চোর

প্রেমেন্দ্র মিত্র

রাত তখন প্রায় দুটো হবে।

টুনুর মনে হল যে দালানের ওদিকের খড়খড়িটা যেন নড়ছে। হয়তো বেড়াল টেড়াল হবে ভেবে সে নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে ঘুমোবার উপক্রম করতেই খড়খড়িটা আবার নড়ে উঠল। এবার বেশ জোরে।

দালানের ওদিকের জানলার কোনো গরাদ নেই। পাল্লাগুলো শুধু ছিটকিনি দিয়ে আটকানো। কোনোরকমে সে ছিটকিনি খুলতে পারলেই একেবারে ঘরে ঢোকা যায়।

টুনু সজাগ হয়ে উঠে বসল।

বাড়িতে টুনু একা জন্মাষ্টমীর রাত্রে। বাড়ির সবাই থিয়েটার দেখতে গেছে। থিয়েটার দেখতে যাবার ইচ্ছে টুনুর বড়ো কম ছিল না, কিন্তু আজকে রাত্রের মতো নিস্বার্থভাবে কে বাড়ি পাহারা দেবে যখন কথা উঠল এবং তার দাদা ও দিদিরা যখন একলা বাড়ি পাহারা দেবার মতো সাহস টুনুর নেই বলে তাকে খ্যাপাতে লাগল তখন সে জোর করে নিজের সাহস দেখাবার জন্যে বাড়িতে থাকবার ভার না নিয়ে পারল না।

কলকাতা শহরেরই এক প্রান্তে বাড়ি, সুতরাং পাহারা দেবার সাধারণত বেশি দরকার নেই। কিন্তু কয়েক দিন আগে পাড়ার একটা বাড়িতে চুরি হয়ে গেছে। সেই জন্যেই যা সাবধান হওয়া! টুনু বাড়ির সব দরজা জানলা বন্ধ করে শোবার আগে আর কিছু না পেয়ে বিছানার পাশে কয়লা ভাঙার বড়ো হাতুড়িটা নিয়ে শুয়েছে। চোর এলে প্রথমে এক ঘা কসিয়ে দিতে পারবে তো!

অনেকক্ষণ পর্যন্ত নির্জন বাড়িতে তার ঘুম আসেনি। ভয় যে একটু না হচ্ছিল এমন নয়। কিন্তু শেষে ঘড়িতে একটা বাজলে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল।

তারপর এই শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেছে।

দ্বিতীয়বার শব্দ হতেই টুনু বিছানার ওপর হাতুড়িটা ভালো করে ধরে উঠে বসল। বাতিটা বিছানার পাশে মিট মিট করে জ্বলছিল। সেটা একটু বাড়িয়ে দিল। কিন্তু খানিকক্ষণ আর কোনো সাড়াশব্দ নেই। টুনু আবার শুতে যাচ্ছে এমন সময় আবার খড়খড়িটা কে যেন তুলে ধরেছে মনে হল। এবার বেড়াল বলে সন্দেহ করবার আর উপায় নেই। বেড়াল কখনও খড়খড়ি তুলতে পারে না।

কিন্তু চোর হোক বা যেই হোক খড়খড়ি তুলে তার লাভ কী? দালানের ওদিকে জানলাটা তো নিতান্ত ছোটো। তার ভেতর দিয়ে টুনুই তো আজকাল ভালো করে গলতে পারে না! চোরেরা তো আর কিছু সেই রূপকথার গল্পের মতো দেড়-আঙুলে নয়! তবে?

অবাক হয়ে কী করবে ভাবছে এমন সময়ে বাতিটার দিকে চেয়ে টুনুর বুকটা কেঁপে উঠল। বাতিটার আলো অদ্ভুতভাবে দপ দপ করতে করতে ক্রমশ কমে আসছে। বাতিটা ধরে নাড়তেই এ ব্যাপারের কারণ বোঝা গেল। বাতিটায় তেল নেই! রাত্রে শোবার সময় এ কথাটা তার মাথায় একদম আসেনি। এখন উপায় ঘরে তেলের বোতল আছে, কিন্তু এখন তেল ঢেলে বাতি ঠিক করবার সময় নেই। টুনুর চোখের সামনেই বাতিটা এবার খানিক দপ দপ করে নিভে গেল।

ওদিকে স্পষ্ট ছিটকিনি খোলার শব্দ। টুনু আর দ্বিধা না করে খুব সন্তর্পণে দরজা খুলে দালানে বেরিয়ে ঠিক সেই জানলাটার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। হাতে তার সেই হাতুড়িটা।

দালান অন্ধকার, কিন্তু তার ভেতরেও খোলা জানলাটা অস্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিল। টুনু মনে মনে ঠিক করল জানলা দিয়ে যে নামবে তার মাথায় প্রথম হাতুড়িটা তো বসিয়ে দেবে, তারপর যা হয় হোক।

খানিক্ষণ সব চুপচাপ। টুনু নিস্তব্ধ অন্ধকারে নিজের নিশ্বাসের শব্দ ছাড়া আর কিছু শুনতে পাচ্ছিল না। তারপর দুটে কালো পা যেন জানলা দিয়ে বেরিয়ে এল মনে হল। তারপরে ধুপ করে একটা কালো মূর্তি ঘরের ভেতর লাফিয়ে পড়ল; সঙ্গে সঙ্গে দুহাতে সজোরে হাতুড়িটাও টুনু বসিয়ে দিল।

কিন্তু তারপরে যে কান্ডটি হল তাতে টুনু একেবারে অবাক! চোরের মাথায় হাতুড়ি বসিয়েই টুনুর ইচ্ছে ছিল প্রাণপণে চিৎকার করে পাড়াসুদ্ধু জাগিয়ে তোলা। কিন্তু তার বদলে চোরই কাঁউমাউ করে কেঁদে একেবারে বাড়ি মাথায় করে তুলল। শুধু তাই নয় সে একেবারে স্পষ্ট ছেলেমানুষের গলা।

প্রথমটা কী করবে টুনু ভেবেই পেল না। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না। যেখান থেকে কান্নার শব্দ উঠছিল সেখানে হাত বাড়াতেই একজনের গায়ে হাত ঠেকল। অন্ধকারের ভেতর শুধু ছুঁয়েই টুনু বুঝতে পারল সে গায়ে মাংসের বালাই নেই। অত্যন্ত রোগা সরু একটা হাতের নুলো ধরে ফেলে টুনু বললে—‘কে তুই?’

কিন্তু চোরের কান্না তখন দ্বিগুণ বেড়ে উঠেছে। কাঁদতে কাঁদতে সে তখন শুধু বলছে, ‘আর করব না, করব না গো, আর মেরো না!’

টুনু তার হাতটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললে—‘তোকে মারছে কে রে বাপু! তুই কে বল না।’

চোর এবারে বলল, ‘আমি ভোলা।’

‘ভোলা কীরে?’

‘আজ্ঞে ময়রাদের ভোলা।’

টুনু মনে মনে হেসে বলল ‘তা এখানে ঢুকেছিলি কী জন্যে?’

চোর মিহি গলায় বলল—‘আজ্ঞে পথ চিনতে পারিনি!’

টুনু ধমক দিয়ে বললে—‘চোপ পাজি কোথাকার! পথ চিনতে না পেরে জানলা দিয়ে উঠেছিলি, না? মিছে কথা বলছিস?

‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

‘তবে বল, কী জন্যে এসেছিলি?’

‘আজ্ঞে ছিদামের বাবা তুলে দিল।’

‘ছিদামের বাবা কে রে?’

‘ওই যে আমাদের গাঁয়ের ছিদাম তার বাবা।’

‘তাহলেই তো সব বুঝলুম। তোদের গাঁ আমি চিনি?’

‘আজ্ঞে সবাই চেনে। ইস্টিশান থেকে সোজা গেলেই আমদের হাটতলা।’

এরকম করে অন্ধকারে চোরের সঙ্গে বাজে কথা বকে কোনো লাভ হবে না বুঝে টুনু বললে—‘দাঁড়া আমি আলো জ্বালি, পালাবার চেষ্টা করেছিস কী আবার মারব। কেমন পালাবি?’

‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

‘আজ্ঞে হ্যাঁ কী রে?’

‘আজ্ঞে আপনি যে পালালে মারবেন বললেন!’

‘আচ্ছা চুপ করে বসে থাক,’ বলে টুনু আলো জ্বালতে গেল।

অন্ধকার তেলের বোতল খুঁজে বাতিতে তেল ঢেলে আলো জ্বালিয়ে তোলা কম হাঙ্গামা নয়। বাতি জ্বালতে টুনুর বেশ দেরি হয়ে গেল। বাতি জ্বেলে তার মনে হল চোরটাকে অমন ছেড়ে রেখে আসা তার উচিত হয়নি। এতক্ষণের সুযোগে নিশ্চয়ই সে পালিয়ে গেছে। আর পালিয়ে গেলে অন্য কোনো ক্ষতি না হোক সকালে দাদাদের কাছে বাহাদুরি নেওয়াটা একদম মাটি হয়ে যাবে। সে যে একলা একটা চোরকে হাতুড়ির গায়ে কাবু করেছে, প্রমাণ না পেলে, দাদারা তা বিশ্বাস করতেই হয়তো চাইবে না। না চোরটাকে কোনো রকমে বেঁধে রেখে আসাই উচিত ছিল।

দালানে গিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে তার আফশোসের আর সীমা রইল না। নিজের নির্বুদ্ধিতায় নিজের ওপরই তার রাগ হচ্ছিল। এমন একটা ব্যাপার কাল যে সে কারুর কাছে গল্পও করতে পারবে না। চোরকে বিশ্বাস করে ছেড়ে দিয়ে সে আলো জ্বালতে গেছল, একথা শুনলে সবাই যে তাকে ঠাট্টা করে পাগল করে দেবে! নিজের বোকামির লজ্জায়, দুঃখে, তার মাথায় চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল। কিন্তু যা ভুল হয়ে গেছে তার আর শোধরাবার উপায় নেই বুঝে সে আবার ঘরে ফিরে যাচ্ছে, এমন সময় তার চোখে পড়ল দালানের দরজা খোলা। দালানের পরেই রক এবং তার পাশেই কলঘর। সেখানে কলের জলের শব্দ পেয়ে সে অবাক হয়ে গেল। কল তো সে নিজে রাত্রে বন্ধ হতে দেখে অবাক হয়ে সে নিজের অজ্ঞাতেই বলে ফেলল—‘কলঘরে কে রে?’

‘আজ্ঞে আমি ভোলা।’

‘কলঘরে গেছিস কেন?’

‘আজ্ঞে মাথা ধুচ্ছিলাম।’ বলতে বলতে এবার ভোলা সশরীরেই দেখা দিল। মাথায় সে টুনুর মতোই হবে, কিন্তু এমন রোগা যে মনে হয় একটা আস্ত কঙ্কালের ওপর কে যেন চামড়াটা এঁটে দিয়েছে। গায়ে তার জামা নেই, পরনে একটা নোংরা ছেঁড়া কাপড়। মাথায় এক রাশ রুক্ষ চুল সজারুর কাঁটার মতো এক দিকে খাড়া হয়ে আছে। আর এক দিকে জল পড়ার দরুন চুলগুলো ভিজে গেছে কিন্তু তা সত্ত্বেও ভালো করে বসেনি। কপালের কাছে বোধ হয় হাতুড়ির ঘায়েতেই কেটে গেছল। ধোয়া সত্ত্বেও সেখান দিয়ে এখনও রক্ত চুঁইয়ে পড়ছিল। তার শুকনো কাতর মুখখানা ও তার দাঁড়াবার অসহায় ভঙ্গি দেখে টুনুর সত্যি এবার মায়া হল।

বললে,—‘ইস, বড্ড লেগেছে নাকি রে!’ হাতুড়িটা অত জোরে মারার জন্যে এখন তার মনে মনে অনুতাপ হচ্ছিল।

ভোলার কিন্তু কপালের ঘা সম্বন্ধে বিশেষ ভাবনা আছে বলে মনে হল না, বললে, ‘না, ও অমন কত লাগে। খানিকটা দুব্বো ঘাস পেতাম, এক্ষুনি চিবিয়ে দিলে সেরে যেত!’

কিন্তু দুর্বা ঘাস পাওয়া যেখানে সহজ নয় সেখানে অন্য উপায় টুনুকে দেখতেই হল। ভোলাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে ন্যাকড়া ছিঁড়ে কপালটা সে বেঁধে দিয়ে বলল—‘খুলিসনি যেন, তাহলে রক্ত বন্ধ হবে না।’ তারপর খানিক চুপ করে থেকে ভোলার মুখের দিকে চেয়ে বলল—‘যা পালিয়ে যা, তোকে ছেড়ে দিলাম।’

এতক্ষণ ধরে ভোলার মাথায় ব্যাণ্ডেজ বাঁধতে বাঁধতে টুনু এই কথাই মনে মনে ভাবছিল। ভোলাকে ছেড়ে দিলে তার সকালের বাহাদুরিটা নষ্ট হয়ে যাবে বটে কিন্তু এই রোগা-বোকা ছেলেটার প্রতি কেমন তার মায়া পড়ে গেছল। চোর বলে সকালে তাকে ধরিয়ে দিতে তার আর ইচ্ছে করছিল না।

ভোলা তবু চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে দেখে সে বললে,—‘কী রে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? পালা এই বেলা!’

ভোলা কিন্তু মাথা নেড়ে বলল—‘না আমি যাব না।’

‘যাবি না কেন রে!’

‘আমায় মারবে যে তাহলে!’

‘কে মারবে?’

‘ছিদামের বাবা মারবে যে!’

টুনু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে, ‘কেন?’

‘আমার দরজা খুলে দিতে বলেছিল। অমনি অমনি ফিরে গেলে মারবে না?’

‘তা তুই ওর সঙ্গে চুরি করতে আসিস কেন?’

‘ইস না এলে পিঠের চামড়া রাখবে নাকি!’

টুনু বললে—‘তোর বাপ-মা কিচ্ছু বলে না?’

ভোলা আবার অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে বললে,—‘বাপ মা তো নেই।’ ভোলার অবস্থাটা ভলো করে বুঝে টুনু খানিক চুপ করে রইল। তারপরে খাটের ওপর উঠে বসে বলল, ‘বোস।’

ভোলা মেঝের ওপর বসে পড়ে বললে,—‘আমি ওর কাছে যাব না, তোমাদের বাড়ি চাকর হয়ে থাকব।’

টুনু বলল, ‘চাকর তো হবি ; কিন্তু তুই যে চোর—চুরি করে পালাস যদি?’

ভোলা এবার অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘ইস আমি চুরি করি নাকি, ছিদামের বাপ তো চুরি করে। আমি তো খালি বাড়িতে ঢুকে দরজা খুলে দিই।’

সে বুঝি চুরি নয়?

‘না তো!’

টুনু হেসে ফেলে বলল ‘কিন্তু তুই রাত্রিতে লোকের জানলা বেয়ে উঠিস, ঘরের ভেতর ঢুকিস, তোর ভয় করে না?’

ভোলা এবার তাচ্ছিল্যের স্বরে বললে, ‘ইস, ভয় কীসের? আমি অমন তেতলায় উঠতে পারি!’

টুনুর জিজ্ঞেস করবার ইচ্ছে ছিল ধরা পড়ার ভয় তার করে কি না। কিন্তু ভোলার অনায়াসে তেতলায় ওঠার কথা শুনে সব ভুলে গিয়ে সে অবাক হয়ে বলল, ‘অমনি তেতলায় উঠতে পারিস?’

‘পারি না? কাল তো উঠেছিলাম। তেতলা তো তেতলা—মল্লিকদের নারকেল গাছটায় উঠতাম বলে!’

‘তুই নারকেল গাছে উঠতে পারিস?’

‘পারি না?’—সব গাছে উঠতে পারি।’

টুনু চিরকাল শহরে মানুষ। সাহসে তার অভাব নেই। কিন্তু পাড়াগাঁয়ে না থাকার দরুন গাছে চড়া আর সাঁতার কাটার বিদ্যা দুটোকে সে বিশেষ সমীহ করে থাকে। সে আবার জিজ্ঞেস করল—‘তুই সাঁতার কাটতে পারিস?’

ভোলা এ প্রশ্নে অত্যন্ত ক্ষুণ্ণ হয়ে বললে, ‘‘সাঁতারতো আমাদের শশীও কাটতে পারে। সে তো এই এতটুকু!’ নিজের কোমরের কাছে হাত দিয়ে সে শশীর দৈর্ঘ্যটাও বুঝিয়ে দিলে।

টুনু এত বড়ো প্রতিভার সামনে অত্যন্ত ছোটো হয়ে গিয়ে খানিক চুপ করে রইল। তারপর বললে—‘আমিও সাঁতার কাটতে পারি লাইফবেল্ট দিয়ে।’

ভোলা এবার অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললে, ‘ও লা’ বাইতে তো সবাই পারে। ও তো আর সাঁতার নয়।’ এবং টুনু লাইফবেল্ট যে ‘লা’ বাওয়া নয়, একথা বোঝাবার আগেই হঠাৎ উৎসাহিত হয়ে ভোলা আবার বলতে শুরু করলে, ‘তেলে ডোঙা বাইতে পার? সে এমন ডোঙা নয় বাবা, একটু কাত হয়েছ কী এমনি ভুস করে যাবে ডুবে।’

টুনুর কৌতূহলের আর সীমা ছিল না! খাট থেকে মাটিতে নেমে বসে উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞাসা করলে, ‘তোর তেলে ডোঙা ছিল?’

‘আমার থাকবে কেন? সরকারদের ডোঙা চুরি করে রাতে নদীতে মাছ ধরতে যেতুম যে!’ টুনু আরও কাছে ঘেঁসে জিজ্ঞাসা করলে, ‘কী রকম বল তো?’

সকাল বেলা থিয়েটার থেকে ফিরে টুনুদের বাড়ির সবাই অবাক। বাড়ির সদর দরজা খোলা ; ঘরে কেউ কোথাও নেই। কিন্তু বেশিক্ষণ তাঁদের অপেক্ষা করতে হল না। হঠাৎ ঝড়ের মতো ছাদ থেকে দুর দুর করে টুনু দুহাতে দুটো শালিক পাখি ধরে নেমে এসে বললে—‘দেখেছ মা ভোলা দুটো পাখি ধরেছে। শিগগির একটা ধামা দাও দেখি, চাপা দিয়ে রাখতে হবে।’

মা কিছু বলবার আগেই একটা ধামা টেনে নিয়ে শালিক পাখি দুটোকে তার নীচে রেখে টুনু বলল, ‘চলে আয় ভোলা, খাঁচা কিনে নিয়ে আসতে হবে।’

মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভোলা কে রে?’

টুনু বললে, ‘বা জানো না? ও-ও ময়রাদের ভোলা—আমাদের চাকর হবে, ভোলা নারকেল গাছে উঠতে পারে মা!’ এবং মা আর কিছু জিজ্ঞাসা করবার আগেই বাড়িসুদ্ধু সবাইকে অবাক করে অত্যন্ত রোগা কঙ্কালসার একটা ছেলেকে টেনে নিয়ে টুনু বোধ হয় খাঁচা কিনতেই বেরিয়ে গেল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%