বন্ধু

তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়

ডাউন রানাঘাট লোকালে যখন উলটোডাঙা স্টেশনে নামলাম তখন রাত সাড়ে ন'টা বাজে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে আর আমি ছাতা আনিনি। আধভেজা হয়ে বেশকিছুক্ষণ শেডের তলায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম বৃষ্টিটা কিছুটা ধরার জন্য। মিনিট পঁচিশেক বাদে দাপট অনেকটাই কমল কিন্তু ছিপছিপ করে পড়েই যাচ্ছে তবুও। একেবারে থামার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে আজ রাতের মধ্যে আর ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে হচ্ছে না। অগত্যা মাথায় খবরের কাগজ চাপিয়ে হাঁটা লাগালাম অটোস্ট্যান্ডের দিকে।

গিয়ে দেখি স্ট্যান্ড এলাকায় জল জমে গিয়েছে আর আমাদের ওই রুটের একটাও প্যাসেঞ্জার বা গাড়ি নেই। খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ফাঁকা একটা অটোর চালককে গন্তব্য জানিয়ে বললাম, রিজার্ভ করে যেতে চাই। কিন্তু সে যাবে না, ইঞ্জিন বিগড়েছে। একটা চলন্তট্যাক্সিকে থামানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু দাঁড়াল না। অতএব আপাতত নিরুপায়, নতুন কোনও অটো ফেরার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া কিছু করার নেই। দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে হতাশ হয়ে যাচ্ছি, আচমকা ঠিক পিছনে ছাতা হাতে এসে দাঁড়াল একটা লোক। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই আমাদেরই বয়সি লোকটা বলল, 'দাদাও কেষ্টপুর নাকি?'

'হ্যাঁ,' যাক আর-একজনকে পাওয়া গেল তা হলে।

লোকটা হেসে বলল, 'হ্যাঁ-হ্যাঁ, আমিও তাই ভাবছি। আরে-আরে ভিজছেন কেন, ছাতার তলায় আসুন।'

আমিও হাসি ফিরিয়ে দিয়ে মাথা গলালাম ছাতাটার তলায়। ফুটপাথের ওপারের পানের দোকানের ফ্যাকাসে সাদা আলোটা এসে পড়ছে আমাদের মুখে, লোকটা অবাক চোখে তাকিয়ে প্রায় চিৎকার করে উঠল, 'আরে বিশু না? মুখটা খুব চেনা-চেনা লাগছে, গাল ভরা চাপদাড়ি কিন্তু চোখদুটো খুব চেনা মনে হচ্ছে।'

আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়ে বললাম, 'হ্যাঁ ডাকনাম বিশু, ভালো নাম সুজনসারথি রাহা। কিন্তু আপনি, আপনাকে তো ঠিক...'

'আপনি কিরে? আমায় চিনতে পারলি না হতভাগা, আমি বাবু। শোভন সেন, মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল, বড় গোঁসাইপাড়া।'

'বাবু! কী বলছেন আপনি, মানে তুই বাবু, সেই বাবু?' হঠাৎ উত্তেজনায় কেঁপে ওঠে আপাদমস্তক। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি আর একটু-একটু করে মুখটার ভিতর থেকে জেনা বৈশিষ্ট্য বেরিয়ে আসতে থাকে। হ্যাঁ, হ্যাঁ এই তো সেই! বুকের ভিতরটা আনচান করে ওঠে। প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। ছেলেবেলায় আমরা যাকে বলে হরিহর-আত্মা ছিলাম, এক্কেবারে অভিন্নহৃদয় বন্ধু। তখন আমরা ক্লাস এইট, মামার কাছ থেকে পাস পেয়ে সেদিন সল্টলেক স্টেডিয়ামে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ দেখতে গিয়েছিল বাবু, তারপরে আর বাড়ি ফেরেনি। কেউ বলেছিল নায়ক হবে বলে মুম্বই পালিয়েছে, কেউ বলেছিল ছেলেধরাদের হাতে পড়ে পাচার হয়ে গিয়েছে, আবার কেউ সন্দেহ করেছিল অ্যাক্সিডেন্টে বুঝিবা... যাক সেসব কিছুই হয়নি তা হলে! দিব্যি অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে! আমরা একে অপরের হাত ধরে আবেগ বিহ্বল হয়ে পড়লাম।

হর্নের আওয়াজে সংবিত ফিরে পেয়ে দেখি, একটা অটো এসে দাঁড়িয়েছে পাশে। আমাদের দু'জনকে নিয়ে যেতে একশো টাকা চাইল, আমরা দর করার মুডে ছিলাম না। সিটে বসে আমি ওর হাতটা জোরে আঁকড়ে ধরে বললাম, 'কী হয়েছিল তোর, ওইভাবে হঠাৎ বেপাত্তা?'

'বাদ দে, উটকো একটা আপদ। ওসব কথা আমি আর মনে করতে চাই না, ওসব কথা আর বলে কী হবে, ফালতু সময় নষ্ট। বাদ দে। তোর কথা বল, তুই কেমন আছিস?'

'বাদ দেব মানে, তুই জানিস আমার কী অবস্থা হয়েছিল? তুই হারিয়ে যাওয়ার পর আমার কী রকম পাগল-পাগল অবস্থা হয়েছিল। কান্নাকাটি করে জ্বর এনে ফেলেছিলাম। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম, সাতদিন মতো স্কুল যাইনি। ওটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম বড় আঘাত, যার ধাক্কা এখনও ভুলতে পারিনি।'

'বুঝতে পারছি, পাড়ার লোকে আমাদের বলত কানাই-বলাই। কী টানই না ছিল দু'জন-দু'জনের ওপর, সারাদিন তো বলতে গেলে তোদের বাড়িতেই কাটাতাম। আহা, তোদের সেই বাগানটার কথা কিছুতেই ভুলতে পারি না। কী ঘন ছায়া আর কী সব দারুণ-দারুণ ফলের গাছ। স্কুল থেকে ফিরে ওটাই তো আমাদের ডেরা ছিল, ওখানেই বাতাবি লেবু লাথিয়ে ফুটবল খেলা, ইটের উইকেটে ক্রিকেট, হাডুডু, লুকোচুরি, মাটির পুতুল বানানো, নাটক-নাটক খেলা কত কিছু করতাম তখন।'

'হ্যাঁ, আমরা কী বলতাম মনে আছে? আমরা, কোনওদিন আলাদা হব না, সারাজীবন এইভাবেই কাছাকাছি থাকব। তোর হুট করে বেপাত্তা হয়ে যাওয়ায় সব কেমন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। তোর মা-বাবা তোদের বাড়িটা বেচে বহরমপুর চলে গেলেন। এখনও ওই বাড়িটার পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে আমার বুকটা হু হু করে ওঠে।'

'হ্যাঁ, থাক-থাক ওসব কথা থাক, ওসব ভাবলে ফালতু-ফালতু মনটা খারাপ হয়ে যাবে, করুণ চোখে তাকাল বাবু, 'তোর চাকরিবাকরির জায়গা কী এখন কলকাতাতে, নাকি অন্য কোথাও?'

'না, আপাতত পোস্টিং নৈহাটি কিন্তু আমাদের ওই পুরানো বাড়ি থেকেই ডেলি-প্যাসেঞ্জারি করি। এখানকার এই কেষ্টপুরের টু-রুম ফ্ল্যাটটা কিনে ফেলে রাখা আছে। শনিবার রাত করে মাঝে-মাঝেই এখানে আসি। রবিবার বেলাটা থেকে বিকেলে আবার ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন। তবে সামনে আমার প্রোমোশন আর পোস্টিংটা শুনছি কলকাতাতেই হবে, তাই চেষ্টায় আছি এই ফ্ল্যাটটা বেচে একটা থ্রি-রুম নেব। ফ্যামিলি নিয়ে এসে এখানেই সেটল করব। এবার তোর খবর বল, কোথায় আছিস, কী করছিস?'

'আমার কথা বাদ দে। আমি চিরকালের ভবঘুরে। আজ এখানে আছি তো কাল ওখানে, সব জায়গাতেই আছি আবার কোথাও নেই।'

'কী বলছিস, কিছু বুঝতে পারলাম না!'

'বোঝার দরকার কী, বুঝে কী হবে? আসল কথা হল অবশেষে তা হলে দেখা হয়েই গেল, কী যে ভালো লাগছে ভাষায় বলে বোঝাতে পারাব না।'

'হ্যাঁ আমারও সেই এক কথা, ভাবতেই পারিনি এইভাবে কোনওদিন তোর সঙ্গে দেখা হবে।'

কথা চলতে লাগল অনর্গল, স্মৃতির পর স্মৃতির পাতা উড়তে লাগল বৃষ্টি শেষের জোলো হাওয়ায়। বাবু বলে উঠল 'মনে আছে তোদের বাগানের সেই মধুকুলকুলি আমগাছটার কথা? এখন নিশ্চয়ই অনেক বড় হয়ে গেছে। মনে আছে সেইদিনটার কথা, আমি আর তুই দু'জনে দুটো আম খেয়ে যার-যার আঁটিটা মাটিতে পুঁতেছিলাম। তুই পুঁতেছিলি তোর বোম্বাইয়ের আঁটিটা আর আমি পুঁতেছিলাম আমার মধুকুলকুলি। কী আশ্চর্য ব্যাপার বলত, তোর গাছটা মরে গেল কিন্তু আমারটা গেল বেঁচে?'

'হ্যাঁ সে আর বলতে?' আমার দু'চোখ হেসে ওঠে, 'সে গাছ এখন বিরাট বড় হয়ে গেছে, প্রতিবার গাছ ভরতি করে আম হয়। আর সে যে কী মিষ্টি আম তোকে কী বলব, আমি তো পুরো মরসুমটা ওই আম ছাড়া অন্য আম মুখে তুলতে চাই না। গাছটাকে এখনও আমি বলি বাবুর গাছ, শুনলে আনন্দ পাবি আমার শোনাশুনি আমার ছেলেও গাছটাকে বলে বাবু-কাকার গাছ। এই তো আজ সন্ধেবেলাতেও ওই আম দিয়ে দুধ, চিঁড়ে মেখে খেয়ে রওনা দিয়েছি। সত্যি ওই আমের কোনও তুলনা হয় না, ওই আম মুখে দিলে আমার ভিতরটা কেমন যেন জুড়িয়ে যায়, তোর কথা মনে পড়ে, তোর সেই ছেলেবেলার মুখটা মনে পড়ে।'

চোখ ছলছল করে ওঠে বাবুর। আমার হাত আঁকড়ে ধরে, 'বলিস না, ওই গাছটার কথা আর বলিস না, আমার কষ্ট হচ্ছে। ওটার কথা যে আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না। আসলে সত্যি কথা বলতে কী, ওইটার জন্যেই আরও বেশি করে আমি তোকে খুঁজছিলাম বিশু। যে করেই হোক তোর সঙ্গে দেখা করতে চাইছিলাম, একটা জরুরি কথা বলব বলে হন্যে হয়ে খুঁজছিলাম আর দেখ আজ হঠাৎ এইভাবে দেখা হয়ে গেল।'

'জরুরি কথা বলতে, কী জরুরি কথা?'

'ভাই বিশু, আমার একটা উপকার করবি? যদি করিস আমি তোর কাছে চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব ভাই। তোর উপকার কোনওদিনও ভুলব না।'

'কী উপকার বল, সামর্থ্য থাকলে তো করবই, বল।'

'গাছটা কেটে দিবি ভাই, আমগাছটা কেটে দিবি?'

'মানে কী বলতে চাইছিস! কেটে দেব, কেন কেটে দেব?' বড়-বড় চোখ করে তাকাই আমি।

'হাতে সময় কম, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমি নেমে যাব। খুলে বলার সময় নেই, তাই ছোট করে বলি, বহু বছর ধরে আমি খুব অস্বস্তিতে রয়েছি ভাই, খুব যন্ত্রাণায়। গাছটা কেটে দিলে আমি মুক্তি পাই। এ যাত্রায় নিষ্কৃতি পাই,' কাতর মিনিতির স্বরে বলে বাবু।

'নিষ্কৃতি বলতে, কীসের নিষ্কৃতি? গাছটার সঙ্গে তার কী সম্পর্ক?'

'সম্পর্ক আছে বলেই তো বলছি, সব কথা তো বলে বোঝাতে পারব না, বললেও তোরা বুঝবি না। আসলে কী জানিস, অল্প বয়সে তো তোদের সব কিছু থেকে অনেক দূর চলে গিয়েছিলাম তাই ভাগ্য ভালো আমার বলতে কিছুই রেখে আসতে পারিনি। তবুও দু-একটা জিনিস ছিল যেগুলোর সঙ্গে অনেকদিন ধরে আটকে ছিলাম। তোদের বাগানের ওই আমগাছটা আমার শেষ চিহ্ন যার সঙ্গে আজও আমি এই দুনিয়ার সঙ্গে আটকে আছি, ওই গাছটা গোড়া উপড়ে ফেলে না দেওয়া পর্যন্ত তাই আমার মুক্তি নেই।'

হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি, বাবু পিছন দিকে বেশখানিকটা সরে গেল, 'হ্যাঁ ঠিকই, যারা বলেছিল আমি আর বেঁচে নেই তারা ঠিকই আন্দাজ করেছিল। সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ দেখে ফেরার পথে বিশ্রী একটা পথ দুর্ঘটনায় আমার স্পট-ডেথ হয়ে যায়। তারপর থেকে... ' দপ করে নিভে গেল অটোর ভিতরের আলোটা।

গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে আমার, থরথরিয়ে উঠেছে শিরদাঁড়া, হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছে যেন। দু'পাশ থেকে আসা প্রবল হাওয়ায় কাঁপা-কাঁপা শোনায় সিটের ওপারের গলাটা, 'হ্যাঁ, যা দেখেছিস ঠিকই দেখেছিস, আমি তোর সামনেই বসে আছি। আমাদের বয়সে ঠিক যেমনটি হওয়ার কথা তেমনটিই হয়ে বসে আছি। একেবারে তোদেরই মতো অথচ তোদের কেউ না।'

পাথরের মতো বসে আছি, ঠোঁট নড়ে উঠলেও কথা ফুটছে না। বাবুর গলা ভাঙা-ভাঙা শোনাল, 'হাতজোড় করছি ভাই, এবার বাড়ি গিয়ে গাছটা কেটে দিস। ভুলেও ভাবিস না কিছুই জানি না, সব খবরই রাখি। আগের মাসে যে তোদের বাড়ি ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে সে সবই জানি। মধুকুলকুলি আমগাছটাকে বাঁচাতে তুই বাগানের অংশটা নিয়েছিস আর তোর দাদা পেয়েছে বসত বাড়ির দিকটা। আমি এও জানি, ওই গাছটার জন্য তুই তোর বাড়িটা জমির পিছন দিকটায় করাচ্ছিস, সেইমতো প্ল্যান আঁকিয়ে মিউনিসিপ্যালিটির স্যাংশনও হাতে পেয়ে গিয়েছিস। কিন্তু দয়া করে এমনটা করিস না, আমগাছটা কাটিয়ে জমিটার সামনের দিকে সুন্দর করে বাড়ি তৈরি করা। আমি জানি তুই আমার স্মৃতিচিহ্নটা রেখে দিতে চাস, কিন্তু আমি যাতে যন্ত্রণা পাই এমন কিছু নিশ্চয়ই তুই করবি না। আমায় দয়া কর ভাই, আমি আর পারছি না, এত বছর ধরে আটকে থাকতে আর পারছি না। এবার আমায় মুক্তি দে, হারিয়েই যখন গিয়েছিলাম তখন পুরোপুরি হারিয়ে যেতে দে,' ফুঁপিয়ে ওঠে বাবু, মুহূর্তে 'এই দাঁড়াও-দাঁড়াও, এইখানে, এই বাঁ-পাশ করে নামিয়ে দাও।' অটোওয়ালাটার উদ্দেশে চেঁচিয়ে ওঠে।

অটোওয়ালাটা সেইমতো গাড়ি থামালে রাস্তার ধারে নেমে পড়ে বাবু। সেইসঙ্গে আমিও নামলাম। চারপাশে কোনও লোকালয় নেই, যেদিকে চোখ যায় আগাছার বন, থমঝমে গাছের সারি আর দু'দিকে দুটো-দুটো চারটে বড় জলা। টাকা মিটিয়ে আমার দিকে এগিয়ে এসে বাবু বলে, 'বন্ধুর এই অনুরোধটা অন্তত রাখিস ভাই। বন্ধুকে ভালোবাসা মানে কি শুধু আটকে রাখা, ছেড়ে দেওয়া না?'

'হ্যাঁ' বলতে গেলাম, কিন্তু গলা দিয়ে স্বর বেরল না। অটোওয়ালাটা পিছন থেকে চেঁচিয়ে উঠল, 'কী হল দাদা, জলদি করুন জলদি, আর দাঁড়ানো যাবে না।'

'আরে যাচ্ছি-যাচ্ছি, এক মিনিট দাঁড়াও না, অত তাড়ার কী আছে? বেশি টাকা দিয়ে রিজার্ভ করিয়েই তো যাচ্ছি, নাকি?' অটোওয়ালার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে ঝাঁঝিয়ে ওঠি।

'আসি ভাই,' উলটো দিক থেকে বাবুর গলা কানে আসে। চকিতে মাথা ঘুরিয়ে ওর দিকে ফিরে তাকাই, কিন্তু কোথায় সে! এই তো এখানেই দাঁড়িয়েছিল, গেল কোথায়?

'এই, এই, আমার সঙ্গে যে লোকটা ছিল, এইমাত্র ছিল, কোথায় গেল, তুমি দেখেছ কোথায় গেল?' নব্বই ডিগ্রি ঘুরে পিছনে অটোওয়ালার দিকে ফিরি। কিন্তু এ কী, অটোটা কোথায় গেল! চোখের পলকে অত বড় লোহার খাঁচাটা গেল কোথায়? উধাও, গাড়ি ড্রাইভার নিমেষে সব উধাও!

হতবুদ্ধির মতো চারদিকে পাক খেয়ে থামি। কেউ নেই, কোথাও কেউ নেই। বেবাক বিমূঢ় দাঁড়িয়ে থাকি। অন্ধকার জলা থেকে ওঠে আসা স্যাঁতসেঁতে হাওয়ায় শিরশির করে ওঠে আপাদমস্তক। ভরা আষাঢ়ের ভয়াল মেঘ বেশকিছুক্ষণ হল পুরোপুরি গিলে খেয়েছে বিবর্ণ চাঁদটাকে।

'বাবু, বাবু', ভেজা মাটিতে হাঁটু গেঁথে ডুকরে ওঠি আমি।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%