চকিতা চট্টোপাধ্যায়

টেলিভিশনটা খোলা আছে ঠিকই, কিন্তু কোনও চ্যানেলই দেখছে না নীল বর্মা। শুধু রিমোটটা নিয়ে ক্রমাগত সার্ফিং করে যাচ্ছে। আসলে থেকে থেকেই মনে ভেসে উঠছে গতরাতের ঘটনাটা! শেষপর্যন্ত টিভিটা অফ করে পায়ে পায়ে সে উঠে গিয়ে দাঁড়াল জানালার ধারে। আর দাঁড়ানো মাত্রই তার চোখে পড়ল উলটোদিকের ফ্ল্যাটের সেই জানালাটার ঠিক ওপরতলার একটা জানালার দিকে। সেখান থেকে মুখ বাড়িয়ে আছেন সকালে দেখা সেই মিঃ মিত্র ওরফে মিত্তিরমশাই! দেখে মনে হচ্ছে, পারলে যেন নিজের শরীরটাকেই বের করে আনেন জানালা দিয়ে! চট করে জানালা থেকে সরে এল নীল! ভদ্রলোক হয়তো এক্ষুনি তাকে দেখে ফেলতে পারেন। দ্রুত ঘরের আলোটা নিভিয়ে দিল নীল। তারপর সতর্কভাবে আবার এসে দাঁড়াল জানালায়। মিঃ মিত্র যখন ওইভাবে শোনার চেষ্টা করছেন, তখন একটা কিছু তো আবার ঘটেছে নিঃসন্দেহে! ভেতরটা আজকে কিছুটা দেখা যাচ্ছে। হয়তো কাচ ভেঙেছে বলেই। হঠাৎ একটা চিৎকার ভেসে এল! পরমুহূর্তেই ও দেখল ভেতরের ঘর থেকে টানতে টানতে ভদ্রমহিলাকে এনে সোফার ওপর ধাক্কা মেরে ফেলল লোকটা! অটোমেটিকালি নীলের ডানহাতের মুঠোটা শক্ত হয়ে গেল! সে নিজের মনেই বলে উঠল, ‘জি চাহতা হ্যায় ঠোক দুঁ শালে কো! মগর…!’
কিন্তু এইরকম ভাবে যদি রোজ রোজ চলে তাহলে তো মারা পড়বেন ভদ্রমহিলা! এখানকার বাসিন্দারা কি সবাই ভীরু কাপুরুষ নাকি? ধন্যি এইসব তথাকথিত ভদ্রলোকরা! এর চেয়ে তো তাদের অন্ধকার জগতের ছোটলোকরা অনেক ভালো! এই লোকগুলো আড়ালে সমালোচনা করতে পারে, কিন্তু সামনাসামনি প্রতিবাদ করতে এদের সাহসে কুলোয় না! ছিঃ! কাওয়ার্ডের দল সব! মুখ বার করতে করতে মিঃ মিত্র বোধহয় এবার নিজেই জানালা গলে পড়ে যাবেন! শুধু বিনাপয়সায় নাটক শোনার শখ! অথচ চেঁচিয়ে প্রতিবাদ করে ওঠার কোনও গার্টস নেই! নাঃ! করতে যখন কিছু পারবেই না, তখন শুধু শুধু এ নির্মম দৃশ্য সহ্য করারও কোনও দরকার নেই ওর!
জানালা থেকে সরে এল নীল। গা এলিয়ে দিল সোফায়। তারপর নিজের মনেই বলে উঠল, ‘আমাদের যদি বিয়ে হত, তাহলে আমাদের মধ্যে কক্ষনও ঝগড়া হত না! অবশ্য জয়িতাটা যা মাথাগরম মেয়ে ছিল, একটুতেই দুম করে রেগে যেত! ও তাই ঠিকই ঝগড়া করত! তবে আমি ঠিক ওকে মানিয়ে নিতাম—এমনভাবে ওর রাগ ভাঙাতাম, যে ওর আর আমার ওপর রাগ করার ক্ষমতাই থাকত না!’ নিজের মনেই হেসে ফেলল নীল বর্মা!
ডিনার সেরে একটা সিগারেট ধরিয়ে ব্যালকনিতে এসে যখন দাঁড়াল নীল, ততক্ষণে রাত অনেক হয়ে গেছে। প্রায় একটার ঘরকে স্পর্শ করেছে ঘড়ির কাঁটা। চারিদিক নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। একবার ওপরের জানালাটার দিকে তাকাল নীল—নাঃ! ওখানে মিঃ মিত্র নেই। তার মানে শো শেষ, তাই অডিয়েন্সও নেই! ওই ফ্ল্যাটটাও চুপচাপ। আর কোনও চিৎকার চেঁচামেচিও ভেসে আসছে না। যাক! তবু তো সাময়িক ভাবে মিটেছে! এবার ও শুয়ে পড়বে। আজ সারাটা দিন ঘুরে খুব ক্লান্ত লাগছে। ব্যালকনি থেকে ঘরে যাবার জন্য পা বাড়াতে গিয়ে হঠাৎ থমকে গেল নীল বর্মা! উলটোদিকের ওই বিল্ডিংটার নীচের গেটটা খোলার শব্দ হল না? ঠিকই শুনেছে ও। কারণ ও বিস্মিত হয়ে দেখল নীচের গেট খুলে বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এল একজন! এত রাতে কে কোথায় যাচ্ছে? নীল সামান্য ঝুঁকে পড়ল ব্যালকনির রেলিংয়ের ওপর। এবার স্পষ্ট দেখতে পেল মানুষটাকে… একজন মহিলা। পরনে নাইটি। তার ওপর একটা হাউসকোট চাপানো। আরে! এই নাইটিটা তো খানিক আগে দেখেছে নীল! কিন্তু… কথাটা মনে হওয়া মাত্র একটা ঠান্ডা চোরাস্রোত বয়ে গেল ওর শরীর দিয়ে! এ তো উলটোদিকের বাড়ির সেই ভিকটিম মহিলা! উনি এত রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন কেন? নীল দেখল ভদ্রমহিলা এদিক ওদিক সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে পা টিপে টিপে এগিয়ে গেল আবাসনের মেন গেটের দিকে! সমস্ত ইন্দ্রিয় মুহূর্তের মধ্যে সজাগ হয়ে উঠল নীল বর্মার। আরে! কোথায় যাচ্ছেন উনি এত রাতে! কোনও অঘটন ঘটাতে না তো? কথাটা মনে হওয়া মাত্র আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না নীল বর্মা। এক ঝটকায় ফ্ল্যাটের দরজাটা টেনে দিয়ে সেও সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল!
ঘুমন্ত সিকিউরিটি গার্ডের পাশ কাটিয়ে ভদ্রমহিলা বেরিয়ে গেলেন আবাসন থেকে। নীল দেখল ও কখন যেন নিজের অজান্তেই ফলো করতে শুরু করে দিয়েছে ওঁকে! নির্জন রাস্তা। দু’-একটা কুকুর ওদের দেখে হঠাৎই ঘেউ ঘেউ করে ডাকতে শুরু করল। কুকুরগুলোকে উপেক্ষা করে ভদ্রমহিলা এক নাগাড়ে হেঁটে কিছুটা দূরে একটা পার্কের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলেন! পার্কে কেন গেলেন উনি? তবে কি আর কেউ ওই পার্কের ভেতর অপেক্ষা করছে ওঁর জন্য? তাহলে কি ওর উচিত হবে ওঁকে ফলো করাটা? ওকে দেখে ফেললে তো…
দ্বিধাগ্রস্ত পায়ে কিছুটা এগিয়ে গেল নীল বর্মা। ভদ্রমহিলা তো এদিকেই এলেন! তাহলে গেলেন কোথায়? এদিক ওদিক সতর্ক দৃষ্টি বোলাল নীল। আর ঠিক তখনই ওর কানে এল একটা ফোঁপানির শব্দ! ত্রস্ত হয়ে উঠল নীল! সামনেই একটা মেহেদি গাছের ঝোপ। শব্দটা ওপাশ থেকেই আসছে! সন্তর্পণে নিজেকে আড়াল করে ঝোপের পাশ দিয়ে উঁকি দিল নীল। ওই তো একটা বোগেনভেলিয়ার গাছের নীচে পাতা একটা কাঠের বেঞ্চের ওপর বসে দু’হাতের ওপর নিজের মুখটা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন উনি! নীল বর্মার মতো সুপারি কিলারের কঠিনতম মনটাও মুহূর্তের জন্য কেমন যেন কোমল হয়ে গেল! তাহলে কি নিজের বাড়িতে কাঁদবার অধিকারটুকুও নেই ভদ্রমহিলার? ওঁর নিজের মনকে হালকা করার জন্য এই নির্জন রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এই পার্কে এসে কাঁদতে হয়! ভাবতে ভাবতে বোধহয় অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল সে। হঠাৎ শুনতে পেল ভদ্রমহিলা কাঁদতে কাঁদতে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলছেন নিজের মনেই! কান সঙ্গে সঙ্গে সজাগ হয়ে উঠল নীলের! হয়তো জানা যেতে পারে গণ্ডগোলের সূত্রটা! আরেকটু এগিয়ে গেল ও। এবার স্পষ্ট হল কথাগুলো।
“তুই কোথায়? সারাটা জীবনে আর একটিবারও আমার সামনে এসে দাঁড়ালি না কেন? এত অভিমান তোর? তাহলে কি… তাহলে কি আমার আশঙ্কাটাই সত্যি! তুই আর…”
ভদ্রমহিলা আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন! নীল স্তব্ধ হয়ে গাছটার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে! না—এ তো ওঁদের স্বামী-স্ত্রীর গোলমালের কোনও সূত্র নয়! বরং কোনও একজন তৃতীয় ব্যক্তির কথা বলছেন উনি! কার কথা বলছেন? তবে কি ওঁদের সন্তান হারিয়ে গেছে? তার জন্যই কাঁদছেন উনি? কিন্তু তাহলে তো এত গোপনীয়তার প্রয়োজন ছিল না! হঠাৎ আবার ভদ্রমহিলার কান্না জড়ানো কণ্ঠস্বর ভেসে আসে…
“কোথায় হারিয়ে গেলি তুই? জানি না তুই বেঁচে আছিস কিনা! জানি, তোকে সেদিন খুব কষ্ট দিয়েছিলাম বলেই বোধহয় জীবনে আমি এত কষ্ট পাচ্ছি! আমি জানি, তুই থাকলে আমায় কিছুতেই এত কষ্ট পেতেই দিতিস না!”
আবার কান্নায় গলা বুজে এল ওঁর! এই গভীর রাতে, নির্জন পার্কে বসে, কার কথা ভেবে এত কাঁদছেন উনি? কাকে কষ্ট দেওয়ার ফল ভুগছেন বলে মনে মনে অনুতাপ হচ্ছে ওঁর? চোখ মুছে, নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে এবার আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালেন ভদ্রমহিলা। তারপর যেমনভাবে এসেছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই ফিরে চললেন। আর ওঁর থেকে কিছুটা দূরত্ব রেখে নীল বর্মাও।
এইভাবে কেটে গেল বেশ কয়েকটা দিন। যেদিনই ঝগড়াঝাঁটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, সেদিনই রাত্রে ঠিক এইভাবেই বেরিয়ে চলে যান উনি। আর ওঁর পেছনে যায় নীল। এটা যেন নীলের একটা অলিখিত ডিউটি হয়ে দাঁড়িয়েছে! কিন্তু কেনই বা যায় নীল? কোনও অঘটন যাতে ঘটে না যায় সেই জন্য? অথচ এখনও পযর্ন্ত ভদ্রমহিলার মুখটাও কাছ থেকে দেখেনি ও! রহস্যভেদ তো অনেক দূরের ব্যাপার! ওর এক এক সময় মনে হয় ভদ্রমহিলার সামনে গিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে বলে যে সে একজন সুপারি কিলার! শেষ যে কাজটা করতে গিয়ে ধরা পড়ার ভয়ে সে আজ কলকাতায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, সেই খুনটাও কিন্তু সে করেছিল একজন মহিলার বরাতের ভিত্তিতেই তার ঠগবাজ স্বামীকে! সুতরাং এ কাজ তার বাঁয়ে হাত কা খেল! উনি চাইলে ও ওর প্রোফেশানাল স্কিল দিয়ে খতম করে দিতে পারে ওঁর ওই অমানুষ স্বামীটাকে! তাহলেই তো ওঁর সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে! নীল মনে মনে ঠিক করে এরপর যেদিন উনি যাবেন ওই পার্কে, সেদিনই ও আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে এর একটা নিষ্পত্তি করেই ছাড়বে!
সেদিন রাত্রে ডিনারের পর ব্যালকনিতে দাঁড়ানো মাত্রই অভ্যাসমতো নীলের চোখ চলে গেল ওঁদের জানালাটার দিকে। আর সঙ্গে সঙ্গে ওর শরীরের সমস্ত লোমকূপ খাড়া হয়ে উঠল! একি! লোকটা যে দু’হাত দিয়ে ভদ্রমহিলার গলা টিপে ধরেছে! এক্ষুনি তো একটা চরম অঘটন ঘটে যাবে! ভদ্রমহিলা ছটফট করতে করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে ছাড়াতে! আর থাকতে পারে না নীল, যাবার জন্য পা বাড়ায় আর ঠিক তখনই শুনতে পায় লোকটা জোরে জোরে হাসছে! চমকে তাকিয়ে নীল দেখে লোকটা ওর স্ত্রী’র গলাটা ছেড়ে দিয়ে বিশ্রী নিষ্ঠুর ভাবে হেসেই চলেছে! আর ভদ্রমহিলা দু’হাত দিয়ে নিজের গলা ধরে কাশতে কাশতে নিজেকে সামলাবার চেষ্টা করছেন! লোকটা কি স্যাডিস্ট? নাকি সাইকো? এভাবে ভয় দেখিয়ে নিজের স্ত্রীকে চমকে রাখাটাই ওর নেশা নাকি? অদ্ভুত লোক তো! এর সঙ্গে থাকলে তো যে কোনও সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে! নীল মনে মনে তৈরি হয়। আজ রাতে নিঃসন্দেহে ভদ্রমহিলা পার্কে যাবেনই! আর ঠিক তখনই ও সামনে এসে নিজের পরিচয় দিয়ে এর একটা শেষ দেখার পরামর্শ দেবেই ওঁকে!
রাত বাড়ে। ভদ্রমহিলা যথানিয়মে বেরিয়ে আসেন আবাসন থেকে। নীলও যথারীতি যায় ওঁর পেছন পেছন। পার্কে এসে আজ কিন্তু উনি এক ফোঁটাও চোখের জল ফেলেন না! বরং চুপ করে গুম হয়ে বসে থাকেন। হয়তো গলার চোটের কারণে! নীল ভাবে এই সুযোগ! এখনই বরং সে কথা বলবে ওঁর সঙ্গে। যাবার জন্য পা বাড়াতে গিয়ে হঠাৎই নীল দেখতে পায় ভদ্রমহিলা আঁচলের গিঁট খুলে কি একটা যেন বার করলেন। নীল কৌতূহল চাপতে না পেরে দু’-পা এগিয়ে গেল। দেখল, উনি দু’ আঙুল দিয়ে জিনিসটা ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন সেটা। কিন্তু কী ওটা? দু’ আঙুলে ধরে দেখবার সময় আচমকা পার্কের ল্যাম্পপোস্টের আলো পড়ে ঝলসে উঠল সেটা! চমকে উঠল নীল! ব্লেড! একটা নতুন চকচকে ব্লেড! সর্বনাশ! এতদিন ধরে যে আশঙ্কাটা করে আসছিল ও, আজ যে তাহলে সেটাই সত্যি হতে চলেছে! আত্মহত্যা করতে এসেছেন আজ উনি! কিন্তু কী করবে এখন নীল? চোখের সামনে একটা জীবনকে শেষ হয়ে যেতে দেখবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে? কিন্তু স্যারজি যে বারবার তাকে বলেছেন সাবধানে থাকতে, কোনও লাফড়ায় না জড়াতে? নইলে হয়তো কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়তে পারে! না না এত বড় রিস্ক নেওয়া যাবে না! কিন্তু পরক্ষণেই তার মনের মধ্যে দোটানা অনুভব করে সে! একটা জীবন বাঁচাবার জন্য যদি ওর নিজের জীবন শেষও হয়ে যায়, যদি ও ধরাই পড়ে যায়, তাহলেই বা কী এমন ক্ষতি হবে? ওর নিজের জীবনে হারানোর মতো আছেটাই বা কী? তার চেয়ে যদি একটা জীবন বাঁচানোর চেষ্টাটুকুও করতে পারে তাহলে হয়তো ওর আজীবনের পাপের অন্তত কিছুটা স্খালন হবে! সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে মুহূর্তের জন্য অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল নীল… হঠাৎ সম্বিত ফিরতে সামনে তাকিয়েই চমকে উঠল! ভদ্রমহিলা নিজের বাঁ হাতটা বাড়িয়ে ধরে ব্লেডসমেত ডানহাতটা সবেগে উচুঁ করে বসিয়ে দিয়েছেন রিস্ট লক্ষ করে!
কিন্তু না শেষ মুহূর্তে ব্লেডটা স্পর্শ করতে পারেনি ওঁর বাঁ হাতের রিস্ট! কারণ নীল যে সজোরে ভদ্রমহিলার ব্লেড শুদ্ধু ডানহাতটা নিজের মুঠোর মধ্যে জোরে চেপে ধরেছে! উনি ছটফট করতে করতে নীলের মুঠোর মধ্যে থেকে নিজের হাতটা ছাড়াবার চেষ্টা করেন, আর এই ধস্তাধস্তিতে নতুন ব্লেডে কেটে নীলের হাতের রক্ত চুঁইয়ে এসে পড়ে ভদ্রমহিলার মাথায়! তারপর সে রক্ত চুঁইয়ে নেমে আসে ওঁর কপালের মাঝখান দিয়ে!
কথাগুলো বলতে বলতে এক ঝটকায় মুখ তুললেন উনি। আর ঠিক তখনই আবার ল্যাম্পপোস্টের আলোটা এসে পড়ল! সেদিকে তাকানো মাত্রই নীলের হাতের মুঠোটা আলগা হয়ে গেল আপনা থেকেই! শুধু ওর গলা দিয়ে অস্ফুটে বেরিয়ে এল…
বিস্মিত বাকরুদ্ধ জয়িতা তাকাল ওর দিকে! গলা দিয়ে শুধু বেরিয়ে এল একটা শব্দ, “না!”
পরক্ষণেই জ্ঞান হারাল সে জয়ের দু’হাতের মধ্যে!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন