ট্রেনের খোঁজে

জেরোম কে জেরোম

আমরা ঠিক এগারোটায় ওয়াটারলু স্টেশনে পৌঁছে খোঁজ করলাম এগারোটা পাঁচের গাড়ি কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে। বলা বাহুল্য, কেউই জানে না প্ল্যাটফর্মের হদিশ। আসলে ওয়াটারলু স্টেশনে কেউই কখনো বলতে পারে না কোন গাড়ি কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে কিংবা যে গাড়ি ছাড়বে সেটার নাম কী বা গন্তব্য কোথায়। আমাদের কুলি জানাল যে আমাদের ট্রেনটা দু'নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে। কিন্তু ও যখন আরেক জন কুলিকে জিগ্যেস করল, সে বলল যে একটা গুজব কানে এসেছে ট্রেনটা নাকি এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে। স্টেশন মাস্টার অবিশ্যি নিশ্চিতভাবে জানালেন যে ট্রেনটা দূর পাল্লার হলেও ওটা কিন্তু লোকাল ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে।

শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটার একটা হেস্তনেস্ত করতে আমরা দোতলায় গিয়ে ট্র্যাফিক সুপারিনটেনডেন্টের সঙ্গে দেখা করলাম। উনি বললেন যে একটু আগেই একটা লোক ওঁকে বলে গেছে যে ট্রেনটা নাকি তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। অতএব আমরা তিন নম্বরে গেলাম। কিন্তু রেলের কর্মীরা আমাদের জানাল যে ওই ট্রেনটা হয় সাদাম্পটন নয়তো উইন্ডসর যাবে। এবং ওরা নিশ্চিত যে ওটা কিংস্টন (আমাদের গন্তব্য) যাবে না। অবিশ্যি ওরা এ ব্যাপারে কী করে নিশ্চিত হল তা কিন্তু বলতে পারল না।

এই পরিস্থিতিতে আমাদের কুলি বলল যে আমাদের ট্রেনটা সম্ভবত উঁচু লেভেলের প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে এবং ও বোধহয় ট্রেনটা চেনে। সুতরাং আমরা দল বেঁধে লটবহর নিয়ে উঁচু লেভেলের প্ল্যাটফর্মে পৌঁছলাম। গাড়ির কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল ইঞ্জিন ড্রাইভার। তাকে জিগ্যেস করলাম ট্রেনটা কিংস্টন যাচ্ছে কিনা। ও নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারল না, তবে ওর মনে হচ্ছিল যে গাড়িটা হয়তো কিংস্টন যেতে পারে। ও অবিশ্যি আশ্বাস দিল যে এটা যদি এগারোটা পাঁচের কিংস্টনগামী গাড়ি না হয়, তাইলে অতি অবশ্যই এটা ন'টা বত্রিশের ভার্জিনিয়া ওয়াটার এক্সপ্রেস কিংবা দশটার আইল অফ ওয়াইট এক্সপ্রেস অথবা ওই দিকেরই কোনো গাড়ি। ওর বক্তব্য, গাড়ির গন্তব্যস্থলে পৌঁছলেই বুঝতে পারা যাবে ওটা কী ট্রেন ছিল।

ইঞ্জিন ড্রাইভারের হাতে একটা বড় নোট গুঁজে দিয়ে ওকে অনুরোধ করলাম, 'ভাই, এই গাড়িটাকেই এগারোটা পাঁচের কিংস্টন এক্সপ্রেস বানিয়ে দিন না!'

ওকে আরও বুঝিয়ে বললাম, 'দেখুন, এই স্টেশনে বা লাইনে কেউ কখনো জানতে পারবে না যে আপনি কে কিংবা ট্রেনটা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। রাস্তা তো আপনি চেনেন-ই, চুপচাপ এখান থেকে ট্রেনটা কিংস্টন নিয়ে চলুন না!'

অবশেষে সেই মহান ও উদার প্রকৃতির ইঞ্জিন ড্রাইভার উত্তর দিল, 'কী যে করি কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে অতি অবশ্যই কোনো একটা ট্রেনকে তো কিংস্টন যেতে হবে। দিন, আরেকটা নোট দিন।'

এইভাবে আমরা সেদিন কিংস্টন পৌঁছেছিলাম।

পরে জানতে পেরেছিলাম যে ওই গাড়িটা আসলে ছিল একসেটর মেল এবং ওয়াটারলু স্টেশনের রেল কর্মীরা প্রচুর খোঁজখবর করেও জানতে পারেনি যে ওই ট্রেনটার কী হল বা ওটা কোথায়।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%