শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কদম্ববাবু মানুষটা যতটা না গরিব তার চেয়েও ঢের বেশি কৃপণ৷ তিনি চণ্ডীপাঠ করেন কি না কে জানে, তবে জুতো সেলাই যে করেন তা সবাই জানে৷ আর করেন মুচির পয়সা বাঁচাতে৷ তবে আরও একটা কারণ আছে৷ একবার এক মুচি তাঁর জুতো সেলাই করতে নারাজ হয়ে বলেছিল, 'এটা তো জুতো নয়, জুতোর ভূত৷ ফেলে দিন গে৷' বাস্তবিকই জুতো জোড়া এত ছেঁড়া আর তাপ্পি-মারা যে, সেলাই করার আর জায়গাও ছিল না৷ কিন্তু কদম্ববাবু দমলেন না৷ একটা গুনছুঁচ আর খানিকটা সুতো জোগাড় করে নিজেই লেগে গেলেন সেলাই করতে৷
জুতো সেলাই থেকেই তাঁর ঝোঁক গেল অন্যান্য দিকে৷ জুতো যদি পারা যায় তাহলে ছাতাই বা পারা যাবে না কেন? সুতরাং ছেঁড়া ভাঙা ছাতাটাও নিজেই সারাতে বসে গেলেন৷ এর পর ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ, ছুতোরের কাজ, ছুরি-কাঁচি ধার দেওয়া, শিল কাটানো, ফুটো কলসি ঝালাই করা, ছোটোখাটো দর্জির কাজ সবই নিজে করতে লাগলেন৷ এর ফলে যে উনি বাড়ির লোকের কাছে খুব বাহবা পান তা মোটেই নয়৷ বরং তাঁর বউ আর ছেলে-মেয়েরা তাঁর এই কৃপণতায় খুবই লজ্জায় লজ্জায় থাকে৷ বাইরের লোকের কাছে তাদের মুখ দেখানো ভার হয়৷
কিন্তু কদম্ববাবু নির্বিকার৷ পয়সা বাঁচানোর যতরকম পন্থা আছে সবই তাঁর মাথায় খেলে যায়৷ তাঁর বাড়িতে ঝি-চাকর নেই৷ জমাদার আসে না৷ নর্দমা পরিষ্কার থেকে বাসন মাজা সবই কদম্ববাবু, তাঁর বউ আর ছেলে-মেয়েরা করে নেয়৷
ছোটো ছেলে বায়না ধরল, ঘুড়ি লাটাই কিনে দিতে হবে৷ কদম্ববাবু একটুও না ঘাবড়ে বসে গেলেন ঘুড়ি বানাতে৷ পুরোনো খবরের কাগজ দিয়ে ঘুড়ি আর কৌটো ছ্যাঁদা করে তার মধ্যে একটা ডান্ডা গলিয়ে লাটাই হল৷ ঘুড়িটা উড়ল না বটে, কিন্তু কদম্ববাবুর পয়সা বেঁচে গেল৷
এহেন কদম্ববাবু একদিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরছেন৷ চার মাইল রাস্তা তিনি হেঁটেই যাতায়াত করেন৷ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মাঝ রাস্তায় ঝেঁপে বৃষ্টি এল৷ সস্তা ফুটো ছাতায় জল আটকাল না৷ কদম্ববাবু ভিজে ভূত হয়ে যাচ্ছিলেন৷ তাড়াতাড়ি একটা পুরোনো বাড়ির রকে উঠে ঝুলবারান্দার তলায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ছাঁট থেকে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করতে লাগলেন৷
হঠাৎ পিছনে প্রকাণ্ড দরজাটা খুলে গেল৷ একজন বুড়ো মতো লোক মুখ বাড়িয়ে একগাল হেসে বলল, 'এই যে শ্যামবাবু! এসে গেছেন তাহলে? আসুন, আসুন, ভিতরে আসুন৷'
কদম্ববাবু তটস্থ হয়ে বললেন, 'আমি তো শ্যামবাবু নই৷'
'না হলেই-বা শুনছে কে? কর্তাবাবু দাবার ছক সাজিয়ে বসে আছেন যে! দেরি হলেই কুরুক্ষেত্তর করবেন৷ এই কি রঙ্গরসিকতার সময়? আসুন, আসুন৷'
কদম্ববাবু সভয়ে বললেন, 'আমি তো দাবা খেলতে জানি না৷'
লোকটা আর সহ্য করতে পারল না৷ কদম্ববাবুর হাতটা ধরে দরজার মধ্যে টেনে নিয়ে বলল, 'আচ্ছা লোক যা হোক৷ আপনি রসিক লোক তা আমরা সবাই জানি৷ তা বলে সব সময়ে কি রসিকতা করতে হয়?'
ভিতরে ঢুকে কদম্ববাবুর চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল৷ এইসব পুরোনো বনেদি বাড়িতে তিনি কখনো ঢোকেননি৷ যেদিকে তাকান চোখ যেন ঝলসে যায়৷
মার্বেল পাথরে বাঁধানো মেঝে থেকে শুরু করে ঝাড়বাতি অবধি সবই টাকার গন্ধ ছড়াচ্ছে৷
তিনি যে শ্যামবাবু নন, তাঁকে যে ভুল লোক ভেবে এ বাড়িতে ঢোকানো হয়েছে এ কথাটা ভালো করে জোর দিয়ে বলার মতো অবস্থাও কদম্ববাবুর আর রইল না৷ তিনি চারদিকে চেয়ে মনে মনে হিসেব করতে লাগলেন, এই মার্বেল পাথরের কত দাম, কত দাম ওই দেওয়ালগিরির ...
ভেজা ছাতা থেকে জল ঝরে মেঝে ভিজে যাচ্ছিল৷ লোকটা হাত বাড়িয়ে ছাতাটা হাত থেকে একরকম কেড়ে নিয়ে বলল, 'ঃএ শ্যামবাবু, এই ছেঁড়া তাপ্পি দেওয়া ছাতা কোথা থেকে পেলেন? আপনার সেই দামি জাপানি ছাতাখানার কী হল?'
কদম্ববাবু শুধু হতভম্বের মতো বললেন, 'জাপানি ছাতা?'
লোকটা হঠাৎ তাঁর পেটে একটা চিমটি কেটে বলল, 'আপনার মতো শৌখিন মানুষ কটা আছে বলুন৷'
ছেঁড়া জুতোয় জল ঢুকে সপসপ করছিল৷ কদম্ববাবু জুতো জোড়া সন্তর্পণে ছেড়ে রাখলেন একধারে৷
কিন্তু লোকটার চোখ এড়ানো গেল না৷ জুতো জোড়া দেখতে পেয়ে লোকটা আঁতকে উঠে বলল, 'সেই সোনালি সুতোর কাজ-করা নাগরা জোড়া কোথায় গেল আপনার? তার বদলে এ কী?'
কদম্ববাবু কৃপণ বটে, কিন্তু তিনি নিজেও জানেন যে, তিনি কৃপণ৷ সাধারণ কৃপণেরা টেরই পায় না যে, তারা কৃপণ৷ তারা ভাবে যে তারা যা করছে সেটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু কদম্ববাবু তাদের মতো নন৷ তাই লোকটার কথায় ভারি লজ্জা পেলেন তিনি৷ এমনকী তিনি যে শ্যামবাবু নন এ কথাটাও হঠাৎ ভুলে গিয়ে তিনি বলে ফেললেন, 'বর্ষাকাল বলে নাগরা জোড়া পরিনি৷'
লোকটা একটু তাচ্ছিল্যের ভাব করে বলল, 'যার দেড়শো জোড়া জুতো সে আবার সামান্য নাগরার মায়া করবে এটা কি ভাবা যায়? শ্যামবাবু ছেঁড়া জুতো পরে বাবুর বাড়ি আসছেন, এ যে কলির শেষ হয়ে এল!'
কদম্ববাবু এ কথা শুনে সভয়ে আড়চোখে নিজের পোশাকটাও দেখে নিলেন৷ পরনে মিলের মোটা ধুতি, গায়ে একটা সস্তা ছিটের শার্ট৷ শ্যামবাবু নিশ্চয়ই এই পোশাক পরেন না৷
যেন তাঁর মনের কথাটি টের পেয়েই লোকটা হঠাৎ বলে উঠল, 'নাঃ, আজ বোধ হয় আপনি ছদ্মবেশ ধারণ করেই এসেছেন শ্যামবাবু৷ তা ভালো৷ বড়োলোকদেরও কি আর মাঝে মাঝে গরিব সাজতে ইচ্ছে যায় না! নইলে শ্যামবাবুর গায়ে তালি-মারা জামা, পরনে হেঁটো ধুতি হয় কী করে!'
কদম্ববাবু বিগলিত হয়ে হাসলেন৷ বললেন, 'ঠিক ধরেছেন বটে৷'
হলঘরের পর দরদালান৷ আহা, দরদালানেরও কী শ্রী! দু-ধারে পাথরের সব মূর্তি, বিশাল বিশাল অয়েল পেন্টিং, পায়ের নীচে নরম কার্পেট৷
এসব জিনিস চর্মচক্ষে বড়ো একটা দেখেননি কদম্ববাবু৷ তবে শুনেছেন৷ টাকার কতখানি অপচয় যে এতে হয়েছে তা ভেবে তাঁর মাথা ঘুরতে লাগল৷
দু-ধারে সারি সারি ঘর৷ দরজায় ব্রোকেড বা ওই জাতীয় জিনিসের পর্দা ঝুলছে৷ দেয়ালগিরি আর ঝাড়লন্ঠনের ছড়াছড়ি৷ এক-একটা ঝাড়ের দাম যদি হাজার টাকা করেও হয় কমপক্ষে ...
নাঃ, কদম্ববাবু আর ভাবতে পারলেন না৷
লোকটা দরদালানের শেষে একটা চওড়া সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে বলল, 'কর্তাবাবুও আজ আপনাকে দেখে মজা পাবেন৷ যা একখানা ছদ্মবেশ লাগিয়ে এসেছেন আজ!'
কদম্ববাবু হে-হে করে অপ্রতিভ হাসি হাসলেন৷
সিঁড়ি যে এরকম বাহারি হয় তা কদম্ববাবুর সুদূর কল্পনাতেও ছিল না৷ আগাগোড়া পাথরে বাঁধানো কার্পেটে মোড়া এ সিঁড়িতে পা রাখতেও তাঁর লজ্জা করছিল৷
দোতলায় উঠে কদম্ববাবু একেবারে বিমূঢ় হয়ে গেলেন৷ রাজদরবারের মতো বিশাল ঘর রুপোয় একেবারে রূপের হাট খুলে বসে আছে৷ যেদিকে তাকান সেদিকেই রুপো৷ রুপোর ফুলদানি, রুপোর ফুলের টব, রুপোর টেবিল, রুপোর চেয়ার, দেয়ালে রুপোর বাঁধানো বড়ো বড়ো ফটো৷
কদম্ববাবু চোখ পিটপিট করতে লাগলেন৷
লোকটা একটু ফিচকি হেসে বলল, 'হল কী শ্যামবাবুর? অ্যাঁ! এ বাড়ি কি আপনার অচেনা? রুপোমহলে দাঁড়িয়ে থাকলেই কি চলবে? কর্তাবাবু যে সোনামহল্লায় আপনার জন্য বসে থেকে থেকে হেদিয়ে পড়লেন! আসুন তাড়াতাড়ি৷'
সোনামহল্লা! কদম্ববাবুর বেশ ঘাম হতে লাগল শুনে৷ রুপো মহলেই যে লাখো লাখো টাকা ছড়িয়ে আছে চারধারে৷
কিংখাবের একটা পর্দা সরিয়ে লোকটা বলল, 'যান ঢুকে পড়ুন৷'
কদম্ববাবু কাঁপতে কাঁপতে সোনামহল্লায় ঢুকলেন৷ কিন্তু ঢুকেই যে কেন মূর্ছা গেলেন না সেটাই অবাক হয়ে ভাবতে লাগলেন তিনি৷
সোনামহল্লার সব কিছুই সোনার৷ এমনকী পায়ের তলার কার্পেটটায় অবধি সোনার সুতোর কাজ৷ সোনার পায়াওলা টেবিল, সোনার পাতে মোড়া চেয়ার, সোনার ফুলদানি, সোনার ঝাড়লন্ঠন৷ এত সোনা যে পৃথিবীতে আছে তা-ই জানা ছিল না কদম্ববাবুর৷
তিনি এমন হাঁ হয়ে গেলেন যে, ঘরের মাঝখানে একটা নীচু সোনার টেবিলের ওপাশে যে গৌরবর্ণ পুরুষটি একটা সোনায় বাঁধানো আরাম-কেদারায় বসে ছিলেন তাঁকে নজরেই পড়েনি তাঁর৷
হঠাৎ একটা গমগমে গলা কানে এল, 'এই যে শ্যামকান্ত! এসো৷'
কদম্ববাবু ভীষণ চমকে উঠলেন৷
চমকানোর আরও ছিল৷ কর্তাবাবুর সামনে যে দাবার ছকটি পাতা রয়েছে সেটা যে শুধু সোনা দিয়ে তৈরি তা-ই নয়, প্রত্যেকটা খোপে আবার হিরে, মুক্তো, চুনি আর পান্না বসানো৷ একধারে সোনার ঘুঁটি, অন্যধারে রুপোর৷ প্রত্যেকটা ঘুঁটির মাথায় আবার এক কুঁচি করে হিরে বসানো৷
'বসো, বসো হে শ্যামকান্ত৷ আর সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না৷ মনে আছে তো আজ আমাদের বাজি রেখে খেলা৷ এই হল আমার বাজি৷'
এই বলে কর্তাবাবু একটা নীল ভেলভেটে মোড়া বাক্সর ঢাকনা খুলে টেবিলের একপাশে রাখলেন৷
কদম্ববাবু দেখলেন, বাক্সর মধ্যে মস্ত একটা মুক্তো৷ মুক্তো যে এত বড়ো হয় তা জানা ছিল না তাঁর৷
'তুমি কি বাজি রাখবে শ্যামবাবু?'
কদম্ববাবু আমতা-আমতা করে বললেন, 'আমি গরিব মানুষ, কী আর বাজি রাখব বলুন৷'
কর্তাবাবু ঘর কাঁপিয়ে হাঃ-হাঃ অট্টহাসি হেসে বললেন, 'গরিবই বটে৷ বছরে যার কুড়ি লাখ টাকা আয় সে আবার কেমন গরিব?'
'আজ্ঞে আপনার তুলনায় আমি আর কী বলুন!'
কর্তাবাবু গম্ভীর হয়ে বললেন, 'সে কথাটা সত্যি শ্যামবাবু৷ আমার মেলা টাকা৷ এত টাকা যে আজকাল আমার টাকার ওপর ঘেন্না হয়৷ খুব ঘেন্না হয়৷'
টাকার ওপর ঘেন্না! কদম্ববাবুর মুখটা হাঁ হয়ে গেল৷
কর্তাবাবু গম্ভীর গলায় বললেন, 'আজ সকালে মনটা খুব খারাপ ছিল৷ কিছুতেই ভালো হচ্ছিল না৷ কী করলাম জান? দশ লক্ষ টাকার নোট আগুন জ্বেলে পুড়িয়ে দিলাম৷'
'অ্যাঁ?'
'শুধু কি তাই? ছাদে উঠে মোহর ছুড়ে ছুড়ে কাক তাড়ালাম৷ তাতে একটু মনটা ভালো হল৷ তারপর জুড়িগাড়ি করে হাওয়া খেতে বেরিয়ে এক হাজারটা হিরে আর মুক্তো রাস্তায় ছড়িয়ে দিয়ে এলাম৷'
কদম্ববাবু দাঁতে দাঁত চেপে কোনোরকমে নিজেকে সামাল দিলেন৷ লোকটা বলে কী?
কর্তাবাবু বললেন, 'এসো, চাল দাও৷ তুমি কী বাজি রাখবে বললে না?'
কদম্ববাবু মুখটা কাঁচুমাচু করে ভাবতে লাগলেন৷
কর্তাবাবু নিজেই বললেন, 'টাকাপয়সা হিরে জহরত তো আমার দরকার নেই৷ তুমি বরং তোমার পকেটের ওই কলমটা বাজি ধরো৷'
কলম! কদম্ববাবু শিউরে উঠলেন৷ মাত্র আট আনায় ফুটপাথ থেকে কেনা৷ তবু কদম্ববাবু উপায়ান্তর না পেয়ে কলমটাই রাখলেন মুক্তোর উলটোদিকে৷
কিন্তু চাল? দাবার যে কিছুই জানেন না কদম্ববাবু৷
চোখ বুজে একটা ঘুঁটি এগিয়ে দিলেন কদম্ববাবু৷
কর্তাবাবু বললেন, 'সাবাস!'
কদম্ববাবু চোখ মেলে একটা শ্বাস ছাড়লেন৷ তারপর বুদ্ধি করে কর্তাবাবুর দেখাদেখি কয়েকটা চাল দিয়ে ফেললেন৷
হঠাৎ কর্তাবাবু সবিস্ময়ে বলে উঠলেন, 'এ কী! তুমি যে কিস্তি দিয়ে বসেছ আমাকে! অ্যাঁ! এ কী কাণ্ড! আমি যে মাত!'
তারপরেই কর্তাবাবু হঠাৎ ঘর কাঁপিয়ে হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ করে অট্টহাসি হাসতে লাগলেন৷ সে এমন হাসি যে, কদম্ববাবুর মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল৷ চোখে অন্ধকার দেখতে লাগলেন৷ ভয়ে চোখও বুজে ফেললেন৷
যখন চোখ মেললেন তখন কদম্ববাবু হাঁ৷
কোথায় সোনার ঘর? কোথায় রুপোর ঘর? কোথায় সেই ঝাড়বাতি আর দেওয়ালগিরি? কোথায় আসবাবপত্র? এ যে ঘুরঘুট্টি অন্ধকার ভাঙা সোঁদা একটা পোড়ো বাড়ির মধ্যে বসে আছেন তিনি! চারদিকে চুন বালি খসে ডাঁই হয়ে আছে৷ চতুর্দিকে মাকড়সার জাল! ইঁদুর দৌড়োচ্ছে৷
কদম্ববাবু আতঙ্কে একটা চিৎকার দিলেন৷ তারপর ছুটতে লাগলেন৷
সেই বাড়িরই এমন দৃশ্য কে বিশ্বাস করবে? মেঝের পাথর সব উঠে গেছে, সিঁড়ি ভেঙে ঝুলে আছে, দরদালানের দেওয়াল ভেঙে পড়েছে ...
কদম্ববাবু পড়ি-কি-মরি করে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে কোনোরকমে বাইরে দরজায় পৌঁছোলেন৷ দরজাটা অক্ষতই আছে৷ কদম্ববাবু দরজাটার কড়া ধরে হ্যাঁচকা টান মারতেই সেটি খুলে গেল৷
কদম্ববাবু রাস্তায় নেমে ছুটতে লাগলেন৷ বৃষ্টি পড়ছে, তাঁর ছাতা নেই, পায়ে জুতোও নেই৷ ভাঙা পোড়ো বাড়ির মধ্যে কোথায় পড়ে আছে৷
কদম্ববাবু হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লেন৷ তারপর ভাবলেন, সত্যিই তো! টাকা বাঁচিয়ে হবেটা কী? শেষে তো ওই ভূতের বাড়ি!
বুক ফুলিয়ে কদম্ববাবু একটা দোকানে ঢুকে একটা বাহারি ছাতা কিনে ফেললেন৷ জুতোর দোকানে ঢুকে কিনলেন দামি একজোড়া জুতো!
তারপর আবার ভাবতে লাগলেন৷ শুধু নিজের জন্য কেনাকাটা করাটা ভালো দেখাচ্ছে না৷
তিনি আবার দোকানে ঢুকে গিন্নির জন্য শাড়ি আর ছেলে-মেয়েদের জন্য জামা-কাপড়ও কিনে ফেললেন৷
মনটা বেশ ভালো হয়ে গেল তাঁর৷ঊ
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন