দ্বিতীয় অধ্যায়

চকিতা চট্টোপাধ্যায়

ট্রেনটা বোধহয় একটা সেতু পেরোল। চলন্ত ট্রেনের জানালার কাচের ওপর নিজের প্রতিবিম্ব দেখে চমকে উঠল নীল বর্মা! একদম ভোল পালটে গেছে তার। নিপাট ভদ্রলোকের একটা সুন্দর লুক এনে দিয়েছে তার মেকআপটা—ব‍্যাকব্রাশ করা চুল, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি গোঁফ, আর হাতে একটা ফিরোজা বসানো রূপোর ব্রেসলেট। নিজের চেহারা দেখে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল ওর। নাঃ কারও পক্ষে তাকে চট করে চেনা মুশকিল।

আবার কলকাতা। সেই কলকাতা! কত বছর পর আবার সেখানে ফিরছে ও! না না ফেরা তো নয়, এ তো সাময়িক ঠিকানা বদল! ফিরতে তো সে আসেনি এখানে—। আর ফিরবেই বা কার কাছে? কে-ই বা আছে আজ আর ওর জন্য অপেক্ষা করে! এভাবে যে কোনওদিন কলকাতায় ফিরতে হবে তা কোনওদিনও ভাবতেই পারেনি নীল! নীল বর্মা—হ‍্যাঁ এটাই এখন ওর নাম! পিতৃদত্ত নামটা তো সেই কবেই মুছে গেছে ওর এই শরীরটা থেকে! যখন মাত্র ষোলো বছর বয়সেই তাকে চলে যেতে হয়েছিল নিজের বাড়িঘর, নিজের মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, এমনকি নিজের শহর ছেড়েও! কিন্তু কেন? কেন তাকে ছাড়তে হয়েছিল সব কিছু? সবাই—সবাই সেদিন তাকে শুধু ভুলই বুঝেছিল! কেউ শুনতে চায়নি তার কোনও কথাই—না মা, না বাবা, আর না সে! সবার ভুল বোঝাটাকে সহ‍্য করে নিলেও ওই একজনের ভুল বোঝাটাই যে তার সমস্ত পৃথিবীটাকেই ওলোট-পালোট করে দিয়েছিল সেদিন!

বুক থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল নীল বর্মার। যার চোখের একটু ইশারা, মুখের একটু হাসির জন্য মনটা সারাটা দিন শুধু চাতকপাখির মতো প্রতীক্ষা করে থাকত একদিন, বাল‍্য থেকে কৈশোরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎই একদিন যাকে সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবীই শুধু নয়, তার চেয়েও আরও আরও অনেক বেশি কিছু বলে আবিষ্কার করেছিল সে—তার সেই ছোটবেলার প্রেমিকা জয়িতা আজ কোথায়? কেমন আছে ও? ভালো আছে তো? বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন একটা চাপা ব‍্যথা অনুভব করল নীল বর্মা। একটা সময় যখন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে বুকটা ভেঙে যেত কষ্টে, তখন কখন যেন অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসত জয়িতার নামটাই! হ‍্যাঁ—মায়ের নাম না, বাবার নামও না, এমনকি ইষ্টদেবতার নামও না—শুধু সেই একটাই নাম—জয়িতা! কেন এত ভালোবেসেছিল ও জয়িতাকে! চোখের সামনে হঠাৎ ভেসে উঠল তাদের সেই স্কুলের দিনগুলোর ছবি—!

জয়িতা তো চিরকালের ফার্স্ট গার্ল, তাই সে বরাবর বসত ফার্স্ট বেঞ্চে। আর জয়িতার বাঁ পাশে বসত ও। ওকে ফার্স্ট বেঞ্চে বসানোর কারণ অবশ‍্য অন্য। টিচারদের যাতে ওর ওপর কড়া নজর রাখতে সুবিধে হয় সেই জন্য। কারণ, ও যে ছিল ক্লাসের দ‍্য মোস্ট উইকেড বয়! কিন্তু তাও যে কেন গুডগার্ল জয়িতা ওকে এত পাত্তা দিত তা ও বুঝতে পারত না! এই নিয়ে ক্লাসের অন্য মেয়েরা, শুভ্রা, পারভীন, লিন্ডা কথাও শোনাত জয়িতাকে। কিন্তু তবুও জয়িতা কোনওদিনও ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পিছপা হয়নি। ওদের ভাব দেখে অনেকে ওকেও কথা শোনাতে ছাড়ত না। নীলাদ্রি বলত, ‘কী এত গল্প করিস রে তোরা দু’জনে?’

অবশ‍্য সবসময় ভাব থাকত না তাদের। মাঝে মাঝেই সামান্য কারণে হয়তো নেম-প্লেস বা কাটাকুটি খেলায় ও চিটিং করলে তুমুল ঝগড়া হয়ে যেত দু’জনের! জয়িতা তখন মুখ ফুলিয়ে অন‍্যদিকে ফিরে ওর ডানপাশে বসা সঞ্জিতের সঙ্গে গল্প করত। ওর দিকে ফিরেও তাকাত না। রাগলে যে কী অপূর্ব লাগত জয়িতাকে! মনে মনে ছটফট করত ও। ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে সঞ্জিতকে জোকস বলে ভাব করতে চেষ্টা করত জয়িতার সঙ্গে। জয়িতা সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করত। তারপর জোকস শুনতে শুনতে হঠাৎই ফিক করে হেসে ফেলত! ব‍্যস! তারপর আবার ভাব! বন্ধুরা ওকে ক্ষ‍্যাপাত। বিশেষ করে দীপ—দীপ সরকার। পড়াশোনায় ব্রিলিয়ান্ট। দেখতে সুন্দর। দীপেরও যে ভালো লাগত জয়িতাকে সেটা বুঝতে পারত ও। তখন ওরা ক্লাস সেভেনে। বয়ঃসন্ধির দোরগোড়ায়। শরীর মনে শুরু হয়েছে ভাঙচুর! মন কৌতূহলী হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ জগতের প্রতি। জয়িতাকে নিয়ে ক্ষ‍্যাপালে ইদানিং বেশ ভালো লাগে ওর সেটা ও নিজেই আবিষ্কার করেছে!

জয়িতার সঙ্গে ও নানান রকম জোকস শেয়ার করত। হ‍্যাঁ—অ‍্যাডাল্ট জোকসও! জয়িতা লজ্জা পেত, আবার শুনতেও চাইত। ডান্স ক্লাসের বন্ধুদের থেকে শোনা জোকস জয়িতাও শেয়ার করত ওর সঙ্গে। বন্ধুদের আড্ডায় নতুন যা যা অশ্লীল শব্দ শিখত ও, সেগুলোও মানে সমেত জয়িতাকে বলত ও! মনে আছে প্রথম যেদিন জয়িতাকে শিখিয়েছিল কয়েকটা অশ্লীল শব্দের মানে, লজ্জায় সেদিন জয়িতার মুখটা লাল হয়ে গিয়েছিল! ও ডেস্কের ওপর ওর হেডডাউন করে নিয়েছিল! আর সেই প্রথম জয়িতার লজ্জা পাওয়া লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখে নিজের শরীরের ভেতর কেমন একটা উথালপাতাল করা অনুভূতি টের পেয়েছিল ও! সেই রাত্রে একা বিছানায় শুয়ে শুয়ে উপলব্ধি করেছিল, জয়িতা আর ওর শুধুমাত্র প্রিয় বান্ধবী নেই! ওর সমস্ত ইন্দ্রিয়, ওর সমস্ত সত্তা জুড়ে বিরাজ করছে শুধু জয়িতাই!

আজ কী হল! রোজ লাঞ্চটাইমে জয়িতা-রুবি-সুপর্ণা-ইন্দ্রানীদের গ্রুপটা তো ফিল্ডেই ঘোরে, আজ গেল কোথায়? ওর চোখ যখন এদিক ওদিক খুঁজে বেড়াচ্ছিল ওদের গ্রুপটাকে, ঠিক তখনই প্রবালের কটাক্ষে চমকে উঠল ও!

‘কী রে? আড্ডা মারছিস তো আমাদের সঙ্গে, আর চোখ ঘুরছে এদিক ওদিক? কাকে খুঁজছিস বল তো?’ উত্তরে কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেল ও—ক‍্যান্টিনের দিক থেকে জয়িতাদের গ্রুপটাকে হট চিপ্ স খেতে খেতে আসতে দেখে। কাছাকাছি আসতে জয়িতার সঙ্গে চোখাচোখি হল। আর ঠিক তখনই ওর কাঁধে হাত দিয়ে ওকে টেনে নিয়ে গেল প্রবাল আর দীপ। যেতে যেতেও ও জয়িতার দিকে তাকিয়ে হাসল। দেখল জয়িতার মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে। উফ্! এই হাসিটুকু দেখার জন্যই তো এতক্ষণ উশখুশ করছিল সে! হঠাৎই মনটা খুব ফুরফুরে হয়ে গেল ওর। বন্ধুদের বলল, ‘ক‍্যান্টিনে চল। কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়াব!’

‘আজ তো শুধু কোল্ড ড্রিঙ্কসে হবে না বস্, সিঙাড়াও খাওয়াতে হবে!’

কথাটা বলল দীপ।

‘কেন রে দীপ? আজ কী হয়েছে ওর?’ প্রবালের প্রশ্নে এবার ওর স্বভাবসিদ্ধ মুচকি হাসি হেসে দীপ বলল, ‘যার দর্শন পাওয়ার জন্য এতক্ষণ ছটফট করছিল, তার দর্শন তো পেয়ে গেছে!’ বন্ধুদের সামনে সেদিন আর লুকোনো যায়নি ওর মনের কথাটা। আর তার খেসারত স্বরূপ সিঙাড়া-কোল্ড ড্রিঙ্কসের ট্রিট দিতে হয়েছিল ওকে! কিন্তু ও নিজে সেদিন বন্ধুদের সঙ্গে সিঙাড়া খায়নি। কারণ জয়িতাকে না দিয়ে সেদিনটা অন্তত একা একা খেতে ইচ্ছে করছিল না ওর। আর তাই শালপাতার বাটিতে সিঙাড়া দুটো নিয়ে ওল্ড স্কুল বিল্ডিংয়ের কাছে এসে দেখতে পেয়েছিল পোর্চের তলায় জয়িতাদের গ্রুপটাকে। কিন্তু সবার সামনে জয়িতাকে ডেকে সিঙাড়া দেবে কী করে! সিঙাড়া সমেত নিজের ডানহাতটা পেছনে এনে জয়িতার দিকে পেছন করে দাঁড়াল ও মরিয়া হয়ে! সিঙাড়াটা যে জয়িতার জন্যই এনেছে সেটা যদি বুঝতে পারে জয়িতা! পেছন ফেরার কারণে ঘাড় ফিরিয়ে দেখতেও পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন ও ভাবছে সরাসরি জয়িতাকে সিঙাড়াটা দেবে কি না, ঠিক তখনই হাতে একটা আলতো ছোঁয়া লাগল! জয়িতার হাত! পরক্ষণেই বুঝতে পারল বাটি থেকে একটা সিঙাড়া তুলে নিয়েছে জয়িতা! হাতটা ঘুরিয়ে সামনে এনে দেখল একটা সিঙাড়া নেই! ও এবার নিজের সিঙাড়ায় কামড় বসাতে বসাতে ঘুরে তাকিয়ে দেখল জয়িতাও কামড় বসিয়েছে সিঙাড়াটাতে! একসঙ্গে আওয়াজ দিয়ে উঠল জয়িতাদের গ্রুপের সব ক’জন মেয়ে! ইন্দ্রাণী জয়িতার গায়ে একটা ঠেলা দিয়ে বলল, ‘Jay Chatterjee is crazy of You Jayee!’

তাহলে জয়িতার বন্ধুদের কাছেও ওদের ব‍্যাপারটা একটা ওপেন সিক্রেট! মনটা যেন সেই মুহূর্তে ডানা মেলে আকাশে উড়ে গেল জয়ের! হ‍্যাঁ, জয়—জয় চ‍্যাটার্জী—বাবা-মায়ের দেওয়া এই নামটাই একদিন ছিল ওর! কিন্তু তারপর কবে কখন যে সেই নামটা মুছে গেছে ওর এই শরীরটা থেকে, তা আজ আর মনেই করতে চায় না ও! আজ ওকে সবাই চেনে এই নীল বর্মা নামেই!

বন্ধুরা জেনে গেলেও জয়িতাকেই তো জানাতে পারেনি ওর মনের কথাটা! ক্লাসে সবার মধ্যে তো সেই সুযোগও থাকে না। তখন ওরা ক্লাস নাইনে উঠেছে। ক’দিন ধরেই মওকা খুঁজছিল জয়। যেহেতু স্কুল-ক‍্যান্টিনে স্ন‍্যাক্স ছাড়া আর কিছু পাওয়া যেত না, তাই আগে থেকে পারমিশন করালে বাইরে গিয়ে লাঞ্চ করতে দেওয়া হত স্কুল থেকে। জয় আর ওর ক্লাসের কিছু ছেলেদের সেই পারমিশন ছিল। কিন্তু জয়িতা তো বাড়ি থেকে টিফিন আনত, তাই ওর পারমিশন ছিল না স্কুল টাইমে বাইরে বেরনোর। ইস্! যদি কোনও ভাবে জয়িতাকে স্কুলের বাইরে একবার নিয়ে যেতে পারত ও তাহলে মনের কথাটা জানাবার একটা সুযোগ অন্তত পেত! কথাটা জয়ের মাথায় ক’দিন থেকেই ঘুরছিল। গত সপ্তাহে ওদের স্কুলের কাছেই ব‍্যাম্বু ভিলার ন’তলায় একটা রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ পিরিয়ডে গিয়ে ওরা কয়েকজন খেয়ে এসেছিল। দাম বেশ কম। ইতস্তত করতে করতে সেদিন কথাটা বলেই ফেলল ও জয়িতাকে।

‘কী দারুণ রেস্টুরেন্টটা! আর তেমন দুর্ধর্ষ ফিসফ্রাই! খেলে আর ভুলতে পারবি না! যাবি নাকি?’

জয়িতা আঁতকে উঠল! ‘আমার কাছে তো পারমিশন নেই বাইরে যাবার’।

‘মাসিমার কাছ থেকে লিখিয়ে নিয়ে আয়। তাহলেই তো প্রিন্সিপালের পারমিশন পেয়ে যাবি।’

‘You are really Crazy! চাইলেই অমনি মা লেটার লিখে দেবে? এটা ভাবলি কী করে তুই? মা খুব স্ট্রিক্ট।’

‘তাহলে আমি ম‍্যানেজ করব।’

‘কী! কী যা তা বলছিস? ম‍্যানেজ করবি মানে?’

‘মানে—আমি তোর মায়ের সই জাল করব!’

জয়িতা শিউরে উঠল!

‘জয়! ক্ষেপে গেছিস নাকি! জানিস না আমাদের প্রিন্সিপাল মিঃ ফ্লিন কীরকম কড়া? ধরা পড়লে দু’জনকেই টি.সি ধরাবেন! কোনও দরকার নেই আমার একটা ফিসফ্রাই খাওয়ার জন্য এত রিস্ক নিতে যাবার!’

জয় মনে মনে বলল, তোর দরকার না থাকতে পারে, কিন্তু আমার যে আছে জয়িতা!

বেশ একটা অ‍্যাডভেঞ্চার হবে এই কথা বলে শেষ অবধি জয়িতাকে রাজি করিয়ে পেরেন্টস বুকে জয়িতার মায়ের পুরনো সই দেখে সেই সই জাল করেছিল জয়! সেই তার প্রথম অপরাধ! জয়িতা যখন মিঃ ফ্লিনের চেম্বারে ঢুকল সেই চিঠি দেখাতে তখন বাইরে দাঁড়িয়ে ঘেমে গিয়েছিল ও! জয়িতা যখন বেরিয়ে এল তখন গলার কাছে প্রাণ উঠে এসেছে তার! তারপর যখন ওর দিকে চেয়ে জয়িতা ফিক করে হেসে ফেলল, তখন স্থান-কাল ভুলে আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিল জয়!

সেই প্রথম দু’জনে পাশাপাশি হেঁটেছিল একসঙ্গে! সেই প্রথম অত কাছাকাছি পেয়েছিল প্রিয় মানুষটাকে! সব মিলিয়ে কেমন যেন ঘোর লেগে গিয়েছিল জয়ের! লিফট্-এ উঠে জয়িতার পা-টা টলে যেতেই সে ধরে ফেলেছিল ওর হাতটা। যখন পাশাপাশি বসে ফিসফ্রাই অর্ডার করছিল, তখন যেন নিজেকে কেমন কলেজে পড়া ছেলে বলে মনে হচ্ছিল! জয়িতা কিন্তু বারে বারে ভীরু চোখে তাকাচ্ছিল এদিক ওদিক।

‘কী অত দেখছিস?’

‘আসলে আমার বাপি না প্রায়ই কী সব কাজে এই ব‍্যাম্বু ভিলায় আসে! তাই ভাবছি আজ যদি হঠাৎ এসে পড়ে!’

জয় জয়িতার হাতের ওপর নিজের হাতটা রেখেছিল সেদিন সেই প্রথমবার! বলেছিল, ‘আমি তো আছি। এত ভয় পাচ্ছিস কেন? তেমন হলে আমি সব দোষ নিজের ঘাড়ে নেব। তোকে কেস খেতে দেব না!’ এতক্ষণে বোধহয় ভরসা পেয়েছিল জয়িতা। তাই সে হেসে কামড় বসিয়েছিল ফিসফ্রাইতে। আর ওর দিকে অপলক চোখে চেয়েছিল জয়… কতক্ষণ তা ওর নিজেরই খেয়াল ছিল না! চমক ভেঙেছিল জয়িতার ডাকে। রিস্টওয়াচের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠেছিল! রিসেস ওভার হতে আর মাত্র সাত মিনিট বাকি! দ্রুত বেরিয়ে এসেছিল ওরা ব‍্যাম্বু ভিলা থেকে। না, বলা হয়নি সেদিন জয়িতাকে ওর মনের কথাটা!

স্কুলের গেট দিয়ে প্রায় ছুটতে ছুটতে যখন ওরা ঢুকছে, ঠিক তখনই ওদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল দীপ! কেমন যেন জেরা করার ভঙ্গিতে বলেছিল, ‘কোথায় গিয়েছিলি তোরা দু’জনে?’ ওর প্রশ্নে ওরা মুহূর্তের জন্য হকচকিয়ে গিয়েছিল! পরক্ষণেই সামলে নিয়ে উত্তর দিয়েছিল জয়িতা, ‘সে কৈফিয়ত তোকে দেব কেন?’

সেই প্রথম দীপের চোখদুটো কেমন জ্বলে উঠতে দেখেছিল জয়!

‘খুব আশিক হয়েছিস না?’ জয়ের দিকে চেয়ে বলেছিল দীপ।

‘আরে! দীপ! শোন না—রাগ করছিস কেন ইয়ার!’

জয় দীপের দিকে এগোতে যেতেই ওর হাতটা টেনে ধরেছিল জয়িতা। বলেছিল, ‘দীপ কি আমাদের গার্জেন নাকি?’ কথাটা কানে যেতেই দীপ যেতে গিয়েও থমকে দাঁড়িয়ে তীব্র চোখে তাকিয়েছিল ওদের দিকে। তারপর হনহন করে চলে গিয়েছিল। জয় বলেছিল, ‘দীপকে এভাবে না বললেই পারতিস জয়িতা!’ জয়িতা রেগে উঠে বলেছিল, ‘কেন? কী করবে ও? ওকে এত ভয় পাওয়ার কী আছে? তুই-ই বা ওকে এত পাত্তা দিস কেন? ও তোর বেস্টফ্রেন্ড নাকি? তাহলে ওর কাছেই যা—আমার সঙ্গে কথা বলতে আসবি না আর—!’ জয়ের হাতটা ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল জয়িতা! আর অসহায় জয় দাঁড়িয়ে শুধু চেয়ে দেখেছিল ওর যাওয়াটা! কী করবে বুঝতে পারেনি!

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%