বন্দি হিটলার

রোহণ কুদ্দুস

হিটলারের সঙ্গেই কিছু আগে পরে বন্দি হয়েছিলেন রম, ফ্রিক, পোনার। গ্যোরিং কিছু সতীর্থের সহায়তায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং গোপনে তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে। প্রথমে যন্ত্রণা কমানোর জন্যে ব্যবহার করলেও গ্যোরিং ক্রমশ মরফিনে আসক্ত হয়ে পড়েন। লুডেনডর্ফকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরাক্রমী এই জেনারেল গৃহবন্দি হন।

হিটলারকে বন্দি করে মিউনিখের চল্লিশ মাইল পশ্চিমে আল্পসের কোলে অবস্থিত ল্যান্ডস্‌বার্গ কারাগারে রাখা হয়। সাধারণত রাজনৈতিক বন্দিদের জন্যে নির্দিষ্ট এই জেলখানায় সপ্তায় ছ-ঘণ্টা আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মিলত। দিনে অন্তত পাঁচঘণ্টা ঘোরাঘুরি করা যেত নিজের ঘরের বাইরে। ছবি দিয়ে ঘর সাজানোর অনুমতিও ছিল। বন্দিরা চুরুট, সিগারেট, ওয়াইন বা বিয়ারও কিনতে পারতেন চাহিদামতো। সব মিলিয়ে, জেলখানার বদ্ধ কুঠুরি হিটলারের ভাগ্যে জোটেনি। তবুও হিটলার প্রথম প্রথম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনোরকম সহযোগিতা করতে চাইলেন না। কাঁধের আঘাতের জন্যে চিকিৎসা চলতে থাকল। কিন্তু সরকারপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কোনোরকম বার্তালাপে আগ্রহী নন। এমনকী অনশনও শুরু করলেন তিনি। দিন দশেক না খেয়ে থেকে স্বাস্থ্য আরও ভেঙে পড়ল। নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা না করেই হাজার হাজার সমর্থকদের সংকটে ফেলে শেষ পর্যন্ত বিপদের সময় পালিয়ে গিয়েও তিনি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। বরং তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা নাজি পার্টির বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় মানুষদের সামনে অভিযোগ করতে শুরু করলেন, জনগণের জন্যে পথে নেমে তিনি আজ কারাগারে বন্দি। যাই হোক, নানা কৌশলে সরকারি কৌঁসুলীরা শেষ পর্যন্ত রাজদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আদালতে আনতে সক্ষম হলেন।

1

অভিযুক্ত দশ- পারনেট, ওয়েবার, ফ্রিক, ক্রিবেল, লুডেনডর্ফ, হিটলার, ব্রুগনার, রম এবং ওয়েগনার। হেইনরিখ হফমানের তোলা ছবি।

দেশে-বিদেশে সমস্ত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাই হিটলারকে বাতিলের খাতায় ধরেছেন ততদিনে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন যে শেষ, এ নিয়ে কারও মনে বিন্দুমাত্র সংশয় ছিল না। রয়টার লিখল, এই তথাকথিত বিল্পব ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম হিসাবে বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাবে। নিউ ইয়র্ক টাইম্‌সের মতে, স্মরণাতীতকালে এই বিয়ার হল অভ্যুত্থান একটা উন্মাদোচিত প্রহসন। ইউরোপের নানা সংবাদপত্রও হিটলার এবং তাঁর সমর্থকদের উপহাস করে নানা রঙ্গ-রসিকতা দিয়ে পাতা ভরালেন।

১৯২৪-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি হিটলার-সহ দশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হল। হিটলারের সঙ্গেই অভিযুক্ত হয়েছেন লুডেনডর্ফ, পোনার, ফ্রিক, রম, কাম্ফবুন্ডের অধিনায়ক হারমান ক্রিবেল, ওবারল্যান্ডের নেতা ওয়েবার, এস এ-র কমান্ডার উইলহেল্‌ম্‌ ব্রুগনার, লুডেনডর্ফের সৎ ছেলে হেইনজ পারনেট এবং রবার্ট ওয়াগনার নামে মিলিটারি অ্যাকাডেমির এক ছাত্র। অভিযোগ শুধুমাত্র রাজদ্রোহের। প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট মানুষদের বন্দি করা, পুলিশ অফিসারদের বন্দি করা, ইহুদি নাগরিকদের নির্যাতন, সংবাদপত্র অফিসে আগুন লাগানো, চুরি, সর্বোপরি মিছিলে চার পুলিশকর্মী মৃত্যু— এগুলো পর্দার আড়ালেই থেকে গেল। মিউনিখের ফার্স্ট ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের উপচে পড়া ভিড়ে হিটলার তাঁর আয়রন ক্রস ফার্স্ট ক্লাস এবং সেকেন্ড ক্লাস পদক পরে স্বমহিমায় উপস্থিত। নাজি বাহিনী হিটলারকে জোর করে কোর্ট থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে এই ভয়ে সামরিক বাহিনীও তৈরি।

