম। এদিকে শরণ্যা যে একা একা বসে থাকতে থাকতে বোর হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে খেয়ালই নেই। ছেলেটা যেন কেমন কেমন! বিয়ের পর প্রথম বেরিয়েছে দু’জনে, কোথায় বউয়ের গায়ে গা লাগিয়ে বসে বকবক করে যাবে, এলোমেলো খুনসুটি করবে, মেঘকে তুড়ি মেরে বউয়ের হাত ধরে বেরিয়ে পড়বে দুমদাম… উঁহু, ওসবে অনিন্দ্যর আগ্রহই নেই। বেশ বেরসিক। ফুলশয্যার রাতেও কী আজব ব্যবহারটাই না করল। ফুলে ফুলে সুরভিত হয়ে আছে শয্যা, গাঢ় নীল রাতবাতি জ্বলছে, ঘর জুড়ে স্বপ্ন স্বপ্ন পরিবেশ, সেখানে কিনা নতুন বর দরজা বন্ধ করেই বোম্বেটে সাইজের হাই তুলছে! হ্যাঁ, সারা সন্ধে বউভাতের ধকল গেছে খুব, ক্লান্ত হওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। শরণ্যারও তো শ্রান্তিতে শরীর ভেঙে আসছিল, কিন্তু…! শরণ্যা কত কী আশা করেছিল সেদিন। হুট করে বিয়েটা হয়ে গেল, ভাল করে আলাপ পরিচয় পর্যন্ত হয়নি, ফুলশয্যার রাতে অনিন্দ্য তার সঙ্গে খানিকক্ষণ কথা বলবে, ঘোর-লাগা চোখে তাকিয়ে থাকবে তার দিকে, চিনতে চাইবে তাকে, জানতে চাইবে, তারপর…। কিন্তু আদতে কী ঘটল? স্রেফ একটা আনাড়ি চুমু, এবং ঘুমিয়ে পড়ো বলে বিছানায় ধপাস, একেবারে কুম্ভকর্ণের নাতজামাই।
উপমাটা মাথায় আসতেই শরণ্যা ফিক করে হেসে ফেলল। সে কি তা হলে কুম্ভকর্ণের নাতনি? হি হি হি। আপন মনে হাসতে হাসতে ফের অনিন্দ্যকে নিরীক্ষণ করল শরণা। ছেলেটার শোওয়াটাও ভারী অদ্ভূত! মুখটি দেখার জো নেই, আপাদমস্তক ঢাকা। এখানে নয় শীত, কিন্তু কলকাতায়? ক’দিন ধরেই তো দেখছে শরণ্যা, কক্ষনও ঘুমন্ত মুখখানাকে ভোলা রাখে না অনিন্দ্য। হয় আড়াআড়ি হাতে আড়াল করে রাখে, নয়তো মুখ গুঁজে দেয় বালিশে। রাগ হলে বাচ্চারা যে ভাবে মুখ লুকোয়, অনেকটা যেন সে রকম ভঙ্গি। দেখতে যেমন গাবলুগুবলু, হাবভাবও ঠিক তেমনই। ছেলেমানুষ, এক্কেবারে ছেলেমানুষ।
শরণ্যা ঘড়ি দেখল। পাঁচটা পঁচিশ। ইস, কোনও মানে হয়? এই ঘুমকাতুরে ছেলেটার লেপের দিকে তাকিয়ে তাকিয়েই কি আরও একটা সন্ধে কেটে যাবে? নাহ্, একে এবার জাগানো দরকার।
অনিন্দ্যর মুখ থেকে আস্তে করে লেপটাকে সরাল শরণ্যা। ঝুঁকে ডাকল, — এই যে, শুনছ?
কোনও সাড়া নেই।
শরণ্যা মজা করে বলল, —কী হল, ওঠো। ডিনারের সময় হয়ে গেছে। খেতে যেতে হবে।
অনিন্দ্য নিশ্চল।
এবার এক টানে অনিন্দ্যর গা থেকে লেপটাকে সরিয়ে দিল শরণ্যা। সঙ্গে সঙ্গে নড়ে উঠেছে অনিন্দ্য। কুঁকড়েমুকড়ে উপুড় হয়ে মুখ গুঁজল বালিশে। জড়ানো গলায় বলল, —আহ্, কী করছ কী? লেপটা দাও। আমি জেগেই আছি।
—তার মানে এতক্ষণ মটকা মেরে পড়ে আছ? কী ছেলেরে বাবা! ওঠো, শিগ্গির ওঠো।
—কেন?
—একটু বেরোব না?
চোখ রগড়াতে রগড়াতে অনিন্দ্য উঠে বসল। —এই ওয়েদারে কোথায় যাবে?
—ঘুরব। হাঁটব, ম্যালে গিয়ে বসব। আকাশে মেঘ আছে বলে কেউ দার্জিলিংয়ে এসে দরজা বন্ধ করে বসে থাকে? শরণ্যা ঠোঁট ফোলাল, —কালও তো ওয়েদারের ছুতো দেখিয়ে নড়লে না, ঘরে বসে বসে ড্রিঙ্ক করলে।
অনিন্দ্যর চোখে সামান্য চাঞ্চল্য দেখা গেল যেন। হাত বাড়িয়ে লেপটাকে টেনে নিয়ে জড়িয়েমড়িয়ে বসেছে। ভাবল কী একটা। তারপর বলল, — অলরাইট, চলো। আজ তো একবার ম্যালে যেতেই হবে।
শরণ্যা সামান্য অবাক, —কেন?
হাত বাড়িয়ে শরণ্যার গালে আলতো টোকা দিল অনিন্দ্য, —আর একটা বোতল কিনতে হবে ডার্লিং।
—আবার কেন? একটা গোটা বোতল তো এখনও স্যুটকেসে রয়েছে!
—যেটা নীলাচল এনে দিয়েছিল? তোমায় বললাম যে, ওটা আমার চলবে না।
—না চলার কী আছে? ওটাও তো হুইস্কিই!
—ওটা রয়্যাল স্ট্যাগ। বাবার ব্র্যান্ড। আমি আর্য মুখার্জির ব্র্যান্ড ছুঁই না।
অনিন্দ্যর স্বরে প্রচ্ছন্ন বিরাগ। শরণ্যা আমল দিল না। চোখ টিপে বলল, — তুমি কী খাও আর্যপুত্র ? মেয়ে হরিণ?
রসিকতাটা বুঝলই না অনিন্দ্য, আরও গোমড়া হয়ে গেছে। চোয়াল শক্ত করে বলল, —আর্যপুত্র বলে ডাকতে তোমাকে না বারণ করেছি?
—আহা, বারণ করলেই শুনতে হবে ? শরণ্যা তর্ক জুড়ল,— আর্যপুত্র ডাকটা খারাপ কী? আগেকার দিনে বরকে তো আর্যপুত্র বলাই রেওয়াজ ছিল। পরশুরাম পড়োনি? হিড়িম্বাও ভীমকে…
—ফাজলামি কোরো না। আমার ওই ডাকটা একদম পছন্দ নয়।
—তোমায় তা হলে কী বলে ডাকব? তোমার তো কোনও ডাকনামও নেই!
—নেই তো নেই। অনিন্দ্য বলে ডাকবে।
অনিন্দ্যর চটে যাওয়াটা উপভোগ করছিল শরণ্যা। তবু যা হোক কথা তো বলছে দুটো-চারটে। সারাক্ষণ মুখ বুজে থাকলে কী করে অনিন্দ্যর মনের জানলা খুলবে শরণ্যা।
অনিন্দ্যকে আর একটু উসকে দেওয়ার জন্য শরণ্যা গলায় আদুরে ভাব ফোটাল, —যাই বলো, এটা কিন্তু খুব স্ট্রেঞ্জ। তোমার কোনও ডাকনাম নেই, তোমার ভাইয়ের কোনও ডাকনাম নেই…!
—তো?
—কেন নেই?
—কেউ রাখেনি, তাই। ডাকনাম ধরে ডাকার মতো কারও ইচ্ছে ছিল না, তাই। কিংবা সময় ছিল না কারও।
অনিন্দ্যর স্বরে যেন ক্ষোভের আভাস। ক্ষোভ? না অভিমান? বাবা-মার ওপর অনিন্দ্যর একটা রাগ আছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ছেলে তো মা-বাবার কাছে ঘেঁষেই না। বিয়ের পর শরণ্যাকে নিয়ে ফার্ন রোডের বাড়িতে যখন প্রথম ঢুকল অনিন্দ্য, মা-বাবাকে প্রণাম পর্যন্ত করল না। কে জানে হয়তো বা প্রণাম না-করাটাই ও বাড়ির রীতি। খাবার টেবিলে একসঙ্গে বসলেও মা-বাবার সঙ্গে কদাচিৎ বাক্যালাপ হয় ছেলের, নজরে পড়েছে শরণ্যার। দার্জিলিংয়ে এসে নিবেদিতাকে পৌঁছোনো সংবাদ দিতে চাইল শরণ্যা, তাতেও অনিন্দ্যর ঘোর আপত্তি। তোমার বাবা-মাকে ফোন করতে চাও করো, ফার্ন রোডে জানানোর প্রয়োজন নেই! আর্য মুখার্জির ছেলে আর্যপুত্র ডাক শুনেই বা চটে যায় কেন?
বিয়ের সময়ে কি কোনও ঝগড়াঝাঁটি হয়েছে? পারিবারিক অন্তর্কলহ? কে জানে বাবা কী ব্যাপার, তবে শরণ্যার তো অনিন্দ্যর বাড়ির লোকজনকে বেশ লেগেছে। সবাই যে যার মতো থাকে, কেউ কারও ব্যাপারে নাক গলায় না। শরণ্যারই ভাল, দিব্যি স্বাধীন ভাবে থাকতে পারবে শ্বশুরবাড়িতে। অনিন্দ্যর বাবা তো নিপাট ভালমানুষ। এক্কেবারে নির্বিরোধী। পণ্ডিত ব্যক্তি, এক সময়ে কলেজে পড়াতেন, মিউজিয়ামেও চাকরি করেছেন দীর্ঘকাল, এখন পড়ে থাকেন শুধু বইয়ের জগতে। শ্বশুরমশাইকে দিনে একটা-দু’টোর বেশি দুটো কথা বলতে শোনেনি শরণা। সন্ধেবেলা একটু ঢুকু ঢুকু করার অভ্যেস আছে, তবে মোটেই নেশাড়ু নন। নেশা নাকি তাঁর একটাই। খবরের কাগজ ম্যাগাজিনে দিস্তে দিস্তে চিঠি লেখা। আর শরণ্যার শাশুড়ি তো রীতিমতো মহীয়সী মহিলা। সামান্যতম গোঁড়ামি নেই, মিছিমিছি শুয়ে বসে অলস জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত নন, কত রকম সমাজসেবামূলক কাজকর্ম করে বেড়ান, এমন শাশুড়ি পাওয়া তো অনেক ভাগ্যের কথা। শ্বশুরবাড়ি আসার আগে মা পই পই করে বলে দিয়েছিল, অত বড় বনেদি বাড়িতে বিয়ে হচ্ছে, গিয়েই যেন শাড়ি পরব না শাড়ি পরব না বলে বায়না জুড়ো না… অথচ শরণ্যাকে মুখ ফুটে উচ্চারণ করতে হল না, শাশুড়িই যেচে সালোয়ার-স্যুট পরার পারমিশান দিয়ে দিলেন শরণ্যাকে। কত উদার! শুধু শরণ্যার দেওরটি যা একটু উড়ুউড়ু। তবে মোটেই অভদ্র নয়। তেমন আলাপী হয়তো নয়, কিন্তু শরণ্যা যেচে কথা বললে ভাল ভাবেই তো উত্তর দেয়, এবং কথাবার্তাও যথেষ্ট মার্জিত! এমন সভ্য ভদ্র পরিবারে তেমন বড়সড় বিবাদ কী থাকতে পারে?
থাকলে আছে, না থাকলে নেই। হানিমুনে এসে ওই কাল্পনিক দুশ্চিন্তায় কেন পীড়িত হবে শরণ্যা! তবে হ্যাঁ, অনিন্দ্যর মনে যদি কোনও কষ্ট থাকে, শরণ্যা তা মুছে দেবে।
পাশে বসে অনিন্দ্যর গলা জড়িয়ে ধরল শরণ্যা। ছেলেভুলোনো গলায় বলল, —ডাকনাম নেই বলে খুব দুঃখ মনে হচ্ছে? বেশ, আমি তোমাকে একটা নাম দিচ্ছি।
অনিন্দ্য খুশি হল কি না বোঝা গেল না। চুপ করে আছে।
শরণ্যা একটু চুমু খেল অনিন্দ্যকে। ফিসফিস করে বলল, —আজ থেকে তুমি অনি। আমার অনি। খুশি?
হঠাৎ অনিন্দ্য যেন গলে গেল। লেপের ভেতর টেনে নিয়েছে শরণ্যাকে। মুখ গুঁজে দিল শরণ্যার বুকে। নাক ঘষছে শরণ্যার ঘাড়ে গলায়। দু’ বাহুতে পিষছে শরণ্যার তুলতুলে শরীর।
আদরটাকে বেশ খানিকক্ষণ উপভোগ করল শরণ্যা। তীব্র কামে বিবশ হয়ে আসছে দেহ, কেমন কেমন যেন করছে ভেতরটা। অজান্তেই দু’হাত আঁকড়ে ধরল অনিন্দ্যকে, নখ বিঁধে যাচ্ছে অনিন্দ্যর পিঠে। মাত্র ক’দিন হল এই অচেনা সুখের স্বাদ পেয়েছে শরীর, স্নায়ুকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না শরণ্যা। রাখার ইচ্ছেও নেই।
হঠাৎই দরজায় টকটক। সচকিত শরণ্যা কোনওক্রমে ছাড়াল নিজেকে। আলুথালু বেশ মোটামুটি ঠিকঠাক করে দরজা খুলল। বেয়ারা। এমন একটা প্রগাঢ় মুহূর্তে লোকটার হাজির হওয়ার কোনও অর্থ হয়!
—চা খাবেন না মেমসাব?
শরণ্যা নয়, অনিন্দ্যই অন্দর থেকে রুক্ষ স্বরে চেঁচিয়ে উঠল, —কিছু লাগবে না।ভাগো হিঁয়াসে।
মধ্যবয়স্ক নেপালি কর্মচারীটি থতমত খেয়ে পালাচ্ছে। যেতে যেতেও ঘুরে ঘুরে দেখছিল, শরণ্যা দরজা বন্ধ করে দিল। নিজেরও একটু একটু রাগ হয়েছিল বটে, কিন্তু অনিন্দ্যর হাঁড়িমুখখানা দেখে হেসে ফেলল। চোখ ঘুরিয়ে বলল,— ঠিক হয়েছে। একে কী বলে জানো? দেয়ার ইজ মেনি আ স্লিপ্ বিটুইন দা কাপ অ্যান্ড দা লিপ। কিংবা বাড়া ভাতে ছাই।
অনিন্দ্য ছটফট করছিল। ঘড়ঘড়ে গলায় বলল,— লেট কোরো না। এসো।
—উঁহু। গোটা রাত পড়ে আছে। এখন চটপট ড্রেস করে নাও। বেরোব।
অনিন্দ্যকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অ্যান্টিরুমে চলে এল শরণ্যা। এখানেই ড্রেসিংটেবিল, এখানেই ওয়ার্ড্রোব। স্যুটকেস থেকে খান চারেক সালোয়ার স্যুট বার করে সাজিয়ে রেখেছে ওয়ার্ড্রোবে, খান দুয়েক জিণ্স টিশার্টও। আজ সালোয়ার কামিজ নয়, জিণ্স পরবে। গাঢ় নীলটা নয়, ফ্যাকাশে নীল। এমন ওয়েদারে উজ্জ্বল নীল বেমানান।
নাইটি হাউসকোট ছেড়ে ডেনিম ট্রাউজারখানা পরে নিল শরণ্যা, লাল টুকটুকে টিশার্টের ওপর চড়াল বহুরঙা পোলোনেক্ সোয়েটার। তারপর এসে বসল আয়নার সামনে। ভাল করে ক্রিম মাখছে। শরণ্যা কখনওই চড়া মেকআপ করে না। তার গায়ের রংটি শ্যামলা, কিন্তু নাক চোখ মুখ ভারী নিখুঁত, প্রায় দেবীপ্রতিমার আদলে গড়া, উগ্র প্রসাধনের তার প্রয়োজনই হয় না। সযত্নে আইলাইনার বোলালো চোখে, সূক্ষ্ম রেখার বেষ্টনীতে আরও গভীর হল শরণ্যার কালো চোখ। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক ছোঁয়াল, আরও যেন প্রস্ফুটিত হল ওষ্ঠাধর। চিকন চিকন চুল মেলে দিল পিঠে। সিঁথির রক্তিম চিহ্নটুকু ছাড়া তাকে এখন আর নববধূ বলে চেনাই দায়।
অনিন্দ্য এমন সাজে এই প্রথম দেখছে শরণ্যাকে। চোখ সরাতে পারছে না।
শরণ্যা ভুরু নাচিয়ে বলল, —কী দেখছ ড্যাবডেবিয়ে? গিলে ফেলবে নাকি?
অনিন্দ্য অস্ফুটে বলল, —উঁহু, চিবিয়ে চিবিয়ে খাব।
—ইস, আমি বুঝি খাবার?
—খাবারই তো। দা বেস্ট অ্যান্ড দা মোস্ট ডিলিশাস্ ফুড।
—বটে? শরণ্যা দুলছে মৃদু মৃদু, —কী রকম ফুড শুনি? চাইনিজ? না কন্টিনেন্টাল?
—মুঘলাই। খাস লখ্নৌয়ের বিরিয়ানি।
—দেখো, খেয়ে যেন অ্যাসিড না হয়। দেহে বিচিত্র হিল্লোল তুলে চেয়ার টেনে বসল শরণা। গরম মোজা পায়ে গলাতে গলাতে বলল, —এই, একটা রিকোয়েস্ট করব? রাখবে?
অনিন্দ্য লেপ ছেড়ে উঠে আড়মোড়া ভাঙছিল। বলল, —শুনি তো আগে।
—আজ ড্রিংক কোরো না প্লিজ।
—কেন?
—এমনি। না খেলে কী হয়?
—খেলেই বা কী হয়? তুমিও তো কাল সিপ দিয়েছিলে, খারাপ লেগেছিল?
—তুমি তো চুমুকে থামবে না, ঢকঢক চালাবে। কাল তো আউট হয়ে ঘুমিয়েই পড়লে। ছিঃ, কী বিচ্ছিরি।
—কোনটা বিচ্ছিরি? ড্রিংক করাটা? না ঘুমিয়ে পড়াটা?
—দুটোই।
অনিন্দ্য অ্যান্টিরুমে পোশাক বদলাতে যাচ্ছিল, ভুরু কুঁচকে ঘুরে তাকাল,— তোমার কি ড্রিংক করা নিয়ে কোনও ট্যাবু আছে?
শরণ্যা চট করে জবাব দিতে পারল না। মদ্য পান নিয়ে তার তেমন ছুঁৎমার্গ সত্যিই নেই। তার বাবাও তো খায় মাঝেমধ্যে। তবে মাঝেমধ্যেই। অথবা কালেভদ্রে। শরণ্যার ছোটমামা হঠাৎ হঠাৎ দিদির বাড়িতে হানা দিয়ে হিড়িক তুলতে শুরু করে, —ও নবেন্দুদা, গা’টা ম্যাজম্যাজ করছে, আজ একটু হয়ে যাক। শুনেই হাঁ হাঁ চেঁচাতে থাকে মা, আর বাবা কাঁধে একটা ঝোলা নিয়ে পা টিপে টিপে চুপিসাড়ে বেরিয়ে যায়, ফেরে কাগজে মোড়া ছোট্ট একখানা বোতল নিয়ে, সঙ্গে গাদা গাদা চানাচুর আর আলুভাজা। গজগজ করতে করতে মা শসাটা পেঁয়াজটা কেটে দেয়, পকোড়াও ভেজে দেয় কখনও কখনও। তারপর দরজা জানলা বন্ধ করে, পাড়াপ্রতিবেশীর দৃষ্টি বাঁচিয়ে শুরু হয় শালা-ভগ্নিপতির মদ্যপান। সে এক দৃশ্য! খাওয়ার পর বাবা গোটা ফ্ল্যাট হেঁটে হেঁটে দেখে পা টলছে কিনা! দু’মিনিট অন্তর অন্তর শরণ্যার মুখের কাছে মুখ এনে প্রশ্ন, অ্যাই বুবলি, গন্ধ পাচ্ছিস? ঠাম্মার ঘরে তো তখন কেটে ফেললেও ঢুকবে না বাবা। একদিন ওই সময়ে বেলগাছিয়া থেকে ছোটঠাম্মার ফোন এসেছিল, রিসিভার তুলে কথা বলতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে মুখে রুমাল চাপা দিয়েছিল বাবা। দেখে শরণ্যা আর শরণ্যার মা হেসে কুটিপাটি। এমন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শরণ্যার মদ্যপান তো একটু বাধো বাধো ঠেকতেই পারে।
আনমনে মাথা ঝাঁকিয়ে শরণ্যা বলল,— নাহ্, ট্যাবু কীসের। চলো, বেরিয়ে পড়ি।
হোটেলের বাইরে এসে অনিন্দ্য বলল,— উফ্, কী শীত!
মেঘের বজ্জাতি কমেছে খানিকটা, পথঘাট এখন কিছুটা স্বচ্ছ। আকাশ একটু পরিষ্কার হওয়ার দরুনই বুঝি ঠান্ডা ঝপ করে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। হাওয়া বইছে অল্প অল্প। কনকনে। বরফের ছুরির মতো।
শরণ্যা শীতলতাটা দিব্যি উপভোগ করছিল। হাসতে হাসতে বলল, —দার্জিলিংয়ে ঠান্ডা থাকবে না তো কি লু বইবে?
ঠাট্টাটা যেন ছুঁল না অনিন্দ্যকে। বলল, —রুম থেকে মাংকিক্যাপটা নিয়ে এলে হত।
—অ্যাই, হানিমুনে এসে মাংকিক্যাপ পরতে নেই।
অনিন্দ্যর হাত ধরে টানল শরণ্যা। নামছে। হোটেল থেকে ম্যাল মিনিট পাঁচেকের পথ। গোটাটাই উতরাই। ভিজে পাহাড়ি রাস্তা। পিছল। শরণ্যা সাবধানে পা ফেলছিল। বাইরের শৈত্য আর অনিন্দ্যর হাতের তালু থেকে সঞ্চারিত তাপ মিলে মিশে ভারী অদ্ভুত এক অনুভূতি চারিয়ে যাচ্ছে শিরা উপশিরায়। এ যেন শুধু সুখ নয়, আনন্দ নয়, তৃপ্তি নয়, তার চেয়ে বেশি কিছু। এক অজানা রোমাঞ্চ। অচেনা শিরশিরে ভাললাগা।
হাঁটতে হাঁটতে শরণ্যা বলল, —দেখেছ অনি, ওয়েদারটা কেমন ঝুপ করে ভাল হয়ে গেল! দ্যাখো দ্যাখো, একটা-দুটো তারাও ফুটেছে আকাশে!
অনিন্দ্য আলগা ভাবে বলল, —হুঁ।
—ভাবতে কী অবাক লাগে, তাই না? শরণ্যার চোখে স্বপ্ন স্বপ্ন ঘোর, —মাত্র ক’দিন আগেও তুমি আমায় চিনতে না, আমিও তোমায় চিনতাম না… আর আজ কলকাতা থেকে কত দূরে একটা নির্জন পাহাড়ে দু’জনে হাত ধরাধরি করে হাঁটছি!
অনিন্দ্য ফের আলগা ভাবে বলল, —হুঁ।
—হঠাৎ করে তুমি কেমন আমার আপন হয়ে গেলে ! সব থেকে কাছের লোক!
—হুঁ।
—কী তখন থেকে হুঁ হুঁ করছ? অনিন্দ্যর মেয়েলি ধাঁচের নরম নরম হাতের তালুতে চাপ দিল শরণ্যা, —কিছু বলল।
—কী বলব?
—কিন্তু অন্তত বলো। এখনই তো কথা বলার সময়। এরপর কলকাতায় ফিরে গিয়ে তুমি তো সেই সকালে অফিসে বেরিয়ে যাবে, সন্ধেবেলা ফিরবে, আর আমি… অ্যাই অনি, আমিও কিন্তু রিসার্চে জয়েন করে যাব।
এবার আর হুঁ হ্যাঁ কিছু নেই।
শরণ্যা উৎসাহভরে বলল, —আমি কী নিয়ে কাজ করব, আন্দাজ করতে পারো? …পারলে না তো? আমার স্যার, মানে পি. এস. বি, অ্যাডাল্ট এডুকেশানের ওপর কাজ করছেন। আমাকেও বলেছেন ওই লাইনেই একটা কোনও টপিক তৈরি করে দেবেন। ডাটা কালেকশানের জন্য তখন কিন্তু আমায় খুব ছোটাছুটি করতে হবে। এই লাইব্রেরি, ওই লাইব্রেরি…। বেশি ফিল্ডওয়ার্ক যদি করতে হয় তা হলে তো গেলাম। কোথায় কোন গ্রামেগঞ্জে ঘুরে স্যাম্পল কালেকশান করতে হয় তার ঠিক কী? সুন্দরবন বেল্টটা নিয়ে স্যারের খুব আগ্রহ, হয়তো ওদিকেও ছুটতে হতে পারে। তবে বেস্ট হয় যদি রেডিলি অ্যাভেলেবল্ ডাটা অ্যানালিসিস করে পেপার তৈরি করা যায়। ঝক্কি কত কম বলো? বইটই নিয়ে এসে ঘরে বসেই কাজ করতে পারি। ভাল হবে না তা হলে, বলো?
অনিন্দ্যর সংক্ষিপ্ত উত্তর, —হুঁ।
শরণ্যা টের পেল অনিন্দ্য তার কথা মোটেই মন দিয়ে শুনছে না। জেরার ঢঙে প্রশ্ন করল, —অ্যাই ছেলেটা, এতক্ষণ কী বললাম বলো তো?
অনিন্দ্য যেন সচকিত হল, —অ্যাঁ?
—এত অন্যমনস্ক কেন? কী ভাবছ?
—না মানে… কানে বড্ড ঠান্ডা লাগছে, অন্তত মাফলারটা যদি নিয়ে আসতাম।
ঘর-লাগা মুহূর্তটা পলকে ছিঁড়ে গেল শরণ্যার। কী একবগ্না ছেলে রে বাবা! একবার মাথায় ঢুকেছে ঠান্ডা লাগছে তো ঠান্ডাই লাগছে, ঠান্ডার বাইরে আর কিছু ভাববেই না! যে সব ছেলেরা কম কথা বলে, তারা কি শুধু এ ভাবেই নিজের মধ্যে ডুবে থাকে? শরণ্যার বন্ধু চৈতালির বরটাও নাকি এমন উৎকট টাইপ ছিল, কড়া দাওয়াই দিয়ে চৈতালি তাকে সিধে করেছে। ঘড়ি মেপে টানা দু’ঘণ্টা গল্প না করলে বরকে নাকি অঙ্গ স্পর্শ করতে দেয় না চৈতালি। শরণ্যাকেও কি ও রকম কোনও একটা ওষুধের কথা ভাবতে হবে ?
ম্যাল এসে গেছে। ট্যুরিস্ট সিজন নয়, চত্বরটা এখন প্রায় ফাঁকা। এক-আধ জোড়া কপোত-কপোতী বসে আছে বেঞ্চে, ঘোরাফেরা করছে স্থানীয় লোকজন। আশপাশের দোকানপাট ঝলমল করছে আলোয়, ঠিকরে-আসা দ্যুতিতে খানিকটা উজ্জ্বল হয়ে আছে ম্যাল।
অনিন্দ্যকে টানতে টানতে শরণ্যা ম্যালের প্রান্তে এসে দাঁড়াল। রেলিংয়ের ওপারে পাহাড় জঙ্গল চা বাগান লোকবসতি সব ডুবে আছে কুয়াশা-মাখা অন্ধকারে, তাকিয়ে থাকলে কেমন গা ছমছম করে। হঠাৎ কোথ্থেকে যেন ধেয়ে আসে উড়ো মেঘ, জলীয় বাষ্প স্যাঁতসেঁতে করে দিয়ে যায় মুখচোখ।
একটা পাহাড়ি কিশোর এসে সামনে দাঁড়াল,— হর্স রাইডিং করবেন বিবিজি?
শরণ্যা অবাক মুখে বলল, —এই অন্ধকারে হর্স রাইডিং?
ছেলেটা ঘ্যানঘেনে সুরে বলল, —চলুন না বিবিজি।সারাদিন কামাই নেই… বেশি লাগবে না, ওনলি টোয়েন্টি রুপিজ।
হাড়জিরজিরে গোটা তিন-চার টাট্টুঘোড়া চরছে ম্যালে। তাদের ঝলক দেখে নিয়ে শরণ্যা বলল, —মাথা খারাপ! এই অন্ধকারে ওই ঘোড়ায় চড়ে মরি আর কি!
—কিছু হবে না বিবিজি। সাব আর আপনি দুটো ঘোড়া নিয়ে নিন, আমি আপনাদের সাথ সাথ থাকব।।
শরণ্যা অনিন্দ্যকে জিজ্ঞেস করল, —কী, চড়বে?
জোরে জোরে মাথা নাড়ল অনিন্দ্য, —না না, ও আমার পোয় না।
শরণ্যা চাপা গলায় বলল, —আহা, চলোই না। বেচারা এত করে বলছে, ওর একটু রোজগারও হয়।
—ওর ইনকাম হবে বলে আমায় ঘোড়ায় চড়তে হবে? তোমার ইচ্ছে হলে তুমি যাও।
—একা যাব?
—সে তুমি বোঝে।
না’ই বলে দিতে যাচ্ছিল শরণ্যা, পাহাড়ি ছেলেটার দিকে চোখ পড়তে থমকে গেল। ভারী কাতর মুখে তাকিয়ে আছে ছেলেটা। শুকনো শুকনো চেহারা, গায়ে একটা জীর্ণপ্রায় মলিন ফুলসোয়েটার লগবগ করছে। শরণ্যা রাজি হয়ে গেলে কুড়িটা টাকা তো উপার্জন হয়।
সামান্য ইতস্তত করে শরণ্যা বলল, —চলো। ঘোড়া কিন্তু জোরে চালিয়ে না। বলেই অনিন্দ্যকে হাত নাড়ল হাসি হাসি মুখে,— একটা পাক মেরে আসি তা হলে? তুমি ততক্ষণ বসে বসে একটু ঝিমিয়ে নাও।
সন্তর্পণে বেঁটে ঘোড়ার পিঠে চাপল শরণ্যা। ঘোড়া চলেছে দুল্কি চালে, লাগামখানা ধরে আছে পাহাড়ি কিশোর। পাকদণ্ডী বেয়ে প্রথমে খানিকটা নামতে হয়, তারপর চড়াই ধরে ফের ম্যালে উঠে আসা, সময় লাগে বড় জোর মিনিট পনেরো, জানে শরণ্যা। এর আগেও মা-বাবার সঙ্গে দার্জিলিংয়ে এসে চড়েছে ঘোড়ায়। তখন শরণার বোধহয় ক্লাস সেভেন। সেবার ঘুরতে ফিরতে ঘোড়ায় চাপত শরণ্যা, আর বাবা সর্বক্ষণ ছায়ার মতো থাকত সঙ্গে সঙ্গে। সহিসের ওপর ভরসা নেই, যদি ঘোড়া জোরে জোরে ছোটায়, যদি বুবলি পড়ে যায়! ম্যালে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মা’রও কী টেনশান। অ্যাই, ঘোড়া খাদের ধারে যায়নি তো? এবার যেন একটু বেশি সময় লাগল, ঘোড়া কি অন্য দিকে চলে গেছিল ?
আজ আলোছায়া মাখা শুনশান পাকদণ্ডীতে শরণ্যা একা।
ভাসমান মেঘে মাঝে মাঝেই ঢেকে যাচ্ছিল শরণ্যা। বুকটা ভার হয়ে গেছে। কী করছে এখন বাবা মা? শরণ্যাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে খুব মনখারাপ? নিশ্চয়ই এতক্ষণে অফিস থেকে ফিরে এসেছে দু’জনে, তারপর টিভি চালিয়ে বসে আছে চুপটি করে। এই মুহূর্তে তারাও হয়তো তাদের বুবলির কথাই ভাবছে। ট্রেন ছাড়ার আগে মা সেদিন বলছিল ঠাম্মার নাকি জ্বর-জ্বর মতো হয়েছে। এখন কেমন আছে ঠাম্মা? পরশু ফোন করার সময় ঠাম্মার খবরটা নেওয়া হয়নি, খুব অন্যায় হয়ে গেছে। আজ হোটেলে ফিরেই আগে টেলিফোন করতে হবে।
অন্যমনস্ক ভাবনার মাঝে অশ্বারোহণ শেষ। নেমে এদিক ওদিক তাকাল শরণ্যা, অনিন্দ্যকে দেখতে পেল না। আশপাশের বেঞ্চিতে নেই, ম্যালেও হাঁটছে না… আশ্চর্য, গেল কোথায়? বোতল কিনতে ঢুকেছে? কী ছেলে! শরণা আসা পর্যন্ত তর সইল না?
পাহাড়ি ছেলেটাকে দাঁড় করিয়ে রেখে হনহনিয়ে শরণ্যা ম্যালের লাগোয়া ওয়াইন স্টোরে এল। কই, এখানেও তো নেই! কোথায় ঘাপটি মেরে বসে আছে? নাকি কিছু কেনাকাটা করতে গেল?
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বেশ খানিকক্ষণ ম্যালের মধ্যিখানটায় দাঁড়িয়ে রইল শরণ্যা। পাশে পাহাড়ি কিশোর। জুলজুল চোখে সে দেখছে শরণ্যাকে। কী করবে শরণ্যা ভেবে পাচ্ছিল না। ইস, কেন যে বুদ্ধি করে ভ্যানিটিব্যাগ সঙ্গে নেয়নি!
ছেলেটাই যেচে বলল, —কুচ্ছু ভাববেন না বিবিজি। হোটেলের নাম বাতলে দিন, আমি রুপিয়া নিয়ে আসব।
ঝাঁ ঝাঁ বিরক্তি নিয়ে হোটেল ফিরেই শরণ্যা হাঁ। রুমে চলে এসেছে অনিন্দ্য। টেবিলে গ্লাস বোতল সাজাচ্ছে।
শরণ্যা ফেটে পড়তে গিয়েও সামলে নিল। গুমগুমে গলায় বলল, —তুমি আমায় ফেলে চলে এলে?
অনিন্দ্যর বিকার নেই। গ্লাসে সোডা ঢালতে ঢালতে বলল, —কী করব, ভীষণ ঠান্ডা লাগছিল যে।
—তা বলে… তুমি… আমায়! শরণ্যার কথা আটকে গেল।
—মাফলার নিতে এসেছিলাম, তারপর আর যেতে ইচ্ছে করল না। অনিন্দ্য হাসল, —রাগ করছ কেন ডার্লিং। তুমি তো ফিরেই এসেছ।
শরণ্যার চোখে পলক পড়ছিল না। এ কেমন ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হল ? অনিন্দ্য কি হৃদয়হীন? নাকি উদাসীন?
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন