উলট-পুরাণ

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বাইরের জরুরি কাজ সেরে ফিরতে এবার একটু দেরিই হল বজ্রবাহুর৷ কাজটাও ছিল ঝামেলার আর দূরত্বটাও বড়ো কম নয়৷ তবে দেরি হলেও বাড়ির খবর নিয়মিতই পেয়েছেন৷ তাঁর মা, বাবা, স্ত্রী এবং খোকা-খুকিরা ভালোই আছে৷ আড়াই হাজার বছরে আর এমন কী-ই বা বিশেষ পরিবর্তন হবে৷

এই আড়াই হাজার বছর শুনতে যতটা, কার্যত তো ততটা নয়৷ কারণ মহাকাশ পাড়ি দিয়ে ভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জে যেতে যেতে আপেক্ষিক নিয়মে যতটা সময় লাগে, তার ঢের বেশি সময় পৃথিবীতে অতিক্রান্ত হয়৷ আর কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে সময় তো টেরও পাওয়া যায় না৷ বজ্রবাহু যে-নক্ষত্রের মণ্ডলে গিয়েছিলেন সে-নক্ষত্রটি সূর্যের চেয়ে দশগুণ বড়ো৷ আর তার মণ্ডলে রয়েছে অন্তত আড়াইশো সবুজ সজীব গ্রহ, যার প্রত্যেকটিই মানুষের পক্ষে বাসযোগ্য৷ তাদের মধ্যে অন্তত কুড়িটিতে অতি সুসভ্য সব জীবের বাস, যারা অনেকটাই মানুষের মতো৷ তবে বিজ্ঞানে তেমন উন্নতি করেনি৷ এইসব গ্রহ-গ্রহান্তরে ঘুরে ঘুরে বিস্তর গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে বজ্রবাহু ও তাঁর দলকে৷ তাঁদের সফর খুবই সফল হয়েছে, পৃথিবীতে তাঁদের খুবই প্রশংসা হচ্ছে৷ আলোর চেয়েও বহু-বহুগুণ গতিবেগসম্পন্ন কণিকা তরঙ্গের মাধ্যমে পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের নিত্যই কথাবার্তা হত৷ নতুন এই মণ্ডলের সুসভ্য প্রাণীদের কয়েকজনকে নিয়ে আসতে পারলে ভালো হত৷ কিন্তু জীবগুলি খুবই আদুরে৷ তাদের গ্রহগুলিতে এত খাদ্যশস্য, এত ভালো আবহাওয়া এবং এমনই আরামে তারা আছে যে, মাথা ঘামিয়ে বা খেটেখুটে কিছুই করতে হয় না৷ ফলে তারা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এসব নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামায় না৷ খায়দায়, দিনরাত ফুর্তি করে৷ তবে মোটরগাড়ি বা এরোপ্লেনের মতো সেকেলে যানবাহন তাদের আছে৷ রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, বিজলি বাতি আছে৷ তার চেয়ে বেশিদূর আর এগোয়নি৷ এগোতে বিশেষ আগ্রহও নেই৷ বজ্রবাহু প্রায় এক হাজার বছর ধরে এইসব গ্রহ ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বুদ্ধিমান জীবকে উন্নত প্রযুক্তিতে শিক্ষা দিতে চেয়েছেন৷ তারা একটু শেখে, তারপর আর গা করে না৷ এমনকী যে-বিজ্ঞানের বলে পৃথিবীর মানুষ অমরত্ব অর্জন করেছে তাও তারা একরকম প্রত্যাখ্যানই করেছে৷ তাদের ভাবখানা হল, প্রকৃতির নিয়মে যা হওয়ার হবে, আমাদের বেশি আকাঙ্খা নেই৷ ফলে তারা কেউই বজ্রবাহুর সঙ্গে পৃথিবীতে আসতে চায়নি৷ এই একটা ব্যর্থতা ছাড়া বজ্রবাহুর সফর খুবই সফল৷ তিনি নানা অদ্ভুত উদ্ভিদ ও মাটি, ধাতু ও শিলাখণ্ড এনেছেন৷ এনেছেন ওইসব গ্রহের নানা শিল্পের নমুনা৷ আরও অনেক কিছু৷

পৃথিবীর মহাজাগতিক অবতরণ-কেন্দ্রে তাঁদের খুব জাঁকালো রকমের স্বাগত জানানো হয়েছে৷ বিশ্বরাষ্ট্রপতি স্বয়ং এসে তাঁদের অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানিয়েছেন৷ বজ্রবাহু ও তাঁর দলের পাঁচ-শো জন সদস্য পৃথিবীতে নেমে দেখলেন সবই সেই আড়াই হাজার বছর আগেকার মতোই আছে৷ তেমন সাংঘাতিক কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ কিছু নতুন বাড়িঘর, রাস্তাঘাট হয়েছে মাত্র৷ পৃথিবীর বিজ্ঞান এমন চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছে যে, নতুন কিছু আবিষ্কারও আর তেমন ঘটে না৷ মানুষ অমরত্ব অর্জন করায় আর নতুন মানুষ জন্মায় না৷ তবে কিছু মানুষ যখন অন্য গ্রহে স্থায়ীভাবে বাস করতে চলে যায় তখন কিছু মানুষকে জন্মগ্রহণ করতে দেওয়া হয়৷

অভ্যর্থনাকারীদের মধ্যে বজ্রবাহুর বাবা, মা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েরাও ছিল৷ সকলেই একই রকম আছে৷ কারও বয়সই তিন-চার হাজারের কম নয়৷ শুধু ছোটোরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে, এ ছাড়া আর কোনো পরিবর্তন নেই৷ বজ্রবাহুকে দেখে তাঁরা সকলেই যথোচিত আনন্দ প্রকাশ করলেন৷ বাড়িতে ফিরে বজ্রবাহু বহুদিন পরে পোস্তচচ্চড়ি আর চালতার অম্বল দিয়ে ভাত খেলেন৷ যেসব গ্রহে গিয়েছিলেন সেখানকার খাদ্যদ্রব্য অন্যরকম৷ পুরোনো অভ্যস্ত খাবার খেয়ে বহুকাল পর ভারি খুশি হলেন বজ্রবাহু৷ সকলের সঙ্গে বসে গল্প-টল্প করলেন কিছুক্ষণ৷ তারপর বিভিন্ন মিটিং ও সংবর্ধনা সভায় যেতে হল৷

এরকমই একটা মিটিঙে তাঁর সফরসঙ্গীদের অন্যতম পুণ্ডরীক বজ্রবাহুকে কানে কানে বলল, 'ওহে বজ্রবাহু, মানুষের হাসিখুশির ভাবটা বেশ খানিকটা কমে গেছে, লক্ষ করেছ?'

বজ্রবাহুর হঠাৎ মনে হল, পুণ্ডরীক মিথ্যে কথা বলেনি৷ সত্যিই, ওপর ওপর সবাই একটা খুশিয়াল ভাব দেখাচ্ছে বটে, কিন্তু কেমন যেন প্রাণহীন৷ নিজের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ের মধ্যেও যেন এটাই আজ লক্ষ করেছেন তিনি, কিন্তু ধরতে পারেননি৷

তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'কী ব্যাপার বলো তো পুণ্ডরীক! আড়াই হাজার বছরে এমন কী হল?'

পুণ্ডরীক মাথা চুলকে বলে, 'কিছুই তো হওয়ার কথা নয়৷ পৃথিবীর কোনো পরিবর্তন দেখছি না৷ বিবর্তনও বহুকাল হল থেমে গেছে৷ মানুষের কোনো দুঃখ বা অভাব নেই৷ সুতরাং কী ঘটতে পারে তা বুঝে ওঠা মুশকিল৷ তবে একটা জিনিস লক্ষ করছি, পৃথিবীতে আগের তুলনায় গাছপালা কিছু বেড়ে গেছে৷'

বজ্রবাহু ভ্রূ কুঁচকে বলেন, 'গাছপালা বেড়ে গেছে? কিন্তু সেরকম তো কথা নয়! আবহমণ্ডলের জন্যে যতটা প্রয়োজন ঠিক ততটাই গাছপালা পৃথিবীতে থাকার কথা৷'

পুণ্ডরীক মাথা সামান্য নেড়ে বলে, 'উদ্ভিদ-উপদেষ্টার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে৷ উনি এ-ব্যাপারে বেশি কিছু বলতে চাইছেন না৷ শুধু বললেন, গাছ বাড়লে শেষ অবধি মানুষের উপকারই হবে৷ কথাটা হেঁয়ালির মতো ঠেকল৷ কিন্তু উনি আর ভাঙলেন না৷'

বজ্রবাহু নিজে আবহাওয়া ও উদ্ভিদের একজন বিশেষজ্ঞ৷ কথাটা তাঁরও হেঁয়ালির মতো ঠেকল৷ মানুষজন, জন্তুজানোয়ার এবং আবহাওয়ার একটা অনুপাত হিসেব করেই গাছপালার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ গাছ বাড়লে মানুষের কী উপকার হবে তা বজ্রবাহুর মাথায় এল না৷

পৃথিবীতে আড়াই হাজার বছরের মেলা বকেয়া কাজ জমে আছে৷ ফলে বজ্রবাহু ও তাঁর দলবল এসব সামান্য ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামালেন না৷ তাঁরা বকেয়া কাজ সারতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন৷ তবে আজকাল কাজকর্ম বেশিরভাগই যন্ত্রের মাধ্যমে সমাধা হয়ে যায় বলে তেমন গা ঘামাতে হয় না৷ বজ্রবাহুদের খাটতে হচ্ছিল অন্যান্য গ্রহ থেকে আনা তথ্যাবলি রেকর্ড করে রাখতে এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করতে৷

বজ্রবাহুর বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেল৷ বাড়ির সবাই তাঁর জন্যই অপেক্ষা করছেন৷ বজ্রবাহু সকলের মুখই খুঁটিয়ে লক্ষ করলেন৷ বাস্তবিকই, কারও মুখেই খুব একটা স্বঃতস্ফূর্ত আনন্দের ভাব নেই৷ কিন্তু কেন? বিজ্ঞানের কল্যাণে পৃথিবী থেকে রোগভোগ, মৃত্যু বিদায় নিয়েছে৷ অভাব, কষ্ট নেই, পরিশ্রম নেই৷ তাহলে চাপা বিষণ্ণতা দেখা যাচ্ছে কেন?

খাওয়ার টেবিলে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল৷ মস্ত টেবিল ঘিরে সবাই খেতে বসেছেন৷ বজ্রবাহুর দু-ধারে তাঁর স্ত্রী এবং বোন৷ হঠাৎ পিঠে একটু সুড়সুড়ি লাগায় বজ্রবাহু চমকে উঠে পিছনে হাত বাড়িয়ে খপ করে একটা সাপকে ধরে ফেললেন৷ তারপর সভয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, 'সাপ! সাপ! বাবা রে!'

তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত লজ্জিত গলায় বললেন, 'সাপ নয়৷ ছেড়ে দাও৷'

'সাপ নয় মানে!' বলে লাফিয়ে উঠলেন বজ্রবাহু৷ টেবিলে সবাই নিঃশব্দে নতমুখে বসে আছেন৷ বজ্রবাহু সবিস্ময়ে দেখলেন, তিনি যা ধরেছেন তা সত্যিই সাপ নয়৷

'কী এটা!' বলে ফের বজ্রকন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলেন বজ্রবাহু৷

তাঁর নতমুখী স্ত্রী বললেন, 'ছেড়ে দাও৷ ওটা আমার লেজ৷'

'লেজ!' বলে হাঁ করে রইলেন বজ্রবাহু৷ তাঁর শিথিল হাত থেকে সর্পিল জিনিসটা খসে পড়ল৷

বজ্রবাহুর বাবা মৈনাক গলাখাঁকারি দিয়ে বললেন, 'তুমি পৃথিবীতে ছিলে না, এর মধ্যেই এই একটা অঘটন ঘটতে শুরু করেছে৷ দু-হাজার বছর আগে হঠাৎ ক্রমে ক্রমে মানুষের লেজ হতে শুরু করেছে৷ প্রথমে একটা গ্যাঁজের মতো বেরোয়৷ তারপর ধীরে ধীরে বড়ো হতে থাকে৷ লেজ খসানোর অনেক প্রক্রিয়া করেও লাভ হয়নি৷ এখন আমাদের প্রত্যেকেরই এক হাত, দেড় হাত দু-হাত লম্বা লেজ হয়েছে৷ কাপড়চোপড়ে ঢাকা থাকে বটে, কিন্তু সত্যটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই৷'

বজ্রবাহু মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন, 'লেজ! লেজ হচ্ছে কেন? একটা কারণ তো থাকবে!'

মৈনাক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, 'লেজ গজানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্বভাবও একটু একটু পালটাচ্ছে৷ ঘরে থাকার চেয়ে আজকাল কেন যেন আমাদের গাছের ডালে উঠে বসে থাকতে ইচ্ছে করে৷ তুমি জান না, আমরা সবাই এখন খুব ভালো গাছ বাইতে পারি, এ-ডাল থেকে ও-ডাল লাফিয়ে লাফিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াই৷ আমাদের স্বভাবে বেশ একটা পরিবর্তন এসেছে৷'

বজ্রবাহু খুব রেগে গিয়ে বললেন, 'কই, আমার তো হয়নি!'

মৈনাক বললেন, 'তুমি এই বিবর্তনের সময়টায় পৃথিবীতে ছিলে না, তাই বেঁচে গেছ৷'

বজ্রবাহু খাওয়া ফেলে উঠে রাষ্ট্রপতিকে ফোন করলেন, 'আপনার কি লেজ আছে মহামান্য রাষ্ট্রপতি?'

'আছে বজ্রবাহু৷'

উপরাষ্ট্রপতি বললেন, 'আছে হে, আছে৷'

অন্তত পঞ্চাশ জনকে ফোন করে নিঃসংশয় হলেন বজ্রবাহু৷ মাথা গরম হয়ে গেল৷ ঘরময় পায়চারি করতে লাগলেন, 'এর মানে কী? কারণই-বা কী?'

মৈনাক ছেলের অস্থিরতা দেখে তাঁর কাছে এসে নরম গলায় সান্ত্বনা দিলেন, 'অত অস্থির হোয়ো না৷ মানুষের কোনো কাজ নেই, সব কাজ যন্ত্র করে দিচ্ছে৷ মানুষের মস্তিষ্ক কাজ করছে না, যন্ত্রই তার হয়ে ভাবছে৷ মানুষের মৃত্যুও নেই, হাজার হাজার বছর সে খামোখা বেঁচে থাকছে৷ তাই বিবর্তন থেমে গেছে৷ কিন্তু প্রকৃতি তো থেমে নেই৷ সে তাই মানুষের বিবর্তনের প্রগতি প্রত্যাহার করে নিয়ে তাকে উলটো বিবর্তনের পাল্লায় ফেলে দিয়ে শিক্ষা দিচ্ছে৷'

বজ্রবাহু রেগে যেতে গিয়েও রাগলেন না৷ রেগে লাভ নেই৷ কারণ, কথাটা মিথ্যে নয়৷

এতক্ষণ যেটা লক্ষ করেননি, তা পরদিন সকালেই লক্ষ করলেন বজ্রবাহু৷ গাছে গাছে প্রচুর মানুষ দোল খাচ্ছে, লাফালাফি করছে, আনন্দে চ্যাঁচাচ্ছেও কেউ কেউ৷ লক্ষ করলেন, অনেকেই আবার নিজেদের লেজ নির্লজ্জভাবেই প্রদর্শনও করছে৷ এও লক্ষ করলেন, মানুষের গায়ে বেশ ঘন ও বড়ো বড়ো লোম গজাচ্ছে আজকাল৷

উত্তেজিত বজ্রবাহু গিয়ে পুণ্ডরীককে ধরলেন, 'এসব কী হচ্ছে, বলবে?'

পুণ্ডরীক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 'আবার গোড়া থেকে আমাদের সব শুরু করতে হবে মনে হচ্ছে৷ মানুষ বানরে রূপান্তরিত হয়ে গেলে ফের উলটো পথে বিবর্তন যদি আবর্তিত হয় তাহলে দূর ভবিষ্যতে আবার মানুষ দেখা দেবে পৃথিবীতে৷ আপাতত আমাদের কিছু করার নেই বজ্রবাহু৷'

'আর আমাদের কী হবে?'

'আমরা অন্য গ্রহে পালিয়ে যেতে পারি বটে, কিন্তু তাতে লাভ কী? আমাদের আপনজনেরা তো বানর হয়ে যাবেই৷'

'তা হলে?'

আর-একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুণ্ডরীক বলল, 'আমরা অপেক্ষা করব৷ আর কিছুদিনের মধ্যেই আমাদেরও . . .'

বাস্তবিক, মাত্র এক হাজার বছরের মধ্যেই বজ্রবাহু, মৈনাক এবং তাঁদের দলবলের লেজ গজাতে লাগল৷ আর অন্যদিকে, পৃথিবীতে গাছে গাছে বানরের ভিড়৷ হুপহাপ, দুপদাপ শব্দ৷ গাছপালায় সভ্যতা ঢেকে যেতে লাগল৷

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%