পার্থ প্রতিম পাঁজা
চরিত্র : বাঘ, বাঘের ছানা, হরিণ, হাতি, মানুষ, গোরু, মুরগি, ব্যাং, ভূত, পেতনি, সিংহ, শেয়াল, কাক ও সূত্রধর।
সমবেত সংগীত :
বোকা বাঘের ছানা
বোকা বাঘের ছানা
সব কিছুতেই গোলমাল তার
এটা ওটা কোরো না কোরো না।
যা করে তাতেই মানা
নাকাল হয়ে ফেরে সে
মুখ করে প্যাঁচা পানা।।
বোকা বাঘের ছানা
বোকা বাঘের ছানা।।
সূত্রধরের সংগীত :
এক যে ছিল বাঘ
তার গায়ে ডোরাকাটা দাগ,
তার ছিল এক ছানা,
নামটি যে তার ঘেনা,
বনের মাঝে থাকত তারা
ছিল না যন্ত্রণা।।
সমবেত :
হালুম হালুম হালুম হালুম
হালুম হালুম হালুম হালুম।।
সূত্রধর :
একদিন মা-বাঘ
বলল—বাছা শোন
আমার ছায়ায় থাকবি যদি
বড় হবি কখন?
জঙ্গলে জঙ্গলে যা
শিকার ধরে খা,
বাঘের বাচ্চার সুনামটার
প্রমাণ দিয়ে যা।।
সমবেত :
হালুম হালুম হালুম হালুম
হালুম হালুম হালুম হালুম।।
১ম দৃশ্য
[বনের দৃশ্য। মা-বাঘ ও ছেলে-বাঘ]
মা-বাঘ : হালুম। ঘেনা, ওরে ও ঘেনা, কোথায় গেলি বাছা?
ছেলে-বাঘ : হালুম, হালুম, হালুম। এই তো আমি এখানে।
মা-বাঘ : কোথায় থাকিস সারাদিন? দেখা মেলে না, শুধু টো টো করে ঘোরা।
ঘেনা : না, মা, আমি বাদার পাশে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থেকে মৌলিদের গান শুনছিলাম।
মা-বাঘ : গান। সর্বনাশ! বাঘের বাচ্চা মানুষের গান শোনে। কী লজ্জা। কী লজ্জা! এরপর আমি সমাজে মুখ দেখাব কেমন করে? ছি ছি ছি!
ঘেনা : কেন? তাতে কী হয়েছে? গান শোনা কি খারাপ?
মা-বাঘ : তুই আমাদের বাঘা ওস্তাদের হালুম সংগীত শুনতে পারতিস, পন্ডিত শেয়ালের সাধা হুক্কা সংগীত শুনতে পারতিস, নিদেনপক্ষে গাধার গান, তা না শুনে তুই পাজি মানুষের গান শুনতে গেছিস! তুই আমাদের বাঘ—কুলের কলঙ্ক।
ঘেনা : যা: বাবা, গান শুনলে দোষ!
মা-বাঘ : এই জন্যেই তো তোকে সবাই হাঁদা গঙ্গারাম বলে, এই সহজ কথাটা বুঝিস না।
ঘেনা : হালুম, ধুর।
মা-বাঘ : শোন, আজ থেকে আমার শিকার করে আনা খাবার খাওয়া বন্ধ। এখন থেকে নিজে শিকার ধরবি আর খাবি, গায়ে ফুঁ দিয়ে ঘুরে বেড়ানো আর চলবে না।
ঘেনা : হালু.......উ......উ.......ম, কী আপদ!
২য় দৃশ্য
[দৃশ্যান্তর। ঘন বন, একটু ভয় ভয় গা ছমছম আবহসংগীত। বাঘের ছানা ঘেনা শিকারে বেরিয়েছে]
ঘেনা : ওরে বাবারে! শিকার করব আবার কি, ভয়েই তো হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। (দূর থেকে হাতির আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়, শুনেই ঘাবড়ে যায় ঘেনা) ওরে ব্বাস! এটা কীসের আওয়াজ? কাজ নেই বাবা, আমি ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ি।
[আওয়াজ করতে করতে হাতির প্রবেশ]
হাতি : মাথা গরম হয়ে গেছে আমার, আমি পাগল হয়ে যাব, আমার প্রিয় খাদ্য কলাগাছ না পেলে আমি সব লন্ডভন্ড করে দেব। কাউকেই ছাড়ব না। অ্যাই, ঝোপের আড়ালে কে রে? বেরিয়ে আয়, আয় বলছি, না হলে তোকে ঝোপ সমেত পিষে মারব।
ঘেনা : হাতি মশাই, হাতি মশাই, দোহাই আমাকে মারবেন না। আমি ঘেনা, বাঘের ছানা। হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ...
হাতি : এ কী! তুই সত্যি তো দেখছি বাঘেরই ছানা। ছি, ছি, ছি। বাঘের ছানা হয়ে তুই ইঁদুরের মতো ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলি?
ঘেনা : না, মানে আমি তো শিকার...
হাতি : চোপরাও! মুখে মুখে মিথ্যে কথা। দাঁড়া, আমি সব্বাইকে বলে দেব। ভিতু, বোকা বাঘের বাচ্চা।
ঘেনা : আপনার থামের মতো মোটা মোটা পায়ে ধরছি, একথা কাউকে দয়া করে বলবেন না। আমাকে এবারের মতো মাফ করে দিন।
হাতি : এ কী! পায়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছিস কেন? ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমার আবার দয়ার শরীর। তোকে মাফ করে দিলুম। কিন্তু একটা শর্ত আছে।
ঘেনা : শর্ত! কী আবার শর্ত?
হাতি : আমার মাথাটা একেবারে গরম হয়ে আছে, নেচে-গেয়ে আগে আমার মাথাটা ঠাণ্ডা কর। না হলে পায়ের তলায় তোকে পিষেই ফেলব।
ঘেনা : কিন্তু, আমি তো নাচ, গান জানি না।
হাতি : তবে রে!
ঘেনা : শুরু করছি তো।
[ঘেনা নাচ-গান শুরু করে। হাতি তার সঙ্গে মাথা নেড়ে নেড়ে নাচতে থাকে]
মোরা জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই
কাঠ মধু পশুপাখি যা কিছু পাই
তাই বেচে দিন চলে যায়।
হো হো হো, হো হো হো
হো হো হো, হো হো হো।।
হাতি : বা:, বা:, বা:, বা:! বেড়ে গেয়েছিস তো।
ঘেনা : আপনার ভালো লেগেছে?
হাতি : তা আর বলতে! এই গান তুই কোথায় শিখলি বলত?
ঘেনা : বাদার পাশে মৌলিদের গান শুনে শুনে শিখে নিয়েছি।
হাতি : ছি ছি ছি ছি! মানুষের কাছ থেকে শিখেছিস? ওরা আমাদের খাঁচায় ধরে রাখে। জোর করে ধরে রাখে। জোর করে সার্কাসের খেলা দেখাতে বাধ্য করে। না হলে কত মারে। বনের ভেতরেও আক্রমণ করে। ওদের গান তুই গাইছিস! যা ভাগ এখান থেকে। না হলে....
ঘেনা : আর হবে না, অন্যায় হয়ে গেছে, আমাকে ক্ষমা করে দিন।
হাতি : যা, মানে মানে কেটে পড়।
৩য় দৃশ্য
[দৃশ্যান্তর। আবহসংগীত]
ঘেনা : বাব্বা খুব বেঁচে গেছি। হাতির পায়ের তলায় পড়লে তো দুম ফটাস হয়ে যেতুম। যাকগে, মা বলেছে শিকার ধরতে, তবেই আজ আমি খেতে পাব। না হলে হরি মটর! এখন শিকার ধরতেই হবে, যে ভাবেই হোক।
[মঞ্চের উলটোদিক থেকে একটি হরিণ ছানা প্রবেশ করে]
হরিণ : আমি ঘাস খাই, আনন্দে লাফাই
তিড়িক তিড়িক, তিড়িক তিড়িক।
ঘেনা : কে রে? হরিণ নাকি?
হরিণ : এই, আমাকে ভয় দেখাবে না, আমি এখন খাচ্ছি, একটু ব্যস্ত আছি।
ঘেনা : আমি তোকে খাব। ভয় পাস না আমায় মোটে!
হরিণ : আগে তো আমায় ধরো, তবে তো খাবে। আমায় ধরতেই পারবে না।
ঘেনা : তবে রে, হালুম...
হরিণ : আমাকে ধরতে পারে না।
ঘেনা : হালুম, এই ধরে ফেললুম।
হরিণ : আমায় ধরতে পারে না।
ঘেনা : হালুম, হালুম, হালুম।
হরিণ : আমায় ধরতে পারে না
ঘেনা : হা লু ম (হাঁপাতে থাকে - জিভ বার করে)
হরিণ : হেরো, হেরো, হেরো।
[হরিণ তিড়িং তিড়িং করে নাচতে নাচতে চলে যায়]
ঘেনা : না:, কিছু একটা করতেই হবে। বনের পশুরা খুব চালাক। এখানে সুবিধা করা যাবে না। আমি বরং একটু লোকালয়ের দিকে যাই।
[ঘেনার প্রস্থান]
৪র্থ দৃশ্য
[বনসংলগ্ন রাস্তা দিয়ে হেঁটে ফিরছিলেন একজন শিক্ষক। ঘেনা লুকিয়ে তার কাছেই গেল]
শিক্ষক : শ্যামাসংগীত—
দেখা যদি না দিবি মা
তবে কেন মন মজালি।।
আমি ঘর সংসার ছাড়িলাম মা
তোরে তো পেলাম না কালী।।
তবে কেন মন মজালি।।
ঘেনা : হালু....ম।
শিক্ষক : ওরে বাবা, গেলুম।
ঘেনা : এই যে লোকটা, আমি তোমায় খাব।
শিক্ষক : কেন বাঘ বাবাজি, আমাকে খাবে কেন?
ঘেনা : আমাকে মা শিকার করে খেতে বলেছে। তোমাকে না খেলে আজ আমার উপোস, বুঝলে...
শিক্ষক : কিন্তু, আমি হলাম শিক্ষক। আমি ছোটো ছোটো বাচ্চাদের শিক্ষা দিই। আমি মরে গেলে ওরা আর শিক্ষা পাবে না। মানুষও হতে পারবে না।
ঘেনা : তবে তো বিপদ হল। তোমাকে তো সত্যি খাওয়া যায় না। কিন্তু আমি কী করি? আমাকে তো শিকার ধরে খেতেই হবে।
শিক্ষক : আমি বলি কি, তুমি মাঠের দিকে যাও। ওখানে গোরুটোরু পাবে। সহজেই শিকার করতে পারবে।
ঘেনা : তবে তাই যাওয়া যাক।
[ঘেনার প্রস্থান]
শিক্ষক : দুর্গা শ্রীহরি, দুর্গা শ্রীহরি! খুব বাঁচান বেঁচে গেছি। বাপরে! আর এদিকের রাস্তা দিয়ে নয়। যঃ পলায়তি সঃ জীবতি। আপনি বাঁচলে বাপের নাম। দুর্গা শ্রীহরি, দুর্গা শ্রীহরি।
৫ম দৃশ্য
[মাঠের দৃশ্য। একটা গাই গোরুকে একলা পেয়ে ঘেনা তার ওপর চড়াও হল]
ঘেনা : হালুম।
গোরু : হাম্বা...আ...আ। আমায় ছেড়ে দাও বাবা।
ঘেনা : সেটি হবে না। আমি বাঘের বাচ্চা। আমাকে তো শিকার ধরেই খেতে হবে।
গোরু : দোহাই বাবা। আমায় ছেড়ে দাও।
ঘেনা : সম্ভব নয়, আমার মায়ের আদেশ।
গোরু : দেখো, আমিও তো মা। আমি দুধ দিলে তবে আমার বাছা খেয়ে বাঁচে। আমি মরলে সেও বাঁচবে না। শুধু কী তাই, আমার দুধ, দুধ থেকে ছানা, মিষ্টি, দই ইত্যাদি খেয়ে মানুষ বেঁচে থাকে, মিঠে সুরে গান গায়। জগতের কত উপকারে লাগি আমি। আমাকে তুমি ছেড়ে দাও।
ঘেনা : তা, অবশ্য ঠিক। তোমাকে মারা ঠিক উচিত হবে না। ঠিক আছে তুমি যাও, এখান থেকে পালাও।
গোরু : হাম্বা ..... আ ..... আ। [গোরু পালিয়ে যায়]
[একটি মুরগি প্রবেশ করে]
মুরগি : কোঁকর কোঁক, কোঁকর কোঁক
শালিখ, টিয়া, সাদা বক,
সবার সেরা মুরগি আমি
আর কে আছে আহাম্মক।
কোঁকর কোঁক, কোঁকর কোঁক।।
ঘেনা : এই তো সুযোগ, হালুম ....
মুরগি : কোঁকর ..... কোঁ ..... ও .... ও ......ক। ওরে ..... বাবা .... রে .... এ .... এ ... এ।
ঘেনা : অনেক কষ্টে তোকে পেয়েছি, আর ছাড়ান নেই।
মুরগি : আমায় ছেড়ে দাও বাঘ দাদা।
ঘেনা : কেন?
মুরগি : আমি সারাবছর কত ডিম দিই। সকলে তা থেকে সেদ্ধ, পোচ, ওমলেট, টোস্ট, ডেভিল চপ, কেক কত কী বানিয়ে খায়। ডিম থেকেই আমার কত ছানা হয়। তাতে কিছু হয় মোরগ, কিছু হয় মুরগি। আমরা না ডাকলে সকলের ঘুমই ভাঙবে না।
ঘেনা : কিন্তু তুই মাংসের কথা বলছিস না যে বড়ো।
মুরগি : ডিম দেওয়া মুরগিকে মেরে কেউ মাংস খায় নাকি! এ তো নিজের পায়েই কুড়ুল মারা। পৃথিবীর এত ক্ষতি তুমি করো না বাঘ দাদা।
ঘেনা : তুই তো বড়ো মুশকিলে ফেললি। সত্যি, তোর ঘাড় মটকানো উচিত হবে না।
মুরগি : তাহলে, আমি যাই?
ঘেনা : আমার ভাগ্যটাই আজ খারাপ। যা:! মানে মানে কেটে পড়।
[মুরগি দৌড়ে পালায়।]
এবার আমি কী করি? আচ্ছা, পুকুরপাড়ের দিকে যাইতো।
ব্যাং : আজ কী আনন্দ নাচছি আমি
তাক ধিনা ধিন ছড়িয়ে ঠ্যাং,
গাইছি গান কি আহ্লাদে
গ্যাঁগর গ্যাঁ, গ্যাঁগর গ্যাঁ,
ঘেনা : এই ব্যাটা ব্যাং, তোকে আমি ছাড়ব না, গপ করে গিলে ফেলব।
ব্যাং : সেকী! বাঘ হয়ে তুমি ব্যাং খাবে?
ঘেনা : গুঁতোয় পড়লে বিড়ালে যদি ঘাস খায়, তাহলে আমিও বা ব্যাং খাব না কেন?
ব্যাং : কিন্তু দেখো আমি না হলে তো কেউ গ্যাঁঙর গ্যাঁঙ করে বৃষ্টিকে ডাকতে পারবে না। আর বৃষ্টি না হলে চাষবাস হবে কী করে? তুমিই বা বনের মাঝের পুকুরের মিঠে জল খেয়ে বাঁচবে কী করে।
ঘেনা : তাও তো ঠিক, জল না হলে তো বাঁচা যাবে না, কিন্তু আমি কী করি?
ব্যাং : আমায় ছেড়ে দাও। নিজে বাঁচো, আমাকে বাঁচাও।
ঘেনা : যা যা, নিজে বাঁচো, আর আমাকে না খাইয়ে মার।
ব্যাং : কিছু বললে?
ঘেনা : না! ভাগ এখান থেকে।
ব্যাং : থ্যাংক ইউ ... (ঝপাস করে বাইরে লাফ মারে)
ঘেনা : কী করা যায়, পেটে তো ছুঁচো ডন মারছে, মাথাটায় কেমন চক্কর দিচ্ছে। এদিকে অন্ধকারও নেমে এল। না:, জঙ্গলেই ফিরে যাওয়া যাক। ও বাবা, এদিকে তো অন্ধকার ঘুটঘুট্টি। এ কী! ওখানে কারা সব!
ভূত : আমি রে ব্যাটা, আমায় চিনিস না? রাত্তির বেলায় আমাদের রাজত্ব। আমাদের ভয় পেতে হয়।
পেত্নি : হি:, হি:, হি:, রাত হলেই আমরা যাকে পাই তার ঘাড় মটকে খাই।
ঘেনা : সেকী! তবে তো বিপদ। আমিই সারাদিন না খেতে পেয়ে খাই খাই করছি। আর আমাকেই খাবে কী বলছ?
ভূত ও :
পেতনির গান আমরা ভূত-পেতনি
পতি এবং পত্নী
যাকে পাই ঘাড় মটকে খাই
আর থাকে শাঁকচুন্নি।।
হা:, হা:, হা:, হা: হা: হা:
হি:, হি:, হি:, হি: হি: হি:
ঘেনা : ওরে বাপরে! এ তো দেখি উলটো গেরো। কী বীভৎস গান! না না, বাঁচতে হলে পালাই.....হা.....লু.....উ......ম
৬ষ্ঠ দৃশ্য
[বনের দৃশ্য। বনের মাঝে সিংহমশাই সিংহাসনে। বাকি সব পশুরা পাশাপাশি বসে-দাঁড়িয়ে। মাথা নীচু করে বাঘ ও বাঘের ছানা।]
সিংহ : অর্ডার, অর্ডার, অর্ডার। শান্তি, শান্তি, শান্তি ......
হাতি : মহারাজ, আমি নিজে দেখেছি, এই বাঘের ছানাটি বাঘের কুলের কলঙ্ক। ওর ভয়ে অন্যরা লুকোবে, না ওই অন্যের ভয়ে ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। আমি নিজের চোখে দেখেছি।
সবাই : ছি:, ছি:, ছি:! সেম সেম!
শিয়াল : আমি দেখেছি ও ভূতের ভয় পায়। বনের মাঝে কাল রাতে ও ভূতের ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে এসেছে।
সবাই : ছি:, ছি:, ছি:! সেম, সেম!
হরিণ : ও আমাকে ধরতেই পারেনি, শুধু লম্ফ ঝম্পই করেছে।
সবাই : ছি:, ছি:, ছি:! সেম সেম!
কাক : কা-কা-কা, আমি দেখেছি ও মানুষের কাছে গেছে, গোরুর কাছে গেছে, মুরগি, ব্যাঙের কাছেও গেছে, কিন্তু কাউকেও মেরে খাওয়া তো দূরের কথা একটা আঁচড় পর্যন্ত লাগাতে পারেনি। শুধু মুখ আমসি করে ফিরেছে।
সবাই : ছি: ছি: ছি:! সেম সেম!
সিংহ : বাঘের ছানা, তোমার কিছু বলার আছে?
ঘেনা : মানুষ বলল ও শিক্ষা দেয়, গোরু বলল ও দুধ দেয়, মুরগি বলল ও ডিম দেয়, ব্যাং বলল ও বৃষ্টি আনে, তো আমি কী করব? ওরা তো পৃথিবীর উপকার করে, না কি!
সিংহ : হা:, হা:, হা:! বোকা বাঘের ছানা, সবাই পৃথিবীর উপকার করে। এই আমরা যারা পশু শিকার করি, আমরাও জগতের উপকার করি। আমরা মানুষ, পশুপাখিকে না মেরে খেলে জীব কুলের ভারসাম্য থাকে না। কী, ঠিক কিনা?
সবাই : ঠিক, ঠিক, একেবারেই ঠিক।
সিংহ : দেখো কান্ড। এই বাঘের ছানাটা সেকথাও জানে না। কী লজ্জা! বোকা বাঘের ছানা।
সবাই : বোকা বাঘের ছানা। বোকা বাঘের ছানা।
ঘেনা : হা........লু.......ম....(কান্না)
সমবেত সংগীত
বোকা বাঘের ছানা
সব কিছুতেই গোলমাল তার
এটা ওটা কোরো না কোরো না।
যা করে তাতেই মানা
নাকাল হয়ে ফেরে সে
মুখ করে প্যাঁচা পানা।
বোকা বাঘের ছানা
বোকা বাঘের ছানা।।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন