রোহণ কুদ্দুস
মিউনিখে যুদ্ধমন্ত্রকে হিটলার এবং লুডেনডর্ফ অপেক্ষা করছেন কার, লসো এবং সেইসারের। কারের অফিসে ফোন করে দেখা গেল লাইন অন্য কোনও কলে ব্যস্ত। মাঝে কেউ ফোন ধরলেও কখনও উত্তর এল ‘তিনি যুদ্ধমন্ত্রকের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন’, কখনও কেউ বলল ‘অন্য কলে আছেন’ এবং তারপর অনেকক্ষণ পরে কল নিজে থেকেই কেটে গেল। লসো এবং সেইসারের ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম ব্যাপার। লুডেনডর্ফ অবশ্য চিন্তিত নন, কারণ ওই ত্রয়ী ‘কথা দিয়েছেন’। হিটলার ক্রমে অধৈর্য হয়ে উঠছেন।
ওদিকে ড্যানার তাঁর অধস্তন অফিসারদের নির্দেশ দিয়ে তাঁর নিজের অফিস থেকে বেরোতে গিয়ে লসোকে আবিষ্কার করলেন। ড্যানার লসোকে জিজ্ঞাসা করলেন বিয়ার হলে হিটলারের তিনি যে সমর্থন দেখিয়েছেন… লসো নিজের অফিসের দিকে যেতে যেতে বিরক্তি সহকারে বললেন, “ওই সময় আর কোনও উপায় ছিল না।” তারপর হিটলারে অশালীন আচরণের কথা সবিস্তারে বলে নিজের অক্ষমতা ঢাকার প্রয়াস শুরু করলেন। ড্যানার তাঁর এই ঊর্ধ্বতনকে বিশ্বাস করেন না ঠিকই, কিন্তু এই মুহূর্তে লসোকে তাঁর দরকার। বিশেষত অন্য শহর থেকে যতক্ষণ না সেনাবাহিনী এসে পৌঁছচ্ছে, লসোর বন্ধু সেইসারের অধীনে থাকা রাজ্য পুলিশ মিউনিখের বৃহত্তম শক্তি। তাদের যথাযথ ব্যবহার দরকার।
তাই নাইন্টিন্থ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট ব্যারাকের কমিউনিকেশন হাটে অস্থায়ী কমান্ড সেন্টার গড়ে তোলার প্রস্তাব আবারও উত্থাপন করলেন। সেই মুহূর্তে লসো অস্থিরচিত্ত। হিটলার এবং লুডেনডর্ফের থাবা থেকে বাঁচতে এটা একটা যুক্তিযুক্ত উপায় মনে হল তাঁর। কার এবং সেইসারকেও ডেকে নিলেন।
রাত ২টো ৫০ নাগাদ নতুন কমান্ড সেন্টারে পৌঁছে তাঁরা দুটো খবর পেলেন। এক – যুবরাজ রুপরেখ্ট্ এই বিদ্রোহে দারুণ অসন্তুষ্ট। দুই – জেনারেল সিক্ত্ কঠোর হাতে মিউনিখের এই অভ্যুত্থানকে দমন করতে আদেশ দিয়েছেন।
ফলে প্রথমেই সারা দেশে প্রচারের জন্যে তিনজনের যৌথ বিবৃতি পাঠানো হল রেডিও সেন্টারে।
জেনারেল স্টেট কমিশনার ফন কার, জেনারেল ফন লসো এবং কর্নেল ফন সেইসার হিটলারের অভ্যুত্থান সমর্থন করেন না। বারগারভয়কেলায় তাঁদের বক্তব্য বলপ্রয়োগপূর্বক নেওয়া হয়েছিল, ফলে তা অবৈধ। এই তিনজনের নামের অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে।
এছাড়াও পোস্টারের জন্যে আরেকটা দীর্ঘ বয়ান প্রস্তুত করা হল, যেখানে দেখানো হবে হিটলার কীভাবে প্রতিশ্রুতি ভেঙে ক্ষমতাদখলের ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। একই সঙ্গে জরুরি বিধি ২৬৪ জারি করে নাজি পার্টি এবং কামফবুন্ডে তাদের সাথি সমস্ত সংগঠনকে অবৈধ ঘোষণা করা হল। কার আদেশ দিলেন এই দলগুলোর সমস্ত সম্পত্তি, গাড়ি, অস্ত্র— সবকিছু বাজেয়াপ্ত করতে। জেনারেল লুডেনডর্ফ, হিটলার এবং এঁদের যে কোনও সমর্থককেই দেখামাত্র গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হল।
দেওয়ালে দেওয়ালে সেই রাতেই হিটলারে পক্ষে এবং বিরুদ্ধে পোস্টার পড়তে শুরু করল। অবশ্য দেওয়াল দখলের এই লড়াইয়ে নাজি বাহিনী অনেকটাই এগিয়েছিল। খবরের কাগজেও গতরাতের বিয়ার হলের ঘটনা ছাপা হয়ে গেছে ততক্ষণে, কিছু পরেই বিলিবন্টন শুরু হবে। কার এবং তাঁর অন্য সুই সঙ্গীর সাম্প্রতিক বিবৃতি কোনও সংবাদপত্রই পায়নি। ফলে মানুষ ‘ভুল খবরে’ বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে এই আশঙ্কায় কারের উপদেষ্টা অ্যাডল্ফ্ সিৎ বিভিন্ন সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেন। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। মুদ্রণের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। সব সংবাদপত্রই নিজের গতিতে বন্টনের দিকে এগিয়ে চলেছে।
এর মধ্যে একজন সম্পাদক ফ্রিৎজ গেরলিচ পোনারকে ফোন করে অভিযোগ জানালেন তাঁদের প্রতি পরস্পরবিরোধী এমন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলে। পোনার এবং ফ্রিকের সাংবাদিক সম্মেলন অনুসারে তাঁরা খবর ছেপেছেন। এর মধ্যে কারের তরফ থেকে নির্দেশ আসছে সেগুলো না ছাপার জন্যে। পোনারও রীতিমত বিস্মিত। পুলিশ দপ্তর থেকে বাড়ি ফিরে ঘুমোচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন খবরে তিনি ফ্রিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেন। কিন্তু সদর দপ্তরে কেউই কোনও সদুত্তর দিতে পারলেন না। পোনার বুঝে উঠতে পারলেন না নিজের দায়িত্ব ছেড়ে এই মুহূর্তে ফ্রিক কোথায় যেতে পারেন। এমন সময় তাঁর দরজার ঘন্টি বেজে উঠল। সুবনার-রিখটার এসেছেন যুদ্ধমন্ত্রক থেকে। হিটলারের জরুরি তলব।
ফ্রিক ফোনের উত্তর না দেওয়ার কারণ তাঁকে ততক্ষণে কারের নির্দেশে কর্নেল জোসেফ বানজার এবং মেজর ইমহফ গ্রেপ্তার করেছেন। তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিলেন পোনার। সৌভাগ্যবশত পোনার তখন যুদ্ধমন্ত্রকে। তিনতলার একটা ঘরে হিটলার রমের সঙ্গে আলোচনা করছেন কীভাবে জেনারেল লসো তাঁদের ধোঁকা দিয়েছেন। লুডেনডর্ফ যদিও সেটা মানতে নারাজ।
“কোনও ব্যাপার নয়। সমস্ত প্রচার আমাদের পক্ষে।” হিটলারের মূল অস্ত্র প্রোপাগান্ডা। সকাল হওয়ার আগেই সারা মিউনিখে লক্ষাধিক পোস্টার সাঁটা হয়ে যাবে এই বিদ্রোহের খবর দিয়ে। সমস্ত খবরের কাগজে লেখা হবে কীভাবে বাভেরিয়ার মুখ্য তিনজন মানুষ তাঁকে সমর্থন করেছেন। জুলিয়াস স্ট্রাইকারের মতো বক্তা আগুন ছোটাবেন রাস্তায় নেমে। এসার তাঁদের দলের মুখপত্রে দিনবদলের কথা লিখবেন। হিটলার তখনও সাফল্য সম্পর্কে নিশ্চিত— “শুধুমাত্র প্রোপাগান্ডা। আর কিচ্ছু দরকার নেই।”
এসার তাঁর সমস্ত ঘৃণা উজাড় করে প্রতিবেদন লিখেছেন। কীভাবে বার্লিনের সুবিধাবাদী রাজনীতিকরা ভার্সাই সন্ধির নামে দেশের অর্থ বিদেশীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। কীভাবে প্রায় পৌনে দু কোটি জার্মান অন্য দেশে গিয়ে পড়েছেন জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চল বেহাত হয়ে যাওয়াও। প্রেসিডেন্টের অপদার্থতা থেকে শুরু করে হিটলারের কর্মোদ্যম সবই লিখেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর থেকে ভালো আর কে জানে এই বিদ্রোহ, এই অভ্যুত্থান অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে! হিটলার আর লুডেনডর্ফের সবথেকে বড় ভুল কারদের বিয়ার হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। পরিকল্পনার অভাব, বিশদভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ না করা, এমনকী হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে অভ্যুত্থানের তারিখ এগিয়ে আনা— এমন অজস্র ফাঁক তাঁদের বিপক্ষে। খুব বেশি হলে আর কয়েক ঘণ্টা। তারপর হিটলারদের বাস্তবের মুখোমুখি হতেই হবে।
অবশ্য অতক্ষণও অপেক্ষা করতে হল না। লুডেনডর্ফ তাঁর পরিচিত এক সঙ্গীকে সেই রাতেই ডেকে পাঠিয়েছেন। মিউনিখের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষক কর্নেল লুডউইগ লিওপোল্ড। লুডেনডর্ফ জিজ্ঞাসা করলেন, “লসো ফোন ধরছেন না। তাঁর অপেক্ষায় আমরা প্রায় সাতঘণ্টা বসে এখানে। কোথায় তিনি?” লিওপোল্ড মাথা নাড়লেন— “লসো আসবেন না।” একটু থেমে বললেন, “আপনাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী এই বিদ্রোহ দমন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।” লুডেনডর্ফ স্তম্ভিত— “কিন্তু লসো আমায় কথা দিয়েছিল!”
হিটলার দ্রুত বুঝে গেলেন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধমন্ত্রকে থেকে পেরে ওঠা যাবে না। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আবার বিয়ার হলেই ফিরে যাবেন, যেখান থেকে সব শুরু হয়েছিল। বাকি সবাইকে সেই মতো প্রস্তুতি নিতে বললেন। বিয়ার হল তাঁর পরিচিত রণক্ষেত্র। কিন্তু সেখান থেকে কী হবে, কীভাবে সেনাবাহিনীর মোকাবিলা করা হবে, তার কোনও পরিকল্পনাই হিটলারের ছিল না। যাওয়ার আগে রমকে নির্দেশ দিলেন, কোনও অবস্থাতেই যুদ্ধমন্ত্রকের দখল না ছাড়তে।

বক্তব্য রাখছেন জুলিয়াস স্ট্রাইকার, Famous Trials-এর সাইট থেকে নেওয়া।
বক্তব্য রাখছেন জুলিয়াস স্ট্রাইকার, Famous Trials-এর সাইট থেকে নেওয়া।
রাত কেটে ভোর হচ্ছে। বারগারভয়কেলায় হাজারখানেক নাজি আর এস এ সদস্য এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়ে। কেউ টেবলের ওপর। কেউ চেয়ার জোড়া দিয়ে। বাগানে কেউ কেউ অস্ত্র নিয়ে কসরত করছে। গুটিকয় মানুষ প্রাতরাশ সারছেন। হিটলারও তাড়াতাড়ি কিছু খেয়ে লুডেনডর্ফ এবং অন্য সব ষড়যন্ত্রীদের সঙ্গে দোতলার একটা ঘরে গিয়ে ঢুকলেন। হিটলার দৃশ্যতই ক্লান্ত। সারারাত জেগে থাকার ধকল, মুখে না কামানো দাড়ি, বিস্রস্ত চুল— অন্তত দেখে মনে হচ্ছে না এই মানুষটা সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করতে পারেন। অন্যদিকে লুডেনডর্ফ শান্ত, সংযত। হিটলার বললেন, “একবার যদি ওই তিনজনের সঙ্গে আমি কথা বলতে পারতাম।” লুডেনডর্ফ তাঁকে ধমকে উঠলেন, “এভাবে জোর করে ওঁদের দিয়ে সমর্থন করানোটাই আপনার ভুল। আমি ভেবেছিলাম আপনারা সহমত হয়েছিলেন।” বিদ্রোহের নেতৃস্থানীয়রা যখন কোনও সিদ্ধান্তেই আসতে পারছেন না, তখন অন্তত একটা জিনিস হিটলারের পরিকল্পনামাফিক চলছিল। জুলিয়াস স্ট্রাইকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেছেন। গ্যোরিং এবং ম্যাক্স আমান শহরের দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার লাগানোর কাজে তদারকি করছেন। প্রেসে এবং নাজি পার্টির সদস্যদের আরও অন্যান্য খরচের জোগান দিতে হিটলার দুটো ইহুদি পরিচালিত নোট ছাপার কোম্পানি থেকে টাকা লুঠ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কয়েকজন সদস্য কুড়িটা বাক্সে মোট চোদ্দো হাজার ট্রিলিয়ন মার্ক নিয়ে এসে ব্যাঙ্কোয়েট হলের স্টেজে সাজিয়ে রাখছে। পাঁচ ফুট উঁচু সেই কারেন্সি নোটের স্তূপের দিকে উদাস দৃষ্টিতে থাকিয়ে আছে গত সন্ধ্যার ব্যান্ডের সদস্যরা।
হিটলার একটা শেষ চেষ্টা করলেন। যুবরাজের কাছে একজন অনুগামীকে পাঠালেন। যদি তিনি এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেন কোনোভাবে, তাহলে কারের মনোভাব বদলে যেতে বাধ্য।
বাইরে আবার তুষারপাত শুরু হয়েছে। অন্য আর পাঁচটা সকালের মতোই শীতার্ত শহরে মানুষ একে একে কাজে বেরোচ্ছেন। খবরের কাগজে অভ্যুত্থানের খবর পড়েছেন সবাই। নাজিদের মুখপত্র ‘ভলক্সাবো উবাখতা’ লিখেছে— ‘স্বস্তিকার জয়’। পাঁচ বছরের ইহুদি রাজত্বের লজ্জা এবং অপমানের অবসান হতে চলেছে। সম্পাদক আলফ্রেড রোজেনবার্গ ভেবেচিন্তেই খবর সাজিয়েছেন। হিটলার এবং লুডেনডর্ফের প্রশংসা তো আছেই। কিন্তু কার, লসো এবং সেইসারের সমর্থনের কথাও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে লেখা হয়েছে। আদর্শ সরকারি আধিকারিক হিসাবে কারের দেশপ্রেম এবং জার্মানদের প্রতি কর্তব্যবোধ, সিংহহৃদয় লসোর নেতৃত্ব এবং সেইসারের কঠোর পরিশ্রম এবং ন্যায়ের প্রতি আনুগত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। অন্যান্য সংবাদপত্রও নিজেদের মতো করে গতরাতের বিবরণ দিয়ে খবর করেছে।
দেশের বাইরে এই বিদ্রোহের খবর দেরি করে পৌঁছানোয় বিশদে তেমন কোনও খবর নেই। প্যারিসের লে ম্যাতাঁ লিখেছে, লুডেনডর্ফ স্বৈরতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছেন। অন্য সংবাদপত্র লে পেতিত পেরিসাঁ উল্লেখ করেছে, বিদ্রোহীরা ভার্সাই সন্ধিকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করেছেন। লন্ডন টাইম্স্সহ ইংল্যান্ডের আরও কিছু সংবাদপত্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, জার্মানি এবার পুরোপুরি গৃহযুদ্ধে বিনাশের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সাগরপারে মার্কিন খবরের কাগজগুলো ঘড়িতে পিছিয়ে থাকার কারণে বিশদে খবর প্রকাশ করার সময় পেয়েছিল বটে, কিন্তু তাদের সব খবরই হিটলার এবং লুডেনডর্ফ সম্পর্কে অজস্র তথ্যপ্রমাদে কন্টকিত।
যুদ্ধমন্ত্রকে রম তাঁর সাথিদের নিয়ে হিটলারের নির্দেশের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যে চারদিকে কাঁটাতার বিছিয়ে ইস্পাতের বড় বেড়া লাগিয়ে জানালায় মেশিনগান বসিয়ে তাঁর দল প্রস্তুত। ওদিকে ড্যানারের আদেশে সেনাবাহিনী আর পুলিশও আস্তে আস্তে এলাকার দখল নিতে শুরু করেছে। সামরিক বাহিনীর স্নাইপার জায়গা নিয়েছে আশেপাশের উঁচু বাড়িগুলোতে। দু-পক্ষই পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায়।
সংখ্যার দিক থেকে দেখলে হিটলাররা তখনও এগিয়ে। কাম্ফবুন্ড আর নাজি সদস্য মিলিয়ে ৪০০০ যোদ্ধা। অন্যদিকে সরকারের হাতে ২৬০০ মানুষের বাহিনী, যার মধ্যে ১৮০০ হল স্থানীয় পুলিশ। বাইরে থেকে সামরিক সাহায্য আসার খবরে সবাই উৎকণ্ঠায়। কাম্ফবুন্ডের সামরিক অধিনায়ক হারমান ক্রিবেল প্রস্তাব দিলেন সময় থাকতে সসম্মানে এই অভ্যুত্থান থেকে পিছিয়ে আসা হোক। সময় বুঝে আবার নিখুঁত পরিকল্পনার সঙ্গে ঝাঁপানো যাবে। গ্যোরিংও তাঁকে সমর্থন জানালেন। মিউনিখের চল্লিশ মাইল দক্ষিণে অস্ট্রিয়া সীমান্তে রোজেনহাইমে তাঁরা আপাতত আশ্রয় নিতে পারেন। নাজিদের দারুণ জনসমর্থন আছে সেখানে। তার ওপর গ্যোরিং ওখানে বড় হয়েছেন, জায়গাটা হাতের তালুর মতো চেনেন। হিটলার প্রথমে তাঁদের সঙ্গে সহমত হলেও পরে আবার মত বদলালেন। তিনি তখনও যুবরাজের থেকে সাহায্যের প্রত্যাশায়।
এমন সময় খবর এল পুলিশবাহিনী আস্তে আস্তে শহরে তাদের দখল দৃঢ় করছে। শহরে আসা যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এগারোটা নাগাদ লুডেনডর্ফ অধৈর্য হয়ে পড়লেন— “শত্রুরা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমরা কী করছি? একটা পানশালার ছোট ঘরে মুখ লুকিয়ে বসে! আমাদের উচিত বাইরে গিয়ে শোভাযাত্রা করা। শহরের মানুষ আমাদের শক্তি সম্পর্কে বুঝতে পারলে আমাদের সমর্থন করতে বাধ্য। তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতেও পারে। আর আমাদের পাশে মানুষের সমর্থন দেখলে কার তার মত বদলাতে বাধ্য হবে।” আর কোনও উপায়ান্তর না দেখে সকলেই এই প্রস্তাবে রাজি হলেন। লুডনডর্ফের মতো জাতীয় নায়ক মিছিলের সামনে থাকলে সেনাবাহিনী বা পুলিশ আর যাই করুক, কখনোই গুলি চালাতে পারবে না। বলা যায় না, পেশীশক্তি প্রদর্শন যেমন মুসোলিনিকে রোমে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, হিটলারের ক্ষেত্রেও যদি তেমনটা ঘটে। সৈন্যরাও যদি দৈববলে স্বস্তিকার নিচে আশ্রয় নিতে চায়। ভাগ্যপরীক্ষায় হিটলার কোনোদিনই পিছপা নন। লুডেনডর্ফের নেতৃত্বে বিয়ার হল থেকে বেরিয়ে এলেন বিদ্রোহীরা। জেনারেল আদেশ দিলেন— “মার্চ!”
এর মধ্যেই গ্যোরিং স্টোসটপ-হিটলার বাহিনীর প্রধান জোসেফ ব্যারাসটল্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন মিউনিখের মেয়র এডোয়ার্ড স্মিড এবং প্রেসিডেন্ট এবার্টের দল সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টির কাউনসিলরদের আটক করার। টাউন হলে ব্যারাসটল্ড তাঁর জনা বারো সৈন্যর সাহায্যে মেয়র ও তাঁর পারিষদদের কলার ধরে বাইরে বের করে আনলেন। সর্বসমক্ষে তাঁদের বন্দুক দেখিয়ে তোলা হল ট্রাকে। তার মধ্যেই উপস্থিত জনতার কেউ কেউ তাঁদের চুল ধরে টানল, থুতু দিল, গালিগালাজ করল। ভিড়ের মধ্যে থেকে রব উঠল— “ইহুদিদের দালালদের যেন উপযুক্ত শাস্তি হয়।”
এর মাইলখানেক দূরেই যুদ্ধমন্ত্রকে মঞ্চস্থ হচ্ছে আরেক নাটক। চারদিক থেকে পুলিশ এবং আর্মি তাঁদের ঘিরে ফেললেও রম আর তাঁর সঙ্গীরা নিজেদের জায়গা থেকে নড়তে নারাজ। চারদিকের উঁচু বাড়ি থেকে স্নাইপার এবং মেশিনগান পরিবেষ্টিত হয়েও রম তাঁর সৈন্যদের চেঁচিয়ে বলছেন, “আমৃত্যু লড়াই হবে।” এমন পরিস্থিতিতে রক্তক্ষয় এড়িয়ে বিদ্রোহীদের সসম্মানে আত্মসমপর্ণের জন্যে ড্যানার সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী পাঠালেন। সাদা পতাকা হাতে তাঁরা এগিয়ে গেলেন যুদ্ধমন্ত্রকের দিকে। এঁদের মধ্যে একজন ছিলেন রমের পূর্বতন কমান্ডার মেজর জেনারেল ফ্রাঞ্জ জেভার রিটার ফন এপ। ১৯১৯-এ মিউনিখে কমিউনিস্টদের দমনে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল ‘ফ্রাইকোয়া এপ’ অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। পরে নাজিদের মুখপত্রের জন্যে তিনি ষাট হাজার মার্ক জোগাড় করে দিয়েছিলেন। চরম দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে তিনি বিশেষ সম্মাননীয় এক ব্যক্তিত্ব। এপ পরিস্থিতি আরও একবার ব্যাখ্যা করলেন রমকে। বাইরে থেকে আরও সেনা আসছে। কোনও অবস্থাতেই রমের দল আত্মসমর্পণ ছাড়া জীবিত বাইরে বের হতে পারবে না। কিন্তু রম লুডেনডর্ফ ছাড়া আর কারও আদেশে তাঁর জায়গা থেকে নড়বেন না।
“কিন্তু এ তো আপনাদের নৈতিক জয়। বার্লিন ভয় পেয়ে ধারা ৪৮ জারি করেছে। ফন সিক্ত্ এখন সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রে।” এক মধ্যস্থতাকারী যুক্তি দিলেন। রম কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করে বললেন, “বেশ। আমি ড্যানারের সঙ্গে কথা বলতে চাই।” দু-ঘণ্টার জন্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হল দুই পক্ষ। এর মধ্যে রাজ্য পুলিশের ছাউনিতে রমের সঙ্গে মধ্যস্থতায় বসবেন ড্যানার।
কিন্তু এপরা যুদ্ধমন্ত্রকের বাইরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই গুলি চলল। কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছিল, এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে পরে। বহু বছর পরে রম স্বীকার করে নিয়েছিলেন তাঁর দলের উগ্র এক সদস্য এর জন্যে দায়ী। যাই হোক, প্রথম গুলিটা চলার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে সতেরো রাউন্ড গুলি চলে। যুদ্ধমন্ত্রকের পূর্বদিকে রমের দলের এক যুবক, মার্টিন ফাউস্টের ডান কানে গুলি লাগে। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর ঊর্ধ্বতন লেফটেনান্ট থিওডোর ক্যাসেলা। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। হিমলার এবং তাঁর সঙ্গীরা দুজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনেন। ফাউস্ট ততক্ষণে মৃত। ক্যাসেলা সেদিন বিকালে এক হাসপাতালে মারা যান। বিয়ার হল অভ্যুত্থানে রক্তের দাগ লাগল অবশেষে।
ততক্ষণে খবর এসেছে পোনারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। হিটলারের কথামতো তিনি পুলিশের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন ফ্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিতে। কিন্তু বানজার এবং ইমহফ তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। গ্যোরিং বন্দি হওয়া মেয়র এবং তাঁর পারিষদদের দিকে দেখিয়ে বললেন, “আমাদের সঙ্গে এঁদেরও নিয়ে যাওয়া হোক। মিউনিখ পুলিশ চাইলে ফ্রিক আর পোনারের বদলে এদের নিতে পারে। আর নেহাতই গুলি চালালে এদের এগিয়ে দেওয়া হবে।” হিটলার মাথা নাড়লেন। ফ্রিক এবং পোনারের মুক্তির দাবিতে পণবন্দি হিসাবে এই বন্দিদের বিয়ার হলে রাখা যেতেই পারে। কিন্তু এঁদের কাউকেই শহিদের মর্যাদা দিতে তিনি রাজি নন।
ঠিক বারোটায় হাজার দুয়েক নাজি পার্টি সমর্থক এবং কাম্ফবুন্ডের সদস্যরা বারগারভয়কেলার সামনে একত্রিত হলেন। পুরোভাগে আছেন হিটলার, তাঁর ডানে লুডেনডর্ফ, বামে সুবনার-রিখটার। তাঁদের ঠিক পেছনেই ক্রিবেল, উলরিখ গ্রাফ এবং গ্যোরিং। শেষ মুহূর্তে এসে যোগ দিয়েছেন আলফ্রেড রোজেনবার্গ। সুবনার-রিখটার তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন, “পরিস্থিতি খুব ভালো নয়।” তারপর হিটলারের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এই হয়তো আমাদের শেষ অভিযান বন্ধু।”
তুষারপাত থেমেছে তখন। মেঘলা আকাশ চিরে একচিলতে রোদ এসে পড়েছে সামনের রাস্তায়। সারা শহর এখন মিউনিখ পুলিশের দখলে। হিটলারের ভাগে শুধু বিয়ার হল আর যুদ্ধমন্ত্রক।
শুরু হল মিছিল।
নাজিরা হাঁটছে। সারারাত জেগে, না খেয়ে অধিকাংশই দুর্বল। তবু গলা মিলিয়ে গাইছে তাদের দলের গান ‘স্টুর্মলিদ’— “জাগো জার্মানি, ছিন্ন করো শিকল…” এই গানের রচয়িতা ডিয়েট্রিখ এখার্টও মিছিলে হাঁটছেন। রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক। তার মধ্যে দিয়ে চলেছে নাজিদের শোভাযাত্রা। সমর্থকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে নানা জায়গা থেকে। কয়েকজন এসেছে ট্রাম্পেট আর ড্রাম নিয়ে। জার্মান বিপ্লবের পোস্টার হাতে এগিয়ে চলেছে মানুষ। যেন আরেকটা অক্টোবরফেস্টের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
পনেরো মিনিটের মধ্যে হিটলারের মিছিল গিয়ে পৌঁছল ইজা নদীর ওপর লুডউইগ ব্রিজের কাছে। পুলিশ ঘিরে রেখেছে জায়গাটা। বন্দুক তাক করা শোভাযাত্রার দিকে। লেফটেনান্ট গেয়র্গে হুফলার সতর্ক করলেন। আর এক পা এগোলেই গুলি করা হবে। গ্যোরিং এদিক থেকে চিৎকার করে উঠলেন— “গুলি চালাবে কাদের ওপর? তোমার দেশের মানুষের ওপর!” পুলিশের মুহূর্তের দ্বিধার মধ্যেই নাজিরা গিয়ে পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিয়ে তাদের ধরাশায়ী করল। আঠাশজন পুলিশ অফিসারকে বন্দি করে বিয়ার হলের দিকে রওনা দিল একটা দল। বাকিরা এগিয়ে চলল ব্রিজ পার করে।
ওদিয়নপ্লাৎজের কাছে পুলিশ গতিরোধ করল মিছিলের। মেশিনগান ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে। রাইফেল, পিস্তল, বেয়নেট ওঁচানো হিটলারদের দিকে। মাঝে একটা সরু রাস্তা, সেটা পেরিয়ে গেলেই নাজিরা চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলবে। তাই পুলিশ এবার মরিয়া, কারণ এই মুহূর্তেই না রুখে দিলে সংখ্যাধিক্যে নাজিদের হাতে তাদের পর্যুদস্ত হতে হবে। পুলিশের নেতৃত্বে থাকা ফার্স্ট লেফটেনান্ট মাইকেল ফ্রাইহার ফন হোডিন তাঁর বাহিনীকে তৈরি থাকতে বললেন।
হিটলারের দেহরক্ষী উলরিখ গ্রাফ চেঁচিয়ে উঠলেন— “গুলি চালিও না। হিটলার আর লুডেনডর্ফ আসছেন।” হিটলার তখন সুবনার রিখটারের হাত ধরে এগিয়ে চলেছেন পুলিশের দিকে। ওদিকে লুডেনডর্ফও বন্দুকের দিকে হেঁটে চলেছেন। প্রথম গুলিটা কে চালিয়েছিল কেউ নিশ্চিত নয়। হোডিনের মতে নাজিদের দিক থেকেই প্রথম গুলিটা চালানো হয়েছিল। সার্জেন্ট নিকোলাস হলওয়েগের মাথায় এসে লাগে। যদিও নিকটবর্তী বেশ কিছু পথচারীর মতেই প্রথম গুলি চলার সময় পুলিশ বন্দুক নিয়ে প্রস্তুত ছিল। হিটলারের মিছিল সে তুলনায় যথেষ্ট বিশৃঙ্খল অবস্থায় এগোচ্ছিল। বাস্তব যাই হোক, ওই একটা গুলিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওদিয়নপ্লাৎজ রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মুহূর্তের মধ্যে।
হিটলার ভূপতিত হন প্রথমেই। খুব সম্ভবত গ্রাফ তাঁকে গুলি থেকে বাঁচাতে টেনে ফেলে দিয়েছিলেন বা যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতায় নিজেই প্রাণ বাঁচাতে একদিকে লাফিয়েছিলেন। তিনি অনুভব করলেন বাম কাঁধ যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে হল তিনি গুলিবিদ্ধ। কিন্তু তাঁর শরীরে লেগে থাকা রক্ত সুবনার-রিখটারের। ফুসফুসে গুলি লেগে তৎক্ষণাৎ মৃত্যু হয়েছে তাঁর। গ্রাফ হিটলারকে আড়াল করতে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেছেন। আরও কিছু মানুষ রাস্তায় ইতিউতি পড়ে আছে। একজন বিশালদেহী মানুষ ওভারকোটে ঢাকা, তাঁকে লুডেনডর্ফ মনে হল। গ্যোরিং-এর ঊরুতে গুলি লেগেছে। তিনি হামাগুড়ি দিয়ে একটা পাথরের মূর্তির আড়ালে আশ্রয় নিয়েছেন। লেফটেনান্ট কর্নেল হারমান ক্রিবেল দেখলেন একজন পুলিশ অফিসার পড়ে থাকা একটা দেহর দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনবার গুলি করলেন। চারদিক থেকে গুলি ছুটে আসছে। নিজেকে বাঁচাতে একটা দেওয়াল ঘেঁষে মাটিতে শুয়ে পড়লেন তিনি। এস এ-র কমান্ডার উইলহেল্ম্ ব্রুগনার প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে আশ্রয় নিলেন নিকটবর্তী এক কেমিস্টের দোকানে। চার্চ থেকে নিয়ে আসা অধিকাংশ বন্দুকেরই পিন সরিয়ে দিয়েছে কেউ, সম্ভবত চার্চের সন্ন্যাসীদের অন্তর্ঘাত। তাঁরা অস্ত্র তোলার সুযোগই পেলেন না সেভাবে। নাজিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চতুর্দিকে ছুটে চলেছেন। কেউ কাফেতে আশ্রয় নিচ্ছেন, কেউ রেস্তোরাঁয়। ওবারল্যান্ডের নেতা ডক্টর ফ্রেডরিখ ওয়েবার একদিকের দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে কাঁদছেন। কথিত আছে, লুডেনবার্গ নাকি মাথা উঁচু করে বন্দুকের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও একটাও গুলি তাঁকে ছুঁতে পারেনি। বাস্তবে তাঁর ভ্যালে তাঁর সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজে গুলি খেয়েছিলেন প্রভুকে বাঁচাতে। এক মিনিটেরও কম সময়ে ঘটে গেল পুরো ঘটনাটা। চার পুলিশকর্মীসহ কুড়িজন মৃত। শতাধিক আহত। সবকিছুর মাঝে দাঁড়িয়ে হতবাক লুডেনডর্ফ। পরাজিত নায়ক। তিনি ভাবতেও পারেননি তাঁর দেশের বাহিনী তাঁর ওপর গুলি চালাতে পারে। মূহ্যমান জেনারেল আত্মসমর্পণ করলেন। পুলিশ ততক্ষণে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় শুরু করেছে।
আগুনের মতো খবর ছড়িয়ে পড়ল হিটলারের বিয়ার হল অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন