প্রথম পাঠ

রোহণ কুদ্দুস

হিটলারের জন্ম, শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য— এক কথায় তাঁর বেড়ে ওঠা নিয়ে লিখতে গেলে দারুণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু সাধারণ এক পরিবারে তাঁর জন্ম, তাই সেই সময়ের হিটলারের জীবন বা তাঁর পারিপার্শ্বিক নিয়ে কেউ অনুপুঙ্খ বিবরণ লিখে রাখেননি। তাঁর বেড়ে ওঠাকে পুনর্নিমাণ করা হয় ইতিহাসের কালক্রমে পিছনে হেঁটে। সাধারণত তাঁর কৃতকর্ম থেকে তাঁর প্রথম দিকের দিনগুলোকে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। ফলে, আমরা মূলত দু-রকম বয়ান পাই।

প্রথম ভাগে আসে সেই সমস্ত বিবরণ, যেখানে এক শিশু বা কিশোরের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ভবিষ্যতের এক দানবের গড়ে ওঠার আভাস। সে অবাধ্য, অসংযত, ধর্মবিরোধী— সব মিলিয়ে দুনিয়ার সবথেকে খারাপ চরিত্র।

দ্বিতীয় ভাগে পাওয়া যায় নাজিদের প্রতি সহানুভূতিশীল কিছু বয়ান। সেখানে এক প্রতিশ্রুতিবান তরুণ অবিরত লড়াইয়ের মাধ্যমে এ পৃথিবীতে তার নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। শেষমেশ সে হয়ে দাঁড়াল পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী নেতা।

এইসব পক্ষপাতদুষ্ট লেখাপত্রের সঙ্গে যোগ হচ্ছে হিটলারের নিজের বিবরণ। ‘মাইন কাম্ফ’-এ ফুয়েরার নিজেকে যেভাবে মহানুভব হিসাবে তুলে ধরেছেন, তার অসারতা সমসাময়িক ইতিহাস ঘাঁটলেই স্পষ্ট হয়। ফলে নিজের ছোটবেলা সম্পর্কে তিনি অতিরঞ্জন করবেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই পাশাপাশি কয়েকটা নিস্পৃহ পাঠ সম্পূর্ণ করা এক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনীয়।

শুরু করা যাক।

অস্ট্রিয়ার স্ট্রোন শহরের বাসিন্দা ছিলেন অ্যালোইস সিক্‌ল্‌গ্রুবা। হিটলারের বাবা। দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া অ্যালোইসকে তাঁর বাবা নিজের নাম দিয়ে যেতে পারেননি, মা মারিয়া অ্যানা সিক্‌ল্‌গ্রুবার নামেই তাঁর পরিচয়। অ্যালোইসের বাবার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা আছে। এমনও শোনা যায়, তিনি ইহুদি ছিলেন, অ্যালোইসের মা তাঁর পারিচারিকা হিসাবে কাজ করতেন। যদিও এসব নিছক গুজব, তবু হিটলার জার্মানির সর্বময় কর্তা হিসাবে আত্মপ্রকাশের পরেও তাঁর পূর্বপুরুষের এই অজানা পরিচয় তাঁকে যথেষ্ট বিব্রত করত। অ্যালোইস যখন পাঁচ, তাঁর মা জোহান গেয়র্গ হিডলার নামক এক কলমালিকের সহকারীকে বিয়ে করেন। জোহান অ্যালোইসের বাবা না হলেও প্রায় চল্লিশ বছর বয়সে অ্যালোইস নিজের পদবি বদল করে নামের শেষে হিটলার যোগ করেন। সিক্‌ল্‌গ্রুবাদের জন্মগত দারিদ্র্যের পিছুটান কাটিয়ে নিজের সামাজিক অবস্থান স্পষ্ট করতে এই বদল হয়তো জরুরি ছিল। কিন্তু ‘হিডলার’ কেন ‘হিটলার’ হল, সে তথ্য অজানাই থেকে গেছে। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, হিটলার পদবি সিক্‌ল্‌গ্রুবার থেকে বহুগুণে ভালো। একবার চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন, কোনও সমাবেশে শয়ে শয়ে জার্মান তাদের ডান হাত উঁচু করে অভিবাদন জানাচ্ছে— “হেইল সিক্‌ল্‌গ্রুবা!” আর পেছনের সারিতে দাঁড়িয়ে আরও কয়েক শ লোক সেই শুনে নিজেদের হাসি থামাতে ব্যস্ত।

হিটলারের মা ক্লারা পোজলো অ্যালোইসের থেকে তেইশ বছরের ছোট। জানা যায়, তিনি অ্যালোইসের পরিচারিকা হিসাবে তাঁদের বাড়ি থাকতেন এবং অ্যালোইসের দ্বিতীয় স্ত্রীর জীবদ্দশায় গর্ভবতী হন। অ্যালোইসের স্ত্রীবিয়োগ ঘটলে তিনি ক্লারাকে বিয়ে করেন। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দ। ক্লারা নাকি অ্যালোইসের দূর সম্পর্কের ভাইঝিও বটে। এমনও শোনা যেত, ক্লারার দাদুই নাকি অ্যালোইসের অজানা বাবা। তাই তাঁকে বিয়ে করতে স্থানীয় গির্জার ছাড়পত্রও নিতে হয়। বছর আটচল্লিশের অ্যালোইস একজন কাস্টম্‌স্‌ অফিসার— নিয়মানুবর্তী, নানা ঘাটের জল খাওয়া বদরাগী এক মাঝবয়সি। অন্যদিকে ক্লারা একজন নরমসরম জার্মান ব্লন্ড, তার ওপর বয়সের অমন ব্যবধান, ফলে অ্যালোইসের সঙ্গে তাঁর প্রভু-পারিচারিকার সম্পর্কটা থেকেই গিয়েছিল।

অ্যালোইস এবং ক্লারার সন্তানভাগ্য খুব সুখের ছিল না। প্রথম সন্তান গুস্তভ জন্ম নেয় তাঁদের বিয়ের পাঁচ মাস পরে। তারপর আসে ইডা নামের কন্যাসন্তান। ১৮৮৮-র শীতে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই সন্তানই মারা যায়। তৃতীয় সন্তান অটোও জন্মের পরপরই মারা যায়। অস্ট্রিয়ার ব্রোনুতে ক্লারা এবং অ্যালোইসের চতুর্থ সন্তান অ্যাডল্‌ফ্‌ জন্ম নিল ১৮৮৯-এর ২০ এপ্রিল। নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস বটে! পরপর সন্তান হারানো দম্পতির যে ছেলেটা শেষমেশ বেঁচে রইল, সে জার্মান রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে পরে পৃথিবীর ইতিহাসের ধারাটাই বদলে দেবে। ইতিহাসের বহুচর্চিত এই চরিত্রকে তার বাবার নামে একডাকে লোকে চিনবে। সবথেকে বড় কথা বিশেষ্য থেকে বিশেষণে পরিণত হবে সে— হিটলার।

১৮৯২-এ অ্যালোইস পরিবার নিয়ে ব্রোনু থেকে পাসাও-এ বদলি হন। আরও দু-বছর পরে লিওনডিং-এ একটা ছোট বাড়ি কিনে থিতু হন। সামনেই গোরস্থান। মৃত ভাইবোনদের ভূত কাঁধে নিয়ে বড় হতে থাকা অ্যাডল্‌ফের চোখের সামনে সারাদিন ক্রশ আর টুম্বস্টোন। তার ছ-বছর বয়সে সংসারে এল আরেক শিশু সন্তান— এডমুন্ড। ভুললে চলবে না, জীবনের প্রথম পাঁচ বছর অ্যাডল্‌ফ্‌ ছিল তার মায়ের নয়নের মণি, শিবরাত্রির সলতে আর বাবার সমস্ত আশা-ভরসার উত্তরপুরুষ। এমন শৈশব অধিকাংশ সময়ই খুব স্বাস্থ্যকর হওয়ার কথা নয়।

ক্লারা ধার্মিক ছিলেন। অ্যাডল্‌ফের ব্যাপটিজম অর্থাৎ খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা হয় ক্যাথলিক চার্চে। স্বাভাবিক নিয়মে তার শিক্ষাজীবনও শুরু হয় একটা সাধারণ সরকারি স্কুল থেকে। যদিও তার জীবনের এই সময়টা সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। কিন্তু মোটামুটি বোঝা যায়, বালক ছোট থেকেই শিল্পকলার দিকে আকর্ষণ বোধ করত। আট বছর বয়সে সঙ্গীতশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সে চার্চের কয়্যারে অংশ নিতে শুরু করে।

1

কাস্টম্‌স্‌ অফিসার অ্যালোইস হিটলার। সূত্র - wikiwand.com

কাস্টম্‌স্‌ অফিসার অ্যালোইস হিটলার। সূত্র - wikiwand.com

গুস্তভ শোয়াবের লেখা গ্রিক পুরাণ আর পাঠ্যবইয়ের জার্মান নায়কদের গল্প অ্যাডল্‌ফ্‌কে শিহরিত করত। ফ্রাঙ্কো-প্রুশিয়ান যুদ্ধের ছবির বই ছিল তার খুব প্রিয়। স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা ছিল তার নেশা। তার এক বাল্যবন্ধু জোসেফ রানস্‌মায়ারের একটা সাক্ষাতকারে পরে পাওয়া যায়— “খেলার সময় সে নেতা সাজবেই। আর কেউ তার কর্তৃত্বে ভাগ বসাতে চাইলে ওই আট-ন বছর বয়সেই দেখতাম, রাগে তার চোখ-মুখ লাল হয়ে যেত। লিডার না হতে পারলে সে খেলতই না। আমাদের সঙ্গে খেলা বন্ধ করে অন্য ছেলেদের সঙ্গী হিসাবে খুঁজে নিত।” ‘মাইন কাম্ফ’-এও হিটলার দাবি করেছেন, ছোটবেলা থেকেই বক্তৃতা আর নেতৃত্বের কৌশল খুব সহজেই তিনি আয়ত্ত করেছিলেন।

ইতিমধ্যে এডমুন্ডের পর হিটলার পরিবারে এক কন্যসন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে— পলা। পলা যখন চার, ১৯০০-র মার্চে এডমুন্ড হামে ভুগে মারা যায়। এগারো বছরের অ্যাডল্‌ফকে এই মৃত্যু মানসিকভাবে দারুণ বিপর্যস্ত করে তোলে। ভাইবোনদের মৃত্যুর মাঝে পলার ব্যতিক্রম বাদ দিলে তার একা বেঁচে থাকার অপরাধবোধ, তার একাকিত্ব, বাবার ক্রমাগত বদলি— স্বভাবতই পড়াশোনায় এর প্রভাব পড়তে থাকে। স্কুলে ফলও খারাপ হতে থাকে।

শিল্প-সঙ্গীতের প্রতি কৌতূহল, নেতা হবার ইচ্ছা, যুদ্ধ এবং জার্মানির অতীত গৌরবের গল্প ছোট্ট অ্যাডল্‌ফের শৈশব আর কৈশোরকে ঘিরে রেখেছিল। কিন্তু এই কল্পরাজ্যের অন্যতম শত্রু হয়ে উঠলেন তার আমলা বাবা অ্যালোইস। তিনি ধনী না হলেও স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত জার্মান। ছেলের স্কুল বদলে তাকে স্থানীয় ভক্‌সুলা অর্থাৎ এলিমেন্টারি স্কুল থেকে পাঠান লিঞ্জ শহরের রিয়ালসুলায়, যেখানে অঙ্কসহ অন্যান্য বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। যেখানে পড়লে ছেলে তাঁর মতো কাস্টমস্‌ অফিসার, নিদেন অন্য কোনও সরকারি চাকরি জুটিয়ে নেবে। এই স্কুলে এসে অ্যাডল্‌ফ্‌ ড্রয়িং ছাড়া কোনও বিষয়ই সেভাবে আয়ত্ত করতে পারল না। অঙ্ক আর জীবতত্ত্বে অকৃতকার্য হয়ে ক্লাসে ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে সে। গ্রাম থেকে আসার ফলে শহুরে সহপাঠীদের ঠাট্টার নিশানা হতেও দেরি হল না। ফলে নির্বান্ধব সেই পরিবেশে অ্যাডল্‌ফ্‌ ক্রমশ একা হয়ে পড়ল। একমাত্র লিওপোল্ড পোচ-এর জার্মানির ইতিহাসের পাঠ তার ভালো লাগত। জার্মান গৌরবের বীজ যেমন অ্যাডল্‌ফের মধ্যে এই শিক্ষক ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন, তেমনই বুঝিয়েছিলেন ইহুদি আর শ্লাভরা শুধু বিদেশীই নয়, তারা নিকৃষ্ট জাতও বটে। আমেরিকান সাংবাদিক উইলিয়াম শাইরারের মতে, লিওপোল্ড জার্মান ভাষাভাষী অঞ্চলের প্রায় শেষ সীমান্ত থেকে আসা মানুষ। শ্লাভদের সঙ্গে নিয়মিত লড়াই তাঁকে উগ্র জার্মান জাতীয়তাবাদী করে তোলে। হিটলার তাঁর এই প্রিয় শিক্ষকে ভোলেননি। বহু বছর পরে, ১৯৩৮-এ অধিকৃত অস্ট্রিয়া সফরে ফুয়েরার লিওপোল্ডকে খুঁজে বের করেন। তাঁকে জার্মান জাতীয়তাবাদের পাঠ দেওয়া মানুষটি তাঁরই প্রতিষ্ঠিত নাজি পার্টির সদস্য। যদিও অস্ট্রিয়ায় নাজি সংগঠন নিষিদ্ধ ছিল, তবু প্রকৃত অর্থে বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া একেই বলে।

যাই হোক, হিটলার পরে দাবি করেন, ইতিহাস নয়, স্কুলে তাঁর প্রিয় বিষয় ছিল আর্ট। যদিও নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, রিয়ালসুলার চার বছরে অ্যাডল্‌ফের ড্রয়িং-এর গ্রেড কখনও ‘গুড’ ছাড়িয়ে ‘এক্সেলেন্ট’-এ পৌঁছায়নি, তবু সে বিখ্যাত শিল্পী হতে চেয়েছিল। ছেলের শিল্পী হওয়ার দিবাস্বপ্নকে প্রশ্রয় না দিয়ে অ্যালোইস স্পষ্ট জানালেন, অ্যাডল্‌ফ্‌কে চাকুরে হিসাবে নিজের ভবিষ্যত গড়ে নিতে হবে। অ্যাডল্‌ফের নিজের ভাষায়— “একটা অফিসে বসে নিজের ইচ্ছেকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য কারও মর্জিতে সারা জীবন ধরে ফর্মের শূন্যস্থান পূরণ করার কথা ভাবলেই আমার হাই উঠত।” একদিকে বাবার নিয়মানুবর্তিতা, শুকনো রুটিনের প্রতি দায়বদ্ধতা আর অন্যদিকে নিজের পছন্দমতো শিল্পের প্রতি মুগ্ধতা, নেতৃত্বের ইচ্ছা অ্যাডল্‌ফের দ্বন্দ্বকে তীব্র করে তুলেছিল। অ্যালোইস ছেলেকে মারধোর করেছেন এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে ক্লারাও আক্রান্ত হয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়। যদিও এমন ঘটনা সেই সময়ের গড়পড়তা জার্মান পরিবারের হরহামেশাই ঘটত। সত্যি বলতে কী, বাল্যবন্ধু জোসেফ রানস্‌মায়ারের বয়ানে অ্যাডল্‌ফের অবাধ্যতাও ছিল নিয়মিত— “হিটলার তার বাবাকে সেভাবে কখনোই পাত্তা দেয়নি। আমি বেশ কয়েকবার বাবা-ছেলেকে তর্ক করতে দেখেছি। এবং প্রত্যেকবার বাবাকেই পিছু হঠতে হত। মনে হয় ওর চরিত্রের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্যই হল কারও বশ্যতা স্বীকার না করা।” ‘মাইন কাম্ফ’-এও বাবার প্রতি হিটলারের প্রচ্ছন্ন ভয় আর ঘৃণা অনুভব করা যায়। সামান্য ঘুরিয়ে বাবাকে মদ্যপও বলেছেন। সে প্রসঙ্গ থাক, অন্তত অ্যালোইসের প্রিয় পানশালার বাইরে বোর্ড ঝুলত—

কেরেস্তান, ইহুদি, নাস্তিক, ব্যোমভোলা

একপাত্তর ঢালতে গলায় সবার জন্যে দরজা খোলা।

এই পানশালাতেই একদিন অ্যালোইস মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। ১৯০৩-এর জানুয়ারি। না, মাত্রাতিরিক্ত পান মেপেজুপে চলা অ্যালোইস কোনোদিনই করেননি। শরীরের আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণেই মৃত্যু ঘটে তাঁর। অধিকাংশ কিশোরই হয়তো মৃত বাবার ইচ্ছাপূরণে সচেষ্ট হত। কিন্তু অ্যাডল্‌ফ্‌ তার পুরনো জেদ বজায় রাখল। কিছু সহানুভূতিশীল জীবনীকার এবং হিটলার নিজেও নিজেকে বাবা এবং ছেলের দ্বন্দ্ব থেকে উঠে আসা একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তরুণ হিসাবে দেখাতে চেয়েছেন। বাস্তবে অ্যাডল্‌ফের অধিকাংশ শিক্ষকের মতে, সে অলস, অসহযোগী, মধ্যমেধার একজন ছাত্র, যে শিক্ষকদের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল নয়। সহপাঠীদেরও নানাভাবে হেনস্থা করত। ১৯০৩-৪-এর শিক্ষাবর্ষে তার ফল এতটাই খারাপ হল যে চতুর্থ বর্ষে সে প্রোমোশন পেল লিঞ্জের রিয়ালসুলা থেকে বেরিয়ে গিয়ে স্থানীয় কোনও স্কুলে ভর্তি হওয়ার শর্তে। এককথায়, বহিষ্কার। নতুন স্কুলে গিয়েও অ্যাডল্‌ফের অবনতি অব্যাহত থাকল। এবার সে অঙ্ক আর জ্যামিতিতে ফেল করল। আবার বহিষ্কারের অপমান এড়াতে অ্যাডল্‌ফ্‌ প্রথাগত শিক্ষা থেকে নিজেই নিজেকে সরিয়ে নিল। মার্কশিটটা ব্যবহার করল সে টয়লেট পেপার হিসাবে। বাড়ি ফিরে মাকে অবশ্য জানাল ট্রেনের জানালা থেকে সেটা আচমকা উড়ে চলে গেছে।

1

জনৈক সহপাঠীর আঁকা হিটলারের স্কেচ। সূত্র - অগাস্ট ক্যুবিজেকের স্মৃতিকথা

জনৈক সহপাঠীর আঁকা হিটলারের স্কেচ। সূত্র - অগাস্ট ক্যুবিজেকের স্মৃতিকথা

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%