হেমেন্দ্রকুমার রায়

সাধনার ফলে ভারতের দস্যু রত্নাকর পরিচিত হয়েছিলেন বাল্মীকি মুনি নামে। এবং সাধনার ফলেই রুশিয়ার আলালের দুলাল টলস্টয় অর্জন করেছিলেন পরমদুর্লভ ঋষিত্ব। পৃথিবী আজ তাঁকে ঋষি টলস্টয় বলেই ডাকে।
টলস্টয়ের পুরো নাম হচ্ছে লিও নিকোলেভিচ টলস্টয়। তাঁর জন্ম ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ও মৃত্যু ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে। তিনি প্রাচীন অভিজাত বংশের সন্তান— তাঁর পূর্বপুরুষরা আভিজাত্য লাভ করেছিলেন পিটার দি গ্রেটের আমলে। তাঁদের উপাধি কাউন্ট।
রুশিয়ায় আর-একজন কাউন্ট টলস্টয়ের নাম শোনা যায়। তাঁর পুরো নাম কাউন্ট আলেক্সি কনস্টান্টিনোভিচ টলস্টয়। তিনি একজন উঁচু দরের কবি এবং আমাদের আলোচ্য টলস্টয়েরই সমসাময়িক ও দূর সম্পর্কের কুটুম্ব। কিন্তু রুশিয়ার বাইরে খুব কম লোকই তাঁর নাম জানে।
ধনী জমিদারের ঘরের ছেলে টলস্টয়, শৈশব ও যৌবন কাটে তাঁর মহাসমারোহে— আদর, যত্ন, বিলাসিতা ও ঐশ্বর্য, কিছুরই অভাব তাঁকে অনুভব করতে হয়নি। জীবনে তাঁর কোনও লক্ষ্য ছিল না— আমোদ-প্রমোদের তরঙ্গে গা ভাসান দিয়ে তিনি পরম নিশ্চিন্তভাবে কাটিয়ে দিতেন দিনের পর দিন, সেই উচ্ছ্বসিত আনন্দ-উৎসবের মধ্যে অভাগা কাঙালদের আর্তনাদ তাঁর কর্ণগোচর হত না। রুশিয়ার গত যুগের জমিদাররা গরিব প্রজাদের মানুষ বলে গণ্য করতেন না, তাঁদের অত্যাচারের মর্মন্তুদ কাহিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে— কোনও কোনও কাহিনি শুনলে হয়তো পাথরও ফেটে জল গড়াতে পারে! টলস্টয়ও ছিলেন এই শ্রেণির জমিদারদেরই একজন। অত্যাচারিত গরিবের কান্না তাঁর পক্ষে ছিল হাস্যকর।
দিকে দিকে ক্ষুধার্তের কর্ণভেদী হাহাকার, তারই মধ্যে চলেছে চূড়ান্ত সম্ভোগের শোভাযাত্রা— যুগে যুগে দেশে দেশে দেখা গিয়েছে এমনি বিসদৃশ দৃশ্য। এইসবের মাঝখানে বসেও পৃথিবীর অধিকাংশ বিলাসী মানুষেরই অসাড় মনে ভাবান্তর উপস্থিত হয় না। কিন্তু অসংখ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে মাঝে মাঝে হঠাৎ সজাগ হয়ে ওঠে এক-একজন মহামানবের আত্মা। ভস্মাবৃত অগ্নিকুণ্ড, আচমকা জাগে কী এক বাতাস, ছাই যায় কোথায় উড়ে, জ্বলে ওঠে আগুনের শিখা! তখন দেখতে পাই আমরা বুদ্ধদেবকে, খ্রিস্টদেবকে, চৈতন্যদেবকে।
বাংলা দেশের ধনীর ঘরের আদুরে ছেলেরা সারাজীবনই গোবরগণেশের মতো গদিয়ান হয়ে বসে থাকবার অবসর পান, কিন্তু কালাপানির ওপারে স্বতন্ত্র রীতি। টলস্টয়কেও বিলাসব্যসন ছেড়ে পরতে হল সৈনিকের পোশাক এবং নূতন মাটিতে পা দিয়ে পেলেন তিনি নূতন জীবনের আস্বাদ। সেখানে সৈন্যরা সাজে, দামামা বাজে, যুদ্ধোন্মাদ জাগে, খড়্গ করে খড়্গকে আলিঙ্গন এবং মানুষের রক্তে আরক্ত হয়ে ওঠে পৃথিবী। আগে থাকতেই টলস্টয় শখের খাতিরে অবসর কাটাতেন কিছু কিছু পদ্য বা গদ্য লিখে। এখন তিনি অসির সঙ্গে সঙ্গে হয়ে পড়লেন বিশেষভাবে মসিরও ভক্ত। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত চলেছিল বিখ্যাত ক্রিমিয়ার যুদ্ধ। সেই রণকোলাহলের মধ্যে সৈনিক-জীবন যাপন করতে করতে টলস্টয়ের দিব্যদৃষ্টি খুলে গেল, রচনা করলেন বিখ্যাত উপন্যাস 'কসাক' ও অন্যান্য যুদ্ধের গল্প। লাভ করলেন সাহিত্যজগতের অভিনন্দন।
তারপর তিনি অসি ছেড়েও আর মসি ছাড়তে পারলেন না। লক্ষ্যহীন আমোদ-প্রমোদ ভুলে খুঁজে পেলেন নিজের যথার্থ অভীষ্টকে। তা হচ্ছে সাহিত্যসাধনা— একনিষ্ঠ সাহিত্যসাধনা। এবং এই সাধনাই জাগ্রত করলে টলস্টয়ের ঘুমন্ত মনুষ্যত্ব। সাধনার প্রধান বিশেষত্ব হচ্ছে ধ্যান বা চিন্তাশীলতা। এরই গুণে সাধারণ মানুষ হয়ে ওঠে অসাধারণ, নীচ হয়ে ওঠে উচ্চ, অব্রাহ্মণ লাভ করে ব্রাহ্মণত্ব— সাক্ষী তার বিশ্বামিত্র। এবং ধ্যান বা মননশক্তির গুণেই সমগ্র বিশ্বে টলস্টয় আজ সত্যদ্রষ্টা ঋষি রূপে পূজনীয় হয়ে আছেন।
সাহিত্যের প্রত্যেক বিভাগে দেখা যায় টলস্টয়ের হস্তচিহ্ন। কবিতা, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সমালোচনা— সর্বত্রই তিনি সোনা ফলিয়ে গিয়েছেন। কেবল বয়স্কদের জন্যে নয়, বালক-বালিকাদের উপযোগী অনেক চমৎকার কাহিনিও তিনি রচনা করেছেন। তাঁর এক-একখানি উপন্যাস আকারে প্রকাণ্ড এবং তাদের মধ্যে নিরতিশয় স্মরণীয় হয়ে আছে 'ওয়ার অ্যান্ড পিস', 'আনা ক্যারেনিনা' ও 'রেজারেকশন' প্রভৃতি কথাগ্রন্থ। তাঁর কিছু কিছু রচনা বাংলাতেও ভাষান্তরিত হয়েছে।
বিবিধ রচনার মধ্যে অচ্ছেদ্য সূত্রে গাঁথা আছে ঋষি টলস্টয়ের মহান পরিচয়। যুদ্ধবিদ্যায় তিনি দক্ষ ছিলেন, সৈনিক-জীবনে নররক্তপাত করতেও বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু প্রথম জীবনে উৎকলের রণক্ষেত্রে নররক্তের বন্যা দেখে অনুতপ্ত ভারত সম্রাট অশোক যেমন চিরদিনের মতো অস্ত্রত্যাগ করে অহিংসা-মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে বিশ্ববরেণ্য হয়ে আছেন, টলস্টয়ের জীবনেও দেখা যায় তেমনি বিস্ময়কর প্রতিক্রিয়া।
তিনি নিজে যোদ্ধা, একাধিক যুদ্ধে দিয়েছেন কৃতিত্বের প্রমাণ। কিন্তু যারা যুদ্ধ বাধায় এবং যারা যুদ্ধ করে নিজে ভুক্তভোগী বলেই তিনি তাদের উপরে একেবারেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন এবং সর্বদাই তপ্ত ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়ে গিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে। ক্রুদ্ধ ও দীপ্ত চক্ষে এবং দৃপ্ত কণ্ঠে তিনি বলতেন, 'যুদ্ধ হচ্ছে আইনসংগত হত্যাকাণ্ড, কিন্তু সম্পূর্ণরূপে অবৈধ!'
বুদ্ধ, খ্রিস্ট ও চৈতন্যের মতো তিনিও নিজেকে শান্তির দূতরূপে পরিচিত করেছিলেন। এ শান্তি ব্যক্তিগত বা সম্প্রদায়গত শান্তির মতো সীমাবদ্ধ নয়, এ হচ্ছে অধিকতর ব্যাপক আন্তর্জাতিক শান্তি, যার লীলাক্ষেত্র সমগ্র পৃথিবী এবং একান্তভাবে যার সেবা করে অমর হয়ে আছেন ভারত সম্রাট অশোক। এমনকী, জীবহিংসা করতে হয় বলে টলস্টয় আমিষভোজন পর্যন্ত পরিত্যাগ করেছিলেন।
নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ বা passive resistance-এর কথা আজ সব দেশের সব লোকেই জানে। কিন্তু এই কথা তাঁর মুখেই সর্বপ্রথমে শোনা যায় এবং তার পদ্ধতিও আবিষ্কার করেন তিনিই। —'আমার মতে যা অন্যায় তাকে আমি কথায় বা কাজে কোনওমতেই স্বীকার করব না, তোমার মিষ্ট কথা বা অশিষ্ট ব্যবহারও আমাকে কর্তব্যপথ থেকে একতিলও বিচলিত করতে পারবে না। আমাকে প্রহার করো, যন্ত্রণা দাও, আমি নিশ্চেষ্টভাবে তা সহ্য করব।' এই যে অহিংস অসহযোগের ধারণা, এ হচ্ছে ঋষি টলস্টয়েরই অক্ষয় অবদান।
অহিংস অসহযোগের কথা নিয়ে আজ দেশ-বিদেশে শোনা যায় মহাত্মা গান্ধির নাম। কিন্তু তার সূত্রপাত কোথায়, অধিকাংশ লোকেই সে খবর রাখে না। বহুকাল আগে তিনি যখন এমন বিখ্যাত হননি, গান্ধিজি টলস্টয়কে একখানি চিঠি লিখেছিলেন অনুগত ভক্তের মতো। পত্রোত্তরে টলস্টয়ও ব্যক্ত করেছিলেন নিজের মতামত। তাঁর দেখাদেখিই গান্ধিজি নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ বা অহিংস অসহযোগ সম্বন্ধে একটা স্পষ্ট ধারণা করতে পেরেছিলেন। সুতরাং এক হিসাবে বলা যায়, আমাদের গান্ধিজি ছিলেন টলস্টয়েরই শিষ্য।
উচ্চ নেই, নীচ নেই— কী ধনী, কী নির্ধন, সমাজে সবাই সমান! এই মহাবাণীও নির্গত হয়েছে টলস্টয়েরই মুখ থেকে। রুশিয়ার স্বেচ্ছাচারী ও অত্যাচারী কুখ্যাত জমিদারবর্গ স্মরণাতীতকাল থেকে দরিদ্র প্রজাদের পদদলিত করে এসেছেন। স্বসম্প্রদায়ভুক্ত একজন উপাধিধারী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির মুখে এমন অভাবিত উক্তি শুনে দারুণ ক্রোধে ও বিস্ময়ে তাঁরা আত্মহারা হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তখনও তাঁরা নিয়তির লিখন পাঠ করতে পারেননি। ঋষিরা কেবল সত্যদ্রষ্টা নন, তাঁরা ভবিষ্যদবক্তাও। টলস্টয়ের উক্তি সফল হয়েছে— রুশিয়ায় আজ রাজা ও প্রজা বলে দুই শ্রেণি নেই, রাষ্ট্রের উপরে সকলেরই সমান অধিকার, গুণ থাকলে সেখানে হরিজনও হতে পারে মহাজন। কেবল তা-ই নয়, রুশিয়া আজ অগ্রনেতা রূপে পৃথিবীর সব দেশকে নিজের পথেই পরিচালনা করতে চায়।
টলস্টয় গৃহী ছিলেন, কিন্তু সংসার তাঁকে একটুও অভিভূত করতে পারেনি, তিনি জীবনযাপন করেছেন গৃহীতপস্বীর মতো। ঐশ্বর্য তাঁকে আকৃষ্ট করত না, টাকাকে তিনি যেন ভাবতেন হাতের ময়লার মতোই। কেবল রুশিয়ায় নয়, সমগ্র পৃথিবীর সর্বসাধারণের মধ্যে তাঁর চেয়ে প্রিয় গ্রন্থকার আর কেউ ছিলেন না; পৃথিবীর প্রায় সব ভাষাতেই তাঁর গ্রন্থ অনুবাদ করে নানা জাতীয় শত শত প্রকাশক বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। ইচ্ছা করলে তিনি তাঁদের কাছ থেকে অনায়াসেই নিজের প্রাপ্য লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করতে পারতেন, কিন্তু তা তিনি করেননি, বিশ্বের আবালবৃদ্ধবনিতাকে বিনা শর্তে দান করে গিয়েছেন নিজের বহুমূল্য গ্রন্থস্বত্ব। এদিক দিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থকারদের মধ্যে একমাত্র তিনিই হচ্ছেন অদ্বিতীয় গ্রন্থকার! এই একটিমাত্র দৃষ্টান্তের দ্বারাই টলস্টয়ের নির্লোভ মহত্ত্ব উপলব্ধি করা যায়। তিনি রচনা করেছেন সর্বসাধারণের জন্যে, তার উপরে নিজের কোনও দাবিই রাখেননি।
এক বৃহৎ ভোজসভা। আমন্ত্রিত হয়ে বৃদ্ধ টলস্টয়ও উপস্থিত। বড়োদের সঙ্গে সঙ্গে ছোটো ছোটো বালক-বালিকারাও সানন্দে ছুটে এসে চারিধার থেকে তাঁকে একেবারে ঘিরে ফেললে— তিনি ছিলেন ছোটো-বড়ো প্রত্যেকেরই বন্ধু।
পরিবেশক ভৃত্য নিয়ে এল মাংসের কাবাব।
ছোটো-বড়ো সকলেই একসঙ্গে কাকুতিভরা কণ্ঠে বলে উঠল, 'আপনি কি একটুখানি মাংস খাবেন না?'
নিরামিষাশী টলস্টয় সহাস্যে ও সকৌতুকে বললেন, 'কেন খাব না?'
কথিত আছে, শবর বা ব্যাধজাতীয় এক ব্যক্তির কাছে গিয়ে খাদ্য ভিক্ষা করেছিলেন পরিব্রাজক বুদ্ধদেব। ব্যাধ আর কী দিতে পারে! সে তাঁর হাতে অর্পণ করলে খানিকটা শূকর-মাংস। আমিষত্যাগী ও জীবহিংসার বিরোধী হয়েও বুদ্ধদেব ভক্তের প্রাণে ব্যথা দিতে পারলেন না, সাদরে গ্রহণ করলেন সেই নিষিদ্ধ মাংস। সেই তাঁর শেষ আহার। কারণ, আমিষ খাদ্যভক্ষণে অনভ্যস্ত বুদ্ধদেব তারপরেই পীড়িত হয়ে করলেন অন্তিম শয্যায় শয়ন।
টলস্টয়ও তাঁর ভক্তদের সনির্বন্ধ অনুরোধ অবহেলা করতে না পেরে খুব ছোটো একখণ্ড মাংস কেটে নিলেন, তারপর কষ্টেসৃষ্টে সেটুকু গলাধঃকরণ করে বলে উঠলেন, 'আমি পারি না! আমি মড়া খেতে পারি না! এ হচ্ছে বিষ! কখনো মাংস ছুঁয়ো না, তাহলেই বুঝতে পারবে, কাকে বলে সবল স্বাস্থ্য, স্বচ্ছ মস্তিষ্ক, পবিত্র জীবন!'
ক্রমে ক্রমে সভ্য মনুষ্যজীবনের যা কিছু বাহুল্য, টলস্টয় সে সমস্তই একে একে পরিহার করেছিলেন। তিনি চাষিদের মতো সাদাসিধা জীবনযাপন করতেন, পোশাকও পরতেন তাদের মতো এবং খোলা মাঠে গিয়ে নিজের হাতে লাঙল ধরে জমি চষতেও ছাড়তেন না। অথচ তিনি হচ্ছেন অভিজাতদের এক মুকুটমণি, সাহিত্যসম্রাট বিশ্ববিখ্যাত টলস্টয়! এ দেশের কোনও রাজা উপাধিধারী তুচ্ছ জমিদারও যদি এমন কাজ করতেন, সবাই ভাবত লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে! টলস্টয়কেও তাঁর দেশের লোকেরা যে খুশি মনে গ্রহণ করতে পারেনি, সে কথা বলাই বাহুল্য! আত্মীয়স্বজনরাও তাঁর উপরে খাপ্পা হয়ে উঠেছিলেন, এমনকী তাঁর সহধর্মিণীও যখন-তখন হুলস্থুল না বাধিয়ে ছাড়তেন না।
এত খিটিমিটি ও অশান্তি টলস্টয়ের ভালো লাগত না। বরাবরই মনে মনে স্বপ্ন দেখে এসেছেন, সমাজ-সংসার ও লোকালয়ের কোলাহল ও হানাহানি ছেড়ে তিনি যেন শান্ত প্রকৃতির কোলে কৃষাণদের মধ্যে গিয়ে পরম নিশ্চিন্ত প্রাণে অজ্ঞাতবাস করছেন!
অবশেষে একদিন নিজের জীবন-স্বপ্ন সফল করবার জন্যে টলস্টয় পারিবারিক সমস্ত সুখস্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে ও মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে পদব্রজে বেরিয়ে পড়লেন এবং তা-ই হল তাঁর মহাপ্রস্থান! তাঁর প্রাচীন দেহ পথকষ্ট সহ্য করতে পারলে না, পথিমধ্যেই তিনি ত্যাগ করলেন অন্তিম নিশ্বাস। তাঁর বয়স তখন বিরাশি বৎসর।
প্রাচীনকাল গর্ব করে ঋষি বাল্মীকি ও ব্যাসদেবকে নিয়ে। আধুনিককালের একমাত্র গর্বের নিধি হচ্ছেন ঋষি টলস্টয়। পাশ্চাত্য দেশে তাঁর সঙ্গে তুলনীয় দ্বিতীয় কোনও সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেননি।
শুকতারা নভেম্বর ১৯৫৪
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন