প্রেমেন্দ্র মিত্র

আজকের কথা নয়, ইংরেজের রাজত্ব তখনও শুরু হয়নি। মুসলমানদের রাজপ্রতাপ অস্তে যায় যায় হয়েছে। দেশময় গোল। যে যার পারে লুট করে খায়—দেশে না আছে শাসন, না আছে শান্তি। তখনকার কথা বলছি।
কর্ণফুলি নদীর ধারে মাঝারি একটি গ্রাম। নাম ‘রঙ্গনা’।
রঙ্গনার লোক সবাই সেদিন নদীর ধারে ভেঙে পড়েছে। রঙ্গনার সবচেয়ে ধনী সদাগর উজ্জ্বল সাধু তিনি ছেলে নিয়ে বাণিজ্যে যাবেন। সাত সাতটা ডিঙা নদীর ধারে সেজেছে। তার কোনোটা ময়ূরপঙ্খি, কোনোটা মকরমুখী, কোনোটার মাথায় পরির মূর্তি কোনোটার বা রাজহাঁসের।
বাণিজ্যে যাওয়া তখন সোজা নয়। জলপথে একবার গেলে ফেরবার আশা কম। জলঝড় তো আছেই তার ওপর জলদস্যুর উৎপাত। উজ্জ্বল সাধুকে গাঁয়ের লোকে অনেক নিষেধ করেছে। কিন্তু উজ্জ্বল সাধু চিরদিন একরোখা—ভয়-ডর বলে কিছু জানেন না। তিনি কারুর কথা শোনেননি। তিনি বলেছেন—‘সদাগরের বংশ আমরা, সাত সমুদ্দুর চষে বেড়ানোই আমাদের জাতব্যবসা, আমাদের কি ভয়-ডর করলে চলে?’
ডিঙা প্রস্তুত, সাজগোজ সব শেষ। বাড়ির মেয়েদের পান-সুপারি দূর্বা-চন্দন দিয়ে নৌকো বরণ করা হয়ে গেছে, মাঝিরা দাঁড়ে বসেছে।
উজ্জ্বল সাধু তাঁর ময়ূরপঙ্খিতে উঠে নোঙর তোলবার আদেশ দিতে যাবেন, এমন সময় তাঁর মনে হল ছোটো ছেলে বসন্তকে তো দেখা যায়নি অনেকক্ষণ!
উজ্জ্বল সদাগরের তিন ছেলে—রূপকুমার, কাঞ্চনকুমার আর বসন্তকুমার।
লোকে বলত তিনটি ছেলে রূপে গুণে যেন তিনটি রত্ন। কিন্তু উজ্জ্বল সাধু ভুরু কুঁচকে বলতেন—‘উঁহু বসন্তটা ষাঁড়ের গোবর।’
বসন্তকে পছন্দ না করবার তাঁর কারণ ছিল। রূপকুমার, কাঞ্চনকুমার বাপের মতো,—যেমন জোয়ান তেমনি সাহসী। কোনো বিদেশে গিয়ে কেমন করে বাণিজ্য করবে, এই হল তাদের সারাক্ষণ চিন্তা ; আর বসন্ত এ সবের বিপরীত—সদাগরের ছেলে হয়ে সে রাতদিন পুথিপত্র নিয়েই ব্যস্ত। দেখতে নেহাত দুর্বল রোগা সে নয় বটে, কিন্তু দাদাদের মতো লম্বাচওড়া চেহারাও তার নয়। মাথাটি তার বামুন পন্ডিতের মতো মুড়োনো, তার মাঝখানে মস্ত বড়ো এক টিকি।
উজ্জ্বল সাধু রাগ করে বলতেন—‘তালপাতার পুথি পড়ে পড়ে ও টিকি একদিন তালগাছ হবে দেখিস!’
ভায়েরাও বাবার দেখাদেখি তাকে ঠাট্টা করতে ছাড়ত না। ছোটোভাইকে তারা বিশেষ পছন্দ করে না। কিন্তু বসন্তর তাতে ভ্রূক্ষেপ ছিল না।
বরাবর রূপ আর কাঞ্চনই বাপের সঙ্গে বিদেশে যায়। এবারে উজ্জ্বল সাধু জোর করে বসন্তকে নিয়ে চলেছেন— বিদেশে-টিদেশে ঘুরে যদি তার পুথি পড়ার ব্যারাম সারানো যায় সেই আশায়।
ছোটোছেলেকে এখন না দেখতে পেয়ে তিনি বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন—‘কোথায় গেল বসন্ত?’
কেউ তা জানে না। চারদিকে খোঁজ খোঁজ পড়ে গেল। কিন্তু বসন্তকে পাওয়া গেল না, কোনো ডিঙাতেই সে ওঠেনি।
নৌকো ছাড়তে দেরি হয়ে যাচ্ছে, উজ্জ্বল সাধু রেগেই খুন, বললেন—‘সে নিশ্চয়ই বিদেশে যাবার ভয়ে কোথায় পালিয়েছে।’ লোকজনেকে ডেকে বললেন—‘যেখানে আছে, যেমন করে পার খুঁজে পিছমোড়া করে বেঁধে নিয়ে এসো। আমার ছেলে এমন ভীতু—ছি ছি, আমার মুখ দেখাতে লজ্জা করছে যে।’
কিন্তু বসন্ত পালায়নি। লোকজন নৌকো থেকে নেমে খুঁজতে যাবে এমন সময়ে দেখা গেল দুবগলে দুটি পুঁটলি নিয়ে দৌড়োতে দৌড়োতে সে আসছে।
উজ্জ্বল সাধু ধমক দিয়ে বললেন—‘কোথায় ছিলি এতক্ষণ?’
বসন্ত মাথা নীচু করে বলল,—‘আজ্ঞে একটা পুথি খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’
‘পুথি? বাণিজ্যে যাবি তা তোর পুথির কী দরকার।’
রূপকুমার, কাঞ্চনকুমার, নৌকোর সব লোক হেসে উঠল।
বসন্তের মুখে আর কথা নেই।
উজ্জ্বল সাধু বললেন—‘কী আছে তোর পুঁটলিতে? খোল দেখি।’
কী আর করে! বসন্ত ধীরে ধীরে পুঁটলি দুটি খুলল। পুঁটলির ভেতর একরাশ পুথি।
উজ্জ্বল সাধুর আর সহ্য হল না। ‘দাঁড়া তোর পুথি পড়া আমি বার করছি,’ বলে দুটি পুঁটলি তিনি ছুড়ে নদীতে ফেলে দিয়ে হাঁকলেন—‘তোল নোঙর।’
বসন্ত চমকে চিৎকার করে উঠে হতভম্ব হয়ে জলের দিকে তাকিয়ে রইল। নৌকোর লোক সবাই হেসে উঠল।
হালকা তালপাতার পুথি, জলে পড়েও তা ডোবেনি। বসন্তের মনে হল এখনও জলে নেমে সেগুলো তুলে আনা যায়। কিন্তু উপায় নেই, নোঙর তুলে ডিঙার সার তখন এগুতে শুরু করেছে।
নানা দেশ নানা বন্দর হয়ে ডিঙা যায়। কিন্তু বসন্তের মনে সুখ নেই। শুধু পুথির শোকেই সে যে বিষণ্ণ তা নয়, নৌকোর কেউ তাকে আমল দেয় না, দাদারা সব সময়ে তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে, এও তার বড়ো দুঃখ।
বসন্ত নৌকোর হালের কাছে গিয়ে বসে হয়তো বলে, ‘দাও না শ্রীধর আমি একটু হাল ধরি।’
শ্রীধর মাঝি একটু হেসে বলে—‘একি আপনার কাজ ছোটো কর্তা!’
বসন্ত তবু জেদ করে বলে—‘না না, আমি তোমায় দেখে দেখে শিখেছি যে!’
শ্রীধর গম্ভীর হয়ে বলে, ‘না না ছোটো কর্তা তা কী হয়? শেষকালে নৌকো সামলানো দায় হবে।’
রূপ আর কাঞ্চন তো সুবিধে পেলে বসন্তকে অপ্রস্তুত করতে ছাড়েই না।
মাঝরাতে বসন্ত ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ দু-ভাই শশব্যস্তে এসে ঠেলা দিয়ে জাগিয়ে বলে—‘ওঠ ওঠ শিগগির, ডিঙায় ‘হার্মাদ আসছে!’
হার্মাদের নাম শুনে বসন্ত ধড়মড় করে উঠে বসে। হার্মাদ সে চোখে এখনও দেখেনি, কিন্তু মাঝি-মাল্লা সকলের কাছে এই বিদেশি জলদস্যুদের নির্মমতার কাহিনি শুনে শুনে তাদের সম্বন্ধে তার ধারণা আর অস্পষ্ট নেই। বাঘের চেয়ে হিংস্র, সাপের চেয়েও খল এই মানুষের চেহারার পিশাচেরা যেখানে নামে সেখানে কী সর্বনাশই যে করে তা স্মরণ করে শিউরে উঠে বসন্ত বলে, ‘কী করব দাদা?’
রূপ আর কাঞ্চন তার হাতে একটা বল্লম গুঁজে দিয়ে বলে, ‘তুই চুপি চুপি ওপরে উঠে গিয়ে মাঝিদের সব জাগিয়ে দিগে যা, আমরা নীচে থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যাচ্ছি। যা তাড়াতাড়ি যা, হার্মাদদের সুলুপ এসে পড়ল বলে, আমরা দূর থেকে আলো দেখে নেমে এসেছি।’’
ব্যস্তসমস্ত হয়ে বসন্ত বল্লম হাতে নৌকোর খোল থেকে ওপরে উঠে যায়। অন্ধকার রাত। নদীতে নোঙর ফেলে নৌকোর পাটাতনের ওপর যে যার জায়গায় মাঝিরা ঘুমোচ্ছে, শুধু হালের কাছে একজন প্রহরী পাহারায় দাঁড়িয়ে।
বসন্ত সামনে যাকে পায় প্রাণপণে ঠেলা দিয়ে বলে—‘ওঠ ওঠ, হার্মাদ আসছে।’
‘হার্মাদ’ নাম শুনে সে এবং আরও দু-একজন ধড়মড় করে উঠে পড়ে। তারপর এদিক ওদিক চেয়ে একজন হেসে উঠে বলে, ‘কে ছোটোকর্তা নাকি? তাই তো ভাবি এত রাত্রে হার্মাদ এল কোথা থেকে? তা আসুক না হার্মাদ! আপনার ভয় নেই, আমরা আছি। আপনি ঘুমোনগে যান!’
বসন্ত উত্তেজিত হয়ে বলে, ‘কী বাজে বকছ! হার্মাদদের সুলুপের আলো দেখা গেছে, শিগগির ওঠ সব।’
মাঝিরা সবাই এবার হেসে ওঠে। একজন বলে, ‘হার্মাদরা আপনার বল্লম দেখে পালিয়েছে কর্তা, এ রাত্রে আর আসবে না।’
বসন্তু আরও কিছু হয়তো বলত, কিন্তু পেছনে হাসির শব্দ শুনে দেখে, রূপ ও কাঞ্চন হাসির চোটে পরস্পরের গায়ে ঢলে পড়ছে।
এইবার সমস্ত ব্যাপারটা বুঝে অত্যন্ত অপ্রতিভ হয়ে বসন্ত মাথা নীচু করে নীচে নেমে যায়।
একদিন কিন্তু রূপ ও কাঞ্চনের ঠাট্টা সত্যি হয়ে উঠবে কে জানত! সদাগরের বাণিজ্য শেষ হয়েছে. সাতটি ডিঙা নানা বন্দর নানা দেশ ঘুরে দেশের মুখে চলেছে। দিন দশেক বাদেই দেশে ফিরতে পারে জেনে মাঝিদের আর আনন্দের সীমা নেই। কর্ণফুলির মুখে হার্মাদদের ভয়—সে উজানটেক নির্বিঘ্নে পার হয়ে এসে তাদের আশা ও সাহস বেড়ে গেছে। সকলেরই ধারণা এ দফায় আর বিপদ ঘটবে না।
এমন সময় একদিন দুপুরবেলা বিনা মেঘে বজ্রাঘাত হল।
বিস্তীর্ণ নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। তারই মাঝখান দিয়ে সদাগরের সাত ডিঙা চলেছে। হঠাৎ সামনের মকরমুখো ডিঙার দাঁড় টানা বন্ধ হয়ে গেল। মকরমুখো থেকে কে হেঁকে বললে—‘খবরদার, সামনে লুঠ হচ্ছে’। সব নৌকোর মাঝিমাল্লা উদগ্রীব হয়ে ছুটে এল। দেখা গেল সামনে কোন হতভাগ্য সদাগরের তিনটি নৌকোয় আগুন ধরেছে। নদীর মাঝখানে সেই তিনটি জ্বলন্ত নৌকো থেকে অসহায় মাঝিমাল্লা প্রাণ বাঁচাবার জন্যে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কিন্তু জলে পড়েও তাদের নিস্তার নেই। পাঁচ পাঁচটি জলদস্যুদের সুলুপ থেকে জলের লোকেদের ওপর নির্মমভাবে হার্মাদরা তির ছুড়ছে।
উজ্জ্বল সাধুর সাত ডিঙায় শোরগোল পড়ে গেল। উজ্জ্বল সাধু পাগলের মতো ছুটাছুটি করে বেড়াতে বেড়াতে মাঝিদের নৌকোর মুখ ফিরিয়ে অন্য দিকে যাবার ব্যবস্থা বলে দিতে লাগলেন। নৌকোর খোল থেকে অস্ত্রশস্ত্র সব ওপরে এনে মাঝিদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হল। তারপর নৌকোর মুখ ফিরিয়ে প্রাণপণে সবাই দাঁড় টানতে লেগে গেল। হার্মাদরা অনুসরণ শুরু করবার আগে কিছু দূর এগিয়ে যেতে পারলে হয়তো এ যাত্রা রক্ষা পাওয়াও যেতে পারে।
কিন্তু তা হবার নয়। হঠাৎ সমস্ত নদী কাঁপিয়ে বন্দুকের আওয়াজ শোনা গেল। হার্মাদরা এ বহর আক্রমণ করার আয়োজন করছে। উজ্জ্বল সদাগর চিৎকার করে বললেন, ‘প্রাণপণে দাঁড় টানো মাঝিরা সব, এ যাত্রা বাঁচলে সবাই ডবল মাহিনা পাবে।’
কিন্তু মাঝিদের কোনো পুরস্কারের লোভ দেখাবার দরকার ছিল না। তারা প্রাণের দায়ে তখন সমস্ত শক্তি দিয়ে দাঁড় টানছে। হার্মাদদের সুলুপগুলি তখন একসার হয়ে অনুসরণ আরম্ভ করেছে।
বহুদূর পর্যন্ত এইভাবে অনুসরণ চলল। হার্মাদদের নৌকোগুলি তখনও সমান পেছনে আছে। কিন্তু মাঝিরা কতক্ষণ একনাগাড়ে প্রাণপণে টানতে পারে? হার্মাদদের নৌকোয় লোক-বল অনেক বেশি। ধীরে ধীরে দেখা গেল তারা এগিয়ে আসছে।
সন্ধ্যার কাছাকাছি আর তাদের এড়ানো গেল না। তারা প্রায় পঞ্চাশ গজের মধ্যে তখন এসে পড়েছে। সদাগরের সাত ডিঙার ওপর তারা সেকালের গাদা বন্দুক ছুড়তে শুরু করল। সদাগরের ডিঙায় মাত্র একটি বন্দুক। উজ্জ্বল সাধু নিজে সেই বন্দুক ছুড়ে তাদের গুলির জবাব দিলেন। কিন্তু এমন করে আর কতক্ষণ চালানো যায়? দেখতে দেখতে বড়ো বড়ো মশাল জ্বেলে হার্মাদরা তাদের সুলুপগুলি একেবারে সদাগরের সাত ডিঙার মাঝখানে নিয়ে এসে ফেলল, এবং বড়ো বড়ো কাছি দিয়ে সদাগরের ডিঙাগুলির সঙ্গে তাদের সুলুপ শক্ত করে বেঁধে তরোয়াল ও বন্দুক নিয়ে নৌকোর ওপর লাফিয়ে পড়ল।
এইবার যে ব্যাপার শুরু হল তার আর বর্ণনা হয় না।
তখনও ভালো করে সন্ধে হয়নি। আকাশের আবছা আলোয় কিছুদূর পর্যন্ত দেখা যায়, কিন্তু হার্মাদদের মশালের আলোয় চোখে এমন ধাঁধা লাগে যে অন্ধকার আরও গাঢ় বলে মনে হয়। সেই অস্পষ্ট অন্ধকারে মশালের লাল আলোয় বিস্তীর্ণ নদীর ওপর অসংখ্য মানুষের চিৎকার, তরোয়ালের সঙ্গে তরোয়ালের ঝঞ্ঝনা, বন্দুকের আওয়াজ মিলে এক ভয়ংকর জগৎ সৃষ্টি করে তুলল। হার্মাদদের বিশাল যমদূতের মতো চেহারা, গায়ে তাদের লাল কোর্তা, মাথায় কারও কালো টুপি, কারও কাপড় দিয়ে আঁট করে চুল পেছনে টেনে বাঁধা পরনে তাদের রক্তাক্ত পেন্টুলেন। সংখ্যায় তারা যেমন বেশি, অস্ত্রশস্ত্রও তাদের তেমনি জবর—তাদের অধিকাংশেরই কাছে বন্দুক ও পিস্তল। হাতাহাতি লড়াইয়ের আপাতত সে বারুদ-গাদা পিস্তল ছোড়ার বিশেষ সুবিধে না হলেও সদাগরের ডিঙার লোকেরা তাদের হিংস্র আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারছিল না। দলে দলে ডিঙার লোক মারা পড়ছিল। দেখতে দেখতে সদাগরের মকরমুখো ডিঙার হার্মাদরা আগুন ধরিয়ে দিলে। নদীর জল সে আলোয় লাল হয়ে উঠল। উজ্জ্বল সাধু এবার বন্দুক ফেলে উন্মত্ত হয়ে তরোয়াল নিয়ে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে গেলেন কিন্তু শ্রীধর মাঝি, রূপ ও কাঞ্চন মিলে তাঁকে জোর করে ধরে রাখল। শ্রীধর বলল—‘আর যুদ্ধ করে লাভ কী বলুন? এবার আত্মসমর্পণ না করে আর উপায় নেই।’
কিন্তু উজ্জ্বল সাধু আত্মসমর্পণ করতে কিছুতেই রাজি নয়— হার্মাদদের হাতে বন্দি হয়ে ক্রীতদাস রূপে বিক্রি হওয়ার চেয়ে যুদ্ধে মরাই ভালো বলে তিনি তাদের হাত ছেড়ে দিতে বললেন।
শ্রীধর তবু বুঝিয়ে তাঁকে ধরে রাখবার চেষ্টা করছিল এমন সময় দুজন হার্মাদ হঠাৎ সেদিকে এগিয়ে এসে তাদের আক্রমণ করল। রূপ বন্দুকটা তুলতে গিয়ে দেখে বন্দুক নেই—কখন কে সরিয়ে নিয়েছে কেউ দেখেনি! শ্রীধর ও উজ্জ্বল সাধু তরোয়াল তুলে ধরলেন। উজ্জ্বল সাধুর তরোয়ালের ঘায়ে একজন হার্মাদের হাতের অসি পড়ে গেল কিন্তু আর একজন এক ঘায়ে শ্রীধরকে অস্ত্রচ্যুত করে উজ্জ্বল সাধুর মাথার ওপর তরোয়াল উঁচিয়ে ধরল। হঠাৎ গুড়ম করে এক শব্দ। হার্মাদের হাতের তরোয়াল হাতেই রয়ে গেল, কাটা কলাগাছের মতো সে ডিঙার ওপর পড়ে গেল। আর একজন হার্মাদ তখন মাটি থেকে একটা বল্লম তুলে নিয়ে উজ্জ্বল সাধুর বুক লক্ষ্য করে ছোড়বার উদ্যোগ করছে। কিন্তু তারও হাতের বল্লম হাত থেকে আর ছুটল না— আবার এক বন্দুকের আওয়াজের সঙ্গে সে লুটিয়ে পড়ল।
উজ্জ্বল সাধু অবাক হয়ে চারদিকে চেয়ে দেখলেন—কোথা থেকে কে বন্দুক ছুড়ছে কিছুই দেখা যায় না। বেশিক্ষণ অবশ্য খোঁজবার সময়ও তাঁর রইল না। হার্মাদরা এইবার চারদিক থেকে এসে তাঁদরে ঘিরে ধরল। সদাগর মরিয়া হয়ে লড়বার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছেন এমন সময় শ্রীধর জোর করে একটা সাদা নিশান তুলে দোলাতে লাগল।
সাদা নিশান মানে সন্ধি, কিন্তু হার্মাদের কাছে সাদা নিশান মানে আত্মসমর্পণ। সাদা নিশান দেখামাত্র অন্য সমস্ত ডিঙাতেও যুদ্ধ থেমে গেল। হার্মাদরা এইবার এগিয়ে এসে দড়ি দিয়ে শক্ত করে সকলকে বেঁধে ফেলতে লাগল। উপায়হীন হয়ে উজ্জ্বল সাধু হাত বাড়িয়ে দিলেন, কিন্তু যে হার্মাদ তাঁকে বাঁধতে এসেছিল হঠাৎ আর এক বন্দুকের আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে সে পড়ে গেল।
সাদা নিশান দেখবার পরও বন্দুক ছোড়ে কে? সবাই কৌতূহলী হয়ে চারিদিকে চেয়ে হঠাৎ দেখতে পেল নৌকোর মাস্তুলের একেবারে আগায় পা ঝুলিয়ে একজন বন্দুক নিয়ে বসে আছে। একজন হার্মাদ তার দিকে পিস্তল উঁচিয়ে ধরতেই মাস্তুল থেকে আবার এক আওয়াজ হল। হার্মাদের বন্দুকছোড়া জীবনের মতো শেষ হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে।
সাদা নিশান দেখবার পরও এ রকম বন্দুক ছোড়ায় হার্মাদরা একেবারে খেপে উঠল। তারা সবাই সেই দিকে বন্দুক উঁচিয়ে তাকে গুলি করবার উদ্যোগ করছে এমন সময়ে হার্মাদদের সর্দার গঞ্জালেস এগিয়ে এসে হাত নেড়ে বললেন—‘থাম, গুলি করে মরলে ওর অপরাধের উচিত শাস্তি হবে না, ওকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরে আমি কুকুর দিয়ে খাওয়াব। ওকে জীবন্ত নামিয়ে নিয়ে আসতে হবে!’ তিন তিন জন হার্মাদ তৎক্ষণাৎ মাস্তুল বেয়ে ওপরে উঠতে গেল, কিন্তু বেশিদূর তাদের উঠতে হল না। এক এক করে তিনজনেরই মৃতদেহ মাস্তলের তলায় লুটিয়ে পড়ল। আরও তিনজন তারপর মাস্তলে উঠতে গিয়ে সেই দশাই প্রাপ্ত হল। গঞ্জালেস উন্মত্ত হয়ে বললেন—‘মাস্তুল কুড়ুল দিয়ে কেটে ফেল!’ মাস্তুলের তলায় তৎক্ষণাৎ হার্মাদরা কুড়ুল নিয়ে এসে কোপ দিতে শুরু করল। দেখতে দেখতে মড় মড় করে মাস্তুল ভেঙে জলে পড়ল, সঙ্গে সঙ্গে মাস্তুলের বন্দুকবাজও জলে ছিটকে গেল। ক-জন হার্মাদ এবার সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ধরবার জন্যে সাঁতরে গেল। তিজনের হাত থেকে সাঁতরে পালানো সহজ নয়। বন্দুকবাজ ধরা পড়ল। হার্মাদরা তাকে সেই জলে ভেজা অবস্থায় পিছমোড়া করে ওপরে তুলে নিয়ে এল। লোকটা এতক্ষণ মাথা নীচু করে ছিল— হঠাৎ ওপরে এসে মুখ তুলতেই উজ্জ্বল সাধু, রূপ, কাঞ্চন, শ্রীধর সবাই একসঙ্গে অস্ফুট চিৎকার করে উঠলেন—‘একী এ যে বসন্ত!’
গঞ্জালেস বসন্তের মাথার ঝুটি ধরে নাড়া দিয়ে বলল— ‘তোমার হাতের ভারি তাগ না ছোকরা? আচ্ছা আগুনে একবার সেঁকে নিয়ে তারপর দেখা যাবে কত তুমি তাগ করতে পারো।’
উজ্জ্বল সাধু হাত বাড়িয়ে কী বলতে গেলেন, কিন্তু একজন হার্মাদ তাঁর মাথায় এক আঘাত করে তাঁকে নীরব করিয়ে দিল। হার্মাদরা বসন্তকে বেঁধে নীচে নিয়ে গেল।
গভীর রাত। নৌকার খোলের ভেতর একজায়গায় বসন্তকে একা বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে। হার্মাদরা জানিয়ে গেছে কাল সকালে তাকে পুড়িয়ে কুকুর দিয়ে খাওয়ানো হবে।
ওপরে হার্মাদরা লুট সফল হওয়ার আনন্দে হল্লা করে স্ফূর্তি করছে। তারই আওয়াজ অস্পষ্টভাবে নীচে এসে পৌঁছোচ্ছিল আর বসন্ত ক্ষোভে রাগে দাঁতে দাঁত চেপে গুমরে উঠছিল। সে সকালে মারা যাবে তার জন্যে তার দুঃখ নেই, দুঃখ শুধু এইজন্যে যে এই নরপিশাচদের উপযুক্ত শাস্তি সে দিতে পারল না! আরও কটাকে মেরে মরতে পারলে তার মনে শান্তি হত। কিন্তু আর উপায় নেই।
হঠাৎ তার মনে হল, উপায় কি সত্যিই নেই? হার্মাদরা সব ফুর্তিতে মেতেছে, তার কাছে কেউ নেই। কোনোরকমে হাতের বাঁধন যদি সে খুলতে পারে তাহলে নৌকোর জানলা দিয়ে বাইরে জলে নেমে যাওয়া শক্ত নয়। একবার বাইরে বেরোতে পারলে হার্মাদদের আরও গোটাকতককে সাবাড় করবার সুবিধা মিলবেই। কিন্ত হাতের বাঁধন পায়ের বাঁধন খোলা যায় কী করে? কোনোরকম একটা ধারালো জিনিস থাকলে কোনোরকমে তাইতে ঘসে বাঁধন কাটা যেত। নৌকোর খোলে একটি তেলের বাতি মিট মিট করে জ্বলছে, তার আলোয় চারিদিকে চেয়ে তেমন কিছুই সে দেখতে পেল না।
না:, উপায় নেই। প্রতিশোধ ভালো করে না নিয়েই তাকে পুড়ে মরতে হবে। এই কথা মনে হতেই হঠাৎ পিছমোড়া করে বাঁধা থাকা সত্ত্বেও বসন্ত উঠে বসল। উপায় তো আছে! পুড়ে মরার কথা মনে হবার সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হল বাতির আলোতে বাঁধন সে পুড়িয়ে ফেলতে তো পারে! এখন কেউ না দেখতে পেলে হয়। কোনোরকমে ঘষড়ে ঘষড়ে কী কষ্টে যে সে বাতির কাছে পৌঁছোল তা বলা যায় না। কিন্তু এখানেও আর এক অসুবিধে। কোনোরকমে উঠে দাঁড়াতে হয়তো সে পারে কিন্তু পেছন দিকে ভালো করে দেখা তো যায় না। হাতের বাঁধন পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সমস্ত হাত পুড়ে উঠল। অসহ্য যন্ত্রণায় তার মুখ বিকৃত হয়ে উঠল কিন্তু সে ছাড়ল না। বাঁধন যখন পুড়ে ছিঁড়ে গেল তখন তার হাত পুড়ে কালো কালো ফোসকা হয়ে গেছ। কিন্তু সে দিকে ভ্রূক্ষেপ করবার সময় আর নেই। ক্ষিপ্র হাতে পায়ের বাঁধন খুলে ফেলে বসন্ত খোলের জানলা দিয়ে ধীরে ধীরে বাইরে জলে নেমে পড়ল। জলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার হাতের যন্ত্রণায় প্রথমে মনে হল সে বুঝি অজ্ঞান হয়ে যাবে। কয়েক মিনিট সে যন্ত্রণা একটু সামলে নিয়ে নৌকোর ধার দিয়ে নি:শব্দে সাঁতরে যেতে যেতে সে নিজের কর্তব্য স্থির করে নিল। সমস্ত হার্মাদ খাস-নৌকোর ওপর উৎসবে মত্ত। একজন শুধু হাল ধরে নদীর স্রোতে ধীরে ধীরে নৌকা চালিয়ে নিয়ে চলেছে। অপর নৌকোগুলিতেও দুটি একটির বেশি মাঝি নেই। অন্ধকার রাত্রি, নদীর ওপর একহাত দূরের জিনিস দেখা যায় না। আস্তে আস্তে সাঁতরে গিয়ে হালের কাছে বসন্ত আবার নৌকো ধরল। ধীরে ধীরে সে নৌকোর গা বেয়ে তারপর ওপরে উঠে গেল। হালে বসে ঝিমোতে ঝিমোতে একজন মাত্র হার্মাদ নৌকো চালাচ্ছে। কাছে কেউ কোথাও নেই। এই একজনকে কাবু করতে পারলেই হয়, কিন্তু কেমন করে তা সম্ভব! গায়ে তার অত জোর নেই যে এই যমদূতের মতো চেহারাকে শুধু হাতে সে মেরে ফেলতে পারে। অস্ত্রশস্ত্রও তার সব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কোনো রকমে হার্মাদ মাঝির কোমরবন্ধ থেকে তার তরোয়ালটা খুলে নেওয়া যায়! মাঝির পেছনে গুঁড়ি মেরে বসে বসন্ত নি:শব্দে হাত বাড়িয়ে দেখল সে তরোয়াল নেওয়া শক্ত। লোকটা ঝিমুচ্ছে কিন্তু একেবারে ঘুমোয়নি। বসন্ত বসে বসে উপায় ভাবতে লাগল।
হঠাৎ বিধাতাই সুযোগ করে দিলেন। লোকটা ঝিমোতে ঝিমোতে হঠাৎ একবার সামনে ঘুমের ঘোরে টলে পড়ল। সেই মুহূর্তে তার কোমর থেকে তরোয়াল খুলে নিয়ে বসন্ত উঠে দাঁড়াল। কোমরে টান পড়ায় হার্মাদও সজাগ হয়ে ফিরে দাঁড়াল কিন্তু তখন তার সময় ফুরিয়েছে। এক কোপে তার ছিন্ন মুন্ড ঘাড় থেকে পেছনে ঝুলে পড়ল। লাশটা থেকে তার জামাকাপড় খুলে নিয়ে বসন্ত লাশটা একধারে চাপা দিয়ে রেখে দিল। জামা-পেন্টুলেন সে পরল বটে কিন্তু তার গায়ে সেগুলো ঢল ঢল করতে লাগল। তা হোক তবু দূর থেকে দেখে চিনতে পারা যাবে না। এইবার কী করবে সেই হল সমস্যা। কোনোরকমে নৌকোটাকে তীরের কাছে নিয়ে কোনো চড়ায় ঠেকিয়ে দিতে পারলে কাজ হয়। তীর কতদূর না জেনেও সে ধীরে ধরে নৌকোর হাল ঘুরিয়ে দিল। অধিকাংশ হার্মাদ ফুর্তি করবার জন্য সদাগরের বড়ো ময়ূরপঙ্খিতে এসে জড়ো হয়েছে। এই নৌকোতেই সদাগরের সমস্ত মাঝি-মাল্লা লোক-লশকর বেঁধে রাখা হয়েছে। অন্য নৌকোগুলিতে শুধু দরকার মতো দু-একজন ছাড়া আর কেউ নেই। নৌকো চরেতে লাগালে হার্মাদরা কয়েকজন চরে নামবেই—নৌকো ঠেলে জলে ভাসাতে। সেই সময় কিছু না কিছু করা যাবে।
চর সত্যই বেশি দূরে ছিল না। হঠাৎ সশব্দে নৌকা চরে ঠেকে থেমে গেল। নৌকো অনেকখানি ওপরে উঠে গেছে। হার্মাদেরা ভিড় করে নৌকোর পাটাতনের ওপরে এসে দাঁড়াল। গঞ্জালেস ক্রুদ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করল ‘এই কুকুর সিবাস্টিয়ান! নৌকো চরে ঠেকল কেন?’
মুখে কাপড় পুরে যথাসম্ভব ভারী গলায় হার্মাদদের স্বর অনুকরণ করে বসন্ত বলল—‘কসুর হয়ে গেছে সর্দার—টের পাইনি।’
অন্য সময়ে হলে কী হত বলা যায় না, কিন্তু এ সময়ে গঞ্জালেসের মেজাজ ভালো ছিল। আর কিছু না বলে সে আদেশ দিল, ‘শিগগির নেমে গিয়ে নৌকো ঠেলে জলে ভাসাও।’ হার্মাদেরা সবাই মদ খেয়ে উন্মত্ত হয়েছিল। আদেশ পাওয়া মাত্র হুড় হুড় করে প্রায় সবাই নীচে নেমে গেল। এতটা বসন্ত আশা করেনি। এইবার সুযোগ! গঞ্জালেস নৌকোর ধারে গিয়ে মাথা নীচু করে হার্মাদদের কী করতে হবে চিৎকার করে বুঝিয়ে দিচ্ছিল। মৃত সিবাস্টিয়ানের কোমরের চোরাটা খুলে নিয়ে বসন্ত নি:শব্দে গঞ্জালেসের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল; তারপর প্রাণপণে জোর সংগ্রহ করে তার পিঠে ছুরি বসিয়ে দিল। গঞ্জালেস কথাটি পর্যন্ত না কয়ে তৎক্ষণাৎ নীচে লুটিয়ে পড়ল। নীচে হার্মাদরা নৌকো ঠেলায় ব্যস্ত, তারা কিছুই জানতে পারল না। একমুহূর্ত নষ্ট না করে বসন্ত নীচে নৌকোর তলায় যেখানে তার বাবা ভাই এবং মাঝিমাল্লারা বন্দি হয়েছিল সেখানে নেমে গিয়ে একে একে সকলের বাঁধন কেটে দিয়ে বলল—‘যা পারো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিগগির নৌকোর ধারে এসো।’ হার্মাদরা প্রায় তখন নৌকো ঠেলে জলে নামিয়ে এনেছে। নৌকো জলে ভাসবামাত্র যেই হার্মাদরা ওপরে উঠতে যাবে, অমনি দেখা দিয়ে তাদের সংহার করতে বলে বসন্ত আবার গিয়ে হাল ধরল।
কিছুক্ষণ বাদেই হার্মাদদের ঠেলায় নৌকো জলে ভাসল। তৎক্ষণাৎ হাল ঘুরিয়ে বসন্ত নৌকোর মুখ তীর থেকে ফিরিয়ে দিল। হার্মাদরা প্রথমটা থতোমতো খেয়ে তারপর নৌকোয় ওঠবার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখল সেখানে সমস্ত সদাগরের মাঝি-মাল্লা তরোয়াল-বল্লম-বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে ক-জন এসত্ত্বেও ওঠবার চেষ্টা করল তাদের পরিণাম দেখে অন্যান্য দস্যুরা আর সে চেষ্টা করতে সাহস করল না। নৌকোর মুখ ফিরিয়ে বসন্ত কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে একেবারে হার্মাদের নাগালের বাইরে এনে ফেললে। হার্মাদদের অন্যান্য নৌকো অন্ধকারে এসব কিছুই জানতে না পেরে অন্যদিকে চলে গেছে। সামনে আর কোনো বিপদ নেই। ধনরত্ন ও কটা নৌকো গেছে যাক, প্রাণে বাঁচতে পেরে মাঝি-মাল্লাদের তখন আর আনন্দের সীমা নেই। তারা বসন্তকে নিয়ে কী যে করবে যেন ভেবে পায় না।
রূপ আর কাঞ্চন শুধু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল—‘তোর বন্দুকের অত তাগ হল কবে রে—তুই শিখলি কোথায়?’
বসন্ত হেসে বললে—‘বন্দরে নেমে বেসাতি করতে যাবার সময় আমাকে তো সঙ্গে নিতে না, আমি তখন কোনো কাজ না পেয়ে বাবার বন্দুক নিয়ে ছোড়া অভ্যাস করতাম।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন