তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়
হ্যাঁ ঠিক তেমনই, দাদু যেমনটা বলেছিলেন, গর্তটা এখনও তেমনটাই আছে আর আমাদের গ্রামের বাড়ির কড়িবরগার এই দোতলা ঘরটার ঠিক মাঝখানের কাঠের ডিভাইডারটাও। ওপার মাঝামাঝিই রয়েছে গোল এই ফুটোটা। স্পষ্টতই ডিভাইডারটা ভেদ করে ঢুকে যাওয়া একটা গুলির দাগ, যেটা শুধু যে এই পাতলা কাঠের তক্তার গায়ে প্রমাণ রেখে গিয়েছে তাই না, প্রমাণ রেখে গিয়েছে ওপাশের দেওয়ালের গায়েও। বন্দুক থেকে তীব্র বেগে বেরোনো গুলিটায় যে কতটা জোর ছিল সেটা দিব্যি বোঝা যাচ্ছে দেওয়ালটা থেকে অনেকটা আফ্রিকার ম্যাপের মতো দেখতে বড়সড় একটা অংশের প্লাস্টার খসে পড়ার চিহ্নটা থেকে।
ওগুলো আর কখনওই মেরামত করা হয়নি কারণ ওগুলোই এই ঘরের বাসিন্দার শেষ স্মৃতিচিহ্ন। ডিভাইডারটার ওপারে থাকত স্তূপাকার ধান-চালের বস্তা আর এপারে থাকতেন উনি, মানে স্বাধীন বিশ্বাস। তিনি সম্পর্কে ছিলেন আমার ছোড়দাদু, মানে আমার দাদুর ছোট ভাই। আজন্ম আমাদের আদি-নিবাস, মামজোয়ানের ভিতরে গোরুয়াপোতা বলে এই অজ-পাড়াগাঁয়েই থেকে গিয়েছিলেন, জেলার বাইরে বেরোননি। সবাই বাড়ি ছেড়ে গেলেও উনি যেতে চাননি, কলকাতার মাটিতে পা রাখেননি কখনও।
তবে এ বাড়িতেও ওঁর কোনও ফোটো নেই, যেমন নেই আমাদের কলকাতার বাড়ির কোনও অ্যালবামেও। ফলে আমার পক্ষে ওঁকে দেখার কথা নয়, কারণ উনি মারা গিয়েছিলেন আমার জন্মের অনেক আগেই। কিন্তু ছোটবেলা থেকে ওঁর কথা শুনেছি বিস্তর। তার চেয়েও বড় কথা হল আমাদের বাড়ির বড়রা অনেকে, বিশেষ করে আমার দাদু বলেন আমার মুখশ্রী, পেটানো চেহারা, চলন-বলন, ডাকাবুকো স্বভাব অনেকটা নাকি ওঁর মতো। তাই ওঁকে নিয়ে আমার বাড়তি আগ্রহ ছিল চিরকালই, ওঁর সম্পর্কে বলা কথাগুলো আমাকে অজান্তেই ওঁর দিকে টানত।
সেই কারণেই বলা যেতে পারে একপ্রকার জোর করেই আজ আমার এই পিতৃপুরুষের গ্রামের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়া। সকালের ট্রেন ধরে এসে এ বাড়িতে এসে ওঠা। আগেও আসতে চেয়েছিলাম, তখন আসতে দেওয়া হয়নি কিন্তু এখন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ঢোকার পর থেকে আজকাল আমার ইচ্ছে বা কথার দাম বেড়েছে, সন্দেহ নেই। তা ছাড়া বাবা-মা খুব ভালো করেই জানেন আমি যখন কোনও একটা বিষয়ে মনস্থির করেছি সেটা যেনতেন প্রকারেণ আমি করেই ছাড়ব। যাই হোক, এখানে আসার পর দেখা মিলেছে নিত্য মালাকারের, উনি আমাদের পরিবারের মাস-মাইনে পাওয়া এই বাড়ির কেয়ারটেকার। ষাটোর্ধ্ব এই বয়স্ক মানুষটি যতদূর সম্ভব যত্নে এতদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন সাবেকি আমলের দোতলা এই কোঠা-বাড়ির। দিনের বেলায় নীচের তলার দালানঘরটা সপ্তাহে তিনদিন করে খোলা হয়। এই গ্রামেরই একজন হোমিয়োপ্যাথির ডাক্তার বিনে পয়সায় রুগি দেখেন এখানে। কিছু বৃদ্ধ আর আমার জেঠু, বাবা, কাকাদের সমবয়সি কিছু লোক এসে বসেন, খবরের কাগজ পড়ে চলে যান। কিন্তু উপরতলার দিকে যান না কেউ আর রাতের দিকে তো ভুলেও না। অন্ধকার নামার পরে এমনকী, চোর-ডাকাতরাও ওইদিকে পা বাড়ায় না ভয়ে।
দোতলার ওই ঘরটাকে এখনও গ্রামের সবাই বলে 'স্বাধীন-এক ঘর'। ওই ঘরেই ঘটেছিল দুর্ঘটনাটা, তাই তারপর থেকে ওই ঘরটা সারাবছর তালাবন্ধই পড়ে থাকে। তবে পুজোর সময় নাগাদ ঘরটায় প্রতিবার চুনকাম করানো হয়, মাসে একবার করে দিনের বেলা নিত্যজেঠু দু'জন মুনিশ সঙ্গে নিয়ে নিজে ঘরটা ঝাঁট দিয়ে ঝুল-ময়লা ঝেড়ে পরিষ্কার করে আসেন। তবু আজ আমি যখন বললাম ওই ঘরেই দু'দিন থাকব, রাত কাটাব ওখানেই, উনি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। রাতে ওই দোতলার ব্যাপারে নানান সব ভুতুড়ে বা অলৌকিক ঘটনার কথা বলে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেন। সব শুনেও আমাকে নাছোড়বান্দা পেয়ে, ওই ঘরটা ভরা ধুলো, নোংরা ও বসবাসের অনুপযুক্ত ইত্যাদি নানান অজুহাত দিয়ে আমাকে বিরত করার চেষ্টা করে গেলেন।
কিন্তু আমি সরেজমিনে দেখতে নিজে এসে যখন দাঁড়ালাম ওই ঘরের মাঝখানে, কোনওভাবেই মনে হল না ঘরটা রাত্রিবাসের অনুপযুক্ত। মার্চ মাসের প্রথম দিক, শীত চলে গেলেও বাতাস হিমের ছোঁয়া হারায়নি রাতের দিকে। ফলত ইলেকট্রিক পাখা না থাকলেও যেরকম বড়-বড় সব জানলা রয়েছে ঘরটায়, শোওয়ার কোনওরকম অসুবিধে হওয়ার কথা না। তাই আমি নিত্য মালাকারের কোনও বারণই শুনলাম না, অভয় দিতে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দিলাম দাদুর সঙ্গে, মালিকোচিত কম্যাণ্ডের সঙ্গে ওঁকে আদেশ করলাম আমার ওই উপরের ঘরে থাকার সব বন্দোবস্ত করে দিতে।
উনি কর্তব্যে কোনও অবহেলা করেননি। আমিও ওঁকে যথোপযুক্ত সম্মান দিয়ে সম্পর্কটা সহজ করে নিয়েছি তাড়াতাড়িই। উনি স্বাধীনদাদুকে স্বচক্ষে দেখেছেন, স্বভাবতই মানুষটার কাছ থেকে ওঁর কথা আরও ভাল করে জানা যেতে পারে, তাই দুপুরের খাওয়ার পর বিছানায় গা এলিয়ে আবদারের সুরে ওঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম সেই সব দিনের কথা। উনি বললেন, উনি ছিলেন ছোড়দাদুর পয়লা নম্বর শাগরেদ। গ্রামে ওঁর দাপট ছিল খুব। গায়ের জোর ছিল প্রচণ্ড। নিয়মিত মুগুর ভাঁজতেন, পরনে একটা খাঁকি রংয়ের হাফপ্যান্ট, মাথায় একটা মিলিটারি টুপি পরে খালি গায়ে ঘুরতেন এলাকা জুড়ে। ভয়ানক জেদি আর বদরাগী হওয়ার জন্য সবাই সমঝে চলত। ওঁর ডান হাতের একটি চড় খেলে নাকি চোয়াল খুলে আসার উপক্রম হত, ফুটবল মাঠে ওঁর সঙ্গে চার্জ করলে নাকি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে শুয়ে থাকতে হত সপ্তাহখানেক, কবাডি খেলার সময় বিপক্ষ দলের কোর্টের অনেক ভিতরে ঢুকে ইচ্ছে করে ধরা দিয়ে ওদের সবাইকে টেনে এপারে এনে ফেলতেন অবলীলায়, তারপর তাঁর সে কী আকাশকাঁপানো হাসি!
আমাদের পরিবারেই যে এমন একজন দুর্দমনীয় মানুষ ছিল ভাবলেই অবাক লাগে কিন্তু যখনই ভাবি সেই মানুষটাই ওইভাবে অকালে চলে গিয়েছিলেন,
মালাকার, যাওয়ার আগে বলে গেলেন দরজাটা আর মাথার কাছের জানলাটা বন্ধ করে শুতে আর কোনও দরকার হলেই কোনওরকম দ্বিধা না করেই ওঁর ফোনে কল করতে, উনি সঙ্গে-সঙ্গেই চলে আসবেন।
কথা শোনা আমার ধাতে নেই, তা ছাড়া দরজা-জানলা দিয়ে খুবই সুখভোগ্য হাওয়া আসছিল ঘরে, তাই দরজাটা বন্ধ করিনি। বালিশে মাথা রাখার কিছুক্ষণের মধ্যে আচ্ছন্নতা ঘিরে এসেছে, কখন যে ঘুমের মধ্যে তলিয়ে গিয়েছি জানা নেই। ঘুম আমার খুব একটা গাঢ় নয় কিন্তু আজ রাতের আবহাওয়াটা এমনই যে ঘুম গভীর না হয়ে যেন উপায় ছিল না। তবু মাঝরাতে মাথার কাছের জানলার খড়খড়িতে বেশকিছুক্ষণ ধরে একভাবে শব্দে ভেঙে গেল ঘুম। বিছানায় ওঠে বসে জলের বোতলটার দিকে হাত বাড়াতে যাব, ছাদের সামনের দিকে টালির শেডের উপর শুনতে পেলাম 'ঝুপ' করে কিছু একটা পড়ার জোর শব্দ।
খাট থেকে নেমে দ্রুত পায়ে খোলা দরজা দিয়ে বাইরের বারান্দায় যেতেই এক ধরনের উৎকট গন্ধ এল নাকে। গন্ধটার উৎস খুঁজতে গিয়ে ডানপ্রান্তে তাকাতেই ভামের মতো আকৃতির একটা জন্তুকে শেড থেকে রেলিংয়ের ওপর ঝাঁপ দিয়ে নামতে দেখলাম। অন্ধকারে চোখদুটো জ্বলছে। হুশ হুশ শব্দ করে ওটাকে তাড়িয়ে চৌকাঠ পেরিয়ে ঘরে ঢুকতে যাচ্ছি, নাকে এল প্রচুর বস্তাসুদ্ধ ধান-চালের গন্ধ যেন, গুদাম ঘরে যেমন থাকে। এদিকে ওদিকে কোথাও তো ধান-চালের কোনও বস্তা নেই, তা হলে কোথা থেকে আসছে গন্ধটা, ঘরটাও যেন অনেকটাই অন্যরকম লাগছে। দেওয়ালের সুইচ টিপে আলো জ্বালতেই দেখি, এ কী! ঘরের রংটা সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে উঠল কী করে! সাদা চুনকাম করা ছিল দেওয়ালটায়, কিন্তু এ তো দেখছি কেমন পাংশুটে হলুদ এলামাটি-রং! দেওয়ালগুলো বহুকালের পুরনো মনে হচ্ছে, কোনায়-কোনায় ঝুল-ময়লা। দেওয়ালে পুরনো দিনের হরফের একটা বাংলা দেওয়াল-পঞ্জি, বঙ্গাব্দ দেখাচ্ছে ১৩৮৭! আংটা থেকে ঝোলানো জলপাই রংয়ের একটা মিলিটারি টুপি, পাশে হাতগোটানো একটা ময়লা চেক-শার্ট! কড়িবরগার ফাঁকে এই পাখির বাসাটা তো ছিল না, মেঝেয় এত পাখির পালক ছড়ানো!
উলটোদিকে চোখ ফিরিয়ে খোলা দরজার দিকে তাকাতেই ধক করে উঠল বুকটা। কে, কে ওখানে! বারান্দার রেলিংয়ে ভর দিয়ে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে! জ্যোৎস্নায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মজবুত, টানটান চেহারার একজন পুরুষ, খালি গা, পরনে খাকি হাফপ্যান্ট, উচ্চতা আমারই মতো, মাথায় একইরকম কোঁকড়ানো চুল। নিজের চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছে না, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এসেছে আমার। কে, কে ওখানে, চিৎকার করে উঠতে চাই, কিন্তু গলা দিয়ে স্বর বেরয় না!
মুখ ফিরিয়ে এবার আমার দিকে তাকাল লোকটা। এ কী, এ কী দেখছি চোখের সামনে! এ তো আমার মুখ, অবিকল আমার মতোই দেখতে! আমার দিকে একভাবে তাকিয়ে আছে, স্থির, অপলক দৃষ্টি, মণিদুটো নড়ছে না, যেন দুটো নিটোল পাথর। ওখানেই দাঁড়িয়ে আপাদমস্তক থরথরিয়ে কেঁপে ওঠে আমার। পিছোতে থাকি এক পা পা করে। পিঠ এসে ঠেকে কাঠের ওই ডিভাইডারটায়, ওটাকে আঁকড়ে ধরতে চাই। মাথা ঘোরাতেই দেখি, এ কী, গুলিতে ফুটো হওয়া সেই বড় গর্তটা কোথায় গেল! ওপারের দেওয়ালের আফ্রিকার ম্যাপের মতো প্লাস্টারের ভাঙা অংশটাই বা কোথায়!
ঘুমের ঘোরে নেই তো! নাহ, এই তো আমি দাঁড়িয়ে ডিভাইটারটায় পিঠ দিয়ে। সজোরে মাথা ঝাঁকাই আমি, দু'হাতে চোখ কচলাই, কিন্তু কিছুই তো পালটায় না চোখের সামনে। পাঁজরের ভিতরে যেন হৃৎপিণ্ডে হাতুড়ি পেটানোর শব্দ। সারা শরীর জুড়ে তীব্র একটা ঝাঁকুনি তুলে আনি আমি। তাকাই বারান্দার দিকে, লোকটা দাঁড়িয়ে আছে সেই একভাবে ঘাড় ঘুরিয়ে, আমাকে ফুটো করে ঢুকছে চোখদুটো।
চোখ সরাতে পারছি না আমি, চুম্বকের মতো টেনে রেখেছে চোখদুটো। আশ্চর্য তীক্ষ্ন দৃষ্টি, কিন্তু মনে হচ্ছে কী ভীষণ করুণ। এখন কেমন যেন টলটল করছে। কেমন যেন এক দুর্বোধ্য ভাষা ওই চোখে, কী যেন একটা বলতে চাইছে, কিন্তু এক পা-ও এগিয়ে আসছে না লোকটা। বুকের ভিতরটা আনচান করে ওঠে, আমারও যেন অনেক কিছু বলার আছে, কিন্তু এগোতে পারছি না একচুলও, অসাড় হয়ে গিয়েছে যেন পা-দুটো! তবু আমাকে যে কিছু কথা বলতেই হবে, শুনতেই হবে অনেক কিছু। যা হয় হোক, প্রাণপণে সবটুকু সাহস জুটিয়ে নিয়ে ছুটে যেতে চাই ওই দিকে। দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে গিয়ে অজান্তেই পা লাগে চৌকাঠে, সামনে আছড়ে পড়ি বারান্দার হিমশীতল শক্ত মেঝেয়।
ভোঁ-ভোঁ করছে মাথা, চোখে-মুখে অন্ধকার দেখি কয়েক মুহূর্তের জন্য, খুলির মধ্যে রিং-রিং, ধোঁয়া-ধোঁয়া কী সব যেন ফেটে পড়ছে! কয়েক মিনিটের মধ্যে সারা দেহে সর্বশক্তি দিয়ে ঝটকা দিয়ে ওঠে বসি, তাকাই এদিক ওদিক চোখ চালিয়ে। কিন্তু কোথায় লোকটা, কেউ তো কোত্থাও নেই! রেলিংয়ের ওপর একফালি সাদা জ্যোৎস্না ছাড়া কোথায় কী?
কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে বসে থেকে দেওয়ালে ভর দিয়ে কোনওক্রমে ঢুকি ঘরের মধ্যে, এ কী! ঘরের সেই হলদে এলা রং কোথায় গেল? চুনকাম করা দেওয়ালগুলো আবার সেই আগের মতোই সাদা। ছুটে যাই ডিভাইডারটার দিকে। মাঝখানে এই তো স্পষ্ট রয়েছে গুলির সেই গোল দাগটা, ওপারের প্লাস্টার চটা সেই দেওয়ালের অংশটা! কিন্তু ওগুলো যে একটু আগেই ছিল না! হ্যাঁ, আমি স্বচক্ষে স্পষ্ট দেখেছি ও দুটোর কোনও চিহ্নমাত্র ছিল না! দেওয়ালের সেই ক্যালেন্ডারটা কোথায় গেল, টুপিটা, ময়লা শার্টটা, আর সেই পাখির বাসা, মেঝেয় ছড়ানো পাখির পালকগুলো!
পুরো শরীরের ভর সশব্দে ছেড়ে দিয়ে বসে পড়েছি খাটে। দরদরিয়ে ঘেমে উঠেছি মাথা থেকে পা, কী হল ব্যাপারটা, কিছুই কেন বুঝে উঠতে পারছি না! ফোনটা রয়েছে হাতের নাগালেই, কিন্তু নিত্য মালাকারকে ফোন করার সাধ্য অবশিষ্ট নেই কোনওভাবেই। কিন্তু এ আবার কী, আবার এ কীসের শব্দ? ছাদের সামনের টালির শেডের ওপর দিয়ে কিছুর একটা হাঁটাচলা করার আওয়াজই মনে হচ্ছে? সেই জন্তুটাই কি, নাকি অন্য কিছু? এইমাত্র শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল ঠান্ডা ঢেউ, প্রবলভাবে কান খাড়া হয়ে উঠেছে আমার, কিন্তু মাথা কেন কিছুতেই কাজ করছে না!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন