ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

শান্তনু দাশ

দিল্লির নির্জন সড়কে তিনজন আততায়ীর পিছনে দৌঁড় দিয়ে চলেছে যশ। মাঝেমধ্যে তিনজন আততায়ী নিজেদের আত্মরক্ষার তাগিদে, হাতে রাখা বুলেট গান দিয়ে যশকে লক্ষ করে গুলি ছুঁড়ে চলেছে। যশ কোনোরকমে গুলি বাঁচিয়ে তাদের পিছনে দৌঁড়ে চলেছে। সড়ক পেরিয়ে বড় রোডে উঠতেই যশ দেখে তিনজন আততায়ী উধাও। বড় রোড আর দশহাত দূরে সোলার লাইটপোস্ট। ডায়ে বাঁয়ে ঢুকে গেছে অন্ধকার গলি। মুহূর্তের মধ্যে তিনজন পাশের অন্ধকার গলি থেকে বেরিয়ে এসে যশের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় তুমুল মারামারি। হঠাৎ একজন অপরিচিত ব্যক্তি বয়স প্রায় যশেরই মতো, সে ওই দৃশ্য দেখে বাইক থামিয়ে, বাইক থেকে নেমে তিনজনের মধ্যে একজনের চুলের মুঠি ধরে একঘুষি চালায়। অন্যদিকে যশ বাকি দুই আততায়ীর গলা ধরে রাস্তায় শুইয়ে ঠেসে ধরে। যশ ও সেই ব্যক্তি তিনজনকে মারধর করে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটায় দিল্লির সড়কে। ইতিমধ্যে পুলিশ ভ্যান আসতেই যশ ওই তিনজনকে ভ্যানে তুলে দিয়ে, সেই অপরিচিত ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বলে, “থ্যাঙ্কস।”

— “আপ ঠিক হ্যায়?” ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে।

— “জী।”

ব্যক্তিটি যশের দিকে হাতবাড়িয়ে বলে ওঠে, “রূপম সেন সাব ইন্সপেক্টর ওফ দিল্লি ব্রাঞ্চ।”

— “বাঙালি?” যশ আনন্দে জিজ্ঞাসা করে ওঠে।

— “তুমিও?”

— “যশ রায়চৌধুরী। ব্রাঞ্চ ইনচার্জ অফ কলকাতা।” বলেই দিল্লির সড়কের উপরে রূপম ও যশ একে অপরকে জড়িয়ে ধরে।

— “অজিত তুমি থানায় গিয়ে সেলে ঢোকাও আমি বাইক নিয়ে ঢুকছি।” পুলিশ ভ্যানের কনস্টেবলের কাছে গিয়ে যশ বলে ওঠে। অজিত মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ করে ওই তিন আততায়ী ও বাকি অফিসারদের নিয়ে ভ্যান স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে পড়ে।

রূপম পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। যশের দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট হাসি হেসে বলে, “কলকাতা থেকে এইখানে?”

যশ শার্টের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে বলে ওঠে, “সাতমাস আগে এক ব্যাঙ্ক ডাকাতি হয়। সেই সূত্রে দিল্লি আসা। তুমি কি কোয়াটারে থাকো?”

— “না।” রূপম উত্তরে বলে। “আমি পুষ্পক অ্যাপার্টমেন্টে থাকি।”

— “একাই নাকি, ফ্যামিলি নিয়ে?”

— “একাই। দুই মাসে তিনমাসে বাবা বোন আসে। তোমার বাইক কোথায়? বসো আমার বাইকে আমি ছেড়ে দিচ্ছি।”

যশ সামান্য হেসে বাইকের পিছনে বসতেই রূপম বাইক স্টার্ট দেয়। বাইক থামল হাইওয়ের একটা ধাবাতে। সেখানেই পুলিশ ব্রাঞ্চের কালো সাদা একটা বাইক দাঁড়ানো। যশ রূপমের বাইক থেকে নেমে নিজের সেলফোনের নম্বর দিয়ে বলে ওঠে, “দিল্লিতে আমি হোটেল গোল্ডেনে উঠেছি। কতদিন থাকতে হবে বলতে পারছি না। দেখা সাক্ষাৎ করো।”

কথাটা শুনে রূপম হেসে বলে ওঠে, “আরে তুমি না বললেও করতাম।”

যশ বাইকের কাছে এগিয়ে, বাইকের উপর বসে স্টার্ট দিয়ে দিল্লি ব্রাঞ্চের পথ ধরে।

রাত এগারোটাতে সদর দরজায় ডোরবেলের নয় সজোরে দরজা ধাক্কানোর শব্দ শুনে দেহি ঘর থেকে বেরিয়ে দোতলার করিডরে এসে দাঁড়ায়। দেহির এখনও রাতের খাওয়া হয়নি। বাড়িতে কেবল দুজন মেয়ে। দেহির পরনে সী গ্রীন রঙের সিল্কের নাইটগাউন, চুল পুরো ছাড়া। দরজা ধাক্কানোর শব্দ শুনে রান্নাঘরের কাজ ফেলে দৌড়ে মঞ্জু সদর দরজার কাছে দরজা খুলতে এগিয়ে যায়। দরজা খুলতেই চারজন লম্বা চওড়া লোক ড্রয়িং প্লেসে ঢুকেই তার মধ্যে একজন মঞ্জুর চুলের মুঠি চেপে ধরে বলে ওঠে, “তোর মালকিন কই? বল মালকিন কই?”

— “কে মালকিন?” আর্তনাদ করে মঞ্জু জিজ্ঞাসা করতেই লোকটি মঞ্জুর মুখ চিপে বলে ওঠে, “দেহি।”

— “ওর চুল আর মুখটা ছাড়। আমিই দেহি।” সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দেহি গম্ভীর গলায় বলে ওঠে।

লোকটি মঞ্জুকে মেঝেতে ছিটকে ফেলে দেহির কাছে এগোতেই দেহি ড্রয়িং প্লেসের সোফায় গিয়ে ডান পায়ের উপর বাঁপা-টা তুলে নিয়ে বসে ঘরে আগত চারজন ব্যক্তির প্রতি বলে ওঠে, “বল।”

চারজনের মধ্যে একজন দেহি সামনে একটা বড় ছুরি বের করে বলে ওঠে, “খুব দেমাগ নারে মাগী? এটাই ফার্স্ট আর লাস্ট বার বলে দিচ্ছি, প্রমীলার কেস ছাড়তে হবে নইলে ওই কোর্ট রুমের বাইরে নাঙ্গা করে রেপ করে ছেড়ে দেব। তারপর কোর্টে প্রমীলার নয় নিজের রেপ কেস নিয়েই লড়তে হবে।”

শান্ত ভাবে কথাগুলো শুনে দেহি বলে ওঠে, “কতজন রেপ করবে?”

কথাটা শোনামাত্রই চারজন দেহির দিকে তেড়ে গিয়ে সোফার থেকে দেহির লম্বা চুল ধরে দেহিকে তুলে ধরতেই দেহি মঞ্জুর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে ওঠে, “মঞ্জু বাইরে গিয়ে দরজা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকো। এখন এখানে বড়সড়ো একটা রেপ হবে আর হ্যাঁ আমি যতক্ষণ না বলব, দরজা খুলবে না।”

কথাটা শুনেই মঞ্জু দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে সদর দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে, জোড়হাত করে বলে ওঠে, “মা তারা, বাঁচিয়ে দিয়ো।”

দরজা বন্ধ হতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভিতর শুরু হয় ঘুষি-লাথি-চড়ের শব্দ। বলাবাহুল্য কাচ ভাঙার শব্দ, ডাইনিং টেবিলের উপরে রাখা কাচের পাত্রগুলো মেঝেতে পড়ে ফাটার শব্দ হতেই মঞ্জু মাথায় হাত দিয়ে, “হায় হায় রে, সব ভেঙে ফেলল। এবার ঘরের ওই কাচের টুকরোগুলো আমায় তুলতে হবে।” মাঝে মধ্যে দরজায় ছিটকে এসে পড়ার শব্দে মঞ্জু আতঙ্কে বিড়বিড় করে বলে ওঠে, “দরজাটা না ভেঙে ফেলে।”

মিনিট কুড়ি এইরকম চলার পর “মঞ্জু দরজা খোলো।” ঘরের ভিতর থেকে দেহি বলে ওঠে। কথামতো মঞ্জু দরজা খুলে ভয়ে দরজার থেকে সরে যেতেই চারজন গুণ্ডা ছিটকে বেরিয়ে আসে মার্বেল শানে। পুরো শরীর ফেঁটে ফুটে, রক্তারক্তি হয়ে একাকার। চারজন গুণ্ডা বাইরে বেরিয়ে আসতেই মঞ্জু তাদের দেখে লজ্জায় দুহাতে মুখ ঢাকে। চারজনের দেহে জামা-প্যান্ট তো দূরের কথা একটা সুতো পর্যন্ত নেই। দেহি দরজার কাছে এসে বাঁহাতটা কোমরের কাছে রেখে দাঁড়াতেই, “মা...!” কান্নার সুরে নিজের গুপ্ত অঙ্গ দুইহাতে ডেকে চারজন বলে ওঠে।

দেহি গম্ভীর গলায় বলে ওঠে, “মনে পড়েছে মায়ের কথা? এরপর থেকে কোনো মেয়েকে রেপ করতে গেলে সেই জায়গায় নিজের মাকে ভেবে নিয়ে তারপর রেপ করতে এগোবে অথবা মায়ের বদলে আমাকেও মনে করে এগোতে পারো কারণ আমি ভারতীয় নারী কিন্তু সবার উপর ভারী, নট কিসমাত কি মারি।”

— “না না না...” একত্রে মাথা নাড়িয়ে চারজন বলে ওঠে।

— “হুম। চল ভাগ।”

— “আমাদের জামা প্যান্ট।”

— “এমনিই ভালো লাগছে। চল ভাগ।”

— “ম্যাডাম দিন না।”

— “যাবি, নাকি আমি ছুরি দিয়ে আসল জায়গাগুলো ধরে ধরে কাটতে শুরু করব? মঞ্জু, রান্নাঘর থেকে সব থেকে ধারালো ছুরিটা নিয়ে এসো তো।”

কথাটা শোনামাত্রই চারজন দৌড়ে সোনার তরী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। দেহি একদৃষ্টে ওই চারজনের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে ওঠে, “হুঁ, আমাকে রেপ করবে। দেহিকে রেপ করতে গেলে আসল জায়গায় শুধু জোর রাখলে চলবে না, শরীরের জোর থাকতে হবে।” কথাটা বলে মঞ্জুর দিকে একটা তীক্ষ্ণ নজর ফেলে হেঁয়ালির সুরে বলে ওঠে, “এই যে বাড়ির স্যাটেলাইট, আজকের ঘটনা যদি তুমি তোমার মামা মামি আর তোমার দাদাকে জানিয়েছ, তাহলে মনে রেখো এই বাড়িতেই উলটো করে ফাঁসি দিয়ে ঝোলাব।”

— “না, না, আমি কিছু দেখিনি, আমি কিছু শুনিনি, আমি কিছু বলিনি।” বলতে বলতে মঞ্জু ঘরে ঢুকে যায়।

**************************************

কোর্টরুমের সামনে বড় দুটো সাদা ও ধূসর রঙের গাড়ি দাঁড়াতেই গাড়ি থেকে দত্তবাড়ির এক-একজন সদস্যরা নামল। দত্তবাড়ির সপক্ষে ফাইট করবেন অ্যাডভোকেট নিলেশ বাড়ুই। পাঁচবছর আগে এই নিলেশ বাড়ুই প্রমীলার বিরুদ্ধে যাবতীয় নথি পেশ করে প্রমীলাকে জেলে পাঠায়। কিছুক্ষণের মধ্যে নীল রঙের বড় পুলিশ ভ্যান আদালতের সামনে দাঁড়ায়। দরজা খুলতেই নেমে আসে দত্তবাড়ির বড়বউ প্রমীলা।

শুভ্রা খুব হন্তদন্ত হয়ে দেহির ঘরে ঢুকতেই দেখে দেহি চেয়ারের উপরে সিগারেটে ক্রমাগত টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে চলেছে। কোর্টে দেহি বেশিরভাগ সময় সাদা ফুল স্লিভ হাইনেক কুর্তি ও সাদা ল্যাগিন্স, সাদা রঙের টাই আর তার উপরে স্লিভলেস কালো লয়ার রৌ চাপায়। কিন্তু আজ দেহি দুধ সাদা একটা গার্ডেন সিল্কের শাড়ি পড়েছে। মাথার চুল টাইট করে খোঁপা করে কালো কাঁটা গোঁজা।

— “কীরে এখনও তোর ফোঁকা হল না।” শুভ্রা টেবিলের সামনে এসে জিজ্ঞাসা করে। “টেনশন হচ্ছে?” শুভ্রার শেষ কথাটা শুনে দেহি আড়চোখে শুভ্রার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, “টেনশন কীসের? ভাবছি ওপেনিংটা কার স্টাইলে করব, শচীন নাকি সেওয়াগ?”

— “হিডেন গিলক্রিস্টের স্টাইলে দিস। ওঠ এবার।”

টেবিলের উপর থেকে কালো লয়ার রৌটা হাতে তুলে নিয়ে ঘর থেকে দেহি বেরিয়ে যায় অন্যদিকে। শুভ্রা তিনটে বড় ফাইল টেবিলের থেকে তুলে নিয়ে দেহির পিছন পিছন বেরিয়ে আসে।

কোর্টরুমের লোকজনের মধ্যে একটা ধিমি কলরব বহুক্ষণ ধরেই চলছে। কয়েকজন প্রেসের লোকজনও হাতে নোটপ্যাড ও পেন নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে চলেছে। বারে বসে অ্যাডভোকেট নিলেশ বাড়ুই ভালোমতো কাগজপত্র দেখে নিচ্ছে অন্যদিকে দেহি বারের চেয়ারে বসে একদৃষ্টে প্রমীলার দিকে তাকিয়ে। প্রমীলা কয়েকজন লেডি কনস্টেবলের মাঝে বসা। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে জজসাহেব আসতেই কোর্টরুমের কলতান বন্ধ হয়ে সবাই একসঙ্গে উঠে দাঁড়ায়।

— “প্লিজ বী সীটেড।” নিজের আসনে বসে জজসাহেব বলে ওঠে। সামনে রাখা কাগজপত্রে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে জজসাহেব অ্যাডভোকেট নিলেশ বাড়ুইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, “মিঃ বাড়ুই ইউ মে।” জজসাহেবের অনুমতি পাওয়া মাত্রই নিলেশ বাড়ুই নিজের জায়গা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, “সংসার একটা পবিত্র গণ্ডি। যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু আসামি প্রমীলা দত্ত সেই স্ত্রী ধর্ম কালিমালিপ্ত করেছে। স্বামীর পিঠের পিছনেই নিজের দেওর কৌশিক দত্তের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রেখেছিলেন। গত পাঁচবছর আগে সন্তোষপুরের দত্তবাড়ির কর্তা শ্রী মহেন্দ্রনাথ দত্তর মধ্যম পুত্র কৌশিক দত্ত ও বাড়ির কাজের লোক শম্ভু নাথ খুন হন এবং খুন দুটি করেছিলেন এই বাড়ির বড়বউ প্রমীলা দত্ত। যাবতীয় প্রমাণ আমিই আদালতে পেশ করেছিলাম এবার আমার বুদ্ধিমতি আইনজীবী শ্রীমতি দেহি ম্যাডাম এর মধ্যে নতুন করে কী পেলেন তা আমার জানা নেই। কেনই বা পাঁচবছর পর ওঁর মনে হল যে প্রমীলা দেবী নির্দোষ, যেইখানে সব প্রমাণ আগেই পেশ হয়ে বসে আছে। অতএব আমার আদালতের কাছে একান্ত অনুরোধ, আদালতের সময় ব্যয় না করে এই মামলা খারিজ করা হোক।” কথাগুলো বলে নিলেশ বাড়ুই নিজের জায়গায় বসে পড়ে।

নিলেশ বাড়ুইয়ের বক্তব্য শুনে নিয়ে জজসাহেব দেহির দিকে তাকিয়ে অনুমতি জানাতেই দেহি নিজের জায়গা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে খুব শান্ত গলায় প্রত্যুত্তরে বলে, “মাই লর্ড, আমার বন্ধুবর বললেন, সংসার একটা বড় গণ্ড। সঠিক। স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক, তাও ঠিক। তাহলে সংসারে যাবতীয় কর্তব্য দুইজনের মধ্যেই বন্টন হওয়া উচিত। এ কীরকম নিয়মসিদ্ধ সমাজ যেখানে সংসারের মান, বৃদ্ধি, বৃত্তি সবকিছু স্ত্রীয়ের কাছেই থাকবে আর স্বামীরা তার উপর ফৌজদারি করবে? প্রতিটা স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে নৈতিক সম্মান ও পবিত্রতা আশা করে। যখনই কোনো স্ত্রী সেটা পায় না তখনই সেই স্ত্রী সেটা পাবার জন্য অন্য পুরুষের কাছে যেতে বাধ্য হয়। সেটাই আশীষ দত্ত ও প্রমীলা দত্তের মধ্যে ঘটেছিল এবং আমি আমার সুযোগ্য বন্ধুবরকে জানিয়ে দিতে চাই পাঁচ বছর আগে যদি প্রমীলা দত্তের পক্ষ হতে অ্যাডভোকেট মল্লিকা রায় না দাঁড়িয়ে আমি দাঁড়াতাম তাহলে এই মামলা আজ এই আদালতে আসত না। কারণ গতবারের নথিতে এমন কিছু প্রমাণ নজরের বাইরে বেরিয়ে গেছে যেগুলো সেই সময় সামনে এলে প্রমীলা দেবীর জেল হতো না। এই মামলা খারিজ নয় সত্য প্রকাশ করার জন্য। আমি প্রমীলা দত্তের বেল আ্যপ্লিকেশন মঞ্জুর করার আবেদন আদালতে পেশ করেছি। সেই সূত্র অনুসারে আমি উইটনেস বক্সে, ফরেনসিক ডক্টর রাজীব মজুমদারকে ডেকে নিতে চাই।”

— “পারমিশন গ্রান্টেড।” জজসাহেব বলে ওঠে।

ডক্টর রাজীব মজুমদার কাঠগড়ায় এসে দাঁড়াতেই আদালতকর্মী একটা লাল শালুতে মোড়া গীতা তার সামনে রাখতেই ডক্টর মজুমদার সেটার উপর হাত রেখে সত্য বলার প্রতিশ্রুতি নেয়। দেহি রাজীব মজুমদারের কাছে এগিয়ে বলে ওঠে, “পাঁচ বছর আগে আপনি কৌশিক দত্ত ও শম্ভু নাথের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আদালতে তুলে দেন। তাই তো?”

— “হ্যাঁ।” ডক্টর মজুমদার বলে ওঠে।

— “আপনি সঠিক রিপোর্ট পেশ করেছিলেন?”

— “হ্যাঁ, একদমই।”

— “ভুল।” কথাটা বলেই দেহি জজসাহেবের দিকে ঘুরে বলে ওঠে, “মাই লর্ড, ডক্টর মজুমদারের পি.এম. রিপোর্ট অনুসারে, বিষ দেওয়া হয়েছিল কৌশিক দত্তকে। কিন্তু এই কেসের তদন্তে নতুন করে আবার পি.এম. রিপোর্ট করলে জানা যায় কেবল কৌশিক দত্ত নয় বাড়ির পুরোনো চাকর শম্ভু নাথকেও বিষ দেওয়া হয়েছিল। আচ্ছা ডক্টর মজুমদার কৌশিক দত্তকে যে বিষ দেওয়া হয়েছিল তা কীরকম ধরনের বিষ মানে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কীরকম সেটা আপনি রিপোর্টে জানাননি কেন? কেবলমাত্র পেস্টিসাইড বলে ছেড়ে দিয়েছিলেন কেন?”

— “আলাদা করে পেস্টিসাইডকে ডেসক্রাইব করব কেন?”

— “তার কারণ হল, কৌশিক দত্তকে পেস্টিসাইড বিষ দেওয়া হয়নি।”

দেহির কথাটা শোনামাত্রই আদালতের লোকেদের মধ্যে গুনগুন শব্দ উঠতেই, “সাইলেন্ট ইন দ্য কোর্ট।” জজসাহেব বলে ওঠে। “ইউ মে মিসেস দেহি।” জজ সাহেবের অনুমতি পেয়ে দেহি আবার জিজ্ঞাসা করায় ডক্টর মজুমদার উত্তরে বলে, “না। সেরকম কিছুই ছিল না।”

— “আচ্ছা। মাই লর্ড, আমি আদার উইটনেস বক্সে ফরেনসিক ডিপার্মেন্ট হেড ডক্টর মেধা দেশাই রায়কে ডেকে নিতে চাই।” দেহি বলে।

— “পারমিশন গ্রান্টেড।” জজসাহেবের অনুমতি পেয়ে মেধা ডক্টর মজুমদারের বিপরীত উইটনেস বক্সে এসে দাঁড়াতেই দেহি মেধার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে, “ডক্টর মেধা দেশাই রায়, আপনি নতুন করে পি.এম. রিপোর্ট করে কী তথ্য পেয়েছেন সেটা আদালতকে জানান।”

মেধা কোমলস্বরে বলে ওঠে, “মাই লর্ড কৌশিক দত্তকে যে বিষ দেওয়া হয়েছিল তার নাম হল রাইসিন। সেটা এক প্রকার ক্যাকটাস থেকে তৈরি হয়। এই বিষের প্রতিক্রিয়া মন্থর গতিতে। বিষপ্রয়োগের পর আক্রান্তকারীর দেহে আটচল্লিশ ঘণ্টা ধরে বিষক্রিয়া চলার পর স্নায়ুতন্ত্র বিকল করে তারপর মৃত্যু ঘটায়। এই বিষ পেস্টিসাইডের মতো কাজ করলেও একটি বিশেষ লক্ষণেই ধরা পড়ে এটি রাইসিন বিষ। সেই লক্ষণটি হল পায়ের তলা লাল হয়ে যাওয়া। যেটা গত পোস্টমর্টেম রিপোর্টে অ্যালার্জি বলে লেখা হয়েছিল।”

মেধার কথা শেষ হতেই দেহি সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে, “মাই লর্ড, সুতরাং কৌশিক দত্তকে বিষ দুই দিন আগে দেওয়া হয়েছিল খুনের দিন নয়।”

— “অবজেকশন মাই লর্ড।” মুহূর্তের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিলেশ বাড়ুই বলে ওঠে। “কৌশিক দত্তকে বিষ দুইদিন আগে দিয়ে লাভটা কী? আর যদি দুইদিন আগে দিয়েও থাকে তাহলে দুইদিন পর গিয়ে তাকে নাইলনের দড়িতে ঝোলানোর অর্থটা কী?”

— “বন্ধুবর, কারণটা হল এইটা যে, খুনি বিষ দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু বিষের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না জেনে। খুনি ভেবেছিল বিষ খাইয়েই মারবে কিন্তু যখন দেখল কৌশিক দত্ত বিষ খেয়েও দুইদিন ঠিক আছে তখনই সে ঠিক করল সে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেবে।”

— “তাহলে তো ঘুরে সেই প্রমীলা দেবীর দিকেই যাচ্ছে কারণ বাড়ির রান্নার দায়িত্ব প্রমীলা দেবীই করতেন।”

— “দাঁড়ান দাঁড়ান, এত তাড়াতাড়ি ভেবে ফেলা শরীর ও মাথার পক্ষে ভালো নয়।” কথাটা বলে দেহি, ডক্টর মজুমদার ও মেধার দিকে ফিরে তাদেরকে আসতে বলে জজসাহেবের দিকে তাকিয়ে দেহি বলে ওঠে, “মাই লর্ড আমি শঙ্করী পালকে উইটনেস বক্সে ডেকে নিতে চাই।”

শঙ্করী উইটনেস বক্সে এলে দেহি জিজ্ঞাসা করে, “শঙ্করী দেবী, আগেরবারের বয়ানে আপনি বলেছিলেন দত্তবাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে তারপর ছাদে কৌশিক দত্তের সাথে দেখা করতে যেতেন প্রমীলা দেবী। কিন্তু খুনের রাতে উনি ছাদে যাননি।”

— “হ্যাঁ।” শঙ্করী বলে।

— “আচ্ছা কৌশিকবাবু তো নিজের ঘরেও প্রমীলা দেবীকে ডাকতে পারতেন সেটা না করে ছাদে কেন?”

— “মেজদার পাশের ঘরটাই কত্তাবাবার।”

— “কত্তাবাবা মানে মহেন্দ্র নাথ দত্তের?”

— “হ্যাঁ। সেইজন্যই হয়তো।”

— “বুঝলাম। খুনের রাতে প্রমীলা দেবী কৌশিকবাবুর সাথে দেখা করতে না গিয়ে কার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন?”

দেহির প্রশ্নে কিছুক্ষণ চুপ থেকে খুব আস্তে করে শঙ্করী বলে, “দীপিকা বউদির সাথে দেখা করতে।”

— “আর-একটু জোরে বলুন।”

— “দীপিকা বউদির সাথে দেখা করতে।” কথাটা জোরে বলতেই দেহি জজের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বলে ওঠে, “পয়েন্ট টু বী নোটেড মাই লর্ড।”

জজের দিক থেকে নজর সরিয়ে শঙ্করীর দিকে তাকিয়ে দেহি আবার প্রশ্ন করে, “এই কথাটা আপনি আগেরবারে জানা শর্তেও আদালতে বলেননি কেন?”

— “প্রমীলা বউদি বারণ করে দিয়েছিল।” শঙ্করীর কথা শেষ হতে না হতেই অ্যাডভোকেট বাড়ুই বেশ জোরের সাথেই বলে ওঠে, “তাহলে মাই লর্ড এখনকার কথাটা যে শঙ্করী দেবী সত্যি বলছেন তার প্রমাণ কী? প্রমীলা দেবীকে বাঁচাতে এটা মিথ্যাও হতে পারে। “

— “হ্যাঁ হতেই পারে।” দেহি প্রত্যুত্তরে বলে। “তাহলে সত্যি না মিথ্যা সেটা জানার জন্য দীপিকা দত্তকে উইটনেস বক্সে ডেকে নেওয়াই ভালো নয় কি বন্ধুবর?”

শঙ্করী কাঠগড়া থেকে নেমে যেতেই জজসাহেবের অনুমতি নিয়ে দেহি দীপিকা দত্তকে কাঠগড়ায় আনে। দেহি সামান্য হাসি নিয়ে দীপিকার কাছে এগিয়ে গিয়ে খুব শান্ত গলায় বলে ওঠে, “দীপিকা দেবী কৌশিকবাবুর খুনের রাতে, আপনার সাথে প্রমীলা দেবী দেখা করতে গিয়েছিল?”

দেহির প্রশ্নের উত্তর দীপিকা মুখে কিছু না বলে মাথা নাড়িয়ে খুব ধীরে “হ্যাঁ” করতেই দেহি সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, “কটার সময়?”

— “সাড়ে এগারোটা।”

— “বিবাহিত জীবন কত বছরে পড়ল?”

— “নয়।”

— “সন্তান?”

— “হয়নি।”

— “কী কথা হয়েছিল আপনাদের মধ্যে?” দীপিকা প্রশ্নটা শুনে চুপ করে যায়। দেহি বাঁ ভ্রূটা কোনাকুনিভাবে কপালের উপর তুলে নিয়ে বলে, “আমি বলছি। যদি কোথাও ভুল হয় শুধরে দেবেন কেমন? মাই লর্ড দত্তবাড়ির বড় ছেলে হলেন আশীষ দত্ত। আজ থেকে চোদ্দো বছর আগে আশীষ বাবুর সাথে প্রমীলা দেবীর বিয়ে হয়। বিয়ের পাঁচ বছর পরও যখন প্রমীলা দেবী মা হলেন না, তখন প্রমীলা দেবীকে বাজা মনে করে তার অনুমতি না নিয়েই মহেন্দ্রনাথ দত্ত আশীষ বাবুর সাথে দীপিকা দেবীর বিয়ে দেন। একই বাড়িতে দুই স্ত্রী নিয়ে আশীষ বাবু থাকতে শুরু করেন। কিন্তু দীপিকার ক্ষেত্রেও সেটাই হল। দীপিকা দেবীও মা হতে পারলেন না। তাহলে কিছুক্ষণের জন্য আমি ধরে নিলাম, আশীষ বাবুর স্পার্মকাউন্ট কম হওয়ায় তিনি সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম। এটা প্রমীলা দেবীও জানতেন আর দীপিকা দেবীও বুঝে গিয়েছিল। স্বামী যাতে কোনোদিন নিজেকে অক্ষম মনে না করেন তার জন্য প্রমীলা দেবী ওইদিন রাতে দীপিকা দেবীর সাথে দেখা করে জানায় কৌশিকবাবুর সাথে ইনটিমেট হয়ে প্রেগন্যান্ট হতে।”

কথাটা শেষ হতেই মুহূর্তের মধ্যে আদালতে আবার গুঞ্জন আরম্ভ হয়। জজসাহেব হাতুড়ি মেরে আদালত পরিবেশ শান্ত করে দেহিকে বলতে বলায় দেহি আবার বলতে শুরু করে।

— “প্রমীলা দেবী আগেই কৌশিক বাবুর সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করে ওঁকে কনভিন্স করে রেখেছিলেন। বাকি ছিলেন দীপিকা দেবী। তিনিও রাজি হলেন।”

দত্তবাড়ির সকল সদস্যের মুখ যেন পাথর হয়ে গেছে। ভরা আদালতে দেহি দত্তবাড়ির লজ্জাবস্ত্র যেন একটানে খুলে ফেলেছে। দেহি, দীপিকার কাছে এগিয়ে গম্ভীরস্বরে জিজ্ঞাসা করে, “আপনার সাথে ওই দিন রাতে কৌশিকবাবুর কী কথা হয়েছিল?”

দীপিকা মাথা নত করে চুপ করে থাকতেই দেহি বিনয়ীসুরে বলে, “দীপিকা দেবী, আমি এক মেয়ে হয়ে আপনাকে বলছি, পরিস্থিতির শিকার হয়ে আপনি কাজটা করেছিলেন, যেটা অন্যায় নয়। আপনার সম্মান রক্ষার্থে ওই মহিলাটি এত বছর চুপ করে ছিল। আজ ন্যায় বিচার চাইছে সে।”

দীপিকা চোখ তুলে একবার প্রমীলার দিকে তাকিয়ে নিয়ে বলে ওঠে, “ওই বাড়িতে বিয়ের পর দিদি ছাড়া কেউ আমাকে বোঝেনি। যা যা বললেন সব সত্যি। পুরোটা সত্যি। আমি ওই দিন রাতে কৌশিকের সাথে ছাদে দেখা করতে যাই। আমাদের মধ্যে আশীষকে নিয়ে অনেক কথা চলে আর তারপর...”

দেহি হাত তুলে দীপিকাকে থামিয়ে বলে ওঠে, “আপনারা একে অপরের সাথে ইনটিমেট হন?”

— “হ্যাঁ।”

— “একটা প্রশ্ন, ওই সময় কৌশিকবাবু গেঞ্জি পড়েছিলেন নাকি খুলে ছিলেন?”

— “অবজেকশন মাই লর্ড।” মুহূর্তের মধ্যে বাড়ুই বাবু বলে ওঠে। “দেহি দেবী ভরা আদালতে নোংরা ও অবান্তর প্রশ্ন করছেন। ওই সময় কৌশিক দত্ত জামা, গেঞ্জি পড়ে ছিল কিনা কি পড়েনি, এসব এই কেসের সাথে কী সম্পর্ক?”

— “বন্ধুবর, সম্পর্ক আছেই বলেই প্রশ্নটা করেছি। কারণ ফরেনসিকে কৌশিক দত্তের গেঞ্জিতে এমন একটা সূত্র পাওয়া গেছে যেটা গতবারের মামলায় আদালতে পেশ করা হয়নি।”

— “অবজেকশন ওভাররুল। মিসেস দেহি ইউ মে প্রসিড।” জজ সাহেব বলে ওঠে।

— “থ্যাঙ্ক ইউ মাই লর্ড।” দেহি বলে। “বলুন দীপিকা দেবী কৌশিকবাবু গেঞ্জি পড়েছিলেন নাকি পড়েননি?”

— “পড়েননি।”

— “আপনি নীচে এলেন কখন?”

— “ঘড়ি দেখিনি, তবে আন্দাজ একটা।”

— “মাই লর্ড কৌশিক বাবুর খুনের সময় রাত্রি দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে। বিষের প্রভাব শুরু করে তা ভয়াভয় রূপ নেয় দেড়টার থেকেই। কৌশিকবাবুর গেঞ্জিতে ডক্টর মেধা চোখের জলের স্যাম্পেল পায় যেটা প্রথমে প্রমীলা বা দীপিকা ভেবে উনি তাদের চোখের জল নিয়ে টেস্ট করে। কিন্তু টেস্ট রিপোর্টে সেই চোখের জল দুইজনের মধ্যে কারোর নয়। অতএব ওই রাতে দীপিকা দেবী নেমে আসার পর আরও একজন ছাদে গিয়েছিল। অন্যদিকে প্রমীলা দেবী ওইরাতে নিজের ঘরে শঙ্করীর দেবীর সাথে ছিল। গতবারের কেসে দীপিকা দেবী তার এই জবানবন্দি না দেওয়ায় অনায়াসে সন্দেহের বশে প্রমীলা দেবীকে খুনি ধরা হয়। এবার উইটনেস বক্সে আমি দত্তবাড়ির ছোটবউ দ্যুতি দেবীকে ডেকে নিতে চাই।”

দেহির কথা শেষ হতেই অ্যাডভোকেট নিলেশ বাড়ুই জায়গা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে, “মাই লর্ড দ্যুতি দেবীর শরীর খুবই খারাপ, তাই আজ আদালতে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। তার মেডিকেল রিপোর্ট আমি আদালতে পেশ করেছি।”

মেডিকেল রিপোর্টটা দেখে নিয়ে জজসাহেব দেহির দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, “শরীরের উপর তো কোনোকিছুই নয়। আগামী শুনানিতে আশা রাখছি দ্যুতি দেবী নিশ্চয়ই উপস্থিত থাকবেন। দেহি দেবী আপনার আর কোনো উইটনেস আছে আজকে?”

— “নো মাই লর্ড।”

— “নিলেশবাবু আপনার?”

— “নো মাই লর্ড।” নিলেশ বাড়ুই বলে।

— “পাঁচ বছর আগে যদি ফরেনসিক ডক্টর রাজীব মজুমদার সঠিক ভাবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তৈরি করত তাহলে এই খুনের রহস্য আরও তাড়াতাড়ি সমাধান হতো। কেবলমাত্র কয়েকটি সামান্য এভিডেন্টের উপর ভিত্তি করে এই কেসে একজনকে দোষী আরোপ দিয়ে শাস্তি দেওয়া আইনের কাছে দণ্ডনীয়। তাই দুইপক্ষকেই উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করতে কোর্ট আদেশ দিচ্ছে। আসল খুনি কে সেটা যতক্ষণ প্রমাণ না হচ্ছে ততক্ষণ প্রমীলা দত্তকে খুনি গণ্য করে তাকে শাস্তিভোগের আদেশ দেওয়া আদালতের নিয়মবিরুদ্ধ। তাই আদালত, দত্তবাড়ির মার্ডার কেসের রিওপেনের আর্জি এবং প্রমীলা দত্তের বেল মঞ্জুর করল। কোর্টের পরের শুনানি পরের মাসের বিশে এপ্রিল। দ্য কোর্ট ইস অ্যাডজৌর্ন্ড।”

কোর্টের বাইরে দেহি আসতেই প্রমীলা আর শঙ্করীর সাথে দেখা হয়। প্রমীলা দেহির কাছে এগিয়ে বলে ওঠে, “আমাকে তো বের করলেন কিন্তু দীপিকার উপর বড় বিপদ ঘনিয়ে এসেছে।” কথাটা শুনে দেহি সামান্য হেসে বলে, “প্রমীলা দেবী, নিশ্চিন্তে থাকুন। দীপিকা দেবীকে যেটা করতে বলেছি সেটা যদি করে তাহলে বিপদ ওঁর মাথায় নয় দত্তবাড়ির বাকিদের মাথায় গিয়ে পড়বে। যাইহোক আপনি থাকবেন কোথায়?”

— “ওই বাড়িতে বউদিকে ঢুকতে দেবে না। তাই ভাবছি আমি আমার ভাড়া বাড়িতেই বউদিকে নিয়ে রাখব।” শঙ্করী বলে।

— “সেটাই ভালো। কারণ কেসের ব্যাপারে বার বার দত্তবাড়িতে আমি গেলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে।”

দেহির কথাটা শেষ হতেই শুভ্রা পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলে ওঠে, “মামণি, ঘনশ্যাম তেওয়ারির কেস শুরু হবে।”

— “হ্যাঁ। প্রমীলা দেবী আপনি এখন শঙ্করীর সাথে ওর বাড়িতেই উঠুন। আমার আর-একজন ক্লায়েন্টের কেসে আমায় যেতে হবে। আপনি আজ রিহার্সালে আসুন ওখানে কথা হবে।” কথাটা বলে দেহি শুভ্রার সঙ্গে আলোচনা করতে করতে কোর্টের দিকে এগিয়ে যায়।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%