প্রেমেন্দ্র মিত্র

পৃথিবীর চারটি বড়ো বড়ো দেশের উৎসাহে ও টাকায় একেবারে প্রথম শ্রেণির একটি সাবমেরিন এখন অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের সলোমন দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে ডুব দিয়ে দিয়ে সাগরের জল প্রায় খ্যাপার মতো ঘুলিয়ে তুলছে বললে হয়। এটা তার খামখেয়াল নয়। পৃথিবীর বড়ো বড়ো বিজ্ঞ বৈজ্ঞানিকের মতে বিজ্ঞান ও মানুষের ভাবী ইতিহাসের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুতর একটি সমস্যার সমাধান তার উদ্দেশ্য-সিদ্ধির ওপর নির্ভর করছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের অতল জলে কী যে সাবমেরিনের বৈজ্ঞানিক নাবিকেরা খুঁজে ফিরছে, কেন যে মানুষের পক্ষে সেটা এমন গুরুতর ব্যাপার, সেই কাহিনিই বলছি—
ব্যাপারটা পৃথিবীর অনেক গুরুতর ঘটনার মতোই আরম্ভ হয়েছিল অত্যন্ত নি:শব্দে। চিন জাপানের যুদ্ধ, স্পেনের বিপ্লব, ইউরোপের গন্ডগোল নিয়েই তখন সবাই মত্ত। অস্ট্রেলিয়ার দু একটা কাগজের কোণে যা সামান্য এখটা খবর বেরিয়েছিল তার দিকে অনেকেরই দৃষ্টি পড়েনি। যাদের পড়েছিল তারাও সেটাতে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি।
খবরটা এমন কিছু অসাধারণ নয়। সলোমন দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে উগি নামে ছোটো নগণ্য একটি দ্বীপের মালিক—মি. বাফেট, সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি সামুদ্রিক জীবের অস্তিত্বের পরিচয় পেয়ে কাগজে তার বিবরণ পাঠিয়েছিলেন। সেই বিবরণটিকে কেটেছেঁটে খবরের কাগজের এক কোণে নেহাত জায়গা ভরাবার জন্যেই স্থান দেওয়া হয়েছিল। এরকম বিবরণ খবরের কাগজে হামেশাই আসে—অধিকাংশই শেষপর্যন্ত আজগুবি গালগল্প বলে ধরা পড়ে। সুতরাং কাগজে এই বিবরণটিকে যে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়নি তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। সাধারণ লোক তো দূরের কথা, এ বিষয়ে যাদের উৎসাহ থাকার কথা সেই প্রাণীতত্ত্ববিদদেরও কেউ এ বিবরণ নিয়ে মাথা ঘামিয়েছিল বলে মনে হয় না।
মি. বাফেট নিজেও তাঁর আবিষ্কারটির গুরুত্ব অবশ্য কিছুই বোঝেননি। সত্যি কথা বলতে ব্যাপারটা আগাগোড়া দুঃস্বপ্ন কি না, এ বিষয়ে তাঁর নিজেরই একটু সন্দেহ ছিল।
মি. বাফেট উগি দ্বীপটি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছে কিনে নিয়ে সেখানে নারকেলের চাষ করেছেন। নারকেলের চাষ ছাড়া আশপাশের দ্বীপের অধিবাসীদের সঙ্গে মুক্তো প্রবাল প্রভৃতি নানা জিনিসের কারবারও তিনি করে থাকেন।
উগি দ্বীপটি নিতান্ত ছোটো, লম্বায় চওড়ায় বারো মাইলের বেশি কোথাও নয়। এই দ্বীপটিতে জন পঞ্চাশ সেই অঞ্চলের আদিম অধিবাসীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র সাদা চামড়ার লোক। আদিম অধিবাসীরা তাঁরই নারকেলের বাগান ও কারবারে চাষি মজুর ও চাকরের কাজ করে।
ঘটনার দিন ছিল উগি দ্বীপের এক রকম হাটবার। আশপাশের দ্বীপগুলি, বিশেষ করে পাশের সান ক্রিস্তোভাল দ্বীপ থেকে লম্বা লম্বা ‘ক্যানোয়’ করে বড়ো বড়ো সর্দারেরা এসেছে মুক্তো আর প্রবাল, নারকেলের শাঁস আর গজদন্ত ফলের বদলে রঙিন ছিট, আর তামাক, সস্তা আয়না চিরুনি আর পুঁতির মালা কিনতে।
সারাদিন কেনাবেচা ও মুখ্যু সর্দারদের হিসেব বোঝাবার পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে মি. বাফেট বিকেল বেলার ভাঙা হাটের ভার বিশ্বাসী চাকর টিক্কোর হাতে ছেড়ে দিয়ে সমুদ্রের ধারে একটু মাথা ঠান্ডা করতে এসেছিলেন।
সন্ধে তখনও হয়নি। প্রবাল দ্বীপের সমুদ্রতট দুধে-ধোওয়া শ্বেতপাথরের মেঝের মতো ঝক ঝক করছে। সমুদ্রের জলের রং শুধু একটু গাঢ় হয়ে এসেছে নারকেল গাছের সারির পেছনে অস্তমান সূর্যের আলোয়।
মি. বাফেট উঁচু একটা পাথরের চাঁইয়ের ওপর গিয়ে বসেছিলেন। এইটেই তাঁর প্রিয় বিশ্রামের জায়গা। এখান থেকে দূরে সমুদ্র যেখানে ফেনা-ছিটোনো সাদা ঢেউ হয়ে ভেঙে পড়ছে সেদিকে চেয়ে থাকতে তিনি ভালোবাসেন।
অধিকাংশ প্রবালদ্বীপের মজা এই যে, চারধারে প্রবালের তৈরি ডুবো দেওয়ালে ঘেরা থাকায় তীরের কাছে ঢেউদের দাপট আর থাকে না। জলের ডুবো প্রবাল-প্রাকারে ধাক্কা খেয়ে নিস্তেজ হয়ে ঢেউগুলি সেখানে পৌঁছোয়। সেই অপেক্ষাকৃত শান্ত জলে দুটি বড়ো বড়ো কচ্ছপের সাঁতরে বেড়ানো অন্যমনস্কভাবে দেখতে দেখতে হঠাৎ মি. বাফেট চমকে উঠলেন।
সমুদ্রের নীল জলের ভেতর থেকে রুপোর মতো চকচকে কী একটা প্রাণী তীরের দিকে উঠে আসছে। প্রথমে মি. বাফেট সেটাকে একটা সামুদ্রিক মাছই ভেবেছিলেন। কিন্তু সে ভুল ভাঙতে তাঁর দেরি হল না। মাছের সঙ্গে তার সাদৃশ্যই নেই।
তবে প্রাণীটি কী? রংটা রুপোর মতো পড়ন্ত সূর্যের আলোয় চকচক করে না উঠলে গোড়ায় হয়তো তার একটা কচ্ছপ বলেও সেটাকে ভাবা যেত। মনে করা যেত তার আঁশগুলোই অমন চকচক করছে। কিন্তু শুধু গায়ের রঙে নয় আকারেও তো তার কচ্ছপের সঙ্গে কোনো মিল নেই।
মি. বাফেট চোখটা একবার রগড়ে দিলেন। সারাদিন হিসেবের অঙ্ক লিখে লিখে চোখটা খারাপ হল নাকি? না, চোখ তো খারাপ হয়নি। প্রাণীটি সত্যিই অদ্ভুত। দশ বছর ধরে প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপটিতে তিনি বাস করছেন, তার আগেও প্রশান্ত মহাসাগরের নানা দ্বীপে তাঁর অনেক দিন কেটেছে। এখানকার গাছপালা মানুষ ও জলস্থলের সব প্রাণীর প্রায় নাড়ি-নক্ষত্র তাঁর জানা। কিন্তু এমন আজগুবি প্রাণী তো তিনি কখনও দেখেননি।
প্রাণীটি তখন সমুদ্রে জল ছাড়িয়ে তীরের ওপর উঠে এসেছে। মাছ তো নয়ই, কচ্ছপ বা হাঙর কোনো কিছুর ধার দিয়েও সে যায় না। তার সঙ্গে মিল অবশ্য একটা কিছুর আছে, কিন্তু সে মিলের কথা ভাবতে যাওয়াটাই মনে হয় যেন মস্তিষ্ক বিকৃতির লক্ষণ।
রুপোর মতো ঝকঝকে প্রাণীটি ঠিক যেন একটি বিকৃত চেহারার কবন্ধ বামন। মানুষের মতো মাথাটাই তার খালি নেই, কিন্তু ঠিক মানুষের মতোই তার দুটি মোটা মোটা পা এবং দেহের দুধারে আজানু নয় একেবারে আপাদলম্বিত দুটি হাতের মতো অঙ্গও তার আছে। দৈর্ঘ্য অবশ্য তার তিন ফুটের বেশি না হলেও পরিধি তার বেশ।
টলমলে পায়ে প্রাণীটি তীরের দিকে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে ;— মি. বাফেট মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় সেদিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁর বিশ্বাসী চাকর টিক্কো যে তাঁর খোঁজে তাঁর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে সে খেয়াল তাঁর নেই। হঠাৎ তার ভীত চিৎকারে তিনি চমকে উঠলেন।
দানব! দানব! সমুদ্রের দানব!—মি. বাফেট মুখ ফিরিয়ে দেখলেন ভয়ে টিক্কো একেবারে কাঠ হয়ে গেছে, শুধু চিৎকারের তার কামাই নেই।
সে চিৎকারের ফল যা হবার তাই হল। দেখা গেল প্রাণীটি দ্রুতবেগে সমুদ্রের দিকে আবার ফিরে যাচ্ছে। মি. বাফেট তাড়াতাড়ি তার পেছনে যাবার উপক্রম করতেই টিক্কো একেবারে পাগলের মতো তাঁকে জড়িয়ে ধরে সভয়ে বললে,— দোহাই আপনি যাবেন না, সমুদ্রের দানবের কাছে— তাহলে আর রক্ষা নেই।
টিক্কোর আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হবার চেষ্টা করতে করতেই প্রাণীটি যখন সমুদ্রের জলে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল তখন মি. বাফেটের আফশোসের আর সীমা রইল না। ধমকে গালাগাল দিয়ে টিক্কোকে বললেন,— আহাম্মুক কোথাকার। কী করলি বল দেখি!
টিক্কোর কিন্তু গালাগাল খেয়েও লজ্জিত হবার কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। ভয় তখনও তার সম্পূর্ণ কাটেনি। অম্লানবদনে তবু সে জানাল,—অন্যায় সে কিচ্ছু করেনি। সমুদ্রের দানবের পরিচয় জানলে সাহেব আর তার কাছে যাবার জন্যে ব্যস্ত হতেন না!
সমুদ্রের দানব না ছাই। মুখ্যু জানোয়ার কোথাকার। ভালো করে একবার দেখতে পেলাম না তোর আহাম্মুখীতে!
টিক্কো এবার একটু ক্ষুণ্ণ হয়ে বলল, —তার ভাবনা নেই। একবার যখন দানব এ দ্বীপে উঠেছে তখন ভালো করে দেখা না দিয়ে সে যাবে না।
বলতে বলতে তার চোখে মুখে যে আতঙ্ক ফুটে উঠল তাতে মি. বাফেট সত্যি একটু অবাক হয়তো হতেন, যদি না এদের নানা অর্থহীন কুসংস্কার তাঁর জানা থাকত। তাই তিনি শুধু একটু হেসে তাকে বললেন,—এ দানব তুই আগে দেখেছিস?
টিক্কো জানাল,—না, তার নিজের দেখা এই প্রথম, কিন্তু দানবের সব কথা সে জানে। প্রশান্ত মহাসাগরের অনেক দ্বীপ নাকি ঝড় জল ভূমিকম্প মহামারিতে নয়, এই দানবের অত্যাচারেই শ্মশান হয়ে গেছে আগে। অসভ্যদের বল্লম আর সাহেবদের গুলি, কিছুই নাকি এদের ক্ষতি করতে পারে না।
এ মুখ্যু কুসংস্কারগ্রস্ত অসভ্যের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা বৃথা বুঝে মি. বাফেট বেশ একটু ক্ষুণ্ণ মনেই তাঁর বাংলোয় ফিরেছেন এবং তারপর তিনি নিজে যা দেখেছেন তার বর্ণনার সঙ্গে অসভ্য অধিবাসীদের কুসংস্কারের কাহিনি সমেত একটি বিবরণ অস্ট্রেলিয়ার কাগজে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
কাটাছাঁটা হয়ে তা থেকে যেটুকু বিবরণ কাগজে বেরিয়েছে তার পরিণামের কথা আগেই বলা হয়েছে। তারপর সভ্যজগৎ এই ব্যাপারটির গুরুত্ব সম্বন্ধে কতদিনে যে সজাগ হয়ে উঠত কে জানে যদি না—
—যদি না সান ক্রিস্টোভালের রেসিডেন্ট কমিশনার মি. সেরিফের কাছে উগি দ্বীপ সম্বন্ধে কয়েকটা ভাসা ভাসা গুজব গিয়ে পৌঁছোত, যদি না তিনি স্বয়ং এ ব্যাপারটার খোঁজ নেবার সাধু সংকল্প করতেন, এবং যদি না ঠিক সেই সময়ে সৌভাগ্যক্রমে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সামুদ্রিক প্রাণীতত্ত্ববিদ বৈজ্ঞানিক ডা. মিচেল তাঁর বার্ষিক সাগর-শিকারের বেরিয়ে সান ক্রিস্টোভালে মি. সেফির অতিথি হতেন।
মি. সেরিফ কিছুদিন থেকেই উগি সম্বন্ধে নানান রকম গুজব শুনতে পাচ্ছিলেন। উগি দ্বীপ সান ক্রিস্টোভালের অধীন, সেখানকার মালিকও তাঁর জাতভাই। সেই হিসেবে উগি দ্বীপের মালিকের বিপদ আপদে সাহায্য করা কমিশনারের কর্তব্য। তবু খবরগুলো এমন আজগুবি এবং কমিশনার হিসাবে মি. সেরিফের অন্য কাজের চাপ এত বেশি যে এবিষয়ে কিছু করার ফুরসত তাঁর এপর্যন্ত হয়ে উঠেনি।
কিন্তু একদিন আর চুপ করে বসে থাকা তাঁর চলল না। সকাল বেলায় খাবার টেবিলেই তাঁকে অত্যন্ত চঞ্চল দেখে ডা. মিচেল একটু আশ্চর্য হলেন—কী ব্যাপার মি. সেরিফ? আপনাকে সকালেই যেন চিন্তিত দেখাচ্ছে!
—চিন্তিত নয় ডা. মিচেল, বিরক্ত বলতে পারেন। একে তো সরকারি কাজের এই চাপ, তার ওপর এদেশের লোকের ভূতের ভয় জুজুর ভয় সারিয়ে বেড়াতে হলেই তো গেছি!
—জুজুর ভয় আবার কোথায় সারাতে হবে?—ডা. মিচেল জিজ্ঞেস করলেন।
—এই উগি দ্বীপে, আর কোথায়! সেখানকার মালিক মি. বাফেট শুনছি ভয়ানক বিপদে পড়েছেন। জুজুর ভয়ে তাঁর চুক্তি করা সমস্ত চাকর-বাকর চাষি নাকি তাঁকে একা ফেলে পালিয়েছে। বেচারার সান ক্রিস্টেভালে এসে খবর দেবার মতো একটা ডিঙিও নাকি তারা রেখে যায়নি।
মি. সেরিফ একটু থেমে আবার বললেন,—জুজুটা কি তা জানেন?—সাগর দানব! সাগর থেকে তারা নাকি উঠে সব ধ্বংস করে দেয়। শুনেছেন এমন কথা!
ডা. মিচেল হঠাৎ গম্ভীর হয়ে বললেন—শুনেছি।
মি. সেরিফ একটু অধৈর্যের সুরে বল্লেন—শুনেছি তো আমিও। এদেশে এ কুসংস্কার বহুকাল থেকে চলে আসছে, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করেন এসব গাঁজাখুরি গল্প?
ডা. মিচেল তেমনি গম্ভীরভাবে বললেন,—এইটুকু শুধু বিশ্বাস করি যে, সব গাঁজাখুরি গল্পের একটা কিছু সত্যের ভিত আছে।
মি. সেরিফ তাঁর দিকে খানিকক্ষণ অবাক হয়ে চেয়ে থেকে বললেন,—তাহলে চলুন না মশাই আমার সঙ্গে সত্যের ভিতটা একটু খুঁড়ে আসবেন! অনেক রকম নতুন প্রাণী তো আপনার সংগ্রহ হয়েছে, একটা সাগর-দানবই বাদ যায় কেন? কেমন যাবেন?
মি. সেরিফের ঠাট্টাটুকু উপেক্ষা করে ডা. মিচেল বললেন—আমি প্রস্তুত।
সেইদিন বিকেলেই সান ক্রিস্টোভাল থেকে সরকারি বড়ো মোটর-বোট ‘মিণ্ডিনি’ উগি দ্বীপে গিয়ে নোঙ্গর করল। মাঝি-মাল্লাদের বোটেই রেখে জনকয়েক দেশি কনস্টেবল নিয়ে মি. সেরিফ ও ডা. মিচেল মি. বাফেটের বাংলোয় গিয়ে উঠলেন।
বাংলোয় পৌঁছে তাঁরা সত্যি অবাক হলেন! দেশি চাষি মজুর চাকর বাকর না হয় সব পালিয়েছে, কিন্তু স্বয়ং মি. বাফেট গেলেন কোথায় এই সন্ধেবেলায়! বাংলো এবং আশপাশের সমস্ত জায়গা সন্ধান করেও তাঁর কোনো পাত্তা পাওয়া গেল না। সরে পড়বার আগে দেশি লোকেরা কি তাঁকে শেষ করে দিয়ে গেছে তাহলে? কিন্তু আশ্চর্য! গুদোম ঘর বা বাংলোর কোনো জিনিস-পত্রই চুরি যায়নি। মনিবকে মেরে ফেল্লে চাকরেরা সে-সব লুট করবার লোভ নিশ্চয়ই সংবরণ করতে পারত না।
যাই হোক রাত্রিটা তাঁদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতেই হবে। সকালের আগে আর মি. বাফেটের অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করার চেষ্টা বৃথা বুঝে রাতটা তাঁরা বাংলোতেই নিশ্চিন্ত বিশ্রামে কাটাবার সংকল্প করলেন।
কিন্তু নিশ্চিন্তভাবে রাত্রিটা বিশ্রাম করে কাটানো তাদের হল না।
সন্ধে তখন সবে উত্তীর্ণ হয়েছে। কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে দিয়ে টেবিলের দুধারে বসে ডা. সেরিফ ও মি. মিচেল সাগর-দানবের কিংবদন্তী সম্বন্ধে গল্প করছিলেন।
মি. সেরিফ বলছিলেন,—সাগর-দানব বলতে একটা কিছু আছে বলে আপনি কেন মনে করেন ডা. সেরিফ?
—মনে করি এই জন্যে যে প্রশান্ত মহাসাগরের নানা দ্বীপে সাগর-দানবের কিংবদন্তি বহুদিন থেকে চলে আসছে। তার সবটাই কুসংস্কার আর বাজে কল্পনা বলে আমার মনে হয় না।
কিন্তু তাহলে এতদিন সভ্য মানুষ তার খোঁজ পেত না, আপনাদের বিজ্ঞানও কিছু জানত না!
ডা. মিচেল একটু হেসে বললেন,—সভ্য মানুষ আর বিজ্ঞানকে সবজান্তা মনে করছেন কেন? বিজ্ঞান তো সেদিনের। পৃথিবীর রহস্যের এখনও অনেক কিছু সে জানবার সুযোগ পায়নি।
—কিন্ত সাগর-দানব তাহলে কী হতে পারে?
—ঠিক করে কিছু বলা যায় না। বৈজ্ঞানিক হিসেবে আমার কোনোরকম কল্পনাও সাজে না। তবে আমার অনুমান—সাগর-দানব গভীর সমুদ্রের কোনো অজানা প্রাণী।
ডা. মিচেলের কথা আর শেষ হল না। হঠাৎ বাইরে একটা গোলমাল শোনা গেল। দুজনে ব্যস্ত হয়ে উঠে পড়তেই একজন পুলিশ এসে জানাল একটি লোক লুকিয়ে বন্দুক বারুদ প্রভৃতি রাখবার ঘরে ঢোকবার চেষ্টা করছিল, তাকে ধরতে গিয়েই এই গোলমাল।
এই জনশূন্য দ্বীপে কেউ নেই বলেই তো তাঁরা জানতেন। এখানে বারুদ ঘর লুট করার শখ আবার কার হল? ডা. মিচেল ও মি. সেরিফ তাড়াতাড়ি বাইরে বেরোলেন। কিন্তু চোরকে দেখেই তাঁদের চক্ষুস্থির।
—একী, এ যে মি. বাফেট!
জ্যোৎস্না রাত্রি হলেও বড়ো বড়ো নারকেল গাছের ছায়ায় বারুদ-ঘরের দিকটা বেশ অন্ধকার। তারই দরুন পুলিশ মি. বাফেটকে চিনতে পারেনি। তারা এবার তাড়াতাড়ি তাঁকে ছেড়ে দিয়ে সসংকোচে দূরে গিয়ে দাঁড়াল।
মি. বাফেটের কিন্তু তখনও রাগ যায়নি! তাঁকে ভয়ানক উত্তেজিতও মনে হচ্ছিল। চড়া গলায় তিনি বললেন,—হ্যাঁ আমি মি. বাফেট! আপনারা কে শুনতে পাই! পরের এলাকায় মাতব্বরি করতে এসেছেন!
উত্তর না দিয়ে মি. সেরিফ একটু আলোয় গিয়ে দাঁড়াতেই মি. বাফেটের সুর বদলে গেল। —আপনি মি. সেরিফ! আমি ভাবতেই পারিনি। যাক ভালোই হয়েছে, ঠিক সময়েই এসে পড়েছেন।
রাগ পড়ে গেলেও মি. বাফেটের উত্তেজনা তখনও একটু কমেনি দেখা গেল।
মি. সেরিফ সেটুকু লক্ষ করে বললেন,—তা-তো এসেছি। কিন্তু আপনি এতক্ষণ ছিলেন কোথা? এত রাত্রে বারুদ-ঘরেই বা ঢুকছিলেন কেন?
বারুদ-ঘরে ঢুকছিলাম ‘গেলিগ্নাইট’ নেবার জন্যে। তারা এসে পড়েছে যে মি. সেরিফ! এসে পড়েছে।—মি. বাফেটের ভাবভঙ্গি অনেকটা অপ্রকৃতিস্থের মতো।
কারা এসে পড়েছে?—ডা. মিচেলই জিজ্ঞেস করলেন এবার।
—কারা আবার, সাগর-দানব! সারাদিন আমি সেই পাহারাতেই ছিলাম। কিন্তু একটি দুটি নয়, দলে দলে তারা এসেছে। সেই জন্যেই বন্দুকের বদলে ‘গেলিগ্নাইট’ নিতে এসেছি আর সময় নেই মি. সেরিফ। ‘গেলিগ্নাইট’ নিয়ে এখুনি আমাদের যাওয়া দরকার।
এবার মি. সেরিফের স্থির বিশ্বাস হল লোকজন পালাবার পর কদিন একা একা এই নির্জন দ্বীপে কাটিয়ে ভয়ে ভাবনায় মি. বাফেটের নিশ্চয়ই মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তিনি মি. বাফেটকে একরকম জোর করে বাংলোর দিকে ছেলেভোলানোর মতো সুরে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে বললেন,—আসুক তারা। আমরা এখান থেকেই তাদের সঙ্গে লড়ব।
কিন্তু মি. বাফেট সজোরে তাঁর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে অধীরভাবে বললেন,— আপনারা কি আমায় পাগল ভাবছেন! শুনুন এর আগেও তারা দুবার এখানে হানা দিয়েছে আমাদের বন্দুকের জোরে অনেক কষ্টে তাদের তাড়িয়েছি। কিন্তু একটিকেও মারতে পারিনি। বন্দুকের গুলি যেন তাদের গায়ে লাগে না। আমার লোকজন কি অমনি পালিয়েছে মনে করেন? আপনারা কি বিশ্বাস করছেন না আমার কথা!
মি. সেরিফ কী বলছেন কে জানে কিন্তু ডা. মিচেল এগিয়ে গিয়ে বললেন,— নিশ্চয় বিশ্বাস করছি। চলুন কোথায় যাবেন।
এ অঞ্চলের প্রায় সব দ্বীপেই বারুদ-ঘরে মাছ ধরা, পাহাড়-ভাঙা প্রভৃতি কাজের জন্য বেশ কিছু ‘গেলিগ্নাইট’ রাখা হয়। যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি খালি টিনে সেই গেলিগ্নাইট ভরে পটকা ও পলতে লাগিয়ে গোটাকয়েক চলনসই বোমা তৈরি করা হল। তারপর মি. বাফেটের পিছু পিছু নারকেল বাগানের ভেতর দিয়ে সবাই তীরের দিকে চললেন।
কিন্তু বেশি দূর তাঁদের যেতে হল না। নারকেল বাগানের আবছা অন্ধকার যেখানে জ্যোৎস্নার আলোয় ধবধবে বালুতটে গিয়ে শেষ হয়েছে সেখানে পৌঁছোবার আগেই মি. বাফেট হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। আলো ছায়ার শতরঞ্চ কাটা ঘন নারিকেল বনের পথে চকচকে কোনো জিনিসে প্রতিফলিত আলোর ঝিলিক তখন আরও অনেকে দেখতে পেয়েছে।
সকলে রুদ্ধ নিশ্বাসে সেইখানে দাঁড়িয়ে পড়লেন। সামনের দৃশ্য সত্যিই বিশ্বাসের অতীত। টলটলে পায়ে এক সার দিয়ে প্রায় কুড়িটি যে অপরূপ মূর্তি একবার ছায়ায় ঢাকা পড়ে, একবার চাঁদের আলোয় ঝলমল করে, এগিয়ে আসছে তারা সত্যই বাস্তব জগতের কি না সে বিষয়ে সন্দেহ হয়। তারা যেন প্রাচীন কালের ভূত-প্রেত দানো-দৈত্যের কোনো কাল্পনিক কাহিনির বই থেকে বেরিয়ে এসেছে।
মি. সেরিফ ডা. মিচেলের কানে কানে চুপিচুপি বললেন,—এরা যে দুপায়ে মানুষের মতো হাঁটে ডা. মিচেল! সমুদ্রে আবার এরকম প্রাণী কী হয়! আর সমুদ্রের প্রাণী ডাঙায় বা বাঁচে কী করে?
ডা. মিচেল নিজের হাতের বোমাটা বাগিয়ে ধরে বললেন,—সব রহস্যের এখনই মীমাংসা হবে!
কিন্তু মীমাংসা অত সহজে হল না। অপরূপ মূর্তিগুলি নাগালের মধ্যে এসে পড়তেই সকলে বোমার পলতেতে আগুন দিয়ে সেগুলি তাদের মধ্যে ছুড়ে দিলেন। প্রচন্ড শব্দে সেগুলি ফেটে যাবার পর দেখা গেল উদ্দেশ্যে তাঁদের সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়নি।
ভীত প্রাণীগুলি তখন সবেগে সমুদ্রের দিকে পালাচ্ছে। মোটা মোটা টলটলে পায়ে তারা যে অত জোরে ছুটতে পারে তা গোড়ায় ভাবা যায়নি।
তাদের অনুসরণ করবার চেষ্টা না করে বোমা যেখানে ফেটেছিল সেখানেই সকলে গিয়ে দাঁড়ালেন। একটা আধটা মৃতদেহ নিশ্চয় সেখানে পড়ে আছে। ডা. মিচলের আগ্রহ সেই বিষয়েই।
একেবারে আস্ত না হলেও গোটাকতক অসম্পূর্ণ লাশ পাওয়াও গেল, কিন্তু উৎসাহভরে সেগুলি আলোয় টেনে এনে পরীক্ষা করতে গিয়ে ডা. মিচেল একেবার স্তম্ভিত হয়ে গেলেন।
এ আবার কীরকম প্রাণী! প্রাণীর দেহ কি শক্ত ধাতুর পাত আর তার দিয়ে তৈরি হয়!
মি. সেরিফকে তার পরদিনই সান-ক্রিস্টোভালে চলে যেতে হয়েছে। সাগরদানবের রহস্য যত গভীরই হোক, রেসিডেন্ট কমিশনারের পক্ষে তারই মীমাংসার জন্যে বসে থাকা চলে না। ডা. মিচেল কিন্তু সেই থেকে মি. বাফেটের সঙ্গে উগি দ্বীপেই আছেন। আহার নিদ্রা-তিনি একরকম ভুলে গেছেন বললেই হয়, সাগর দানবের অদ্ভুত রহস্য এমন করে তাঁকে পেয়ে বসেছে। কিন্তু ভেবে তিনি কোনোদিকেই কূল-কিনারা পাননি। পরের দিন সকালেই যতগুলি সম্ভব বোমার আঘাতে ফাটা সাগর-দানবের দেহের টুকরো তিনি সংগ্রহ করে আনিয়েছেন। তন্ন তন্ন করে সেগুলি বারবার পরীক্ষা করে দেখেছেন কিন্তু তাতে সেগুলি যে কোনোপ্রকার যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয় তাই আরও বেশি করে প্রমাণ হয়েছে। ‘প্রোটোপ্লাজম’ ছাড়া কোনো প্রাণীর দেহ হয় না, কিন্তু প্রোটোপ্লাজম দূরে থাক মাছের পটকার মতো একটি করে বড়ো রবার গোছের জিনিসের থলে ছাড়া এ প্রাণীর দেহে কোনো নরম জিনিসই নেই। সবই কঠিন একরকম মিশ্রিত ধাতুর পাত আর তার।
ডা. মিচেলের মাথা ক্রমশই বেশি গুলিয়ে গেছে। এগুলি যন্ত্রই যদি হয় তাহলে এ যন্ত্র সৃষ্টি করেছে কারা? পৃথিবীতে এমন আশ্চর্য বৈজ্ঞানিক জাত কোথায় আছে? এ যন্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের এই নগণ্য দ্বীপে পাঠাবার তাদের উদ্দেশ্য কী? আর যন্ত্র হলেও সেগুলি কোথা থেকে কে চালাচ্ছে?
এসব প্রশ্নের মীমাংসা শেষ পর্যন্ত সামান্য একটা দেশি পুলিশের ছেলেমানুষির ফলে সম্ভব হবে কে জানত! ডা. মিচেল কদিন ধরে এ রহস্য-ভেদ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হতাশ মনে তখন সান-ক্রিস্টোভাল হয়ে আবার অস্ট্রেলিয়া ফিরে যাবার সংকল্প করেছেন। এতবড়ো আবিষ্কারের কথা কিছুই তিনি বৈজ্ঞানিক জগৎকে জানাতে পারবেন না, এই তাঁর দুঃখ। আসল রহস্য সমাধান না করতে পারলে সাগর থেকে যন্ত্র-দানব ওঠার কথা তাঁর মুখ থেকে বেরোলেও যে পাগলামি বলে গণ্য হবে একথা তিনি জানেন। তাই তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকাই উচিত বলে ঠিক করেছেন।
রওনা হবার আগের রাত্রে একজন দেশিপুলিশকে তাঁর জিনিসপত্র গোছাতে বলে তিনি একটু বেড়াতে বেরিয়েছিলেন মি. বাফেটের সঙ্গে। ফিরে এসে পুলিশটার কান্ড দেখে তিনি একেবারে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। সে হতভাগা তাঁকে তখন লক্ষ করেনি। মাছের পটকার মতো রবারের থলেটা সে ঘুসি মেরে ফাটাবার মজাতেই মত্ত।
তার গালে একটি প্রচন্ড চপেটাঘাত করবার জন্যে ডা. মিচেল পেছন থেকে হাত তুললেন। কিন্তু চড় মারা আর তাঁর হল না। হঠাৎ ফট করে পটকার মতো থলেটা ফেটে গেল এবং তার থেকে কিলবিল করে যে জিনিসটি বেরিয়ে এল তার দিকে চেয়ে ডা. মিচেলের চোখে আর পলক পড়ল না বলা চলে।
জিনিস নয়, সেটি একটি প্রাণী—অদ্ভুত জাতের একটি অক্টোপাস। তাঁর চোখের সামনেই তার চেহারা ফুঁ-দেওয়া বেলুনের মতো ফুলে উঠে ফুটি-ফাটা হয়ে গেল। ডা. মিচেল বিস্ময়ে উত্তেজনায় খানিকক্ষণ নির্বাক হয়ে থেকে হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন—পেয়েছি পেয়েছি!
মি. বাফেট ছুটে এলন—কী পেয়েছেন ডা. মিচেল!
—কী আবার! সাগর-দানবের রহস্যের কিনারা! আসল সাগর-দানব কে জানেন, ওই দেখুন। মানুষ যেমন সমুদ্রে সাবমেরিন চালায়, এও তেমনি স্থলের ওপর ওঠার যন্ত্র আবিষ্কার ও আয়ত্ত করেছে।
ডা. মিচেল তারপর আর একটু বিশদ করে রহস্যটা বুঝিয়ে দিলেন।
যে যন্ত্রটি তাঁরা দেখেছেন, সেটি সাগর-দানবের বাহন মাত্র। সাগর-দানব আসলে ওই ছোটো অক্টোপাস।
সমুদ্রের খুব গভীর স্তরে যে তার বাস রবারের থলে ফেটে যাবার পর তার দেহ ফেঁপে ফুলে ওঠাই তার প্রমাণ। সমুদ্রের নীচে জলের চাপ অনেক বেশি, সেই চাপ ও স্বাভাবিক জলের আবেষ্টন রবারের থলেটির ভেতর বজায় রাখবার ব্যবস্থা আছে। রবারের থলেটির ভেতর থেকেই সাগর-দানব তার যন্ত্র চালায়। রবারের থলেটি ফেটে যেতে বাইরের চাপ হালকা হয়ে যেতেই সাগর-দানবের দেহটি ফেঁপে ফুলে এই অবস্থা হয়েছে।
মি. বাফেট সবিস্ময়ে বললেন,—কিন্তু সামান্য অক্টোপাসের—
ডা. মিচেল তাকে বাধা দিয়ে বললেন,—সামান্য নয় মি. বাফেট! অক্টোপাস যে সমুদ্রের সব জীবশ্রেণির মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান এ প্রমাণ আমরা আগেও পেয়েছি। তবে এতদূর যে তারা যেতে পারে তা ভাবতে পারিনি।
তারপর ডা. মিচেল সাগর-দানবের রহস্য সম্বন্ধে বিস্ময়কর প্রবন্ধ, নানা বৈজ্ঞানিক কাগজে লেখেন সাধারণের কাছে তা দুর্বোধ্য হলেও পৃথিবীর সর্বত্র বড়ো বড়ো দেশের টনক তাতে নড়ে উঠেছে। সাগরের অতলে অক্টোপাস জাতীয় যে প্রাণী ক্ষমতায় এতদূর অগ্রসর হয়ে মানুষে সঙ্গে টেক্কা দেবার উপক্রম করেছে তাকে অবজ্ঞা করা আর উচিত মনে হয়নি। সকলেই বুঝেছে, প্রশান্ত মহাসাগরের কোনো গোপন-কোণে মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী জলজপ্রাণীর এক আশ্চর্য বৈজ্ঞানিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে, তার সন্ধান সময় থাকতে আর না নিলে নয়।
অত্যন্ত শক্তিমান একটি সাবমেরিন তাই প্রশান্ত মহাসমুদ্রের জল ঘুলিয়ে ফিরছে। সন্ধান কিন্তু এখনও মেলেনি।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন