পাঁচ

সুচিত্রা ভট্টাচার্য

পার্থসারথি বললেন, —কাজের নেচারটা বুঝতে পারছ তো? খুব সহজ নয়। খাটতে হবে।

শরণ্যা মাথা নাড়ল, —হ্যাঁ, স্যার। এতগুলো সেন্‌সাস রিপোর্ট স্টাডি করা। বেছে বেছে একটা বিশেষ ইনকাম গ্রুপের মধ্যে মেয়েদের এডুকেশান কতটা ছড়িয়েছে তা শর্ট আউট করা… তাও শুধু ওয়েস্ট বেঙ্গল বা ইন্ডিয়ার নয়, সব কটা সার্ক কান্ট্রির… এ তো স্যার হিমালয়ান টাস্ক।

—উঁহু, আরও আছে। প্রোজেক্টের উদ্দেশ্যটা ভুলো না। ফিমেল লিটারেসি কী ভাবে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থাকে প্রভাবিত করছে তা স্টাডি করাই আমাদের গোল। কাজটা কিন্তু খুব ইন্টারেস্টিং। করবে?

শরণ্যা সামান্য চিন্তায় পড়ে গেল। সে আজ স্যারের কাছে এসেছিল গবেষণার বিষয় ঠিক করতে। ভেবেছিল এখনও রেজিস্ট্রেশান হয়নি বটে, কিন্তু অল্প অল্প করে কাজ তো শুরু করে দেওয়াই যায়। কিন্তু স্যার আজ রিসার্চের টপিক নিয়ে মোটেই আগ্রহী নন। চেতনা নামের এক সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে পার্থসারথির, বলা যেতে পারে বকলমে তিনিই চেতনার কর্ণধার। চেতনা বেশ কয়েকটা প্রকল্প তৈরি করে পাঠিয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়, সম্প্রতি তার মধ্যে একটি ইউনেস্কোর অনুমোদন পেয়েছে। পার্থসারথির ইচ্ছে তাঁর কৃতী ছাত্রী শরণ্যা এই প্রোজেক্টে যোগ দিক। বিনা পয়সায় খাটাবেন না, মাসে হাজার ছয়েক করে দেবেন। প্রস্তাবটা লোভনীয় সন্দেহ নেই, কিন্তু টাকা নিলে খানিকটা বাধ্যবাধকতাও এসে যাবে না? চাকরি করার মতো?

একটু ইতস্তত করে শরণ্যা বলল, —কিন্তু স্যার …রিসার্চের কাজটাও শুরু করব ভেবেছিলাম…

পার্থসারথি কাঁধ ঝাঁকালেন, —রিসার্চের সঙ্গে প্রোজেক্টের তো কোনও বিরোধ নেই। দুটোই পাশাপাশি চলতে পারে। ইনফ্যাক্ট, দিস উইল হেলপ ইউ ইন রিসার্চ। প্রথমত, তুমি এই কাজটা করতে গিয়ে প্রচুর মেটিরিয়াল পাবে যা থেকে তোমার বেশ কয়েকটা পেপার হয়ে যাবে। সেকেন্ডলি, প্রোজেক্টেরই কোনও একটা এরিয়াকে ডিটেলে হাইলাইট করে ইউ ক্যান গো ফর ইয়োর থিসিস। আমি তো সেই লাইনেই ভেবেছি। আগে কয়েকটা পেপার পাবলিশড হয়ে থাকলে তোমার থিসিসও স্পেশাল ওয়েটেজ পাবে।

—হুঁ, তা অবশ্য ঠিক। শরণ্যা স্বীকার করতে বাধ্য হল, —প্রোজেক্টটা কতদিন চলবে স্যার?

—সে কি এক্ষুনি বলা যায়? আপাতত এইট্রিন মান্থসের একটা ডেটলাইন দেওয়া আছে। তবে প্রোজেক্ট যদি সুষ্ঠু ভাবে এগোয়, টাইম মে বি এক্সটেন্ডেড। আপাতত আমি দু’জন প্রোজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়ে কাজ শুরু করব। পরে রেট অফ প্রোগ্রেস দেখে নাম্বারটা বাড়াতেও পারি। তবে মনে রেখো, কাজটা কিন্তু শুধু বই ঘেঁটেঘেঁটে হবে না। উই নিড সাম ফার্স্টহ্যান্ড ইনফরমেশান। তৃতীয় বিশ্বের স্যাম্পল সিটি হিসেবে কলকাতা খুব আইডিয়াল। এখানকার কারেন্ট ডাটা প্রোজেক্টটাকে এনরিচ করবে।

—বাড়ি বাড়ি ঘুরে ডাটা কালেকশান করতে হবে স্যার?

—পারলে তো খুবই ভাল। …অন্য আর কী ভাবে ডাটা জোগাড় হবে তা তোমরা নিজেরাও ডিসাইড করে নিতে পারো।

শরণ্যা স্যারের কথার অর্থ ঠিক ধরতে পারল না। স্যার নিশ্চয়ই ডাটা ম্যানুফ্যাকচার করার কথা বলছেন না? প্রফেসার পার্থসারথি বসু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উজ্জ্বল অধ্যাপক। শরণ্যাদের ম্যাক্রো ইকনমিকসের ক্লাস নিতেন তিনি। দারুণ ফান্ডা, পড়াতেনও চমৎকার। রিসার্চ গাইড হিসেবেও পার্থসারথির যথেষ্ট খ্যাতি আছে, প্রায় বছরেই তাঁর হাত থেকে একটা-দুটো পি এইচ ডি বেরোয়। অর্থাৎ শরণ্যাদের ভাষায় হাইলি ফারটাইল। তবে ছাত্রছাত্রী মহলে একটা চাপা গুঞ্জনও আছে পার্থসারথিকে নিয়ে। দুধে জল মিশিয়ে যেমন করে হোক গবেষণার কাজ শেষ করিয়ে দেন রিসার্চ স্কলারদের। ছাত্রছাত্রীরা অবশ্য এ নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করে না। দেশে বিদেশে পার্থসারথির দারুণ কানেকশানও আছে যে।

ইঙ্গিতটা স্পষ্ট বুঝে নিতে চাইল শরণ্যা। জিজ্ঞেস করল, —মানে?

—কাজ চলতে চলতে বুঝে যাবে। পার্থসারথিও খেলোয়াড় লোক, ঝেড়ে কাশছেন না। বছর পঞ্চান্নর খুদে চেহারার মানুষটি চশমা খুলে কাচ মুছছেন। ফের চশমা পরে নিয়ে মুচকি হাসলেন, —আরে, প্রোজেক্টটা তো তুমি একা করছ না। আওয়ার টিম উইল রান ইট। তোমার সঙ্গে আর একজন তো থাকছেই। সে খুবই চালাক চতুর।

—কে স্যার? শরণ্যা কৌতূহলী হল, —আমাদের ব্যাচের কেউ?

—তোমাদের আগের ব্যাচ। শুভ্র। চেনো নিশ্চয়ই?

শরণ্যা সামান্য হোঁচট খেয়ে গেল। শুভ্রকে সে ভাল মতোই চেনে। মহা ফক্কড় ছেলে। কারণে অকারণে মেয়েদের টিপ্পনী কাটত। শর্মিষ্ঠার নাম দিয়েছিল বিষ্ঠা, এমন অসভ্য। দেবলীনাকে লাইন করার চেষ্টা করেছিল খুব, ভালমানুষের মতো মুখটি করে ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাসে এসে বসে থাকত প্রায়ই। প্রেমটা অবশ্য পাকাতে পারেনি, এম-এ পড়তে পড়তেই দেবলীনা ঝুলে গেল এক আই-পি-এসের গলায়। তারপরও খুচখাচ ছক চালাত এদিক ওদিক। ওই লক্কড়টায় সঙ্গে কাজ করা কি শরণ্যার পোষাবে? লেখাপড়ায় অবশ্য ভালই ছিল ছেলেটা, মাত্র কয়েক নম্বরের জন্য মিস্ করেছিল ফার্স্ট ক্লাস।

পার্থসারথি ভুরু কুঁচকোলেন, —এত কী ভাবছ? তোমার কি অন্য কোনও প্রবলেম আছে? আই মিন… শ্বশুরবাড়ি…?

—না না, সে রকম কিছু নেই স্যার। শরণ্যা তাড়াতাড়ি বলে উঠল, —ওঁরা খুবই ওপেন মাইন্ডেড। ইনফ্যাক্ট, ওঁরাই বলছেন এখনও আমি কাজকর্ম শুরু করছি না কেন!

—তবে আর কী, জয়েন করে যাও। কাল…। না, কাল তো হবে না, কাল আমার একটা পি-এইচ-ডি-র সেমিনার আছে। পরশুও বিজি থাকব। তুমি বরং সোমবার চলে এসো চেতনার অফিসে। বাই দা বাই, চেনো তো অফিসটা? মনোহরপুকুরে। দেশপ্রিয় পার্কের পেছনে। বাইরে বোর্ড আছে।

—চিনে নেব স্যার। আমার শ্বশুরবাড়ির কাছেই তো।

—ওয়েল। সোমবারই তবে তোমায় গাইডলাইন দিয়ে দেব। শুভ্রও থাকবে, কথাও বলে নিতে পারবে দু’জনে। ফার্স্ট আওয়ারেই চলে এসো।

চোরা একটা উত্তেজনা নিয়ে পার্থসারথির ঘর থেকে বেরিয়ে এল শরণ্যা। করিডোর ধরে হাঁটছিল অলস পায়ে। ডিপার্টমেন্টের ক্যাম্পাসটা এখনও একই রকম আছে। এখানে ওখানে জটলা, কলরব, হিহি হাসি, হাহা হাসি। পিন পড়লে শোনা যায় এমন ক্লাসে গমগমে স্বরে পড়াচ্ছেন ডি এন, ক্লাসরুমটা পেরিয়ে চলে আসার পরও শোনা যাচ্ছে স্যারের গলা। ওপাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটায় ফুল এসেছে, নিষ্পত্র ডালপালা যেন সেজেছে লাল গয়নায়। শেষ ফাল্গুনে হাওয়া বইছে এলোমেলো। সব মিলিয়ে যেন একটা মন কেমন করা অনুভূতি ছড়িয়ে যাচ্ছিল শরণ্যার বুকে। একেই কি নস্টালজিয়া বলে?

বেশ গরম পড়েছে আজ। দুটো বাজে, মধ্যাহ্নের সূর্য যেন ঝলসে দিচ্ছে চামড়া। রঙিন ছাতাখানা মাথায় ধরে সিঁথির বাস স্টপটায় এসে দাঁড়াল শরণ্যা! গড়িয়াহাট যেতে পাক্কা সওয়া ঘন্টা লাগবে বাসে, একটা ট্যাক্সি করে নিলে কেমন হয়? অনিন্দ্য শ দুয়েক টাকা দিয়ে গেছে, উড়িয়ে দেবে? অনিন্দ্যর টাকাও তো নিজেরই টাকা ভাবা উচিত, তবু যে কেন বাধো বাধো ঠেকে? মাকে কখনও বাবার কাছে হাত পাততে দেখেনি বলেই কি? ছ’ হাজার টাকাটা কম নয়, হাত খরচ চালিয়েও দিব্যি কিছু সঞ্চয় করা যাবে। পছন্দসই কেনাকাটার জন্য অনিন্দ্যর কাছে বায়না জুড়তে হবে না।

দুপুরের বাসে ভিড় নেই তেমন। উঠেই শরণ্যা বসার জায়গা পেয়ে গেল। টিকিট কাটতে গিয়ে থমকাল একটু। ফার্ন রোড ফিরে কী হবে এখন? দুপুরবেলা ওই বাড়িটা তো ভূতের বাড়ি হয়ে থাকে। নির্জন। নিঝুম। শাশুড়ি তো থাকেনই না, শ্বশুরমশাই থেকেও নেই, নীলাচল আড্ডা মারতে বেরিয়ে যায়, কিংবা ঘুমোয় ভোঁস ভোঁস। আর সুনন্দ আছে কি নেই বোঝে কার সাধ্যি! থাকলেই বা কী, সে কি শরণ্যার সঙ্গে গল্প করবে? শরণ্যা বেশ কয়েক বার গায়ে পড়ে কথা বলার চেষ্টা করে দেখেছে, সেভাবে আমলই দেয় না সুনন্দ। এমন একটা বাড়িতে দুপুরবেলাটা যে কী অসহ্য! মনে হয় বিশাল দোতলাটা যেন গিলে খেতে আসছে। একা একা হেঁটেচলে বেড়াতেও কেমন গা ছমছম করে। তখন হয় একটু টিভি চালাও, নয় শুয়ে শুয়ে বই পড়ো, কিংবা একে তাকে ফোন করে জ্বালাও। এর জন্য এখন তেতেপুড়ে ফার্ন রোড ছুটবে শরণ্যা? মানিকতলায় নেমে পড়লেই তো হয়। মা-বাবা নেই, ঠাম্মা তো আছে।

অন্নপূর্ণা শুয়েছিলেন। দরজা খুলে নাতনিকে দেখে থতমত, —ওমা, তুই? হঠাৎ? এখন? শরণ্যা তরল গলায় বলল, —কেন, আসতে নেই?

—না, তা নয়… কিন্তু… ফোন-টোন করলি না, দুম করে ভরদুপুরে…?

হায় রে, কী অবস্থা তৈরি করেছে অনিন্দ্য! ও বাড়ির সবাই কাঁটা হয়ে থাকে এখন। বাপেরবাড়িতে শরণ্যার রাত্রিবাস তো ঘুচেই গেছে, দিনেরবেলা এলেও এখন আগে থেকে জানিয়ে আসতে হয়। বাবা-মা মুখে বলে, ফোন করে এলে আমরা কেউ-না-কেউ বাড়িতে থেকে যেতে পারি। কিন্তু সেটাই কি আসল কারণ? শরণ্যা কি ঘাসে মুখ দিয়ে চলে?

জোর করে হাসল শরণ্যা, —বেশ করেছি এসেছি। ইচ্ছে হয়েছে এসেছি। ঝটপট কিছু খেতে দাও তো, পেট জ্বলে যাচ্ছে।

—সেকী? এত বেলায় এলি… খেয়ে বেরোসনি?

—উঁহু।

—কেন রে? ঝগড়া করে চলে আসিসনি তো?

—কার সঙ্গে ঝগড়া করব? বরের সঙ্গে? শরণ্যা এবার সত্যি সত্যি হেসে ফেলল। ঠাম্মার গলা জড়িয়ে ধরে বলল, —না রে বাবা, না। এত নার্ভাস হচ্ছ কেন? গিয়েছিলাম ইউনিভার্সিটিতে। স্যারের সঙ্গে দেখা করতে। খিদে ছিল না বলে ভাত খাইনি। আমার শ্বশুরবাড়িতে যা হেভি ব্রেকফাস্ট হয়।

—তাই বল। এতক্ষণে অন্নপূর্ণার মুখে অনাবিল হাসি, —তা বড়লোকদের বাড়ি কী জলখাবার হয় রে?

—জলখাবার নয় ঠাম্মা, বলো ব্রেকফাস্ট। আজ হ্যামস্যান্ডুইচ তো কাল চিকেন স্যান্ডুইচ। বাটারটোস্ট হলে সঙ্গে পোচ ওমলেট কিংবা সসেজ কিংবা সালামি। টিনফিশও থাকে মাঝে মাঝে। আর ফ্রুটস তো আছেই। কলা আপেল ব্যাগারা ব্যাগারা।

—ওমা, এ তো একেবারে সাহেববাড়ির খানা রে।

সোফায় শরীর ছেড়ে দিয়েছে শরণ্যা। কাঁধের দোপাট্টা ছুড়ে দিল টেবিলে। পা দোলাতে দোলাতে বলল, —ব্রেকফাস্টটাই যা সাহেবি। লান্‌চ ডিনার পাতি ইন্ডিয়ান।

—মানে?

—দুপুরবেলা ভাত, সঙ্গে ট্যালটেলে ডাল, জল একদিকে গড়ায়, ডাল একদিকে প্যাটপ্যাট তাকিয়ে থাকে, একটা ঘ্যাঁট মতো তরকারি, আর পাতলা পাতলা কাটাপোনার ঝোল। রাত্তিরে ঘাসের মতো ব্রয়লার মুরগি, আর সীতাদির বিকেলে সেঁকে দিয়ে যাওয়া রুটি। বিশ্বাস করবে না, চার মাসে এক দিনের জন্যও ওই মেনুর বদল হয়নি। নট্ ইভন্ ইন ছুটির দিন।

—বলিস কী? রোজ এক খাবার খাওয়া যায় নাকি?

—খায় তো দেখি সব। মুখ বুজেই খায়। কারুর তো কোনও হিল্‌দোল দেখি না। সীতাদির রান্নাও যে কী যাচ্ছেতাই তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। মুখে তুলে থু থু করে ফেলে দেবে।

—আহা রে। বলিসনি তো আগে?

—বলিনি। রোজই ভাবতাম কাল বোধহয় মেনু বদলাবে।

—তোর তো তা হলে খুব কষ্ট হয়!

—চলতা হ্যায়। শরণ্যা হাত উলটাল,—এটাও পার্ট অফ লাইফ ঠাম্মা।

অন্নপূর্ণা তবু যেন সান্ত্বনা পেলেন না। ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খুব। মোটাসোটা দেহটা নিয়ে আজকাল হাঁটাচলা করতে বেশ কষ্ট হয়, তবু নাতনির খাওয়ার আয়োজন করতে থপথপ ছুটে বেড়াচ্ছেন এদিক ওদিক। একবার রান্নাঘরে ঢুকছেন, একবার ফ্রিজ খুলছেন। শরণ্যাকে জিজ্ঞেস করলেন, —অ্যাই বুবলি, ভাত দিই একটু?

—আছে ?

—গরম করতে হবে।

—সঙ্গে কী দেবে?

অন্নপূর্ণা অপ্রস্তুত মুখে তাকালেন, —ভাত ডাল তরকারি মাছের ঝোল…

—কী মাছ?

অন্নপূর্ণা যেন আরও সংকুচিত, —আজ অন্য মাছ নেই রে। কাটা পোনা।

শরণ্যার পেট গুলিয়ে হাসি উঠে এল। হাসির দমকে ফুলে ফুলে উঠছে। একেই কি বলে টকের ভয়ে পালিয়ে এলাম, তেঁতুলতলায় বাস?

অন্নপূর্ণা ম্রিয়মাণ মুখে বললেন, —তুই যদি সকালেও একটা ফোন করে দিতিস…! অন্য কিছু বানিয়ে দেব? ডিমে ডুবিয়ে ডুবিয়ে পাঁউরুটি… তুই তো খেতে ভালবাসিস।

—কিছু লাগবে না। জো হ্যায় ওহি চলেগা। শরণ্যা টুসকি বাজাল, —তুমি সরে এসো, আমি ভাত গরম করে নিচ্ছি।

শরণ্যার সম্মতিটুকু পেয়ে অন্নপূর্ণার জোশ বেড়েছে যেন। কর্তৃত্বের সুরে বললেন, —বোস তো। এখনও আমি অত অথর্ব হইনি। খেতেটেতে দিতে পারি। ততক্ষণ তুই বরং নবু আর বউমার সঙ্গে ফোনে কথা বলে নে। এখানে এসে খাওয়াদাওয়া করছিস শুনলে ওরা খুব খুশি হবে।

—ধুস্‌, কী হবে ফোন করে ? তুমিই বলে দিয়ো৷ বোলো ইউনিভার্সিটি থেকে ফেরার পথে…

—যদি তাও গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসে?

—তা হলে বোলো লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার কাছে এসেছিলাম। তোমার আদর খেতে।

অন্নপূর্ণা পুলকে গলে গেলেন। দুলে দুলে চলে গেলেন রান্নাঘরে। একটার পর একটা বাটি গরম করে এনে রাখছেন টেবিলে। থালা সাজাচ্ছেন, গ্লাস বসালেন, জল ভরলেন গ্লাসে।

শরণ্যা একদৃষ্টে ঠাম্মাকে দেখছিল। বুকটা চিনচিন করছে হঠাৎ। ছোট্ট বুবলি স্কুল থেকে ফিরলে এ ভাবেই খাবার সাজিয়ে দিত ঠাম্মা। কী অপরূপ এক আলোয় ভরে থাকত ঠাম্মার মুখ। আলো? না মায়া? আলোটা আছে এখনও, শুধু বুবলিটাই হারিয়ে গেল।

তুৎ, কী হবে মিছিমিছি মন ভার করে? মানুষ কি চিরকাল এক জায়গায় স্থির থাকে? বিয়ের মতো কিছু একটা হলে বদল তো ঘটবেই।

খাবার টেবিলে এসে শরণ্যা হাঁ। একটা কোথায়, তিন তিনটে সবজি! সর্ষে পটল, আলু ভেণ্ডি, পুঁই কুমড়ো বেগুনের চচ্চড়ি।

টাগ্রায় একটা শব্দ করে শরণ্যা বলল, —এত?

—আহা, কী এমন আছে! খা তো।

শরণ্যা আর কথা বাড়াল না। হড়াস করে ডাল ঢালল পাতে, খাচ্ছে হাপুস হাপুস। সত্যি জব্বর খিদে পেয়েছিল।

নাতনিকে নিয়ে অন্নপূর্ণার ভাবনা এখনও যায়নি। পাশের চেয়ারটিতে বসে প্রশ্ন জুড়লেন, —হ্যাঁ রে বুবলি, এই যে তোদের রোজ একঘেয়ে রান্না হয়, তোর শাশুড়ি তাতে কিছু বলে না? সে তো একটু দেখতে টেখতে পারে।

আলগোছে এক ঢোক জল খেয়ে শরণ্যা বলল, —শাশুড়ির সময় কোথায়? তিনি কত ব্যস্ত মানুষ। এখন তো আবার একটা বৃদ্ধাশ্রম গড়া নিয়ে ছোটাছুটি করছেন।

—তা করুক না। দেশের দশের কাজ করছে, পুণ্যি হচ্ছে। তাই বলে মেয়েমানুষের কি ঘরসংসার অবহেলা করলে চলে? শত কাজের মধ্যেও ফুরসত করে নিতে হয়।

—ওঁর পক্ষে সম্ভব নয় ঠাম্মা। ওঁর যে কত কাজ। তা ছাড়া উনি একেবারে অন্য রকম। ওঁর স্ফিয়ারটাই আলাদা। সংসারটংসার নিয়ে উনি কোনও কালেই মাথা ঘামাননি। এখন নীলাচলের হাতে লাগাম, আগে হয়তো কোনও জগন্নাথের হাতে ছিল। ওদের পরিবারটাই ভৃত্যতান্ত্রিক ঠাম্মা।

—কী জানি বাপু, বাইরের কাজ করলে কি সংসার দেখা যায় না? তোর মাকে তো দেখিস, কী ভাবে হাঁচোর পাঁচোর করে ফিরে আসে অফিস থেকে। ওরে, মেয়েমানুষ বেশি বারমুখো হলে সংসার ভেসে যায়, বাড়ির লোকদের পাতে রোজ কাটাপোনাই জোটে।

ঠাম্মার কথাটা পুরোপুরি মানতে পারল না শরণ্যা। মেয়েদেরই সংসার দেখতে হবে, না দেখলে সংসার উচ্ছন্নে গেল, আদ্যিকালের এই সংস্কারটা এখনও কেন মেনে চলতে হবে? ছেলেরা সংসারের দেখভাল করলেই বা কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়?

নিবেদিতার ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাপারটা একটু আলাদা। তাঁর একটু গৃহিণীপনা থাকলে বোধহয় ভালই হত। অনিন্দ্যর মনে তা হলে হয়তো এত ক্ষোভ জমত না। সুনন্দও যে এত উড়ু উড়ু, বাড়ির কারুর ওপর সুনন্দর কণামাত্র টান নেই, এর মূলেও হয়তো ওই নিবেদিতাই। দায়িত্ব পালন করতে না পারা আর দায়িত্ব ত্যাগ করা কি একই জিনিস? তবে হ্যাঁ, মহৎ কাজে যাঁরা নিজেদের উৎসর্গ করেন, তাঁদের বোধহয় এটুকু ছাড় পাওয়াই উচিত। সবাই তো আর দেবেন ঠাকুর নন যে, ঈশ্বর আর জমিদারি একই দক্ষতায় সামলাবেন!

মুখে আর কিছু বলল না শরণ্যা। খেয়ে উঠে নিজের বিছানায় গিয়ে শুয়েছে একটু। ঘরটা এখনও একই রকম আছে। সিঙ্গলবেড খাট, ছোট আলমারি, চেয়ার টেবিল, স্টিলের বুকর‍্যাক, টেবিলল্যাম্প, কিছুই স্থানচ্যুত হয়নি। কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে আমজাদ আলির প্রোগ্রাম শুনতে গিয়েছিল রবীন্দ্রসদনে। সঙ্গতে ছিলেন জাকির হুসেন, সরোদ তবলার যুগলবন্দিতে মোহিত হয়ে গিয়েছিল শরণ্যা। পরদিনই খুঁজে খুঁজে দু’জনের পোস্টার কিনে এনেছিল। এখনও ধ্যানমগ্ন আমজাদ আর উচ্ছল জাকির হুসেন সাঁটা আছেন দেওয়ালে। বিছানাতেও এখনও সেই বুবলি বুবলি গন্ধ। তবু যে আজকাল ঘরটাকে কেন অচেনা অচেনা লাগে! সত্যি, মেয়েদের জীবন এক ধাক্কায় কোত্থেকে যে কোথায় চলে যায়!

অন্নপূর্ণা গুটিগুটি পায়ে ঢুকেছেন ঘরে, হাতে ভাজা মৌরির কৌটো। নাতনির হাতে মৌরি ঢালতে ঢালতে বললেন, —তা শাশুড়ি নয় কাজের লোক, তুই কী করিস?

শরণ্যা হেসে ফেলল। ঠাম্মা আজ একা পেয়েছে তাকে, কৌতূহলে পেট ফুলছে। এখন পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বুবলির শ্বশুরবাড়ির সব কথা টেনে বের করবে!

হাসতে হাসতে শরণ্যা বলল,—কী করার কথা বলছ?

—শাশুড়ি যখন দেখেই না, সংসারটাকে তুই তো কন্ট্রোলে নিয়ে নিতে পারিস। টিভি দেখে দেখে তো কী সব রান্না শিখেছিলি, সেগুলো কর। দেখবি দু’দিনে শ্বশুরবাড়িতে তোর নাম ফেটে পড়বে।

—ওটি হওয়ার জো নেই ঠাম্মা। বললাম যে, ভৃত্যতান্ত্রিক পরিবার। জোর করে দু’দিন রান্নাঘরে ঢুকেছিলাম, ওমনি দেখি নীলাচলের মুখ ভোলো হাঁড়ি।

—বুঝেছি। সে যা পাচ্ছে লুটেপুটে নিচ্ছে।

—উপায় নেই। মেনে নিতেই হবে। অনিন্দ্যও চায় না আমি রান্নাঘরে গিয়ে হাত পোড়াই।

অন্নপূর্ণা চুপ মেরে গেলেন। বুঝি নাতজামাইয়ের নাম শুনেই সন্ত্রস্ত। তারপর ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে বললেন,—তা হলে তোকে সারাজীবন কাটাপোনা আর ব্রয়লার খেয়েই কাটাতে হবে? এ তো দেখি বালবিধবারও বাড়া দশা রে!

বিচিত্র উপমায় হি হি হাসছে শরণ্যা। কৌটো থেকে এক খাবলা মৌরি তুলে নিয়ে বলল, না গো বাবা, না। অলটারনেট ব্যবস্থা আছে।

—কী রকম? কী রকম?

—সে এক বিটকেল সিস্টেম। যার যা খেতে ইচ্ছে করবে, কিনে এনে টেবিলে বসে যাও। কেউ কাউকে অফারও করবে না, কেউ কারুর প্লেটের দিকে তাকাবেও না। হাসিও পায়, বিচ্ছিরিও লাগে। এই তো কবে যেন …শ্বশুরমশাই মুড়ি-সিঙাড়া খাচ্ছেন, ছোটছেলে বিরিয়ানির প্লেট নিয়ে পাশে বসে গেল, তার পরেই মোমো হাতে শাশুড়ি। কেউ কারুর প্লেটের দিকেও টেরিয়েও দেখছিল না ৷

—ততাকেও কেউ দিল না একটু?

—বললাম যে, ও বাড়িতে অফার করার রেওয়াজ নেই। অনিন্দ্যও আনে। আমরা ঘরে বসে খাই।

—আশ্চর্য! এমন তো জম্মে শুনিনি!

—বেশি বনেদি বাড়িতে এ রকমই হয়। না চাইতেই শরণ্যার গলায় শ্লেষ ফুটে গেল,—তোমরাই তো দেখেশুনে ও বাড়িতে দিয়েছ আমায়!

—তোর সুরটা যেন কেমন কেমন? তোর কি শ্বশুরবাড়ি ভাল লাগছে না?

—তা তো বলিনি। বলছি, ও বাড়িতে সবাই যে যার মতো থাকে। আমিও আছি। আমার মতো করে।

অন্নপূর্ণা কেন যেন থমকে গেলেন। কপাল কুঁচকে ভাবছেন কিছু।

শরণ্যা বলল,—কী হল? কোয়েশ্চেনিয়ার শেষ?

অন্নপূর্ণা ফোঁস করে আর একটা শ্বাস ফেললেন,—তোর বাবা-মা ঠিকই বলে। অত বড়লোকের ঘরে বিয়ে দেওয়াটা বোধহয় ঠিক হয়নি।

—ওফ ঠাম্মা, আমি আগেও বলেছি ওরা আর তেমন বড়লোক নেই। এখন আর তালপুকুরে ঘটি ডোবে না। যা ছিল, সবই তো শাশুড়ির বাবার সম্পত্তি। সেই কলসি থেকে গড়িয়েই এখনও ঠাটবাট বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

—কেন, তোর শ্বশুরের কিছু নেই?

—কী থাকবে, তিনি তো নেহাতই চাকরিবাকরি করা মানুষ। মাইনেটাইনে ভালই পেতেন, পেনশানটাও মনে হয় মন্দ পান না। রিটায়ারমেন্টের সময়ে হয়তো কিছু টাকাও পেয়ে থাকতে পারেন। সে আর কত বলো?

—হুম। অন্নপূর্ণা ঝুপ করে প্রসঙ্গ পালটে ফেললেন,—তা তোর শ্বশুরমশাই এখন তোর সঙ্গে কথাটথা বলে? নাকি সারাক্ষণ বই মুখে করেই বসে থাকে?

—তিনি তো কারুর সঙ্গেই কথা বলেন না ঠাম্মা। তাঁর পৃথিবীটাই তো আলাদা। শরণ্যা সামান্য উদাস যেন,—তবে হ্যাঁ, উনি যেন ইচ্ছে করেই একটা খোলসে ঢুকে থাকেন। আমি অবশ্য আজকাল টুকটাক ওঁর ঘরে ঢুকে যাই। টেবিলফেবিল গুছিয়ে দিই, বইপত্র সাজিয়ে রাখি…বেশ খুশিই হন মনে হয়। একবার উসকে দিলে কথাও বলেন বেশ। ক’দিন আগেই তো ইতিহাস নিয়ে ওঁর সঙ্গে অনেকক্ষণ আলোচনা হল।

—তাই নাকি? বাহ্, ভাল ভাল। শ্বশুরের একটু সেবাযত্ন কর। এ ভাবেই দেখবি শ্বশুরবাড়ির লোকরা সব তোর আপন হয়ে গেছে।

—আবার ওই কথা? বললাম যে, আমার শ্বশুরবাড়িতে কেউ কাউকে আপন করতে চায় না! স্বামী-স্ত্রী, ছেলে, বাবা-মা সবাই যে যার মতো মুক্ত। স্বাধীন। কেউ কারুর হাওয়াটি পর্যন্ত গায়ে লাগতে দেয় না। আমার শ্বশুরমশাই আর শাশুড়িতে মাসে একটা কথা হয় কিনা সন্দেহ। খাবারটেবিলে ছেলে নুনের জায়গা এগিয়ে দিলে মা বলে থ্যাংকস। ওরা খুব এটিকেটদুরস্ত ঠাম্মা। বড্ড বেশি ফরমাল।

অন্নপূর্ণা কী বুঝলেন কে জানে, ঠোঁট উলটে বললেন—যাক গে যাক, যে যেমনই হোক, ও বাড়িতে আসল জায়গা তো তোর বর। সে তো বাবা তোকে চোখে হারায়!

এবার আর কথার পিঠে কথা নেই শরণ্যার। চুপ করে আছে। অনিন্দ্য কি সত্যিই তাকে চোখে হারায়? নাকি অক্টোপাশের মতো আঁকড়ে থাকে? এক এক সময়ে বড় চাপের মতো মনে হয় বেষ্টনটাকে। অনিন্দ্য ছাড়া সন্ধেবেলা এক পা বেরোনো যাবে না, অনিন্দ্য ঘরে থাকলে বাবা-মার সঙ্গে বেশিক্ষণ টেলিফোন কথা বলাও চলবে না, অনিন্দ্য ছাড়া শরণ্যার একটাও বন্ধু থাকবে না, এগুলো কি একটু বাড়াবাড়ি নয়? শরণ্যা যে এক রাত্তিরের জন্যও এখানে এসে থাকতে পারে না, এও তো এক ধরনের আগ্রাসন।

অবশ্য এত রকম গোঁয়ারতুমি, অবুঝপনা সত্ত্বেও অনিন্দ্যকে বেশ ভালই বেসে ফেলেছে শরণ্যা। ভালবাসা বলবে, নাকি সহানুভূতি? অনিন্দ্যর মধ্যে এখনও একটা শিশু যেন ঘাপটি মেরে আছে, শিশুটা ভীষণ ভাবে ভালবাসার কাঙাল। ছোটবেলায় বাবা-মার কাছ থেকে তেমন আদরযত্ন পায়নি অনিন্দ্য, তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের জগতে, হয়তো বা সেই জন্যেই। বাবার চেয়েও মার ওপর অনিন্দ্যর রাগটা বেশি। ক্রোধের মুহূর্তে মাতৃস্নেহ না পাওয়ার আর্তিটাই যেন অনিন্দ্যর চোখে ঝলসে ওঠে।

নিবেদিতা একটু সময় করে সঙ্গটুকু তো দিতে পারতেন ছেলেদের।

অন্নপূর্ণা ঠেলছেন নাতনিকে, —কী রে, বরের নাম শুনে বাক্যি হরে গেল যে? লজ্জা পেলি নাকি? নাতজামাই তোকে চোখে হারায় না? বল?

—সে আর বলতে। শরণ্যা আলগা হাসল,—চোখে হারানোর বহরটা তো টের পাচ্ছ!

—আহা, বিয়ের পর পর বউকে ছেড়ে থাকতে হলে অনেক বরই অমন খ্যাপামি করে। অন্নপূর্ণা সহসা অনিন্দ্যর দলে,—তোর ঠাকুরদা কী কাণ্ডটা করত জানিস? আমি বাপেরবাড়ি গেলেই সেখানে গিয়ে হত্যে দিয়ে বসে থাকত। সন্ধে গড়িয়ে যায়, রাত্তির হয়ে যায়, নড়ার নামটি নেই। শেষমেশ বাবা বলতে বাধ্য হত, বাবাজীবন, তুমি রাতটুকু তবে এখানেই থেকে যাও।

—তা হলে আর কী। তোমার নাতজামাই তোমার বরের মতোই হয়েছে।

—আমি তো তোর বাবা-মাকেও তাই বলি। ওরা যে কেন মিছিমিছি এত টেনশান করে!

—হুম্।

—অনিন্দ্যকে একদিন জোর করে এখানে ধরে নিয়ে আয়। আমি জানি তুই ওকে খুব গঞ্জনা দিয়েছিস। বেচারা আর লজ্জায় এখানে আসতে পারে না। অন্নপূর্ণা চোখ টিপলেন, —এবার এলেই আগে ওর রাতে থাকার বন্দোবস্ত করে দেব।

—আহা, রসে মরে যাই।

আরও খানিকক্ষণ এতালবেতাল কথা বলে উঠে পড়ল শরণ্যা। সাড়ে চারটে বাজে, বাসেট্রামে ভিড় হতে শুরু করেছে, এরপর ট্যাক্সি পেতেও অসুবিধে হবে। অনিন্দ্যর ফেরার টাইম ছ’টা থেকে সাড়ে ছ’টা, বাড়ি এসে শরণার মুখ দেখলে মেজাজ টং হয়ে যাবে বাবুর।

পি-এস-বি’র প্রোজেক্টে কাজ করার খবরটা শুনে কী প্রতিক্রিয়া হবে অনিন্দ্যর? ছ’ হাজার হাতে পাবে শুনলে চোখ কি গোল গোল হয়ে যাবে? শুভ্রর কথা বলা চলবে না। অনিন্দ্যর মনের গতিপ্রকৃতি সরল নয়, কী ভেবে বসে কে জানে!

অন্নপূর্ণা দরজা অবধি এসেছেন। শরণ্যার চিবুক ছুঁয়ে বললেন,—ভাল থাকিস বুবলি।

শরণ্যা আবছা হাসল,—সেই চেষ্টাই তো করছি ঠাম্মা।

সহজ সুরেই কথাটা বলতে চেয়েছিল শরণ্যা। কেন যে তবু গলাটা কেঁপে গেল!

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%