হিটলারের জন্যে এসব কিছুরই দরকার ছিল না। হিটলার আত্মপক্ষ সমর্থনে অভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্বের দায় স্বীকার করলেন। কিন্তু তাঁর মতে তিনি রাজদ্রোহিতার মতো কোনও কাজই করেননি। তিনি যা করেছেন, তা দেশ এবং জনগণের স্বার্থে করেছেন। শুরু হল অগুনতি বিয়ার হল বক্তৃতার অনুরূপ এক ভাষ্য। বিচারকের দেশপ্রেমের কাছে আবেদন রেখে হিটলার জার্মানির মহত্ব এবং দেশের মানুষের ইচ্ছাশক্তির দোহাই দিলেন— “আমি বিশ্বাস করি, এমন একটা সময় আসবে, যখন রাস্তায় স্বস্তিকা পতাকাবাহী মানুষের সঙ্গে একত্রিত হবে তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে যারা, তারাও।” নিজেকে দৈব-নির্বাচিত এক নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে আদালতকক্ষে উপস্থিত দর্শকদের সমর্থন জিতে নিলেন হিটলার। স্লোগান উঠল—“হেইল হিটলার!”

প্রথম ছ-দিন ধরে অভিযুক্তদের বয়ান শোনা হল। প্রকৃতপক্ষে তাঁদের কোনও প্রশ্নোত্তরের সম্মুখীন হতে হল না। তাঁরা জনগণ এবং সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার একটা ভালো মঞ্চ পেয়ে গেলেন। বিশেষত হিটলার। সাক্ষীদের মধ্যে একমাত্র লসোই তাঁকে আক্রমণ করলেন বটে। কিন্তু তাঁর বক্তব্য গুটিকয় মানুষের কাছে সমর্থনযোগ্য মনে হল। মার্চের শুরুতে মিউনিখে কার্নিভাল শুরু হয়েছে, কিন্তু হিটলারের বিচার সম্ভবত তার থেকেও অনেক বেশি বর্ণময় উৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নানা নাটকীয় ঘটনা পেরিয়ে ১ এপ্রিল সাজা ঘোষণা হল। অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই রাজদ্রোহিতার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। হিটলার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন। অন্য অভিযুক্তরা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের কারাদণ্ডের শাস্তি পেলেন। বলাই বাহুল্য, প্রত্যেকেই রাজনৈতিক বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

বিয়ার হল অভ্যুত্থান থেকে হিটলার একটা বড় শিক্ষা পেলেন। সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র নিয়ে বেআইনি পথে এগিয়ে যাওয়ার থেকে অনেক বেশি কার্যকরী আইনের ফাঁক খুঁজে সেগুলোর অপব্যবহার করা। ক্ষমতা দখলই যখন লক্ষ্য, তখন গণতন্ত্রের পথেই গণতন্ত্রকে দরকারে স্তব্ধ করে দেওয়াতে দোষের কিছুই নেই। পরের এক দশক হিটলার সুচারুভাবে এই পদ্ধতিতেই ক্ষমতার সিঁড়ি ডিঙোতে থাকবেন। সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ ওই অভ্যুত্থান হিটলারের জনপ্রিয়তাও বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। বিয়ার হলে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ানো স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের নেতা উল্কাগতিতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরের আলোচনায় চলে আসেন। যার পর থেকে হিটলারকে জার্মানির রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে বাদ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ল্যান্ডস্‌বার্গ কারাগার হিটলারের জন্যে সরকারি খরচে আরামদায়ক বিরতি হয়ে দাঁড়াল। প্রতিদিন ফুলের তোড়া, শুভেচ্ছাপত্র, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে কারাকর্তৃপক্ষ জেরবার। নাজি সদস্যরা অভিযুক্ত হিসাবেও আসতে লাগল জেলে। হিটলার বন্দি অবস্থাতেও হয়ে উঠলেন তাদের ফুয়েরার। যদিও তাদের সঙ্গে সম্মানজনক দূরত্ব রেখে চলতেই হিটলার পছন্দ করতেন।

২০ এপ্রিল পঁয়ত্রিশতম জন্মদিনে অজস্র শুভেচ্ছাবার্তার মধ্যে হিটলারের হাতে এল এক গবেষক ছাত্রের চিঠি। ‘ঈশ্বর আপনাকে বাচনশক্তি দিয়েছেন আমাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরতে।’ প্রেরকের নাম জোসেফ গোয়েবল্‌স্‌।

হিটলারের অবর্তমানে নিষিদ্ধ নাজি পার্টিতে দেখা দিয়েছে চরম অরাজকতা। ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সবাই ওপরে উঠতে চায়। হিটলার জানতেন যতদিন এই অন্তর্কলহ জারি থাকবে, ততদিন নাজিদের সর্বময় কর্তা হিসাবে তাঁর স্থান সুরক্ষিত। তাই ৭ জুলাই তিনি ঘোষণা করলেন, তাঁর আজীবন সংগ্রামের কথা তিনি লিপিবদ্ধ করতে নিজস্ব সময় চান, দলের কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে জড়াতে চান না। দর্শনার্থীদের জন্যেও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল হিটলারের দরজা।

যদিও লেখার কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। টাইপরাইটে হিটলার নিজেই টাইপ করে তাঁর সহায়ক বা সেক্রেটারি হিসাবে নিযুক্ত হেসকে শোনাতেন। চলত পরিমার্জনার কাজও। হেসের চিঠি থেকেও জানা যায় কীভাবে তিনি হিটলারকে প্রুফরিডিং এবং সম্পাদনায় সাহায্য করতেন। মে মাসেই নাজিদের প্রকাশনা বিভাগ ‘এও ফারলাক’ ঘোষণা করেছিল হিটলারের বই ‘মিথ্যা, নিবুদ্ধিতা এবং ভীরুতার বিরুদ্ধে সাড়ে চার বছরের সংগ্রাম’ প্রকাশ পাবে জুলাইয়ে। কিন্তু পরে হিটলার এর সঙ্গে নিজের আত্মজীবনীর অংশও যুক্ত করতে চাওয়ায় বইটির প্রকাশনা পিছিয়ে যায়। ডিসেম্বরের মধ্যে বইটির সিংহভাগ পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু আর্থিক সমস্যায় বইটির প্রকাশনা আরও পিছিয়ে যায়। ১৯২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে বইয়ের নাম বদলে রাখা হয় ‘মাইন কাম্ফ’— আমার সংগ্রাম। দুটি খণ্ডে বিভক্ত এই বইটির প্রথম খণ্ড প্রকাশ পায় ১৯২৫-এর ১৮ জুলাই। দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশ পায় ওই বছরেরই ১১ ডিসেম্বর। প্রথম খণ্ডটি জনপ্রিয় হলেও দ্বিতীয় খণ্ডের চাহিদা সেরকম ছিল না। তাই ১৯৩০-এ নাজিদের নির্বাচনে জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি আবার বাড়তে থাকে। তখন চাহিদার কথা মাথায় রেখে অখণ্ড সংস্করণ প্রকাশ পায়। ১৯৩২-এর শেষে ২,২৮,০০০ কপি ‘মাইন কাম্ফ’ বিক্রি হয়। হিটলার ক্ষমতায় আসার পরে সরকারি কর্মীদের বিয়েতে উপহার দেওয়া থেকে শুরু করে লাইব্রেরি বা স্কুলের জন্যে বইটিকে অবশ্যপাঠ্য করা হয়। পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মান সৈন্যদের জন্যে আলাদা করে বহনযোগ্য হালকা সংস্করণও প্রকাশিত হয়। ১৯৪৪ পর্যন্ত আঠারোটি বিভিন্ন ভাষায় বইটির এক কোটি পঁচিশ লক্ষ কপি মুদ্রিত হয়।

মাইন কাম্ফ-এ হিটলারের ইহুদি-বিরোধিতা এবং জার্মানদের জাতিগত বিশুদ্ধতা রক্ষার মতবাদ সর্বজনবিদিত। তাঁর মতে “মনুষ্যজন্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য দেশের সরকার চালনা নয়, বরং জাতির রক্ষণাবেক্ষণ।” এরপরেই পাই— “যদি জার্মানরা লাঞ্ছনার শিকার হয় বা তাদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দেয়, আইনকানুন রক্ষার দায় সেখানে গৌণ; যেনতেনপ্রকারেণ আত্মরক্ষা সর্বদা বৈধ, যে কোনও মূল্যে, সম্ভাব্য সমস্ত উপায়ে।” কিন্তু জার্মান জাতির সংকট সম্পর্কে এমন উদ্বেগ কেন? স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে— “ইহুদিরা আমাদের জনজাতির ভিত্তি কলুষিত করে আমাদের মানুষজনকে ধ্বংস করে চলেছে।” এরপরে ব্যাখ্যা হিসাবে যোগ করা হয়েছে— “আমাদের জাতিজীবনে গজিয়ে ওঠা এই মনুষ্যেতর পরগাছাগুলো পরিকল্পনামাফিক আমাদের সরলমতি সুন্দরী মেয়েদের নষ্ট করে চলেছে, ফলে এ পৃথিবীর বুক থেকে এমন কিছু ধ্বংস হচ্ছে, যা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।”

এই সমস্ত কারণেই লেখক এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ যে “জার্মান জাতি কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না যদি এই জাতিগত সমস্যার কোনও সমাধান না করা হয়।” যদিও ওই সময় হিটলার মনের গোপনতম অন্ধকার প্রকাশ্যে তুলে ধরার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলেন না, তবু কিছুটা আন্দাজ পাওয়াই যায়— “যুদ্ধের শুরুতে (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ) যদি এই বারো-পনেরো হাজার ইহুদিদের, যারা আমাদের কলুষিত করে চলেছে, বিষাক্ত গ্যাসের মাধ্যমে শেষ করে দেওয়া যেত, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মবলিদান বিফল হত না।” শেষে— “আমাদের জনগণের লড়াইয়ের পাশাপাশি যদি এই আন্তর্জাতিক বিষাক্ত উপাদানগুলোকে (যেমন, ইহুদি) নিশ্চিহ্ন করা যায়, একমাত্র তখনই আমরা সফল হব।”

একই সঙ্গে হিটলার ইঙ্গিত দিয়েছেন সাম্রাজ্য সম্প্রসারণেরও। জার্মানির সীমার মধ্যে জার্মানদের আবদ্ধ করে রাখার বদলে তাদের চাহিদামতো রাজ্যজয়ের অধিকার থাকা দরকার। ‘ইহুদিচালিত রাশিয়ার বলশেভিক’রাও পতনের মুখে। প্রয়োজনে সেদিকে হাত বাড়াতেও হিটলার কুণ্ঠিত নন।

সব মিলিয়ে ‘মাইন কাম্ফ’-এর বক্তব্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের হাস্যকর মনে হয়েছিল। সেভাবে হিটলারের এইসব তত্ত্বকে তাঁরা পাত্তা দেননি। কিন্তু দেশবাসীর সামগ্রিক আবেগ এবং তাদের ওপর হিটলারের প্রভাবকে তাঁরা অস্বীকার করে সবথেকে বড় ভুল করেছিলেন।

এর মধ্যে ১৯২৪-এর অক্টোবরে জার্মান সরকার অস্ট্রিয়ান নাগরিক হিটলারকে অস্ট্রিয়ায় ফেরত পাঠাতে সচেষ্ট হন। কিন্তু অস্ট্রিয়া অস্বীকার করে। হিটলার এর মধ্যেই পারোলের আবেদন জানান। ডিসেম্বরে সেই শর্তসাপেক্ষে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করা হয়। ২০ ডিসেম্বর মাত্র সাড়ে আট মাস কারাদণ্ডের শেষে হিটলার মুক্তি পান। এই মুক্তির পেছনে হিটলারের ভদ্রজনোচিত ব্যবহার যতটা না কাজ করেছিল, তার থেকে বেশি প্রভাব ছিল সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের। নাজি পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার কারণে বেশ কিছু সদস্য একত্রিত হয়ে ১৯২৪-এর এপ্রিলে ন্যাশনাল সোশালিস্ট ফ্রিডম পার্টি (NSPF) গড়ে তুলেছিলেন। মে মাসের জাতীয় নির্বাচনে এই দল লুডেনডর্ফের সদ্যনির্মিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে রাইখস্টাগে ৩২টি আসন দখল করে। কিন্তু ডিসেম্বরেই সরকারের পতন ঘটে এবং আবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় NSPF মোট ভোটের ৩ শতাংশ পেয়ে ১৪টি আসন দখল করেছে কেবল। মে মাসের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের (৬.৫ শতাংশ) অর্ধেকেরও কম ভোট পাওয়ায় নাজিদের জনসমর্থন কমেছে, এমন ধারণায় হিটলারের মুক্তিতে সেরকম কোনও বাধা আসেনি।

1

ল্যান্ডস্‌বার্গে সতীর্থদের সঙ্গে হিটলার। সূত্র- ENCYCLOPÆDIA BRITANNICA

ল্যান্ডস্‌বার্গে সতীর্থদের সঙ্গে হিটলার। সূত্র- ENCYCLOPÆDIA BRITANNICA

1

মুক্তি পাওয়ার পর হিটলার। হেইনরিখ হফমানের তোলা ছবি।

মুক্তি পাওয়ার পর হিটলার। হেইনরিখ হফমানের তোলা ছবি।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%