শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

রাজার মন আর কিছুতেই ভালো হচ্ছে না৷ মন ভালো করতে লোকেরা কম মেহনত করেনি৷ রাজাকে গান শোনানো হয়েছে, নাচ দেখানো হয়েছে, বিদূষক এসে হাজার রকমের ভাঁড়ামি করেছে, যাত্রা, নাটক, মেলা-মচ্ছব, যাগ-যজ্ঞ পুজো-পাঠ সব হল৷ পুবের রাজ্য থেকে আনারস, উত্তরের হিমরাজ্য থেকে আপেল, পশ্চিম থেকে আখরোট, আঙুর, পেস্তা বাদাম, দেশ-বিদেশ থেকে ক্ষীর আর ছানার মিষ্টি এনে খাওয়ানো হয়েছে৷ এখন সাহেব আর চীনে রসুইকররা দু-বেলা হরেক খাবার বানাচ্ছে৷ রাজা দেখছেন, শুনছেন, খাচ্ছেন, কিন্তু তবু ঘণ্টায় ঘণ্টায় বুক কাঁপিয়ে হুহুংকারে এক-একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন৷ 'না হে, মনটা ভালো নেই৷'
রাজবৈদ্য এসে সারাদিন বসে নাড়ি টিপে চোখ বুজে থাকেন৷ নাড়ি কখনো তেজি, কখনো মরা, কখনো মোটা, কখনো সরু৷ রাজবৈদ্য আপনমনে হুঁ-হুঁ-হুঁ-হুঁ করেন, তারপর শতেকরকম শেকড়-বাকড় পাতা বেটে ওষুধ তৈরি করে শতেক অনুপান দিয়ে রাজাকে খাওয়ান৷ রাজা খেয়ে যান৷ তারপর হড়াস করে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যায়৷ 'না হে, মনটা ভালো নেই৷'
রাজার মন ভালো করতে রাজপুত্তুর আর সেনাপতিরা আশপাশের গোটা দশেক রাজ্য জয় করে হেরো রাজাগুলোকে বন্দি করে নিয়ে এল৷ রাজা তাকিয়ে দেখলেন৷ তারপরই অজান্তে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন একটা৷ 'মনটা বড়ো খারাপ রে৷'
তখন মন্ত্রীমশাই রাজার তীর্থযাত্রা আর দেশভ্রমণের ব্যবস্থা করলেন৷ লোকলশকর পাইক-পেয়াদা নিয়ে রাজা শ-দেড়েক তীর্থ আর দেশ-দেশান্তর ঘুরে এসে হাতমুখ ধুয়ে সিংহাসনে বসেই বললেন, 'হায় হায়৷ মনটা একদম ভালো নেই৷'
ওদিকে ভাঁড়ামি করে করে রাজার বিদূষক হেদিয়ে পড়ায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছে৷ রাজনর্তকীর পায়ে বাত৷ সভাগায়কের গলা বসে গেছে৷ বাদ্যকরদের হাতে ব্যথা৷ রসুইকররা ছুটি চাইছে৷ রাজবৈদ্যকে ধরেছে ভীমরতি৷ সেনাপতি সন্ন্যাস নিয়েছেন৷ মন্ত্রীমশাইয়ের মাথায় একটু গণ্ডগোল দেখা দিয়েছে বলে তাঁর স্ত্রী সন্দেহ করছেন৷ রাজ-পুরোহিত হোম-যজ্ঞে এত ঘি পুড়িয়েছেন যে, এখন ঘিয়ের গন্ধ নাকে গেলে তাঁর মূর্ছা হয়৷ প্রজাদের মধ্যে কিছু অরাজকতা দেখা যাচ্ছে৷ সভাপণ্ডিতরা রাজার মন খারাপের কারণ নিয়ে দিনরাত গবেষণা করছেন৷ রাজজ্যোতিষী রাজার জন্মকুণ্ডলী বিচার করতে করতে, আঁক কষে কষে দিস্তা দিস্তা কাগজ ভরিয়ে ফেলেছেন৷
একদিন বিকেলে রাজা মুখখানা শুকনো করে রাজবাড়ির বিশাল ফুল-বাগিচায় বসে আছেন৷ চারদিকে হাজারো রকমের ফুলের বন্যা, রঙে গন্ধে ছয়লাপ৷ মৌমাছি গুনগুন করছে, পাখিরা মধুর স্বরে ডাকছে৷ সামনের বিশাল সুন্দর দিঘিতে মৃদুমন্দ বাতাসে ঢেউ খেলছে, রাজহাঁস চরে বেড়াচ্ছে৷
রাজা চুপচাপ বসে থেকে থেকে হঠাৎ সিংহগর্জনে বলে উঠলেন, 'গর্দান চাই৷'
মন্ত্রী পাশেই ছিলেন, আপনমনে বিড়বিড় করছিলেন, মাথা খারাপের লক্ষণ৷ রাজার হুংকারে চমকে উঠে বললেন, 'কার গর্দান মহারাজ?'
রাজা লজ্জা পেয়ে বলেন, 'দাঁড়াও, একটু ভেবে দেখি৷ হঠাৎ মনে হল কার যেন গর্দান নেওয়া দরকার৷'
মন্ত্রী বললেন, 'ভাবুন মহারাজ, আর একটু কষে ভাবুন৷ মনে পড়লেই গর্দান এনে হাজির করব৷'
বহুকালের মধ্যেও রাজা কিছুই মুখ ফুটে চাননি৷ হঠাৎ এই গর্দান চাওয়ায় মন্ত্রীর আশা হল, এবার রাজার মনোমতো একটা গর্দান দিলে বোধ হয় মন ভালো হবে৷ রাজ্যে গর্দান খুবই সহজলভ্য৷
পরদিন সকালে রাজসভার কাজ শেষ হওয়ার পর রাজা মন্ত্রীকে ডেকে বললেন, 'না হে, গর্দান নয়৷ গর্দান চাই না৷ অন্য কী একটা যেন চেয়েছিলাম, এখন আর মনে পড়ছে না৷'
বিকেল বেলা রাজা প্রাসাদের বিশাল ছাদে পায়চারি করছিলেন৷ সঙ্গে রাজকীয় কুকুর, তাম্বুলদার, হুক্কাদার, মন্ত্রী৷ পায়চারি করতে করতে রাজা হঠাৎ নদীর ওপারের গ্রামের দিকে চেয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, 'বুড়ির ঘরে আগুন দে! দে আগুন বুড়ির ঘরে৷'
মন্ত্রীর বিড়বিড় করা থেমে গেল৷ রাজার সুমুখে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে বললেন, 'জো হুকুম মহারাজ৷ শুধু বুড়ির নামটা বলুন৷'
রাজা অবাক হয়ে বললেন, 'কী বললাম বলো তো!'
'আজ্ঞে, এই যে বুড়ির ঘরে আগুন দিতে বললেন৷'
রাজা ঘাড় চুলকে বললেন, 'বলেছি নাকি? আচ্ছা, একটু ভেবে দেখি৷'
সেইদিনই শেষ রাতে রাজা ঘুমের মধ্যে চেঁচিয়ে বললেন, 'বিছুটি লাগা৷ শিগগির বিছুটি লাগা৷'
পরদিনই খবর রটে গেল, রাজা বিছুটি লাগাতে বলেছেন৷ আতঙ্কে সবাই অস্থির৷
মন্ত্রী রাজার কানে কানে জিজ্ঞেস করলেন, 'মহারাজ! কাকে বিছুটি লাগাতে হবে তার নামটা একবার বলুন, বিছুটি আনতে পশ্চিমের পাহাড়ে লোক পাঠিয়েছি৷'
'বিছুটি!' বলে রাজা অবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে ভাবতে লাগলেন৷
পশ্চিমের পাহাড়ের গায়ে সূর্য ঢলে পড়ল৷ গোরুর গাড়ি বোঝাই বিছুটি এনে রাজবাড়ির সামনের অঙ্গনে জমা করা হয়েছে৷ রাজার সেদিকে মন নেই৷
রাজা রঙ্গঘরে বসে বয়স্যদের সঙ্গে ঘুঁটি সাজিয়ে দাবা খেলছেন৷ মুখ গম্ভীর, চোখে অন্যমনস্ক একটা ভাব৷ বয়স্যরা ভয়ে ভয়ে ভুল চাল দিয়ে রাজাকে জিতবার সুবিধে করে দিচ্ছেন৷ কিন্তু রাজা দিচ্ছেন আরও মারাত্মক ভুল চাল৷
খেলতে খেলতে রাজা একবার গড়গড়ার নলে মৃদু একটা টান দিয়ে বললেন, 'পুঁতে ফেললে কেমন হয়?'
মন্ত্রী কাছেই ছিলেন৷ বিড়বিড় করা থামিয়ে বিগলিত হয়ে বললেন, 'খুব ভালো হয় মহারাজ৷ শুধু একবার হুকুম করুন৷'
রাজা আকাশ থেকে পড়ে বললেন, 'কীসের ভালো হয়? কিছুতেই ভালো হবে না মন্ত্রী৷ মনটা একদম খারাপ৷'
মন্ত্রী বিমর্ষ হয়ে আবার বিড়বিড় করতে লাগলেন৷
পরদিন রাজা শিকারে গেলেন৷ সঙ্গে বিস্তর লোকলশকর, অস্ত্রশস্ত্র, ঘোড়া, রথ৷ বনের মধ্যে রাজার শিকারের সুবিধের জন্যই হরিণ, খরগোশ, পাখি ইত্যাদি বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছে৷ একটা বাঘও আছে৷ রাজা ঘোড়ার পিঠে বসে অনেকক্ষণ ধরে ঘুরে ঘুরে দেখলেন, কিন্তু একটাও তির ছুড়লেন না৷ দুপুরে বনভোজনে বসে পোলাও দিয়ে মাংসের ঝোল মেখে খেতে খেতে বলে উঠলেন, 'বাপ রে! ভীষণ ভূত!'
মন্ত্রীমশাই সঙ্গেসঙ্গে মাংসের হাত মাথায় মুছে উঠে পড়লেন৷ রাজামশাইয়ের সামনে এসে বললেন, 'তাই বলুন মহারাজ! ভূত! তা তারই-বা ভাবনা কী? ভূতের রোজাকে ধরে আনাচ্ছি, রাজ্যে যত ভূত আছে ধরে ধরে সব শূলে দেওয়া হবে৷'
রাজা হাঁ করে রইলেন৷ বললেন, 'ভূত৷ না না ভূত নয়৷ ভূত হবে কী করে? ভূতের কি কখনো মাথা ধরে?'
মন্ত্রীমশাই আশার আলো দেখতে পেয়ে বিগলিত হয়ে বললেন, 'মাথা ধরলেও বদ্যি-ভূত আছে৷ তারা ভূতের ওষুধ জানে৷'
রাজা গম্ভীর হয়ে বললেন, 'আমি ভূতের কথা ভাবছি না৷ মনটা বড়ো খারাপ৷'
কয়েকদিন পর রাজা এক জ্যোৎস্না রাতে অন্দরমহলের অলিন্দে রানির পাশাপাশি বসে ছিলেন৷ হঠাৎ বললেন, 'চলো রানি, চাঁদের আলোয় বসে পান্তাভাত খাই৷'
রানি তো প্রথমে অবাক৷ তারপর তাড়াতাড়ি মন্ত্রীকে ডেকে পাঠালেন৷
মন্ত্রী এসে হাতজোড় করে বললেন, 'তা এ আর বেশি কথা কী? ওরে, তোরা সব পান্তাভাতের জোগাড় কর৷'
রাজা অবাক হয়ে বললেন, 'পান্তাভাত? পান্তাভাতটা কী জিনিস বলো তো?'
'জলে ভেজানো ভাত মহারাজ, গরিবরা খায়৷ কিন্তু আপনি নিজেই তো পান্তাভাতের কথা বললেন৷'
'বলেছি! তা হবে৷ কখন যে কী বলি, মনটা ভালো নেই তো, তাই৷'
মন্ত্রীমশাই ফিরে গেলেন৷ তবে সেই রাত্রেই তিনি রাজ্যের সবচেয়ে সেরা বাছা বাছা চার জন গুপ্তচরকে ডেকে বললেন, 'ওরে তোরা আজ থেকে পালা করে রাজামশাইয়ের ওপর নজর রাখবি৷ চব্বিশ ঘণ্টা৷'
পরদিনই এক গুপ্তচর এসে খবর দিল, 'রাজামশাই ভোর রাত্রে বিছানা থেকে নেমে অনেকক্ষণ হামা দিয়েছেন ঘরের মেঝেয়৷'
আর একজন বলল, 'রাজামশাই একা-একাই লাল জামা নেব, লাল জামা নেব, বলে খুঁতখুঁত করে কাঁদছেন৷'
আর একজন এসে খবর দিল, 'রাজামশাই এক দাসীর বাচ্চা ছেলের হাত থেকে একটা মণ্ডা কেড়ে নিয়ে নিজেই খেয়ে ফেললেন, এইমাত্র৷'
চতুর্থ জন বলল, 'আমি অতশত জানি না, শুধু শুনলাম রাজামশাই খুব ঘন ঘন ঢেঁকুর তুলছেন আর বলছেন সবই তো হল, আর কেন?'
মন্ত্রীর মাথা আরও গরম হল৷ তবু বললেন, 'ঠিক আছে, নজর রেখে যা৷'
পরদিনই প্রথম গুপ্তচর এসে বলল, 'আজ্ঞে, রাজামশাই আমাকে ধরে ফেলেছেন৷ রাত্রে শোয়ার ঘরের জানলা দিয়ে যেই উঁকি দিয়েছি, দেখি রাজামশাই আমার দিকেই চেয়ে আছেন৷ দেখে বললেন, 'নজর রাখছিস? রাখ বলে চোখ বুজে শুয়ে পড়লেন৷'
দ্বিতীয় জন এসে বলে, 'আজ্ঞে আমি ছিলাম রাজার খাটের তলায়৷ মাঝরাতে রাজামশাই হামাগুড়ি দিয়ে এসে আমাকে বললেন, কানে কেন্নো ঢুকবে, বেরিয়ে আয়৷'
তৃতীয় জন কান চুলকে লাজুক লাজুক ভাব করে বলল, 'আজ্ঞে আমি বিকেলে রাজার কুঞ্জবনে রাজার ভুঁইমালী সেজে গাছ ছাঁটছিলাম৷ রাজা ডেকে খুব আদরের গলায় বললেন, ওরে, ভালো গুপ্তচর হতে গেলে সব কাজ শিখতে হয়৷ ওভাবে কেউ গাছ ছাঁটে নাকি? আয় তোকে শিখিয়ে দিই৷ বলে রাজা নিজেই গাছ ছেঁটে দেখিয়ে দিলেন৷'
কিন্তু সবচেয়ে তুখোড় যে গুপ্তচর সেই রাখহরি তখনও এসে পৌঁছোয়নি৷ মন্ত্রী একটু চিন্তায় পড়লেন৷
ওদিকে রাখহরি কিন্তু বেশি কলাকৌশল করতে যায়নি৷ সকাল বেলা রাজার শোয়ার ঘরের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল৷ রাজা বেরোতেই প্রণাম করে বলল, 'মহারাজ, আমি গুপ্তচর রাখহরি৷ আপনার ওপর নজর রাখছি৷'
রাজা অবাক হলেও স্মিত হাসলেন৷ হাই তুলে বললেন, 'বেশ বেশ, মন দিয়ে কাজ করো৷'
তারপর রাজা যেখানে যান পেছনে রাখহরি ফিঙের মতো লেগে থাকে৷
দুপুর পর্যন্ত বেশ কাটল৷ দুপুরে খাওয়ার পর পান চিবোতে চিবোতে রাজা হঠাৎ বললেন, 'চিমটি দে৷ রাম চিমটি দে৷'
সঙ্গেসঙ্গে রাখহরি রাজার পেটে এক বিশাল চিমটি বসিয়ে দিল৷ রাজা আঁক করে উঠে বললেন, 'করিস কী, করিস কী? ওরে বাবা৷'
রাখহরি বলল, 'বললেন যে৷'
পেটে হাত বোলাতে বোলাতে রাজা কিন্তু হাসলেন৷
আবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল৷ রাজা বাগানে বেড়াতে বেড়াতে হঠাৎ বলে উঠলেন, 'ল্যাং মেরে ফেলে দে৷' বলতে না বলতেই রাখহরি ল্যাং মারল৷ রাজা চিতপটাং হয়ে পড়ে চোখ পিটপিট করতে লাগলেন৷ রাখহরি রাজার গায়ের ধুলোটুলো ঝেড়ে দাঁড় করিয়ে রাজার পায়ের ধুলো নিল৷ রাজা শ্বাস ফেলে বললেন, 'হুঁ৷'
রাত পর্যন্ত রাজা আর কোনো ঝামেলা করলেন না৷ রাখহরি রাজার পিছু পিছু শোয়ার ঘরে ঢুকল এবং রাজার সামনেই একটা আলমারির ধারে লুকিয়ে রইল৷ রাজা আড়চোখে দেখে একটু হাসলেন৷ আপত্তি করলেন না৷ তবে শোয়ার কিছুক্ষণ পরেই রাজা হঠাৎ খুঁতখুঁত করে বলে উঠলেন, 'ঠান্ডা জলে চান করব, ঠান্ডা জলে . . .' রাখহরি বিদ্যুৎগতিতে রাজার ঘরের সোনার কলসের কেওড়া আর গোলাপের সুগন্ধ মেশানো জলটা সবটুকু রাজার গায়ে ঢেলে দিল৷
রাজা চমকে হেঁচে কেশে উঠে বসলেন৷ কিন্তু খুব অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে মনে হল না৷ রাখহরির দিকে চেয়ে একটু হেসে বললেন, 'আচ্ছা শুগে যা৷'
রাখহরি অবশ্য শুতে গেল না৷ পাহারায় রইল৷
সকালে উঠে রাজা হাই তুলে হঠাৎ বলে উঠলেন, 'দে বুকে ছোরা বসিয়ে দে . . .' চকিতে রাখহরি কোমরের ছোরাখানা তুলে রাজার বুকে ধরল৷
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে রাজা বললেন, 'থাক থাক, ওতেই হবে৷ তোর কথা আমার মনে ছিল না৷'
রাখহরি ছোরাটা খাপে ভরতেই রাজা হো-হো করে হাসতে লাগলেন৷ সে এমন হাসি যে রাজবাড়ির সব লোকজন ছুটে এল৷ রাজা হাসতে হাসতে দু-হাতে পেট চেপে ধরে বললেন, 'ওরে আমার যে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে! ভীষণ হাসি পাচ্ছে৷'
খবর পেয়ে মন্ত্রীও এসেছেন৷ রাজার বুকে-পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন, 'যাক বাবা! মন খারাপটা গেছে তাহলে৷'
হাসতে হাসতে রাজা বিষম খেয়ে বললেন, 'ঃও হোঃ হোঃ৷ কী আনন্দ৷ কী আনন্দ!'
তারপর থেকে রাজার মন খারাপ কেটে গেল৷ কিন্তু নতুন একটা সমস্যা দেখা দিল আবার৷ কারণ নেই, কিছু নেই, রাজা সব সময়ে কেবল ফিক ফিক করে হেসে ফেলছেন৷ খুব দুঃসংবাদ দিলেও হাসতে থাকেন৷ যুদ্ধে হার হয়েছে? ফিক ফিক৷ অমুক মারা গেছে? ফিক ফিক৷ রাজ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে? ফিক ফিক৷ দক্ষিণের রাজ্যের প্রজারা বিদ্রোহ করেছে? ফিক ফিক৷
রাজার হাসি বন্ধ করার জন্য মন্ত্রীকে এখন আবার দ্বিগুণ ভাবতে হচ্ছে৷

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন