পার্থ প্রতিম পাঁজা
চরিত্র: পিন্টু, নানু, মা, কবিতা।
[মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি ঘর। সকালবেলা পিন্টু ও নানু বসে পড়ছে।]
পিন্টু : ‘আপনারে লয়ে বিব্রত থাকিতে
আসি নাহি কেহ অবনী’ পরে।
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
[এক-একটা ছত্র দু-তিনবার করে পড়বে।]
নানু : ‘গোরু একটি চতুষ্পদ জন্তু। মানুষের বড়ো উপকারে আসে। গোরুর দুধ খাইয়া শিশুরা বাঁচে। দুধ হইতে দধি, ছানা, ঘৃত, মাখন ইত্যাদি প্রস্তুত হয়।’
[প্রতিছত্র একাধিকবার পড়বে।]
পিন্টু : তুই আমার খাতা নিয়েছিস কেন, নানু?
নানু : তোর খাতা? বাবা আমাকে এনে দিয়েছেন।
পিন্টু : তোকে এনে দিয়েছেন? তোর তো কতগুলো খাতা আছে। আমি বাবাকে বলেছিলাম, তাই তো বাবা কিনে এনেছেন। দে, আমার খাতা আমাকে দে।
নানু : ইশ! তোর খাতা না আরও কিছু! আমার বলে অঙ্কের খাতা নেই।
পিন্টু : খাতা না দিলে আমি ছিঁড়ে ফেলব কিন্তু।
নানু : আমার খাতা আমি তোকে দোব কেন?
পিন্টু : দিবি না?
নানু : না।
পিন্টু : দিবি কি না বল?
নানু : না।
পিন্টু : তবে রে! দাঁড়া, দেখাচ্ছি...দে।
[দু-ভাই খাতা নিয়ে টানাটানি করে।]
নানু : না (চেঁচিয়ে) মা, দ্যাখো, দাদা কেমন কচ্ছে!
মা : (নেপথ্যে) পিন্টু! কী হচ্ছে?
পিন্টু : আমার খাতা দিচ্ছে না, মা!
নানু : দাদার খাতা নয়, মা। আমার খাতা নিয়ে টানাটানি কচ্ছে।
মা : ঝগড়া করবি তো কেউ খাতা পাবি না। পড়তে বসে খালি ঝগড়া!
পিন্টু : আমার খাতা ও নেবে কেন?
মা : (নেপথ্যে) ফের কথা! মন দিয়ে পড়।
পিন্টু : (নানুকে) আসুক না বাবা বাজার থেকে। সব বলে দোব।
নানু : (মুখ ভেঙচিয়ে) ইঁ—ইঁ—ইঁ!
পিন্টু : নানু আমাকে ভেঙাচ্ছে, মা!
মা : (নেপথ্যে) আমি এলে কিন্তু ভ্যাঙানি বার করে দোব।
নানু : না মা, আমি ভ্যাঙাইনি। দাদা আমাকে চিমটি কাটছে।
পিন্টু : হুঁ, আমি চিমটি কেটেছি তোকে? মিথ্যুক কোথাকার!
নানু : না, কাটিসনি। নখটা কীরকম বসে গেছে।
পিন্টু : বেশ করেছি। আরও করব।
নানু : (নাকি কান্না) মা, দ্যাখো এসে...দাদা কেমন কচ্ছে!
মা : (নেপথ্যে) পিন্টু, আর যদি একটা কথা শুনেছি তো...। যে-যার পড়া পড়।
পিন্টু, নানু : (একসঙ্গে) আপনারে লয়ে বিব্রত থাকিতে...গোরু একটি চতুষ্পদ জন্তু...
[বার বার একই ছত্র পড়তে থাকে]
মা : (নেপথ্যে) পিন্টু-নানু, খাবার খেয়ে যা।
[নানু উঠে চলে যায়। পিন্টু বসে থাকে।]
পিন্টু, কানে গেল না?
পিন্টু : আমি খাব না।
মা : (নেপথ্যে) না খাস না খাবি। সাধাসাধির সময় নেই আমার। আরও কাজ আছে।
[পাশের বাড়ির জানলায় একটি ছোটোমেয়ের মুখ দেখা যায়।]
পিন্টু : (চাপা স্বরে) কবিতা, আমাদের বাড়ি আয়।
কবিতা : (তেমনি চাপা স্বরে) নারে পিন্টু, তোদের বাড়ি যাব না। তোদের সঙ্গে আমাদের আড়ি।
পিন্টু : কেন?
কবিতা : তোর মা আমার মা-র সঙ্গে কথা বলে না।
পিন্টু : কেন বলবে? তোর মা তার কলে আমার মাকে সেলাই করতে দেয়নি কেন?
কবিতা : কী করে দেবে? কল যে ভেঙে গেছে। মেরামত করতে পারেনি।
পিন্টু : মিথ্যে কথা।
কবিতা : নারে। সত্যি তাই।
পিন্টু : তোর বাবা কোথায়?
কবিতা : শুয়ে আছে।
পিন্টু : অফিসে যাবে না?
কবিতা : কী করে যাবে? বাবার যে ক-দিন থেকে জ্বর।
পিন্টু : তোদের গয়লা আজ অত চেঁচামেচি কচ্ছিল কেন রে?
কবিতা : টাকার জন্য।
পিন্টু : টাকা দেয়নি?
কবিতা : না। গয়লা দুধ বন্ধ করে দিয়েছে।
[নানুর প্রবেশ]
নানু : মা, দ্যাখো এসে, দাদা ও-বাড়ির কবিতার সঙ্গে কথা বলছে।
পিন্টু : (চাপা স্বরে) তাতে তোর কী? খালি নালিশ। বলবই তো। এক-শোবার বলব, হাজারবার বলব...
নানু : মা, দ্যাখো দাদা তোমার কথা শোনে না।
পিন্টু : নানু, ভালো হবে না বলছি। মায়ের কাছে লাগাবি তো তোর পিঠের হাড় আমি গুঁড়িয়ে দোব।
নানু : ও মা! দ্যাখো দাদা কেমন কচ্ছে!
পিন্টু : (ভেঙিয়ে) ম্যাঁ...দাদা কেমন কচ্ছে....
[পিন্টু নানুর পিঠে দড়াম করে এক কিল মারে। নানু ‘উঁ উঁ’ করে কাঁদতে থাকে।]
মা : (নেপথ্যে) দাঁড়া, দেখাচ্ছি তোদের। খালি ঝগড়া আর মারামারি।
[প্রবেশ]
কী হয়েছে?
নানু : দাদা ও-বাড়ির কবিতার সঙ্গে জানলা দিয়ে কথা বলছিল, মা!
মা : কী দরকার ও বাড়ির কারো সঙ্গে কথা বলার? বারণ করেছি না?
পিন্টু : কবিতার বাবার জ্বর, মা!
মা : পাড়ায় কার জ্বর, কার অতিসার, তা দিয়ে তোর দরকার কী? নিজের পড়া ফেলে রেখে খালি বকামি!
পিন্টু : ওদের গয়লা দুধ বন্ধ করেছে, মা।
মা : করেছে তো করেছে। তাতে তোর গলা শুকোচ্ছে কেন? নিজের পড়া ছেড়ে খালি চারদিকে মন। পড়।
[জানলাটা বন্ধ করে দেয়। ছিটকিনির আওয়াজ হয়।]
পিন্টু : জানলাটা বন্ধ করলে কেন মা? আমি আর কারো সঙ্গে কথা বলব না।
মা : না, বন্ধই থাকবে।...নানু, তুই পাশের ঘরে গিয়ে পড়। একসঙ্গে থাকলেই তো ঝগড়া।
পিন্টু : যাও, একাচোরা কোথাকার!
নানু : মা, দ্যাখো দাদা কী বলছে।
মা : বলুক। গায়ে ফোসকা পড়বে না। চল।
[ মা ও নানুর প্রস্থান। পিন্টু পড়তে থাকে।]
পিন্টু : সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
[পাশের বাড়ি থেকে]
কবিতা : পিন্টু!
[পিন্টু আরও জোরে জোরে পড়ে।]
পিন্টু : সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
কবিতা : (কন্ঠস্বর চড়িয়ে) পি—ন—টু!
পিন্টু : (চেঁচিয়ে) আমি কথা বলব—অ—না—আ।
কবিতা : এই যে বললি—ই!
পিন্টু : না, বলিনি—ই!
কবিতা : জানলা বন্ধ করেছিস কে—ন—অ?
পিন্টু : আমি করিনি। মা করে—ছে—এ।
কবিতা : খুলে দে—এ।
পিন্টু : খুলতে বারণ আ—ছে—এ।
কবিতা : না খুললে আমি আর কক্ষনো কথা বল-ব—অ—না।
পিন্টু : রাখ, খুলে দি—চ্ছি—ই।
[পিন্টু জানলা খুলে দেয়। খোলার শব্দ হয়।]
কবিতা : (চাপা গলায়) পিন্টু, আমাদের বাড়ি আয়।
পিন্টু : তুই না এলে আমি যাব না।
কবিতা : আমি কী করে আসি? বাবার যে অসুখ।
পিন্টু : আমি কী করে যাই? মা-র যে নিষেধ।
কবিতা : মাকে না বলে চলে আয়-না।
পিন্টু : নারে। মা মারবে।
কবিতা : তোর জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে ভাই।
পিন্টু : তোর জন্য আমার একটুও কষ্ট হচ্ছে না।
কবিতা : মিথ্যেকথা বলছিস তুই।
পিন্টু : তুইও তো মিথ্যেকথা বলছিস। কষ্ট হলে আসিস না কেন?
কবিতা : আজ বিকেলে মাঠে যাবি?
পিন্টু : তুই যাবি?
কবিতা : যাব।
পিন্টু : তবে আমিও যাব।
কবিতা : আমার সঙ্গে খেলবি তো?
পিন্টু : কথা শুনলে খেলব।
কবিতা : সেদিনকার মতো পেছন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিবি না তো?
পিন্টু : নারে, না।
[দরজার কাছে নানু আসে]
নানু : (নালিশের সুরে) ও মা, দ্যাখো এসে দাদা আবার জানলা খুলেছে।
ও-বাড়ির কবিতার সঙ্গে কথা বলছে।
পিন্টু : (ধমক দিয়ে) তোর কী তাতে? এখানে এসেছিস কেন? তোর ঘরে গিয়ে তুই পড়।
নানু : মা কলতলায় গিয়েছে আর অমনি পড়া রেখে দিয়ে তুই কথা বলছিস! দাঁড়া, আমি মাকে বলে দিচ্ছি।
পিন্টু : যা-না। কোটনা কোথাকার।
নানু : (নাকিসুরে) ও মা, দাদা আমাকে গাল পাড়ছে।
[নানুর প্রস্থান। পিন্টু জানলার ধারে যায়।]
পিন্টু : কবিতা! কবিতা!! (সাড়া না পেয়ে) এই ক-বি-তা!
কবিতা : কেন ডাকছিস?
পিন্টু : চলে গিয়েছিলি কেন?
কবিতা : মাসিমা যে তোকে বকবে।
পিন্টু : মা এখন কলতলায়। আসতে দেরি আছে। তুই আয়।
কবিতা : আচ্ছা যাচ্ছি।
[পিন্টু আবার পড়তে আরম্ভ করে।]
পিন্টু : আপনারে লয়ে বিব্রত থাকিতে...
আপনারে লয়ে বিব্রত থাকিতে...
[কবিতার প্রবেশ]
কবিতা : পিন্টু!
পিন্টু : ও! এসেছিস? তোর বাবার ক-দিন ধরে জ্বর রে কবিতা?
কবিতা : আজ পাঁচ দিন।
পিন্টু : জ্বর হল কেন রে?
কবিতা : কী করে বলব? বাবার তো প্রায়ই জ্বর হয়। ডাক্তার বলেছে ভালো ভালো খেতে।
পিন্টু : জ্বর হলে তোর বাবা কী খায়?
কবিতা : দুধ—সাগু।
পিন্টু : আজও তাই খাবে?
কবিতা : দুধ কোথায় পাবে? গয়লা তো দুধ দেয়নি।
পিন্টু : আমি দুধ দিলে খাবে?
কবিতা : তুই কোথায় দুধ পাবি?
পিন্টু : যেখানেই পাই না। খাবে কি না বল?
কবিতা : মা যদি বকে?
পিন্টু : কেন বকবে?
কবিতা : তোদের সঙ্গে যে আমাদের ভাব নেই।
পিন্টু : (অভিমানে) তবে চলে যা।
কবিতা : রাগ করলি ভাই?
পিন্টু : না। তুই আমার সঙ্গে আর কক্ষনো কথা বলিস না।
কবিতা : রাগ করিস না ভাই। সত্যি তুই দুধ দিবি?
পিন্টু : নিবি?
কবিতা : হ্যাঁ নোব। কেউ দেখতে পাবে না তো?
পিন্টু : না, কেউ দেখতে পাবে না। ওই চেয়ারটা এদিকে নিয়ে আয় তো।
[কবিতা একটা চেয়ার টেনে আনে। মেঝেতে শব্দ হয়]
পিন্টু : আস্তে। শব্দ হয় না যেন। টুলটা নিয়ে আয়।
[একটা কাঠের টুল নিয়ে আসে কবিতা। চেয়ারে লেগে ঠুক করে আওয়াজ হয়]
আবার শব্দ কচ্ছে বোকা মেয়ে কোথাকার!
[পিন্টু চেয়ারের ওপর টুলটা বসায়]
কবিতা : কী করবি?
পিন্টু : দেখে-ই না কী করি? শক্ত করে টুলটা ধরিস। নড়ে না যেন।
কবিতা : আচ্ছা।
পিন্টু : তাক থেকে দুধের টিনটা নামাতে হবে। গুঁড়োদুধ, কিন্তু খেতে খুব ভালো।...ধরেছিস?
কবিতা : ধরেছি।
পিন্টু : সাবধান। ছাড়িসনি কিন্তু। পড়ে যাব। এই... এই কবিতা। ছাতাটা দে তো।
কবিতা : ছাড়ব কী করে? পড়ে যাবি যে!
পিন্টু : আচ্ছা, আমি দেয়ালটা ধরে থাকি। তুই তাড়াতাড়ি ছাতাটা নিয়ে আয়।
[কবিতা আংটায় ঝোলানো ছাতাটা পেড়ে নিয়ে আসে]
কবিতা : এই নে।
পিন্টু : (ছাতা হাতে নিয়ে) ধরিস কিন্তু। ঠিক আছে?
কবিতা : ঠিক আছে।
[ছাতার বাঁট দিয়ে দুধের টিনটাকে টানতে থাকে। হঠাৎ অসাবধানে টিনটা মেঝেতে পড়ে যায়। শব্দ শুনে নানু ছুটে আসে। কবিতা পালিয়ে যায়। পিন্টু টুলের ওপর দাঁড়িয়ে কাঁপতে থাকে।]
মা : (নেপথ্যে) কী হল, কী হল রে, পিন্টু? কী ফেললি?
নানু : (নেপথ্যে) দুধ চুরি করে খাচ্ছে!
মা : রোসো, দেখাচ্ছি। (প্রবেশ) খেতে ডাকলাম, তখন কানে গেল না? এখন চুরি করে দুধ খাওয়া। দাঁড়া এই ছাতার বাঁট তোর পিঠে ভাঙব।
পিন্টু : পড়ে যাব, মা।
মা : নেমে আয়।
পিন্টু : তুমি মারবে যে!
মা : না, মারব কেন? ধানদুব্বো দোব! এতবাড় হয়েছে তোর! চুরি করে খাওয়া!
পিন্টু : আমাদের জন্য নয়, মা!
মা : তবে কার জন্য? কী চুপ করে আছিস যে?
নানু : ওদের বাড়ির কবিতাও ছিল, মা! তোমার গলার আওয়াজ পেয়ে পালিয়েছে।
মা : কী, তাই?
পিন্টু : কবিতার বাবার পাঁচ দিন ধরে জ্বর, মা! কাল থেকে গয়লা ওদের দুধ দেওয়া বন্ধ করেছে।
মা : তা তোর কাছে চেয়েছে নাকি ওরা?
পিন্টু : না, চায়নি। আমিই কবিতাকে ডেকে এনেছিলাম।
মা : ও! তা দিতে হয় আমাকে বলে দিলেই হত। আমি কি না করতাম নাকি?
পিন্টু : তুমি যে ওদের সঙ্গে কথা বলো না।
মা : তা বলি আর না-ই বলি—তা বলে বিপদে-আপদে মানুষকে মানুষ না দেখে পারে?...তা নয়। তোমার সর্দারিই বেশি।...কী করেছিস দেখ তো। সারাটা ঘরে দুধ ছড়িয়েছিস। আমার খালি কাজ বাড়ানো। দাঁড়িয়ে রইলি কেন? নেমে আয়।
পিন্টু : মারবে না, বলো।
মা : ওঃ! মারের কত ভয় তোমার আছে।...কীসে করেই বা দিই? নানু, খবরের কাগজটা দে তো।
নানু : আমি পারব না।
মা : না, তা পারবে কেন? পারো কেবল খেতে।
[পিনটু নেমে আসে। মা খবরের কাগজে করে খানিকটা দুধের গুঁড়ো তার হাতে দেয়।]
নে, দিয়ে আয় গিয়ে।
পিন্টু : (খুশি হয়ে) অনেকটা দিয়েছ যে মা!
মা : তা ভদ্রলোক জ্বরে পড়ে আছেন। সেরে উঠলে তো জোগাড় করবেন। দু-চার দিন চলে যায় এমন আন্দাজেই দিলাম।... যা দিয়ে আয়। আর মাসিমাকে বলিস, যখন যা দরকার পড়ে, আমার কাছে যেন চায়। বিপদের সময়ও লোক মান-অভিমান ছাড়তে পারে না। আশ্চর্য!
পিন্টু : (সোল্লাসে) কবিতা! কবিতা! কবিতা !!!
কবিতা : (নেপথ্যে) টুঁ—উঁ!
[পিন্টু মহোল্লাসে বেরিয়ে যায়। মা হাসিমুখে মেঝের দুধ টিনের কৌটোয় তুলতে থাকে।]
নানু : মা, আমি একটু গুঁড়োদুধ খাব।
মা : (খানিকটা দুধ হাতে নিয়ে) এই নে, খা। তোর তো কিছুতেই পেট ভরে না, রাক্ষস। দিনরাত ‘হাঁ’ করেই আছিস।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন