দ্বিতীয় অধ্যায়

মতি নন্দী

দুই

গত পনেরো বছরে কমল দু’বার চাকরি, ছয় বার বাসা এবং ছয় বার ক্লাব বদল করেছে। শোভাবাজার স্পোরটিং, ভবানীপুর, এরিয়ান, যুগের যাত্রী, মোহনবাগান, এবং আবার যুগের যাত্রী হয়ে এখন শোভাবাজারে আছে। এই সময়ে সে দর্জিপাড়া, আহিরিটোলা, শ্যামপুকুর, কুমারটুলি, আবার শ্যামপুকুর হয়ে এখন বাগবাজারে বাসা নিয়েছে। ক্লাবের জন্ম শোভাবাজারে এবং নাম শোভাবাজার স্পোরটিং হলেও তার কোনো অস্তিত্ব জন্মস্থানে এখন আর নেই, যেমন কমলের জন্ম ফরিদপুরে হলেও, তিন বছর বয়সে সেখান থেকে চলে আসার পর আর সে দেশের মুখ দেখেনি। শোভাবাজার স্পোরটিং এখন ময়দানের তাঁবুতে আর বেলেঘাটায় কেষ্টদার অর্থাৎ কৃষ্ণপ্রসাদ মাইতির বাড়িতেই বিদ্যমান।

কমল যুগের যাত্রীর তাঁবুতে শেষবার পা দিয়েছিল সাত বছর আগে। মোহনবাগান থেকে যাত্রীতে আসার জন্য ট্রান্সফার ফরমে সে সই করে এক হাজার টাকা আগাম নিয়ে। কথা ছিল পাঁচ হাজার টাকা যাত্রী তাকে দেবে।

বছর শেষে সে মোট পায় চার হাজার টাকা। দিল্লিতে ডুরাণ্ডে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে আসার পরই সে গুলোদার কাছে বাকি টাকাটা চায়। যুগের যাত্রীর সব থেকে ক্ষমতাশালী এই গুলোদা অর্থাৎ ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রতাপ ভাদুড়ি। সকালে প্র্যাক-টিসের পর প্লেয়াররা কি খাবে, কোন্ ম্যাচে কোন্‌ প্লেয়ার খেলবে, কোন্ প্লেয়ারকে যাত্রীতে নেওয়া হবে, এবং কত টাকায়, এসব স্থির করা ছাড়াও গুলোদা এবং তার উপদলের নির্দেশেই নির্বাচিত হয় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, ফুটবল সম্পাদক, এমনকি প্রেসিডেন্টও। ফুটবল চ্যারিটি ম্যাচের বা ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচের টিকিট গুলোদার হাতেই প্রথমে আসে, তারপর মেম্বারদের বিক্রি করা হয়। আই এফ এ এবং সি এ বি-র তিন-চারটি সাব কমিটিতে গুলোদা আছে। একটি ছোট্ট প্রেসের মালিক গুলোদা গত বছরে দুটি বাড়ি করেছে ভবানীপুরে ও কসবায়।

গুলোদা নম্রস্বরে বিনীত ভঙ্গিতে কথা বলে।

“সে কি, তুই টাকা পাসনি এখনো!” গুলোদার বিস্ময়ে কমল অভিভূত হয়ে যায়।

“ছি ছি, অন্যায়, খুব অন্যায়। আমি এখুনি তপেনকে বলছি।”

গুলোদা অ্যাকাউন্ট্যান্ট তপেন রায়কে ডেকে পাঠাল। সে আসতেই ঈষৎ রুষ্টস্বরে বলল, “একি, কমলের টাকা পাওনা আছে যে? না না, যত শিগগিরি পার দিয়ে দাও, কমল আমাদের ডিফেন্সের মূল খুঁটি, ওকে কমজোরি করলে যাত্রী শক্ত হয়ে দাঁড়াবে কি করে!”

কমল সতর্ক হয়ে বলে, “গুলোদা, টাকাটা রোভার্সে যাবার আগেই পাচ্ছি তো?”

“তুই ভাই তপেনের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নে।” বলতে বলতে গুলোদা ফোন তুলে ডায়াল করতে শুরু করে দেয়।

তপেন তিনদিন ঘুরিয়ে টাকা দেয়নি। কমলও রোভার্সে যায়নি। ফুটবল সেক্রেটারির কাছে খবর পাঠায়, হাঁটুর ব্যথাটা বেড়েছে। তাই শুনে গুলোদা শুধু বলেছিল, “বটে।”

পরের মরশুমের জন্য ফুটবল ট্রান্সফার শুরু হবার আগে গুলোদা ডেকে পাঠায় কমলকে। ও আসামাত্র ড্রয়ার থেকে একশো টাকার দশটি নোট বার করে একগাল হেসে গুলোদা বলে, “গুনে নে। তোরা যদি রাগ করিস, তাহলে যাত্রী চলবে কি করে বলতে পারিস? না না কমল, ছেলেমানুষি কর তোর পক্ষে শোভা পায় না। দশ বছরের ওপর তুই ফার্স্ট ডিভিশনে খেলছিস। ইণ্ডিয়া কালার, বেঙ্গল কালার পরেছিস। চ্যাংড়া ফুটবলারদের মত তুইও যদি টাকা নিয়ে⋯না না, তোকে দেখেই তো ওরা শিখবে, ক্লাবকে ভালবাসবে। ইউ মাস্ট বী ডিগনিফায়েড্‌! এবার ভাল করে গুছিয়ে টিম কর। কাকে কাকে নিতে হবে সে সম্পর্কে ভেবেছিস?”

গুলোদা সামনের চেয়ারটা দেখিয়ে বসতে ইশারা করল। কমল হাতের নোটগুলো প্যাণ্টের পকেটে রেখে চেয়ারে বসতেই গুলোদা আবার শুরু করে, “প্লেয়ার কোথায়? একটু আগে দেবু টাকা চাইতে এসেছিল। বললুম, টাকা তো দেবো, কাগজ পেন্সিল নিয়ে বসে একবার হিসেব কর, ক’মিনিট খেলেছিস, কত গজ দৌড়েছিস, ক’টা ভুল পাশ দিয়েছিস, ক’টা বল রিসিভ করতে পারিসনি, ক’টা ওপেন নেট পেয়ে বাইরে মেরেছিস!⋯মেম্বাররা লীগ চায়, শীল্ড চায়, আরে বাবা, যে ক’টা প্লেয়ার, সবই তো মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল নিয়ে বসে আছে। প্লেয়ার না হলে ট্রফি আনবে কে! একা কমল গুহ যা খেলে তার সিকিও যদি দুটো ব্যাক খেলতে পারত, তাহলে ইণ্ডিয়ার সব ট্রফি আমরা পেতাম। ক্লাস—ক্লাস, ক্লাসের তফাত। তোর ক্লাসের প্লেয়ার কলকাতা মাঠে এখন ক’টা আছে আঙুলে গুনে বলা যায়। তুই কিন্তু ট্রান্সফারের প্রথম দিনেই উইথড্র করবি।”

কমল বলতে শুরু করে, “কিন্তু টাকার কথাটা তো⋯”

“আহ্‌, ওসব নিয়ে তার সঙ্গে কি দর কষাকষি করতে হবে! গত বছর যা পেয়েছিস এবারও তাই পাবি।”

কমল ট্রান্সফারের প্রথম দিনেই ওল্ড ফ্রেণ্ডসে সই করেই উইথড্র করে। লীগে সাতটি ম্যাচে তাকে ড্রেস করিয়ে সাইড লাইনের ধারে বসিয়ে রাখা হয়। অষ্টম ম্যাচ স্পোরটিং ইউনিয়নের সঙ্গে পাঁচ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় খেলা শেষের দশ মিনিট আগে কোচ বিভাস সেন এসে বলে, “কমল নামতে হবে, ওয়ারম্ আপ করো।”

শোনা মাত্রই ঝাঁঝিয়ে ওঠে কমলের মাথা। দিনের পর দিন হাজার হাজার লোকের সামনে আনকোরা প্লেয়ারের মত সেজেগুজে লাইনের ধারে বসে থাকার লজ্জা আর অপমানের ক্ষতে যেন নুনের ছিটে এই দশ মিনিটের জন্য খেলতে নামানো।

“এতদিনে হঠাৎ মনে পড়ল যে?” কমল অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা স্বরে বলে।

“রাগ করিসনি ভাই, বুঝিসই তো, আমার কোন হাত নেই। সবই একজনের ইচ্ছেতেই তো হয় এখানে।” বিভাস চোরের মত এখার-ওধার তাকিয়ে বলে, “খেলার আগেই গুলোদা বলে দেয় কমলকে দশ মিনিট আগে নামিও।”

কমল বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পিছু ফিরে গ্যালারির দিকে তাকায়। একেবারে উপরে গুলোদা তার নির্দিষ্ট জায়গাটিতে বসে। কমল সটান উঠে এসে গুলোদার সামনে দাঁড়াল। জার্সিটা গা থেকে খুলে হাতে ধরে বলল, “বয়স হয়েছে, খেলাও পড়ে এসেছে। কিন্তু কমল গুহ যতদিন বল নিয়ে ময়দানে নামবে, ততদিন এই জার্সিকে সে ভয়ে কাঁপাবে।”

জার্সিটা হতবাক্ গুলোদার কোলে ছুঁড়ে দিয়ে, খালি গায়ে কমল শত শত লোকের কৌতূহলী দৃষ্টির ভীড় কাটিয়ে গ্যালারি থেকে নেমে আসে। তাঁবুতে এসে জামা-প্যান্ট পরে, নিজের বুট এবং অন্যান্য জিনিসগুলো ব্যাগে ভরে যখন সে বেরোচ্ছে, তখন খেলা শেষের বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে হাউইয়ের মত একটা উল্লাস আকাশে উঠে প্রচণ্ড শব্দে ফেটে পড়ল। কমল থমকে পিছন ফিরে তাকাল। দাঁতে দাঁত চেপে অস্ফুটে বলল, “এই শব্দকে কাতরানিতে বদলে দেবো।”

যুগের যাত্রী তাঁবুর চৌহদ্দিতে কমল আর পা দেয়নি। পরের বছর ট্রান্সফারের প্রথম দিনই সে সই করে আসে শোভাবাজার স্পোরটিংয়ে খেলার জন্য। লীগ তালিকায় শেষের যে পাঁচ-ছ’টি দল প্রথম ডিভিশনে টিকে থাকার জন্য জোট পাকায় আর পয়েন্ট ছাড়াছাড়ি করে, শোভাবাজার তাদেরই একজন। তিনটি খেলায় ১১ গোল খেয়ে সে বছর ওদের খেলা পড়ে যাত্রীর সঙ্গে। কমল খেলতে নেমেছিল এবং শুধু তারই জন্য যাত্রীর ফরোয়ার্ডরা পেলাল্টি বক্সের মাথা থেকেই বার বার ফিরে যায়। খেলা ০—০ শেষ হয়। শেষ বাঁশির সঙ্গে মাঠে থমথমে গাম্ভীর্য নেমে আসে। কমল শোভা-বাজারের দু’জন প্লেয়ারের কাঁধে ভর দিয়ে টলতে টলতে মাঠ থেকে বেরোবার সময় বলে, “শরীরে আর একবিন্দুও শক্তি নেই রে, নইলে এখন আমি একটা দারুণ চীৎকার করতুম।”

কমল গুহ যতদিন বল নিয়ে ময়দানে নামবে, ততদিন এই জার্সিকে সে ভয়ে কাঁপাবে।

ফিরতি লীগে শোভাবাজারের যখন পঁচিশটা খেলায় ১৪ পয়েন্ট, তখন পড়ল যাত্রীর সামনে। লীগ তালিকায় যাত্রী তখন মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান আর এরিয়ান্সের পরে, বি এন আরের ঠিক উপরে। চ্যাম্পিয়ান হওয়ার কোন আশা তো নেই—এটা শুধু ছিল মানরক্ষার খেলা।

হাফ টাইমে যাত্রীর মেম্বাররা কুৎসিত গালিগালাজ করতে করতে গুলোদার দিকে জুতো, ইট, কাঠের টুকরো ছুঁড়তে শুরু করে। তাদের চীৎকারের মধ্যে একটা গলা শোনা গেল, “কমলকে কেন ছেড়ে দেওয়া হল?” খেলার ফল তখন ০—০।

এরপর গুলোদার এক পার্শ্বচর দ্রুত গ্যালারি থেকে নেমে গিয়ে শোভাবাজারের সম্পাদক কৃষ্ণ মাইতির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে এল।

হাফ টাইমের পর মাঠে নামতে গিয়ে কমল অবাক হয়ে দেখল, যে সিধু এতক্ষণ দারুণ খেলে অন্তত তিনটি অবধারিত গোল বাঁচাল, তাকে বসিয়ে নতুন ছেলে ভরতকে গোলে নামানো হচ্ছে। খেলা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই যাত্রীর লেফট হাফ প্রায় ৩০ গজ থেকে একটি অতি সাধারণ শট গোলে নিল। কমল শিউরে উঠে দেখল, বলটা ধরতে ভরত সামনে এগিয়ে এসে হঠাৎ থমকে গেল, তার সামনেই ড্রপ পড়ে মাথা ডিঙ্গিয়ে বল গোলে ঢুকল।⋯মিনিট দশেক পর কমলের পায়ে আবার বল। যাত্রীর দুটো ফরোয়ার্ড দু’পাশ থেকে এসে পড়েছে। ওদের আড়াল করে কমল ফাঁকায় দাঁড়ানো রাইট ব্যাককে বলটা দিতেই ছেলেটি কিছু না দেখে এবং না ভেবে আবার কমলকেই বলটা ফিরিয়ে দিল। যাত্রীর লেফট-ইন ছুটে এল বল ধরার জন্য। পরিস্থিতিটা এমনই দাঁড়াল যে, কর্নার করা অথবা গোলকীপারকে বলটা ঠেলে দেওয়া ছাড়া কমলের আর কোন পথ নেই। সে গোলের দিকে বলটা ঠেলে দিয়ে দেখল, ভরত অযথা একটা লোক-দেখানো ডাইভ দিল এবং বল তার আঙুলে লেগে গোলে ঢুকল। ০—২ গোলে শোভাবাজার হেরে গেল। গ্যালারির মধ্যেকার সরু পথটা দিয়ে যখন মাথা নিচু করে বেরোচ্ছে, উপর থেকে চীৎকার করে একজন বলল, “কি রে কমল, যুগের যাত্রীকে কাঁপাবি না?”

তিন দিন পর ভরতকে আড়ালে ডেকে কমল জিজ্ঞাসা করেছিল, “এ রকম করলি কেন?”

ভরতের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তর্ক করার ব্যর্থ চেষ্টা করে অবশেষে স্বীকার করে, “কেষ্টদা বলল, রেগুলার খেলতে চাস যদি তাহলে দুটো গোল আজ ছাড়তে হবে। রাজী থাকিস তো নামাবো। আমি লোভ সামলাতে পারলুম না কমলদা। দু’ বছর রিজার্ভেই কাটালুম, মাত্র চারটে পুরো ম্যাচ খেলেছি।” তারপরই সে ঝুঁকে কমলের পা দু’হাতে চেপে ধরল। “আমাকে মাপ করুন কমলদা, এমন কাজ আর করব না।” কমল তখন আপন মনে নিজেকে উদ্দেশ করেই বলে, “স্টপার, কোন্‌ দিকের আক্রমণ তুমি সামলাবে!”

পরের বছর যাত্রীর সঙ্গে লীগের প্রথম খেলায়, শুরুর সাত মিনিটেই কমল পেনাল্টি বক্সের একগজ বাইরে নিরুপায় হয়ে এক-জনকে ল্যাং দিয়ে ফেলে দেয়। বাঁশি বাজাতে বাজাতে রেফারী রাধাকান্ত ঘোষ ছুটে এল পেনাল্টি স্পটের দিকে আঙুল দেখিয়ে।

তাজ্জব হয়ে কমল জিজ্ঞাসা করল, “পেনাল্টি কিসের জন্য?”

“নো নো, ইট’জ পেনাল্টি।” রাধাকান্ত বলটা হাতে নিয়ে দাগের উপর বসাল।

ভরত অযথা একটা লোক-দেখানো ডাইভ দিল…

“বক্সের অনেক বাইরে ফাউল হয়েছে।” কমল নাছোড়বান্দার মত তর্ক করতে গেল।

“নো আরগুমেন্ট। আই অ্যাম কোয়ায়েট সিওর অফ ইট।”

“বুঝেছি।” কমল তির্যককণ্ঠে বলল। রাধাকান্ত না শোনার ভান করে বাঁশি বাজাল। কমল চোখ বন্ধ করে দু’কানের পাশে তালু দুটো চেপে ধরল। এখুনি সেই মর্মান্তিক চীৎকারটা উঠবে।

একটা প্রবল দীর্ঘশ্বাস মাঠের উপর গড়িয়ে পড়ল। কমল অবাক হয়ে চোখ খুলে দেখল, ভরত বলটা দু’হাতে বুকের কাছে আঁকড়ে উপুড় হয়ে। এরপর শোভাবাজার দ্বিগুণ বিক্রমে যাত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হাফ টাইমের আগের মিনিটে রাইট উইং বল নিয়ে টাচ লাইন ধরে তরতরিয়ে ছুটে চমৎকার সেণ্টার করে। বলটা পেনাল্টি বক্সের মাথায় দাঁড়ানো রাইট-ইন বুক দিয়ে ধরেই সামনে বাড়িয়ে দেয়। লেফট উইং যাত্রীর দুই ব্যাকের মধ্যে দিয়ে ছিটকে ঢুকে এসে বলটা গোলে প্লেস করা মাত্র রাধাকান্ত বাঁশি বাজিয়ে ছুটে আসে। অফসাইড। তখন কমল মনে মনে বলে, “আক্রমণ, স্টপার কী করে এই আক্রমণ রুখবে!”

যুগের যাত্রী খেলাটা ১—০ জিতেছিল। প্রায় শেষ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে শোভাবাজার গোলের মুখে বল পড়েছিল। ভরত এগিয়ে পাঞ্চ করতেই যাত্রীর রাইট উইংয়ের মাথায় বল আসে। সে হেড করে গোলের দিকে পাঠাতেই ভরত পিছু হটে বলটা ধরতে গিয়ে আটকে যায়। যাত্রীর লেফট-ইন্‌ তার প্যাণ্ট ধরে আছে। বিনা বাধায় বল গোলে ঢোকে।

খেলা শেষে মাঠের মধ্যে শোভাবাজার প্লেয়াররা ভিড় কমার জন্য অপেক্ষা করছিল। এমন সময় রথীনকে দেখতে পেয়ে কমল হেসে এগিয়ে এসে বলল, “আজ আমরা একগোলে জিতেছি!”

রথীন শুকনো হেসে বলল, “এ বছর আমি যাত্রীর ফুটবল সেক্রেটারি।”

“ওহ্‌, তাইতো। মনেই ছিল না। সরি, আমার বরং বলা উচিত, রেফারি আজ জিতেছে। এভাবে না জিতে ভাল করে টিম কর্‌ খেলার মত খেলে জেত্‌।”

কথাটা গায়ে না মেখে রথীন বলল,“এভাবে কদ্দিন তুই আমাদের জ্বালাবি বল্‌ তো?”

“আমি জ্বালাচ্ছি! তুই তাহলে ফুটবলের ‘ফ’-ও বুঝিস না। তোদের গুলোদাকে জিজ্ঞেস কর, তিনি বোঝেন বলেই আমাকে দু’বছর আগেই ড্রেস করিয়ে সাইড লাইনের বাইরে বসিয়ে রাখতেন।”

“তোকে দেখলে হিংসে হয়, এখনো দিব্যি খেলাটা রেখেছিস, আর আমরা কেমন বুড়িয়ে গেলুম।”

“তার বদলে তুই আখেরটা গুছিয়ে নিতে পেরেছিস। শুনেছি প্রগ্রেসিভ ব্যাঙ্কে এখন বেশ বড় পোস্টে আছিস। একটা চাকরি-বাকরি দে না।” হাসতে হাসতে কমল বলল, “তাহলে আর যাত্রীকে জ্বালাব না। খেলে কি আর তোদের মত বড় ক্লাবের সঙ্গে পারা যায়!”

“আর ইউ সিরিয়াস, চাকরি সম্পর্কে? তাহলে টেন্টে আয়, কথা বলা যাবে।”

“সরি রথীন।” কঠিন হয়ে উঠল কমলের মুখ। “চাকরি আমার দরকার, দু’মাস ধরে বেকার। কিন্তু যাত্রীর টেণ্টে যাব না ”

আর কথা না বলে কমল সরে আসে রথীনের কাছ থেকে। এসব পাঁচ বছর আগের ঘটনা।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%