চকিতা চট্টোপাধ্যায়

ক্লাসে পরপর কয়েকদিন কথা বলার চেষ্টা করা সত্ত্বেও জয়িতার রাগ ভাঙাতে পারেনি জয়। জয়িতা তখন ওর গ্রুপের সঙ্গেই বসত। তাই সুযোগটাও কম ছিল। ওদের ভেতর একটা সিস্টেম তখন চালু ছিল, বই বা খাতার ভেতরে চিরকুট লিখে পাঠানোর। বেশ কয়েকবার ‘আই এ্যাম সরি! প্লিজ ক্ষমা করে দে! কথা বল!’ লেখা চিরকুট পাঠিয়েও কোনও লাভ হয়নি! রাগ পড়েনি জয়িতার। আর সেটা দেখে মুচকি হাসি হেসেছিল দীপ।
সেদিন স্কুল ছুটির পর জয়িতা যখন ওর মায়ের সঙ্গে ওদের গাড়িতে উঠে চলে গেল, তখন সেদিকে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এসেছিল জয়ের বুক থেকে। আর ঠিক তখনই ওর কাঁধে একটা হাতের স্পর্শ পেয়েছিল জয়। চমকে তাকিয়ে দেখেছিল দীপকে। মুহূর্তে খুশি হয়ে উঠেছিল জয়। তার মানে দীপ ওকে ভুল বোঝেনি! জয় আবেগে জড়িয়ে ধরেছিল দীপকে। দীপ বলেছিল, ‘চল মিঃ ও’ব্রায়েনের কাছে টিউশান পড়তে যাবার সময় হয়ে গেল তো!’
মিঃ ও’ব্রায়েন স্কুল ক্যাম্পাসের ভেতরে টিচার্স কোয়ার্টারে থাকতেন। সেখানেই ছুটির পর ওরা ক’জন টিউশন পড়তে যেত—ও, দীপ, কেভেন, মাইকেল। সেদিনই সেই কোচিং ক্লাসে প্রথম পড়তে এসেছিল সেই মেয়েটা, মাত্র এক সপ্তাহ আগে যে ক্লাস নাইনে অ্যাডমিশন নিয়ে তাদের সেকশনে এসেছিল। যদিও আলাপ হয়নি এর আগে। দীপই আলাপ করিয়ে দিল সেদিন মিঃ ও’ব্রায়েনের ক্লাসে।
‘Meet Miss. Fleka Welcome. Our new classmate—and Fleka, this is Jay—Jay Chatterjee!’
‘Hi! Jay! You are soooo cute!’
বয়েস কাট চুলে একবার আঙুল চালিয়ে চিকলেট চিবোতে চিবোতে গালে টোল ফেলে হাসতে হাসতে আচমকা প্রথম আলাপেই জয়ের গাল টিপে দিয়ে কথাগুলো বলেছিল ফ্লেকা ওয়েলকাম বলে মেয়েটা! অপরিচিত মেয়ের এই হঠাৎ স্পর্শে কেমন যেন ব্লাশ করে গিয়েছিল সেদিন জয়!
অল্প ক’দিনেই ফ্লেকার সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে গেল ওদের। টিউশানের পর বাড়ি ফিরত ওরা সবাই একসঙ্গে। সেই সময়ই প্রথম স্মোক করতে শিখেছিল ওরা। ফ্লেকাও স্মোক করত ওদের সঙ্গে। একদিন ও সিগারেটে গাঁজা ভরে এনে খাইয়েছিল ওদের। আর কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলে মেশানো ভদকা। ওরা হাঁটতে হাঁটতে কোনওদিন পার্ক স্ট্রিটের পুরনো গোরস্থানে চলে যেত কখনও বো ব্যারাক। শেয়ার করে দেখত নিষিদ্ধ ম্যাগাজিন! আজকের মতো তখন তো ইন্টারনেট ছিল না। চলার সময় ফ্লেকার শরীরের আলতো ছোঁয়া জয়ের ভদকার নেশাটা যেন আরও বাড়িয়ে দিত!
কেমন যেন একটা ঘোর লেগে গেল জয়ের! ওদের এই বন্ধুত্বটা স্কুলেও জাহির করতে পিছপা হত না ফ্লেকা। ক্লাসে জয়ের পাশেই বসত, জয়ের সঙ্গে গল্প করত সবাইকে দেখিয়েই। সবটাই যে জয়িতার চোখে পড়ছিল সেটা লক্ষ করেছিল জয়। না, জয়িতার সেদিনের সেই রাগ তখনও ভাঙাতে পারেনি জয়। আর তাই ফ্লেকা যখন ওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কথা বলত তখন ভেতরে ভেতরে একটা চাপা আনন্দও অনুভব করত জয়! ভাবত, জয়িতা কী জেলাস হচ্ছে ফ্লেকার এই বাড়াবাড়ি দেখে? দীপ ইদানিং জয়িতাকে দেখলেই ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে ফ্লেকা আর জয়ের মধ্যে যে একটা রিলেশন তৈরি হচ্ছে তা বেশ রসিয়ে রসিয়ে প্রবাল, দীপঙ্কর, রফিককে বলছে। জয়িতা তক্ষুনি যে ইচ্ছে করেই সরে যাচ্ছে সেখান থেকে সেটাও চোখ এড়ায়নি জয়ের। তার মানে জয়িতা মনে মনে নিশ্চয়ই জেলাস হয়ে পড়েছে ফ্লেকার ওপর! তার মানে—জয়িতা ওকে ভালোবাসে! কথাটা ভাবা মাত্রই বুকের রক্ত যেন ছলাৎ করে ওঠে ওর! না না! আর দেরি করা চলবে না। জয়িতাকে তাড়াতাড়ি জানাতেই হবে ওর মনের কথাটা! নইলে হয়তো ও সত্যিই ভেবে নেবে ফ্লেকা আর জয় রিলেশানশিপে আছে!
মরিয়া জয় আবার চিরকুট লিখল। বইয়ের ভেতর পুরে পাঠিয়েও দিল বন্ধুদের হাত দিয়ে। তিনজনের হাত ঘুরে বইটা পৌঁছল যখন জয়িতার হাতে, সে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল দীপঙ্করের দিকে, বইটা ওর হাতে লাস্টে দীপঙ্করই যেহেতু দিয়েছে। দীপঙ্কর ইশারায় জয়ের দিকে দেখিয়ে দিতেই মুহূর্তে ভ্রূ কুঁচকে ফেলল জয়িতা। কিন্তু তবু বইটা খুলে চিরকুটটা দেখল ও। চিরকুটে জয় লিখেছিল, ‘আজ ছুটির পর পোর্চের নীচে দাঁড়াস প্লিজ! কথা আছে’। চিরকুটটা পড়ে একবার মুখ তুলে তীব্র চোখে তাকাল জয়িতা জয়ের দিকে। জয়ের মুখে অনুনয় ফুটে উঠতে দেখে আর কিছু না বলে বইটা আবার দীপঙ্করের হাতে ফেরত দিয়ে দিল জয়িতা।
ক্লাসে সেদিন একটা পড়াও কানে ঢোকেনি জয়ের। এমনকি ফ্লেকা ওর পাশে বসে অনর্গল যা যা বলে যাচ্ছিল ওকে তার একবর্ণও নয়! সে শুধু একটা কথাই ভাবছিল, জয়িতা কী অ্যাক্সেপ্ট করবে ওর ভালোবাসা! নাকি… না না! জয়িতাকে ছাড়া বেঁচে থাকার কথা যে ও কল্পনাও করতে পারে না!
স্কুল ফাঁকা হয়ে এসেছে প্রায়। ওই তো! পোর্চের নীচে জয়িতা দাঁড়িয়ে আছে! এক্ষুনি হয়তো ওর মা কিংবা বাড়ির আর কেউ ওকে নিতে চলে আসবেন। তাড়াতাড়ি জয়িতার দিকে এগিয়ে যায় জয়। ওকে দেখে জয়িতা গম্ভীর ভাবে তাকায় ওর দিকে। জয় জয়িতার হাতটা টেনে নিয়ে ওর হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দেয়। জয়িতা বিস্মিত চোখে তাকায় ওর দিকে। জয় জয়িতার মাকে গেট দিয়ে ঢুকতে দেখে। সে শুধু জয়িতার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘পড়ে দেখিস!’ কথাটা বলে ও আর দাঁড়ায় না। যেতে যেতে একবার মুখ ফিরিয়ে দেখে, জয়িতা চিঠিটা খুলে একবার রুদ্ধশ্বাসে চোখ বুলিয়েই ওর মাকে দূর থেকে আসতে দেখে নিজের ফ্রকের পকেটে চালান করে দিল ওটা! তারপর মায়ের পেছন পেছন গেটের দিকে এগিয়ে গেল। আর দুরুদুরু বুকে সেদিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকল জয়। জয়িতা চলে যেতেই মনে বেশ খুশি অনুভব করল জয়! কতদিন বাদে আজ জয়িতার সঙ্গে কথা বলল ও! এতদিনের দমচাপা ভাবটা কেটে যেতেই জয়ের খেয়াল হল মিঃ ও’ব্রায়েনের ক্লাসে যেতে হবে। ফ্লেকা, দীপ, কেভেনরা বোধহয় পৌঁছে গেছে এতক্ষণে! দ্রুত পা চালাল জয় টিচার্স কোয়ার্টারের দিকে।
কিন্তু সেদিন বাড়ি ফেরার পর তার জন্য যেটা অপেক্ষা করছিল সেজন্য একদমই প্রস্তুত ছিল না ও! ওর বইয়ের র্যাকের ভেতর ফ্লেকার দেওয়া সেই নিষিদ্ধ ম্যাগাজিনগুলো আর গাঁজাভরা সিগারেটের প্যাকেটগুলো লুকিয়ে রেখেছিল অনেক কায়দা করে। ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে সেগুলো হঠাৎই আবিষ্কার করে ফেলেছিল মা! দেখিয়েছিল বাবাকে! বাবা সে’ রাত্রে বাড়ি ফিরেছিল অনেক দেরিতে। ততক্ষণে সে খেয়েদেয়ে নিজের ঘরে পড়ার টেবিলে বসে বইয়ের পাতা ওলটাতে ওলটাতে জয়িতার কথা ভাবছিল। আগামীকাল স্কুলে এসে জয়িতা কী জবাব দেবে ওকে? আর ঠিক তখনই বাবা ওর সামনে টেবিলের ওপর আছড়ে ফেলেছিল সেই ম্যাগাজিন আর সিগারেটগুলো! চমকে উঠে দাঁড়াতেই একেবারে বাবার মুখোমুখি হয়েছিল জয়! বাবার চোখে তখন আগুন!
‘কী এগুলো? এই জন্যই এত টাকা খরচা করে স্কুলে পাঠাচ্ছি তোমায়? ছিঃ! ছিঃ!’
সপাটে গালে একটা থাপ্পড় মেরেছিল বাবা! ছিটকে পড়েছিল জয় মেঝেতে!
উফফ! নিজের অজান্তেই গালে হাতটা উঠে এল জয় চ্যাটার্জীর থুড়ি নীল বর্মার! সেদিনের সেই চড়ের জ্বালার অনুভূতিটা কুড়ি বছর বাদে আজ আবার যেন অনুভব করল ও!
“স্যার! এসে গেছি।” ট্যাক্সিচালকের ডাকে চমক ভেঙে তাকাল নীল বর্মা। দেখল একটা ছিমছাম সাজানো আবাসনের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ওর ট্যাক্সিটা। জয় চ্যাটার্জীর অতীত থেকে নীল বর্মার কঠিন বতর্মানে ফিরে এল ও! লাগেজ নিয়ে ধীর পায়ে ঢুকল সেই আবাসনে, আগামী বেশ কিছুদিন এটাই এখন ওর ঠিকানা!
নীল বর্মা লক্ষ করল না—ওর আবাসনের ঠিক উলটোদিকের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে যে লোকটা এতক্ষণ খবরের কাগজ পড়ছিল, সে এবার তার মোবাইল বার করে কাউকে ভিডিও কল করল। স্ক্রিন জুড়ে ভেসে উঠল তার মুখ!
দেবী। দেবযানী চ্যাটার্জী জিজ্ঞেস করল, ‘কী খবর?’
‘স্যার এইমাত্র সল্টলেকের একটা আবাসনে ঢুকে গেলেন।’
‘দেখাও আমায়।’
লোকটা মোবাইল ঘুরিয়ে আবাসনে ছবিটা দেখাল দেবীকে।
‘ও.কে. তুমি ওয়াচ করে যাও ঠিক যেভাবে বলা আছে। টাইম টু টাইম ইনফর্ম কোরো আমাকে!’
ফোন কেটে দিল দেবী। সুদূর মুম্বাই শহরে বসেও সে এতটুকুও নজর ছাড়া করতে চাইছে না নীলকে! কারণ, কলকাতা যে নীলের নিজের শহর! গ্লাসে হুইস্কি ঢেলে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল দেবী। নিজের মনেই বলল, ‘আমি জানি নীল, তোমার মনের মধ্যে কোথ্থাও এই দেবযানী নেই! কারণ, আজও সেখানে আছে শুধু সেই একজনই! যত কষ্টই সে দিয়ে থাকুক তোমায় সারাজীবনে! আমি জানি আমাদের সম্পর্কটা জাস্ট একটা ক্যামোফ্লেজ! কিন্তু তবুও… কেন আমি পারি না তোমার ব্যাপারে অ্যালুফ হতে নীল? Why? Why? Why? Why I am so much concerned about You damn it! I just can’t tolerate anybody with You Baby!’ হাতের গ্লাসটা নিঃশেষ করে সেটা আছড়ে ভেঙে ফেলল দেবী। দেবযানী চ্যাটার্জী!
মোবাইলটা বেজে উঠতেই সেটা ধরল নীল। সে এখন এই ওয়েল ফার্নিসড্ ফ্ল্যাটে আরাম করে বসে স্কচে চুমুক দিচ্ছে। ওপার থেকে স্যারজির গলা ভেসে এল।
‘Is everything alright Barma?’
‘জি! বিলকুল!’
‘মগর অ্যালার্ট রহেনা! কিসি কো ভি তেরে বারে মে শাক্ নেহি হোনা চাহিয়ে সমঝা?’
‘জি!’
‘ও.কে. ম্যায় বাদমে ফোন করুঙ্গা। মগর তু মুঝে ফোন মাত্ লাগানা!’
ফোন কেটে গেল। নীল স্কচের বোতলটা হাতে নিয়ে সোফা থেকে উঠে জানালার সামনে এসে দাঁড়াল। নিজের মনেই একটু হেসে মাথা নেড়ে বলল, “নাঃ! নীল বর্মার অস্তিত্ব কি আমি ভুলতে চাইলেও কোনও দিন ভুলতে পারব? বার বার সব্বাই আমাকে ঠিক মনে করিয়েই ছাড়বে যে আমি নীল… শুধুমাত্র নীল বর্মাই! জীবনের শুরুতে কি ভাবতে পেরেছিলাম যে আমি একদিন হয়ে যাব একজন সুপারি কিলার! শুধু একটা দিন… সব কিছু বদলে গিয়েছিল সেই একটা দিনে!”
বাবার চড় খেয়ে সারারাত ঘুমোতে পারেনি জয়! পরদিন স্কুলে এসে অ্যাসেম্বলি লাইনে দাঁড়িয়ে প্রে করার সময় যখন সবাই স্কুল অ্যান্থেম গাইছিল, ওর চোখ তখন হন্যে হয়ে খুঁজছিল জয়িতাকে! না কোথাও তো ও নেই! হঠাৎ কানে এসেছিল রুবি ইন্দ্রানীকে বলছে, ‘Jayeeta has got a high fever!’ ধক করে উঠেছিল জয়ের বুকটা! জয়িতার জ্বর হয়েছে! তাই আজ ও স্কুলে আসেনি! নাকি ওকে উত্তরটা দিতে হবে বলেই জ্বরের বাহানায় এল না আজ? জয়ের মনটা ছটফট করে উঠল। তার মানে আজও ও ওর উত্তর পাবে না!
সারাটা দিন ওর মনমরা ভাবটা লক্ষ করেছিল দীপ। জানতে চেয়েছিল ওর অন্যমনস্কতার কারণ। আগের দিন বাবার চড় মারার কথাটা বলতে পারেনি ও দীপকে, কারণ তাহলে হয়তো ওরা আর ওকে ওদের দলে নিতে চাইবে না! তবে, জয়িতাকে প্রোপোজ করে লাভলেটার দেওয়ার কথাটা গোপন করতে পারেনি দীপের কাছে। শুনে দীপ গম্ভীর হয়ে গিয়েছিল। বলেছিল, ‘তাহলে ফ্লেকার সঙ্গে তুই ফ্লার্ট করছিলি বল?’
‘ফ্লেকা আমাদের খুব ভালো বন্ধু! কিন্তু আমি তো ওকে কোনওদিন ভালোবাসার কথা বলিনি!’
‘কিন্তু স্কুলে তো সবাই জানে তোরা একটা রিলেশনে আছিস?’
‘জানলেও সেটা জানে তোর জন্য। কারণ আমি তো কাউকে বলতে যাইনি!’
‘বাঃ! ফাইন! এই কথাগুলোই তাহলে তুই সরাসরি বলতে পারবি তো ফ্লেকাকে? কারণ আমি যত দূর জানি ফ্লেকা কিন্তু তোকে সিরিয়াসলি নিয়েছে!’
‘কিন্তু আমি তো সেই ছোটবেলা থেকে জয়িতাকেই ভালোবাসি তুই জানিস না?’
‘আমার জানা না জানাটা কোনও ফ্যাক্টর না। আফটার অল এটা তোদের পারসোনাল ম্যাটার!’
‘ও.কে. আজ আমি একটু আগে মিঃ ও’ব্রায়ানের ক্লাসে গিয়ে ফ্লেকাকে নিজে সবটা বোঝাব!’
পুরো বোতলটাই গলায় ঢেলে দিল নীল বর্মা। দামী স্কচের নেশাটা গাঢ় হয়ে আসছে এবার। আবার যেন ও চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে সেদিনের সেই বোকা জয় চ্যাটার্জীকে!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন